কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কমিশন গঠন

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কমিশন গঠন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১০ দফা সুপারিশের প্রেক্ষিতে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য কৃষকপর্যায়ে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলার প্লাটফর্ম হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব কৃষিপণ্য কমিশন গঠনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে একটি শক্তিশালী কৃষি কমিশন গঠনের দাবিসহ সরকারের প্রতি ১০ দফা সুপারিশ করা হয়েছে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির এক আলোচনায়।

সোমবার ‘কৃষি খাতে করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগ’ নিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এফডিসিতে ছায়া সংসদ বিতর্ক আলোচনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

আলোচনায় তুলে ধরা অন্য সুপারিশগুলো হচ্ছে- অতি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণের সুদ মওকুফ, এককালীন সাহায্যের তহবিল গঠন, ঋণের কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানো, প্রণোদনায় কৃষি শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তকরণ, নারী কৃষকদেরও প্রণোদনায় অন্তর্ভুক্তি, উপকারভোগী নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত, স্বল্পমূল্যে ও সহজ কিস্তিতে প্রকৃত কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি নিশ্চিত এবং কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান ও আওতা বাড়ানো।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১০ দফা সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব কৃষিপণ্য কমিশন গঠনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘কৃষিপণ্য কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি। এ খাতের বিশেষজ্ঞ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এটি গঠন করা যেতে পারে। তবে কমিশনটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিদ্বন্দ্বী হবে না বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।’

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দাবি করেন, ‘সংসদে নীতিনির্ধারণ ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশে এখন কৃষকের কোনো প্রতিনিধি নেই। যদিও বলা হয়, সরকার কৃষিবান্ধব। কিন্তু কৃষি ও কৃষকবান্ধব হওয়া এক কথা নয়। করোনাকালে সেটি সুস্পষ্ট হয়েছে। সরকার কৃষিবান্ধব হলেই কৃষকের উপকার হবে তা বলা যায় না। কৃষি উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন এসব ক্ষেত্রে কৃষক যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারা প্রতারিত না হয় তার জন্য সরকারকে কৃষকবান্ধবও হতে হবে।‘

এ সময় তিনি ‘প্রণোদনা দেয়ার ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল না হয়ে স্থানীয় সরকার, এনজিও ও ব্যক্তি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করারও তাগিদ দেন।’

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অর্থনীতিতে কৃষি খাত ব্যাপক ভূমিকা রাখলেও শুধুমাত্র কৃষকের সংগঠন না থাকায় পোশাকসহ অন্যান্য শিল্প খাতের মতো এই খাতসংশ্লিষ্টদের দু:খ-দুর্দশায় ততটা গুরুত্ব পায় না।’

কৃষকদের সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ কিংবা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, এফবিসিসিআইর মতো সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। বলেন, ‘কৃষকের সুখ, দুঃখ ও অভাব অভিযোগ নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সাথে কথা বলবে কৃষকের এমন একটি সংগঠন জরুরি হয়ে পড়েছে।’

প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে সরকারি দল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া বিজয়ী হয়। এতে বিচারক প্যানেলের নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ক্রেস্ট, ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সংকট নেই আইসিইউ’র

সংকট নেই আইসিইউ’র

এবার আর গতবারের মতো আইসিইউ সংকট নেই। ছবি: নিউজবাংলা

সারা দেশে করোনা রোগীদের জন্য শয্যার সংখ্যা ১২ হাজার ৪৯৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে আট হাজার ৮৯ শয্যা ফাঁকা রয়েছে। আর আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ১ হাজার ১৩৪টি। বর্তমানে ৬২৫টি খালি রয়েছে। করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ে বহুসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ায় এখন উল্লেখিত সংখ্যক আইসিইউ শয্যা খালি হয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ঢাকাকে ঘিরে রাখা সাত জেলায় কঠোর লকডাউনের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যু—দুই-ই বেড়েছে।

তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর দিকে দেশে আইসিইউ নিয়ে যেমন হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তেমন পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।

সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর রোগী শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসিইউ চাহিদা বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল নয় আইসিইউ। সারাদেশে এখন আইসিইউ শয্যার অর্ধেকেরই বেশি ফাঁকা রয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সারা দেশে করোনা রোগীদের জন্য শয্যার সংখ্যা ১২ হাজার ৪৯৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে আট হাজার ৮৯ শয্যা ফাঁকা রয়েছে। আর আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ১ হাজার ১৩৪টি। বর্তমানে ৬২৫টি খালি রয়েছে। করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ে বহুসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ায় এখন উল্লেখিত সংখ্যক আইসিইউ শয্যা খালি হয়েছে।

ঢাকা মহানগর হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা ৫ হাজার ১৬১টির মধ্যে খালি রয়েছে ৩ হাজার ৫৫২টি। ৮২১টি আইসিইউর মধ্যে ফাঁকা ৫০৮টি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৭০৫টি শয্যার মধ্যে খালি ৩৩২টি। তবে এখানকার ২০টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে কোনোটি খালি নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ২৩০টি শয্যার মধ্যে খালি রয়েছে ১৩৪টি। ২০টি আইসিইউর মধ্যে খালি রয়েছে ৩টি।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের মোট ২৭৫টি শয্যার মধ্যে খালি রয়েছে ২৯টি, তবে সেখানে থাকা ১০টি আইসিইউ শয্যার কোনোটি খালি নেই। মুগদা জেনারেল হাসপাতালের মোট ৩৫০টি শয্যার মধ্যে খালি ২৫১টি, ১০টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে একটিও ফাঁকা নেই।

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের মোট ১৬৯টি শয্যার মধ্যে খালি ১১৩টি। ২৬টি আইসিইউর মধ্যে খালি ১৬টি। শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের ১৭৪টি শয্যার মধ্যে খালি ১৫৪টি। এখানে ১৬টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি ৯টি।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ২৬৩টি শয্যার মধ্যে খালি ১৭২টি। ১০টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে একটিও খালি নেই। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ৯০টি শয্যার মধ্যে খালি রয়েছে ৬৭টি। ৬টি আইসিইউর মধ্যে খালি ৪টি। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের মোট ৪৭০টি শয্যার মধ্যে খালি ৩৬৮টি। ১৫ টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি ৭টি।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ৫০টি শয্যার মধ্যে খালি ৪৮টি। এন আই সি ভি ডি হাসপাতালের ১২৭টি শয্যার মধ্যে খালি ১০৬টি। টিবি হাসপাতালের মোট ১৮৩টি শয্যার মধ্যে খালি ১৭১টি। ৫টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি ৪টি। ডিএনসিসি হাসপাতালের মোট ২৫০টি সাধারণ শয্যার মধ্যে খালি ২৫০টি। ২১২টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি ১২৯টি। এন আই ডি সি এইচ মহাখালীর ১১৪টি, এন আই কে ডি ইউ শ্যামলীর মোট ১৫টি শয্যার মধ্যে খালি ১৪টি।

ঢাকার মধ্যে ১২ টি বেসরকারি হাসপতালে করোনা রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। এই হাসপাতালগুলোতে মোট শয্যার সংখ্যা পাঁচ হাজার ১৬১ জন। এরমধ্যে বর্তমানে খালি রয়েছে সাড়ে তিন হাজারের ওপরে। এসব হাসপাতালে মোট ৮২১টি আইসিইউ রয়েছে এর মধ্যে ৫০৮ বর্তমানে খালি রয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, ঢাকাতে করোনা সেবার জন্য রাখা ৫ হাজার বেডের মধ্যে তিন হাজারই খালি। সংক্রমণ যদি অনেক বেশি হয় তাহলে যেসব হাসপাতালে খালি শয্যাগুলো আবারও সেবার জন্য প্রস্তুত করা হবে। ঢাকাসহ সারাদেশে ১২ হাজারের মতো শয্যা করোনা সেবা দেয়ার জন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজারের মতো শয্যা এখনও খালি রয়েছে। তবে সীমান্ত এলাকায় যেসব হাসপাতাল রয়েছে এসব হাসপাতালের শয্যা খালি নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য কমিটির সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল নিউজবাংলাকে বলেন, সম্প্রতি আইসিডিডিআরবির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার করোনাভাইরাসের ৬৮ শতাংশ নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এটা ঢাকার জন্য খুবই উদ্বেগের। ভ্যারিয়েন্ট ছাড়াও, জনগণের স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে শৈথিল্যও করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। গত দুই সপ্তাহে ঢাকা বাইরে জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেড়েছে। এমন পরিস্থিত কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকাতেও তৈরি হতে পারে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

