১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া গণফোরাম ছেড়ে দিলেও রাজনীতিতে থাকতে চান। তবে তিনি কী করতে যাচ্ছেন, সেটা স্পষ্ট নয়।
নিউজবাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রতি তার সহানুভূতি আছে। তবে এই দলটির অবস্থানও সুনির্দিষ্ট নয় বলে মনে করেন। আর এ কারণে এই দলে যোগ দেবেন না।
বিএনপি শাসনামলে গ্রেনেড হামলায় বাবাকে হত্যার পর ওই সরকারের শাসনামলে যা যা হয়েছে, সেগুলো নয়, রেজার ক্ষোভ আওয়ামী লীগের প্রতি। কেন এত দিনেও বিচার হবে না, সে প্রশ্ন তুলেছেন। এই মামলার আসামিদের একটি বড় অংশ বিএনপি নেতা, সেটা নিয়ে ভাবছেন না। রেজার ধারণা, তদন্ত ঠিকমতো হয়নি। এই হামলার পেছনে কারা, সেটি বের হয়নি।
গণফোরাম ছাড়লেন। রাজনীতি থেকে সরে গেলেন কি?
রাজনীতি থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই। গণফোরামের পলিটিক্সে একটা জটিলতা হয়েছিল, সেখানে আমি চাচ্ছিলাম না যে ব্যক্তিগত কোনো কারণে ব্যক্তিভিত্তিক মনোমালিন্যের জন্য দলের ক্ষতি হোক। কয়েকটা নীতিগত সমস্যা ছিল।
কী সেই সমস্যা?
এটা শুরু হয় ২০১৮ ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে থেকেই। ওই সময় যে নির্বাচনটা হয়েছিল, সেটাকে আসলে নির্বাচন বলা কঠিন। কিন্তু তারপরে কর্মসূচি নিয়ে আমি খুব হতাশ ছিলাম। কিন্তু তখন আমি কথা বলার মতো পজিশনে ছিলাম না। পরে আমি প্রেসিডিয়াম মেম্বার হলাম।
তখন একটা বড় সমস্যা হয়ে গেল। আমাদের এমপি সাহেবের (মোকাব্বির খান) সংসদে যাওয়া নিয়ে। আমরা সেটাকে বিবেচনা করে একটা ইতিবাচক অবস্থানে চলে এসেছিলাম অনেক আলোচনা তর্কবিতর্ক করে। আর তখন বেশির ভাগ লোকে বলেছে সংসদে যাওয়া উচিত। সেখানে আমার যুক্তি ছিল, এখন তো বিরোধিতা করার জন্য একটা রাস্তা লাগবে। সেটা এক ফুট জায়গা হোক না কেন।
নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করার একটা গ্রুপও ছিল। তবে বর্জন করে তো বসে থেকে লাভ নেই। যদি আন্দোলন করত তবে আমি অবশ্যই বলতাম যে বর্জন করা হোক। কিন্তু আমি কিছুই দেখি না। তিন মাস পরেও আন্দালনের কোনো লক্ষণ নেই। তখন মন্দের ভালো যে ওনাকে সংসদে পাঠানো হোক।
এটা নিয়ে কয়েকজন খুব বেশি অসন্তুষ্ট ছিল। তারা তখন একটা সেন্ট্রাল কমিটির মিটিং হলো। বলা হলো কেন ওনাকে (মোকাব্বির খান) বহিষ্কার করা হবে না।
তখন ওনাকে শোকজ দেয়া হয় আর উনি সেটার উত্তরও দেন, উত্তরে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম। তাই তাকে বহিষ্কার করা হয়নি। কিন্তু এটা কয়েকজন সিনিয়র নেতা মেনে নিতে পারেননি, তাই তারা কাউন্সিলে আসেননি।
আমাকে সাধারণ সম্পাদক করা হলো। মনোমালিন্যের শুরু হয়েছে ওখান থেকে। কারণ, আমি সংসদে যাওয়ার পক্ষে ছিলাম। এখন দলের মধ্যে একজন সিনিয়র নেতা আরেকজনকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করবেন, এটা আমি নিতে পারিনি। আর সেটা বাইরের মানুষের কাছে গিয়ে বলবে ‘সে রাইটিং প্যাড চুরি করেছে’ এমন আরও খারাপ কথা।
গণফোরাম থকে বেরিয়ে আসা কি আপনার নিজের সিদ্ধান্ত?
জ্বি, এটা আমার নিজের সিদ্ধান্ত। আমি এ ব্যাপারে স্যারের সঙ্গে (ড. কামাল হোসেন) আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার থেকে দলের কারও দায়ভার বহন করতে হবে না। আমার পরিবারের কথা তো ভাবতে হয়। আমি যখন ২০১৮ সালে দেশে চলে আসি, তখন তো তাদের সেক্রিফাইস করতে হয়েছে। আমি তো বেতনে চলি। দেশে এসে কাজ করার ইচ্ছা আমার সব সময় আছে। এটা বাবা-মা চাইতেন। সেই ইচ্ছা পূরণ করার সঙ্গে আমার নিজের ইচ্ছাও ছিল।
আপনার বাবা তো আওয়ামী লীগ করতেন। কিন্তু আপনি দলটি নিয়ে এখন হতাশ।
আমি ওই আওয়ামী লীগ নিয়ে একটুও হতাশ না। আমার বাবা যে আওয়ামী লীগ করতেন সেই আওয়ামী লীগ তো এখন আর নেই। ওই আওয়ামী লীগ এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে।
ওই আওয়ামী লীগ এবং এখনকার আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
আমি আব্বার কথা দিয়েই বলি। প্রথমে দুই বছর বিএনপির সময় নিল আব্বার হত্যার তদন্ত ও বিচার ঠিকমতো হয়নি। চার্জশিট দেয়নি ঠিকমতো। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আরও দুই বছর সময় নিল। আর আওয়ামী লীগ ১২ বছর।
একটা সুষ্ঠু তদন্ত করার মতো তাদের ইচ্ছা ছিল না, বা ক্ষমতা ছিল না? যেটাই হোক তাদের ব্যর্থতা। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার নীতিগত ব্যাপারে মিল নেই। আদর্শের মিল নেই। আদর্শহীন একটা দল। তারা যে গণতন্ত্রের কথা মুখে বলে আর যে কাজটা করে সেটা ঠিক না। বিরোধী দলের কোনো কথা তারা সহ্য করে না। হত্যা, মানুষকে তুলে নেয়া, মিথ্যা মামলা। এ ছাড়া ইকোনমিক পলিসিতে আমি তাদের সঙ্গে একমত না। একটা গ্রুপের জন্য তারা কাজ করে। যেটা পাকিস্তানে হয়।
এই সরকারের আমলেই তো বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সূচকে পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে, ভারতকেও বহু সূচকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। সেটা কি বিবেচনায় আনবেন না?
হিসাবের কিছু ব্যাপার আছে। বাংলাদেশে খুব বেশি লোক জিডিপির হিসাব জানে না। আমি এটা করেছি। আমি ৩৫ বছর ধরে এগুলো করছি। জিডিপির বিষয় নিয়ে খুব বেশি লাফালাফি করা উচিত না। আর একটা হিসাবে সেটা হলো পিপিপির হিসাবে আমরা ভারত থেকে ১০০০ ডলার পিছিয়ে। আর একটা হলো একচুয়্যাল এক্সচেঞ্জ রেট হিসেবে। আমি এই টেকনিক্যাল আলোচনাতে যাব না।
হ্যাঁ, আমি মনে করি এটা খুব সুখবর। কিন্তু আমাদের দেশে যে সাত কোটি মানুষের পরিবারে তারা ঠিকমতো খেতে পারে না, এটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানে বলা হতো, ২২টা ফ্যামিলি পুরো সম্পদের ৬০ ভাগ দখল করে রেখেছিল। এখন তো আরও কম পরিবার সেটার মালিক দেশে।
আমি মনে করি, এটা পুরোনো আওয়ামী লীগের আদর্শের বিপক্ষে। আমার বাবা যেটা করেছিলেন, সে সময় বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, তার সঙ্গে বেকারত্ব দূর করা ও ভূমিহীনদের জন্য কাজ করা, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা, লোন ইনফ্লেশন দিয়ে কাজ করা। আব্বুর সময় দেড় শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি ছিল। যেটা খুব কম। কিন্তু এখন এই প্রবৃদ্ধির কথা শুনে যে না খেয়ে আছে তাকে বিদ্রূপ করা।
আর একটা হলো, ভোটের অধিকার। সেটা এখন হাসাহাসি বিদ্রূপের অবস্থায় চলে গেছে। যার জন্য দেশে বিদেশে লজ্জা লাগে।
দল থেকে পদত্যাগের বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে যারা গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে, আমি তাদের সঙ্গে কাজ করে যাব’। এটি অস্পষ্ট। আসলে আপনি কী করতে যাচ্ছেন?
এদেশে আমি কখনও কাজ করতে পারব কি না, সেটা জানি না। আমি জাস্ট এসেছি যদি একটু সুযোগ পাই তবে করব। ওই পর্যন্ত হয়নি বাট আল্লাহর যদি ইচ্ছা হয় তো করব। এই ইচ্ছা নিয়ে আসা। গণতন্ত্রের জন্য কাজ করব।
ড. কামালকে যত দিন দেখলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যত দিন মিশলেন, তাতে গণফোরামের দল হিসেবে বিকশিত হতে না পারার কারণ কী মনে হয়েছে?
সত্যি কথা বলতে যে গণফোরামে আসার আগে বুঝিনি। আমি ওনার দিকে তাকিয়ে এসেছি। ওনার মেধা, বুদ্ধি, বিবেক এগুলা। আমি ওনাকে অনেক বছর ধরে চিনি। সবকিছু মিলে আমি ওনাকে দেখে এসেছি। কিন্তু দলের মধ্যে আমার মনে হয় না ওনাকে যাচাই করার মতো, মূল্যায়ন করার মতো ক্ষমতা খুব বেশি লোকের নাই। তাই উনি কীভাবে কাজ করতে পারবেন দলের জন্যে সেটা জানা নেই।
ড. কামালকে কি কখনও গণমানুষের মনে হয়েছে?
উনি চেষ্টা করেন রিচ করতে। কিন্তু সবার পক্ষে গ্রামে গিয়ে ভোট চাওয়া, ভোটের জন্য কাজ করা এটা সম্ভব না। সবাই তো ওই পলিটিক্সের জন্যে না। কিছু মানুষকে পলিসি করতে হবে, কিছু মানুষকে নীতিনির্ধারক হতে হবে। ওই বয়সে গিয়ে ক্যাম্পেইনিং করা আসলে ওনার পক্ষে সম্ভব না।
আর দলের মধ্যে কেন অগ্রসর হতে পারেনি এটা ওনাকে কেউ যাচাই করতে পারেনি। ওনাদের কথাবার্তা আমি যা শুনেছি, তাতে মনে হয়েছে ড. কামাল হোসেনকে তারা মফস্বলের অ্যাডভোকেট থেকে একটু ভালো মনে করে।
তবে কিছু লোক আছে, যারা ২৬ বছর ধরে ওনার সঙ্গে থেকেছে। কিন্তু কিছু আছে, যারা দলের পজিশন নিয়ে লোভ করে। আব্বা ২০০৫ সালে মারা যাওয়ার পর তো আওয়ামী লীগ চেয়েছিল আমাকে নমিনেশন দিতে। তখন তো আমি সিমপ্যাথিতে জিতে যেতে পারতাম।
তাহলে আপনার আব্বার হত্যার বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে আপনার মধ্যে একটা বড় ধরনের ক্ষোভ আছে...
হ্যাঁ, অভিয়াসলি এটা আমার মাইন্ডে আছে। তার চেয়ে বড় কথা, দেশের জন্য কাজ করা। শুধু রাজনীতি করব বাবার হত্যার বিচার করার জন্য, তা নয়। আমাকে অনেকেই বলেছে যে আপনি আওয়ামী লীগের মন্ত্রী বা এমপি হন তখন আপনি বিচার করতে পারবেন। কিন্তু দেশের কত মানুষ এমন হত্যার শিকার হয়েছে আর সেটার বিচারের জন্য কি এমপি-মন্ত্রী হতে হবে? এ কারণে আমি রাজনীতি করি, তা নয়।
আপনার বাবার হত্যা মামলাতেও তো বিএনপির তিন জন নেতা আসামি। যাদের একজন বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। একজন সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র। একজন হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র।
কিন্তু কারও দলীয় পরিচয় নিয়ে মাথা ঘামাই না। কারা আসল হত্যাকারী ছিল তাদের চিহ্নিত করেন সেটা যে দলেরই হোক না কেন। আই ডোন্ট কেয়ার। আর বিএনপির যে কয়েকজনের নাম তারা দিয়েছে কিন্তু আমি তো সব সময় বলছি আপনাদেরকে যে এই তদন্তে আমার মা আসমা কিবিরিয়া ১০ বছরে ৮৩ বার রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন।
আপনার মা শান্তির জন্য নীলিমা কর্মসূচি দিয়েছিলেন তখন
হ্যাঁ, এটার নাম দিয়েছিলেন শামসুর রাহমান। আর রক্তের অক্ষরে শপথের সঙ্গে স্বাক্ষর এটা শামসুল হক সাহেব দিয়েছিলেন। আম্মা করেছেন। কিন্তু আমাদের দুটি দাবি আমি সব সময় বলেছি।
একটা হলো, গ্রেনেডের উৎস কী? আর দুই নম্বরটা হলো, মদতদাতা কে? যে গ্রেনেড ছুড়ে মেরেছে, যে ট্রাক চালিয়েছে, যে লাইট অফ করেছে এটা তারা টাকা পেয়েছে একজন থেকে আর তারা কাজটা করেছে। আসল মদতদাতাদের দিকে যেতে তদন্তকারীরা চায় না। আমি বিশ্বাস করি, একটা মিথ্যা তদন্তের ওপর সুষ্ঠু বিচার হতে পারে আমার মনে হয় না। তাই কোনো চার্জশিট আমরা মানি না।
তিনটা চার্জশিট দেয়া হয়েছে। একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো মিল নাই। ওই সময় একজন এমপি আছেন যিনি আমার মাকে পর্যন্ত ধমক দিয়েছে এ ব্যাপারে। এটা আপনাকে মানতে হবে। মানবেন না মানে? সরকার এটা চায়।
এমপি কে ছিলেন?
তার নাম মজিদ খান। বানিয়াচংয়ের সংসদ সদস্য। তিনি বাদী ছিলেন। তার অনেক ব্যাপার আছে। মানুষ বুঝতে পারছে যে ওরা একটা রাজনৈতিক শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।
পেশাগত জীবনে বহুকাল দেশের বাইরে ছিলেন। দেশের রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা এক বছরের মতো। পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে আমাদের রাজনীতির মৌলিক পার্থক্য কোথায়?
সবখানেই সমস্যা আছে। গণতন্ত্র পারফেক্ট না। সবগুলোর চেয়ে ভালো কিন্তু তা-ও সমস্যা থাকে। ইউরোপীয় ডেমোক্র্যাসির জবাবদিহি আছে। স্ট্রং মিডিয়া, স্ট্রং প্রেস। জার্নালিস্ট যদি সাহস করে কিছু বলে তাদের কেউ ফোন করে বলে না যে, পা ভেঙে দেব, আক্রমণ করব, মিথ্যা মামলা দেব।
এটা বাংলাদেশে নেই। আর আপনার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও তো আপনি ভয়ে কোনো কিছু লিখবেন না। আমার ইন্টারভিউয়ের কথাই আপনি পুরোপুরি দিতে পারবেন না। আর এতে কী হয়েছে, বাইরের জার্নালিস্টরা যাদের এ ধরনের সমস্যা নেই তারা আমাদের দেশের জার্নালিজমের যে ঘাটতি তা তারা মেকআপ করছে। আমরা এখানে থেকে জাস্টিফাই করে যাচ্ছি।
আপনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেছেন। আপনি কি কোনো কথা বলতে গিয়ে কখনও বাধার মুখে পড়েছেন? বা এমন কিছু জানেন, যেটা নিজের মধ্যে না বলে ভয়ে চেপে রেখেছেন?
দলের মধ্যে তো একটা প্রেশার আছে। যখন আমি দলের মধ্যে কথা বলেছি, তখন তো একটা ব্যালান্স নিয়ে কথা বলেছি। সবাই তো একমতের না।
এটা তো দলের বিষয়। বাইরে?
হ্যাঁ, আমি তো আপনাকে বলছি কিন্তু আপনি তো লিখতে পারবেন না। এই যে আমি আপনাকে বলছি, এই অত্যাচারী, অদক্ষ, অসৎ এবং স্বৈরাচারী সরকারের মোটামুটি একটা কন্ট্রোল আছে দেশের সব সেক্টরে। সবার ওপর। তারা যে মানুষকে ক্ষতি করতে পারে সেটা তারা প্রমাণ করেছে। তারা বারবার প্রমাণ করে।
তাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ বিএনপির ওপরে। আমার এলাকায় যে মানুষকে অত্যাচার করেছে, সেটা আমি দেখেছি। একজন মানুষকে পায়নি। তার ১৫ বছরের ছেলেকে তুলে নিয়ে গেছে। একটা স্বাধীন মুক্ত দেশে এটা হতে পারে না।
এটা মিডিয়ার অনেক লোক বলেছে, এটা নিয়ে বেশি বলাবলি করা যাবে না। আমি একটা লোকের বাসায় গিয়েছি, আমার এলাকায়। তাকে রাত তিনটার সময় পুলিশ এসে ধরে নিয়ে গেছে। তার অপরাধ সে আমার কিছু পোস্টার লাগিয়েছে। কত সিরিয়াস অপরাধ! এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে সম্মান পাওয়া যায় না।
আওয়ামী লীগের একটা কিছু কি মনে হয়েছে, যে প্রশংসা করা যাবে?
না, ছোটখাটো দুই-একটা ব্যাপার থাকতে পারে। কিন্তু তারা যে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দিচ্ছে, গরিব মানুষদের অবস্থা আরও খারাপ করে দিচ্ছে, ব্যাংক লুট করেছে, বাজেটে ১০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট ৫০০ কোটি টাকা করে নিয়েছে। খুব বেশি প্রশংসনীয় কিছু থাকে না। যেগুলো করেছে সেগুলো জঘন্য।
গুঞ্জন আছে, নিজেই দল করতে যাচ্ছেন। এমনও কথা শোনা যাচ্ছে, একটি বড় দলের বেশ কিছু নেতা আপনার সঙ্গে আছেন। এগুলো কি শুধুই গুঞ্জন নাকি বাস্তবতাও কিছু আছে?
অনেক দলের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। আমি নিজে কোনো দল প্রতিষ্ঠা করব এই ধরনের খবর আমি এখনও পাইনি।
জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা বিএনপিকে নিয়ে জোট গঠনে গণফোরামের ভেতরে আপত্তি ছিল। সমঝোতাটা তাহলে পরে কীভাবে হলো?
আমি একটু সিঙ্গেল মাইন্ডেড এ ব্যাপারে। এই অত্যাচারী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো দরকার। আর এ ক্ষেত্রে দেশের যেকোনো রাজনৈতিক দল একমত থাকে, আমি তাদের সঙ্গে কাজ করতে রাজি আছি।
আওয়ামী লীগের একটা ভালো কাজ পেলাম যে, হ্যাঁ তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে। তবে সেখানেও আমি বলতে চাই, বিচারটা সুষ্ঠুভাবে করুন। সবার কথা শুনুন। প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে সেটাও তো রং (ভুল)।
তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন, এই সরকারকে হটানোর জন্য আপনার সঙ্গে যে কেউ যুক্ত হলে আপনি তাদের স্বাগত জানাবেন?
জামায়াতে ইসলামী বলে কোনো দলের এখন নিবন্ধন নেই। আমি তৃতীয় শক্তি, চতুর্থ শক্তি, পঞ্চম শক্তি, সবগুলোকে ওয়েলকাম করি। মানুষ বিবেচনা করবে। এখানে প্রতিযোগিতা লাগবে।
৫০ বছর আগে কী করছেন তা নিয়ে গর্ব করে তো কিছু হবে না। আমাদের নতুন প্রজন্ম যারা বেকার তাদের তো কিছু দিতে হবে। এখন যে বিরোধী দল (জাতীয় পার্টি) আছে তাদের তো কোনো ভূমিকা নেই। তারা সরকারের ভেতরে থেকে কাজ করলে কিছু করতে পারবে না।
আপনার কি মনে হয় বিএনপি কি এই সরকারের বিপক্ষে শক্ত কোনো অবস্থান নিতে পারবে?
খুব কঠিন। তাদের জন্য আমার সিমপ্যাথি আছে। এতগুলো কেস (মামলা) থাকা সত্ত্বেও তারা এই সরকারের বিপক্ষে নামছে।
তারা বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে?
দেখা যাক কী হয়। আমি ওদের ব্যাপারে কোনো ক্রিটিসাইজ করতে চাই না। আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগ একটা জনমুখী দল ছিল। তাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা ছিল মানুষের মধ্যে। তারা যে এমন ঘৃণিত হয়ে যাবে, তা আমি আশা করিনি। এই ১২ বছরের জন্য দেশে পরিবর্তন আসবে।
বিএনপি নিয়ে কোনো পরিকল্পনা?
সে রকম কোনো পরিকল্পনা আমি করিনি। বিএনপি নিয়ে ক্লিয়ার না আমি। আমি কী করতে চাই, তা আমি আগেই বলেছি। বিএনপিকে আমি ঠিক বুঝতে পারছি না যে, তাদের কতটুকু অ্যাম্বিশন। তাদের যদি অ্যাম্বিশন হয় সেটা এখনি বলুক। তারা যদি ক্ষমতায় এসে বলে আমরা আওয়ামী লীগ থেকে ১০ ভাগ ভালো হব, এটা যদি অ্যাম্বিশন হয় তাহলে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট না। একটা কমপ্লিট চেঞ্জ দরকার রাজনীতিতে। বিএনপি তেমন যদি কোনো নীতি দেখায় তাইলে পসিবল।
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক রেলমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সরকার দলীয় হুইপ জিকে গউছকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে এ রায় দেন সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার।
রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন তিনজনই। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেন আদালত।
সকালে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন এই তিনজন—জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।
আদালতে আসামিরা জানালেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশে হয়রানিমূলকভাবে মামলাটি করে। শুরুতে এজাহারে তাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
হুইপ জিকে গউছ বলেছেন, ‘এই মামলার কারণে সাড়ে ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এ মামলায় আমাকে আসামি করা হয়। আমি মামলার বাদীর শাস্তি দাবি করছি।’
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বিস্ফোরণে অল্পের জন্য বেঁচে যান এই নেতা।
তবে যুবলীগের এক কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।
গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন তিনি। দুই মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর বাবর, আরিফুল, জিকে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে গঠন করা হয় অভিযোগ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে জনমত গঠন এবং বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১ থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত দেশের সব জেলা ও মহানগরে সেমিনার আয়োজন। এ ছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই চিত্র প্রদর্শনী ও গ্রাফিতি অঙ্কনের কর্মসূচি পালন করা হবে।
জোটের নেতারা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশের পাশাপাশি ৫ আগস্ট সারাদেশের জেলা, উপজেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে এক তীক্ষ্ণ বক্তব্য দিয়েছেন ময়মনসিংহ-১০ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কিছু ব্যক্তি জুলাই যুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে নিজেদের ভাগ্য বদলে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আক্তারুজ্জামান বলেন, “আমরা জুলাই যুদ্ধ করেছি। আমি নিজেও করেছি। আমাদের এইখানে যাঁরা আছেন, অনেকেই জুলাই যুদ্ধ করেছেন, আমাদের সন্তানেরা করেছেন। কিন্তু অনেকেই জুলাই চেতনা বিক্রি করেন মাননীয় স্পিকার। আমরা জুলাই চেতনা বিক্রি করি না। আমরা জুলাইকে ধারণ করি।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, জুলাই বিপ্লব কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়। অথচ একদল মানুষ এই চেতনাকে হাতিয়ার করে রাতারাতি বিত্তশালী হয়ে উঠেছেন।
যাঁরা জুলাই চেতনা ‘বিক্রি’ করছেন তাঁদের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, “আমি অনুরোধ করব উনারা আগে কিসে চড়তেন, এখন কিসে চড়েন? উনারা আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডোতে চড়েন। কোন বাসায় থাকেন উনারা, মাঝেমধ্যে লাইভ করেন, কোন বাসায় থাকেন একটু লাইভ করলে এই জাতি দেখত।” তিনি দাবি করেন, এই ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনই বলে দেয় তাঁরা কীভাবে বিপ্লবের আবেগকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছেন।
বাজেট প্রসঙ্গে আক্তারুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের দাম কমানো হয়েছে এবং শুধুমাত্র মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা বাজেট’ বলে সমালোচনা করার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি রসিকতা করে বলেন, “আমরা শুনেছি, চানাচুর বাচ্চারা খায়। আবার বড়রাও খায়, কখন? অন্য কিছু খাওয়ার পরে নাকি চানাচুর খায়।” সরকারের এই জনবান্ধব বাজেট দেশবাসী সাদরে গ্রহণ করেছে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন।
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান জাতীয় সংসদে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ বিগত বছরগুলোতে দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজন্মকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে, যার ফলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে দলটির রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের ১৫তম দিনের বৈঠকে ডা. মাহবুবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শাসনকালে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্নভাবে দমন-পীড়ন চালিয়েছে। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ তিনটি জেনারেশনকে ইনজুর্ড (আঘাত) করেছে। একটি হচ্ছে স্কুল, আরেকটি কলেজ, অন্য একটি ইউনিভার্সিটি।” তিনি নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তীতে সরকার পতনের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন যে, এই তিনটি প্রজন্মের ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সাক্ষী হয়ে আছে।
সংসদ সদস্য আরও মন্তব্য করেন যে, এই তিনটি প্রজন্মের মানুষ যতক্ষণ জীবিত থাকবেন, ততক্ষণ আওয়ামী লীগের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে যে ক্ষত ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের বিচার এবং নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ছোট ছোট মুদির দোকানের আয় অত্যন্ত সীমিত, তাই তাদের এই করের আওতায় আনা সমীচীন হবে না। এর পরিবর্তে যারা কর দেওয়ার প্রকৃত সক্ষমতা রাখা সত্ত্বেও করজালের বাইরে রয়েছেন, তাদের আইনের আওতায় আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ উল্লেখ করে রিজভী জানান, সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রীয় সকল নীতি নির্ধারিত হবে। তিনি দাবি করেন, অতীতে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন কখনোই জনস্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। রাজনৈতিক নানা ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও দলের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক ভিত্তি অটুট রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে সরকারকে আরও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামাঙ্কিত একটি সড়কের নাম পরিবর্তনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই পদক্ষেপকে ‘রুচিবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, উপমহাদেশের একজন প্রথিতযশা নেতার প্রতি এমন আচরণ কাম্য নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়নি। বিপরীতে বাংলাদেশ ভারতের বিভিন্ন নেতার নামে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বহাল রেখে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচয় দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর চলমান চীন সফর নিয়ে উচ্চাশা ব্যক্ত করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের উদ্যোগ বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ সৌরশক্তি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর-সুবিধা প্রদানের বিষয়টিকে তিনি সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন প্রসঙ্গে রিজভী মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে দেশ একমুখী নীতির পরিবর্তে একটি শক্তিশালী বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই পথেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই কূটনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ‘চীনের কমিউনিস্ট পার্টি’ (সিপিসি)-র মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। দুই দলের মধ্যে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক সমঝোতা এটাই প্রথম, যা দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকে বিএনপির পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও দলের যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে স্বাক্ষর করেন দলটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিও হাইশিং। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতও এই ঐতিহাসিক ক্ষণে বেইজিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমঝোতা স্মারকের ফলে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই দলের এই নিবিড় সম্পৃক্ততা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ভবিষ্যতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সমঝোতার বিস্তারিত বিষয়াদি নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য জানানো হবে বলে জানা গেছে।
রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
সরকারের বিরুদ্ধে নতুন ফ্যাসিবাদের অভিযোগ তোলা বিরোধীদলের নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই আসলে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায় বলে মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে কোনো ধরনের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরের মাধ্যমে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং সরকার রপ্তানি বাড়াতে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেবে।
এ ছাড়া সংসদে জুয়া নিষিদ্ধ করার জন্য বিল উত্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড নির্মূলে বর্তমান সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছে এবং নির্বাচনের প্রাক্কালে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সক্ষম রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও তিনি তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য