শুক্রবার আসছেন মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

শুক্রবার আসছেন মোদি

বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে তাকে স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন মোদি। সেখানে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি। পরে পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিখবেন এবং একটি গাছের চারা রোপণ করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে তার এই সফর।

শুক্রবার বেলা ১১টায় মোদিকে বহনকারী বিশেষ বিমানটির ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা।

বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে তাকে স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে ১৯টি গান স্যালুট ও লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হবে। বিমান থেকে নামার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানাবেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে উপস্থিত মন্ত্রিপরিষদ সদস্যসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তিনি বহিনীর প্রধানের সঙ্গে মোদিকে পরিচয় করিয়ে দেবেন। পরে মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সফরসঙ্গীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন।

এরপর শেখ হাসিনা মোদিকে নিয়ে অস্থায়ী মঞ্চে যাবেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকশ দল তাকে গার্ড অফ অনার দেবে। ব্যান্ডদল এ সময় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীতের সুর তুলবে।

বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন মোদি। সেখানে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি। পরে পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিখবেন এবং একটি গাছের চারা রোপণ করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

সেখান থেকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়ালে আসবেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন ও বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ঘুরে দেখবেন তিনি। ধানমন্ডি থেকে মিন্টো রোডের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যাবেন মোদি। বিকেলে তিনি যাবেন জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে। সেখান থেকে সন্ধ্যা ৭টায় তিনি যাবেন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মলেন কেন্দ্রে। রাত সাড়ে ৮টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফিরবেন তিনি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ ভিভিআইপিদের চলাচলের আগে-পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে শুক্রবার ও শনিবার। এমনকি কিছু কিছু সময়ের জন্য সেসব সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে তেজগাঁওয়ের পুরান বিমানবন্দরে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে যাবেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের যশোশোরি মন্দিরে। এ জন্য ৯টা ৪৫ মিনিটে রওনা দিয়ে ১০টা ১০ মিনিটে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।

সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি সাতক্ষীরা থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার উদ্দেশে রওনা হবেন এবং ১০টা ৪৫ মিনিটে পৌঁছবেন। সকাল ১০টা ৫০ মনিটে তিনি বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন। সমাধি প্রাঙ্গণে তিনি বৃক্ষ রোপণ করবেন এবং পরিদর্শন বইয়ে সই করবেন।

বেলা সোয়া ১১টায় তিনি টুঙ্গিপাড়া থেকে কাশিয়ানির ওড়াকান্দির উদ্দেশে রওনা হবেন এবং ১১টা ৩৫ মনিটি মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান হরিপদ ঠাকুরের জন্মভিটায় পৌঁছবেন। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তিনি ওড়াকান্দি ত্যাগ করবেন এবং দুপুর ১২টা ৪৫ মনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরান বিমানবন্দরে ফিরে আসবেন। সেখান থেকে দুপুর ১টায় তিনি যাবেন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। সেখানে তিনি মধ্যাহ্ণ ভোজ সারবেন এবং বিশ্রাম করবেন।

নরেন্দ্র মোদি বিকেল সোয়া ৩টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী সেখানে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শিমুল হলে দুই প্রধানমন্ত্রী ৩০ মিনিটের একান্ত বৈঠকে অংশ নেবেন।

এরপর ৪টায় শুরু হবে এক ঘণ্টার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বিকেল ৫টা থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত চলবে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই। ৫টা ২০ মিনিটে নরেন্দ্র মোদি বঙ্গভবনের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রওনা করবেন। রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ তাকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানাবেন।

সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিট পর্যন্ত তারা দ্বিপাক্ষীক বৈঠকে অংশ নেবেন। সোয়া ৬টা নরেন্দ্র মোদি বিমান বন্দরের উদ্দেশে বঙ্গভবন ত্যাগ করবেন। ৬টা ৩৫ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। ৬টা ৪০ মিনিটে মোদিকে বহনকারী বিশেষ বিমান ঢাকা ছাড়বে।

আরও পড়ুন:
মোদির সফর: নিয়ন্ত্রিত হবে যান চলাচল
মোদিবিরোধী বিক্ষোভ: বামপন্থিদের ওপর ফের হামলা ছাত্রলীগের
মতিঝিলে সংঘর্ষে ৭ পুলিশ সদস্য আহত, আটক ৩৬
মোদির সফরের প্রতিবাদে ঢাবিতে আয়োজন নিয়ে বিতর্ক
মোদিবিরোধিতা গুটিকয়েক মানুষের: মোমেন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রকে রোহিঙ্গা নেয়ার আহ্বান বাংলাদেশের

যুক্তরাষ্ট্রকে রোহিঙ্গা নেয়ার আহ্বান বাংলাদেশের

কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে পাঠানো হয় রোহিঙ্গাদের। ছবি: নিউজবাংলা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘বাইডেন প্রশাসন ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের গ্রহণের সংখ্যা ২ লাখ আড়াই হাজার করেছে, ২০২২ সালে তা আরও সোয়া লাখ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। আমেরিকা এর একটি বড় অংশ পূরণের জন্য বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণ করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে।’

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

লকডাউনে আটকে পড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশেষ ব্যবস্থায় ভিসা দেয়ার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছেন আবদুল মোমেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার দুপুরে এক বার্তায় এ তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসন যে বিপুরসংখ্যক শরণার্থী গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে, তা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে পূরণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে ভিসা সাক্ষাৎকারের তারিখ পেতে বিপুলসংখ্যক ভিসা আবেদনকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভিসা পেতে দেরি হওয়ার কারণে অনেকেই ভর্তি ও বৃত্তি হারাতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার জানান, লকডাউন পরিস্থিতির কারণে অনেক সাক্ষাৎকারের স্লট বাতিল করতে হয়েছিল, লকডাউন শেষ হওয়ার পরে ভিসা আবেদনকারী সব শিক্ষার্থী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, এ দেশের শিক্ষার্থীরা যেন সময়মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের একাডেমিক সেশনে যোগ দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা জরুরি ও আন্তরিকতার সঙ্গে করা হবে।

জো বাইডেনের সাম্প্রতিক ঘোষণার প্রশংসা করে মোমেন বলেন, 'বাইডেন প্রশাসন ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের গ্রহণের সংখ্যা ২ লাখ আড়াই হাজার করেছে, ২০২২ সালে তা আরও সোয়া লাখ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

‘আমেরিকা এর একটি বড় অংশ পূরণের জন্য বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণ করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে।’

মোমেন-মিলার বৈঠক
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

মোমেন বলেন, ‘আমরা আশা করি বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করা রোহিঙ্গাদের জন্য আমেরিকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া ভাসানচরে বসবাস শুরু করা রোহিঙ্গাদের পাশেও দাঁড়াবে যুক্তরাষ্ট্র।’

মিলার জানান, ২০২১ সালে জেনেভায় বার্ষিক যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (জেআরপি) প্রবর্তনের সময় আমেরিকা রোহিঙ্গাদের মানবিক অভিযানে বৃহৎ অবদানের জন্য আবারও প্রতিশ্রুতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার বিষয়ে চলমান তদন্তে বাংলাদেশের সহযোগিতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও আশ্বাস দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন মোমেন।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী

নিজ দেশের সেনাবাহিনীর হাতে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক বছর ধরে বাংলাদেশে আসছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা। তবে রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় ঢল আসে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট।

ওই সময় সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর চাপের মুখে পড়েও রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে না মিয়ানমার। উল্টো রোহিঙ্গাদের তাদের দেশের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে মেঘনা নদীর নোয়াখালী অংশে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

এ জন্য নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রায় ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গার বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রাম করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মোদির সফর: নিয়ন্ত্রিত হবে যান চলাচল
মোদিবিরোধী বিক্ষোভ: বামপন্থিদের ওপর ফের হামলা ছাত্রলীগের
মতিঝিলে সংঘর্ষে ৭ পুলিশ সদস্য আহত, আটক ৩৬
মোদির সফরের প্রতিবাদে ঢাবিতে আয়োজন নিয়ে বিতর্ক
মোদিবিরোধিতা গুটিকয়েক মানুষের: মোমেন

শেয়ার করুন

স্মরণীয় হয়ে থাকবেন অনুপ ভট্টাচার্য: প্রধানমন্ত্রী

স্মরণীয় হয়ে থাকবেন অনুপ ভট্টাচার্য: প্রধানমন্ত্রী

শব্দ সৈনিক অনুপ ভট্টাচার্য মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান অনুপ ভট্টাচার্য। ৭৭ বছর বয়সী এই শব্দসৈনিক দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, ‘সংগীতে অনুপ ভট্টাচার্যের অবদান মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রখ্যাত সুরকার অনুপ ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এই সংগীত শিল্পী।

রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান অনুপ ভট্টাচার্য। ৭৭ বছর বয়সী এই শব্দসৈনিক দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, ‘সংগীতে অনুপ ভট্টাচার্যের অবদান মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

মরহুমের আত্মার‌ শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর’, ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘নোঙর তোলো তোলো’- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে এমন সব ঐতিহাসিক গানে সমবেতভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন অনুপ ভট্টাচার্য।

অনেক গানের সুর করেছেন তিনি। গাইতেন রবীন্দ্রসংগীত।

অনুপের মরদেহ রাখা হয়েছে বারডেম হাসপাতালের হিমাগারে। শুক্রবার পোস্তগোলা শ্মশানঘাটে হবে শেষকৃত্য। তার আগে শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হতে পারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

অনুপ ভট্টাচার্যের দুই মেয়ে, তারা দুজনেই এখন দেশের বাইরে আছেন।

আরও পড়ুন:
মোদির সফর: নিয়ন্ত্রিত হবে যান চলাচল
মোদিবিরোধী বিক্ষোভ: বামপন্থিদের ওপর ফের হামলা ছাত্রলীগের
মতিঝিলে সংঘর্ষে ৭ পুলিশ সদস্য আহত, আটক ৩৬
মোদির সফরের প্রতিবাদে ঢাবিতে আয়োজন নিয়ে বিতর্ক
মোদিবিরোধিতা গুটিকয়েক মানুষের: মোমেন

শেয়ার করুন

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর

পাইলিং উদ্বোধনের পাঁচ বছরের মাথায় গত বছরের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর পুরোটাই দৃশ্যমান হয়। ছবি: নিউজবাংলা

পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যায়নি। তবে আগামী বছরের জুনের মধ্যেই মূল সেতুর কাজ শেষ হবে।’

এ বছরেই জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ। তবে করোনা মহামারি ও প্রবল বন্যায় কাজের ব্যাঘাত ঘটায় পঞ্চম দফায় আরও দুই বছর বেড়েছে এই প্রকল্পের মেয়াদ।

এ বছরের শুরুতে ব্যয় বাড়ানো ছাড়াই মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় সেতু বিভাগ। এর ভিত্তিতে প্রস্তাবের যৌক্তিকতা যাচাই করতে ফেব্রুয়ারিতে সেতু পরিদর্শনে যায় পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

এর ভিত্তিতে মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে আইএমইডি। কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ হয়ে চূড়ান্ত প্রস্তাব যায় পরিকল্পনামন্ত্রীর দপ্তরে। চলতি সপ্তাহে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পে মেয়াদ বাড়ানোর ওই প্রস্তাবে সই করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

সেতু বিভাগ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে মূল সেতুর কাজ হয়েছে ৯৩ শতাংশ। আগামী বছরের জুনেই সেতুর মূল কাজ শেষ হওয়ার আশা রয়েছে।

সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৯৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। নদীশাসনের অগ্রগতি ৮৩ শতাংশ।

রোববার এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতুর স্ট্রাকচারের পুরো কাজ শেষ হয়েছে। মাওয়া প্রান্তে ভায়াডাক্টের সর্বশেষ গার্ডার স্থাপনের মধ্য দিয়ে স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সেতু যান চলাচলে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে। ২০২২ সালের জুন মাসে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।’

পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যায়নি। তবে আগামী বছরের জুনের মধ্যেই মূল সেতুর কাজ শেষ হবে।’

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে পঞ্চম দফা সময় বেড়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে। তবে নির্মাণকাজ শুরুর পর মেয়াদ বেড়েছে তৃতীয় দফা। ২০০৭ সালের ২৪ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প প্রথম অনুমোদন পায়, মেয়াদ ছিল ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত।

২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্প সংশোধন করে ব্যয় বাড়িয়ে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা করা হয়। তবে সময় বাড়ে ছয় মাস, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় সংশোধনীতে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি একনেকে ব্যয় বাড়িয়ে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়।

২০১৮ সালের ২১ জুন ভূমি অধিগ্রহণের জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলে ব্যয় দাঁড়ায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। পরে আরও দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে যথাক্রমে ডিসেম্বর ২০১৯ এবং জুন ২০২১ করা হয়। সর্বশেষ মেয়াদ বাড়ানোয় ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার কোটি টাকা। পরে কাটছাঁট করে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ হাজার ৯৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এতে গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১ হাজার ১২৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৫৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। এ পর্যন্ত প্রকল্পে পুঞ্জীভূত ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।

সেতু বিভাগ বলছে, করোনা মহামারির কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়েছে। গত বছর প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি পরামর্শক ও চীনা ঠিকাদারের অনেক লোক দীর্ঘদিন কাজে ফিরতে পারেননি। আবার গত বছর প্রবল ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। তীব্র স্রোতের কারণে মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড ভাঙনের মুখে পড়ে। তবে কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় মূল সেতু ও নদীশাসন কাজ ২০২২ সালের জুনের মধ্যে শেষ হবে। দরপত্রের শর্তানুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ কাজ ও ঠিকাদারের দেনাপাওনা মিটিয়ে দিতে সময় লাগবে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

দ্বিতল পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে সড়ক ও নিচ দিয়ে যাবে রেললাইন, এজন্য আলাদা প্রকল্পও রয়েছে। গত মঙ্গলবার মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ প্রকল্পের ঢাকা-মাওয়া অংশে কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন।

পদ্মা সেতুর ওপর রেল ও সড়কপথ একই দিনে চালু হবে জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী বছরের মাঝামাঝি যখন পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে, ঠিক একই দিনে সেতুর ওপর দিয়ে রেলপথও চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। অর্থাৎ একই দিনে পদ্মা সেতুর রেল ও সড়কপথ চালু হবে।

রেলপথমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তবে তখন শুধু ভাঙা থেকে সেতু পার হয়ে মাওয়া পর্যন্ত রেল আসবে। মাওয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত রেল প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই এই কাজও শেষ হবে। এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। রেলের মূল অংশটা পদ্মা সেতুর মূল সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গেছে। এখন রেলের স্লিপার বা রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হবে।’

আরও পড়ুন:
মোদির সফর: নিয়ন্ত্রিত হবে যান চলাচল
মোদিবিরোধী বিক্ষোভ: বামপন্থিদের ওপর ফের হামলা ছাত্রলীগের
মতিঝিলে সংঘর্ষে ৭ পুলিশ সদস্য আহত, আটক ৩৬
মোদির সফরের প্রতিবাদে ঢাবিতে আয়োজন নিয়ে বিতর্ক
মোদিবিরোধিতা গুটিকয়েক মানুষের: মোমেন

শেয়ার করুন

নাশিদের ওপর বোমা হামলায় বাংলাদেশের নিন্দা

নাশিদের ওপর বোমা হামলায় বাংলাদেশের নিন্দা

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে একটি বিস্ফোরণে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের বর্তমান স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদ আহত হয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে আইনের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নাশিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

মালদ্বীপের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান স্পিকার মোহামাম্ম নাশিদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন শুক্রবার সকালে এক টুইটবার্তায় এ ঘটনায় নিন্দা জানান। পরে তা রিটুইট করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে আইনের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান। তিনি নাশিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে বৃহস্পতিবার সন্ধায় বোমা হামলায় মারাত্মক আহত হন নাশিদ। তার বাড়ির বাইরে এ ঘটনা ঘটে। তবে হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি।

নাশিদ এডিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার অবস্থা স্থিতিশীল। হামলার সময় তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় নাশিদসহ আরও দুইজন আহত হন। বোমাটি মোটরবাইকে রাখা ছিল।

মালদ্বীপের মন্ত্রী আহমেদ মালুফ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদ নাশিদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। ওই সময় পাশের মোটরবাইকে বিস্ফোরণটি ঘটে। এটি নিঃসন্দেহে সন্ত্রাসী হামলা। হামলার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। সরকার হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।’

মালদ্বীপের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান।

দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, নাশিদকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। আহত হলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

ভারত মহাসাগরের দেশ মালদ্বীপে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার সুন্নি মুসলমানের বাস। বিলাসবহুল অবকাশ যাপনের জন্য সুপরিচিত এই দেশটিতে প্রায়ই রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা যায়। বৃহস্পতিবার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য সুপরিচিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে সশস্ত্র পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী।

নাশিদের ওপর হামলার পর অবকাশকালীন ছুটিতে থাকা পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন ডাকা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সাবেক প্রেসিডেন্টের শরীরে বেশ কিছু ক্ষত তৈরি হয়েছে। তাকে অচেতন করে রেখেছেন চিকৎসকরা। হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি সাড়া দেন এবং ডাক্তারদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

২০০৮ সালে বহু দলের অংশগ্রহণে মালদ্বীপে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হন মোহাম্মদ নাশিদ। ২০১২ সালে এক অভ্যুত্থানে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ২০১৫ সালে তাকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন তাকে চিকিৎসার জন্য মুক্তি দিলে তিনি যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে চলে যান। ২০১৮ সালে দেশে ফিরে আসেন তিনি।

চীন থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়ায় ইয়ামিন প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন নাশিদ। ২০১৯ সালে নির্বাচনের পর তিনি দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:
মোদির সফর: নিয়ন্ত্রিত হবে যান চলাচল
মোদিবিরোধী বিক্ষোভ: বামপন্থিদের ওপর ফের হামলা ছাত্রলীগের
মতিঝিলে সংঘর্ষে ৭ পুলিশ সদস্য আহত, আটক ৩৬
মোদির সফরের প্রতিবাদে ঢাবিতে আয়োজন নিয়ে বিতর্ক
মোদিবিরোধিতা গুটিকয়েক মানুষের: মোমেন

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: মমতা

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: মমতা

তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে মমতা বলেছেন, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ ভৌগোলিকভাবে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব, একই সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। ভবিষ্যতে এ আবেগ ও অনুভূতির সম্পর্ক আরও জোরদার হবে

বাংলাদেশের সঙ্গে আবেগ ও অনুভূতির সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরও জোরদার হবে বলে জানিয়েছেন তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের শুভেচ্ছাবার্তার জবাবে বৃহস্পতিবার তাকে পাঠানো কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা চিঠিতে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন বলে শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিশাল জয়ের বিষয়টি তুলে ধরে মমতা চিঠিতে লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের জনগণ উন্নয়ন, শান্তি, ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা এবং শক্তিশালী করার পক্ষে রায় প্রদান করেন।

‘বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ ভৌগোলিকভাবে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব, একই সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। ভবিষ্যতে এ আবেগ ও অনুভূতির সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’

পশ্চিমবঙ্গকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মমতা বলেন, ‘আপনাদের শুভ কামনা এ যাত্রায় সহায়ক হবে।’

তৃতীয়বারের মতো মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস বিশাল জয় লাভ করায় গত বুধবার এক পত্রে তাকে অভিনন্দন জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

মমতাকে পাঠানো চিঠিতে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনে জনগণের সমর্থন লাভ করেছে, যা আপনার নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জনগণের অব্যাহত আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।

‘আপনার অঙ্গীকার ও সহযোগিতার মাধ্যমে দুদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং অনিষ্পন্ন বিষয়গুলোর সমাধান হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

চলতি বছরের ২৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শুরু হয়। আট ধাপে চলা এ নির্বাচন শেষ হয় ২৯ এপ্রিল। নির্বাচনে ২৯২টি আসনের মধ্যে ২১৩টি আসনে জেতে তৃণমূল। প্রতিপক্ষ বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসনে জয় পায়। বিশাল জয়ের পর বুধবার তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মমতা।

আরও পড়ুন:
মোদির সফর: নিয়ন্ত্রিত হবে যান চলাচল
মোদিবিরোধী বিক্ষোভ: বামপন্থিদের ওপর ফের হামলা ছাত্রলীগের
মতিঝিলে সংঘর্ষে ৭ পুলিশ সদস্য আহত, আটক ৩৬
মোদির সফরের প্রতিবাদে ঢাবিতে আয়োজন নিয়ে বিতর্ক
মোদিবিরোধিতা গুটিকয়েক মানুষের: মোমেন

শেয়ার করুন

ঘাটে ঘরমুখী যাত্রীদের ঢল

ঘাটে ঘরমুখী যাত্রীদের ঢল

ঘরমুখী যাত্রীদের ঢল নেমেছে ফেরিঘাটগুলোতে। ছবি: নিউজবাংলা

ঈদের আগে সবগুলো ঘাটে বেড়েছে বাড়িফেরত যাত্রীদের চাপ। আন্তজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ফিরছেন প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। অনেকে কোনো যানবাহন ছাড়াই পার হচ্ছেন ফেরি।

চলমান লকডাউনে আন্তজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ঈদ উপলক্ষে বরাবরের মতো ঘরমুখী যাত্রীদের ঢল নেমেছে ঘাটগুলোতে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সকাল থেকেই এই পরিস্থিতি দেখা যায় প্রতিটি ঘাটে। যত দূর চোখ যায়, পণ্যবাহী গাড়ি, যাত্রীবাহী প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ প্রতিরোধে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকরে ১২ এপ্রিল ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ।

এতে বলা হয়, সব পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেলপথ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না।

এরপর দুই দফা বাড়িয়ে লকডাউন ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়।

বুধবার নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে ৫ মের পর যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে জেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। উল্লেখ্য, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল আগের মতোই বন্ধ থাকবে।

এই প্রজ্ঞাপনে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার পাটুরিয়া ফেরিঘাটে শুক্রবার সকালে দেখা যায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি। অধিকাংশ যাত্রীই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার থেকে জেলার মধ্যে গণপরিবহন চালু হওয়ার পর থেকেই ঘাটে বাড়িমুখী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তার উপর শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় চাপ বেশি।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ১৬টি ফেরির মধ্যে তিনটি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তিন শতাধিক যানবাহন পাটুরিয়া ঘাটে পারের অপেক্ষায় আছে।

দুপুরের মধ্যেই ঘাটের চাপ কমে যাবে বলে জানান ডিজিএম জিল্লুর রহমান।

স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তো সব সময়ই যাত্রীদের মাস্ক পরতে ও সামাজিক দূরত্ব মানতে বলি। কিন্তু তারা তো আমাদের কথায় গুরুত্ব দেয় না।’

একই অবস্থা দেখা যায় দৌলতদিয়া ঘাটে। প্রতিটি ফেরি যাত্রীবোঝাই। ফেরি থেকে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে গাদাগাদি করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা।

দৌলতদিয়া ঘাট
যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপে দৌলতদিয়া থেকে চলছে ১৬টি ফেরি

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ জানান, এই ঘাট থেকে দিনে ছয়টি ফেরি চলাচল করছিল। তবে শুক্রবার চাপ অনেক বেশি থাকায় ১৬টি ফেরিই চালু করে দেয়া হয়েছে।

লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে বন্ধ আছে স্পিডবোট। অবৈধভাবে কিছুদিন স্পিডবোট চলাচল করলেও সোমবার স্পিডবোট ডুবে ২৬ জনের মৃত্যুর পর সেটিও এখন বন্ধ।

শিমুলিয়া ঘাটে দেখা যায়, ফেরিগুলোতে যানবাহনের পাশাপাশি যাত্রীরাও পার হচ্ছেন।

এই ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শাফায়াত আহমেদ জানান, সকাল থেকেই ঘাটে দক্ষিণবঙ্গগামী মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। নদী পার হওয়ার জন্য ঘাটে প্রায় ৮০০ যানবাহন অপেক্ষা করছে।

১৩টি ফেরি চলাচল করলেও যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় প্রতিটিতে অধিকসংখ্যক যাত্রী উঠে পড়েছেন। এ কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় কম গাড়ি ও বেশি যাত্রী নিয়ে ফেরিগুলো চলাচল করছে।

বাংলাবাজার ঘাটে শুক্রবার ভোর থেকে পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্সের বেশ চাপ।

বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক (৩ নম্বর ঘাট প্রধান) কামাল হোসেন বলেন, ‘গত যেকোনো দিনের চেয়ে আজ (শুক্রবার) গাড়ির চাপ বেশি। তবে ঘাটে বাংলাবাজার থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই।’

আরও পড়ুন:
মোদির সফর: নিয়ন্ত্রিত হবে যান চলাচল
মোদিবিরোধী বিক্ষোভ: বামপন্থিদের ওপর ফের হামলা ছাত্রলীগের
মতিঝিলে সংঘর্ষে ৭ পুলিশ সদস্য আহত, আটক ৩৬
মোদির সফরের প্রতিবাদে ঢাবিতে আয়োজন নিয়ে বিতর্ক
মোদিবিরোধিতা গুটিকয়েক মানুষের: মোমেন

শেয়ার করুন

হেফাজত নেতা ও সাবেক এমপি শাহীনুর পাশা আটক

হেফাজত নেতা ও সাবেক এমপি শাহীনুর পাশা আটক

গত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে এই জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন শাহীনুর পাশা। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর তার আসনে উপ নির্বাচনে নির্বাচিত হন তিনি।

হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১টার দিকে সিলেট নগরের বনকলাপাড়ার আব্বাসী জামে মসজিদ থেকে তাকে আটক করেছে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল।

শাহীনুর পাশা চৌধুরী হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সহসভাপতি।

গত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে এই জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন শাহীনুর পাশা। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর তার আসনে উপ নির্বাচনে নির্বাচিত হন তিনি।

সহিংসতা ও তাণ্ডবের দায়ে সারা দেশে হেফাজত নেতাদের গ্রেপ্তার অভিযান চললেও সিলেটে এই প্রথম পদবিধারী হেফাজতের কোনো নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

শাহীনুর পাশাকে আটকের ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিহা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকা থাকা আসা সিআইডির একটি দল তাকে আটক করেছে। রাতেই তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।

বনকলাপাড়া আব্বাসী জামে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল মুকিত অপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন:
মোদির সফর: নিয়ন্ত্রিত হবে যান চলাচল
মোদিবিরোধী বিক্ষোভ: বামপন্থিদের ওপর ফের হামলা ছাত্রলীগের
মতিঝিলে সংঘর্ষে ৭ পুলিশ সদস্য আহত, আটক ৩৬
মোদির সফরের প্রতিবাদে ঢাবিতে আয়োজন নিয়ে বিতর্ক
মোদিবিরোধিতা গুটিকয়েক মানুষের: মোমেন

শেয়ার করুন