ডিজিটাল আইনে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাকের মৃত্যু

লেখক মুশতাক আহমেদ। ছবি: ফেসবুক

ডিজিটাল আইনে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাকের মৃত্যু

তাকে কারাগারে হত্যার অভিযোগ এনে সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোটসহ অন্যান্য বাম সংগঠন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান ও শাহবাগ অভিমুখে মিছিল কর্মসূচিও দিয়েছে তারা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদ বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছেন।

মুশতাক আহমেদ গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পর তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর।

মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মুশতাক সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ অনুভব করলে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত ৮টা ২০ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলেও জানান আইজি প্রিজন মোমিনুর রহমান।

মুশতাক আহমেদের চাচাতো ভাই ডা. নাফিসুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। মৃত্যুর খবর আমাদের রাত ৯টার দিকে জানানো হয়েছে। তারা জানিয়েছে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক।’

এদিকে লেখক মুশতাককে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোটসহ অন্যান্য বাম সংগঠন।

এ অভিযোগ এনে সরকারের পদত্যাগ ও বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জোট সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে তাদের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শাহবাগ দিয়ে বাংলামোটর হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

mustak-NB
লেখক মুশতাক আহমেদকে হত্যার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ।

সেখানে সমাবেশ থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান ও শাহবাগ অভিমুখে মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (একাংশ) সভাপতি আল কাদেরি জয়।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্র একজন লেখকের হত্যাকারী। একজন লেখককে কারাগারে রেখে হত্যা করেছে। এই রাষ্ট্রে কারও স্বাধীনতা নেই। আমরা এই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিবাদ গড়ে তুলব।

‘আমরা শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে যাক। সেই মিছিলে আমরা সবাইকে আহ্বান করছি লেখক মুশতাককে হত্যা ও বিচারের দাবিতে।’

মধ্যরাতের এই বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সৈকত আরিফ, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (একাংশ) সভাপতি মাসুদ রানা, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীলসহ জোট ও সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

গত ৫ মে র‍্যাবের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় মুশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি ছিলেন।

মামলায় গত ১১ জানুয়ারি কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, লেখক মুশতাক আহমেদ ও রাজনৈতিক সংগঠন রাষ্ট্রচিন্তার কর্মী দিদারুল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

গত মে মাসে রমনা থানায় মুসতাকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে র‌্যাব এটিসহ তিনটি মামলা করে।

মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুক ব্যবহার করে জাতির জনক, মুক্তিযুদ্ধ, করোনা মহামারি সম্পর্কে গুজব, রাষ্ট্র/সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিপ্রায়ে অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং অস্থিরতা-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারার অভিযোগ আনা হয়।

গত সেপ্টেম্বরে এই মামলায় গ্রেপ্তার মিনহাজ মান্নান ও দিদারুল ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পান। কার্টুনিস্ট কিশোর ও লেখক মুশতাক জামিন পাননি।

মুশতাকের মৃত্যুর বিষয়ে রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য হাসনাত কাইয়ুম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা শুনেছি তিনি অসুস্থ হয়ে বারান্দায় পড়ে গেলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।’

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘তার মামলা উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালত দুইটাতেই চলছিল। নিম্ন আদালতে তার হাজিরা ছিল; জামিন হয়নি। হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছিল; শুনানি ছিল আগামী সপ্তাহে।’

মুশতাক আহমেদের চাচাতো ভাই ডা. নাফিসুর রহমান নিউজবাংলাকে আরও বলেন, ‘লাস্ট হাজিরার দিনে আমার সঙ্গে দেখা হলো, জড়িয়ে ধরলো। সে সুস্থ ছিল। বাসায় ফিরে তার বাবা-মাকে সেসব বললাম। তিন ভাই-বোনের মধ্যে দুই বোনই দেশের বাহিরে থাকে। বাবা-মা তার কাছেই থাকে।

‘১০ মাস হলো তো সে জেলে। অসুস্থ বাবা-মাকে আজ তার মৃত্যুর খবর দিতে হলো। ওয়াইফটাও অসুস্থ হয়ে গুলশানের এক হাসপাতালে ভর্তি আছে।’

পরিবার থেকে এখনও কেউ গাজীপুরে যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছে, আগামীকাল (শুক্রবার) সকাল ৯টায় মরদেহ হস্তান্তর করবে। তবে রাতেই মুশতাকের কয়েজন বন্ধু হাসপাতালের উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মুভমেন্ট পাস নিয়ে হেরোইন পাচার

মুভমেন্ট পাস নিয়ে হেরোইন পাচার

আন্তজেলা মাদক কারবারি চক্রের সদস্যের কাছ থেকে ৩২০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয় বলে জানায় র‌্যাব। ছবি: সংগৃহীত

র‌্যাব জানায়, ভোরের দিকে মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের সামনে রাস্তার ওপর চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় আন্তজেলা মাদক কারবারি চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ৩২০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় মাস্ক ও স্যানিটাইজার পরিবহনের জন্য নেয়া মুভমেন্ট পাস ব্যবহার করে হেরোইন পাচারের সময় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

মোহাম্মদপুর টাউনহল মার্কেটের সামনে থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে তাকে আটক করে র‌্যাব-২-এর একটি দল। পরে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম সৌমিক আহম্মেদ সিদ্দিকী। তিনি আন্তজেলা মাদক কারবারি দলের সদস্য বলে র‌্যাব দাবি করেছে।

র‍্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, মাদকের একটি বড় চালান সীমান্ত এলাকা থেকে মোহাম্মদপুর এলাকায় মাদক কারবারিদের কাছে আসছে। এর ভিত্তিতে র‌্যাব-২-এর একটি আভিযানিক দল মাদক চালানটি আটক করার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।

মামুন জানান, ভোরের দিকে মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের সামনে রাস্তার ওপর চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় আন্তজেলা মাদক কারবারি চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ৩২০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের ভাষ্য, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ দুটি পণ্য সরবরাহে মুভমেন্ট পাস নিয়ে কারবারিরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক আনে। পরে তা রাজধানীর বিভিন্ন মাদক কারবারিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সৌমিকের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

শেয়ার করুন

করোনায় আরও এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

করোনায় আরও এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

করোনায় আরও এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মোশারফ হোসেনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে পুলিশে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৩ জনে।

করোনায় মারা গেছেন আরও একজন পুলিশ সদস্য। তার নাম মোশারফ হোসেন।

৪৬ বছর বয়সী মোশারফ কনস্টেবল পদে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক উত্তর বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে পুলিশে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৩ জনে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করোনায় মোশারফের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। শোকবার্তায় আইজিপি মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

মোশারফ হোসেনের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ থানার আশ্বিনপুর গ্রামে।

তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এআইজি সোহেল রানা জানান, বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবস্থাপনায় মরদেহ মরহুমের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

খসরুর আসন শূন্য, গেজেট ইসিতে

খসরুর আসন শূন্য, গেজেট ইসিতে

সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এক গেজেটে বুধবার আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে গেজেট নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে কুমিল্লা-৫ আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এক গেজেটে বুধবার আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে গেজেট নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী আসন শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের ব্যবস্থা করবে নির্বাচন কমিশন।

তবে চলমান মহামারি বা অন্য কোনো পরিস্থিতিতে তা সম্ভব না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও ৯০ দিন সময় নিতে পারেন।

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৪ এপ্রিল মৃত্যু হয় আবদুল মতিন খসরুর।

কুমিল্লা-৫ আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য মতিন খসরু ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারে তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

গত ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। গত ১২ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় সমিতির সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি।

খসরু বর্তমান জাতীয় সংসদের আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খসরু। পরে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হলেও তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

খসরু ১৯৯৬ সাল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আইনমন্ত্রী হয়েছিলেন এবং তার সময়েই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়, যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের বিচারের পথ উন্মুক্ত করে।

বাংলাদেশের মুক্তিযু্দ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা আবদুল মতিন খসরু ১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

‘মুক্তিযোদ্ধা বাছাই কমিটিতে অমুক্তিযোদ্ধারা কেন’

‘মুক্তিযোদ্ধা বাছাই কমিটিতে অমুক্তিযোদ্ধারা কেন’

বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান বলেন, ‘বয়সের গণ্ডগোল পাকিয়ে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের হ্যারাস করা হচ্ছে। আমার সাথে ৯ বছরের একটি ছেলে যুদ্ধে যুক্ত ছিল। সে আমাদের খাবার এনে দিত। তার মা রান্না করে ছেলেকে দিয়ে আমাদের বাংকারে খাবার পাঠাত।’

অমুক্তিযোদ্ধা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বাছাই কমিটি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান।

কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার বন্ধ ভাতা চালু সংক্রান্ত আবেদনের শুনানির সময় বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান এ মন্তব্য করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতিরা এ বিষয়ে কথা বলেন।

শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার (সবশেষ) লিষ্টটাও যে সঠিক তাও এখন বলা যাবে না। কারণ এখান থেকেও তো কিছু আবার মিস্টেক (ভুল) বের হতে পারে।’

এ সময় বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান বলেন, ‘বয়সের গণ্ডগোল পাকিয়ে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের হ্যারাস করা হচ্ছে। আমার সাথে ৯ বছরের একটি ছেলে যুদ্ধে যুক্ত ছিল। সে আমাদের খাবার এনে দিত। তার মা রান্না করে ছেলেকে দিয়ে আমাদের বাংকারে খাবার পাঠাত।’

তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় দিছে এক মুক্তিযোদ্ধা বীর উত্তম খেতাব পেয়েছেন তার বয়স হচ্ছে ১১ বছর। এই মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স নিয়া জেনুইন ৬০/৭০ বছরের মুক্তিযোদ্ধাদের হ্যারাসমেন করা হচ্ছে।’

বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ১১ বছর বয়সী লালুকে কোলে নিয়ে বীর উত্তম খেতাব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যেটা নিজে করে দিয়ে গেছেন এখন মুক্তিযোদ্ধারা কী করবেন।’

২০২০ সালের অক্টোবরে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং সরকার অনুমোদিত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা যাচাই-বাছাই করেই ভাতাপ্রাপ্ত সব বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম সরকারের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে তোলা হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে জেলা প্রশাসনের তালিকার ভিত্তিতেই ১ লাখ ৯২ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভাতা পাঠানো হত। কিন্তু এমআইএসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার পর সংখ্যাটি হঠাৎ তাদের সংখ্যা ২১ হাজার কমে ১ লাখ ৭১ হাজার হয়ে যায়।

শেয়ার করুন

হেফাজতের কাসেমী ৭ দিন, শারাফাত ৫ দিনের রিমান্ডে

হেফাজতের কাসেমী ৭ দিন, শারাফাত ৫ দিনের রিমান্ডে

হেফাজতে ইসলামের নেতা শারাফত হোসেন ও খোরশেদ আলম কাসেমী। ফাইল ছবি

কাসেমী ও শারাফতকে বৃহস্পতিবার সিএমএম আদালতে হাজির করে ২০১৩ সালে পল্টন থানায় করা সহিংসতার মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে ডিবি।পরে ঢাকার সিএমএম হাকিম বাকী বিল্লাহ কাসেমীকে সাত ও শারাফতকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আদেশ দেন।

আট বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে তাণ্ডব ও সহিংসতায় হেফাজতে ইসলামের দুই নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আদেশ দিয়েছে ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালত (সিএমএম)।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব, ঢাকা মহানগর সহসভাপতি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির খোরশেদ আলম কাসেমীকে সাত দিন এবং সংগঠনের যুগ্ম-মহাসচিব ও খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক শারাফাত হোসাইনকে বৃহস্পতিবার পাঁচ দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার সদস্য মো. সোলাইমান এ তথ্য নিউজজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

রাজধানীর মোহাম্মাদপুর থেকে মঙ্গলবার বিকেলে কাসেমীকে ও বুধবার শারাফাতকে কাফরুল থেকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ মার্চ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে হেফাজতের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা হয় চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

সেই সহিংসতা মামলার পাশাপাশি ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে অবস্থানকে ঘিরে দিনভর তাণ্ডবের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখায় ডিবি।

বৃহস্পতিবার কাসেমী ও শারাফাতকে সিএমএম আদালতে হাজির করে ২০১৩ সালে পল্টন থানায় করা সহিংসতার মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে ডিবি।

আসামির পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেসবাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এর বিরোধিতা করেন।

পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার সিএমএম হাকিম বাকী বিল্লাহ জামিন আবেদন নাকচ করে কাসেমীকে জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিন ও শারাফাতকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সংগঠনটির অন্তত ১৫ শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

উৎপাদন বাড়াচ্ছি, বাংলাদেশ টিকা পাবে: দোরাইস্বামী

উৎপাদন বাড়াচ্ছি, বাংলাদেশ টিকা পাবে: দোরাইস্বামী

ভারতে চারদিন ছুটি কাটিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় ভ্যাকসিনের বিষয়ে কথা বলেন বিক্রম দোরাইস্বামী। ছবি: নিউজবাংলা

দোরাইস্বামী জানান, করোনা মহামারির কারণে দুই দেশ খারাপ সময় পার করছে। এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত আছে। ভ্যাকসিনের জন্য দুই দেশের সম্পর্কে ভাটা পড়বে না।

ভারত থেকে করোনাভারাসের টিকার নতুন চালান আসা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশে দেশটির হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে ভারত নিজেই ভ্যাকসিন সংকটে আছে। তবে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে, শিগগিরই বাংলাদেশে ভ্যাকসিন রপ্তানি করা হবে।’

ভারতে চারদিন ছুটি কাটিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় বৃহস্পতিবার আখাউড়া স্থলবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

দোরাইস্বামী বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে দুই দেশ খারাপ সময় পার করছে। এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত আছে। ভ্যাকসিনের জন্য দুই দেশের সম্পর্কে ভাটা পড়বে না।’

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ কারণে অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বেশি ভ্যাকসিন সরবরাহের চুক্তি আছে। চুক্তি অনুযায়ী ৭০ লাখ টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি টিকা ক্রমান্বয়ে সরবরাহ করা হবে।

ভারতীয় হাই কমিশনারকে দুই দেশের শূন্যরেখায় স্বাগত জানান আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরে এ আলম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

গত ১৮ মার্চ আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন দোরাইস্বামী।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে ৩ কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে গত বছর নভেম্বরে চুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তির আওতায় দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ বাংলাদেশ হাতে পেয়েছে।

ভারত সরকারের দুই দফা উপহারের ৩২ লাখ ডোজ মিলে ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ লাখ মানুষ টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার জন্য ৪২ লাখ টিকা রাখা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ভারত নিজস্ব চাহিদার কথা বিবেচনা করে সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ডের টিকার রপ্তানি গত ২৪ মার্চ স্থগিত করে।

কোভ্যাক্সের আওতায় ১৮০টি দেশও সিরাম উৎপাদিত টিকা পাবে, কিন্তু রপ্তানি স্থগিত হওয়ায় এসব দেশও টিকা পাচ্ছে না।

শেয়ার করুন

বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক নিহত: বিচার বিভাগীয় তদন্তে রিট

বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক নিহত: বিচার বিভাগীয় তদন্তে রিট

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষে আহত শ্রমিককে নেয়া হচ্ছে হাসপাতালে। ফাইল ছবি

রিটে বাঁশখালীর ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ৩ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে সাত শ্রমিক নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় বৃহস্পতিবার রিটটি করা হয়েছে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন।

মানবাধিবার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে এ রিট করা হয়।

রিটে বাঁশখালীর ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ৩ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটটি আগামী রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান রিটকারী আইনজীবী।

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল এ ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় রিট করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।

আইনি নোটিশে নিহত শ্রমিকের জন্য তিন কোটি করে এবং আহত শ্রমিকের জন্য ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের নিরাপত্তা দিতে নোটিশে বলা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, শিল্প সচিব, বাণিজ্য সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ ১৭ জনকে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

গত শনিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে ৫ শ্রমিক নিহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ওই দিন বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছিলেন বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আজিজুল ইসলাম।

তিনি জানিয়েছিলেন, বকেয়া বেতন পরিশোধসহ বেশ কিছু দাবিতে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট নামের ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকরা শনিবার সকাল থেকে আন্দোলন করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সেখান গিয়ে শ্রমিকদের ওপর গুলি চালায়।

শেয়ার করুন