করোনা: বিমানযাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

করোনা: বিমানযাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

করোনা প্রতিরোধে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ফাইল ছবি

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলো থেকে যারা আসবেন তাদের জন্য ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তারা বেবিচক নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার অথবা নির্ধারিত হোটেলে থাকবেন।

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় দেশের বিমানবন্দর, এয়ারলাইনসসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস বিভাগের সদস্য চৌধুরী এম জিয়াউল কবির সোমবার রাত ১২টা দিকে এই নির্দেশনা জারি করেন। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত নির্দেশনাটি কার্যকর রাখা হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলো থেকে যারা আসবেন তাদের জন্য ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তারা বেবিচক নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার অথবা নির্ধারিত হোটেলে থাকবেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে আগত ও বাংলাদেশ ত্যাগ করা প্রত্যেক যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে করোনার নেগেটিভ সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখতে হবে। যাত্রার ৭২ ঘণ্টা আগে নমুনা দিতে হবে।

অন্য দেশ থেকে আসা যাত্রীদেরও ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে ও সংক্রমণ এড়াতে সরকারের নির্দেশনার আলোকে বেবিচক বিমানযাত্রীদের জন্য নতুন এই নির্দেশনা জারি করেছে।

১৮ দফা নির্দেশনা

করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণ থাকা এলাকায় জনসমাগম নিষিদ্ধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়ে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের সই করা এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনার উচ্চ সংক্রমণ থাকা এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও সীমিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়সহ অন্যান্য সমাগম।

বিয়ে, জন্মদিনসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

এ সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, মসজিদসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে জনসমাগম সীমিত করতে হবে। এ ছাড়াও সব ধরনের মেলা আয়োজনেও নিরুৎসাহ দিতে হবে।

নির্দেশনায় গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংক্রমিত এলাকাতে আন্তজেলা যান চলাচল সীমিত ও প্রয়োজনে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক বা নিজ খরচে হোটেলে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। এ ছাড়াও ওষুধের দোকানে মানতে বলা হয়েছে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাস্ক পরাসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

শপিং মলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা বা আড্ডা দেয়া যাবে না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত ১০টার পর বাইরে বের হওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়েছে।

ঘরের বাইরে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, এটা নিশ্চিত করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

করোনায় আক্রান্ত ও করোনা লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিদের আইসোলেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ৫০ ভাগ জনবল দিয়ে পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। ৫৫ বছর বয়সের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘর থেকে কাজ করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়াও সভা-সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা যথাসম্ভব অনলাইনে আয়োজনের তাগিদ দেয়া হয়েছে এতে। স্বশরীরে উপস্থিত হতে হয় এমন যেকোনো ধরনের গণপরীক্ষার ক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

হোটেল-রেস্তোরাঁয় ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগের বেশি মানুষের প্রবেশ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ ও অবস্থানের সময় মাস্ক পরা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য ফেরতদের কোয়ারেন্টিন পাঁচতারকা হোটেলে

যুক্তরাজ্য ফেরত প্রবাসীদের কোয়ারেন্টিনের জন্য একটি পাঁচতারকা হোটেল নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ১০ মার্চ এই হোটেল নির্ধারণ করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

প্রাথমিকভাবে প্রবাসীদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে পাঠানো হলেও যাত্রীরা চাইলে সেখান থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত হোটেল রাজধানীর রেডিসন ব্লুতে যেতে পারবেন। তবে হোটেলের সব খরচ নিজেকে বহন করতে হবে।

গত বছর করোনা সংক্রমণ বাড়ার পর যুক্তরাজ্য ফেরত প্রবাসীদের কোয়ারেন্টিনের জন্য সাতটি হোটেল নির্ধারণ করে দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তখনও যাত্রীরা চাইলে সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক সেন্টারে না গিয়ে সরকার নির্ধারিত সাতটি হোটেলের যে কোনোটিতে নিজ খরচে কোয়ারেন্টিনে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন।

সরকার নির্ধারিত হোটেলগুলো ছিল- রাজধানীর বনানীর অমনি রেসিডেন্স, নিকুঞ্জ-২ এর বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস মায়া, হোটেল গ্রেস-২১, উত্তরা সেক্টর-১ এর হোটেল এফোর্ড ইন, সেক্টর-৯ এর হোয়াইট প্যালেস হোটেল, সেক্টর-৩ এর মেরিনো রয়েল হোটেল এবং মেমেন্টো হোটেল।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কিস্তিতে পণ্য ক্রয়ে সাউথ বাংলা ব্যাংক ও ইলেক্ট্রো মার্টের চুক্তি

কিস্তিতে পণ্য ক্রয়ে সাউথ বাংলা ব্যাংক ও ইলেক্ট্রো মার্টের চুক্তি

এসবিএসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোসলেহ উদ্দীন আহমেদের উপস্থিতিতে চুক্তিতে সই করেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন এবং ইলেক্ট্রো মার্টের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আফসার। ছবি: নিউজবাংলা

এসবিএসি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডধারী ও কর্মকর্তারা কনকা ও গ্রি ব্র্যান্ডের পণ্য ক্রয়ে ১২ মাস পর্যন্ত বিনাসুদে সমান মাসিক কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এ লক্ষে বুধবার এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেড ও ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে।

এখন থেকে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডধারী ও কর্মকর্তারা কনকা ও গ্রি ব্র্যান্ডের পণ্য ক্রয়ে ১২ মাস পর্যন্ত বিনাসুদে সমান মাসিক কিস্তিতে (ইএমআই) মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

এ লক্ষে বুধবার এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেড ও ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোসলেহ উদ্দীন আহমেদের উপস্থিতিতে চুক্তিতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন এবং ইলেক্ট্রো মার্টের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আফসার।

এ সময় ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শফিউল আজম, ইলেক্ট্রো মার্টের মহাব্যবস্থাপক (সেলস্ ও মার্কেটিং) মাহমুদ উন নবী চৌধুরী, সিনিয়র ম্যানেজার রিটেইল সেলস্ মো. জুলহক হোসেনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

পিরোজপুর যুবলীগের সম্মেলন ডিসেম্বরে

পিরোজপুর যুবলীগের সম্মেলন ডিসেম্বরে

পিরোজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে বৃহস্পতিবার জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বলেন, টেন্ডারবাজিতে জড়িত এবং যারা বিগত দিনে নৌকার বিরোধীতা করেছেন, তাদেরকে আগামীতে যুবলীগের নেতৃত্বে রাখা হবেনা। ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের দিয়েই যুবলীগের নেতৃত্ব গড়া হবে।

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পিরোজপুর জেলা যুবলীগের সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

দলকে নতুনভাবে সংগঠিত করতে একযুগ পর বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় নেতারা এই ঘোষণা দেন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে সভা শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে।

এতে বক্তব্য দেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজউদ্দীন আহমেদ ও জসিম উদ্দিন মাতুব্বর, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলামসহ জেলা-উপজেলা নেতারা।

জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান ফুলুর সভাপতিত্বে বর্ধিত সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী।

প্রধান বক্তা বদিউল আলম বলেন, টেন্ডারবাজিতে জড়িত এবং যারা বিগত দিনে নৌকার বিরোধীতা করেছেন, তাদেরকে আগামীতে যুবলীগের নেতৃত্বে রাখা হবেনা। ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের দিয়েই যুবলীগের নেতৃত্ব গড়া হবে।

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পিরোজপুর জেলা যুবলীগের সম্মেলন হবে বলে বর্ধিত সভায় ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

জেলা যুবলীগ নেতাকর্মীরা জানান, সভা শুরুর আগে মিছিল নিয়ে আসার সময় যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০১০ সালে পিরোজপুর জেলা যুবলীগের কমিটি হয়েছিল। জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। এতে স্থবির হয়ে পড়ে জেলা যুবলীগের কার্যক্রম।

বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা। পদ প্রত্যাশীদের ব্যানার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পিরোজপুর শহর।

শেয়ার করুন

ব্যাংক থেকে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ব্যাংক থেকে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ময়মনসিংহে ছিনতাইয়ের শিকার আকরাম হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

নান্দাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ব্যাংক থেকে কিছুদূর পরেই পৌর বাজারের দুধ মহাল এলাকায় যাওয়ার পথে দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক আকরামকে জানায় তার পাঞ্জাবিতে ময়লা লেগেছে। আকরাম একটি টিউবওয়েলে পাঞ্জাবির ময়লা পরিষ্কার করতে থাকেন। সে সময় ওই দুই যুবকও তার সঙ্গে ছিল। হঠাৎ তারা আকরামের টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।’

ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌর এলাকায় ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে এক বৃদ্ধের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।

নান্দাইল পৌর বাজারের দুধ মহাল এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ব্যক্তি।

ছিনতাইয়ের শিকার ওই ব্যক্তির নাম আকরাম হোসেন। তিনি নান্দাইল উপজেলার ভাটি সাভার গ্রামের বাসিন্দা।

নান্দাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘বিকেল ৩টার দিকে আকরাম হোসেন সোনালী ব্যাংকের নান্দাইল শাখা থেকে থেকে ১ লাখ টাকা তুলে বাড়ির পথে রওনা দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক থেকে কিছুদূর পরেই পৌর বাজারের দুধ মহাল এলাকায় যাওয়ার পথে দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক আকরামকে জানায় তার পাঞ্জাবিতে ময়লা লেগেছে। আকরাম একটি টিউবওয়েলে পাঞ্জাবির ময়লা পরিষ্কার করতে থাকেন। সে সময় ওই দুই যুবকও তার সঙ্গে ছিল। হঠাৎ তারা আকরামের টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।’

এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘এসব ছিনতাইকারী বেশীরভাগ সময় বয়স্ক লোকদের টার্গেট করে। এজন্য টাকা বহনের সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়।’

ওই ছিনতাইকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না জাপা

তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না জাপা

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ফাইল ছবি

জি এম কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংবিধানের আলোকে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী দেশের সব বিভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ মানুষদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন হলে দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে।’

অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয় বলে মনে করে জাতীয় পার্টি। দলটির নির্বাচন কমিশন গঠনে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংবিধানের আলোকে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করার পক্ষে।

বৃহস্পতিবার বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় প্রাক্তন সৈনিক পার্টির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেন, ‘অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার দীর্ঘ মেয়াদী কোনো সমাধান নয়।

‘নির্বাচন কমিশন গঠনে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংবিধানের আলোকে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী দেশের সব বিভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ মানুষদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন হলে দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে।’

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনে হয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের রায়ে এই সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। পরে দুটি নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হয়।

এর দুটির মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। তবে ২০১৮ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল তারা।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় সরকারে অধীনে করতে হবে এমন দাবি তুলেছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।

আলোচনা সভায় জি এম কাদের বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন করলে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনেই হবে। আইন করে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করতে পারলে সকল নির্বাচন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান হবে।’

তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে বিরাজনীতিকরণ চলছে। এভাবে চলতে থাকলে রাজনৈতিক দলগুলো হবে নাম ও সাইনবোর্ড সর্বস্ব রাজনৈতিক শক্তি। নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীরা টিকতে না পারলে রাজনৈতিক দলগুলো অস্তিত্বশূন্য হয়ে পড়বে।’

জি এম কাদের বলেন, ‘সংবিধান ও গণতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন হবে। তবে সরকার ও প্রশাসনের চাপে নির্বাচনে টিকতে না পেরে দলগুলো সমর্থকহীন হয়ে পড়ছে।

‘দেশের মানুষও ভোটের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এতে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। বিরাজনীতিকরণ দেশ ও মানুষের জন্য কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্যারালালভাবে সরকার ক্ষমতা প্রয়োগ করলে নির্বাচন কমিশন কখনও সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করার বিকল্প নেই।’

শেয়ার করুন

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশা মন্ত্রীর

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশা মন্ত্রীর

ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য দায়ী এডিস মশা।

মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘নগরবাসীর সচেতনতা, জলবায়ুর পরিবর্তন, সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক কার্যক্রমের ফলে আগামী এক মাসের মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা জনগণকে সাথে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।'

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

রাজধানীর হোটেল সোনাগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার এক কর্মশালায় তিনি এ কথা জানান।

‘ইইউ সাপোর্ট টু হেলথ অ্যন্ড নিউট্রিশন টু দি পুওর ইন আরবান বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় অংশ নেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

