‘ছাত্রদল নেতা’ থেকে জঙ্গি, পরে গ্রেনেড হামলায়

র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. ইকবাল। ছবি: নিউজবাংলা

‘ছাত্রদল নেতা’ থেকে জঙ্গি, পরে গ্রেনেড হামলায়

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের হামলায় যারা গ্রেনেড ছুড়ে মেরেছেন, তাদের একজন মোহাম্মদ ইকবাল ধরা পড়েছেন ১৭ বছর পর। ২০১৮ সালের আগস্টে বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া এই হরকাতুল জিহাদ নেতা মালয়েশিয়া থেকে ফিরে উত্তরার দিয়াবাড়িতে আত্মগোপন করেন। তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে বিএনপিপন্থী সংগঠন ছাত্রদলের নেতা ছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

প্রায় দেড় যুগ আগে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়ার আড়াই বছর পর গ্রেপ্তার মো. ইকবাল জঙ্গি সংগঠন হরতাকুল জিহাদের সদস্য বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু অবশ্য ছাত্রদল দিয়ে। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি যোগ দেন ছাত্রসংগঠনটিতে।

১৯৯৪ সালে ঝিনাইদহ কে সি কলেজ ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে তিনি সদস্য নির্বাচিত হন। তবে পড়াশোনা শেষ না করেই পরের বছর পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়।

দেশে ফেরেন ১৯৯৮ সালে। এসে ফোনের দোকান দেন ঝিনাইদহে। এলাকার এক উগ্রবাদীর সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর ২০০১ সালে যোগ দেন জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদে।

ওই বছরই পরিচয় হয় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের সঙ্গে। একপর্যায়ে তিনি ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তার।

র‌্যাব জানাচ্ছে, শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা চালাতে পরিকল্পনার যে বৈঠকগুলো হয়েছে, তার কয়েকটিতে উপস্থিত ছিলেন ইকবাল। হামলার সময় তিনি গ্রেনেড চার্জও করেন।

ওই হামলায় শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও মারা যান ২৪ জন। কয়েক শ নেতা-কর্মী আহত হন।

গ্রেনেড হামলা
২১ আগস্টে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের জনসভায় শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা হয়। ফাইল ছবি

র‌্যাব বলছে, হামলার পর পর নিজের জেলা ঝিনাইদহে চলে যান ইকবাল।

বিএনপি শাসনামলে সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তারে কোনো চেষ্টাই করেনি। নিজের পরিচয় লুকাতে তিনি কখনও রিকশার মিস্ত্রি, কখনও নিরাপত্তাকর্মী, কখনও দিনমজুরের বেশ ধারণ করে থাকতেন।

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলাটির নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। ওই বছরে ৯ জুন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে প্রতিবেদন দেয়া হয়।

সেই বছরই আবার শ্রমিক হিসেবে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান ইকবাল। সেখানে প্রথমে সেলিম ও পরে জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করেন তিনি।

গত নভেম্বরে অবৈধ শ্রমিক হিসেবে চিহ্নিত হলে তাকে ফেরত পাঠায় মালয়েশিয়া সরকার।

র‌্যাব বলছে, দেশে এসে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করে আবার সমমনা উগ্রবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন ইকবাল। আর এই চেষ্টা করতে গিয়েই গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়েন তিনি।

র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন সংবাদ সম্মেলন করে জানান, মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকাতেই ধরা পড়েছেন ইকবাল।

ইকবালের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সকালেই এসএমএস করে গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি। পরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হয়।

তবে গ্রেনেড হামলার পর চার বছর আর গত নভেম্বর দেশে ফিরে ইকবাল কার ছত্রচ্ছায়ায় ছিলেন, তিনি অবৈধ শ্রমিক হিসেবে কীভাবে মালয়েশিয়ায় গেলেন, সেসব বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানতে পারেনি র‌্যাব।

মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, তারা ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে যেটুকু তথ্য পেয়েছেন, সেগুলোই জানিয়েছেন। আরও যেসব জিজ্ঞাসা আছে, সেগুলো কারাগারে পাঠানোর পর জানার চেষ্টা করা যাবে।

যা বলছেন ইকবালের এলাকার মানুষ

ইকবালের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামে।

তিনি ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন জানিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আজম আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেখ হাসিনার সমাবেশে বুমা মেরে বাড়ি চলে আসে। এরপর বাড়িই পলাইয়ে ছিল। ওই ঘটনার কইদিন পর র‌্যাব আসে অভিযান চালায়। একটুর জন্য ধরতে পারিনি। তারপর ও পলায়ে যায়।

‘গ্রামে তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। মালয়েশিয়া থেকে টাকা পাঠাত। সেই টাকা দিয়ে বাড়ি পাকা বাড়ি করেছে।’

বাড়িতে কি আসতেন ইকবাল?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পালিয়ে পালিয়ে হয়ত আসত। তবে আমরা দেখিনি।’

৯০ দশকের ছাত্রদলের একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ইকবালকে চিনতে পারেননি। তবে একজন ধারণা করছেন, তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী থাকতে পারেন।

বিএনপি সংশ্লিষ্ট যাদের সাজা

বিএনপি শাসনামলে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার অংশ হিসেবে চালানো এই গ্রেনেড হামলায় যাদের সাজা হয়েছে, তাদের মধ্যে হরকাতুল জিহাদের জঙ্গি সদস্য ছাড়াও রয়েছেন বেশ কয়েকজন বিএনপির নেতা।

দণ্ডিত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ওই সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই পলাতক মাওলানা তাজউদ্দিন, হানিফ পরিবহনের মালিক বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মোহাম্মদ হানিফ।

মামলাটিতে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন মোট ১৯ জন। সমসংখ্যক আসামি পেয়েছেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও।

এদের মধ্যে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকলে তার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা আরিফুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট নিজে গ্রেনেড ছুড়েছিল ইকবাল: র‌্যাব
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নবীনগর-পাটুরিয়া সড়ক চার লেনে উন্নীতর সিদ্ধান্ত

নবীনগর-পাটুরিয়া সড়ক চার লেনে উন্নীতর সিদ্ধান্ত

সাভারের নবীনগর থেকে পাটুরিয়া সড়কটি চার লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফাইল ছবি

জাপান সরকার এতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাবলিক - প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সাভারের নবীনগর থেকে পাটুরিয়া সড়কটি চার লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জাপান সরকার এতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাবলিক - প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বুধবার বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্লাটফর্মের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহের কথা জানিয়েছে জাপান সরকার। অনলাইনে বৈঠকটির আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস,পিপিপি অফিসের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ, ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মি. নাওকী, জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও জাপান সরকারের পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক ভাইস মিনিষ্টার নোমুরা মাসাফুমি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পদ্মা সেতু চালু হলে নবীনগর থেকে পাটুরিয়া সড়কে চাপ আরও বাড়বে। ফলে সড়কটিকে চার লেন এবং এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে,জাপানের পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক ভাইস মিনিষ্টার বলেন, তারা এ প্রকল্পে সহায়তা করতে চায়। তবে তার আগে সমীক্ষা চালানোর কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী পিপিপি অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নবীনগর –পাটুরিয়া সড়কটি বর্তমানে দুই লেনের। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়কের গুরুত্ব আরও বাড়বে। ফলে একে চার লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়।'

এ প্রেক্ষাপটে আমরা বলেছি সড়কটিকে চার লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করতে হলে প্রচুর অর্থের দরকার, যা বাংলাদেশ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রস্তাবে রাজি হয়ে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে জাপান সরকার।'

২০৩০ সালে এর কাজ শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী আরেক কর্মকর্তা জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের আধুনিকায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণেও সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। দেশটির মিৎসুবিসি কর্পোরেশন এ প্রকল্পটির উন্নয়নে কাজ করবে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি ফ্লাটফর্মের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মূলত দু’দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ ফ্লাটফর্ম গঠন করা হয়।

গত চার বছর ধরে নিয়মিত এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। করোনার কারণে এবার ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে এই বৈঠকটি জাপানে অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট নিজে গ্রেনেড ছুড়েছিল ইকবাল: র‌্যাব
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় ইব্রাহিম খালেদ

মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় ইব্রাহিম খালেদ

গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংকপাড়ার কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে ইব্রাহিম খালেদের জানাজা। ছবি: নিউজবাংলা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে ইব্রাহিম খালেদ মারা যান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংকপাড়ায় দাফন করা হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা হয়। রাত ৯টার দিকে ব্যাংকপাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে তাকে দাফন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে ইব্রাহিম খালেদ মারা যান।

ঢাকা থেকে তার মরদেহ গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংকপাড়ায় নেয়া হয় সন্ধ্যা ৭টার দিকে। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাসহ সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

তার জানাজায় অংশ নেন বিচারপতি খোন্দকার মুছা খালেদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফার রহমান বাচ্চু, পৌর মেয়র কাজী লিয়াকত আলীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ইব্রাহিম খালেদকে ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাকে বিএসএমএমইউতে স্থানান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট নিজে গ্রেনেড ছুড়েছিল ইকবাল: র‌্যাব
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান ভারতের বিমান বাহিনী প্রধানের

সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান ভারতের বিমান বাহিনী প্রধানের

বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সফররত ভারতীয় বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভদৌরিয়া।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সফররত ভারতীয় বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভদৌরিয়া।

বাংলাদেশ ও ভারতের বিমান বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক আরও জোরদারের আহবান জানান দুই দেশের বিমান বাহিনীর প্রধানরা।

বুধবার বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সফররত ভারতীয় বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভদৌরিয়া।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

কুশল বিনিময় শেষে বাংলাদেশ সফরে আসায় ভারতের বিমান বাহিনী প্রধানকে ধন্যবাদ জানান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত।

এর আগে এয়ার চীফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভদৌরিয়া বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে এসে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার দেয় বাহিনীর একটি চৌকস কন্টিনজেন্ট। এ সময় গার্ড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন তিনি।

২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন ভারতীয় বিমান বাহিনী প্রধানসহ দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল। এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত এবং বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট নিজে গ্রেনেড ছুড়েছিল ইকবাল: র‌্যাব
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

হাইকোর্টের ভুয়া জামিননামা করে ফাঁসলেন বগুড়ার যুবলীগ নেতা

হাইকোর্টের ভুয়া জামিননামা করে ফাঁসলেন বগুড়ার যুবলীগ নেতা

বগুড়া সদর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

বগুড়া সদর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর ইসলামসহ ৩০ জন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে জামিনের ভুয়া নথি তৈরি করেন। ওই দিন আদালত থেকে এমন কোনো আদেশ দেয়নি। এমনকি সেখানে যেসব আইনজীবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাও ভিত্তিহীন। 

একটি মামলায় ভুয়া আগাম জামিননামা তৈরির ঘটনায় বগুড়া সদর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর ইসলামসহ ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

সাত দিনের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করতে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করতে বগুড়ার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

ভুয়া জামিননামার বিষয়টি বুধবার ধরা পড়ার পরপরই বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারান্নুম নিউজবাংলাকে জানান, সকালে একজন আইনজীবী হাইকোর্টের ওই বেঞ্চে এসে একটি মামলায় ওই ৩০ আসামির জামিন হয়েছে কিনা জানতে চান। আদালতের বেঞ্চ অফিসার এ সময় তাকে জানান, সেখান থেকে এ ধরনের কোনো আগাম জামিন দেয়া হয়নি।

বেঞ্চ অফিসার জামিন আদেশের কোনো কপি আছে কি না জানতে চাইলে ওই আইনজীবী মোবাইলে কপির একটি ছবি দেখান। এরপর বেঞ্চ অফিসার বিষয়টি আদালতকে জানালে ভুয়া জামিননামার বিষয়টি ধরা পড়ে। আদালত এরপর ৩০ আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়।

এ মামলার বিষয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের বেঞ্চের উল্লেখ করে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জামিন পাওয়ার দাবি করেন বগুড়ার যুবলীগ নেতা আমিনুর ইসলামসহ ৩০ আসামি। তবে ওই দিন এই আদালত থেকে এমন কোনো আদেশ হয়নি। এমনকি সেখানে যেসব আইনজীবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাও ভিত্তিহীন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বগুড়ায় মোটর মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ১০ ফেব্রুয়ারি পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটিতে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের ছোট ভাই মশিউল আলম দীপন বাদী হয়ে উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর ইসলামকে প্রধান করে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। ওই মামলাতেই ৩৩ আসামির মধ্যে ৩০ জনের জামিননামার ভুয়া নথি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে আমিনুর ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে হাজির হয়ে ১৮ নম্বর কোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন নিয়েছি।’

তবে নিজের পক্ষের আইনজীবীর নাম জানাতে রাজি হননি আমিনুর। পরে তার মোবাইল ফোনে আবারও যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন ‍উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা এভাবে ভুয়া জামিননামা তৈরি করেছেন, তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাহলে এটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট নিজে গ্রেনেড ছুড়েছিল ইকবাল: র‌্যাব
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডিস টিপু’ গ্রেপ্তার

মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডিস টিপু’ গ্রেপ্তার

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ‘ডিস টিপু’

ডিস টিপু এলাকায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, দলবলসহ জনসমাগমে হামলা, মারধর করে মানুষকে আহত করা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হুমকিধমকি প্রদান ইত্যাদি অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত ছিলেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও ঢাকা উদ্যান হাউজিংসহ আশপাশের এলাকার মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম ‘ডিস টিপু’। তাকে আইনের আওতায় আনতে অনেক দিন ধরে র‌্যাব-২-এর গোয়েন্দা নজরদারি ছিল।

মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টায় র‌্যাব-২-এর আভিযানিক দল মোহাম্মদপুর মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেড এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি ডিস টিপুকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনাটি নিশ্চিত করে র‍্যাব-২ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ডিস টিপু মূলত ক্যাবল টিভির সংযোগ বা ডিস ব্যবসা করার মাধ্যমে এলাকায় পরিচিত হয়ে ওঠেন।

২০১৪ সালে তাকে অস্ত্রসহ পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে এবং অবৈধ অস্ত্রের জোরে তিনি অপরাধ করে সহজেই পার পেয়ে যান।

তিনি এলাকায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, দলবলসহ জনসমাগমে হামলা, মারধর করে মানুষকে আহত করা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হুমকিধমকি প্রদান ইত্যাদি অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত ছিলেন।

এইসব অপরাধে তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো তার অপরাধের খুব সামান্য অংশ।

তিনি আরও জানান, ডিস টিপু এলাকার কোমলমতি শিশু-কিশোরদের কৌশলে মাদকে আসক্ত করে অপরাধের পথে নিয়ে আসতেন এবং কিশোর গ্যাং গঠন করে তাদের মাধ্যমে এলাকায় মাদক কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণ করতেন। ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি কিশোর গ্যাং ঢাকা উদ্যান ও তার আশপাশের এলাকায় তার পৃষ্ঠপোষকতায় মাদকের কারবার করে আসছে। তিনি বেড়িবাঁধ এলাকায় অধিকাংশ ছিনতাইয়ের জন্য দায়ী । আইনশৃংখলা বাহিনীর (বিশেষ করে র‌্যাব) নাম ভাঙ্গিয়েও তিনি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অপরাধ কর্ম করে আসছিলেন।

এসব কাজে তার সব সময়ের সঙ্গী তার কথিত ভাতিজা সাদ্দাম ওরফে সিআইডি সাদ্দাম র‌্যাবের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করার সময় গত বছরের ৯ নভেম্বর একটি সুইস নাইফ ও প্রায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ র‌্যাব-২ গ্রেপ্তার করে।

টিপুকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তুরাগ এলাকার গাংচিল বাহিনীর লম্বু মোশাররফের সঙ্গে তার ব্যাপক সখ্য রয়েছে।

টিপুর নামে মোহাম্মদপুর থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার তাকে কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ৭৭৩ পিস ইয়াবা, দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট নিজে গ্রেনেড ছুড়েছিল ইকবাল: র‌্যাব
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

জাল টাকার মামলায় শাহেদের বিচার শুরু

জাল টাকার মামলায় শাহেদের বিচার শুরু

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদের বিরুদ্ধে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় প্রতারণাসহ রয়েছে অন্তত ৩০টি মামলা। ফাইল ছবি

জাল টাকা ছাড়াও করোনা চিকিৎসার নামে প্রতারণা, জালিয়াতি, অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ অন্তত ৩০টি মামলা রয়েছে সাহেদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে একটি অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে তার।

করোনাভাইরাস চিকিৎসায় প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে এবার জাল টাকার মামলায় বিচার শুরুর নির্দেশ নিয়েছে আদালত।

বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. রবিউল আলম এ নির্দেশ দেন। মামলাটিতে অপর আসামি সাহেদের সহযোগী মাসুদ পারভেজ।

এই মামলায় অভিযোগ গঠনের পর আগামী ১৫ মার্চ সাক্ষ নেয়ার দিন রেখেছেন বিচারক।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন হাওলাদার নিউজবাংলাকে জানান, আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সাহেদ ও পারভেজকে অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।

আসামিপক্ষের আইনজীবী দবির উদ্দিন অভিযোগ গঠনের জন্য সময় চেয়ে জামিন আবেদন করেন। বিচারক উভয় আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ রাখেন।

গত বছরের ১৫ জুলাই র‌্যাব-১-এর একটি দল উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের সাহেদের একটি অফিসে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ৫০০ টাকার ২৯২টি জাল নোট, একটি স্যুটকেস, একটি এটিএম কার্ড উদ্ধার করে।

অভিযানের রাতেই জাল টাকা রাখার দায়ে সাহেদ ও পারভেজের বিরুদ্ধে র‍্যাব-১ কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

মামলাটির তদন্ত শেষে ১ নভেম্বর আসামি দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

মামলার আগেই অবশ্য সাহেদ ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাপাসিয়ার বরুন বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পারভেজকে। পর দিন ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে সাহেদকেও গ্রেপ্তার করে র‌্যাবের একটি দল। পরে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে আসা হয় ঢাকায়।

জাল টাকা ছাড়াও করোনা চিকিৎসার নামে প্রতারণা, জালিয়াতি, অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ অন্তত ৩০টি মামলা রয়েছে সাহেদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে একটি অস্ত্র মামলায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট নিজে গ্রেনেড ছুড়েছিল ইকবাল: র‌্যাব
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

আরও ৩০ হাজার টন সার কেনার সিদ্ধান্ত

আরও ৩০ হাজার টন সার কেনার সিদ্ধান্ত

সংকট মোকাবিলায় আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফাইল ছবি।

ক্রয় কমিটির বৈঠকে ৪৪০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট চারটি দরপ্রস্তাবের অনুমোদনও দেয়া হয়। বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ।

আপতকালীন সংকট মোকাবিলায় আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি– কাফকো থেকে এ সার কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ৯০ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত দর প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকে ৪৪০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট চারটি দরপ্রস্তাবের অনুমোদনও দেয়া হয়।

এর মধ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুটি। অবশিষ্ট দুটি হলো শিল্প মন্ত্রণালয় ও সড়ক জনপথ বিভাগের।

বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ।

তিনি জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সরাসরি কাফকো থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন সার ক্রয় করবে। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৩৫৬ ইউএস ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯০ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

বৈঠকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুটি দরপ্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে একটি বাংলাদেশ লোকজ কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর ভবন সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো নির্মাণ। এটি তৈরিতে খরচ হবে ৮৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আতাউর রহমান খান ও মাহবুব ব্রাদার্স যৌথভাবে এ কাজ পেয়েছে।

অপরটি হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন ভবন নির্মাণসংক্রান্ত। এতে খরচ হবে প্রায় ৮১ কোটি টাকা। তাহের ব্রাদার্স ও হোসেন লিমিটেডকে এ কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের হাসাড়া পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণ সংক্রান্ত দরপ্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি।

১৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে মীর আখতার হাসেন কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে এ কাজে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট নিজে গ্রেনেড ছুড়েছিল ইকবাল: র‌্যাব
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg