কুয়েতে বিচার হলো, বাংলাদেশে কবে?

কুয়েতে বিচার হলো, বাংলাদেশে কবে?

পাপুল, তার স্ত্রী ও অন্যদের বিরুদ্ধে দুদক ও সিআইডি দুটি মামলা করেছে। সেগুলোর তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।

কুয়েতে গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী সহিদ ইসলাম পাপুলের একটি মামলার বিচার সম্পন্ন করেছে সে দেশের আদালত। অথচ বাংলাদেশে তার নামে করা মামলার তদন্ত ‍ও বিচারে নেই গতি।

পাপুল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশে প্রথম মামলা হয় গত ১১ নভেম্বর। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ মামলাটি করে।

দ্বিতীয় মামলাটি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২২ ডিসেম্বর পল্টন থানায় এ মামলাটি হয়।

দেশে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা সম্পর্কে দুদকের পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুদকের মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার একটি নির্ধারিত নিয়ম আছে। বিধি অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে।

‘তবে সাধারণত তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তকাজ শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে ৪৫ কার্যদিবস সময় পান। এরপর আদালতে নিয়ম অনুযায়ী মামলা চলে। এখানে দুদকের তো কিছু করার নেই।’

৪৫ কার্যদিবস শেষ হওয়ার আগেই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন দুদকের ওই কর্মকর্তা।

অন্যদিকে সিআইডির মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা মামলার তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এরই মধ্যে দেশের বাইরে তার বিরুদ্ধে একটি মামলার রায় হয়েছে। আমরা সেই রায়ের কপি দেখব।

‘কুয়েতেও তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হয়েছে। তার তদন্ত প্রতিবেদনও দেখতে হবে। আমাদের চেষ্টা থাকবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা।’

তিনি বলেন, ‘এমনিতেই মামলা দায়েরের দিন থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিলের নিয়ম। তবে চাইলে আমাদের ঊর্ধ্বতনেরা এই সময় আরও ৪৫ দিন বাড়িয়ে নিতে পারেন।’

পাপুলসহ তিনজনের নামে দুদক যে মামলা করেছে, তাতে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ১৪৮ কোটি টাকার অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন ইসলামের বিরুদ্ধে। মামলা করেছেন দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন।

এর আগের দিন ১০ নভেম্বর কমিশন সভায় জেসমিন ইসলামের ব্যাংক হিসাবে ১৪৮ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন ও পাচারের তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে পাপুলের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

জেসমিন ইসলামকে অবৈধ অর্থ আয় ও পাচারে সহায়তার অভিযোগে পাপুল ও তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকে আসামি করে এ মামলা হয় বলে জানান দুদক পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

তিনি বলেন, দুদকের অনুসন্ধানে জেসমিন ইসলামের ব্যাংক হিসাবে ১৪৮ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন ও পাচারের তথ্য পেয়ে এ মামলা করে দুদক। মামলায় পাপুলের মেয়ে ওয়াফা ইসলামকেও আসামি করা হচ্ছে।

এরপর ২২ ডিসেম্বর মানব পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পাপুলের বিরুদ্ধে ঢাকার পল্টন থানায় মামলা করে সিআইডি। এই মামলায় আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন পাপুলের ব্যক্তিগত কর্মচারী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান মনির, শ্যালিকা জেসমিন ইসলাম, পাপুলের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম, পাপুলের ভাই কাজী বদরুল আলম লিটন ও লিটনের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হচ্ছেন সংসদ সদস্য কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম। ছবি: সাইফুল ইসলাম

দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি জেসমিন ইসলামের ‘জে. ডব্লিউ লীলাবালী’ ও অন্যটি পাপুলের ভাই লিটনের ‘জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল’।

এ মামলাটি করেন সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার আল আমিন হোসেন।

মনিরের রূপালী ব্যাংক, রাজারবাগ শাখার একটি হিসাবে ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশের নানা স্থান থেকে ৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকা জমা হয়। এগুলো কুয়েত গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেয়া।

জনশক্তি রপ্তানিকারক পাপুলকে গত বছরের ৬ জুন কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সে দেশের পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মানব পাচার, অর্থ পাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ আনা হয় কুয়েতে।

এরপর পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২০ সালের ২২ জুলাই সেলিনা ইসলাম ও জেসমিন ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে ২২ জুন পাপুল, স্ত্রী সেলিনা, মেয়ে ওয়াফা ও শ্যালিকা জেসমিনের ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক দেশি-বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা সব ব্যাংক হিসাব স্থগিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয় দুদক।

১৭ জুন এদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। পাশাপাশি পাপুল দেশে ফিরলে আর যেন বিদেশে যেতে না পারেন, সে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি দেয় দুদক।

এ ছাড়া আট ব্যাংকে এদের নামে থাকা ৬১৩টি হিসাব জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে তাদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ৩০.২৭ একর জমি ও গুলশানের ফ্ল্যাট বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

সিআইডির তদন্তে উঠে আসে পাপুলের ব্যক্তিগত কর্মচারী সাদিকুর রহমান মনির দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাজের জন্য কুয়েত যেতে আগ্রহীদের কাছ থেকে নগদ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জনপ্রতি ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা নিতেন।

গত ২৮ জানুয়ারি মানব ও অর্থ পাচারের দায়ে পাপুলের বিরুদ্ধে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয় কুয়েতের আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১৯ লাখ কুয়েতি রিয়াল জরিমানা করা হয়।

৩০ জানুয়রি এ বিষয়ে প্রথম মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যিই দুঃখজনক, খুবই দুঃখজনক। এটা লজ্জাজনক। আমাদের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ওনার বিরুদ্ধে মোট তিনটি কেস আছে।

‘যেটার রায় হয়েছে, সেটা ঘুষের। আর দুটি হলো ট্রাফিকিং (মানব পাচার) ও মানি লন্ডারিং (অর্থ পাচার)। আমাদের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ওই দুইটির রায় এখনও হয়নি।’

এদিকে কুয়েতের আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় সোমবার পাপুলের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কুয়েতের বাংলাদেশ মিশনের পাঠানো ৬১ পৃষ্ঠার ইংরেজি ও আরবি ভাষার রায়ের কপি পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেদিনই পাপুলের সংসদ সদস্য পদ কেড়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে সংসদ সচিবালয়।

দুদক সূত্র বলছে, পাপুল, তার স্ত্রী, শ্যালিকা, মেয়েসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তারা। যেকোনো সময় এসব মামলা করবে তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট
দুর্নীতি মামলায় পাপুলের স্ত্রী-মেয়ের স্থায়ী জামিন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিকাগ্রহীতা ছাড়াল ২৮ লাখ

টিকাগ্রহীতা ছাড়াল ২৮ লাখ

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৯ জন, সব মিলিয়ে টিকা নিয়েছেন ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৯৪০ জন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে গণটিকা প্রয়োগের ১৬ দিনে সারা দেশে টিকা নিয়েছেন ২৮ লাখের বেশি মানুষ।

এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৯ জন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৯ জন, সব মিলিয়ে টিকা নিয়েছেন ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৮ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৫ জন এবং নারী ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৬৭৫ জন।

এ সঙ্গে যোগ হবে আরও ৫৬৭ জন, যাদের গণটিকার আগে ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ২৭ জনসহ এখন পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৬৯৬ জনের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে এসব মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কারও সামান্য জ্বর হয়েছে কিংবা বমি হয়েছে।

৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে টিকা দেয়া শুরু হয়। এরপর টানা চার দিন ধরে বাড়তে থাকে টিকা নেয়া মানুষের সংখ্যা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার ঢাকার ৪৭টি এবং ঢাকার বাইরে ৯৫৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চলে টিকা কার্যক্রম। ১৬ দিনে জেলাভিত্তিক সবচেয়ে বেশি টিকা দেয়া হয়েছে ঢাকায়। সবচেয়ে কম দেয়া হয়েছে শেরপুরে।

২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরে টিকা নিয়েছেন ৩০ হাজার ৩৫১ জন। ঢাকা বিভাগে মোট টিকা নিয়েছেন ৬৩ হাজার ২৪৪ জন। আর রাজধানীতে ১০ জনসহ ঢাকা বিভাগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ১৪ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে টিকা দেয়া হয়েছে ৩৩ হাজার ৮৬৭ জনকে। এই বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

রাজশাহী বিভাগে টিকা নিয়েছেন ১৮ হাজার ২১৬ জন। এখানে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কোনো খবর নেই।

খুলনা বিভাগে ২৬ হাজার ১৮৬ জনকে টিকা দেয়া হয়। এই বিভাগে একজনের মধ্যে দেখা দিয়েছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

বরিশাল বিভাগে টিকা দেয়া হয়েছে ৮ হাজার ৫১ জনকে। এই বিভাগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে।

সিলেট বিভাগে টিকা দেয়া হয়েছে ৭ হাজার ৯৪১ জনকে। এদের মধ্যে একজনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

ময়মনসিংহ বিভাগে টিকা দেয়া হয় ৭ হাজার ২৩৩ জনকে। এই বিভাগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর নেই।

রংপুর বিভাগে টিকা নিয়েছেন ১৬ হাজার ৭০১ জন। এই বিভাগে একজনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট
দুর্নীতি মামলায় পাপুলের স্ত্রী-মেয়ের স্থায়ী জামিন

শেয়ার করুন

সেবার মান বাড়াতে ডবল লাইন করা জরুরি: রেলমন্ত্রী

সেবার মান বাড়াতে ডবল লাইন করা জরুরি: রেলমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার কমলাপুরে দুটি ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে মোট তিনটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ও সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়।

যাত্রী নিরাপত্তা ও যথাসময় রেল চলাচল নিশ্চিত করতে ডবল লাইন নির্মাণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।

মন্ত্রী বলেন, ‘একটি লাইন থাকার কারণে ট্রেনের গতি যেমন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি যাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত সেবাও দেয়া যাচ্ছে না।’

বৃহস্পতিবার রেলভবনে পাঁচটি রেলস্টেশনের আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং সংস্কার কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ কাজে বাংলাদেশ রেলওয়েকে সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা ওয়াটার এইড বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে রেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ওয়াটার এইডের বৃহস্পতিবার একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘যাত্রীসেবার মান বাড়াতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন রুটে ডবল লাইন নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্টেশন সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। প্ল্যাটফরমের উচ্চতা বাড়ানো হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট
দুর্নীতি মামলায় পাপুলের স্ত্রী-মেয়ের স্থায়ী জামিন

শেয়ার করুন

পরীক্ষা শুরুর দাবি মানা না হলে রোববার কঠোর কর্মসূচি

পরীক্ষা শুরুর দাবি মানা না হলে রোববার কঠোর কর্মসূচি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এলে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবারের মধ্যে স্থগিত পরীক্ষা নেয়ার লিখিত নোটিশ প্রকাশ না করা হলে রোববার থেকে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরুর দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলন স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে কর্মসূচি থেকে আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া না হলে এবং শনিবারের মধ্যে স্থগিত পরীক্ষা নেয়ার লিখিত নোটিশ প্রকাশ না করা হলে রোববার থেকে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা ।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে একই দাবিতে শাহবাগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল থামিয়ে দেয় পুলিশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে সকালে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে শিক্ষার্থীদের থামিয়ে দেয়।

ওই সময় শিক্ষার্থীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে পরীক্ষা চালুর দাবিতে ‘এক শিক্ষায় দুই নীতি চলবে না’, ‘শিক্ষা নিয়ে টালবাহানা চলবে না চলবে না’, ‘সাত কলেজের জয়ের মালা আমাদের কেন অবহেলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এ সময় মিছিলের মাঝখান থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়৷ তবে পুলিশের দাবি, এরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। এরা বিইউপির শিক্ষার্থী৷

আমানুল্লাহ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘করোনা কি শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য, সাত কলেজের জন্য না? আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে এখানে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তিন বছর অনার্স চতুর্থ বর্ষে। আমরা এটির শেষ চাই।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আদায় করেছে তাদের অধিকার। কিন্তু আমরা আন্দোলন করিনি, তাই আমাদের পরীক্ষা সচল করা হচ্ছে না। তাই আমরা আজকে বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি।’

পুলিশের রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের দাবি যৌক্তিক৷ পরীক্ষার জন্য আন্দোলন নজিরবিহীন। আপনারা যাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যারের সাথে দেখা করতে পারেন, সে ব্যবস্থা আমাদের পক্ষ থেকে করা হবে।’

এ সময় তিনি আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেয়ারও আশ্বাস দেন।

পুলিশের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা পাবলিক লাইব্রেরির সামনে থেকে তাদের অবস্থান সরিয়ে নিলেও ফের শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের আটক সহপাঠীদের ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত এবং আগামী ৫ মার্চের মধ্যে স্থগিত হওয়া দুটি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা থানার পাশে অবস্থান নিয়ে পরীক্ষা চালু ও আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন৷ একপর্যায়ে পুলিশ এসে বাঁশি ফুঁ দিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়।

এর আগে শাহবাগে জড়ো হওয়ার চেষ্টাকালে পুলিশ অন্তত ১০ শিক্ষার্থীকে আটক করে। তাদের মধ্যে সাতজনের নাম জানা গেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৯ সালের দ্বিতীয় বর্ষ ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষা ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হয়। পরীক্ষা চলার কথা ছিল ২৩ মার্চ পর্যন্ত।

আর ২০১৯ সালের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা গত ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়।

২২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব পরীক্ষা স্থগিত রাখা হচ্ছে।

তবে ২৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরুর সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত হয়ে যাওয়া পরীক্ষাও শুরু হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্থগিত হয়ে যাওয়া পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশ নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট
দুর্নীতি মামলায় পাপুলের স্ত্রী-মেয়ের স্থায়ী জামিন

শেয়ার করুন

বনানীতে ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত

বনানীতে ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত

বনানী থানার উপপরিদর্শক ইয়াসিন হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, বুধবার রাতে বনানীর স্টার কাবাবের পাশ চার থেকে পাঁচ জন যুবক ১৪ বছর বয়সি শাকিলের বুকে ছুরিকাঘাত করে। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

রাজধানীর বনানীতে ছুরিকাঘাতে মো. শাকিল নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে দশটার দিকে বানানী স্টার কাবাবের পাশের রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১১টায় সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বনানী থানার উপপরিদর্শক ইয়াসিন হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, বুধবার রাতে বনানীর স্টার কাবাবের পাশ চার থেকে পাঁচ জন যুবক ১৪ বছর বয়সি শাকিলের বুকে ছুরিকাঘাত করে। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নিহতের বাবা বনানী থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শাকিলের বাবা জসিম জানান, কড়াইল বস্তিতে থাকেন তারা। তাদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। শাকিল বনানীর স্থানীয় একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গতকাল রাতে কয়েকজন যুবক তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট
দুর্নীতি মামলায় পাপুলের স্ত্রী-মেয়ের স্থায়ী জামিন

শেয়ার করুন

৯৯৯-এ ফোন: ডুবে যাওয়া জাহাজের ১১ নাবিককে উদ্ধার

৯৯৯-এ ফোন: ডুবে যাওয়া জাহাজের ১১ নাবিককে উদ্ধার

রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুয়াশার কারণে দিকভ্রান্ত হয়ে সেতু ৬ নামে একটি জাহাজ নোঙর করা এমভি বোরহান সরদার ১ জাহাজকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ধাক্কায় তাদের জাহাজটির তলা ফেটে পানি উঠতে শুরু করে।

মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়া জাহাজের একজন নাবিকের ৯৯৯-এ ফোন কলে নদীতে ভাসমান অবস্থায় ১১ নাবিককে উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ।

৯৯৯-এর পুলিশ প‌রিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, এমভি বোরহান সরদার-১ নামে একটি সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী লাইটার জাহাজ ১১ জন নাবিকসহ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল বুধবার সকালে।

মেঘনা নদীর লক্ষ্মীপুরের রামগতি গজারিয়ার চর এলাকায় যখন তারা পৌঁছায়, তখন রাত নেমে আসে। নদীতে তখন কুয়াশার কারণে তাদের দৃষ্টিসীমা কমে গিয়েছিল। সেখানে নোঙর করে রাত কাটিয়ে সকালে রওনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

এদিকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুয়াশার কারণে দিগ্‌ভ্রান্ত হয়ে সেতু-৬ নামে একটি জাহাজ তাদের নোঙর করা জাহাজকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ধাক্কায় তাদের জাহাজের তলা ফেটে পানি উঠতে শুরু করে। কুয়াশার কারণে চারপাশে পরিষ্কার কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।

নাবিকরা বাঁচাও বাঁচাও বলে অনেক চিৎকার করলেও মাঝরাতে মাঝনদীতে কেউ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। ইতিমধ্যে এক ঘণ্টা কেটে গেছে। রাত তখন সাড়ে ১২টা। জাহাজে পানি উঠে এক পাশ কাত হয়ে গেছে, যেকোনো সময় পুরো জাহাজ ডুবে যেতে পারে। হঠাৎ মো. সোহেল নামে এক নাবিকের মনে হলো শেষ চেষ্টা হিসেবে ৯৯৯-এ ফোন করে দেখা যাক।

আনোয়ার সাত্তার জানান, ৯৯৯ যখন মো. সোহেলের ফোন কলটি রিসিভ করে, রাত তখন ১টা বাজতে ১ মিনিট বাকি। ৯৯৯ তাৎক্ষণিকভাবে নৌপুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বিষয়টি জানায়। নৌপুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বিষয়টি লক্ষ্মীপুরের বড়খেরী নৌপুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়। ঘটনাস্থল বড়খেরী নৌপুলিশ ফাঁড়ি থেকে নৌপথে ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।

খবর পেয়ে বড়খেরী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল উদ্ধারকারী নৌযান নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় রাত ২টার দিকে। কিন্তু কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কম থাকায় তাদের যথেষ্ট সাবধানে ও ধীরে নৌপথে অগ্রসর হতে হয়েছে। অবশেষে ভোর ৫টার একটু পরে মেঘনা নদী থেকে একটি মাছ ধরা ট্রলারের সহযোগিতায় নদীতে লাইফ জ্যাকেট পরা ভাসমান অবস্থায় ১১ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়।

এমভি বোরহান সর্দার-১ সম্পূর্ণরূপে ডুবে গেছে। উদ্ধার করা নাবিকদের নিরাপদে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তারা সবাই সুস্থ আছেন।

আরও পড়ুন:
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট
দুর্নীতি মামলায় পাপুলের স্ত্রী-মেয়ের স্থায়ী জামিন

শেয়ার করুন

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার কিশোর

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার কিশোর

রাতে র‌্যাবের একটি দল রাজধানী এলাকায় টহল করার সময় খবর আসে, একটি বাসায় তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে দলটি পশ্চিম নাখালপাড়ার ওই বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টাকারী কিশোরকে গ্রেপ্তার করে।

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ১৫ বছরের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

তেজগাঁও থানা এলাকার পশ্চিম নাখালপাড়ায় বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

র‍্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, রাতে র‌্যাবের একটি দল রাজধানী এলাকায় টহল করার সময় খবর আসে, একটি বাসায় তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে দলটি পশ্চিম নাখালপাড়ার ওই বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টাকারী কিশোরকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশু ও কিশোর পাশাপাশি বাসায় ভাড়া থাকে। একই বাড়িতে ভাড়া থাকার সুবাদে ওই কিশোর প্রায়ই শিশুটিকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে তার কক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করত। ঘটনার দিন বাসা ফাঁকা পেয়ে শিশুটিকে কৌশলে তার কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে কিশোর।

এ ঘটনায় শিশুটির মা কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট
দুর্নীতি মামলায় পাপুলের স্ত্রী-মেয়ের স্থায়ী জামিন

শেয়ার করুন

জব্দ হচ্ছে রুবেল-বরকতের সাড়ে পাঁচ হাজার বিঘা জমি

জব্দ হচ্ছে রুবেল-বরকতের সাড়ে পাঁচ হাজার বিঘা জমি

ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল।

২০১০ সাল থেকে এ বছর পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বরকত ও রুবেল।

ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এক দশকে ধনকুবের বনে যাওয়া এই দুই ভাইয়ের ৫ হাজার ৭০৬ বিঘা জমি ও ৫৫টি গাড়ি সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ব্যাংকে থাকা ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকাও জব্দ করা হবে।

গাড়ির মধ্যে রয়েছে, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার।

২৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে এই সম্পদ জব্দের আবেদন করে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি।

শুনানি শেষে বিচারক আবেদন গ্রহণ করেন। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল নিউজবাংলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে গত বছরের ২৬ জুন বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা করেন সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ।

এই দুই ভাইয়ের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ইমতিয়াজ হাসান রুবেল ছিলেন ফরিদপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি। গ্রেপ্তারের পর দুই ভাইকেই অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে এ বছর পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বরকত ও রুবেল।

মাদক বিক্রি ও ভূমি দখলের অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে। অবৈধ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করার অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে।

গত ১৮ জুন সিআইডি কর্মকর্তা মিরাজ আল মাহমুদকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।

এই দুই ভাই আগে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে তারা আওয়ামী লীগে আসেন।

রাজবাড়ীতে ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর এক আইনজীবী খুন হন। সে হত্যা মামলার আসামি ছিলেন এই দুই ভাই।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই দুই ভাই অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

গত বছরের ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন ফরিদপুরে ত্রাস হয়ে উঠা দুই ভাই।

হামলার দুই দিন পর ১৮ মে সুবল সাহা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।

এরপর ৭ জুন রুবেল-বরকতসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন:
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট
দুর্নীতি মামলায় পাপুলের স্ত্রী-মেয়ের স্থায়ী জামিন

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg