আইনি কাঠামোয় আসছে ট্যুর অপারেটর-গাইড

আইনি কাঠামোয় আসছে ট্যুর অপারেটর-গাইড

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘আইনটি অনুমোদিত হলে পর্যটকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রাপ্তি সহজতর হবে। পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণসহ পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে আইনের আওতায় পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।’

পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে সুষ্ঠু ভ্রমণ কার্যক্রম পরিচালনায় দেশের ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডদের কার্যক্রম নিয়ে আইন হচ্ছে। এ বিষয়ে বিল উত্থাপিত হয়েছে জাতীয় সংসদে।

শনিবার একাদশ সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন ‘বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন’ ২০২১ সংসদে উত্থাপন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

এতে বলা হয়, বর্তমান বাংলাদেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ট্যুর অপারেটরা অন্তর্মুখী ও বিদেশগামী ট্যুর পরিচালনা করে থাকেন। দেশের পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত ট্যুর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম আইনের আওতায় পরিচালনা এবং পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্যই এই বিল।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্বের অধিবেশনে এই বিলের বিরোধীতা করে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। তিনি বলেন, ‘এতে টোয়াবের (ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ) কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।’

এই সংসদ সদস্যের বক্তব্য কণ্ঠভোটে দিলে তা নাকোচ হয়ে যায়। এরপর স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বিলটি উত্থাপন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

বিলটি অধিকতর যাচাই বাছাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটিতে যাচাই বাছাই করে আগামী এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য সময় দেয়া হয়েছে।

‘বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) বিল’-২০২১ এর নিবন্ধন সনদ ব্যতীত ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে।

এ সংক্রান্ত বিধিতে বলা হয়েছে, (১) ধারা ৭ এর বিধান অনুসারে নিবন্ধন সনদ ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যটকদের জন্য ভ্রমণসেবা সংশ্লিষ্ট আবাসন, আহার বা আপ্যায়ন, পরিবহন, পর্যটন আকর্ষণ সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন, পরিভ্রমণ ও অনূরূপ অন্যান্য পর্যটন সুবিধা অন্তর্ভূক্ত করে দলভিত্তিক বা একক ট্যুর আয়োজন ও পরিচালনা বা ট্যুর গাইড হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।

ধারা ২ এ বলা হয়েছে, বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে।

বর্তমানে যেসকল ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তাদের বিষয়ে বলা হয়েছে- বিদ্যমান অনিবন্ধিত ট্যুর অপারেটরগণকে এই আইন কার্যকরের তিন মাসের মধ্যে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করে নিবন্ধন সনদ নিতে হবে।

ধারা ৮ এর নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ও নবায়ন সংক্রান্ত বিধিতে বলা হয়েছে, (১) নিবন্ধন সনদের মেয়াদ হবে প্রদানের তারিখ হতে ৩ বছর এবং এটা হবে নবায়নযোগ্য।

বিধি (২) এ বলা হয়েছে, নিবন্ধন সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৩ মাস আগে নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি প্রদান করে নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করতে হবে।

ধারা ১২ তে অপরাধ ও দণ্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি এই আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। আইন ভঙ্গকারীকে অনধিক ৬ মাস কারাদণ্ড এবং অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইনটি অনুমোদিত হলে পর্যটকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রাপ্তি সহজতর হবে। পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণসহ পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে আইনের আওতায় পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।’

আরও পড়ুন:
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা

প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী লিখেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে ডিউক অফ এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের প্রয়াণে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। বাংলাদেশের জনগণ ও কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর কাছে তিনি সবসময় কর্তব্যবোধ ও সম্মানবোধ এবং মহামান্য রানির শক্তি ও সামর্থ্যের স্তম্ভ হয়েই থাকবেন।’

ডিউক অফ এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং শোকবার্তা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী লিখেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে ডিউক অফ এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের প্রয়াণে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। বাংলাদেশের জনগণ ও কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর কাছে তিনি সবসময় কর্তব্যবোধ ও সম্মানবোধ এবং মহামান্য রানির শক্তি ও সামর্থ্যের স্তম্ভ হয়েই থাকবেন।