তৃতীয় ঢেউ ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করে আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে সংক্রমণ। এটি প্রতিরোধে পরীক্ষা বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।’

শেয়ার করুন

এনু-রুপনের জামিন বিষয়ে রায় ১৪ জুলাই

এনু-রুপনের জামিন বিষয়ে রায় ১৪ জুলাই

২০২০ সালে এনু-রুপনের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়। ফাইল ছবি

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গেন্ডারিয়ায় এনু-রুপনের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। তাদের বাসায় টয়লেটে স্বর্ণের কমোট পাওয়া যায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হওয়া অর্থ পাচার মামলার আসামি গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূঁইয়ার জামিন শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে রায়ের জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ঠিক করেছে হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে দেয়।

আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন শাহরিয়ার কবির বিপ্লব। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

শাহরিয়ার কবির বিপ্লব নিউজবাংলাকে বলেন, দুটি মামলায় জামিন বিষয়ে রায়ের জন্য দিন ঠিক করে দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে একটি মামলা অর্থপাচার এবং আরেকটি মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনে।

একটি মামলায় বলা হয়েছে, এনুর বাসায় ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ টাকা, সঙ্গে ৫ হাজার ১৬৪ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া গেছে।

‘আমাদের বক্তব্য হচ্ছে ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ টাকা কারো বাসায় পাওয়া যায়, তাহলে দেশের কোন আইন নাই, যে আইন বলে বাংলাদেশি টাকা ঘরে রাখায় কোন অপরাধের মধ্যে পড়ে। এখন অর্থপাচার হতে হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসতে হবে। এমন কোন অভিযোগ আসেনি। অথচ ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে তাদের রিটার্ন দাখিলে দেখানো হয়েছে ১৯ কোটি টাকার উপরে। আর পরের বছর দেখানো হয়েছে ২০ কোটি টাকার উপরে। এখন কথা হলো বৈধ টাকা ঘরে থাকলে অপরাধের মধ্যে পড়ে কি?’

আরেকটি মামলায় রুপনের বাসায় এক কোটি ৯৯ লাখ টাকা পাওয়ার বিষয়ে তার আইনজীবী বলেন, ‘তারও ইনকাম ট্যাক্সে একই রকম রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে। এখন কথা হলো, কারো বাসায় যদি টাকা পাওয়া যায় তাহলে অর্থপাচার হয় কী করে? এসব বিষয় আমরা আদালতে তুলে ধরেছি। আদালত রায়ের জন্য দিন ঠিক করে দিয়েছেন।’

এনু-রুপনের জামিন বিষয়ে রায় ১৪ জুলাই
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে নাম আসা আলোচিত দুই ভাই এনু রুপন

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গেন্ডারিয়ায় এনু-রুপনের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। তাদের বাসায় টয়লেটে স্বর্ণের কমোট পাওয়া যায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়।

এরপর ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কর্মচারী আবুল কালাম ও এনুর বন্ধু হারুন অর রশিদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, ৮ কেজি স্বর্ণালঙ্কার ও ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করে র‌্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৩ জানুয়ারি এনু ও রুপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে তারা কারাবন্দী।

২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ৮৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

এনুর বিরুদ্ধে ৪৭ কোটি ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ এবং তার ভাই রুপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ১৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এনু-রুপনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে পাঁচটি মামলা হয়। সেগুলোর মধ্যে চারটি মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দিয়েছে সিআইডি।

শেয়ার করুন

টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশের: প্রধানমন্ত্রী

টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশের: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টিকার জন্য আমাদের সরকার রাশিয়া কর্তৃপক্ষের সংস্পর্শে রয়েছে। আমি উল্লেখ করতে চাই, টিকা উৎপাদনের সুযোগ পেলে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়কেও সহযোগিতা করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’

করোনা টিকা উৎপাদনের সুযোগ পেলে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সহযোগিতার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অনুষ্ঠিত নবম মস্কো কনফারেন্স অন ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিতে পূর্বধারণকৃত ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টিকার জন্য আমাদের সরকার রাশিয়া কর্তৃপক্ষের সংস্পর্শে রয়েছে। আমি উল্লেখ করতে চাই, টিকা উৎপাদনের সুযোগ পেলে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়কেও সহযোগিতা করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুগুলোর একটি। এটি শুধুমাত্র অসংখ্য মানুষের প্রাণ নিয়েই থামেনি বরং অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে এবং বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবিকাকেও আঘাত করেছে।

‘আমার সরকার মহামারির সাথে লড়াইয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে এবং বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা প্রদান করেছে। আমরা আমাদের সব নাগরিককে বিনামূল্যে কোভিড ১৯ এর টিকার আওতায় আনবো। আমরা সম্ভাব্য সব সূত্র থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এ সময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে রাশিয়াসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে, গত চার বছর ধরে বাংলাদেশ ১১ লাখ জোরপুর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক-রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। তারা বাংলাদেশ ও এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘আমরা মানবিক কারণেই তাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম কিন্তু এক বড় একটি জনগোষ্ঠিকে অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাখা সম্ভব নয়। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানাই রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ এবং শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আমাদের সহযোগিতা করুন।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযোগিতার জন্য তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়া কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান সরকার প্রধান। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনে রাশিয়ার অবদানের কথাও এ সময় স্মরণ করেন তিনি।

পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের ভূমিকাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ও শান্তিকামী দেশ হিসেবে সব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান আশা করে বাংলাদেশ। প্রিয়জন হারানোর ব্যাথা আমরা অনুভব করি কারণ আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে আমরা ৩০ লাখ মানুষকে হারিয়েছি।

‘আজকে আমার দেশ জাতিসংঘ শান্তিমিশনে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সন্ত্রাসী সংগঠনকে অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করাসহ ৫টি বিষয় বাস্তবায়নে তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্য বিষয়গুলো হলো কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করেন, পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্ব শান্তির জন্য সামরিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিকরণ।

শেয়ার করুন

কোন বাহনে ব্যাটারি চলবে না, স্পষ্ট করল সরকার

কোন বাহনে ব্যাটারি চলবে না, স্পষ্ট করল সরকার

সনাতন এই রিকশাগুলোতে লাগানো ব্যাটারি ও মোটর খুলে ফেলতে হবে বলে। ফাইল ছবি

যেসব অটোরিকশা স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটারিচালিত, সেগুলো চলবে আগের মতোই। প্যাডাল চালিত যেসব বাহনে মোটর লাগানো হয়েছে, খুলে ফেলতে হবে কেবল সেগুলো।  

সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধ ঘোষণার তিনদিন পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল সরকার। বলা হয়েছে, প্যাডেল চালিত যেসব রিকশা ও ভ্যানে ব্যাটারি বা মোটরযন্ত্র লাগানো হয়েছে সেগুলো থেকে ব্যাটারি ও মোটরযন্ত্র খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপুর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ যেসব অটোরিকশা স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটারিচালিত, সেগুলো চলবে আগের মতোই।

কোন বাহনে ব্যাটারি চলবে না, স্পষ্ট করল সরকার
স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটারিচালিত এই অটোরিকশাগুলো চলবে আগের মতোই। ছবি: সাইফুল ইসলাম

তবে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে বিপুল সংখ্যক বাহন থেকে মোটর ও ব্যাটারি খুলে ফেলতে হবে। কারণ, গত কয়েক বছরে বিপুল সংখ্যক রিকশায় মোটর লাগানো হয়েছে। এতে চালকদের কষ্ট কমার পাশাপাশি গতি দ্রুত হওয়ার কারণে, একই সময়ে বেশি ভাড়া পাওয়া যায়। ফলে আয় ভালো হয়। আর এ কারণে এই চালকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

গত রোববার সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা জোরদার করা ও এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত টাস্কর্ফোসের তৃতীয় সভায় সড়ক মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্যাডেল চালিত রিকশা ও ভ্যান থেকে ব্যাটারি বা মোটরযন্ত্র খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সারা দেশে রিকশা-ভ্যানের ভেতরে ব্যাটারিচালিত মোটর লাগিয়ে রাস্তায় চলছে। সামনের চাকায় শুধু ব্রেক। পেছনের চাকায় কোনো ব্রেক নাই কিংবা ব্রেকের ব্যবস্থা থাকলেও অপ্রতুল। সেগুলো যখন ব্রেক করে প্যাসেঞ্জারসহ গাড়ি উল্টে যায়। এ দৃশ্য আমরা দেখেছি। আমরা দেখেছি হাইওয়েতেও এ রিকশা চলে এসেছে।’

তিনি সেদিন আরও বলেছিলেন, ‘সে জন্য আমরা সারা দেশে, এই ধরনের ব্যাটারিচালিত রিকশাকে যারা ইঞ্জিন দিয়ে রূপান্তর করেছিলেন, সেই সমস্ত রিকশা-ভ্যান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আজকের সভাতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি হবে।’

সরকারের এ ঘোষণার পর সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এসব ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান চালকরা।

সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে না দিলে রাজপথে গরুর গাড়ি চালানোর হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সমানে বুধবার রিকশাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ হুমকি দেন।

সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়া না হলে সরকারকেও আমরা চলতে দেব না। সরকারকে শিক্ষা দিতে আমরা গরুর গাড়ি চালাব। রাজপথ গরুর গাড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব। একটা এসি গাড়িও আমরা চলতে দেব না।’

এ ঘটনার ঘণ্টা দুয়েক পরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন

খুব কড়া গাজীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট

খুব কড়া গাজীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট

ঢাকা থেকে গাজীপুরে প্রবেশে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট টঙ্গীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির আহমেদ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ফ্যাক্টরির কথা বললে সেটা আমি অ্যালাউ করব না। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা আছে সার্বিক লকডাউনের কথা।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার দ্বিতীয় দিনে নগরীতে ঢোকার অন্য প্রবেশমুখগুলো থেকে একটু আলাদা চোখে পড়েছে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা।

জরুরি সেবা ছাড়া অন্য কোনো পরিবহন বা ব্যক্তিকে ঢাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এমনকি গাজীপুরেও প্রবেশ করতে দেয় হয়নি কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, ব্যক্তি কিংবা পরিবহন।

টঙ্গীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির আহমেদ বুধবার সকাল থেকেই অবস্থান নেন টঙ্গী বাজারে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ সময় তিনি শুধু জরুরি পরিষেবার গাড়ি বা ব্যক্তিকে ছাড় দিয়েছেন।

এতে অবশ্য ভোগান্তিতেও পড়তে হয়েছে অনেককে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার থেকে ঢাকাকে সারা দেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় কঠোর লকডাউন। পাশাপাশি মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ীতেও শাটডাউন আরোপ করা হয়। এ অবস্থা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এক সপ্তাহের লকডাউনে সাত জেলায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। শুধু পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনে বিধিনিষেধ থাকবে না।

হঠাৎ করে আসা ঘোষণায় সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়ে। বাসের সীমাবদ্ধতা না জেনে অনেকেই ভিড় করেন বাসস্ট্যান্ড ও বাস টার্মিনালগুলোতে। তবে এক দিন পর কিছুটা বদলে যায় সেই চিত্র।

খুব কড়া গাজীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট
ঢাকা থেকে গাজীপুর প্রবেশের পথ টঙ্গীতে অবস্থান নিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

সরেজমিনে দেখা গেছে, আব্দুল্লাহপুর মোড়ের ঢাকার পরিবহনগুলো তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে আবার ঢাকায় ঢুকছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্য পরিবাহী ট্রাক, পিকআপ টঙ্গী ব্রিজ পার হলেও বাধার মুখে পড়ছে পুলিশ চেকপোস্টে।

সেখানে অবস্থান নিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ। বেশি কড়াকড়ি আরোপ করায় ব্যক্তিগত গাড়ি বা অফিশিয়াল গাড়িতে একজনের যাতায়াতও বাধা দেয়া হয়েছে।

গাজীপুর শিল্প এলাকা বলে বেশির ভাগ ব্যক্তিগত গাড়ির আবেদন তাদের যেন চলতে দেয়া হয়। কিন্তু সে আবেদনে সাড়া দেয়নি প্রশাসন। এ জন্য অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই দেখা যায়, বাটা কোম্পানির একটি গাড়ি আটকে দেন ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির। অনুনয় করলেও মেলেনি চলার অনুমতি।

এমন সময় বাটার এক কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদের সঙ্গে তর্কে জড়ান।

ওই কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রজ্ঞাপনের কথা মনে করিয়ে বলেন, ‘আপনি এভাবে গার্মেন্টস রিলেটেড গাড়ি বা ব্যক্তিকে আটকাতে পারেন না। একটা দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে এমন আচরণ মানায় না। আমি না গেলে আমার কোম্পানির ক্ষতি হবে।’

উত্তরে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘ফ্যাক্টরির নামে ইনডিভিজুয়াল গাড়ি আমি যেতে দেব না। আপনি চাইলে আবার প্রজ্ঞাপন দেখেন। সেখানে সার্বিক লকডাউনের কথা বলা আছে।’

একটা পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ ওই কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় করেন।

খুব কড়া গাজীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট
অনেকেই যানবাহন না পেয়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

একই রকম সুবিধা পেতে আরেকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্তা মো. সাঈদ ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান। অবশ্য তাকেও গাড়ি নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।

টঙ্গী ব্রিজের আগে আব্দুল্লাহপুর অংশ থেকে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বেশির ভাগই ব্যক্তিগত গাড়ি বা মাইক্রো। অধিকাংশ গাড়ির ওপরে বিভিন্ন কোম্পানির স্টিকার লাগানো। ভেতরে একজন বা দুজনের উপস্থিতি ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচলিত করতে পারেনি।

ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গাড়ির ক্ষেত্রে আমাদের এখানে অ্যালাউ করা হয়েছে শুধু পণ্যবাহী ও জরুরি পরিষেবা। এখানে অনেকেই আসছেন যে আমাদের ফ্যাক্টরির গাড়ি।

‘আসলে সেগুলোকে জরুরি পরিষেবা বলা যাবে না। বিশেষ ব্যবস্থায় গার্মেন্টস বা শ্রমিকদের যাওয়া-আসার জন্য সরকার থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে। সে ক্ষেত্রে আমরা সেটা অ্যালাউ করব।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ফ্যাক্টরির কথা বললে সেটা আমি অ্যালাউ করব না। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা আছে সার্বিক লকডাউনের কথা।’

কাল ট্রেনে, আজ হেঁটে

লকডাউনে বেশি বিপাকে রয়েছে সাধারণ মানুষ। শুধু ঢাকায় ঢোকা বা বের হওয়ার পয়েন্টগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করায় একধরনের ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

খুব কড়া গাজীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট
পরিবহন সব বন্ধ থাকলেও ভ্যান কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে যাত্রীরা গাজীপুরে ঢুকছেন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

গতকাল রাতে ট্রেনে ভোটার আইডি কার্ডের কাজে জয়দেবপুর থেকে ঢাকা এসেছিলেন ছোটন। বুধবার থেকে ট্রেন বন্ধ থাকায় তাকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। কোনোভাবে আব্দুল্লাহপুর আসলেও এখন যাওয়ার কোনো রাস্তা তার জানা নেই।

ছোটনের মতো সমস্যায় রয়েছেন মিনহাজুল করিম। সোমবার গাজীপুর থেকে ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় আসেন। এখন যাওয়ার জন্য তাকে যে ধকল পোহাতে হচ্ছে, এতে আরও অসুস্থ হয়ে যাবেন তিনি।

লকডাউনে কেন তারা ঘরের বাইরে এমন প্রশ্নে মিনহাজ বলেন, ‘অসুস্থতার তো কোনো ঠিক-ঠিকানা নাই। আপনি আমাকে না জিজ্ঞেসা করে এই রাস্তায় আর যারা আছে সবাইকে বলেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এত কষ্ট করে কেউ ঘর থেকে বের হয় নাকি।’

এখন যাত্রায় তাই সঙ্গী সিএনজি আর ভ্যান। ভাড়া দ্বিগুণ দিলেও একটু দূরের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে।

নিউজবাংলা খোঁজ নিয়েছে কীভাবে মানুষ গাজীপুর ঢুকছেন। টঙ্গী ব্রিজ পার হলে গাজীপুর যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। ঢাকা থেকে গাজীপুরমুখী বাসগুলো আব্দুল্লাহপুর এসে ঘুরিয়ে নিলেও সাধারণ যাত্রীরা এই পাশে এসে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গাজীপুর চৌরাস্তা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভাড়া ২০০ টাকা করে নিচ্ছে।

খুব কড়া গাজীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট
ঢাকায় চিকিৎসা করাতে এসে অনেক পরিবার গাজীপুরে ফেরার সময় বিপাকে পড়ে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক নিউজবাংলাকে বলেন, যারা গাজীপুর যাবেন তারা এখান থেকে সিএনজিতে উঠছেন। চৌরাস্তা পর্যন্ত কোনো ঝামেলা থাকে না। আবার ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটেও আব্দুল্লাহপুর হয়ে ভেতর দিয়ে মাইক্রো নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে।

সাব্বির আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেখেন আপনি তো এভাবে কোনো মানুষকে আটকাতে পারবেন না। একটা লোককে তো রাস্তায় রেখে যেতে পারব না। তাদের তো বের হয়া উচিত হয়নি।’

শেয়ার করুন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার পথে আগা খানও

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার পথে আগা খানও

ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া আগা খান মিন্টু

ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মোস্তাকুর রহমান, বিএনএফের কে ওয়াই এম কামরুল ইসলাম ও জাসদের আবু হানিফ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে আগা খান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৪ আসনে উপনির্বাচনে তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আগা খান মিন্টু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহজালাল বুধবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মোস্তাকুর রহমান, বিএনএফের কে ওয়াই এম কামরুল ইসলাম ও জাসদের আবু হানিফ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে আগা খান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ জুলাই।

এর মধ্যে কুমিল্লা-৫ আসনেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসেম খান। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় আসনটিতে আর ভোট হচ্ছে না।

তবে ২৮ তারিখের উপনির্বাচনে ভোট হবে সিলেট-৩ আসনে। সেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে লড়বেন জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) আতিকুর রহমান আতিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী।

শেয়ার করুন

এনআইডির নিয়ন্ত্রণ তবু ছাড়তে নারাজ সিইসি

এনআইডির নিয়ন্ত্রণ তবু ছাড়তে নারাজ সিইসি

কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘সরকারের কাছে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত হয়েছে এ রকম বলা যায় না। তারা নিতে চায় আমরা দেব না, এ রকমও বলা যায় না। সেই রকম অবস্থানে আমরা নেই। আমাদের বসতে হবে তাদের সঙ্গে, এটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কথা। বসলে আমাদের যে অবস্থান সেটা তাদের বোঝাব, সিদ্ধান্ত কী হবে তখন দেখা যাবে। এটা তো আগেই বলা যাবে না।’

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা টেবিল-চেয়ার না যে উঠিয়ে নিয়ে গেলাম। এটা নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এনআইডি সেবা হস্তান্তরের প্রজ্ঞাপন হয়ে গেলেও আলোচনার সুযোগ থাকছে কি না এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, থাকছে।

অনেক বড় প্রতিষ্ঠান তো এটা। কীভাবে নেবে না নেবে এ বিষয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে। এটা তো টেবিল-চেয়ার না যে উঠিয়ে নিয়ে গেলাম। বসতে হবে।

এনআইডি সেবা চলে গেলে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের অসুবিধা হবে।’

সিইসি বলেন, ‘নিশ্চয়ই সচিব পর্যায়ে এ বিষয়ে কথাবার্তা হবে। আমাদের সুবিধা- অসুবিধাগুলো তাদের জানাব।’

কমিশন থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেয়া হয়েছিল, তার উত্তরে তারা কী বলেছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা শুধু বলেছেন যে আগের সিদ্ধান্তেই আছেন। এটার ওপরে অনেক কাজ রয়েছে। আমাদের সঙ্গে উনারা বসবেন, অবকাঠামো নিয়ে হিসাবপত্র আছে সেগুলো নিয়ে প্রক্রিয়া আছে তার ওপরে সিদ্ধান্ত হবে। আমরা তো আমাদের অবস্থান অনেক আগেই বলেছি।’

এনআইডির নিয়ন্ত্রণ তবু ছাড়তে নারাজ সিইসি

‘জাতীয় ভোটার দিবসের’ অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত হয়েছে এ রকম বলা যায় না। তারা নিতে চায় আমরা দেব না, এ রকমও বলা যায় না। সেই রকম অবস্থানে আমরা নেই। আমাদের বসতে হবে তাদের সঙ্গে, এটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কথা। বসলে আমাদের যে অবস্থান সেটা তাদের বোঝাব, সিদ্ধান্ত কী হবে তখন দেখা যাবে। এটা তো আগেই বলা যাবে না।’

‘সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে কমিশনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেবিনেট তো আমাদের কাছে উচ্চ পর্যায়। কেবিনেট থেকে আমরা চিঠি পেয়েছি। তাদের আমরা উত্তর দিয়েছি। আমরা এই পর্যায়ে আছি। তারা যদি এ বিষয়ে আমাদের কাছে মতামত অথবা পরামর্শ বা তারা কী করতে চায়, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের সচিবের সঙ্গে বসে তখন আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হবে।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই কথা তো আমি বলেছি অনেকবার যে, কমিশন চায় এনআইডি আমাদের কাছে থাকুক।’

সিইসি বলেন, ‘সরকার কী যুক্তিতে চায়। তাদের অবশ্যই কিছু যুক্তি আছে। আমাদেরও কিছু যুক্তি আছে, এগুলো নিয়ে সংলাপ হবে। তাদের বক্তব্য হলো, এই সেবা নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে না এবং সেই যুক্তিটা ঠিক। আসলেই অন্য কোনো দেশে এটা থাকার বিষয় না।

‘আর আমাদের যুক্তি হলো, এই কাজটা আমাদের অনেক পরিশ্রমের ফসল। এই কাজটা করার জন্য আমাদের কয়েক হাজার নিবেদিত কর্মী তৈরি হয়েছে এবং তারা অত্যন্ত প্রফেশনাল। এত দিনের ভুলভ্রান্তি শেষে সব পেরিয়ে অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের প্রযুক্তিসম্পন্ন কাজ তারা তৈরি করতে পেরেছেন। এটার জন্য নির্বাচন কমিশন গর্ববোধ করে। তারা এর জন্য আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

‘এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলেছিলাম যে, এতগুলো লোক আবার তৈরি করা, আবার ১২ বছর ঘুরে অন্য কোনো ডিপার্টমেন্টের পক্ষে সম্ভব না। তাদের যুক্তি হলো সরকারের জিনিস তারা নিয়ে যাবে। তোমরা তো সরকার না। আমরা বলি আমরা সরকার না কিন্তু সরকারের যখন যা দরকার হয়, আমরা সরকারকে সেসব সেবা দিতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে যে চিঠি পাঠিয়েছে সেটা হলো তারা নিয়ে যেতে চায়। আমাদের সঙ্গে তাদের কথা বলতে হবে। কীভাবে নেবে তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। সেখানে আমাদের আরও যেসব যুক্তি আছে সেগুলো তুলে ধরব। এরপর সরকার কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে বা না নেবে সেটা তো পরের কথা।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডায়লগে বসতে হবে। তারাই প্রপোজাল দেবে।’

ইসিতে রাখার সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা এখনই বলা যাবে না। আমাদের যু্ক্তি হলো এই রকম অভিজ্ঞ লোকেরা এগুলো তৈরি করেছে। তাদের আবার নতুন করে তৈরি করতে হবে। আমাদের যে লোকগুলো আছে তাদের মাধ্যমে সেবা যদি দিতে পারি তাহলে ভালো হবে। এটা আমাদের যুক্তি। ইভেনচুয়ালি কী হবে না হবে এটা এখনই বলা যাবে না।’

শেয়ার করুন