দেশে দ্বৈত পাসপোর্টধারী ১৪ হাজার

দেশে দ্বৈত পাসপোর্টধারী ১৪ হাজার

সেসব বাংলাদেশির দ্বৈত নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট আছে এবং যারা দেশে-বিদেশে ঘন ঘন আসা-যাওয়া করছেন, তাদের তালিকার জন্য আদেশ রয়েছে হাইকোর্টের। সে অনুযায়ী একটি প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

দেশে দ্বৈত পাসপোর্টধারী নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। আদালতের নির্দেশে ইমিগ্রেশন পুলিশের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পুলিশের বিশেষ শাখার পুলিশ সুপারের (ইমিগ্রেশন) পক্ষে বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, বাংলাদেশের ১৩ হাজার ৯৩১ জনের দ্বৈত নাগরিক ও দ্বৈত পাসপোর্টধারী নাগরিকের তালিকা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তাদের এসেছে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আজ আমাদের অফিসে দাখিল করা হয়েছে। শিগগিরই এ প্রতিবেদন হলফনামা করে আদালতে দাখিল করা হবে।’

অর্থ পাচার ও দুর্নীতির মাধ্যমে যারা বিদেশে বাড়ি নির্মাণ করেছেন অথবা বাড়ি কিনেছেন, সেসব বাংলাদেশির দ্বৈত নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট আছে এবং যারা দেশে-বিদেশে ঘন ঘন আসা-যাওয়া করছেন তাদের তালিকার জন্য আদেশ রয়েছে হাইকোর্টের।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২১ ডিসেম্বর এ আদেশ দেয়।

আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

এর আগে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে গত বছরের ২২ নভেম্বর স্বপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সব ধরনের তথ্য চান হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আরও পড়ুন:
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২
ডিজিটাল ভ্যাকসিন পাসপোর্টে সমাধান?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘চেয়ারম্যান’ ইকবাল মাহমুদের অনিয়ম খুঁজে পায়নি দুদক

‘চেয়ারম্যান’ ইকবাল মাহমুদের অনিয়ম খুঁজে পায়নি দুদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

গত ১৪ মার্চ দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিদায়ের আগে দুর্নীতির বহু রাঘব বোয়ালকে ছেড়ে দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এরপর উচ্চ আদালত এই ঘটনায় ব্যাখ্যা চায় দুদকের কাছে। দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশনে কারও একার পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। যাদের বিষয়ে অভিযোগের তথ্য প্রমাণ অনুসন্ধানে পাওয়া যায় না, সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ তার মেয়াদের শেষ পাঁচ মাসে দুই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়মুক্তি দেয়ার বিষয়কে ‘অনুসন্ধান বাণিজ্য’ বলে একটি গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে দুদক।

তবে এই ঘটনায় চেয়ারম্যানের একার পক্ষে কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব ছিল না বলে প্রতিবেদনে মত দেয়া হয়েছে।

এই প্রতিবেদন উচ্চ আদালতে দাখিল করা হবে। তবে এর একটি কপি আগেই পেয়েছে নিউজবাংলা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এর মধ্যে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত তথ্যটি বিভ্রান্তিমূলক, যা বস্তুনিষ্ঠ নয়।’

তবে যে প্রতিবেদক সংবাদটি লিখেছেন করেছেন, তিনি নিউজবাংলাকে বলেছেন, যথেষ্ঠ সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই তিনি সেই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। আদালত চাইলে তিনি সে নথিপত্র দাখিল করবেন।

কী ছিল সেই প্রতিবেদনে

গত ১৪ মার্চ দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিদায়ের আগে দুর্নীতির বহু রাঘব বোয়ালকে ছেড়ে দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তাদের দায়মুক্তি আড়াল করতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন কিছু নিরীহ ও দুর্বল ব্যক্তিকে। সব মিলিয়ে শেষ ৫ মাসে তিনি ২ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (দায়মুক্তি) দেন।’

এই তথ্য ‘নির্ভরযোগ্য সূত্রের’ বলেও উল্লেখ করা হয় এতে।

দুদকে ‘অনুসন্ধান বাণিজ্য’ শিরোনামে সেই প্রতিবেদনে এও বলা হয়, ইকবাল মাহমুদ বিদায় নেয়ার আগে স্বীয় কৃতকর্মের অনেক দালিলিক প্রমাণই যথাসম্ভব ‘নিশ্চিহ্ন’ করে যান।

বলা হয়, এরপরও ওই প্রতিবেদকের হস্তগত হয় বেশকিছু নথি। সে অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই শতাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

ইকবাল মাহমুদ চলতি বছরের ১০ মার্চ বিদায় নেন। তিনি ২০১৬ সালের ১০ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

উচ্চ আদালতের আদেশ

এই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ১৬ মার্চ হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে আদালতের নজরে আনেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন মানিক। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

পরে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দেয়। পাশাপাশি ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ঘটনাগুলোর বিষয়ে রুল জারি করে দুদকের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়।

এতে কত জনকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে, সে সংখ্যা জানতে চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককেও সেই তথ্য জানাতে বলা হয়।

দুদকের প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে

আদালতের আদেশের পর দুদক এই বিষয়ে একটি প্রতিবদন তৈরি করেছে। এটি শিগগির আদালতে জমা দেয়া হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, তা সঠিক নয়। সংবাদটি বাস্তবতাবিবর্জিত। সংবাদে উপস্থিত তথ্যসমূহ বস্তুনিষ্ঠ হয়।’

এতে বলা হয়, ‘সংবাদে যে ৫ মাস সময়কালের উল্লেখ করা হয়েছে, সে সময়ে কমিশনের কার্যক্রম অন্যান্য সকল সময়ের মতোই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক যথাযথ নিয়ম, আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে আইন ও বিধির কোনো ব্যত্যয় করা হয়নি। উল্লেখ্য সিদ্ধান্তসমূহ আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবেই গ্রহণ করা হয়েছে এবং সকল সিদ্ধান্ত আইনগতভাবেই গ্রহণ করা হয়েছে।’

দুদকের পরিচালক আবুল হাসনাত মো. আবদুল ওয়াদুদ সাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “‘সংবাদের প্রথম বাক্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদায়ের আগে দুর্নীতির বহু রাঘব বোয়ালকে ছেড়ে দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান…’ এ কথাটি সত্য নয়। কারণ, কমিশনের চেয়ারম্যান বা কোনো কমিশনার এককভাবে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি বা ছেড়ে দিতে পারেন না। দুদক আইন ও বিধি মোতাবেক যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ কমিশনের পক্ষে একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক অনুসন্ধান পরিচালনা করেন। অনুসন্ধান শেষে তিনি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দাখিল করেন।

“প্রাপ্ত প্রতিবেদন পর্যায়ক্রমে একজন অনুসন্ধান কার্যের তদারককারী (ঊর্ধ্বতন) কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ও মহাপরিচালকগণ পর্যালোচনা করেন। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে তাদের মতামতসহ কমিশনের নিকট উপস্থাপিত হয়। কমিশন মেরিট অনুযায়ী কেস টু কেস পর্যালোচনা শেষেই কেবল একটি অভিযোগ পরিসমাপ্তি অথবা মামলা দায়েরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ের ন্যায়ে সংবাদে উল্লেখিত সময়কালে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে সকল অনুসন্ধান/তদন্ত যথাযথভাবে নিষ্পত্তি শেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এককভাবে চেয়ারম্যানের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সুযোগ ছিল না।”

দুদকের আইনজীবী যা বলছেন

সংস্থাটির আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইকবাল মাহমুদের মত একজন দক্ষ চেয়ার‌ম্যানকে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এ ধরনের নিউজ ছাপা হয়েছে। যেটাকে আমরা মনে করি হলুদ সাংবাদিকতা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য হলো- ইনকিলাবে যে রিপোর্ট হয়েছে সেটি বিভ্রান্তিমূলক। এক ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা। তার কারণ হলো দুদকের কোনো চেয়ারম্যান বা কমিশনার একা কোন কাজ করতে পারেন না।

