বেবিচক-রেলওয়ের বিরুদ্ধে মামলা করছে ডিএনসিসি

বেবিচক-রেলওয়ের বিরুদ্ধে মামলা করছে ডিএনসিসি

ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম সোমবার মশা নিধনে আশকোনা হজ ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় সিটি করপোরেশনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনে যান। ছবি: নিউজবাংলা

মশা নিধনে আশকোনা হজ ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় সোমবার সকালে ডিএনসিসি পরিচালিত ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে বেবিচক, রেলওয়ে ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্টের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেন মেয়র আতিকুল।

মশা নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অসহযোগিতার অভিযোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

একই অভিযোগে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠান আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্টের বিরুদ্ধেও মামলার নির্দেশ দেন তিনি।

সোমবার সকালে মশা নিধনে আশকোনা হজ ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় ডিএনসিসি পরিচালিত ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেন তিনি।

পরিদর্শনে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব দিকে রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন একটা নালা ও একই এলাকায় বেবিচকের আওতাধীন জায়গাগুলোর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেয়র।

তিনি বলেন, ‘তাদের (বেবিচক ও রেলওয়ে) বারবার বলা হয়েছে নিজেদের জায়গাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে। আমরা আমাদের জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু যেগুলো রেলওয়ের জায়গা, সিভিল অ্যাভিয়েশনের জায়গা, সেগুলো তো তাদেরই পরিষ্কার রাখা উচিত।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে মেয়র আতিক বলেন, ‘ওদের তো লোক কম নেই। আপনারা (বেবিচক ও রেলওয়ে) যার যার মতো চলবেন, আর গালি খাব আমরা। এটা হতে পারে না।’

এ সময় মেয়র তার সঙ্গে উপস্থিত ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা ও সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তাকে সরকারি সংস্থা দুটির বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ‘এখন ওদের বিরুদ্ধে মামলা করা ছাড়া তো উপায় নেই। সরকার সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করছে। এগুলো যদি নিজের থেকে বোধগম্য না হয়, তাহলে আর কবে হবে?’

এই আশকোনা ও দক্ষিণখান এলাকাতেই বেসরকারি আবাসন সংস্থা আশিয়ান ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের আশিয়ান সিটি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পের জায়গাগুলোতেও অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশ দেখতে পান মেয়র।

জায়গাগুলো মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ অবস্থায় আশিয়ান সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও মামলা করার নির্দেশ দেন মেয়র।

চলতি বছর ঢাকায় মশা বেড়েছে অন্য বছরের তুলনায় কয়েক গুণ। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরবাসী। এডিস মশার উপদ্রব না থাকলেও মারাত্মক হারে বেড়েছে কিউলেক্স মশা। এ মশা চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়াসহ মশাবাহিত রোগ ছড়ায়।

মশা নিয়ন্ত্রণে জরুরিভাবে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে দুই সিটি করপোরেশন। মেয়ররা বলছেন, যেভাবে তারা পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছেন তাতে এক সপ্তাহের মধ্যে মশার সংখ্যা কমে আসবে।

আরও পড়ুন:
রাস্তার ময়লা ফেলা হলো অ্যাপার্টমেন্টের ফটকে
৩১ মার্চের মধ্যে সরাতে হবে পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগ
দখল ঠেকাতে খালপারে বসছে সীমানা খুঁটি
ডিএনসিসির স্থাপনা রেখেই উচ্ছেদ অভিযান
‘সবার ঢাকা’ অ্যাপ আনল ঢাকা উত্তর

শেয়ার করুন

মন্তব্য