সেখানে তিনি বলেন, ‘নগরবাসীর সচেতনতা, জলবায়ু পরিবর্তন, সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক কার্যক্রমের ফলে আগামী এক মাসের মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা জনগণকে সাথে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।

'বিভিন্ন এলাকায় সকাল-বিকেল নিয়মিত স্প্রে করা হচ্ছে। কীভাবে এডিস মশার প্রজনন ধ্বংস করা যাবে, সেসব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়েছে। আমি আশা করি, মাসখানেকের মধ্যেই পরিস্থিতি একটা সহনশীল জায়গায় চলে আসবে।’

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশা মন্ত্রীর
'ইইউ সাপোর্ট টু হেলথ অ্যন্ড নিউট্রিশন টু দি পুওর ইন আরবান বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় অংশ নেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু একটি গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ। শুধু বাংলাদেশই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে না, এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশ এই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় যে সকল দেশ সফলতা পেয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা ও আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী সারা বিশ্বে প্রতিবছর ১০ কোটি থেকে ৪০ কোটি পর্যন্ত মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়, সাত লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। ২০১৯ সালে আমাদের দেশে মারাত্মক আকার ধারণ করলেও ২০২০ সালে এটিকে আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম।’

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দীর্ঘ লকডাউন ও ঈদের ছুটিকে দায়ী করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জলবায়ুর প্রভাব থাকলেও সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে লকডাউন ও ঈদের ছুটি। এ সময় অনেকেই বাসাবাড়ি ছেড়ে নিজ এলাকায় যাওয়ায় এবং নির্মাণশ্রমিকরা ছুটিতে থাকায় এডিস মশার প্রভাব কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘মে-জুন থেকে আরম্ভ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত এডিস মশার প্রকোপ বেশি থাকে। কারণ এ সময় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়।’

পৌরসভাগুলোর সংকট নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভাগুলোকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে সরকার। ইতিমধ্যে কিছু পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু জনবল সংকট রয়েছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে পৌরসভাগুলো তাদের সংকট কাটিয়ে সক্ষমতা অর্জন করবে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ এলাকার তুলনায় নগর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ভালো, তবে এটি সন্তোষজনক অবস্থায় নেই। পৌরসভাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবায় পর্যাপ্ত জনবল নেই। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে করে তারা নিজেরাই নাগরিক সেবা দিতে পারে।

‘সমাপ্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে এমন কিছু কাজ শুরু হয়েছে, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। ইতিমধ্যে নগর এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের জ্ঞান পরবর্তীতে কাজে লাগাতে হবে।’

শেয়ার করুন

এক বেডে ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

এক বেডে ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘রোববার থেকে মেয়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলায় এখানে আসি। এসে দেখি কোথাও জায়গা নেই। উপায় না দেখে প্রথম রাত হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকি। এরপর থেকে রাতে এই বেডে বাচ্চাকে রাখি, দিনে গাছতলায় বসে থাকি।’

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের বাইরে গাছের নিচে বিছানা পেতে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছে কিছু শিশু। হাসপাতালের ভেতরে গেলে বারান্দা, মেঝেতেও দেখা যায় শিশুদের।

শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডেই আছে একাধিক শিশু। কোনো কোনো বেডে দেখা যায় চারজন শিশুকেও।

শিশুদের শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া বাড়ায় জায়গা দিতে পারছে না হাসপাতালটি। কয়দিন ধরেই চলছে এই অবস্থা।

৪৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার ভর্তি আছে ১৮৭ শিশু। এর আগের দিন ভর্তি ছিল ২০৩ জন শিশু।

তিন বছরের আয়েশাকে কোলে নিয়ে শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলেন মা মরিয়ম বেগম। এসেছেন সদর উপজেলার জামালপুর থেকে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুদিন ধরে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। মেয়ের ডায়রিয়া। যে বেড দিয়েছে সেখানে আরও দুইটা বাচ্চাকে রাখা হয়েছে। খুব অসুবিধা হচ্ছে।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মর্জিনা খাতুন জানান, তারা এক বেড চারজন ভাগাভাগি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দিনের বেলা নানাভাবে সময় কেটে যায়। রাতে পড়তে হয় সমস্যায়। পালা করে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে ঘুমাতে হয়।

তিনি বলেন, ‘রোববার থেকে মেয়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলায় এখানে আসি। এসে দেখি কোথাও জায়গা নেই। উপায় না দেখে প্রথম রাত হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকি। এরপর থেকে রাতে এই বেডে বাচ্চাকে রাখি, দিনে গাছতলায় বসে থাকি।’

এক বেডে ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

সালন্দরের সবেদা বেগম বলেন, ‘গাছতলাতেই ভালো আছি। ভেতরে এত মানুষ! গরমে টেকা যায় না।’

হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু বিভাগের চিকিৎসক শাহজাহান নেওয়াজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু ভর্তি থাকে। এখন ১৭০ থেকে ১৮০ জন থাকছে। নবজাতকও আছে। বেশিরভাগই শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, সর্দি, জ্বর ও পেটের ব্যথায় আক্রান্ত। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এমনটা হচ্ছে।’

এ সময় শিশুদের সুস্থ রাখতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। শিশুরা ঘেমে গেলে দ্রুত তাদের ঘাম মুছে জামাকাপড় পরিবর্তন করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রচুর তরল ও ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা সিভিল সার্জন মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, ‘এই হাসপাতালে শিশু সেবার মান উন্নত হওয়ায় আশপাশের জেলার মানুষও এখানে আসেন। এখন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।’

শেয়ার করুন

হাতিরঝিলে গাড়ির ধাক্কা, মরদেহ হাসপাতালে রেখে পলাতক চালক

হাতিরঝিলে গাড়ির ধাক্কা, মরদেহ হাসপাতালে রেখে পলাতক চালক

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে জব্দ মাইক্রোবাস।

এসআই আল ইমরান বলেন, ‘মাইক্রোবাসচালক সাইকেল আরোহী মনির হোসেনকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লোকজনের অনুরোধে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে আসেন তিনি। সেখানে চিকিৎসক মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এই সুযোগে সটকে পড়েন চালক।’

হাতিরঝিল এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে। তার সঙ্গে আসা তিশান নামে এক ব্যক্তি জানান, লেকের মাই টিভি ভবন এলাকায় রাস্তার পাশে পড়ে ছিলেন মনির।

পরে পুলিশ জানায়, যে মাইক্রোবাসে করে মনিরকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল তারই ধাক্কায় আহত হয়েছিলেন তিনি।

ততক্ষণে মাইক্রোবাসটি অ্যাম্বুলেন্স পার্কি লটে ফেলে সটকে পড়েছেন মনিরকে হাসপাতালে আনা চালক ও অন্যরা।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পৌনে ২টার দিকে হাসপাতালে আনা হয় তাকে। পরে বেলা সোয়া ২টার দিকে মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মনিরকে হাসপাতালে নিয়ে আসাদের একজন পথচারী তিশান বলেন, ‘আমরা দুপুরে বাসায় যাচ্ছিলাম। পরে দেখি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় লোকটা পড়ে আছে। তখন আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। তার মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তার (মনির) কাছে দুটি মোবাইল ও একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা, তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার লকমোতা গ্রামে। পিতার নাম হাজিল উদ্দিন। নিহতের মোবাইল থেকে তার পরিবারকে জানানো হয়েছে। তার ফুফাতো বোনের জামাই রিপন পাটোয়ারী দুঃসংবাদ পেয়ে ঢামেকে এসে লাশ শনাক্ত করেন।

‘তিনি জানিয়েছেন,নিহত ব্যক্তি গাড়ির চালক ছিলেন।’

তবে তিশানের এই বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মনিরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মাইক্রোবাসটির চালক পালিয়ে যাওয়ার পর।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢামেক থেকে মাইক্রোবাসটি জব্দ করেন হাতিরঝিল থানার পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) আল ইমরান।

তিনি বলেন, ‘মাইক্রোবাসচালক সাইকেল আরোহী মনির হোসেনকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লোকজনের অনুরোধে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে আসেন তিনি। সেখানে চিকিৎসক মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এই সুযোগে সটকে পড়েন চালক।’

এসআই আল ইমরান বলেন, ‘এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।’

শেয়ার করুন