‘আমরা মহামান্য রানির বাংলাদেশে দুটি ঐতিহাসিক সফর স্মরণ করছি যেখানে ডিউক অফ এডিনবরা তার সঙ্গী হয়েছিলেন। তার প্রয়াণে বাংলাদেশ এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি একজন সত্যিকারের বন্ধু ও সহযোগীকে হারাল। মহামান্য রানি, রাজপরিবারের সদস্য ও যুক্তরাজ্যের জনগণকে সর্বশক্তিমান এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার সাহস ও শক্তি দিন।’

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ডিউক অফ এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুর সংবাদ শুক্রবার জানায় বাকিংহ্যাম প্যালেস। উইন্ডসর প্রাসাদে সকালে স্বাভাবিক মৃত্যু হয় তার।

ফিলিপের বয়স হয়েছিল ৯৯ বছর।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে ১৯৪৭ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ফিলিপ। এই রাজ দম্পতির চার সন্তান। রয়েছে আট নাতি-নাতনি, যাদের ঘরে আছে ১০ সন্তান।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে বাকিংহ্যাম প্যালেসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে, মহামান্য রানি জানিয়েছেন, তার প্রিয়তম স্বামী ডিউক অফ এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যু হয়েছে। উইন্ডসর প্রাসাদে সকালে শান্তিপূর্ণভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।’

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি অসুস্থ হয়ে পড়লে সেন্ট্রাল লন্ডনের কিং এডওয়ার্ড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ফিলিপকে। এরপর লন্ডনের আরেক হাসপাতাল সেন্ট বার্থলোমিউস হাসপাতালে তার হৃদযন্ত্রের চিকিৎসা হয়। এক মাসের চিকিৎসা শেষে ২৬ মার্চ বাসায় ফেরেন তিনি।

ফিলিপের জন্ম ১৯২১ সালে কর্ফুর গ্রিক আইল্যান্ডে। তার বাবা ছিলেন গ্রিস ও ডেনমার্কের যুবরাজ অ্যান্ড্রু, যিনি ছিলেন হেলেনেসের রাজা প্রথম জর্জের ছোট ছেলে।

আরও পড়ুন:
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না

শেয়ার করুন

জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ: যুক্তরাষ্ট্র

জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ: যুক্তরাষ্ট্র

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার বিকেলে জন কেরিকে বিদায় জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত ও উপদেষ্টা জন কেরির সফর শেষে এক টুইটে বাংলাদেশের বিষয়ে মন্তব্য করে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশ্নে বিশেষভাবে নাজুক দেশগুলোর পক্ষে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত ও উপদেষ্টা জন কেরির সফর শেষে এক টুইটে এ কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাস।

কেরির সংক্ষিপ্ত সফরের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের আয়োজনে রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের আনুষ্ঠানিক বাসভবনে গোলটেবিল বৈঠক হয় শুক্রবার।

এতে ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ও উপদেষ্টা জন কেরি।

তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ২০১৫ সালে জাতিসংঘের ২১তম জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনে (কপ-২১) প্যারিস চুক্তি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

জলবায়ু অর্থায়নবিষয়ক এ গোলটেবিল বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন ও অভিযোজনে বিশ্ব কীভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পারে সে বিষয়ে কেরি ও ঢাকাস্থ কূটনৈতিক অংশীদারদের মধ্যে অসাধারণ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দূতাবাস।

বৈঠকে জলবায়ুবিষয়ক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশসহ নাজুক দেশগুলোর অভিযোজন ও সহিষ্ণুতা বাড়াতে অর্থায়ন জরুরি বলে মত দিয়েছেন জন কেরি।

শুক্রবার দুপুরের ওই বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার, জাপানের রাষ্ট্রদূত, জার্মানের রাষ্ট্রদূত, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, আইএমএফের প্রতিনিধি, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রতিনিধি ও এডিবির প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

