ফের কালো কোট ও গাউন ছাড়া বিচারক, আইজীবীরা

ফের কালো কোট ও গাউন ছাড়া বিচারক, আইজীবীরা

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে পাঠানো বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, চলমান পরিস্থিতিতে বিচারক ও আইনজীবীবৃন্দ ক্ষেত্রমত সাদা শার্ট বা সাদা শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ, সাদা নেক ব্যান্ড বা কালো টাই পরবেন। এ ক্ষেত্রে কালো কোট এবং গাউন পরিধান করার প্রয়োজনীয়তা নেই।

করোনাভাইরাসের বিস্তার আবার বেড়ে যাওয়ায় বিচারক ও আইনজীবীদের চিরাচরিত কালো কোট ও গাউন ছাড়া আবারও বিচার কাজে অংশ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

মঙ্গলবার রাতে এ সিদ্ধান্ত নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। বলেন, ‘করোনার পরিস্থিতির কারণে জরুরি মিটিং করে প্রধান বিচারপতি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে পাঠানো বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, চলমান পরিস্থিতিতে বিচারক ও আইনজীবীবৃন্দ ক্ষেত্রমত সাদা শার্ট বা সাদা শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ, সাদা নেক ব্যান্ড বা কালো টাই পরবেন। এ ক্ষেত্রে কালো কোট এবং গাউন পরিধান করার প্রয়োজনীয়তা নেই।

এই নির্দেশনা সুপ্রিমকোর্ট এবং দেশের সকল অধস্তন আদালতে অবিলম্বে কার্যকর হবে।

করোনার কারণে এর আগে গত বছরের ১১ আগস্টও বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। ওই নির্দেশনা সে বছরের ১২ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। এরপর করোনার প্রভাব কমে আসলে বিচারক ও আইনজীবীরা কালো কোট পরিধান করে বিচার কাজ পরিচালনা করতেন। তবে গাউন পরতেন না।

আরও পড়ুন:
১২টা পর্যন্ত নিম্ন আদালতের বিচারকাজ বন্ধ
আল জাজিরার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা নেয়নি আদালত
‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা’
সাইনবোর্ডে বাংলা না থাকায় জরিমানা
আইনের নিজস্ব গতি আছে?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চীনের সঙ্গে ফ্লাইট শুরু

চীনের সঙ্গে ফ্লাইট শুরু

চীনের সঙ্গে চারটি কোম্পানিকে বিশেষ বিবেচনায় বিমান চালাতে অনুমতি দিয়েছে বেবিচক। ফাইল ছবি

বেবিচক এয়ার ট্রান্সপোরটেশন বিভাগের পরিচালক একেএম ফাইজুল হকের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স, চায়না সাউদার্ন ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সকে চীনের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের সময় বিশেষ বিবেচনায় চীনের সঙ্গে আকাশপথ খুলে দিলো বাংলাদেশ।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক চিঠিতে চীনের সঙ্গে বিমান চলাচলের কতা মঙ্গলবার জানানো হয়েছে।

বেবিচক এয়ার ট্রান্সপোরটেশন বিভাগের পরিচালক একেএম ফাইজুল হকের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স, চায়না সাউদার্ন ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সকে চীনের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে।

অবশ্য এর জন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে বেবিচক।

এয়ারলাইন্সগুলো শুধু পয়েন্ট টু পয়েন্ট যাত্রী বহন করতে পারবে। করোনা টিকা নেয়া থাকলেও যাত্রীদের যাত্রার নির্ধারিত সময়ের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড পরীক্ষা সম্পন্ন করে নেগেটিভ সনদ নিতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া মাঝারি আকারের উড়োজাহাজে যাত্রী পরিবহনে কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করা না হলেও সুপরিসর উড়োজাহাজে সর্বোচ্চ বহন করা যাবে ২৮০ যাত্রী। আর বোয়িং ট্রিপল সেভেন বা সেভেন ফোর সেভেন উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩২০ জন।

আর ঢাকায় আসা মাঝারি আকারের উড়োজাহাজে যাত্রী সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়েছে এক শ জনে। আর সুপরিসর উড়োজাহাজে এ সংখ্যা রাখা হয়েছে ১৫০ জন।

এ ছাড়া উড়োজাহাজের ইকোনোমি ক্লাসে একটি সারি ও বিজনেজ ক্লাসে একটি কেবিন সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্ত যাত্রীর জন্য রাখতে বলা হয়েছে। এই অবস্থা ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে চিঠিতে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে এ নিষেধাজ্ঞা আরও দুই দিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। তবে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন চালু থাকায় তা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে খুব একটা কাজে আসেনি।

এর মধ্যে ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রথমে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এ অবস্থা চলার কথা থাকলেও সোমবার বিধিনিষেধ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ১৪ এপ্রিল থেকেই বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব যাত্রীবাহী ফ্লাইট। তবে চিকিৎসা, পণ্যবাহী ও বিশেষ ফ্লাইটকে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

অবশ্য পরে প্রবাসী কর্মীদের কথা বিবেচনায় রেখে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে গত শনিবার থেকে শতাধিক বিশেষ ফ্লাইট অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই পাঁচ দেশ হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুর।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানসহ মোট ১২টি দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স যাত্রী পরিবহনের সুযোগ পাচ্ছে। এগুলো হলো ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স, ওমান এয়ার, সালাম এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ইতিহাদ, এয়ার অ্যারাবিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া আবুধাবি ও ফ্লাই দুবাই।

আরও পড়ুন:
১২টা পর্যন্ত নিম্ন আদালতের বিচারকাজ বন্ধ
আল জাজিরার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা নেয়নি আদালত
‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা’
সাইনবোর্ডে বাংলা না থাকায় জরিমানা
আইনের নিজস্ব গতি আছে?

শেয়ার করুন

আখতারের ফের রিমান্ড চায় পুলিশ

আখতারের ফের রিমান্ড চায় পুলিশ

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা আখতার হোসেনকে আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। ফাইল ছবি

আদালতের নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই নিজামুদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, পিডব্লিউমূলে আসামিকে আদালতে হাজির করাসহ পাঁচ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনটি জমা দিয়েছেন।

পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম খান মঙ্গলবার আখতারকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আবেদনটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের শাহাবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখায় জমা দেন।

আদালতের নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই নিজামুদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, পিডব্লিউমূলে আসামিকে আদালতে হাজির করাসহ পাঁচ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনটি জমা দিয়েছেন।

আসামি পক্ষের এক আইনজীবী সিরাজুল ইসলামও বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার আবেদন জমা দিলেও এর শুনানির কোনো নির্দিষ্ট তারিখ দেয়নি। যেকোনো দিনই এই শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

১৭ এপ্রিল দুই দিনের রিমান্ড শেষে আখতারকে আদালতে হাজির করলে আসামি পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির তার জামিন চেয়ে আদালতে শুনানি করেন। শুনানিতে তার সঙ্গে আরও কয়েকজন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

শুনানি শেষে বিচারক জামিন না দিয়ে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আখতারকে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দেন।

পুলিশের ওপর হামলা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে ১৪ এপ্রিল আখতারকে মাহনগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ তার দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগে থেকে জানা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৫ মার্চ মতিঝিল থানায় ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ একটি মিছিল বের করে। সেই মিছিলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ সময় আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। আটক ওই ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পুলিশ চিকিৎসা দিতে নিয়ে গেলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কর্মীরা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় একই দিনে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন পল্টন মডেল থানার এসআই রায়হান কবির।

মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, বর্তমান সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আতাউল্লাহসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়।

আরও পড়ুন:
১২টা পর্যন্ত নিম্ন আদালতের বিচারকাজ বন্ধ
আল জাজিরার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা নেয়নি আদালত
‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা’
সাইনবোর্ডে বাংলা না থাকায় জরিমানা
আইনের নিজস্ব গতি আছে?

শেয়ার করুন

টিকা তৈরিতে আন্তরাষ্ট্র সহযোগিতায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

টিকা তৈরিতে আন্তরাষ্ট্র সহযোগিতায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার উদ্বোধন অনুষ্ঠানের ভাষণে করোনা মহামারি মোকাবিলায় পারস্পরিক শক্তিশালী অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

সবার জন্য করোনাভাইরাসের টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে যেসব রাষ্ট্র টিকা উৎপাদন করে না, সেগুলোকে সহায়তা দিতে টিকা তৈরিকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএএফ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ধারণ করা এক ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার সকালে প্রচার হওয়া ভাষণে করোনা মহামারি মোকাবিলায় পারস্পরিক শক্তিশালী অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। সর্বজনীন ভ্যাকসিন কাভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশগুলোর উচিত অন্য দেশগুলোকে ভ্যাকসিন উৎপাদনে সহায়তা করা।

‘ভ্যাকসিন এবং অন্যান্য চিকিৎসা উপকরণের চাহিদা মেটাতে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কার্যকর করতে সব দেশের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জিএভিআই এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলোকে অবশ্যই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অধিকার, সাম্য এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের ইতিহাসের এক চূড়ান্ত পথে নিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত আমরা সময়ের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মহামারির আর্থসামাজিক প্রভাব ব্যাপক এবং এই প্রভাব এখনও বাড়ছে। সুতরাং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

‘জীবন ও জীবিকার ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ মহামারির বিরূপ প্রভাব কাটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যা আমাদের জিডিপির ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।’

বৈশ্বিক এই মহামারির সময় কেউ যাতে পেছনে না পড়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক গভর্ন্যান্সের গুরুত্বও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি সংকটময় সময় কাটিয়ে উঠতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই সংকটময় সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর তহবিল হতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আরও বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

‘সার্ক, বিমসটেক, এসএএসসি, বিবিআইএন এবং বিসিআইএমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন আঞ্চলিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং এর বাইরেও বহু মাল্টি মডেল লিংকেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বাংলাদেশ বিশ্বাস করে বৈশ্বিক গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করা এবং অ্যাডভান্স বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

ঐক্যবদ্ধভাবে প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই মহাদেশটিতে বিপুল জনসংখ্যা, বিশাল বাজার এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আমরা একসঙ্গে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারি। এটি আমাদের প্রতিশ্রুত এসডিজি অর্জনেও সহায়তা করবে। একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা বাড়ানো দরকার। হাই-টেক পার্ক, ব্রডব্যান্ড এবং স্যাটেলাইট সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য কাঠামো তৈরি করেছে।

‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ (হলো) আমরা আমাদের তরুণদের উদ্ভাবনের জন্য প্রস্তুত করছি। এ ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সুবিধাগুলো বিনিময়ের মাধ্যমে পাশাপাশি আমরা সাইবার অপরাধসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারি।’

আরও পড়ুন:
১২টা পর্যন্ত নিম্ন আদালতের বিচারকাজ বন্ধ
আল জাজিরার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা নেয়নি আদালত
‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা’
সাইনবোর্ডে বাংলা না থাকায় জরিমানা
আইনের নিজস্ব গতি আছে?

শেয়ার করুন

৫ মে: নিষ্ক্রিয় মামলাগুলো এবার সক্রিয়

৫ মে: নিষ্ক্রিয় মামলাগুলো এবার সক্রিয়

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর হেফাজতের নেতা-কর্মীরা দুই হাত উঁচু করে বের হয়ে আসে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের সঙ্গে হেফাজতের একধরনের সমঝোতার কারণে এত দিন ২০১৩ সালের মামলাগুলো নিষ্ক্রিয় ছিল। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বিক্ষোভ ও সহিংসতার কারণে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, যার কারণে নিষ্ক্রিয় মামলাগুলো এখন সক্রিয় করা হচ্ছে।

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ইসলামপন্থি সংগঠন হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে করা ২০১৩ সালের পুরোনো ও নিষ্ক্রিয় মামলাগুলোর নিষ্পত্তিতে জোর দেয়া হয়েছে।

মামলার তদন্তকাজে কোনো সমস্যা দেখছে না পুলিশ। কর্মকর্তাদের দাবি, তদন্তের জন্য যেসব তথ্যপ্রমাণ ও আলামত দরকার তার সবই রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, মামলা পুরোনো হলেও তদন্তকাজ চলমান ছিল। এখন যেহেতু তদন্ত নিষ্পত্তির নির্দেশনা এসেছে, তাই তদন্ত সম্পন্নের বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। এজাহারে থাকা অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য যাচাইবাছাই চলছে।

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানী অবরোধের দিন হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালান। জেলায় জেলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালান ধর্মভিত্তিক দলটির নেতা-কর্মীরা। এতে প্রাণ হারান ২০ জনের বেশি। এসব ঘটনায় করা ৬১টি মামলার তদন্ত ফের শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

সে সময় এসব ঘটনায় ঢাকাসহ সাত জেলায় ৮৩টি মামলা করা হয়। মামলাগুলোতে ৩ হাজার ৪১৬ জনকে নামে এবং ৮৪ হাজার ৭৯৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

এসব মামলার মধ্যে মাত্র ২২টিতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগপত্র দেয়া মামলাগুলোর মধ্যে শুধু বাগেরহাটের একটি মামলায় বিচারিক আদালত রায় দিয়েছে। রায়ে সব আসামি খালাস পেয়েছেন।

আর স্থবির অবস্থায় পড়ে ছিল ৬১টি মামলা, যেগুলোকে এখন সক্রিয় করা হচ্ছে।

২০১৩ সালের তাণ্ডবের ঘটনায় শুধু রাজধানীতেই মামলা হয় ৫৩টি। এর মধ্যে মাত্র চারটিতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। বাকি ৪৯ মামলার মধ্যে ৩৩টির তদন্ত করছে থানা-পুলিশ। ১৬টির তদন্তে আছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

এসব পুরোনো মামলা তদন্ত করতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসির আরাফাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব মামলা তদন্তে আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

‘মামলা আগেও তদন্ত হয়েছে; এখনও চলছে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া।’

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের সঙ্গে হেফাজতের একধরনের সমঝোতার কারণে এত দিন ২০১৩ সালের মামলাগুলো নিষ্ক্রিয় ছিল। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বিক্ষোভ ও সহিংসতার কারণে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, যার কারণে নিষ্ক্রিয় মামলাগুলো এখন সক্রিয় করা হচ্ছে।

এদিকে প্রায় আট বছর স্থবির থাকা মামলাগুলোর আলামত নষ্ট হওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করছে কেউ কেউ।

তবে এসব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ মামলার তদন্ত তো বন্ধ হয়ে যায়নি। মামলা আগেও চলছিল, এখনও চলছে। তবে হ্যাঁ, মাঝখানে এর গতিটা একটু স্লো ছিল। তবে এর আলামত নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।

‘আমাদের কাছে তো সব আলামতই একটু একটু করে সংগ্রহ করা আছে। সে জন্য এসব মামলার তদন্ত চালাতে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না; বরং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পেলে মামলার তদন্তে আরও গতি আসবে।’

আরও পড়ুন:
১২টা পর্যন্ত নিম্ন আদালতের বিচারকাজ বন্ধ
আল জাজিরার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা নেয়নি আদালত
‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা’
সাইনবোর্ডে বাংলা না থাকায় জরিমানা
আইনের নিজস্ব গতি আছে?

শেয়ার করুন

‘আল্লাহ এর বিচার করব’

‘আল্লাহ এর বিচার করব’

বাঁশখালীতে শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে নিহত মো. রায়হান। ছবি: নিউজবাংলা

আবদুল মতিন বলেন, ‘অভাবের সংসারে একটু ভালো থাকনের আশায় ৬ মাস আগে রায়হান বাঁশখালীর ওই কোম্পানিত চাকরি লয়। সংসারের অভাব ঘুচাইতে গিয়ে আমার ছেলে লাশ হইব, তা জীবনে ভাবিনি।’

‘আমার ছেলে হইলো গরিবের ছেলে, কোম্পানির আন্ডারে কাজ কইরতো। যেখানে ঘটনা অইছে, সেখানে শ্রমিকও ন, কিছু ন। অন্যদের সাথে জামেলায় আমার ছেলে মরি গেছে। আমার আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নাই, আল্লাহ এর বিচার করবো।’

কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন আবদুল মতিন। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রে নিহত মো. রায়হানের বাবা।

ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর অচেতনের মতো পড়ে আছেন মা ছালেহা খাতুন। কারও কোনও সান্ত্বনাই তার মনকে প্রবোধ দিতে পারছে না।

রায়হানের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ১ নম্বর হরণী ইউনিয়নের উত্তর আদর্শ গ্রামে। সেই বাড়িতে এখন মাতম চলছে। বাবা-মা, স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় গোটা গ্রামের বাতাস এখন ভারী হয়ে আছে।

স্থানীয় লোকজন ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, রায়হানের পিতা আবদুল মতিন একজন কৃষক। আবদুল মতিনের ছয় ছেলে, এক মেয়ের মধ্যে রায়হান পঞ্চম। পরিবারের অভাব-অনটনের কাছে পরাজিত হয়ে ছয় মাস আগে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বাঁশখালীর কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্রেনচালক হিসেবে চাকরি নেন রায়হান।

বেতন-ভাতাসহ নানা কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে শনিবার সকালে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর আগে শুক্রবার বিকেলে সেখানকার শ্রমিকরা রায়হানকে ক্রেন চালানো বন্ধ করে পরদিন সকালে বিক্ষোভে যোগ দিতে বলেন। ওই বিক্ষোভে যোগ দেন রায়হানও। বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষে নিহত হন রায়হান।

আবদুল মতিন বলেন, ‘অভাবের সংসারে একটু ভালো থাকনের আশায় ছয় মাস আগে রায়হান বাঁশখালীর ওই কোম্পানিত চাকরি লয়। সংসারের অভাব ঘুচাইতে গিয়ে আমার ছেলে লাশ হইব, তা জীবনে ভাবিনি।’

রায়হানের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আবদুল মতিন বলেন, ‘ছেলের জীবনের বিনিময়ে এই টাকা দিয়া কী করমু?

এলাকাবাসী জানান, রায়হান অত্যন্ত ভালো ছেলে ছিল। চাকরি করে সংসারের অভাব দূর করতে চেয়েছিল। কিন্তু সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার আগেই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছে তাকে।

রোববার বাদ মাগরিব উত্তর আদর্শ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে রায়হানের জানাজায় বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসী উপস্থিত হন। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন:
১২টা পর্যন্ত নিম্ন আদালতের বিচারকাজ বন্ধ
আল জাজিরার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা নেয়নি আদালত
‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা’
সাইনবোর্ডে বাংলা না থাকায় জরিমানা
আইনের নিজস্ব গতি আছে?

শেয়ার করুন

হাতিরঝিল নিয়ে অসন্তোষ উত্তরের মেয়রের

হাতিরঝিল নিয়ে অসন্তোষ উত্তরের মেয়রের

হাতিরঝিল

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

হাতিরঝিলের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করতে না পারলে এর দায়িত্ব ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাছে বুঝিয়ে দিতে রাজউকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সোমবার মগবাজার মধুবাগ প্রধান সড়ক, নয়াটোলা শহীদ আব্দুল ওহাব রোড ও পার্শ্ববর্তী লেন-বাইলেন, শাহবাড়ি মাজার রোড লেন-বাইলেন এবং গাবতলা জাহাবক্স লেন-বাইলেন এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা দূরীকরণের লক্ষ্যে চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

ওয়াসা থেকে খালগুলো বুঝে নেয়ার পর খালগুলোর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে মেয়র বলেন, খালগুলো যখন ওয়াসার ব্যবস্থাপনায় ছিল তখন সেগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। এর মধ্যে ডিএনসিসি বিভিন্ন জায়গায় খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে, যা চলমান রয়েছে।

মেয়র বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত হাতিরঝিল এবং লেকসহ সব জলাশয় দ্রুত ডিএনসিসিকে বুঝিয়ে দিলে সেগুলো উদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।

হাউজিং কোম্পানিগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের কাজের জন্য যেন নগরবাসীকে জলাবদ্ধতাসহ কোনো ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে না হয়। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরমর্শ দেন তিনি।

মেয়র রামপুরা পাম্পহাউজ পরিদর্শনকালে যেসব পাম্প নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

ডিএনসিসি মেয়র নগরীর প্রত্যেক নাগরিককে পরিবেশ সম্পর্কে সব সময় সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন:
১২টা পর্যন্ত নিম্ন আদালতের বিচারকাজ বন্ধ
আল জাজিরার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা নেয়নি আদালত
‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা’
সাইনবোর্ডে বাংলা না থাকায় জরিমানা
আইনের নিজস্ব গতি আছে?

শেয়ার করুন

মুখোমুখি চিকিৎসক-পুলিশ

মুখোমুখি চিকিৎসক-পুলিশ

লকডাউনে দায়িত্ব পালন নিয়ে টানাপোড়েন চিকিৎসকদের সঙ্গে পুলিশের। পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দিয়েছে চিকিৎসক ও পুলিশের দুই শীর্ষ সংগঠন। দুই পক্ষই দায়ীদের শাস্তি চেয়েছে।

চলমান লকডাউনে দায়িত্ব পালন নিয়ে পুলিশ ও চিকিৎসকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। দুই পেশাজীবীদের প্রধান সংগঠনগুলো পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দিয়েছে। চিকিৎসকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, তাদের হয়রানি করা হলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবে। বিপরীতে পুলিশ সদস্যদের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের আচরণে পুলিশের প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত মর্মাহত।

এবার লকডাউনে চলাচল নিয়ে বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করে সরকার। এর অংশ হিসেবে পুলিশের কাছ থেকে মুভমেন্ট পাস (চলাচলের জন্য ছাড়পত্র) নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আর এই ছাড়পত্র নিয়েই পুলিশ ও চিকিৎসকদের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দেয়।

চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা কর্মস্থলে যাওয়ার সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক ‘হয়রানি’ ও ‘নিগ্রহের’ শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠতে থাকে ১২ মার্চ ‘সর্বাত্মক’ লকডাউনের শুরুর দিন থেকে।

এর মধ্যে রোববার রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে একজন চিকিৎসকের পরিচয়পত্র প্রদর্শন নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল হলে এ বিরোধ তুঙ্গে ওঠে।

ওই ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনিকে ‘হেনস্তা’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তি দাবি করেছেন চিকিৎসকদের প্রধান পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। চিকিৎসকদের আরও বেশ কয়েকটি সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে।

ওই ঘটনায় ডা. জেনির কাছে যে কর্মকর্তারা পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছিলেন, তারা হলেন নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এ কাইয়ুম এবং ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অপরদিকে ওই ঘটনায় ডা. জেনিকেই দায়ী করে তার শাস্তি দাবী করেছে পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠন পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

রোববার এলিফ্যান্ট রোডে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া নিয়ে ডা. জেনির সঙ্গে পুলিশের তর্ক হয়, যা একপর্যায়ে উত্তপ্ত বিতণ্ডায় রূপ নেয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয় এবং দিনভর এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়। ডা. জেনি যখন এসব কথা পুলিশকে বলছিলেন, তখন তাকে ‘ভুয়া ডাক্তার’ বলা হয়েছে বলে তিনি নিউজবাংলার কাছে অভিযোগ করেছেন। এমনকি একপর্যায়ে অবৈধ যৌন ব্যবসা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার শামীমা নূর পাপিয়ার সঙ্গে তাকে তুলনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ডা. জেনি পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘তুই-তোকারি’ করেছেন, ‘দেখে নেয়ার’ ‍হুমকি দিয়েছেন।

ডা. জেনি একজন রেডিওলজিস্ট। এই সূত্রে রেডিওলজিস্টদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ এক বিবৃতিতে ওসি কাইয়ুমের শাস্তি দাবি করেছে। তারা বলেছে, ‘পতিতাবৃত্তির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা পাপিয়ার সঙ্গে পুলিশ ডা. জেনির তুলনা করেছে, যা একজন নারী চিকিৎসকের জন্য চরম অবমাননাকর।’

ওই ঘটনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আতঙ্কগ্রস্ত ও হতাশ হয়ে পড়ছেন বলে সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ চাওয়ার পাশাপাশি ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত এবং বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেছে সংগঠনটি।

ডা. জেনিকে ‘হেনস্তার’ প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, স্বাচিপের বিএসএমএমইউ শাখাও।

বিএমএ মহাসচিব ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চিকিৎসকদের হয়রানি বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, এভাবে চিকিৎসক হয়রানি চলতে থাকলে আমরা ঠিকভাবে কাজ করতে পারব না, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবে। এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এটা দুঃখজনক।’

পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা পালন করা কঠিন উল্লেখ করে এই চিকিৎসক নেতা বলেন, ‘অধিদপ্তরের জানা উচিত দেশের ৮০ শতাংশ চিকিৎসকের কাছে কোনো ডাক্তারি পরিচয়পত্র নেই।’

জেনিকে হেনস্তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বললেন চিকিৎসকরা

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ, এফডিএসআরের মহাসচিব শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, লকডাউনে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে বা কর্মস্থলে যাওয়ার সময় চিকিৎসকদের সুপরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। এটার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ও ষড়যন্ত্র রয়েছে।

সোমবার লকডাউন চলমান অবস্থায় চিকিৎসক হয়রানির প্রতিবাদে ওই সংগঠনের উদ্যোগে একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এই অভিযোগ করেন।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কোনো একটি মহল করোনাকালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করতে এবং সরকার ও পুলিশের কাছে চিকিৎসকদের প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। আইনশৃঙ্খালা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে এটির তদন্ত দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনায় বলা আছে, চিকিৎকরা মুভমেন্ট পাসের আওতামুক্ত থাকবেন। তারপরও কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এ কাজটি করেছেন। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা আশা করব, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে দ্রুতই ব্যবস্থা নেবেন। পুলিশের নির্দেশনা উপেক্ষা করে যারা এ রকম হয়রানি করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

পুলিশ কী বলছে

চিকিৎসকের পরিচয়পত্র দেখানো নিয়ে এ ‍তুলকালামে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক পাল্টা বিবৃতি দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সাঈদা শওকত জেনিকেই দায়ী করেছে।

সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের প্রতি জনৈক চিকিত্সক কর্তৃক এহেন অপেশাদার ও অরুচিকর আচরণে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত মর্মাহত।…একজন গর্বিত পেশার সদস্য হয়ে অন্য একজন পেশাদার বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কটাক্ষ বা অসৌজন্যমূলক আচরণ কখনোই কাম্য নয়।’

মহামারিকালে ঘরের বাইরে এলে পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক জানিয়ে বলা হয়, ‘মন্ত্রণালয়ের বৈধ আদেশ লঙ্ঘন এবং কর্তব্যরত বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিকট উক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জোর দাবি জানাচ্ছে।’

ওই ভিডিওচিত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল এলাকায় জেনির গাড়ি আটকে তার পরিচয়পত্র দেখতে চান নিউমার্কেট থানার ওসি এস এ কাইয়ুম।

ওই গাড়িতে ডা. জেনির কর্মস্থল বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের স্টিকার সাঁটানো ছিল, তার গায়েও চিকিৎসকের অ্যাপ্রোন ছিল। তারপরও কেন পরিচয়পত্র দেখাতে হবে– এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে জেনি তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ও বলেন। ওসি কাইয়ুমও জানান, তিনিও মুক্তিযোদ্ধার ছেলে।

এই উত্তপ্ত তর্কের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন। আধা ঘণ্টা পর তিনি ঘটনাটির মীমাংসা করতে সক্ষম হন।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তিনি (ডা. জেনি) নিজ পেশার পরিচয় বাদ দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক পরিচয় তুলে ধরে পুলিশ ও বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন এবং জাতির সামনে পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করেছেন।’

১৪ এপ্রিল থেকে চলা লকডাউনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা বাইরে যেতে চান, তাদের মুভমেন্ট পাস সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের জন্য এই পাস নেয়ার দরকার নেই। তাদের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র দেখালেই হবে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন বিবৃতিতে বলেছে, ‘ডা. জেনিকে পরিচয়পত্র দেখাতে বললে তিনি অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা একজন পেশাদার ও সচেতন নাগরিকের কাছ থেকে কোনোভাবেই কাম্য নয়।

‘গত ১৪ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসাসেবাসহ অন্যান্য কার্যক্রমে জড়িত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাপ্তরিক পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) অবশ্যিকভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা অমান্য করেছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তার পরিচয় প্রদান না করে নিজ মন্ত্রণালয়ের আদেশ লঙ্ঘন করেছেন।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উক্ত চিকিৎসক বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে বাদানুবাদকালে যে শব্দ প্রয়োগ করেছেন তা অত্যন্ত অরুচিকর ও লজ্জাজনক। এক পেশার সদস্য হয়ে আরেক পেশার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি কী ভাষা প্রয়োগ করেছেন, তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের “তুই” বলে সম্বোধন করেছেন এবং “আর আমি কী, সেটা এখন তোদের দেখাচ্ছি হারামজাদা” বলে হুমকি দিয়েছেন।’

‘বৈশ্বিক মহামারির এই দুঃসময়ে পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ সর্বজন স্বীকৃত’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ৯১ জন পুলিশ সদস্য মারা গেছেন, ২০ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবনরক্ষায় পুলিশ সদস্যরা তীব্র দাবদাহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাজ করছেন।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জায়েদুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই ঘটনার ভিডিও আছে, ভিডিও থেকে আপনারাই এর মূল্যায়ন করবেন। আমাদের কথা হলো, কোনো পেশাকেই খাটো করে না দেখে সবার পেশাকেই সবার সম্মান করা দরকার। অতিমারির সময় আমরা যেন সবাই ধৈর্যশীল হই এবং সঠিক আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হই। তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না।’

দুই পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি এই দুই পেশাজীবীদের মধ্যে বিরোধের বহিঃপ্রকাশ কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট বলেছি, আমরা প্রতিটি পেশাকেই সম্মান করি। সবাই মিলে যেন আরও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সবকিছু মোকাবিলা করি।’

আরও যা যা ঘটেছে

লকডাউনের শুরু থেকেই দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে পুলিশের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথম দিন এক চিকিৎসক পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাকে জরিমানা করা হয়। আরেকজনকে একটি চেকপোস্টে ‘কসাই’ ডাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া কয়েকজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে নামিয়ে দিয়ে আসা গাড়িকে আটকে জরিমানা করা হয়েছে। এক চিকিৎসক পুলিশের সঙ্গে ফোনে কথা বললে তাকে কারাগারে পাঠানোর ‍হুমকি দেয়া হয়েছে।

পরিচয়পত্র দেখানোর পরও মুভমেন্ট পাস না থাকায় জরিমানা করা হয় স্কয়ার হাসপাতালের কোভিড ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) কর্মরত নাজমুল ইসলাম হৃদয়কে। বিষয়টি জানিয়ে তার স্ত্রী ইসরাত জাহান ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। এরপর বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তার সেই টাকা ফিরিয়ে দেয় পুলিশ।

একইভাবে হেনস্তার শিকার হন চিকিৎসক দম্পতি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার কামরুন নাহার মুক্তা ও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার এনামুল কবির খান।

ডা. মুক্তা নিউজবাংলাকে জানান, তার বাসা এলিফ্যান্ট রোডেই। সকালে তাকে হাসপাতালে নামিয়ে গাড়ি নিয়ে চালক ফিরছিলেন। তিনি তাকে তার আইডি কার্ড দিয়ে পুলিশকে দেখাতে বলেন।

পুলিশ আটকালে চালক জানান, চিকিৎসককে হাসপাতালে দিয়ে এসেছেন। প্রমাণস্বরূপ তিনি চিকিৎসকের আইডি কার্ড দেখান। পুলিশ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করলে চালক কথা বলার জন্য ফোনে ওই চিকিৎসককে ধরিয়ে দেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।

এনামুল কবির খান আরও কিছু ঘটনা জানিয়েছেন নিউজবাংলাকে। তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যালের হেমাটোলজি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান হাবিব রাজু ডিউটি সেরে সিএনজি নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলের সামনে পুলিশ তাকে নামিয়ে সিএনজি রেখে বাসায় যেতে বলে।’

ডা. মুক্তা ও এনামুল কবির খানের মতো হয়রানির শিকার হয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুজরাত আরফিনও।

এই চিকিৎসককেও ঢাকা মেডিক্যালে নামিয়ে বাসায় ফিরছিলেন গাড়িচালক। শাহবাগ মোড়ে গাড়ি থামিয়ে জরিমানা করা হয়। চিকিৎসকের গাড়ি শোনার পরেও ভ্রুক্ষেপ ছিল না পুলিশের।

আরও পড়ুন:
১২টা পর্যন্ত নিম্ন আদালতের বিচারকাজ বন্ধ
আল জাজিরার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা নেয়নি আদালত
‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা’
সাইনবোর্ডে বাংলা না থাকায় জরিমানা
আইনের নিজস্ব গতি আছে?

শেয়ার করুন