২০১৯ সালের কথা। বৈশ্বিক অভিযোজন কমিশনের সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা সফরে আসেন মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিল্ডা হেইনে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুনকে সঙ্গে নিয়ে আমি এই সম্মেলনের আয়োজন করেছিলাম।
আমরা সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারীদের সতর্ক করে বলেছিলাম, যে হারে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, সে তুলনায় বৈশ্বিক অভিযোজন তৎপরতা একেবারেই অপ্রতুল। এর ফলে জলবায়ু শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলছে, যাদের আশ্রয় দিতে চায় না কেউই। আমরা তাদের এ বলে সতর্ক করেছিলাম যে, দিনশেষে জলবায়ুর এ আক্রোশ থেকে কোনো দেশ বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রেহাই পাবে না।
জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ৪৮টি দেশের বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব নিয়ে গঠিত ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতি হিসেবে প্রেসিডেন্ট হেইনে তার দ্বীপরাষ্ট্রের জলবায়ু সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় যে সাহস ও নেতৃত্ব দেখিয়েছিল, তাতে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম।
জলবায়ু সংকটের কেন্দ্রে থাকা এবং অভিযোজনে বৈশ্বিক পর্যায়ে নেতৃত্বে দেয়া বাংলাদেশকে ২০২০ সালে তিনি সিভিএফ সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার প্রস্তাব দিলে আমি তা ফেলতে পারিনি।
২০০৯ সালে মালদ্বীপের নেতৃত্বে বাংলাদেশসহ জলবায়ু পরিবর্তনে বিপর্যস্ত ১০টি দেশ মিলে এই ফোরাম গঠন করার পর আমি দ্বিতীয় দফায় এর দায়িত্ব নিলাম। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার সামান্যতম বৃদ্ধি, নিয়ত ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত কিংবা দ্রুতগতিতে মরুকরণে যাদের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়ে, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের সেই ১০০ কোটির বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে সিভিএফ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ‘গ্রাউন্ড জিরো’ হিসেবে প্রায়ই উল্লেখ হওয়া বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন লাখ লাখ সহিষ্ণু মানুষের সাহসিকতার সঙ্গে টিকে থাকার লড়াই। প্রকৃতির রুদ্ররোষে পড়ে বারবার বাড়িঘর, জমিজমা ও ফসল হারাচ্ছেন তারা।
চরমভাবাপন্ন আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের কারণে প্রতি বছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ হারায় আমার দেশ। এ শতাব্দী শেষে হারানোর এ হার হবে ৯ শতাংশ।
২০৫০ সালের মধ্যে আমাদের উপকূল এলাকার ১৭ শতাংশ তলিয়ে যাবে, যাতে বাস্তুচ্যুত হবে তিন কোটি মানুষ। এরই মধ্যে জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়েছে ৬০ লাখ বাংলাদেশি। এরপরও আমরা মিয়ানমার থেকে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে চলেছি। এতে বিপর্যস্ত হচ্ছে কক্সবাজারের পরিবেশ-প্রতিবেশ। এই ক্ষতিপূরণ কে দেবে?
বাংলাদেশের মতো সিভিএফভুক্ত প্রতিটি দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের অপূরণীয় ক্ষতি নিয়ে বলার মতো গল্প আছে। অথচ বৈশ্বিক মোট কার্বন নিঃসরণের খুবই সামান্য অংশ করে তারা। জলবায়ুজনিত এই অবিচার তুলে ধরার সময় এসেছে।
কপ-২৬সহ বৈশ্বিক জলবায়ু সংক্রান্ত যেকোনো আয়োজনে আমার সভাপতিত্বে থাকা সিভিএফের কণ্ঠস্বর উচ্চকিত করা ও ফোরামটির স্বার্থ তুলে ধরাকে মিশন হিসেবে নিয়েছি।
কঠিন এক সময়ে বাংলাদেশ সিভিএফের সভাপতিত্ব পেয়েছে।
২০২০ সালে বৈশ্বিক উষ্ণতা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল বিশ্ব। অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর দেশগুলো ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতীয় পরিকল্পনা তথা এনডিসি পূরণে হিমশিম খাচ্ছিল। ওই বছরসহ বিগত কয়েক বছর জলবায়ু নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অগ্রাধিকার কমিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্যারিস সম্মেলনে প্রতিশ্রুত অর্থের অনেক কম আদায় হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে কম কার্বন নিঃসরণ হওয়া প্রকল্পে সহায়তার অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী কার্বন মার্কেটগুলোতে অর্থায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব আছে বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমনের প্রায় ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী জি-২০ জোটভুক্ত দেশগুলোর। ক্ষয়ক্ষতি তো অনেক দূরের বিষয়।
এমন বাস্তবতায় কোভিড-১৯ খুব বাজেভাবে আঘাত হানল আমাদের ওপর। এটি একই সঙ্গে জলবায়ু, স্বাস্থ্য ও প্রকৃতির ত্রিমুখী বিপর্যয় নিয়ে এলো।
এই রূঢ়ভাবে হুঁশ ফেরার মধ্য দিয়ে অবশেষে বিশ্ব আমার সতর্কবার্তায় (জলবায়ু সংকট জরুরি অবস্থা) কান দিল। এ থেকে পরিত্রাণের যেকোনো পথ হতে হবে পরিবেশবান্ধব, প্রকৃতিভিত্তিক ও জলবায়ু সহিষ্ণু।
সিভিএফ সভাপতি হিসেবে আমার প্রথম কাজ ছিল জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘গ্রহের জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে সবাইকে যুদ্ধাবস্থার প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানানো।
২০২০ সালের শরৎ নাগাদ আমি খুব কমসংখ্যক এনডিসি এবং কপ২৬-এর শর্ত পূরণ হতে দেখেছি। এমন পরিস্থিতিতে আমি সিভিএফ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে ‘মিডনাইট সারভাইভাল ডেডলাইন ফর দ্য দ্য ক্লাইমেট’ নামের উদ্যোগ ঘোষণা করেছি। প্রত্যেক দেশের প্রত্যেক নেতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছি, ‘নেতৃত্ব প্রদর্শনে ব্যর্থ হবেন না, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বর্ধিত এনডিসি ঘোষণা করুন।’ এটি ছিল কার্যত আমাদের (সিভিএফ) বেঁচে থাকার সময়সীমা।
আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৬০ দেশের সরকার ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হালনাগাদ করা এনডিসি ঘোষণা করে।
যুক্তরাজ্যের এনডিসি আপডেট ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যই প্রথম তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রির মধ্যে রাখা এবং ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনায় সম্মত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্যারিস চুক্তিতে ফিরে আসাও ছিল প্রেরণাদায়ক। তবে যারা সিভিএফের ‘মিডনাইট ডেডলাইন’ পূরণে ব্যর্থ, তাদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, কোপ২৬-এর আগে উচ্চাকাঙ্ক্ষী এনডিসি জমা দিন।
সিভিএফের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বার্বাডোজ, কোস্টারিকা ও মালদ্বীপ ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটার কাছাকাছি আনার অঙ্গীকার করে। সর্বাধিক জনসংখ্যার সিভিএফ সদস্য বাংলাদেশ মিথেন নির্গমণ কমাতে প্যারিস সম্মেলন অনুসারে অন্তর্বর্তী এনডিসি আপডেট জমা দেয়।
বাংলাদেশ ও সিভিএফের জন্য টিকে থাকার প্রধানতম অগ্রাধিকার জলবায়ু অভিযোজন ও জলবায়ু অর্থায়ন।
সত্যি বলতে, জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় আমার দর্শন হলো কাণ্ডজ্ঞানের ব্যবহার। সেটি হলো নিজেকে সাহায্য করা এবং কারও উদ্ধারের আশায় বসে না থাকা। কারণ নিষ্ক্রিয়তার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের কাউকে ছাড় দেবে না।
২০২০ সালে ক্যাটাগরি-৫ ঘূর্ণিঝড় আম্ফান নিদারুণভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের ওপর আঘাত করে। সে সময় আমার দেশ পাঁচ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ২৪ লাখ মানুষ ও ৫ লাখ গবাদি পশুকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে সক্ষমতার প্রমাণ দেখায়।
একই বছর মহামারির মধ্যেই আকস্মিক বন্যায় দেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা তলিয়ে যায়। এই দুই দুর্যোগে আমাদের জিডিপির প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দুর্যোগের প্রস্তুতি থাকায় লাখো জীবন রক্ষা পেয়েছে।
জলবায়ু প্রকল্পগুলোতে নিজস্ব অর্থায়নের কৌশল শিখেছে বাংলাদেশ। আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ উপকূল এলাকাগুলোতে প্রায় ৮০০ জলবায়ু অভিযোজন ও সহিষ্ণুতা সংক্রান্ত প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দিতে আমার সরকার ৪৫ কোটি ডলারের বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে। বর্তমানে আমরা জলবায়ু অভিযোজন ও সহিষ্ণুতা অর্জনে বছরে গড়ে জিডিপির ২.৫ শতাংশ তথা পাঁচ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছি।
সমুদ্র উপকূলে ১৬.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ, ১২ হাজার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং দুই লাখ হেক্টর জমিতে উপকূলীয় বৃক্ষরোপণ করেছি আমরা। উপকূলের দুর্গত মানুষের কথা ভেবে আমাদের বিজ্ঞানীরা প্রকৃতিভিত্তিক কিছু সমাধান খুঁজে বের করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে লবণাক্ততা এবং খরাসহিষ্ণু ফসল উৎপাদন, বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জলাধার, পুকুর-বালু-ফিল্টার, ভাসমান কৃষি প্রযুক্তি ও ভ্রাম্যমাণ পানি শোধনাগার।
জলবায়ু সহিষ্ণুতা নিয়ে আমাদের অর্জনে অনুপ্রাণিত হয়ে বান কি-মুন, ক্রিস্টালিনা জর্জিভা ও বিল গেটসের নেতৃত্বাধীন গ্লোবাল সেন্টার ফর অ্যাডাপটেশন (জিসিএ) আমাকে ঢাকায় জিসিএর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কেন্দ্র স্থাপনে উৎসাহ জুগিয়েছেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রটি সিভিএফের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদারের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য অভিযোজন তৎপরতাকে ত্বরান্বিত করতে কাজ করছে।
বাংলাদেশে আমরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সমৃদ্ধি অর্জন করছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর সময় ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি দশক ২০৩০’ পরিকল্পনা নিয়ে আমি সিভিএফ দেশগুলোকে ‘জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনার’ শুরুর আহ্বান জানিয়েছি। আমরা এরই মধ্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ কোটি ১৫ লাখ গাছ লাগিয়েছি। উল্লিখিত পদক্ষেগুলো আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি ধরে রাখতে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ কৌশলগত ও কম কার্বন নিঃসরণ উপযোগী বিনিয়োগ।
তবে সিভিএফ নিজে থেকে এতটুকু পর্যন্ত করতে পারে। অভিযোজনেরও একটা সীমা আছে।
সিভিএফ-কপের মধ্যে জোর ঐক্য গড়ে তোলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নভেম্বরের বৈঠক অনুযায়ী আমরা ঢাকা-গ্লাসগো-সিভিএফ-কপ২৬ ঘোষণা চাই।
জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে আমরা কপ২৬-এর আগেই জি২০ দেশগুলোর কাছে উচ্চাভিলাষী এনডিসি চাই।
আমরা জলবায়ু অর্থায়নকে শুধু কম-কার্বন অর্থনীতি বিনির্মাণে নিবেদিত দেখতে চাই না। আমরা চাই এ অর্থ প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনে ব্যয় হোক এবং সে তহবিলের অর্থের ৫০ শতাংশ ব্যয় হোক জলবায়ু সহিষ্ণুতা অর্জনে।
আন্তঃদেশীয় জলবায়ু সহযোগিতা এবং আমাদের ব্যাপক ক্ষতি ও জলবায়ু বৈষম্য সমাধানে আমরা আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারগুলো চালু দেখতে চাই।
ঐক্যবদ্ধ না হলে প্রকৃতির সঙ্গে এই লড়াইয়ে আমরা হেরে যাব। যে সহায়ক ব্যবস্থা আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, তা আমরা সচেতনভাবে ধ্বংস করছি। গ্রেটা থুনবার্গ বা বাংলাদেশ কোস্টাল ইয়ুথ অ্যাকশন হাবের জন্য আমরা কোন গ্রহ রেখে যাচ্ছি? কোপ২৬-এ আমরা তাদের ব্যর্থ হতে দিতে পারি না।
লেখক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
লেখাটি দ্য ডিপ্লোম্যাট সাময়িকীর এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশ হয়েছে
আরও পড়ুন:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে সচিব সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা যে কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) করেছি, সে কর্মপরিকল্পনাটা আপনাদের জানাবো। আমি ঢাকার বাইরে থাকায় একটু পিছিয়ে পড়েছি। এটা আমার টেবিলে এখন আছে। আগামীকাল পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করেন।’
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব আজ এক বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) অনুমোদন করেছে কমিশন।
এখন যেকোনো সময় নির্বাচনের এই রোডম্যাপ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হতে পারে বলে ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘কর্মপরিকল্পনার সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে। অনুমোদন হয়েছে, এখন শুধু টাইপিং চলছে।’
উল্লেখ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দল নিবন্ধন, সীমানা নির্ধারণ, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংস্কার, বিধিমালা ও নীতিমালা জারি, প্রবাসীদের জন্য আইটি সাপোর্টেড নিবন্ধন ও পোষ্টাল ব্যালট পদ্ধতি ও নির্বাচনী সরঞ্জাম কেনাকাটা বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে রোডম্যাপে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
যে কোনো সময় এই নির্বাচনের রোডম্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারে ইসি।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন, চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব এ নিয়ে বৈঠকও করেছেন।
বৈঠকে কর্মপরিকল্পনার (রোডম্যাপ) অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এখন, যে কোনো সময় নির্বাচনের এই রোডম্যাপ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হতে পারে বলে ইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘কর্মপরিকল্পনার সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে। অনুমোদন হয়েছে, এখন শুধু টাইপিং চলছে।’
এদিকে সংসদীয় আসনের পুনঃনির্ধারিত সীমানার বিষয়ে ইসি’র শুনানি আজ বিকেলে শেষ হচ্ছে।
শুনানি শেষে বিকেলে সার্বিক বিষয় নিয়ে ইসি’র সিনিয়র সচিব আকতার আহমেদের ব্রিফিং করার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা ব্রিফিংয়ে আসব। তখন সীমানার শুনানির বিষয়টির পাশাপাশি এ বিষয়টিও (রোডম্যাপ) দেখা যাবে।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি কর্মকর্তা বৈঠক করেন।
ওই দিন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছিলেন, বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে ইসি সচিব ব্রিফ করবেন।
গত ১৮ আগস্ট ইসি’র সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়ে ছিলেন, ‘একটা কর্মপরিকল্পনার (নির্বাচনী রোডম্যাপ) বিষয়ে বলেছিলাম, আমরা এই সপ্তাহে এটা করবো। কর্মপরিকল্পনার তো আমাদের আন্তঃঅনুবিভাগ সম্পর্কিত এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে। কর্মপরিকল্পনার ড্রাফ্ট করা হয়েছে। ড্রাফ্টটি এখন কমিশনে দিয়ে আমরা অ্যাপ্রুভ করবো।’
শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধনের লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি)-এর ৮৯তম সভায় শ্রমিক, মালিক ও সরকারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত এক বছরের পর্যালোচনা ও সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে শ্রম আইন ২০০৬ সংশোধনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার এক হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, "শ্রমিক ও মালিক পক্ষের পরামর্শের ভিত্তিতে শ্রম আইন যুগোপযোগী করা হবে। এটি বাংলাদেশের শ্রমখাতের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।’
সভায় শ্রমিক ও মালিক পক্ষের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। একটি সুসমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানের শ্রম আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা উপস্থিত সকলেই করেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংশোধিত শ্রম আইন দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়।
সভায় বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন দূতাবাস, কানাডা হাই কমিশন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর প্রতিনিধিরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত জনাব লুৎফে সিদ্দিকী।
এছাড়াও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এর নির্বাহী পরিচালক এবং শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ)-এর সভাপতি, টিসিসি সদস্যবৃন্দের মধ্যে তাসলিমা আক্তার, কোহিনুর মাহমুদ, বাবুল আকতার , নাজমা আক্তার, রাজেকুজ্জামান রতন, এডভোকেট আতিকুর রহমান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংশোধনী বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে আরও গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করবে এবং শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সারাদেশে কুইক রেসপন্স টিম কাজ করছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা আয়োজিত প্রযুক্তি সুবিধাপ্রাপ্ত লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবেলায় নীতিগত সুপারিশ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা একথা বলেন।
সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, সারাদেশে প্রযুক্তিগত সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে নারীদের সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এ সকল অপকর্ম প্রতিরোধে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত কুইক রেসপন্স টিম কাজ করছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাল্য বিয়ের সংজ্ঞা পাল্টে গেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে মোবাইল নামক যন্ত্রটি। মোবাইল প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে ছোট ছোট মেয়েরা প্রেমের ফাঁদে পড়ে নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
মেয়েরা অবুঝ এজন্য অভিভাবকদেরকে এ বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে। যাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা প্রেমের ফাঁদে পড়ে নারী সহিংসতা শিকার না হয়।
উপদেষ্টা বলেন, জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা, নারী পক্ষ, হিউম্যান রাইটস বাংলাদেশ, সাইবার টিনস ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), ব্র্যাকসহ বাইশটি সংগঠন আজ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে একযোগে কাজ করছে। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
উপদেষ্টা বলেন এই ২২ টি সংগঠনের প্ল্যাটফর্মে যে সমস্ত শিক্ষিত তরুন যুবক যুবতীরা আছেন তাদেরকে টেকনোলজির মাধ্যমে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন ব্যক্তিগত এবং সামাজিক ও পরিবারের সচেতনতাই পারে একটি মেয়েকে নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে। এজন্য সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।
ইলিশের উৎপাদন একদিকে কমছে, এতে প্রাকৃতিক কারণও রয়েছে। নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে, মেঘনা নদীর অববাহিকায় দূষণের মাত্রা বেড়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টি না হলে ইলিশ মাছ ডিম পাড়তে পারে না। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকৃতিক কারণ ও তথাকথিত উন্নয়নের কারণে নদী ভরাট ও দখল হয়ে যাচ্ছে। এমন মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার। বরিশাল ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত উপকূলীয় এলাকার মহিষের চারণভূমি ও উন্নয়নের সমস্যা এবং সাধন শীর্ষক জাতীয় কর্মশালা-২০২৫-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ইলিশ একটি মাইগ্রেটরি মাছ এটি সমুদ্র থেকে নদীতে আসে এবং আবার ফিরে যেতে হয়। কিন্তু বর্তমানে তা হচ্ছে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ঝাটকা নিধন। কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী অভিযান চালালেও এটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যায়নি। এছাড়া অবৈধ জালের ব্যবহার ইলিশের প্রাপ্যতা কমাচ্ছে। তবে এসবের বিরুদ্ধে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।
তিনি জানান,খুব শীঘ্রই ঢাকায় একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নদী থেকে মাছ ধরে হাত বদলের সিন্ডিকেট বন্ধ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি বাজারে মাছ পাবে এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে আসবে।
ফরিদা আক্তার বলেন, উপকূল এলাকায় মহিষের চারণভূমি সংকুচিত হয়ে গেছে। আমরা গবেষণায় দেখেছি এর পেছনে নানা কারণ রয়েছে। বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও নির্মিত হচ্ছে। আমাদের দেশে গরু, ছাগল ও মহিষ পালন অন্তত মানুষের খাদ্য ও জীবন রক্ষার জন্য জরুরি। চারণভূমি বিষয়ে আমরা দেখছি যে অনেক কিছু পরিকল্পনা বিহীনভাবে তৈরি হচ্ছে। এতে মহিষের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তবে সঠিক নীতি ও ব্যবস্থা নিলে এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,পিকেএসএফ উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, জিজেইউএস নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন। সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. ওমর ফারুক, প্রেসিডেন্ট।
বক্তারা বলেন, নদী ও সমুদ্রের টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। মৎস্যজীবী, প্রশাসন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান একত্রিতভাবে কাজ করলে মাছ চাষ ও সংরক্ষণ কার্যকর হবে।
এছাড়া তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকায় মহিষ পালনের সম্ভাবনা অনেক, তবে জলবায়ু পরিবর্তন, চারণভূমির অভাব ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা খাতটির উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। গবেষণা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহিষ পালনকে লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তর করা সম্ভব।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান এর সভাপতিত্বে আজ রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক শ্রম মান বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শ্রম সচিব বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৬টি কনভেনশন ও একটি প্রটোকল অনুমোদন করেছে। আইএলও সংবিধান অনুযায়ী, অনুমোদিত ও অননুমোদিত উভয় ধরনের সনদের প্রয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সকল সদস্য রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক। এই কমিটি আইএলও কনভেনশন ১৪৪-এর বাধ্যবাধকতার আলোকে বাংলাদেশ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতামত, পরামর্শ ও সুপারিশ নিশ্চিত করবে।
সচিব আরও উল্লেখ করেন যে, আইএলও এর ১১টি কনভেনশন (C-01, C-14, C-19, C-81, C-89, C-100, C-106, C-111, C-118, C-138, MLC-2006) নিয়ে আলোচনা করা হয়। এগুলোর মধ্যে C-81 (শ্রম পরিদর্শন), C-100 (নারী ও পুরুষের সমান পারিশ্রমিক), C-111 (কর্মসংস্থান ও পেশায় বৈষম্য) এবং C-138 (ন্যূনতম কাজের বয়স) বিষয়ক চূড়ান্ত প্রতিবেদন আইএলও সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে খুব দ্রুত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার জেনেভাস্থ প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করা হবে।
সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিনিধি নিরান রাজমুঠান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের এবং শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, ইমপ্লোয়ার্স ফেডারেশন এর প্রতিনিধি , ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি , বেপজা প্রতিনিধি , NCCWE এর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, গবাদিপশু পালন প্রোটিন ঘাটতি নিরসন, মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। অথচ অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে চারণভূমির হ্রাস হচ্ছে, ফলে মহিষের মতো মূল্যবান সম্পদ ক্ষতির মুখে পড়ছে।
আজ সকালে বরিশাল ক্লাবে অনুষ্ঠিত “উপকূলীয় এলাকার মহিষের চারণভূমি ও উন্নয়নের সমস্যা এবং সমাধান” শীর্ষক জাতীয় কর্মশালা ২০২৫-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ বাফেলো এসোসিয়েশন, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজিইউএস) এবং কোস্টাল ভেট সোসাইটি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, সঠিক নীতি নির্ধারণ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে এখনো অনেক চরাঞ্চল রক্ষা করা সম্ভব। মহিষ পালন বাড়াতে পারলে জাতীয়ভাবে মাংস ও দুধ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যাবে।
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মহিষের চারণভূমি দ্রুত কমে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ এবং এমনকি সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর উপজেলায় বৃহৎ গরুর বাথান ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও উঠছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে গরুর বাথান ধ্বংস করা দেশের সামগ্রিক কল্যাণে কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে? তিনি আরও বলেন, মহিষের স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় উপকূলীয় এলাকায় স্পিডবোটভিত্তিক ভেটেরিনারি ক্লিনিক স্থাপন করা প্রয়োজন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে গবাদিপশুর চারণভূমি কমে যাওয়া এবং খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মহিষসহ অন্যান্য গবাদিপশুর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও টেকসই চারণভূমি উন্নয়ন অপরিহার্য। পাশাপাশি মহিষের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাতীয়ভাবে মাংস ও দুধ উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বাফেলো এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ওমর ফারুক।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং, পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, জিজিইউএস-এর নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্হানীয় খামারীরা কর্মশালায় অংশ গ্রহণ করেন।
মন্তব্য