কেরির সফর বিষয়ে সিরিজ টুইট বার্তা দিয়েছে আমেরিকান দূতাবাস।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে দূতাবাসের টুইট বার্তায় বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জলবায়ু দূত কেরির সভায় যোগ দিয়ে সম্মানিত। দুর্বল দেশগুলোর কথা শুনতেই হবে।

‘তাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জলবায়ুবিষয়ক দূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লিডার্স ক্লাইমেট সামিটে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি হিসেবে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় কপ-২৬-এ বাংলাদেশের নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরতে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশ্নে বিশেষভাবে নাজুক দেশগুলোর পক্ষে বাংলাদেশের নেতৃত্বদানের বিষয়টি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে অন্য টুইটে উল্লেখ করে মার্কিন দূতাবাস।

এতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের এই অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একসঙ্গে লড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জন কেরির আলোচনাবিষয়ক টুইট বার্তায় ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারের পক্ষে দূতাবাস জানায়, কেরির সঙ্গে জলবায়ু সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য এ কে আব্দুল মোমেনকে ধন্যবাদ।

বিশ্ব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী তাপমাত্রা সীমার নাগালে রাখতে ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী প্রভাব মানিয়ে নিতে বিশ্বের সবচেয়ে নাজুক দেশগুলোকে সহায়তা দিতে প্রতিজ্ঞা করে যুক্তরাষ্ট্র।

ঢাকায় কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকবিষয়ক টুইটবার্তায় দূতাবাস বলে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন ও অভিযোজনে বিশ্ব কীভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পারে সে বিষয়ে জলবায়ুবিষয়ক দূত কেরি ও ঢাকায় অবস্থানরত কূটনৈতিক অংশীদারের মধ্যে অসাধারণ আলোচনা হয়েছে। জলবায়ুবিষয়ক পদক্ষেপ হিসেবে নাজুক দেশগুলোর অভিযোজন ও সহিষ্ণুতা বাড়াতে অর্থায়ন জরুরি।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ইইউ দূত রেন্সজে তেরিঙ্ক টুইট বার্তায় বলেন, ‘ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের আয়োজনে সিনেটর কেরির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। বড় বিষয় হচ্ছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরিভাবে ফিরে এসেছে।’

দিনভর বৈঠক

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত একের পর এক বৈঠকে অংশ নেন জন কেরি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ছাড়াও জলবায়ু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী এম শাহাব উদ্দিনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে তার।

কেরির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্যারিস চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসা জলবায়ু পরিবর্তন কূটনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৈঠকের পর যৌথ সম্মেলনে কেরি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন প্যারিস চুক্তির আলোকে আবারও বিশ্বকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে রক্ষার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিতে চায়। সে কারণে ভবিষ্যতের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ, ভারতসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণ আশা করছি।’

ওই সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ফারুক খান এমপি, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ভালনারেবল ফোরাম প্রেসিডেন্সির বিশেষ দূত আবুল কালাম আজাদসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে কেরি সংবাদ সম্মেলনের শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে আমি এখানে এসেছি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র আবার প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নের নেতৃত্বে ফিরে এসেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, আমাদের নাগরিক এবং দেশগুলোকে সুরক্ষার জন্য এসব প্রচেষ্টা।

‘জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা কোনো একক দেশ সমাধান করতে পারবে না। সংকট যে আছে এ নিয়ে কোনো দেশের সন্দেহ নেই।’

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন দুর্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছরে মানব ইতিহাসের কঠিন দিন, কঠিন সপ্তাহ, মাসগুলোর মুখোমুখি হয়েছি আমরা।

‘বিশ্বব্যাপী মানবসৃষ্ট দুর্যোগ দেখেছি। ভাইরাস, খরা, সমৃদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়া থেকে শুরু করে অনেক কিছু দেখছি। ইতিমধ্যে জলবায়ুর কারণে মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অন্যত্র যাওয়া শুরু করেছে। বিজ্ঞানের শিক্ষা থেকে আমরা জানতে পেরেছি সবাইকে একসঙ্গে কাজে নামতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব কারণে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বড় অর্থনীতির দেশ ও অংশীদারদের নিয়ে সামিট আহ্বান করেছেন। আলোচনার মাধ্যমে যাতে পরিস্থিতি মোকাবিলার রাস্তাগুলো তৈরি করা যায়, জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলার প্রযুক্তিগুলো সবার মাঝে পৌঁছে দেয়া যায় সেটিই মুখ্য। প্রযুক্তি, গবেষণা, উন্নয়ন, আর্থিক বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার জন্য এই সম্মেলন খুবই কার্যকর হবে।’

কেরি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বাইডেন জলবায়ু ইস্যুতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমার এই সফরের কারণ হচ্ছে এসব দেশের জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ভবিষ্যতের ক্লিন এনার্জি গড়ে তুলতে তাদের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না

শেয়ার করুন

অরাজকতার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

অরাজকতার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

রাজধানীর আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ তাদের সেবা করার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে ভোট দিয়েছেন। সেখানে কেউ ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করলে সরকার অবশ্যই আইনানুগভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।’

দেশে কেউ অরাজক পরিস্থিতি তৈরি কিংবা জনগণের সম্পদ বা জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রাজধানীর আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ তাদের সেবা করার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে ভোট দিয়েছেন। সেখানে কেউ ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করলে সরকার অবশ্যই আইনানুগভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।’

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা ও সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করার জন্য বাংলাদেশে কার্যকর আইন আছে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।

করোনার টিকা নেওয়া প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিলে এই রোগের তীব্রতা কমে যাবে।

এ সময় তিনি সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার আহ্বান জানান।

আনিসুল হক বলেন, সবাইকে এই টিকা দেয়ার সক্ষমতা আছে সরকারের।

আরও পড়ুন:
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না

শেয়ার করুন

প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসান শাহরিয়ারের মৃত্যু

প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসান শাহরিয়ারের মৃত্যু

রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার হাসান শাহরিয়ারের মৃত্যু হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক হাসান শাহরিয়ার আর নেই।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তার মৃত্যু হয়।

দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে হাসান শাহরিয়ার হঠাৎ করে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

শাহরিয়ার করোনা আক্রান্ত ছিলেন কি না জানতে চাইলে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘শ্বাসকষ্টজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে করোনা আক্রান্ত ছিলেন কি না ,এ বিষয়ে বলতে পারব না।’

জানাজা কখন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবার-পরিজন মিলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর শোক

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘এ দেশের সাংবাদিকতায় হাসান শাহরিয়ারের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আরও পড়ুন:
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না

শেয়ার করুন

হাসিনা-কেরি বৈঠকে থাকায় সম্মানিতবোধ করছি: মিলার

হাসিনা-কেরি বৈঠকে থাকায় সম্মানিতবোধ করছি: মিলার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক দূত কেরির বৈঠক। ছবি: নিউজবাংলা।

মিলার বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক দূত কেরির বৈঠকে যোগ দিতে পেরে সম্মানিতবোধ করছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত ও দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ঢাকা সফর করে যাওয়ার পর এ নিয়ে টুইট করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।

এতে মিলার বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক দূত কেরির বৈঠকে যোগ দিতে পেরে সম্মানিতবোধ করছি।’

তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বক্তব্য অবশ্যই শোনা উচিত। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব “রোড টু গ্লাসগো”র জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

সিভিএফের বর্তমান চেয়ার হলো বাংলাদেশ। সে হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কাঁধে। ২০১১-১৩ প্রথম মেয়াদে সিভিএফ সভাপতির পর বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো ২০২০-২২ মেয়াদে সিভিএফ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোরামটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত তথা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো নিয়ে গঠিত। এর বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৪৮। রোড টু গ্লাসগো হিসেবে মিলার আসলে নভেম্বরের কপ-২৬ সম্মেলনকে বুঝিয়েছেন।

