২১ আগস্ট নিজে গ্রেনেড ছুড়েছিল ইকবাল: র‌্যাব

২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. ইকবাল। ছবি: নিউজবাংলা

২১ আগস্ট নিজে গ্রেনেড ছুড়েছিল ইকবাল: র‌্যাব

র‌্যাব প্রধান বলেন, ‘ইকবাল জানিয়েছে, মুফতি হান্নানের (নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা) নির্দেশে সে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। হামলার জন্য মুফতি হান্নান তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল। সে আরও জানায়, হামলার সময় সে মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়েছিল।’

২১ আগস্টে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের জনসভায় সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে মো. ইকবাল নিজের হাতে গ্রেনেড ছুড়েছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এ ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন এসে এ কথা বলেন বাহিনীটির প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, ইকবাল জানিয়েছে, মুফতি হান্নানের (নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা) নির্দেশে সে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। হামলার জন্য মুফতি হান্নান তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল।

সে আরও উল্লেখ করে যে, হামলার সময় সে মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়েছিল। ঘটনার পর সে ঝিনাইদহে চলে যায়। সেখানেই আত্মগোপনে অবস্থান করতে থাকে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য বেঁচে যান শেখ হাসিনা। তবে নিহত হন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেগম আইভি রহমানসহ দলের ২৪ জন নেতা-কর্মী।

নানা ঘটনাপ্রবাহের পর এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়ে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় দেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে হুজির সদস্য মো. ইকবাল পলাতক ছিলেন।

২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় মোট ৪৯ জন আসামি ছিলেন। যাদের মধ্যে ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন সাজার রায় দেয়া হয়।

এদের মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবর এবং আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৩১ জন কারাগারে। এ ছাড়া তারেক রহমান এবং হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ জনকে মামলার নথিতে পলাতক দেখানো হয়েছিল। বাকি তিনজনের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে।

আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর আবু হোমাইরা ওরফে পীরসাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আবু বকর ওরফে সেলিম হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ, মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক) এবং রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)।

আলোচিত এ হামলার তদন্ত নিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় প্রশ্ন উঠেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে। জজ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে গ্রেনেড হামলার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়ায় ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই হামলার ঘটনায় পুনরায় তদন্ত হয়।

সে তদন্তে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান এবং তৎকালীন বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর নাম আসে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আবারও তদন্ত হয়।

ওই তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বেশ কয়েকজন পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এবং পুলিশের সাবেক তিনজন আইজিপির নাম আসে। তদন্তে বেরিয়ে আসে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পরীক্ষা শুরুর দাবি মানা না হলে রোববার কঠোর কর্মসূচি

পরীক্ষা শুরুর দাবি মানা না হলে রোববার কঠোর কর্মসূচি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এলে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবারের মধ্যে স্থগিত পরীক্ষা নেয়ার লিখিত নোটিশ প্রকাশ না করা হলে রোববার থেকে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরুর দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলন স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে কর্মসূচি থেকে আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া না হলে এবং শনিবারের মধ্যে স্থগিত পরীক্ষা নেয়ার লিখিত নোটিশ প্রকাশ না করা হলে রোববার থেকে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা ।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে একই দাবিতে শাহবাগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল থামিয়ে দেয় পুলিশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে সকালে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে শিক্ষার্থীদের থামিয়ে দেয়।

ওই সময় শিক্ষার্থীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে পরীক্ষা চালুর দাবিতে ‘এক শিক্ষায় দুই নীতি চলবে না’, ‘শিক্ষা নিয়ে টালবাহানা চলবে না চলবে না’, ‘সাত কলেজের জয়ের মালা আমাদের কেন অবহেলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এ সময় মিছিলের মাঝখান থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়৷ তবে পুলিশের দাবি, এরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। এরা বিইউপির শিক্ষার্থী৷

আমানুল্লাহ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘করোনা কি শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য, সাত কলেজের জন্য না? আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে এখানে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তিন বছর অনার্স চতুর্থ বর্ষে। আমরা এটির শেষ চাই।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আদায় করেছে তাদের অধিকার। কিন্তু আমরা আন্দোলন করিনি, তাই আমাদের পরীক্ষা সচল করা হচ্ছে না। তাই আমরা আজকে বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি।’

পুলিশের রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের দাবি যৌক্তিক৷ পরীক্ষার জন্য আন্দোলন নজিরবিহীন। আপনারা যাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যারের সাথে দেখা করতে পারেন, সে ব্যবস্থা আমাদের পক্ষ থেকে করা হবে।’

এ সময় তিনি আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেয়ারও আশ্বাস দেন।

পুলিশের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা পাবলিক লাইব্রেরির সামনে থেকে তাদের অবস্থান সরিয়ে নিলেও ফের শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের আটক সহপাঠীদের ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত এবং আগামী ৫ মার্চের মধ্যে স্থগিত হওয়া দুটি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা থানার পাশে অবস্থান নিয়ে পরীক্ষা চালু ও আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন৷ একপর্যায়ে পুলিশ এসে বাঁশি ফুঁ দিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়।

এর আগে শাহবাগে জড়ো হওয়ার চেষ্টাকালে পুলিশ অন্তত ১০ শিক্ষার্থীকে আটক করে। তাদের মধ্যে সাতজনের নাম জানা গেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৯ সালের দ্বিতীয় বর্ষ ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষা ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হয়। পরীক্ষা চলার কথা ছিল ২৩ মার্চ পর্যন্ত।

আর ২০১৯ সালের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা গত ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়।

২২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব পরীক্ষা স্থগিত রাখা হচ্ছে।

তবে ২৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরুর সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত হয়ে যাওয়া পরীক্ষাও শুরু হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্থগিত হয়ে যাওয়া পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশ নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

বনানীতে ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত

বনানীতে ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত

বনানী থানার উপপরিদর্শক ইয়াসিন হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, বুধবার রাতে বনানীর স্টার কাবাবের পাশ চার থেকে পাঁচ জন যুবক ১৪ বছর বয়সি শাকিলের বুকে ছুরিকাঘাত করে। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

রাজধানীর বনানীতে ছুরিকাঘাতে মো. শাকিল নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে দশটার দিকে বানানী স্টার কাবাবের পাশের রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১১টায় সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বনানী থানার উপপরিদর্শক ইয়াসিন হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, বুধবার রাতে বনানীর স্টার কাবাবের পাশ চার থেকে পাঁচ জন যুবক ১৪ বছর বয়সি শাকিলের বুকে ছুরিকাঘাত করে। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নিহতের বাবা বনানী থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শাকিলের বাবা জসিম জানান, কড়াইল বস্তিতে থাকেন তারা। তাদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। শাকিল বনানীর স্থানীয় একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গতকাল রাতে কয়েকজন যুবক তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

৯৯৯-এ ফোন: ডুবে যাওয়া জাহাজের ১১ নাবিককে উদ্ধার

৯৯৯-এ ফোন: ডুবে যাওয়া জাহাজের ১১ নাবিককে উদ্ধার

রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুয়াশার কারণে দিকভ্রান্ত হয়ে সেতু ৬ নামে একটি জাহাজ নোঙর করা এমভি বোরহান সরদার ১ জাহাজকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ধাক্কায় তাদের জাহাজটির তলা ফেটে পানি উঠতে শুরু করে।

মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়া জাহাজের একজন নাবিকের ৯৯৯-এ ফোন কলে নদীতে ভাসমান অবস্থায় ১১ নাবিককে উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ।

৯৯৯-এর পুলিশ প‌রিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, এমভি বোরহান সরদার-১ নামে একটি সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী লাইটার জাহাজ ১১ জন নাবিকসহ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল বুধবার সকালে।