‘দুদকের বিধি ১২ ধারা অনুযায়ী সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যদি সর্বসম্মত না হয়, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়। এককভাবে কোনো ব্যক্তির পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। এককভাবে কোনো ব্যক্তির কোনো কাজ দুদক আইনে অনুমোদন করে না। যা করে কমিশন আইন অনুযায়ী সর্ব সম্মতভাবে হয়ে থাকে। কাজেই প্রত্যেকটি কাজের ব্যাখ্যা দুদক থেকে দিয়েছেন। সেটি আমরা আদালতে দাখিল করব।’

কী বলছেন সেই প্রতিবেদক

দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনটি লিখেছেন সাঈদ আহমেদ খান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘দায়মুক্তির ক্ষেত্রে তাদের (দুদক) যে সমস্ত ডকুমেন্ট রয়েছে, সেই ডকুমেন্টের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। আদালত চাইলে আমরাও আমাদের জবাব দেব। ডকুমেন্টগুলো সরবরাহও করব। আমরাও সেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘দুদকের আইনজীবী হিসেবে খুরশীদ আলম খান সঠিক বলেননি। তিনি শুধু দুদকের পক্ষে উকালতি করেছেন। আর আমরা অনুসন্ধানী রিপোর্ট করেছি তথ্য প্রমাণের বিভিত্তিতে। আমরা রিপোর্টে বলেছি তারা (দুদক) ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। অনেক প্রভাবশালী পয়সাওয়ালা ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময় তাদের এখতিয়ারকে পুঁজি করে দায়মুক্তি দিয়েছে। তার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।’

আরও পড়ুন:
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২
ডিজিটাল ভ্যাকসিন পাসপোর্টে সমাধান?

শেয়ার করুন

এবার হাসিনাকে আম পাঠাল পাকিস্তান

এবার হাসিনাকে আম পাঠাল পাকিস্তান

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাকিস্তানের পাঠানো উপহারের আম। ছবি: পাকিস্তান হাইকমিশন

ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশন জানায়, গত বছরের মতো এবারও পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য পাকিস্তানি তাজা আম উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে।

আগের বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আম উপহার পাঠিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভী।

সোমবার রাতে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ‘গত বছরের মতো এবারও পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য পাকিস্তানি তাজা আম উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে।’

এর আগে ২৩ জুলাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জন্য আম পাঠান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইমরান খানের জন্য পাঠানো হয় রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙা আম।

এই আম কূটনীতিকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে দুই দেশের সম্পর্কের প্রতীক বলে উল্লেখ করে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

ওইদিন হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জন্য ১০০০ কেজি হাঁড়িভাঙা আম পাঠিয়েছেন।

এবার হাসিনাকে আম পাঠাল পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অফিসে হস্তান্তর করা হয় শেখ হাসিনার উপহারের আম। ফাইল ছবি

হাইকমিশন থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রিমিয়াম মানের হাঁড়িভাঙা আম পাঠিয়েছেন। এই উপহারের ভূয়সী প্রশংসা করেছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ।

কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে সুস্বাদু আম উপহারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার এর পরিসর আরও বাড়ানো হয়। শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত নয়, বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশাহ, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপহার হিসেবে আম পাঠান তিনি।

আরও পড়ুন:
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২
ডিজিটাল ভ্যাকসিন পাসপোর্টে সমাধান?

শেয়ার করুন

টিকা কেনায় ২৬৭ কোটি টাকা ছাড়

টিকা কেনায় ২৬৭ কোটি টাকা ছাড়

নতুন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের বাইরেও করোনা টিকা কিনতে আলাদা ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চীন থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে দুই চালানে দেশে আসছে ৫০ লাখ টিকা। এছাড়া উপহার হিসেবে আর ১১ লাখ টিকা দিয়েছে চীন।

চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম থেকে করোনার টিকা কিনতে ২৬৭ কোটি টাকা অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার এই অর্থ ছাড় করেছে অর্থমন্ত্রণালয়।

চীন থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে দুই চালানে দেশে আসছে ৫০ লাখ টিকা। এছাড়া উপহার হিসেবে আর ১১ লাখ টিকা দিয়েছে চীন।

সব মিলিয়ে চীন থেকে সিনোফার্মের ৬১ লাখ টিকা দেশে আসছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আরও ৩০ লাখ টিকা দেশে আসার কথা রয়েছে।

নতুন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের বাইরেও করোনা টিকা কিনতে আলাদা ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আলাদা ৫ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

সরকার দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের টিকা প্রদান নিশ্চিত করত চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে থোক বরাদ্দের ১০ হাজার কোটি টাকা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বরাদ্দের ৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হলে টিকা কেনার পেছনে ব্যয় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে আমাদের টাকার কোনো সমস্যা হবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় যখন যা চাইবে, চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ছাড় করা হবে। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে, টিকার অব্যবস্থাপনা। এই জায়গায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বেশি নজর দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২
ডিজিটাল ভ্যাকসিন পাসপোর্টে সমাধান?

শেয়ার করুন

শোক দিবসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: আইজিপি

শোক দিবসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: আইজিপি

সোমবার বিকেলে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশ নেন আইজিপি। ছবি; সংগৃহীত

‘আগস্ট আমাদের শো‌কের মাস। এ মাসে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে; রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী অনেক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছে। ১৭ আগস্ট জেএমবি দেশের ৬৩টি জেলায় সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছে। এ জন্য আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, সর্বহারাদের অপতৎপরতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ইত্যাদি বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সব ইউনিট প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ।

যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অনুষ্ঠানসমূহ আয়োজন করা হচ্ছে কি না তার দিকে খেয়াল রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার বিকেলে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সব মহানগর, রেঞ্জ ও জেলার পুলিশ সুপারদের এ নির্দেশনা দেন।

বেনজীর বলেন, ‘আগস্ট আমাদের শো‌কের মাস। এ মাসে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে; রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী অনেক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছে।

‘১৭ আগস্ট জেএমবি দেশের ৬৩টি জেলায় সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছে। এ জন্য আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, সর্বহারাদের অপতৎপরতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ইত্যাদি বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’

আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতিসহ তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

‘বিট পুলিশিং’ এর কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, “জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দেয়ার একটি কার্যকর এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি ‘বিট পুলিশিং’।”

‘বিট পুলিশিং’ সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ ক‌রে করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এটি চালু রাখার নির্দেশ দেন আইজিপি।

আইজিপি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে পুলিশ সদস্যদের পাশাপা‌শি তাদের পরিবারের সদস্যদের টিকা গ্রহণ নি‌শ্চিত কর‌তে সং‌শ্লিষ্ট‌দের‌কে নির্দেশনা দেন।

পুলিশ সদস্যদের করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য নিয়মিত ফোর্সকে ব্রিফ করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেন তিনি।

বলেন, ‘বর্তমান অতিমারিতে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক পুলিশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। মানুষের পাশে থেকে তাদের হৃদয় ও মন জয় করার এ সুযোগ কাজে লাগানোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।’

আইজিপি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পুলিশ রেখে যেতে চাই, যাতে অবসরে গেলে পুলিশকে নিয়ে গর্ব করতে পারি। দেশের জনগণ গর্বভরে পুলিশের সেবা গ্রহণ করতে পারে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পুলিশের সকল স্থাপনা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও তাগিদ দেন আইজিপি।

আরও পড়ুন:
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২
ডিজিটাল ভ্যাকসিন পাসপোর্টে সমাধান?

শেয়ার করুন

সিনিয়র নার্স নিয়োগের স্থগিত মৌখিক পরীক্ষা ২৭-২৮ আগস্ট

সিনিয়র নার্স নিয়োগের স্থগিত মৌখিক পরীক্ষা ২৭-২৮ আগস্ট

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্সের (১০ম গ্রেড) মৌখিক পরীক্ষা গত ২৬ জুন ও ৩ জুলাই হওয়ার কথা ছিল। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ পরীক্ষা স্থগিত করে পিএসসি।

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্থগিত সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

সোমবার পিএসসি এক বিজ্ঞপ্তিতে মৌখিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ২৭ ও ২৮ আগস্ট সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের স্থগিত মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিএসসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এ পরীক্ষা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্সের (১০ম গ্রেড) মৌখিক পরীক্ষা গত ২৬ জুন ও ৩ জুলাই হওয়ার কথা ছিল। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ পরীক্ষা স্থগিত করে পিএসসি।

আরও পড়ুন:
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২
ডিজিটাল ভ্যাকসিন পাসপোর্টে সমাধান?

শেয়ার করুন

করোনার ভুয়া রিপোর্ট দিচ্ছিল প্রাভা হেলথ!

করোনার ভুয়া রিপোর্ট দিচ্ছিল প্রাভা হেলথ!

বেশ কিছু দিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ ছিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

করোনা পরীক্ষার ভুয়া প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান প্রাভা হেলথকেয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের কার্যক্রম সময়িকভাবে স্থাগিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা ফরিদ উদ্দিন মিয়া নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ ছিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহফুজা খানমের ছেলে মাহফুজ শফিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আর আগে ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. জাহিদুল ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরই মধ্যে অভিযোগকারী মাহফুজ শফিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে তদন্ত কমিটির কাছে তার বক্তব্য জানিয়েছেন।

মাহফুজ শফিক কমিটিকে দেয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রাভা হেলথ এর অতি উৎসাহী মার্কেটিং আমাদের আকৃষ্ট করেছে। প্রাভা নামটি ইন্টারন্যাশনাল হেলথ চেইন অব ইন্ডিয়া। তাদের ওয়েবসাইটে (প্রাভা) বলা হয়েছে, তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পার্টনার।

‘আমার বড় মেয়ে বায়ান শফিকের প্রাভা হেলথের পজিটিভ রিপোর্ট (করোনা) পেয়ে মেডিনোভাতে সিটিস্ক্যান ও রক্তের অন্যান্য পরীক্ষা করানো হয় এবং বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ানো হয়। প্রাভার পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ার পর আইইডিসিআরের পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়ার আগে পর্যন্ত পুরো পরিবার অবর্ণনীয় মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করে। করোনা পজিটিভ না হয়েও ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস ওয়েবসাইটে পজিটিভ রিপোর্ট আপলোড করা হয়। যা সারা পৃথিবীর সব ইমিগ্রেশন দেখতে পাবে। এটা মানহানিকর। টিকেট, হোটেল ও অন্যান্য খরচসহ আর্থিক ক্ষতিসাধন।’ তদন্ত কমিটির কাছে মাহফুজ শফিক সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন।

এর আগে গত ৭ জুলাই বিকাল ৫টায় সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের ছেলে মাহফুজ শফিক তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বনানীর প্রাভা হেলথ কেয়ারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করান। সেই দিনই রাত ১২টায় মোবাইলে এসএমএস আসে তাদের তিনজনই করোনা পজিটিভ। এমন দুঃসংবাদে দিশেহারা হয়ে ওঠে পুরো পরিবার। ২২ ঘণ্টা পর তারা আবারও রাজধানীর আইইডিসিআরবিতে করোনা পরীক্ষা জন্য নমুনা দিয়ে আসেন। কিন্তু আইইডিসিআরবি থেকে তিনজনেরই ফল আসে নেগেটিভ। যার ফলে প্রাভা হেলথ কেয়ারের বিরুদ্ধে ভুয়া করোনা সনদ দেয়ার অভিযোগ করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের পরিবার।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যেভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাহফুজ শফিকের ছোট মেয়ে। মেয়ের সঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল পরিবারের তিন সদস্যের। ভিসা পাওয়ার পর শুক্রবার (৯ জুলাই) কাতার এয়ারওয়েজের টিকেট কেনেন তারা। বিদেশ ভ্রমণের জন্য এখন করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক থাকায় তারা বনানীর প্রাভা হেলথ কেয়ারে পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন।

পরে ওই দিন রাতে প্রতিষ্ঠানটি এসএমএস এর মাধ্যে করোনার ভুয়া পজিটিভ রিপোর্ট পাঠান তাদেরকে। ফলে আমেরিকা যাবার টিকেট কেটে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন পরিবারটির সদস্যরা। কারণ আইসিডিডিআরবি থেকে নেগেটিভ রিপোর্ট আসার আগেই তাদের যাত্রার টিকেট নষ্ট হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২
ডিজিটাল ভ্যাকসিন পাসপোর্টে সমাধান?

শেয়ার করুন

১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছেন খালেদা: ফখরুল

১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছেন খালেদা: ফখরুল

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ির সিঁড়িতে হত্যাকাণ্ডের পর পড়ে ছিল বঙ্গবন্ধুর মরদেহ। ছবি: সংগ্রহীত

‘অত্যন্ত সন্মান্বিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১৫ আগস্টের যে হত্যাকাণ্ড ১৯৭৫ সালে, আমরা কিন্তু প্রত্যেকবার আমাদের নেতা, আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পার্লামেন্টে সবসময়েই এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। আমরা কেউই কোনো হত্যাকাণ্ড সমর্থন করি না।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় সংসদেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় ফখরুল এই মন্তব্য করেন। লালমনিরহাট বিএনপির উদ্যোগে জেলার কোভিড-১৯ হেল্প সেন্টারের উদ্বোধন এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে এই অনুষ্ঠান হয়।

এ সময় বিএনপি নেতা বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানকে দোষারোপ করে আওয়ামী লীগ নেতাদের রাখা নানা বক্তব্যের জবাব দেন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় জিয়া ছিলেন উপসেনা প্রধান। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান ও খন্দকার আব্দুর রশিদ পরে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, এই পরিকল্পনা জানতেন জিয়াউর রহমান। আর তিনি তাদেরকে এগিয়ে যেতে বলেন।

জিয়া ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের বাইরে রাখার সুবিধা জিয়ে খোন্দকার মুশতাক আহমেদের জারি করা অধ্যাদেশ সংবিধানের অংশ করেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে চাকরি বা রাষ্ট্রদূত করে পুরষ্কৃতও করেন তিনি।

ফখরুলের অভিযোগ, জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে সরকার ‘নতুন গীত’ গাইছে।

১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছেন খালেদা: ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, ‘এদের (আওয়ামী লীগ সরকার) কাজ কী? এদের কাজ হচ্ছে সারাক্ষণ বিএনপিকে দোষারোপ করা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবকে কীভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা যায় তার চেষ্টা করা, কীভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে খাটো করা যায় তার চেষ্টা করা, কীভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করা যায় সেই চেষ্টাই তারা করছে।'

ফখরুল বলেন, ‘অত্যন্ত সন্মান্বিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১৫ আগস্টের যে হত্যাকাণ্ড ১৯৭৫ সালে, আমরা কিন্তু প্রত্যেকবার আমাদের নেতা, আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পার্লামেন্টে সবসময়েই এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। আমরা কেউই কোনো হত্যাকাণ্ড সমর্থন করি না।’

আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার আগে ওই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনে কুমিল্লার একটি আসন থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনি রশিদকে নির্বাচিত করে আনেন খালেদা জিয়া। পরে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের আদেশ সংসদে তোলার পর বিএনপি ওয়াকআউট করে।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আপিল শুনানি আটকে যায়। অভিযোগ আছে, এই শুনানি যেন না হয়, সে জন্য আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ আটকে দেয়া হয়েছিল।

ফখরুল বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। বিচার করেছেন আপনারা (আওয়ামী লীগ সরকার)…। সেই বিচার করার পরে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। অথচ আপনারা এখন শুরু করেছেন নতুন একটা গীতের গান, গীত গাওয়া, গান গাওয়া যে, জিয়াউর রহমান এটার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘কোথাও প্রমাণ করতে পারেনি, কেউ না। আজ পর্যন্ত কেউ এই কথা বলে নাই যে, জিয়াউর রহমান সাহেব সম্পৃক্ত ছিলেন। জিয়াউর রহমান সাহেব তো তখন ডেপুটি চিফ মার্শাল এডমিনিস্টারও ছিলেন না। তিনি সেনাবাহিনীর উপপ্রধান ছিলেন মাত্র।

‘সেনা প্রধান ছিলেন সফিউল্লাহ সাহেব (কে এম সফিউল্লাহ)। সেই সফিউল্লাহ সাহেব তো গিয়ে খোন্দকার মোশতাকে যেয়ে স্যালুট করেছেন, এ কে খন্দকার সাহেব (সে সময় বিমানবাহিনীর প্রধান) স্যালুট করেছেন, নেভাল চিফ স্যালুট করেছে।

‘আপনাদের খোন্দকার মোশতাক সাহেবের সঙ্গে পুরো ৩১ জনের মন্ত্রিসভা গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের রক্তের ওপর দিয়ে হেটে গিয়ে তারা মন্ত্রিত্বের শপথ নিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড তো আপনারা ঘটিয়েছেন, আওয়ামী লীগ ঘটিয়েছে। অন্য কেউ তার সঙ্গে জড়িত ছিল না। যারা করেছে তারা সামরিক বাহিনীর লোক ছিল। তাদের সঙ্গে আপনারা যুক্ত ছিলেন বলেই আপনারা করেছেন।

‘সুতরাং ওই মাছ দিয়ে শাখ ঢাকার চেষ্টা করবেন না। নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্যে অন্যকে দোষারোপ করে লাভ নেই। নিজেরা পরিষ্কার হোন, নিজেরা পরিচ্ছন্ন হউন, পরিশুদ্ধ হউন। হত্যার রাজনীতি বাদ দেন এবং সন্ত্রাসের রাজনীতি বাদ দেন, জনগনকে প্রতারণা করবার রাজনীতি বাদ দেন। বাদ দিয়ে আপনারা সঠিকভাবে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা, সেই আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করেন। ১৯৭২ সালে সেই সংবিধান সেই সংবিধান মতো কাজ করেন।’

ফখরুল বলেন, ‘আজকে কী করেছেন? সমস্ত অধিকার খর্ব করে দিয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের। যারা লিখতে না পারে সংবাদ কর্মীরা সেইজন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করেছেন। এখন কথায় কথায় এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদেরকে লেলিয়ে দেন। তারা ধরে নিয়ে এসে বিভিন্ন রকমের অত্যাচার-নিপীড়ন-নির্যাতন করে, তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়।’

সংগ্রাম করতে হবে

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, এই যে একটা ভয়াবহ অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটাতে হবে। একদিকে আমরা জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়াব, অন্যদিকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই দানব সরকারকে সরানোর জন্য আমাদেরকে লড়াই করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে।

‘আমরা করোনার দানবকে পরাজিত করার চেষ্টা করব, একই সঙ্গে রাজনৈতিক যে দানব আমাদের সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধবংস করে দিচ্ছে, তাদেরকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থেই জনগণের প্রতিনিধির সরকার প্রতিষ্ঠা করার প্রতিষ্ঠার আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব। আমরা বিশ্বাস করি, যদি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা চেষ্টা করি, অবশ্যই আমরা জয়ী হবে, জয় আমাদের সুনিশ্চিত ইনশাল্লাহ।’

লালমনিরহাট বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২
ডিজিটাল ভ্যাকসিন পাসপোর্টে সমাধান?

শেয়ার করুন