করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি স্বাস্থ্যসেবা সচিব

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান।

করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি স্বাস্থ্যসেবা সচিব

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান জানান, বৃহস্পতিবার করোনা পরীক্ষার পর তার ফল পজিটিভ আসে। তখন থেকে বাসাতেই ছিলেন তিনি। 

করোনা আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান রাজধানীর শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে তিনি হাসপাতালটিতে ভর্তি হন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম নিউজবাংলাকে স্বাস্থ্য সচিব করোনা আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার করোনা পরীক্ষার পর তার ফল পজিটিভ আসে। তখন থেকে বাসাতেই ছিলেন তিনি। সচিবের পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তার ছেলে এবং ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)।

আবদুল মান্নান গত ২৮ জানুয়ারি প্রথম ডোজের করোনা টিকা নিয়েছিলেন।

গত বছরের ১৩ জুন করোনা আক্রান্ত হয়ে তার স্ত্রী কামরুন নাহার মারা যান।

টিকা নেয়ার ৬৩ দিন পর বৃহস্পতিবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। সপ্তাহ দুয়েক আগে করোনা আক্রান্ত হন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খুরশীদ আলম।

তারও আগে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আরও পড়ুন:
করোনা আক্রান্ত দুই বছরের শিশুর মৃত্যু
করোনা: মারা গেলেন চট্টগ্রামের নির্বাচন কর্মকর্তা
আবুল হায়াত করোনায় আক্রান্ত, হাসপাতালে
শিশুদের মধ্যে শতভাগ কার্যকর ফাইজারের কোভিড টিকা
করোনা: বইমেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধের সুপারিশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্বজনদের অ্যাসিডে পুড়িয়ে নিজেকেও পোড়ালেন

স্বজনদের অ্যাসিডে পুড়িয়ে নিজেকেও পোড়ালেন

প্রতীকী ছবি

এসআই আল ফয়সাল বলেন, ‘পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে আলী হোসেন তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করে নিজের গায়ে এসিড ঢেলে দেন। পরিবারের দাবি, আলী হোসেন মানসিকভাবে অসুস্থ ও মাদকাসক্ত।’

রাজধানীর লালবাগে পরিবারের পাঁচ সদস্যের ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করে নিজের গায়েও অ্যাসিডে দেয়ার অভিযোগে আলী হোসেন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোরে কাশ্মীটোলা লেনে এ ঘটনা ঘটে।

এতে আহত অন্যরা হলেন তার মা মোমেনা বেগম, আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন, বোন জামিলা আক্তার ও ভাগ্নে সালেহীন।

পুলিশ জানিয়েছে, আলী হোসেন স্থানীয় একটি ব্যাটারির দোকানের কর্মচারী। পরিবারের দাবি, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ও মাদকাসক্ত।

লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল ফয়সাল বলেন, জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে এক ব্যক্তির ফোনকলের পর তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে আলী হোসেন তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের ওপর এসিড নিক্ষেপ করে নিজের গায়ে অ্যাসিড ঢেলে দেন। পরিবারের দাবি, আলী হোসেন মানসিকভাবে অসুস্থ ও মাদকাসক্ত।’

এসআই আল ফয়সাল আরও বলেন, ‘আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রথমে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের মধ্যে জামিলা, ইকবাল ও সালেহীনের চোখে অ্যাসিড পড়ায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। আলীকে পুলিশ হেফাজতে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ও তার মাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

এ ঘটনায় আলী হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
করোনা আক্রান্ত দুই বছরের শিশুর মৃত্যু
করোনা: মারা গেলেন চট্টগ্রামের নির্বাচন কর্মকর্তা
আবুল হায়াত করোনায় আক্রান্ত, হাসপাতালে
শিশুদের মধ্যে শতভাগ কার্যকর ফাইজারের কোভিড টিকা
করোনা: বইমেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধের সুপারিশ

শেয়ার করুন

হেফাজত নেতাদের মুক্তি চান মান্না

হেফাজত নেতাদের মুক্তি চান মান্না

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। ফাইল ছবি

মান্না বলেন, হেফাজতে ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে হেফাজতকে পর্যুদস্ত করার কাজে লিপ্ত হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন উপলক্ষে দেশে যে অরাজকতা হয়েছে, রক্তপাত হয়েছে তার দায় একান্তই সরকার, সরকারি দল ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের।

গণমাধ্যমে মঙ্গলবার পাঠানো নাগরিক ঐক্যের এক বিবৃতিতে মান্না এসব কথা বলেন।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাকিব আনোয়ার বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ মার্চ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে হেফাজতের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা হয় চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

এ ঘটনার পর থেকে সরকারের সঙ্গে হেফাজতের দূরত্ব বাড়তে থাকে। বিভিন্ন মামলায় গত কয়েক দিনে গ্রেপ্তার হয় ধর্মভিত্তিক সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতা। গত রোববার দুপুরে ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মামুনুল হককে।

হেফাজত নেতাদের গ্রেপ্তার নিয়ে বিবৃতিতে মান্না বলেন, ‘২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সরকারি দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা হেফাজতের কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মুসল্লিদের ওপর হামলা করে প্রথমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে তা স্পষ্ট দেখা গেছে।

‘সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে অরাজকতা তৈরি হয়েছে এবং মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায় সরকারকে নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনার পর দায়ের করা মামলা এবং সেই ২০১৩ সালের মামলাসহ বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা মামলায় হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ তথা দেশের আলেম সমাজের নেতাদের গণহারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে।

‘একজন নেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জাতীয় সংসদে যেভাবে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষোদগার করা হয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে সরকারি দল হেফাজতে ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তাদের পর্যুদস্ত করার কাজে লিপ্ত হয়েছে। আমি অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত আলেম ওলামাদের মুক্তি দাবি করছি।’

বিবৃতিতে করোনা মোকাবিলায় সরকার উদাসীন উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, হাসপাতালে অক্সিজেন, আইসিইউ বেড নিশ্চিত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুই বেলা খাবার নিশ্চিত করা এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে মামলা, হামলা, রিমান্ড, অত্যাচার, নির্যাতনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে তারা।

‘দেশের সাধারণ জনগণ এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তা মেনে নেবে না। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ প্রতিবাদী হয়ে উঠছে। অচিরেই গণজোয়ার তৈরি হবে এবং সেই জোয়ারে অবৈধ ক্ষমতাসীনরা ভেসে যাবে।’

আরও পড়ুন:
করোনা আক্রান্ত দুই বছরের শিশুর মৃত্যু
করোনা: মারা গেলেন চট্টগ্রামের নির্বাচন কর্মকর্তা
আবুল হায়াত করোনায় আক্রান্ত, হাসপাতালে
শিশুদের মধ্যে শতভাগ কার্যকর ফাইজারের কোভিড টিকা
করোনা: বইমেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধের সুপারিশ

শেয়ার করুন

চীনের সঙ্গে ফ্লাইট শুরু

চীনের সঙ্গে ফ্লাইট শুরু

চীনের সঙ্গে চারটি কোম্পানিকে বিশেষ বিবেচনায় বিমান চালাতে অনুমতি দিয়েছে বেবিচক। ফাইল ছবি

বেবিচক এয়ার ট্রান্সপোরটেশন বিভাগের পরিচালক একেএম ফাইজুল হকের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, চায়না সাউদার্ন ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসকে চীনের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের সময় বিশেষ বিবেচনায় চীনের সঙ্গে আকাশপথ খুলে দিল বাংলাদেশ।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক চিঠিতে চীনের সঙ্গে বিমান চলাচলের কথা মঙ্গলবার জানানো হয়েছে।

বেবিচক এয়ার ট্রান্সপোরটেশন বিভাগের পরিচালক একেএম ফাইজুল হকের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, চায়না সাউদার্ন ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসকে চীনের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে।

অবশ্য এর জন্য এয়ারলাইনসগুলোকে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে বেবিচক।

এয়ারলাইনসগুলো শুধু পয়েন্ট টু পয়েন্ট যাত্রী বহন করতে পারবে। করোনা টিকা নেয়া থাকলেও যাত্রীদের যাত্রার নির্ধারিত সময়ের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড পরীক্ষা সম্পন্ন করে নেগেটিভ সনদ নিতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া মাঝারি আকারের উড়োজাহাজে যাত্রী পরিবহনে কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করা না হলেও সুপরিসর উড়োজাহাজে সর্বোচ্চ বহন করা যাবে ২৮০ যাত্রী। আর বোয়িং ট্রিপল সেভেন বা সেভেন ফোর সেভেন উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩২০ জন।

আর ঢাকায় আসা মাঝারি আকারের উড়োজাহাজে যাত্রী সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়েছে ১০০ জনে। আর সুপরিসর উড়োজাহাজে এ সংখ্যা রাখা হয়েছে ১৫০ জন।

এ ছাড়া উড়োজাহাজের ইকোনমি ক্লাসে একটি সারি ও বিজনেজ ক্লাসে একটি কেবিন সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্ত যাত্রীর জন্য রাখতে বলা হয়েছে। এই অবস্থা ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে চিঠিতে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে এ নিষেধাজ্ঞা আরও দুই দিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। তবে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন চালু থাকায় তা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে খুব একটা কাজে আসেনি।

এর মধ্যে ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রথমে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এ অবস্থা চলার কথা থাকলেও সোমবার বিধিনিষেধ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ১৪ এপ্রিল থেকেই বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব যাত্রীবাহী ফ্লাইট। তবে চিকিৎসা, পণ্যবাহী ও বিশেষ ফ্লাইটকে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

অবশ্য পরে প্রবাসী কর্মীদের কথা বিবেচনায় রেখে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে গত শনিবার থেকে শতাধিক বিশেষ ফ্লাইট অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই পাঁচ দেশ হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুর।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানসহ মোট ১২টি দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনস যাত্রী পরিবহনের সুযোগ পাচ্ছে। এগুলো হলো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস, ওমান এয়ার, সালাম এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ইতিহাদ, এয়ার অ্যারাবিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া আবুধাবি ও ফ্লাই দুবাই।

আরও পড়ুন:
করোনা আক্রান্ত দুই বছরের শিশুর মৃত্যু
করোনা: মারা গেলেন চট্টগ্রামের নির্বাচন কর্মকর্তা
আবুল হায়াত করোনায় আক্রান্ত, হাসপাতালে
শিশুদের মধ্যে শতভাগ কার্যকর ফাইজারের কোভিড টিকা
করোনা: বইমেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধের সুপারিশ

শেয়ার করুন

চিকিৎসক-পুলিশের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি সমীচীন নয়: হাইকোর্ট

চিকিৎসক-পুলিশের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি সমীচীন নয়: হাইকোর্ট

মুভমেন্ট পাস নিয়ে ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে চিকিৎসকের সঙ্গে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডা হয়। ফাইল ছবি

চিকিৎসক-পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বাগবিতণ্ডার ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে দুই বিচারপতির বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘প্রশাসনের লোকেরা জনগণের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করবে এমনটি আমরা প্রত্যাশা করি।’

চিকিৎসক-পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বাগবিতণ্ডার ঘটনায় দুই পেশাজীবী সংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেয়া সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ মন্তব্য করে।

ওই দিনের ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে দুই বিচারপতির বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘প্রশাসনের লোকেরা জনগণের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করবে এমনটি আমরা প্রত্যাশা করি।’

এর আগে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ ওই দিনের ঘটনা এবং দুই সংগঠনের বিবৃতির বিষয়টি নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করে রিট করার অনুমতি চান। এ সময় বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, ‘ওই ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেয়া সমীচীন হয়নি। তাদের এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে এমন আচরণ কাম্য নয়।’

আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘গতকাল আপনি এ বিষয় নিয়ে এসেছিলেন। আপনি তো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নন। আপনি কেন এসেছেন?’

তখন আইনজীবী ইউনুছ আলী বলেন, ‘আমার মেয়ে একজন চিকিৎসক। এ ছাড়া আত্মীয়স্বজনের মধ্যেও চিকিৎসক রয়েছে।’

এ সময় আদালতে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান চৌধুরী। তখন অ্যাটর্নি জেনারেলও ওই দিনের ঘটনাকে দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেলকে উভয় পক্ষের উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে বলেন আদালত।

আদালতে বিষয়টি উপস্থাপনকারী আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছিলাম। আমি এগ্রিভড (সংক্ষুব্ধ) নই বলে রিটের অনুমতি দেয়নি আদালত। তবে আদালত এ বিষয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেছে।’

তিনি বলেন, ‘তারপরও আমি এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করব। আমার মেয়ে চিকিৎসক। সে হিসেবে আমিও এগ্রিভড।

‘এ ছাড়া এ ঘটনায় পুলিশ যে বিবৃতি দিয়েছে, তা তারা দিতে পারেন না। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নামে তারা যে সংগঠন করেছেন, তা তারা করতে পারেন না। সরকারি চাকরি করে সেই সরকারি সংস্থায় আবার কিসের সংগঠন। এটা চ্যালেঞ্জ করে আমি রিট দায়ের করব।’

লকডাউনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে চিকিৎসক-পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডার ঘটনায় দুই পেশাজীবী সংগঠন সোমবার পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেয়। পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ।

অন্যদিকে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাল্টা বিবৃতি দিয়ে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়।

কী ঘটেছিল সেদিন

গত রোববার এলিফ্যান্ট রোডে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া নিয়ে ডা. জেনির সঙ্গে পুলিশের তর্ক হয়, যা একপর্যায়ে উত্তপ্ত বিতণ্ডায় রূপ নেয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয় এবং দিনভর এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়।

ডা. জেনি যখন এসব কথা পুলিশকে বলছিলেন, তখন তাকে ‘ভুয়া ডাক্তার’ বলা হয়েছে বলে তিনি নিউজবাংলার কাছে অভিযোগ করেছেন।

এমনকি একপর্যায়ে অবৈধ যৌন ব্যবসা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার পাপিয়ার সঙ্গে তাকে তুলনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জেনি।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ডা. জেনি পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘তুই-তোকারি’ করেছেন, ‘দেখে নেয়ার’ হুমকি দিয়েছেন।

ডা. জেনি একজন রেডিওলজিস্ট। এই সূত্রে রেডিওলজিস্টদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ এক বিবৃতিতে ওসি কাইয়ুমের শাস্তি দাবি করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পতিতাবৃত্তির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা পাপিয়ার সঙ্গে পুলিশ ডা. জেনির তুলনা করেছে, যা একজন নারী চিকিৎসকের জন্য চরম অবমাননাকর।’

আরও পড়ুন:
করোনা আক্রান্ত দুই বছরের শিশুর মৃত্যু
করোনা: মারা গেলেন চট্টগ্রামের নির্বাচন কর্মকর্তা
আবুল হায়াত করোনায় আক্রান্ত, হাসপাতালে
শিশুদের মধ্যে শতভাগ কার্যকর ফাইজারের কোভিড টিকা
করোনা: বইমেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধের সুপারিশ

শেয়ার করুন

আখতারের ফের রিমান্ড চায় পুলিশ

আখতারের ফের রিমান্ড চায় পুলিশ

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা আখতার হোসেনকে আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। ফাইল ছবি

আদালতের নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই নিজামুদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, পিডব্লিউমূলে আসামিকে আদালতে হাজির করাসহ পাঁচ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনটি জমা দিয়েছেন।

পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম খান মঙ্গলবার আখতারকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আবেদনটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের শাহাবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখায় জমা দেন।

আদালতের নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই নিজামুদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, পিডব্লিউমূলে আসামিকে আদালতে হাজির করাসহ পাঁচ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনটি জমা দিয়েছেন।

আসামি পক্ষের এক আইনজীবী সিরাজুল ইসলামও বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার আবেদন জমা দিলেও এর শুনানির কোনো নির্দিষ্ট তারিখ দেয়নি। যেকোনো দিনই এই শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

১৭ এপ্রিল দুই দিনের রিমান্ড শেষে আখতারকে আদালতে হাজির করলে আসামি পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির তার জামিন চেয়ে আদালতে শুনানি করেন। শুনানিতে তার সঙ্গে আরও কয়েকজন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

শুনানি শেষে বিচারক জামিন না দিয়ে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আখতারকে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দেন।

পুলিশের ওপর হামলা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে ১৪ এপ্রিল আখতারকে মাহনগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ তার দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগে থেকে জানা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৫ মার্চ মতিঝিল থানায় ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ একটি মিছিল বের করে। সেই মিছিলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ সময় আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। আটক ওই ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পুলিশ চিকিৎসা দিতে নিয়ে গেলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কর্মীরা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় একই দিনে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন পল্টন মডেল থানার এসআই রায়হান কবির।

মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, বর্তমান সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আতাউল্লাহসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়।

আরও পড়ুন:
করোনা আক্রান্ত দুই বছরের শিশুর মৃত্যু
করোনা: মারা গেলেন চট্টগ্রামের নির্বাচন কর্মকর্তা
আবুল হায়াত করোনায় আক্রান্ত, হাসপাতালে
শিশুদের মধ্যে শতভাগ কার্যকর ফাইজারের কোভিড টিকা
করোনা: বইমেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধের সুপারিশ

শেয়ার করুন

লকডাউন ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

লকডাউন ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

চলমান লকডাউন ২৮ এপ্রিল নাগাদ বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ফাইল ছবি

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব পর্যায়ের সোমবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারঘোষিত চলমান লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মঙ্গলবার এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান লকডাউন ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১২ এপ্রিল করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে জারি করা প্রজ্ঞাপনে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে সেটি এখানেও বহাল থাকবে।

ওই বিধিনিষেধ ১৪ এপ্রিল থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

আগের প্রজ্ঞাপনে কঠোর লকডাউনের ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। পরে সংক্রমণ না কমায় জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ মেনে চলমান লকডাউন ২২ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

সবশেষ প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক বিশেষ ফ্লাইট চলাচল, ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ পূর্বের সকল বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা আগামী ২১ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব পর্যায়ের সোমবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারঘোষিত চলমান লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরে দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার।

তিনি বলেন, ২২ থেকে ২৮ এপ্রিল এই লকডাউন কার্যকর থাকবে।

সর্বাত্মক লকডাউনে যে ১৩ নির্দেশনা

১. সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ও সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান সমুদ্র ও স্থলবন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৩. সব পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেলপথ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না।

৪. শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া নিশ্চিত করতে হবে।

৫. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি) খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলো (স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য এবং সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবে বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড প্রদান সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।

৭. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল বিক্রয় বা সরবরাহ করা যাবে। শপিংমলসহ অন্য দোকান বন্ধ থাকবে।

৮. কাঁচাবাজার এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

৯. বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষিশ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।

১০. সারা দেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লেখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।

১১. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেবেন।

১২. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমা ও তারাবি নামাজের জমায়েত বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জারি করবে।

১৩. উল্লিখিত নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রয়োজনের সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

প্রথমে আর্থিক খাত বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও পরে বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

আরও পড়ুন:
করোনা আক্রান্ত দুই বছরের শিশুর মৃত্যু
করোনা: মারা গেলেন চট্টগ্রামের নির্বাচন কর্মকর্তা
আবুল হায়াত করোনায় আক্রান্ত, হাসপাতালে
শিশুদের মধ্যে শতভাগ কার্যকর ফাইজারের কোভিড টিকা
করোনা: বইমেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধের সুপারিশ

শেয়ার করুন

টিকা তৈরিতে আন্তরাষ্ট্র সহযোগিতায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

টিকা তৈরিতে আন্তরাষ্ট্র সহযোগিতায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার উদ্বোধন অনুষ্ঠানের ভাষণে করোনা মহামারি মোকাবিলায় পারস্পরিক শক্তিশালী অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

সবার জন্য করোনাভাইরাসের টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে যেসব রাষ্ট্র টিকা উৎপাদন করে না, সেগুলোকে সহায়তা দিতে টিকা তৈরিকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএএফ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ধারণ করা এক ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার সকালে প্রচার হওয়া ভাষণে করোনা মহামারি মোকাবিলায় পারস্পরিক শক্তিশালী অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। সর্বজনীন ভ্যাকসিন কাভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশগুলোর উচিত অন্য দেশগুলোকে ভ্যাকসিন উৎপাদনে সহায়তা করা।

‘ভ্যাকসিন এবং অন্যান্য চিকিৎসা উপকরণের চাহিদা মেটাতে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কার্যকর করতে সব দেশের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জিএভিআই এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলোকে অবশ্যই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অধিকার, সাম্য এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের ইতিহাসের এক চূড়ান্ত পথে নিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত আমরা সময়ের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মহামারির আর্থসামাজিক প্রভাব ব্যাপক এবং এই প্রভাব এখনও বাড়ছে। সুতরাং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

‘জীবন ও জীবিকার ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ মহামারির বিরূপ প্রভাব কাটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যা আমাদের জিডিপির ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।’

বৈশ্বিক এই মহামারির সময় কেউ যাতে পেছনে না পড়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক গভর্ন্যান্সের গুরুত্বও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি সংকটময় সময় কাটিয়ে উঠতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই সংকটময় সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর তহবিল হতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আরও বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

‘সার্ক, বিমসটেক, এসএএসসি, বিবিআইএন এবং বিসিআইএমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন আঞ্চলিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং এর বাইরেও বহু মাল্টি মডেল লিংকেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বাংলাদেশ বিশ্বাস করে বৈশ্বিক গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করা এবং অ্যাডভান্স বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

ঐক্যবদ্ধভাবে প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই মহাদেশটিতে বিপুল জনসংখ্যা, বিশাল বাজার এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আমরা একসঙ্গে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারি। এটি আমাদের প্রতিশ্রুত এসডিজি অর্জনেও সহায়তা করবে। একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা বাড়ানো দরকার। হাই-টেক পার্ক, ব্রডব্যান্ড এবং স্যাটেলাইট সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য কাঠামো তৈরি করেছে।

‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ (হলো) আমরা আমাদের তরুণদের উদ্ভাবনের জন্য প্রস্তুত করছি। এ ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সুবিধাগুলো বিনিময়ের মাধ্যমে পাশাপাশি আমরা সাইবার অপরাধসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারি।’

আরও পড়ুন:
করোনা আক্রান্ত দুই বছরের শিশুর মৃত্যু
করোনা: মারা গেলেন চট্টগ্রামের নির্বাচন কর্মকর্তা
আবুল হায়াত করোনায় আক্রান্ত, হাসপাতালে
শিশুদের মধ্যে শতভাগ কার্যকর ফাইজারের কোভিড টিকা
করোনা: বইমেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধের সুপারিশ

শেয়ার করুন