মেঘনা নদীর লক্ষ্মীপুরের রামগতি গজারিয়ার চর এলাকায় যখন তারা পৌঁছায়, তখন রাত নেমে আসে। নদীতে তখন কুয়াশার কারণে তাদের দৃষ্টিসীমা কমে গিয়েছিল। সেখানে নোঙর করে রাত কাটিয়ে সকালে রওনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

এদিকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুয়াশার কারণে দিগ্‌ভ্রান্ত হয়ে সেতু-৬ নামে একটি জাহাজ তাদের নোঙর করা জাহাজকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ধাক্কায় তাদের জাহাজের তলা ফেটে পানি উঠতে শুরু করে। কুয়াশার কারণে চারপাশে পরিষ্কার কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।

নাবিকরা বাঁচাও বাঁচাও বলে অনেক চিৎকার করলেও মাঝরাতে মাঝনদীতে কেউ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। ইতিমধ্যে এক ঘণ্টা কেটে গেছে। রাত তখন সাড়ে ১২টা। জাহাজে পানি উঠে এক পাশ কাত হয়ে গেছে, যেকোনো সময় পুরো জাহাজ ডুবে যেতে পারে। হঠাৎ মো. সোহেল নামে এক নাবিকের মনে হলো শেষ চেষ্টা হিসেবে ৯৯৯-এ ফোন করে দেখা যাক।

আনোয়ার সাত্তার জানান, ৯৯৯ যখন মো. সোহেলের ফোন কলটি রিসিভ করে, রাত তখন ১টা বাজতে ১ মিনিট বাকি। ৯৯৯ তাৎক্ষণিকভাবে নৌপুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বিষয়টি জানায়। নৌপুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বিষয়টি লক্ষ্মীপুরের বড়খেরী নৌপুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়। ঘটনাস্থল বড়খেরী নৌপুলিশ ফাঁড়ি থেকে নৌপথে ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।

খবর পেয়ে বড়খেরী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল উদ্ধারকারী নৌযান নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় রাত ২টার দিকে। কিন্তু কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কম থাকায় তাদের যথেষ্ট সাবধানে ও ধীরে নৌপথে অগ্রসর হতে হয়েছে। অবশেষে ভোর ৫টার একটু পরে মেঘনা নদী থেকে একটি মাছ ধরা ট্রলারের সহযোগিতায় নদীতে লাইফ জ্যাকেট পরা ভাসমান অবস্থায় ১১ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়।

এমভি বোরহান সর্দার-১ সম্পূর্ণরূপে ডুবে গেছে। উদ্ধার করা নাবিকদের নিরাপদে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তারা সবাই সুস্থ আছেন।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার কিশোর

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার কিশোর

রাতে র‌্যাবের একটি দল রাজধানী এলাকায় টহল করার সময় খবর আসে, একটি বাসায় তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে দলটি পশ্চিম নাখালপাড়ার ওই বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টাকারী কিশোরকে গ্রেপ্তার করে।

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ১৫ বছরের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

তেজগাঁও থানা এলাকার পশ্চিম নাখালপাড়ায় বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

র‍্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, রাতে র‌্যাবের একটি দল রাজধানী এলাকায় টহল করার সময় খবর আসে, একটি বাসায় তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে দলটি পশ্চিম নাখালপাড়ার ওই বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টাকারী কিশোরকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশু ও কিশোর পাশাপাশি বাসায় ভাড়া থাকে। একই বাড়িতে ভাড়া থাকার সুবাদে ওই কিশোর প্রায়ই শিশুটিকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে তার কক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করত। ঘটনার দিন বাসা ফাঁকা পেয়ে শিশুটিকে কৌশলে তার কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে কিশোর।

এ ঘটনায় শিশুটির মা কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

জব্দ হচ্ছে রুবেল-বরকতের সাড়ে পাঁচ হাজার বিঘা জমি

জব্দ হচ্ছে রুবেল-বরকতের সাড়ে পাঁচ হাজার বিঘা জমি

ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল।

২০১০ সাল থেকে এ বছর পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বরকত ও রুবেল।

ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এক দশকে ধনকুবের বনে যাওয়া এই দুই ভাইয়ের ৫ হাজার ৭০৬ বিঘা জমি ও ৫৫টি গাড়ি সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ব্যাংকে থাকা ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকাও জব্দ করা হবে।

গাড়ির মধ্যে রয়েছে, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার।

২৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে এই সম্পদ জব্দের আবেদন করে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি।

শুনানি শেষে বিচারক আবেদন গ্রহণ করেন। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল নিউজবাংলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে গত বছরের ২৬ জুন বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা করেন সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ।

এই দুই ভাইয়ের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ইমতিয়াজ হাসান রুবেল ছিলেন ফরিদপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি। গ্রেপ্তারের পর দুই ভাইকেই অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে এ বছর পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বরকত ও রুবেল।

মাদক বিক্রি ও ভূমি দখলের অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে। অবৈধ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করার অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে।

গত ১৮ জুন সিআইডি কর্মকর্তা মিরাজ আল মাহমুদকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।

এই দুই ভাই আগে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে তারা আওয়ামী লীগে আসেন।

রাজবাড়ীতে ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর এক আইনজীবী খুন হন। সে হত্যা মামলার আসামি ছিলেন এই দুই ভাই।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই দুই ভাই অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

গত বছরের ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন ফরিদপুরে ত্রাস হয়ে উঠা দুই ভাই।

হামলার দুই দিন পর ১৮ মে সুবল সাহা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।

এরপর ৭ জুন রুবেল-বরকতসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ: বহিষ্কৃত আ. লীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ: বহিষ্কৃত আ. লীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

বহিষ্কৃত আ. লীগ নেতা আব্দুল মান্নান। ছবি: নিউজবাংলা

আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জানান, এসআইবিএলের ৩১ কোটি টাকা দুর্নীতির মামলায় বৃহস্পতিবার চার্জ গঠনের দিন ধার্য ছিল। এ দিন মান্নান অনুপস্থিত থাকার জন্য সময় চান।আদালত আবেদন নাকচ করে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

বগুড়ায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) ৩১ কোটি টাকা দুর্নীতি মামলায় আব্দুল মান্নান নামে বহিষ্কৃত এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মান্নান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়ায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি বগুড়া জেলা ট্রাকমালিক সমিতির সভাপতি ও বগুড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এমরান হোসেন চৌধুরী।

পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া দুদকের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ।

এর আগে ২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল একই মামলায় শুকরা এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুল মান্নান আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে তাকে জেলহাজতে পাঠায় আদালত। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।

আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জানান, এসআইবিএলের ৩১ কোটি টাকা দুর্নীতির মামলায় বৃহস্পতিবার চার্জ গঠনের দিন ধার্য ছিল। এ দিন মান্নান অনুপস্থিত থাকার জন্য সময় চান। আদালত আবেদন নাকচ করে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

দুদকের করা ৩১ কোটি দুর্নীতির এই মামলায় আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে ২৬ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিরা হলেন ব্যাংকের বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা রফিকুল, আতিকুল কবির, মাহবুবুর রহমান, জালিয়াত চক্রের সদস্য মো. আকতার হোসেন, মো. জহুরুল হক, মো. এনামুল হক, মাকসুদুল হক, ফেরদৌস আলম। বৃহস্পতিবার আদালতে আব্দুল মান্নান বাদে সবাই উপস্থিত ছিলেন।

৩০ কোটি ৮৩ লাখ ৭৬ হাজার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া শাখার ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম সদর থানায় ২২ জনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন। পরে মামলার অভিযোগপত্রে নয়জনকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্ত করে দুদক।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

দলিল জালিয়াত চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার

দলিল জালিয়াত চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার

দলিল জালিয়াতি চক্রের গ্রেপ্তার ৩ জন

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাংলাদেশসহ ভারত ও পাকিস্তান আমলের প্রায় সহস্রাধিক সরকারি স্ট্যাম্প ও মূল্যবান দলিল জাল করার উপকরণ, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সাব-রেজিস্ট্রার ও ভূমি অফিসের শতাধিক সিল ও সিলমোহরসহ মূল্যবান স্ট্যাম্প ও জাল দলিল তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

বাংলাদেশসহ ভারত ও পাকিস্তান আমলের সহস্রাধিক সরকারি স্ট্যাম্প ও মূল্যবান দলিল জাল করার উপকরণসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সাব-রেজিস্ট্রার ও ভূমি অফিসের দুই শতাধিক সিল ও সিলমোহরসহ দলিল জালিয়াত চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কানিজ ফাতেমার সার্বিক দিকনির্দেশনায় বিশেষ অভিযানে কোতোয়ালি থানার রাজার দেউরী, গেন্ডারিয়া ও যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- শফিকুল ইসলাম খোকন, আবুল কালাম আজাদ ও নুরুল ইসলাম নজরুল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডির ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শেখ ওমর ফারুক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সিআইডি নিযুক্ত সোর্সের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে শফিকুল ইসলাম খোকনকে গ্রেপ্তার করে আলামত উদ্ধার করা হয়। শফিকুল ইসলামের দেয়া তথ্যমতে আবুল কালাম আজাদ ও নুরুল ইসলাম নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শেখ ওমর ফারুক বলেন, এরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্ট্যাম্প থেকে বিশেষ কেমিক্যাল ব্যবহার করে লেখা ও চিহ্ন তুলে ফেলে জাল দলিল তৈরি করে নিরীহ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন। অব্যবহৃত স্ট্যাম্প অথবা বিশেষ কেমিক্যাল ব্যবহারের মাধ্যমে লিখিত দলিলের লেখা বা চিহ্ন তুলে ফেলে টাকার বিনিময়ে তারা সুবিধামতো বা চাহিদামতো বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানির কাছে বা বিভিন্ন ভূমি জবরদখলকারী চক্রের কাছে বিক্রি করেছে বা হস্তান্তর করেছে বলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও জানান, নুরুল ইসলাম পুরোনো দলিল সংগ্রহ করে দলিলে লেখা বা চিহ্ন কেমিক্যাল দিয়ে তুলে ফেলার কাজে বিশেষ পারদর্শী আবুল কালামের কাছে দিতেন এবং শফিকুল ইসলাম জাল দলিল তৈরি করতেন। তারা পরস্পর যোগসাজশে জমিসংক্রান্ত দেওয়ানি মামলাবাজদের পক্ষে তৈরিকৃত দলিল দিয়ে আদালতে মামলা মোকদ্দমা করে বলেও তারা স্বীকার করেছেন। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার ও গ্রেপ্তার অভিযান চলমান রয়েছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাংলাদেশসহ ভারত ও পাকিস্তান আমলের প্রায় সহস্রাধিক সরকারি স্ট্যাম্প ও মূল্যবান দলিল জাল করার উপকরণ, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সাব-রেজিস্ট্রার ও ভূমি অফিসের শতাধিক সিল ও সিলমোহরসহ মূল্যবান স্ট্যাম্প ও জাল দলিল তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম খোকনের কাছ থেকে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের স্ট্যাম্প ৮০৪টি ও বিভিন্ন সাব-রিজেস্ট্রি ও ভূমি অফিসের সরকারি কর্মকর্তার নামের ১০৫টি সিল জব্দ করা হয়।

আবুল কালাম আজাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের স্ট্যাম্প ১ হাজার ৪৫১টি ও ২০০টি কার্টিজ পেপারসহ দলিলের লেখা ও চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল জব্দ করা হয়।

নুরুল ইসলাম নজরুলের কাছ থেকে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের স্ট্যাম্প ১ হাজার ১৪টি এবং বিভিন্ন সাব-রিজেস্ট্রি ও ভূমি অফিসের সরকারি কর্মকর্তার নামের ১০৫টি সিল জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: দণ্ডিত ইকবাল গ্রেপ্তার
গ্রেনেড হামলা: বাবর, আরিফুল-গউছের বিচার শুরু

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg