× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

জাতীয়
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
hear-news
player
print-icon

‘আনসারুল্লাহর’ দুই সদস্য গ্রেপ্তার

আনসারুল্লাহর-দুই-সদস্য-গ্রেপ্তার নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে এবিটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
এটিইউর পুলিশ সুপার আসলাম খান বলেন, মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নরসিংদীর রায়পুরা থানা এলাকায় হিজবুল্লাহকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন হিজবুল্লাহর দেয়া তথ্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকা থেকে নুরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।

এটিইউর পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস) আসলাম খান বুধবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হিজবুল্লাহ মিয়া ওরফে রাসেল আহমেদ ও নুরুল আলম।

আসলাম খান বলেন, মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নরসিংদীর রায়পুরা থানা এলাকায় হিজবুল্লাহকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই হিজবুল্লাহর দেয়া তথ্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকা থেকে নুরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুইটি মােবাইল, দুইটি মেমােরি কার্ড, চারটি সিম ও সাতটি উগ্রবাদী বই জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, একটি গ্রুপে ‘এই শতাব্দী ইসলামের বিজয়ের শতাব্দী’ খুলে পরিচালনা করতেন হিজবুল্লাহ। পরে আরও সদস্যদের ওই গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে যােগ করেন তিনি। এদের মধ্যে নুরুলও রয়েছেন।

পুলিশ সুপার বলেন, গ্রুপের বাকি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অনলাইনে জঙ্গিবাদ প্রচারসহ রাষ্ট্রবিরােধী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে খিলাফত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার ও আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নাশকতার জন্য পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি নেয়ার জন্য সিকিউরড গ্রুপ খুলে নিজেদের মধ্যে চ্যাটিং চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এ ছাড়া তারা ধর্মীয় সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের টার্গেট কিলিংয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে তাদের গ্রুপ চ্যাটিং থেকে পাওয়া যায়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় সন্ত্রাসবিরােধী আইনে মামলা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
Murder case accuseds decapitated body recovered

হত্যা মামলা আসামির গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার

হত্যা মামলা আসামির গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার আসামি এনামুল হক। ছবি: নিউজবাংলা
শেরপুর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহের গলায় ও পেটে ছুরির আঘাত আছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’  

বগুড়ার শেরপুরে এনামুল হক নামের এক হত্যা মামলার আসামির গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া মহাবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এনামুল হক হাপুনিয়া কলোনি এলাকার মোতালেব হকের ছেলে। স্থানীয় এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার আসামি তিনি।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, প্রায় ৭ বছর আগে সালমা খাতুন নামের এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন এনামুল। ওই ঘটনায় এনামুল প্রায় তিন বছর কারাভোগ করেন। এরপর জামিনে ছাড়া পান।

এর পরে থেকেই তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনভাবে এলাকায় চলাফেরা করতেন। রাতভর বাজারের আশপাশে ঘোরাফেরা করে সকালে বাড়িতে ফিরতেন তিনি।

বুধবার রাতে এনামুল ঘুরতে বাড়ি থেকে বের হন। স্থানীয়রা আজ সকালে তার গলা কাটা দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহের গলায় ও পেটে ছুরির আঘাত আছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে ড্রামে ব্যক্তির মরদেহ
কক্সবাজার সৈকতে দুই যুবকের মরদেহ
উত্তরায় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
স্ত্রী-দুই সন্তান হত্যা, পুলিশ হেফাজতে স্বামী-প্রতিবেশী
নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর নদীতে যুবকের মরদেহ

মন্তব্য

জাতীয়
A tourist was killed and seven others were injured when a microbus fell into a ditch in Thanchi

থানচিতে মাইক্রো খাদে পড়ে পর্যটক নিহত, আহত ৮

থানচিতে মাইক্রো খাদে পড়ে পর্যটক নিহত, আহত ৮ বান্দরবানের থানচিতে বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনার শিকার হয় পর্যটকবাহী একটি গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা জানায়, জীবননগর সড়কের ঢালে পর্যটকবাহী একটি কালো রঙের এক্সনোয়াহ মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ সময় আরও ৮ পর্যটক আহত হন।

বান্দরবানের থানচিতে পর্যটকবাহী মাইক্রোবাস খাদে পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন।

উপজেলার জীবননগরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা জানায়, জীবননগর সড়কের ঢালে পর্যটকবাহী একটি কালো রঙের এক্সনোয়াহ মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ সময় আরও ৮ পর্যটক আহত হন।

নিহত পর্যটকের নাম জানা যায়নি। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনকে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের উদ্ধারে কাজ করছে বিজিবি ও স্থানীয়রা।

আহত পর্যটকদের মধ্যে হামিদুল ইসলাম নামের একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।

আহত আরেক পর্যটক মো. ওয়াহিদ বলেন, ‘ঢাকা থেকে বান্দরবান বেড়াতে এসেছিলাম। থানচিতে যাওয়ার পথে জীবননগর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি খাদে পড়ে গেছে। গাড়িতে আমরা ৯ জন ছিলাম চালকসহ।’

দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি জানিয়ে থানচি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সত্যব্রত চাকমা জানান, গাড়িটি বান্দরবান থেকে থানচি যাচ্ছিল। আহত পর্যটকদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার (এসপি) জেরিন আখতার বলেন, ‘আমরা দুর্ঘটনার খবর শুনেছি। আমাদের লোক ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।’

হতাহতের বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি পুলিশের এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
শায়েস্তাগঞ্জে আতঙ্ক এক কিলোমিটারে
তেলবাহী ট্রাকচাপায় গেল প্রাণ
দাঁড়িয়ে থাকা লরিতে অটোর ধাক্কা, যাত্রী নিহত
জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সচাপায় বৃদ্ধ নিহত
‘সড়ক দুর্ঘটনায়’ বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট নিহত

মন্তব্য

জাতীয়
Complaint of removing the patient from the emergency department

জরুরি বিভাগ থেকে রোগী বের করে দেয়ার অভিযোগ

জরুরি বিভাগ থেকে রোগী বের করে দেয়ার অভিযোগ
চিকিৎসক রুবিনা বলেন, ‘রোগী তাড়াহুড়া করায় তাকে হাসপাতালের সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। কারণ তিনিই প্রেশার মাপেন। আর সাংবাদিকের বিষয়টা হলো, তখন আমার মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই ওভাবে বলেছি।’

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জরুরি বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জরুরি বিভাগের ওই চিকিৎসক রুবিনা আক্তার বলছেন, তিনি রোগীকে বের করে দেননি। প্রেশার মাপতে চাওয়ায় সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিলেন।

চিকিৎসা নিতে যাওয়া মুন্সী মহাসীন আলী নামের ওই রোগীর বাড়ি জীবননগর পৌর এলাকার হাই স্কুলপাড়ায়।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আমি জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যাই। সেখানে ডাক্তার রুবিনা আক্তার ছিলেন। ব্যথা বাড়তে থাকায় আমি দ্রুত চিকিৎসা দিতে বলি। তিনি তা না শুনে ওষুধ কোম্পানির এক রিপ্রেজেন্টেটিভের সঙ্গে গল্পে ব্যস্ত ছিলেন।

‘দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর প্রেশার মাপার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, প্রেশার মাপা তার কাজ না। যিনি প্রেশার মাপবেন তিনি বাইরে গেছেন। তিনি এসে প্রেশার মাপবেন।’

মহাসীন আরও বলেন, “আমার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমি তাকে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে অনুরোধ করি। তখন তিনি আমার ওপর রেগে যান। খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। আমি তার নাম জানতে চাইলে বলেন, ‘নাম শুনে কী করবি? এমপি টগরকে বলবি? বলগে যা। বলে যদি কিছু করতে পারিস করগে যা। এখান থেকে বের হয়ে যা'।”

পরে সেখান থেকে বেরিয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন মহাসীন।

তিনি বলেন, ‘একজন নাগরিক হিসেবে চিকিৎসাসেবা পাওয়া আমার অধিকার। সেখান থেকে আমাকে বের করে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আমি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেব।’

রোগীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ শুনে চিকিৎসক রুবিনার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন জীবননগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম আর বাবু।

বাবু বলেন, “আমি ফোন দিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে আপনি এভাবে প্রশ্ন বা জেরা করতে পারেন না। আপনার যা ইচ্ছা তা লিখতে পারেন।’ এই কথা বলে তিনি আমার কল কেটে দেন। ওই চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে জীবননগর প্রেস ক্লাব থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পাঠানো হবে।”

এসব অভিযোগের বিষয়ে রুবিনা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোগী তাড়াহুড়া করায় তাকে হাসপাতালের সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। কারণ তিনিই প্রেশার মাপেন। আর সাংবাদিকের বিষয়টা হলো, তখন আমার মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই ওভাবে বলেছি।’

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। আমি অফিসের জরুরি কাজে ঢাকায় আছি। ফিরে এসে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
তিন ভাগের এক ভাগ চিকিৎসক নিয়ে চলছে দিনাজপুর মেডিক্যাল
কোভিড হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশয়
আল্ট্রাসাউন্ডে ‘যমজ সন্তান’, প্রসব একটির
হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসা’য় নবজাতকের মৃত্যু
রোগীর মৃত্যুতে চিকিৎসককে ‘মারধর’, আটক ২

মন্তব্য

জাতীয়
The disease is decreasing in Sylhet

সিলেটে কমছে পানি, বাড়ছে রোগ

সিলেটে কমছে পানি, বাড়ছে রোগ বন্যার পানি কমে গেলেও বাড়তে শুরু করেছে পানিবাহিত রোগ। ছবি: নিউজবাংলা
সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পানি পুরো নেমে যাওয়ার পর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গ নিধনে ওষুধ ছিটানো এবং ময়লা-দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর উদ্যোগ নেয়া হ য়েছে।’

সালেক মিয়ার পায়ে ঘা হয়েছে। খুব চুলকায় সেখানে। সালেকের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নে। ৫ থেকে ৬ দিন পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল তার বাড়ি। তবুও বাড়ি ছেড়ে যাননি তিনি। পানিতে থাকতে থাকতেই পায়ে ঘা হয়ে গেছে তার।

সালেক বলেন, ‘শুধু আমার না, আমাদের বাড়ির আরও কয়েকজনের এমন হয়েছে। বাচ্চাদের হাতে-পায়ে ফোড়া উঠেছে। তাতে চুলকানি লেগেই থাকে।’

নগরের ছড়ার পাড় এলাকার একটি বস্তিতে থাকেন সুনাফর আলী। ৪ সদস্যের পরিবারে সবার ডায়রিয়া।

সুনাফর আলী বলেন, ‘এই কয় দিনে পচা পানির মধ্যে ছিলাম। খাবার পানিও পাইনি। এখন পানি নামলেও বাসার সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’

সিলেটে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। তবে বাড়তে শুরু করেছে পানিবাহিত রোগ। বেশির ভাগই ডায়রিয়া ও চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পানি আরও কমলে রোগবালাই আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস।

তবে আক্রান্ত বেশির ভাগই এখন পর্যন্ত বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগির চাপ এখনও তেমন বাড়েনি বলেও জানা গেছে।

আক্রান্ত ব্যক্তিরা বাসায় চিকিৎসা নেয়ায় রোগীর সঠিক তথ্যও নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে। তাই নগরের অনেকে রোগে আক্রান্ত হলেও সিটি করপোরেশনের কাছে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিলেটে কমছে পানি, বাড়ছে রোগ

এ দিকে বন্যা-পরবর্তী সময়ে রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে জেলায় ১৪০টি মেডিক্যাল টিম গঠন করেছে সিভিল সার্জন অফিস। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও নগরে গঠন করা হয়েছে আরও ৩টি টিম।

সিলেটের সিভিল সার্জন এস এম শাহরিয়ার বলেন, ‘বন্যার কারণে পানিবাহিত রোগ বেড়েছে। আমাদের হিসেবে এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৪৫০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি চর্ম রোগে ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন আরও কয়েকজন। গোয়ানঘাট উপজেলায় রোগীর সংখ্যা বেশি।’

তিনি বলেন, ‘পানিবাহিত রোগ যাতে না ছড়াতে পারে, সে জন্য আমাদের মেডিক্যাল টিম ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়ও কাজ করছে। তবে বন্যা-পরবর্তী পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।’

সিলেটে বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৪০টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে জানিয়ে জেলার এই প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, এর মধ্যে সিলেট সদরে ১০টি, দক্ষিণ সুরমায় ৮টি, বিশ্বনাথে ১১টি, ওসমানীনগরে ৯টি, বালাগঞ্জে ৭টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ১০টি, গোলাপগঞ্জে ১৬টি ও বিয়ানীবাজারে ১৬টি টিম গঠিত হয়েছে।

এ ছাড়া জকিগঞ্জে ১০টি, কানাইঘাটে ১২টি, গোয়াইনঘাটে ১০টি, জৈন্তাপুরে ১১টি এবং কোম্পানীগঞ্জে ৭টি করা হয়েছে। এর বাইরে জেলা সদরে ৩টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসব দলে চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট অনেকেই আছেন। প্লাবিত এলাকার সবখানেই যেন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রতিটি টিমকে নির্দেশনা দেয়া আছে।’

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধির শঙ্কা থাকে। তবে এ জন্য আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।’

সিলেটে কমছে পানি, বাড়ছে রোগ

তিনি বলেন, ‘ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের জন্য নগরের শাহী ঈদগাহ এলাকায় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নগরের রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সিলেট সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

পচা ও দুর্গন্ধ যুক্ত পানির কারণে চর্মরোগ ও ডায়রিয়া বেশি ছড়াতে পারে জানিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে তিনটি টিম মাঠে আছে, প্রয়োজনে আরও গঠন করা হবে। এ ছাড়া নগরে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পানি পুরো নেমে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা শাখার দল গঠন করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গ নিধনের জন্য ওষুধ ছিটানো এবং ময়লা দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটের ৫৮২ কিলোমিটার সড়ক
সিলেটে বানের জলে ১৯ হাজার খামারের মাছ
৬ দিন পর সুনামগঞ্জে বিপৎসীমার নিচে পানি
ফের বাড়ছে সুরমার পানি
মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ত্রাণ নিয়ে কাড়াকাড়ি, পুলিশের ‘লাঠিপেটা’

মন্তব্য

জাতীয়
A League 10 BNP won 4 seats in the Bar Council

বার কাউন্সিলে আ. লীগ ১০, বিএনপি ৪ পদে জয়ী

বার কাউন্সিলে আ. লীগ ১০, বিএনপি ৪ পদে জয়ী বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনের ফটক। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল ১৪টি পদের মধ্যে ১০টিতে জয়ী হয়। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল চারটি পদে জয়ী হয়।

আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনের বেসরকারি ফলে আওয়ামী লীগ ১০টি এবং বিএনপি ৪টি পদে জয়ী হয়েছে।

বুধবার দিনভর ভোট গ্রহণ শেষে রাতে গণনা করা হয়, তবে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করবে বার কাউন্সিল।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল বড় জয় পেয়েছে। প্যানেলটি বার কাউন্সিলের ১৪ পদের মধ্যে ১০টিতে (সাধারণ ৪ ও আঞ্চলিক ৬ পদ) জয়ী হয়।

সাধারণ পদে সাদা প্যানেলের জয়ীরা হলেন সৈয়দ রেজাউর রহমান, মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ রাজা, মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান বাদল ও মো. রবিউল আলম বুদু।

আঞ্চলিক পদে জয়ী ছয়জন হলেন আব্দুল বাতেন, মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন খান, এ. এফ. মো. রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু, আনিস উদ্দিন আহমেদ সহীদ, একরামুল হক ও আব্দুর রহমান।

অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সাধারণ পদে জয়ীরা হলেন জয়নুল আবেদীন, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও রুহুল কুদ্দুস কাজল। আঞ্চলিক পদে জয়ী হলেন এএসএম বদরুল আনোয়ার (চট্টগ্রাম)।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে প্রতি তিন বছর পর নির্বাচন হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে এ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হন। আর নির্বাচিত ১৪ সদস্যের মধ্য থেকে একজনকে ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়।

আরও পড়ুন:
ভোট না হলে বার কাউন্সিল চালাবে অ্যাডহক কমিটি, বিল পাস
বার কাউন্সিল অ্যাডহক কমিটি বিল সংসদে
আইনজীবী নিবন্ধনে মৌখিক পরীক্ষা ৩১ আগস্ট থেকে
বার কাউন্সিলে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি
ভোট না হলে বার কাউন্সিলে থাকবে অ্যাডহক কমিটি

মন্তব্য

জাতীয়
Hashem Alis dream has sunk

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন জামালপুরে বন্যায় ২০ গ্রামের পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা
‘প্রতি বছর সাধারণ ধান কাটা শেষে আষাঢ়ের মাঝামাঝি বন্যা আসে। এ বছর কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ যমুনার পানি ঢুকে পড়ে। বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুত না থাকায় এ এলাকার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।’

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের কাপাসহাঁটিয়া গ্রামের প্রান্তি কৃষক হাশেম আলী। কষ্টার্জিত জমানো টাকায় ১২ বিঘা জমিতে লাগিয়েছিলেন বোরো ধান। গত শনিবারের আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে তার স্বপ্নের ধান। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি।

শুধু হাশেম আলী নন। মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ও ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের কাপাসহাঁটিয়া, শেখ সাদি, টুপকারচর, ফকিরপাড়া, বেলতৈল, বাগবাড়ি, পূর্ব কাপাসহাটিয়া, তালুকপাড়াসহ ২০ গ্রামের আশপাশের কয়েক হাজার একর জমিতে বোরো আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত কৃষক।

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

শনিবার রাতে উজানের ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আকস্মিক বন্যায় এই ২০ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার জমির পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দিশাহারা এসব কৃষক যে যেভাবে পারছে ধান কাটার চেষ্টা করছে। কিন্তু শ্রমিক আর নৌকা সংকটের কারণে বেশির ভাগ ক্ষেতের ধান ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। আবার উৎপাদন খরচ না উঠায় অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন ধানের আশা।

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

কৃষক হাকিম আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পানিতে তলানো ধান কাটার জন্যে দেড় হাজার টাকা দিয়েও কামলা পাওয়া যাইতাছে না। যাগর একটু টাকা-পয়সা আছে, খালি তারাই ধান কাটতাছে। যাগর টাকা নাই তারা আর ধান কাটতে পারতাছে না। আমরা খুব কষ্টে আছি।’

কৃষক জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘তলায় থাকা ধান কাটার পর রাস্তা পর্যন্ত যে আনমু, এহন নৌকা পাওয়া যাইতাছে না। এডা নৌকা আনবের গেলে এক ঘণ্টার জন্যে ১০০০ হাজার টাকা দেওয়া লাগে। কামলা খরচ দিয়ে, নৌকা খরচ দিয়ে ধান কাইটে পুষাইতাছে না। তাই বেশির ভাগ ধান ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাইতাছে।’

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

কাপাসহাঁটিয়া গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি সাত বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। পানিতে ডুবে গেছে পুরো জমির ধান। দিনে দেড় হাজার টাকা মজুরি দিয়ে শ্রমিক আর ঘণ্টায় হাজার টাকার চুক্তিতে নৌকা ভাড়া নিয়ে দুই বিঘার ধান কেটে রাস্তায় তুলেছেন। বাকি ধান এখনও পানির নিচে ডুবে আছে।

কৃষক আকবর আলী বলেন, ‘আমরা যে ক্ষতির শিকার হয়েছি, এহন যদি সরকার আঙ্গরে সাহায্য না করে তাইলে সারা বছর না খায়ে থাকা লাগব।’

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

ঝাউগড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিল্লোল সরকার বলেন, ‘প্রতি বছর সাধারণত ধান কাটা শেষে আষাঢ়ের মাঝামাঝিতে বন্যা আসে। এ বছর কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ যমুনার পানি ঢুকে পড়ে। বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুত না থাকায় এ এলাকার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।’

মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, উপজেলায় এ বছর ২০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে ঝাউগড়া ও ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নেই আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর।

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

জামালপুর কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক শাখাওয়াত ইকরাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিমজ্জিত ধান কাটতে কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দেয়া ছাড়াও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
সারা দেশে বৃষ্টি আরও কয়েক দিন
বোরোর মৌসুমে ধান সংগ্রহ শুরু
ঘূর্ণিঝড় আসানি: আধাপাকা ধান কাটছেন চাষি
ঘুম ভাঙাল বৃষ্টি
শীতলতার পরশ নিয়ে এলো বৃষ্টি

মন্তব্য

জাতীয়
There was no case of attack on RAB

র‍্যাবের ওপর হামলায় হয়নি মামলা

র‍্যাবের ওপর হামলায় হয়নি মামলা বারৈয়ার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
র‍্যাবের ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের ইমরান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের সদস্যদের ওপর ডাকাত বলে হামলা করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ডাকাত আখ্যা দিয়ে সাদা পোশাকে থাকা র‌্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

বারৈয়ার পৌরসভার হাটবাজার এলাকায় বুধবার সন্ধ্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার থমথমে পরিস্থিতি দেখা গেছে। পুলিশ-র‌্যাব সদস্য এমনকি স্থানীয়রা কেউ এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে নারাজ।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন মামুন বলেন, ‘র‌্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না জানি না। তবে র‌্যাব নিজস্ব গতিতে অভিযান চালাচ্ছে। এখনও মামলা হয়নি।’

বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে ৯টার দিকে বারৈয়ার বাজারে দেখা যায়, র‌্যাব-পুলিশের অন্তত বিশটি গাড়ি সেখানে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। ছোট ছোট কিছু দোকান বাদে বেশির ভাগই বন্ধ। এ সময় দোকানদারদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বুধবারের ঘটনা কী ঘটেছে সেটি তারা জানেন না।

ঘটনাস্থলে কথা হয় পুলিশের মিরসরাই সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার লাবিব আব্দুল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এখানে রয়েছি। পরিস্থিতি যাতে অন্যদিকে মোড় না নেয়, সে জন্যই আমরা এখানে আছি।’

তবে উপস্থিত র‌্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা এ বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

এর আগে বুধবার মাগরিবের নামাজের পর চিহ্নিত দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে র‌্যাব সদস্য শামীম কাউসার, সিপাহি মোখলেসুর রহমান ও সোর্স মো. পারভেজ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

র‍্যাব-৭-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহতদের প্রথমে বারৈয়ারহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। গুরুতর আহত দুজনকে রাতেই হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

র‍্যাবের ওপর হামলায় হয়নি মামলা
ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. পারভেজ। হামলায় র‍্যাব সদস্যদের সঙ্গে তিনিও আহত হন। ছবি: নিউজবাংলা

হামলার বিষয়ে র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে আমাদের অভিযানের পরিকল্পনা ছিল। র‍্যাবের এই অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। মাদক ব্যবসায়ীরা জানতো যে র‍্যাব সদস্যরা রেকি করতে আসবেন।

‘তারা আগে থেকেই হামলার পরিকল্পনা করে রেখেছিল, কারণ শুধু জনগণ পেটালে খালি হাতেই মারত। তাদের মাঝখান থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছি।’

তবে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান র‍্যাব কর্মকর্তা।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা র‌্যাবের সহযোগী পারভেজ জানান, তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালায় একটি মহল। হামলার নেতৃত্বে তানভীর নামের একজনের কথা জানান তিনি।

তবে র‌্যাবের ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের ইমরান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের সদস্যদের ডাকাত বলে হামলা করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

আরও পড়ুন:
ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ‘ছাত্রলীগের’ হামলা, আহত ৩০
‘অসংখ্য কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার উদ্দেশ্য ছিল শ্বেতাঙ্গ যুবকের’
নিউ ইয়র্কে ‘বর্ণবিদ্বেষী’ হামলায় নিহত ১০, শ্বেতাঙ্গ আটক
জাফলংয়ে ফি আদায়ের আইনি বিধান জানতে চান মন্ত্রী
জাফলংয়ে পর্যটকদের মারধর, আটক ৫

মন্তব্য

p
উপরে