এবারের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে হবে। এর আয়োজকও যুক্তরাজ্য।

আরও পড়ুন:
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না

শেয়ার করুন

করোনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মৃত্যু

করোনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মৃত্যু

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদের মৃত্যু হয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদের।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা দীপংকর বর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, র‌ফিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার ও মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান।

রফিক আহাম্মদ বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না

শেয়ার করুন

হেফাজতের তাণ্ডব: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার ৬১

হেফাজতের তাণ্ডব: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার ৬১

মামুনুলের রিসোর্ট কাণ্ডের পর হেফাজতের হামলায় তছনছ স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ জন হেফাজতের নেতা-কর্মী থাকলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে হেফাজতের কোনো নেতা-কর্মী নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় মোট ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৫ জনকে এবং নারায়ণগঞ্জে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার ৬ জনের মধ্যে তিনজন হেফাজতের নেতা-কর্মী। বাকি তিনজন বিএনপির।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬ মার্চ থেকে কয়েক দফায় তাণ্ডবের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় ৪৯টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি ৩৫ হাজার।

এসব মামলায় নাম উল্লেখ করে ২৮৮ জনকে এবং অজ্ঞাতনামা ৩৫ হাজার লোককে আসামি করা হয়। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার ১৬ জনসহ এসব মামলায় মোট ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রেপ্তার ৫৫ জনের মধ্যে হেফাজতে ইসলামের কোনো নেতাকর্মী নেই।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক সাঈদ হাসান সানি ও ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতালের দিন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাংচুরকারী আরমান আলিফ।

জানা যায়, আলিফকে গ্রেপ্তারের পর তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাজীপাড়ার ভাড়াটিয়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙার কাজে ব্যবহৃত একটি শাবল, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

হেফাজতের হামলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবের সময় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আগুন দেয়া হয়


পুলিশ ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটে যাওয়া তাণ্ডবে ৪৯টি মামলার মধ্যে সদর থানায় ৪৩টি, আশুগঞ্জ থানায় তিনটি, সরাইল থানায় দুটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৩৯টি মামলার আসামী সবাই ‘অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারী’।

বাকি ১০টি মামলায় ২৮৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। কোনো কোনো মামলায় ‘অজ্ঞাতনামা কওমি মাদ্রাসাছাত্র-শিক্ষক ও তাদের অনুসারী দুষ্কৃতিকারীদের’ কথা উল্লেখ করা হয়। তবে কোনো মামলাতেই হেফাজতের কোনো নেতাকর্মীর নাম নেই।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম বলেন, তাণ্ডবের সময়ের ভিডিও ফুটেজ ও স্থির ছবি দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের সহিংস ঘটনায় বিভিন্ন স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদেরকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাকি আসামিদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে স্থাাপিত বঙ্গবন্ধুর দুটি ম্যুরাল, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের অফিস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়, পৌর মেয়রের বাসভবন, সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়সহ অর্ধশতাধিক সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে এক নারীসহ হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হককে আটকের পর সেখানে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে সংগঠনটির তিন নেতাকর্মীকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ছাড়া ২৮ মার্চ হরতালের দিন সিদ্ধিরগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় বিএনপির তিন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সবাইকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হেফাজত নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে সাইফ, হেফাজত কর্মী কাজি সমির ও তাবলীগ জামাতের সদস্য অহিদকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের সবাইকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল পর্যন্ত সহিংসতার অভিযোগে পুলিশ ও র‌্যাবের করা মামলায় বিএনপি নেতাসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, হরতালে সহিংসতার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্র দলের সাবেক সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার (৩৯), নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি সদস্য মো. মামুন মিয়া (৩৯), ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক ফারুক হোসেন (৪০) কে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার এজাহারনামীয় আসামী। অন্য দুইজন অজ্ঞাত আসামি হিসেবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদেরকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন:
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না

শেয়ার করুন