× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
নবীনগর পাটুরিয়া সড়ক চার লেনে উন্নীতর সিদ্ধান্ত
hear-news
player
print-icon

এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে নবীনগর-পাটুরিয়া সড়ক

এক্সপ্রেসওয়ে-হচ্ছে-নবীনগর-পাটুরিয়া-সড়ক-
সাভারের নবীনগর থেকে পাটুরিয়া সড়কটি চার লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফাইল ছবি
জাপান সরকার এতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাবলিক - প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সাভারের নবীনগর থেকে পাটুরিয়া সড়কটি চার লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জাপান সরকার এতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বুধবার বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্লাটফর্মের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহের কথা জানিয়েছে জাপান সরকার। অনলাইনে বৈঠকটির আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস, পিপিপি অফিসের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ, ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত মি. নাওকী, জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও জাপান সরকারের পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক ভাইস মিনিষ্টার নোমুরা মাসাফুমি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পদ্মা সেতু চালু হলে নবীনগর থেকে পাটুরিয়া সড়কে চাপ আরও বাড়বে। ফলে সড়কটিকে চার লেন এবং এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে জাপানের পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার বলেন, তারা এ প্রকল্পে সহায়তা করতে চায়। তবে তার আগে সমীক্ষা চালানোর কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী পিপিপি অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নবীনগর –পাটুরিয়া সড়কটি বর্তমানে দুই লেনের। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়কের গুরুত্ব আরও বাড়বে। ফলে একে চার লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়।’

তিনি বলেন, ‘এ প্রেক্ষাপটে আমরা বলেছি, সড়কটিকে চার লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করতে হলে প্রচুর অর্থের দরকার, যা বাংলাদেশ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রস্তাবে রাজি হয়ে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে জাপান সরকার।’

২০৩০ সালে এর কাজ শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী আরেক কর্মকর্তা জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের আধুনিকায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণেও সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। দেশটির মিৎসুবিসি করপোরেশন এ প্রকল্পটি উন্নয়নে কাজ করবে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি ফ্লাটফর্মের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মূলত দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ ফ্লাটফর্ম গঠন করা হয়।

গত চার বছর ধরে নিয়মিত এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। করোনার কারণে এবার ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে এই বৈঠকটি জাপানে হবে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
The Commerce Minister hopes that the price of goods will decrease in October

অক্টোবরে জিনিসপত্রের দাম কমবে, আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর

অক্টোবরে জিনিসপত্রের দাম কমবে, আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অক্টোবরে কমার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ফাইল ছবি
কবে নাগাদ বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা বলা যাবে না, তবে আমরা খুব আশাবাদী অক্টোবরের মধ্যে কিছুটা কমে আসবে। কতগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে। আমি জানি না, পুতিন সাহেব কবে যুদ্ধ বন্ধ করবেন। সেটা তো আমার হিসাবের মধ্যে নেই।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সচিবালয়ে বুধবার এক কোটি পরিবারের মধ্যে টিসিবির ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

কবে নাগাদ বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সেটা বলা যাবে না, তবে আমরা খুব আশাবাদী অক্টোবরের মধ্যে কিছুটা কমে আসবে। কতগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে। আমি জানি না, পুতিন সাহেব কবে যুদ্ধ বন্ধ করবেন। সেটা তো আমার হিসাবের মধ্যে নেই।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে অভিযোগ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সুযোগ যখন নেয়, সবাই একবারে লাফ দিয়ে নেয়, কিন্তু আমরা তো এসব একবারে শেষ করতে পারব না। তাদের সঙ্গে বসে সেটেল (নিষ্পত্তি) করতে হবে। আমাদের একটু সময় দেন। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি।

‘আমরা এ বিষয়গুলো দেখছি, তবে সবকিছু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে না। আর সব ব্যাপারে আমি আপনাদের বোঝাতে পারব, তা কিন্তু নয়। আমার যেটা কথা…হঠাৎ করে সুযোগ কেউ কেউ নিয়েছে। যে পরিমাণ বাড়ার কথা, তার থেকে অনেক বেশি সুযোগ নিয়েছে, এটা সত্যি কথা। আমরা চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি সচিবকে বলেছি, যে যে মন্ত্রণালয় আছে, সবাইকে চেষ্টা করতে হবে। ডলারের দাম হঠাৎ করে কত বেশি। খুব চেষ্টা করা হচ্ছে কীভাবে কী করা যায়। আমাদের কাছে হিসাব আছে। ধরেন তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচের জন্য প্রতি কেজিতে ৫০ পয়সা করে বাড়তে পারে, সেখানে ব্যবসায়ীরা ৪ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এখানে কোনো লজিক আছে? নাই৷ তখন, মানে সুযোগটা নিয়ে নিয়েছে। আমাদের একটু সময় দেন। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি। আমরা কষ্টে আছি, স্বীকার করছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যেটা দেখা দরকার, কষ্টটা লাঘব করার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী কী চেষ্টা করছেন।’

অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা আমরা ব্যবস্থা নেব…সেটা আমরা দেখব। তেলের দাম বাড়ার কারণে সুযোগটা নিচ্ছে।

‘সুযোগ যখন নেয়, সবাই একবারে লাফ দিয়ে নেয়। কিন্তু আমরা তো এসব একবারে শেষ করতে পারব না। তাদের সঙ্গে বসে সেটেল করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে বিনিয়োগের সময় এখনই: বাণিজ্যমন্ত্রী
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস: রাঙ্গা
ভারত থেকে গম আমদানিতে বাধা নেই: মন্ত্রী
সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা হলে মূল্য স্বাভাবিক থাকবে
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: বৈশ্বিক পরিস্থিতির দায় দেখছেন মন্ত্রী

মন্তব্য

জাতীয়
Where is the way to buy Russian oil?

রাশিয়ার তেল কেনার কী উপায়, বাধা কোথায়?

রাশিয়ার তেল কেনার কী উপায়, বাধা কোথায়? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির বিল পরিশোধ করা কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে আমরা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করব কিনা? এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। রাশিয়া থেকে তেল কিনলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি বিরাগভাজন হয়, তাহলে এই পথে যাওয়া ঠিক হবে না।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার ‍উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মঙ্গলবার তিনি এ নির্দেশ দেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও রাশিয়া থেকে সস্তায় জ্বালানি তেল কিনতে পারে। অনেক পথও আছে, তবে সমস্যা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এই দেশটিকে ‘না চটিয়ে’ রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অখুশি হলে এই দুই বড় বাজারে বাংলাদেশের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হুমকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে তারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি না করলে বা কমিয়ে দিলে দেশ বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে।

বেশ কিছুদিন ধরেই রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। গত মে মাসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও এমন ইঙ্গিত দেন। তবে কীভাবে আমদানি হবে, দাম কীভাবে পরিশোধ করা হবে- সে বিষয়ে কোনো উপায় নির্ধারণ হয়নি।

একনেক সভা শেষে মঙ্গলবার পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না?”

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি করা গেলে বিনিময় মুদ্রা কী হবে তা নিয়ে, সে বিষয়েও একটি সমাধান খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান মান্নান।

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া আগে প্রতিদিন প্রায় ৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করত, যার অর্ধেকের বেশি যেত ইউরোপে। ।

গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে অভিযান শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা একের পর এক মস্কোর ওপর অবরোধ আরোপ শুরু করে।

এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জ্বালানির জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার ঘোষণা দেয়।

রাশিয়ার তেল কেনার কী উপায়, বাধা কোথায়?

নিষেধাজ্ঞার মুখে অন্য ক্রেতারা রুশ তেল কেনা থেকে পিছু হটলেও বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাপক মূল্য ছাড়ে তাৎক্ষণিক টেন্ডারের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে বাড়তি তেল কেনা শুরু করে। চীনও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বাড়িয়েছে বলে খবর এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে রাশিয়া থেকে ভারতের অতিরিক্ত তেল কেনার বিষয়টি ভালোভাবে না নেয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন।

রাশিয়ার পণ্য কেনার ক্ষেত্রে দাম পরিশোধ নিয়েও জটিলতা রয়েছে। সুইফটে নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারে দাম পরিশোধ সম্ভব নয়। আর রাশিয়াও অনেক দেশের ক্ষেত্রে রুবলে দাম পরিশোধের শর্ত দিচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর পর পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১৩০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও এখন তা অনেকটা কমে এসেছে। কিন্তু তেল আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভর্তুকি কমাতে আর ডলার বাঁচাতে সরকার অগাস্টের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে, যার প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে অনেকটা।

তেল বাঁচাতে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমিয়ে দিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে রুটিন করে সব এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় রাশিয়া থেকে তেল কেনা হলে অনেক কম দামে পাওয়া যাবে বলে বাংলাদেশ সরকার আশা করছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে যে দামে তেল কেনে ভারত, তার তুলনায় ব্যারেল প্রতি প্রায় ২০ ডলার বা তারও বেশি ছাড় দিচ্ছে রাশিয়া৷ তাই ভারত এখন যে সব দেশ থেকে তেল কেনে সেই তালিকায় দুই নম্বরে উঠে গেছে রাশিয়া৷ আগে সৌদি আরব ছিল দুই নম্বরে৷ এখন তারা তিন নম্বরে আছে৷ এক নম্বরে আগের মতোই ইরাক আছে৷

বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে তেল কিনলে মূল্য পরিশোধ করা যাবে কীভাবে-এ প্রশ্নের উত্তরে অর্থনীতির গবেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিন ভাবে দাম পরিশোধ করা যেতে পারে। প্রথমত, আমরা এখন রাশিয়ায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের মতো পণ্য রপ্তানি করে থাকি। আমরা যে তেল কিনব সেই দাম রপ্তানি থেকে যে আয় হবে তা দিয়ে একটা সমন্বয় করা যেতে পারে।

’দ্বিতীয়ত-আমাদের রূপপুর পারমণবিক বিদুৎ কেন্দ্রের জন্য বড় ধরনের কেনাকাটা করতে হচ্ছে, সেই কেনাকাটার বিলের সঙ্গে তেল আমদানির বিল সমন্বয় করা যেতে পারে। আর শেষেরটি হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সম্মতি দিলে ডলারেও পেমেন্ট করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির বিল পরিশোধ করা কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে আমরা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করব কিনা? এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। রাশিয়া থেকে তেল কিনলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি বিরাগভাজন হয়, তাহলে এই পথে যাওয়া ঠিক হবে না।

’কেননা, এই দুই বড় বাজারে বাংলাদেশের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি। রাশিয়া থেকে তেল কেনা শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো যদি নাখোশ হয়, তারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি না করে বা কমিয়ে দেয় তাহলে বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে।’

এক হিসাব দিয়ে আহসান মনসুর বলেন, ‘রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কিনলে হয়তো আমাদের ৩০-৪০ কোটি ডলারের মতো সাশ্রয় হবে। কিন্তু রাশিয়া-ইউরোপ অখুশি হলে ৩৫-৪০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

‘তাই আমি মনে করি, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাড়াহুড়া না করে ভেবে-চিন্তে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সব দিক বিবেচনায় রাখতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা কিন্তু ভারতের মতো বড় দেশ নই। যুক্তরাষ্ট্র অনেক কিছুতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের অনেক বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানি আছে। যাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নির্ভর করে।

‘কিন্তু আমাদের কিন্তু সে রকম অবস্থা নেই। আমরা ছোট দেশ, ছোট অর্থনীতি। যে অর্থনীতির অনেক কিছুই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। তাই এই দুই দেশ নাখোশ হয়, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না।

‘যুক্তরাষ্ট্র যদি নিরব থাকলে আমরা ভারতের মতো রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারি, কিন্তু তারা চটে গেলে দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। সেই ঝুঁকি আমরা নেব কিনা-সেটাই এখন বড় বিষয়। মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র চটলে, ইইউও চটবে।’

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা বিনিময় (কারেন্সি সোয়াপ) নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। রাশিয়া, চীন ও ভারত—এই তিন দেশের সঙ্গে এমন হতে পারে। আমরা এসব দেশ থেকে আমদানি বেশি করি। তাহলে তারা আমাদের টাকা কী করবে? এ নিয়ে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়ার আর্থিক লেনদেনের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার কারণে সুইফট সিস্টেমের বাইরে গিয়ে চীনের মুদ্রা বা টাকা ও রুবলে লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও মস্কো ভাবছে। এটা সম্ভব। রাশিয়ায় আমাদের যে ১ বিলিয়ন ডলারের মতো রপ্তানি হয়, সেই রপ্তানি বিল রাশিয়ার মুদ্রা রূবলে নিলে, সেই রুবল দিয়ে আমরা তেলের দাম শোধ করতে পারি। আবার ডলার বা টাকা দিয়ে চীনের মুদ্রা ইউয়ান কিনে সেই ইউয়ান দিয়েও তেলের দাম পরিশোধ করা যেতে পারে।’

দেশের আরেক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারত রাশিয়া থেকে রুবলে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। সেটা সম্ভব হলে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজও রুবল-টাকায় হওয়া সম্ভব।

‘তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, সরকার টু সরকার বাণিজ্য হলে সেটা রুবল-টাকাতে হওয়ায় খুব একটা সমস্যা নেই। কিন্তু বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। কেননা, বেসরকারি উদ্যোক্তারা টাকা দিয়ে যেমন সহজেই ডলার কিনতে পারেন; রুবল তো সেভাবে পাবেন না।’

ভারতের রাষ্ট্রীয় তেল পরিশোধনকারী সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (এইচপিসিএল) সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের এপ্রিল-মে মাসে রাশিয়া থেকে মাত্র ৪৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের তেল কিনেছিল ভারত৷ আর চলতি ২০২২ সালের শুধু মে মাসেই ১৯০ কোটি ডলারের তেল কিনেছে ভারত৷

আগে বছরে চাহিদার মোট ২ শতাংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করত ভারত। এবার এপ্রিল-মে মাসে চাহিদার ১০ শতাংশ তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করেছে। যত সময় গড়াচ্ছে, ততই রাশিয়া থেকে তেল আনার পরিমাণও বাড়ছে৷ কারণ রাশিয়া সস্তায় তেল দিচ্ছে ভারতকে।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ভারত সফরে গিয়ে বাংলাদেশও যাতে ভারতের মতো সস্তায় রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারে, সেই রাস্তা বাতলে দিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে অনুরোধ করেছিলেন।

দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা আহসান মনসুর বলেন, ‘ইউরোপ-অ্যামেরিকার চোখরাঙানিকে ভারত ভয় না পেয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তার কারণ হলো- আয়তনে ও প্রভাবে ভারত অনেকটাই বড়৷ ভারতের বিশাল বাজার ধরতে সব দেশের কোম্পানি উদগ্রীব৷ ভারতের বাজার হারালে অনেক বহুজাতিক কোম্পানি রীতিমতো বিপাকে পড়বে৷’

‘অস্ত্র থেকে শুরু করে ভোগ্যপণ্য- সবকিছুর ক্ষেত্রেই ভারতের বাজার তাদের কাছে খুবই লোভনীয়৷ সেজন্য ভারত এই চাপকে উপেক্ষা করতে পারে।’

‘কিন্তু বাংলাদেশ পারে না, এটাই বাস্তব সত্য,’ বলেন আহসান মনসুর।

আরও পড়ুন:
রুশ তেল আমদানি ইস্যুতে বিশেষজ্ঞ দল আসছে
রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আনতে চান প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল ৯০ ডলারের নিচে
লোডশেডিং বিদায় সেপ্টেম্বরে: প্রতিমন্ত্রী
রাশিয়া থেকে গম আমদানির পথ খুলছে

মন্তব্য

জাতীয়
Bidens signature on the bill of 74 billion dollars

৭৪ হাজার কোটি ডলারের বিলে সই বাইডেনের

৭৪ হাজার কোটি ডলারের বিলে সই বাইডেনের হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ছবি: এএফপি
হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে বাইডেন বলেন, ‘আমেরিকার জনগণ জিতেছে এবং বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হেরেছে। এ বিল জলবায়ু ইস্যুতে সব সময়ের জন্য এগিয়ে যাওয়ার বৃহত্তম পদক্ষেপ।’

জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা ও করসংক্রান্ত ৭৪ হাজার কোটি ডলারের বিলটি সই করে আইনে পরিণত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কৌশলগত বড় জয় হলো ডেমোক্রেটিক পার্টির।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বিলটিতে সেই করেন বাইডেন। সে সময় তিনি বলেন, ‘ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট’ (মূল্যস্ফীতি হ্রাস আইন) নামের আইনটি কার্বন নিঃসরণ কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

আইনটিতে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প উৎসগুলোতে ৩৭ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে বাইডেন বলেন, ‘আমেরিকার জনগণ জিতেছে এবং বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হেরেছে।

‘এ বিল জলবায়ু ইস্যুতে সব সময়ের জন্য এগিয়ে যাওয়ার বৃহত্তম পদক্ষেপ।’

আইনে ৭৪ হাজার কোটি ডলারের প্যাকেজের মধ্যে ৪৪ হাজার কোটি ডলার নতুন করে ব্যয় করা হবে। ৩০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হবে ঘাটতি কমাতে।

বিলটি পাস হওয়াকে কংগ্রেসে এখন পর্যন্ত বাইডেনের সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তার দল ডেমোক্রেটিক পার্টির আশা, বিলটিকে আইনে পরিণত করার মধ্য দিয়ে মৌলিক প্রতিশ্রুতি পূরণে দলটি যে সক্ষম, সে বার্তা জনগণের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
জাপা চেয়ারম্যানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
চীনের নতুন সামরিক মহড়া ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশ বাঁচাতে রেকর্ড বিনিয়োগের বিল পাস
ভারি বৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাতিল ৯১২ ফ্লাইট
নিউ মেক্সিকোতে ৪ মুসলিম হত্যায় সন্দেহের কেন্দ্রে রুপালি ভক্সওয়াগন

মন্তব্য

জাতীয়
Bangladesh is not in crisis IMF

বাংলাদেশ সংকটে নেই: আইএমএফ

বাংলাদেশ সংকটে নেই: আইএমএফ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ সদরদপ্তরের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। ছবি: এএফপি
আইএমএফের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দ বলেন, ‘বাংলাদেশ কোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে নেই এবং বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর তুলনায় বেশ ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।’

বাংলাদেশ সংকটে নেই বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

চলমান বৈশ্বিক সংকটে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার শক্তি বাংলাদেশের আছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে যে ঋণ চেয়েছে, সে বিষয়ে অক্টোবরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এর সঙ্গে সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের যে দাম বাড়িয়েছে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দ এসব কথা বলেন।

ওই সময় আরও যুক্ত ছিলেন আইএমএফের পলিসি অ্যান্ড রিভিউ ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর উমা রামাকৃষ্ণান।

রাহুল আনন্দ বলেন, ‘বাংলাদেশের ঋণখেলাপি হওয়ার পথে যাওয়ার ঝুঁকি খুবই কম। দেশটির পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কা থেকে বেশ আলাদা।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে নেই এবং বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর তুলনায় বেশ ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।’

আইএমএফের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ তুলনামূলক অল্প, যা জিডিপির ১৪ শতাংশের মতো। সে কারণেই দেশটির ঋণখেলাপির পথে যাওয়ার ঝুঁকি কম। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করার কোনো কারণ নেই।’

আইএমএফের কাছে বাংলাদেশ সরকারের ঋণ আবেদনের প্রসঙ্গে রাহুল আনন্দ বলেন, “অনুরোধটি ‘স্বতঃপ্রণোদিত’। বাংলাদেশকে সহায়তা করতে আইএমএফ প্রস্তুত এবং তহবিল বিষয়ে নিয়মমাফিক নীতিমালা ও প্রক্রিয়া অনুসারে আইএমএফের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রোগ্রাম ডিজাইন বিষয়ে আলোচনা করছেন।

“অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে আইএমএফের বার্ষিক সভা হবে। সেখানে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।”

সম্প্রতি কয়েক দফায় ডলারের বিপরীতে টাকার বেশ খানিকটা অবমূল্যায়ন করেছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে রাহুল বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশই ডলারের বিপরীতে তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করেছে। বাংলাদেশও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে করেছে।’

‘যদিও বাংলাদেশের রিজার্ভ কমে এসেছে, তারপরও বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে দেশের চার থেকে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।’

‘তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে ঋণের সম্পর্ক নেই’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত একান্তই বাংলাদেশ সরকারের মন্তব্য করে আইএমএফের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বলেন, ‘এর সঙ্গে আইএমএফের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের চাওয়া ঋণ নিয়ে অক্টোবরে সিদ্ধান্ত হবে। এ অবস্থায় কোনো শর্ত দেয়ার প্রশ্নই আসে না।’

তিনি বলেন, ‘চলমান বৈশ্বিক সংকটে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার শক্তি বাংলাদেশের আছে।’

আইএমএফের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশ এই অঞ্চলের অন্য কোনো দেশের মতো সংকটে নেই, তবে চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে অর্থনীতি।

‘চলমান বৈশ্বিক সংকটে অর্থনীতিতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা কাটিয়ে ওঠার মতো শক্তি বাংলাদেশের রয়েছে।’

আইএমএফের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসেছিল। ৯ দিনের ওই সফরে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেই সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইএমএফের কাছ থেকে তিন কিস্তিতে সাড়ে ৪ বিলিয়ন (প্রতি কিস্তিতে দেড় বিলিয়ন) ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
মূল্যস্ফীতি-ডলার সংকট: আইএমএফের সহায়তা চায় বাংলাদেশ
রাজস্ব আয় বাড়াতে পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে আইএমএফ
খেলাপি ঋণ নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগ
ভর্তুকির চাপ কমাতে বলবে আইএমএফ
খাদ্যের আগুনে বেশি ‘পুড়বে’ গরিব দেশগুলো: আইএমএফ

মন্তব্য

জাতীয়
Low interest loan opportunities on foreign currency investments

বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগে আরও কম সুদে ঋণের সুযোগ

বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগে আরও কম সুদে ঋণের সুযোগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, লাইবর রেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ হারে বার্ষিক সুদে ব্যবসায়ীদের ঋণ দেয়া যাবে। আগে এই সুদ হার ছিল সাড়ে ৩ শতাংশ।

বিদেশি মুদ্রায় স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে কম সুদে ঋণ নিতে পারবেন রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তারা।

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ।

সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা বিবেচনা করে বার্ষিক সব খরচের সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগে সুদ হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, লাইবর রেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ হারে বার্ষিক সুদে ব্যবসায়ীদের ঋণ দেয়া যাবে। আগে এই সুদ হার ছিল সাড়ে ৩ শতাংশ।

লাইবর রেট হচ্ছে- ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাংক অন্য কোনো ব্যাংককে যে সুদে ঋণ দেয় তার ৩ মাসের হার। বর্তমানে তা এসওএফআর নামে পরিচিত।

নির্দেশনায় বলা হয়, বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রার সুদ হারের সঙ্গে বার্ষিক সুদ সবোর্চ্চ ৩ শতাংশ যোগ করতে পারবে ব্যাংকগুলো।

এছাড়া ডলারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লাইবর রেট যতদিন কার্যকর রয়েছে ততদিন তা অনুসরণ করা যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রার সুদ হারকে ‘বেঞ্চমার্ক রেট’ হিসেবে ধরা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বল্প মেয়াদে ট্রেড ফাইন্যান্সের বেলায় ডলারের ক্ষেত্রে লাইবর রেট (ইংল্যান্ডের আন্তঃব্যাংকের ৩ মাসের গড় সুদ হার) অনুসরণ করা যাবে।

এখন বেঞ্চমার্ক রেফারেন্স রেট ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি আমদানি-রপ্তানির সময় অর্থায়নে এই রেটের সঙ্গে ৩ শতাংশ সুদ পাবে।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে আরও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
‘সুইস ব্যাংকের কাছে অর্থ পাচারের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ’
টাকা সাদা করার সুযোগ প্রচারে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ
দুই মাসের মধ্যে কাটবে অর্থনীতির চাপ: গভর্নর
ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনে সংশোধনী আনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

মন্তব্য

জাতীয়
The small dollar is losing its breath

ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটা ডলার হারাচ্ছে দম

ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটা ডলার হারাচ্ছে দম
বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় দর কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যাংকগুলো আগের দামেই নগদ ডলার বিক্রি করছে। খোলাবাজারে গত সপ্তাহে ডলারের দর এক লাফে ১২০ টাকায় উঠেছিল। বৃহস্পতিবার তা এক টাকা কমে বিক্রি হয় ১১৯ টাকায়।

পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে চলা ডলারের তেজ আরও কমেছে। খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে মঙ্গলাবার প্রতি ডলারের জন্য ১১৩ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১১৩ টাকা ৩০ পয়সা নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা; কিনেছেন ১১২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১১২ টাকা ৬০ পয়সায়।

সোমবার ছিল জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিন। তার আগের দিন রোববার প্রতি ডলারের জন্য ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা নিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা; কিনেছিলেন ১১৪ টাকায়।

বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় দর কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যাংকগুলো আগের দামেই নগদ ডলার বিক্রি করছে।

খোলাবাজারে গত সপ্তাহে ডলারের দর এক লাফে ১২০ টাকায় উঠেছিল। বৃহস্পতিবার তা এক টাকা কমে বিক্রি হয় ১১৯ টাকায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজারে ডলারের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। ক্রেতার সংখ্যাও কম। তাই দাম নিম্নমূখী।’

তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে দর ১২০ টাকায় ওঠার পর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তৎপরতা বেড়ে যায়। সে কারণে ভয়ে কেউ ডলার কিনতে আসছেন না। কিছু লেনদেন হচ্ছে খুবই গোপনে।’

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক রোববার ১০৪ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক থেকে কিনতে লেগেছে ১০৪ টাকা ২৫ পয়সা। বেসরকারি সিটি ব্যাংক প্রতি ডলারের জন্য নিয়েছে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। ইস্টার্ন ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৭ টাকায়। এসআইবিএল নিয়েছে ১০৫ টাকা।

গত সপ্তাহের মতো ৯৫ টাকায় মঙ্গলবার ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটাকে আন্তব্যাংক বা ইন্টারব্যাংক রেট বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এই রেট গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে কার্যত অচল।

ব্যাংকগুলো এখনও এই দরের চেয়ে ৯ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে। আবার প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে ১০৪-১০৫ টাকা দিয়ে। আমদানি ঋণপত্র খুলতে নিচ্ছে ১০৪-১০৫ টাকা।

ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটা ডলার হারাচ্ছে দম

বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে আমেরিকান মুদ্রা ডলারের দৌড় থামাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দেড় মাসে (১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট) প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এরপরেও বাজারে ডলারের সংকট কাটছে না।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আশার কথা শুনিয়ে বলেছেন, শিগগিরই ডলারের সংকট কেটে যাবে। বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ইতোমধ্যে কার্ব মার্কেটে বেশ খানিকটা কমেছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণেই বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে। সেই চাহিদা পূরণের জন্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজারে ডলার ছাড়া হচ্ছে। আসলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ এটি। যখন বাজারে ডলারের ঘাটতি দেখা দেবে তখন ডলার বিক্রি করা হবে। আবার যখন সরবরাহ বেশি হবে তখন কেনা হবে।

‘ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে রিজার্ভ পরিস্থিতিও সব সময় বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। ঢালাও বিক্রি করলে রিজার্ভ কমে আসবে। সেক্ষেত্রে অন্য সমস্যা হবে। সে কারণেই ভেবেচিন্তে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি বিক্রি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তাণ্ডবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সব দেশের মতো আমাদেরও আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। সে কারণে রিজার্ভের ওপরও চাপ পড়েছে।

‘তবে সুখের খবর হচ্ছে, আমদানি কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্সও বাড়ছে। শিগগিরই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

খোলাবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকির কারণে অনেক ব্যবসায়ী ডলার কেনাবেচা করতে ভয় পাচ্ছেন।

খোলাবাজারে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন মানি চেঞ্জারে অভিযান চালায় বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এ পরিদর্শন কার্যক্রম চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাশাপাশি অবৈধভাবে ডলার মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ডলার কারসাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণ করা হয়েছে। এরপরও বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা
দিনে ৪ কোটি ডলার বিক্রি, তবু বাগে আসছে না
ডলার কারসাজি: ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ
আরও ৩০ পয়সা দর হারাল টাকা
খোলাবাজারে ডলারের দাম রেকর্ড ১১৫ টাকা

মন্তব্য

জাতীয়
Commerce Minister orders action against those involved in market manipulation

বাজার কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

বাজার কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর
টিপু মুনশি বলেন, ‘একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ আর নেই। বাজার যাতে প্রতিযোগিতামূলক থাকে সেজন্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজি বা অনিয়ম করে বাজার প্রভাবিত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রতিযোগিতা কমিশন।’

অনিয়ম বা কারসাজি করে বাজারে অস্থিশীল পরিবেশ তৈরির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন আয়োজিত ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণে অংশীজনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রী এ নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি প্রতিযোগিতা কমিশনকে নজরদারি বাড়াতে বলেছেন।

টিপু মুনশি বলেন, ‘এখন আর একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ নেই। বাজার যাতে প্রতিযোগিতামূলক থাকে সেজন্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজি বা অনিয়ম করে বাজার প্রভাবিত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রতিযোগিতা কমিশন। দেশের মানুষ ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে পারলে তবেই কমিশন গঠনের উদ্যোগ স্বার্থক হবে।’

ভোক্তাদের সচেতন করতে কমিশনকে জেলা, উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার চালানোর পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কমিশনের সদস্য ড. এ এফ এম মনজুর কাদির ও নাসরিন বেগম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কমিশনের সদস্য জি এম সালাউদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর বিভাগের ডিআইজি আবদুল আলীম মাহমুদ, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম, রংপুর উইমেন চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট বেগম আখতার জাহান ও রংপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু।

এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী রংপুর পৌরসভা আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ‘রংপুরে বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামের স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

আরও পড়ুন:
এবার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৭ বিলিয়ন ডলার
বাণিজ্যমন্ত্রীর নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, যুবক রিমান্ডে
ঈদের আগে ১ কোটি পরিবারের হাতে টিসিবির পণ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশে বিনিয়োগের সময় এখনই: বাণিজ্যমন্ত্রী
ভারত থেকে গম আমদানিতে বাধা নেই: মন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে