নির্বাচনি প্রচারে রিয়াজ অপু মাহিয়ারা

নির্বাচনি প্রচারে অভিনয়শিল্পীরা

নির্বাচনি প্রচারে রিয়াজ অপু মাহিয়ারা

অভিনয়শিল্পী রিয়াজ, মাহিয়া মাহি, অপু বিশ্বাস ছাড়াও এই দলে ছিলেন অরুণা বিশ্বাস, তারিন জাহান, তানভীন সুইটি, বিজরী বরকতুল্লাহ, সাইমন সাদিক ও মীর সাব্বির।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছেন এক ঝাঁক তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী।

রোববার বিকেল সাড়ে তিনটায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে থেকে নির্বাচনি প্রচারে যোগ দেন তারা।

অভিনয়শিল্পী রিয়াজ, অপু বিশ্বাস, মাহিয়া মাহি, ছাড়াও এই দলে ছিলেন অরুণা বিশ্বাস, তারিন জাহান, তানভীন সুইটি, বিজরী বরকতুল্লাহ, সাইমন সাদিক ও মীর সাব্বির।

প্রচার শুরুর সময় রিয়াজ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামবাসীর জন্য দুই হাত উজাড় করে দিয়েছেন। বিমানবন্দর থেকে আসার পথে এর প্রমাণ পেয়েছি। চট্টগ্রামে যে রাস্তা দিয়ে এসেছি, তা ইউরোপ-আমেরিকার রাস্তার মতো মনে হয়েছে।’

এ সময় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী নগরবাসীর কাছে ভোট চেয়ে বলেন, নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক, মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক, শেখ হাসিনার প্রতীক। নৌকায় ভোট দিয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। নৌকার মাধ্যমে পাকিস্তানিদের পরাজিত করেছি। নৌকা দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

অভিনয়শিল্পীরা ছাড়াও প্রচারে অংশ নেন চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চুসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মী।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘দেশের ৯.৬ শতাংশ মানুষ বধিরতায় ভোগে’

‘দেশের ৯.৬ শতাংশ মানুষ বধিরতায় ভোগে’

ঢাকা ক্লাবে ‘বধিরতা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে বাংলাদেশ’ শিরোনামে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত। ছবি: নিউজবাংলা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ‘সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজে অডিওলজি বিভাগ চালু এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য কানে শোনার যন্ত্র সহজলভ্য করতে হবে। এ নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। কানে শোনো না এমন ব্যক্তির চাকরি নিশ্চিত করতে হবে।’

বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বিভিন্ন মাত্রায় বধিরতায় ভোগে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত।

ঢাকা ক্লাবে মঙ্গলবার ‘বধিরতা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে বাংলাদেশ’ শিরোনামে আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য দেন।

শ্রবণজনিত সমস্যা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে প্রতি বছর ৩ মার্চ বিশ্ব শ্রবণ দিবস পালন হয়ে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশে সোসাইটি অব অটোলজি আয়োজিত সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক প্রাণ গোপাল।

তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উদ্যোগে এবারও বিশ্ব শ্রবণ দিবস সারা বিশ্বে পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সকলের জন্য শ্রবণ পরিষেবা’।

বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান শ্রবণ প্রতিবন্ধী বা শ্রবণ হ্রাসসহ শ্রুতিহীন মানুষের সংখ্যা নির্ণয়, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের দিকে এবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন মাত্রায় বধিরতায় ভোগে। বধিরতার মাত্রা সঠিকভাবে নিরূপণের জন্য ফের পরীক্ষা প্রয়োজন।

কর্ণ ও শ্রবণ সেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত এবং নবজাতকদের বধিরতা আছে কি না, তা পরীক্ষা কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানান তিনি।

উচ্চ শব্দজনিত বধিরতা প্রতিরোধে কর্মসূচি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক প্রাণ গোপাল বলেন, শহরে শব্দ দূষণ কমানো ও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজে অডিওলজি বিভাগ চালু এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য কানে শোনার যন্ত্র সহজলভ্য করতে হবে। এ নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। কানে শোনো না এমন ব্যক্তির চাকরি নিশ্চিত করতে হবে।

আগামী ৫ বছরের জন্য বধিরতা রোধে জাতীয় পর্যায়ে কর্মকৌশল গ্রহণ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অডিওলজিতে স্নাতক কোর্স চালুসহ শ্ৰবণ পরিচর্যায় নিয়োজিত জনশক্তিকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রাণ গোপাল বলেন, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ কানের খৈল শক্ত হয়ে জমাট বাঁধা। বাংলাদেশে এর হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ, যা অনেকটাই প্রতিরোধ যোগ্য।

ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, বধিরতা নিয়ন্ত্রণে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গবেষণা ও চিকিৎসায় ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশে সোসাইটি অব অটোলজির সভাপতি অধ্যাপক আবুল হাসনাত জোয়ারদার বলেন, শব্দদূষণের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবহিতকরণ, সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধ করতে হবে।

আলোচনা সভায় অধ্যাপক এম আব্দুল্লাহ, অধ্যাপক কামরুল হাসান তরফদার, অধ্যাপক বেলায়াত হোসাইন সিদ্দিকী, অধ্যাপক ইউসুফ ফকির, অধ্যাপক নাজমুল ইসলামসহ তিন শতাধিক নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ও অডিওলজিস্ট উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মঙ্গলবার এক সতর্কবার্তায় বলেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রতি চারজনে একজন কোনো কিছু শোনার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়বে।

জাতিসংঘের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠানটি এক প্রতিবেদনে এ বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রবণ সমস্যা রোধ ও চিকিৎসায় অতিরিক্ত বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

শোনার সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদনটি বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রথম। এতে বলা হয়েছে, শ্রবণ সমস্যা সৃষ্টিকারী প্রদাহ, বিভিন্ন ধরনের রোগ, জন্মগত ত্রুটি, শব্দের আধিক্য ও জীবযাপনের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

প্রতিবেদনে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে জনপ্রতি ব্যয় হবে ১.৩৩ ডলার।

শেয়ার করুন

সবুজবাগে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: নারীসহ গ্রেপ্তার ২

সবুজবাগে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: নারীসহ গ্রেপ্তার ২

সবুজবাগ থানার ওসি মুরাদুল ইসলাম জানান, নারীকে ব্যাংকে চাকরি দেয়ার নাম করে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ মাদারটেকে একটি বাসায় ডেকে নেন তার পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি। সেখানে ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। সে বাসায় অন্য এক নারীসহ চারজন ছিলেন।

রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকার মাদারটেক এলাকায় সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুইজনের মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এক কর্মচারী রয়েছেন।

সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদুল ইসলাম জানান, নারীকে ব্যাংকে চাকরি দেয়ার নাম করে ১৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ মাদারটেকে একটি বাসায় ডেকে নেন তার পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি। সেখানে ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। সে বাসায় অন্য এক নারীসহ চারজন ছিলেন।

ওসি বলেন, এ ঘটনায় সোমবার সবুজবাগ থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই নারী। রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি আরও বলেন, অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামির বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় আরও একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পাঁচ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে ওই নারীর বিচ্ছেদ হয়। একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রধান আসামির সঙ্গে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তার দেখা হয়।

কুশল বিনিময়ের পর প্রধান আসামি তাকে বলেন, তার সন্ধানে ব্যাংকে ভালো চাকরি আছে। একপর্যায়ে তিনি চাকরি দেয়ার কথা বলে তাকে (নারী) মাদারটেকের বাসায় ডেকে নেন। সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ধর্ষণে সহায়তা করেন ওই বাসায় থাকা নারী। ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলে প্রধান আসামি তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

শেয়ার করুন

ভিক্ষুকমুক্ত এলাকার মোড়ে মোড়ে ভিক্ষুক

ভিক্ষুকমুক্ত এলাকার মোড়ে মোড়ে ভিক্ষুক

রাজধানীর বনানী মোড়ে সিগন্যালে গাড়ি থামলেই হাত পাতেন ভিক্ষুক। ছবি: নিউজবাংলা

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনারা ঢাকায় এখন যে ভিক্ষুক দেখেন তারা প্রফেশনাল ভিক্ষুক। করোনার সময়ে অনেকে বাড়ি থেকে এসে ভিক্ষা করছে। তারপরও আমরা তাদের খাবার দিয়েছি। বস্তিতেও খাবার দেয়া হয়েছে সে সময়।’

রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়া হিসেবে পরিচিত গুলশাল-বনানী সাত বছর আগে ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অভিজাত এই এলাকায় ঢাকার অন্যান্য এলাকার মতোই ভিক্ষুকদের অবাধ বিচরণ এখন।

সবচেয়ে বেশি ভিক্ষুক চোখে পড়ে গুলশান-১ মোড় থেকে গুলশান-২ মোড় সড়কে। সিগন্যালে গাড়ি থামলেই তারা হাজির হন টাকার জন্য। এতে অনেকে বিরক্ত হন; অনেকে তাদের টাকা দিয়ে চলে যান।

২০১৩ সালে মন্ত্রিপরিষদের অনুমতি নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় রাজধানীর ভিভিআইপি এলাকা বিমানবন্দর, সোনারগাঁও হোটেল, হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল, হোটেল র‍্যাডিসন, বেইলি রোড, মিন্টো রোড এবং কূটনৈতিক এলাকা ভিক্ষুকমুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ অনুসারে ঘোষণাও দেয়া হয়।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নেতৃত্বে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হয়।

পুলিশ বলছে, এই কমিটির কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাজধানীর নির্দিষ্ট এসব এলাকা ভিক্ষুকমুক্ত করতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিয়মিত এসব অভিযান চালানো হয় না। মাঝেমধ্যে অভিযান চলে। ভিক্ষুকদের ‘দৌড়ানি’ দেয়া হয়। এতেও কাজ না হলে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও রাজপথে নামেন।

ঢাকার নবাবগঞ্জের রিপন শেখ ভিক্ষা করেন গুলশান-২-এর মোড়ে। তিনি দৃষ্টিহীন। থাকেন কড়াইল বস্তিতে স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে।

সবচেয়ে বেশি ভিক্ষুক চোখে পড়ে গুলশান-১ মোড়ে
রাজধানীর গুলশান-১ মোড়ে সিগন্যালে গাড়ি থামলেই হাত পাতেন ভিক্ষুক। ছবি: নিউজবাংলা

ভিক্ষুকমুক্ত এলাকায় ভিক্ষা করার কারণ জানতে চাইলে রিপন শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ চইলা যাইতে কইলে চইলা যাই। মাঝে মাঝে অভিযান চললে ধইরা নিয়া যায়। গুলশান এলাকায় আমি ৩৫ বচ্ছর ধইরা আছি।

‘সরকার তো সবকিছুই মুক্ত কইরা দেয়। পলিথিনমুক্ত, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ভ্যাজালমুক্ত। তয় কোনডা মুক্ত হইছে আমারে কন দেহি? মুক্ত হইতে গিয়া আরও যুক্ত হইয়া যায়।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সবাই খালি কইতে পারে। কইয়া ১০-২০ ট্যাহা ধরাইয়া দিয়া চইলা যায়। এমন কিছু কইরা দেক, যা দিয়া বউ-পোলাপাইন লইয়া খাইতে পারি।

‘সরকারি ভাতা পাই তিন মাস পর পর। তিন মাস পরে ২২৫০ টাকা দেয় সরকারে। অহন আপনে কন বউ-পোলাপাইন নিয়া এই ২২৫০ ট্যাহা দিয়া তিন মাস কেমনে বাঁচুম?’

গুলশানের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন খায়রুল ইসলাম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সিগন্যালে সিগন্যালে গাড়ি থামলেই জানালায় এসে ভিক্ষা চায়। সবাইকে দিই না। শারীরিক কন্ডিশন দেখে টাকা দিই। তবে এই এলাকায় ভিক্ষা করলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। কারণ, এই এলাকার আশেপাশে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস। তা ছাড়া ভিআইপি লোকেরা থাকেন এই এলাকায়।’

বনানী মোড়ে সাইনবোর্ডে লেখা আছে ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা। রোববার সেই সাইনবোর্ডের পাশে ভিক্ষা করতে দেখা যায় ছয়-সাতজনকে। সিগন্যালে গাড়ি থামলেই গাড়ির জানালায় গিয়ে হাত পাতছিলেন তারা।

তাদের একজন জোহরা খাতুনের কাছে জানতে চাওয়া হয় নিষিদ্ধ এলাকায় ভিক্ষা করছেন কেন?

জবাবে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘পুলিশ মাজে-মদ্দি দৌড়ানি দেয়। আমারে একলা কইতাছেন ক্যা? দেহেন না আরও কত মাইনসে ভিক্ষা করছে। আমরা তো চুরি-ডাহাতি করি না। ভিক্ষা কইরা খাই।’

বৃদ্ধ আব্বাস আলী গুলশান-১ মোড়ে ভিক্ষা করেন। তিনিও নিউজবাংলাকে পুলিশের অভিযানের কথা জানান।

বলেন, ‘পাঁচ থেইকা সাত বচ্ছর এই এলাকায় ভিক্ষা করি। মাঝে মাঝে ধইরা লইয়া যায়। পরে জেলখানা থেইকা ছাড়ে। ধইরা লইয়া গেলে আর কি করা, খাইতে তো হইবো।’

গুলশান এলাকায় এত ভিক্ষুক থাকার কারণ হিসেবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কথা বলছে পুলিশ।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে এই বিষয়টা নিয়ে আমরা কাজ করি। কোভিডের কারণে একটু স্লো কাজ হচ্ছে। ভিক্ষুকদের রাখার সমস্যা হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও ভিক্ষুকদের আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। এই অভিযান চলমান আছে।’

অভিজাত এই এলাকায় এত ভিক্ষুক থাকার কারণ জানতে কথা হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসানের সঙ্গে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযান চলে নিয়মিতই। তবে কোভিডের কারণে ভিক্ষুক একটু বেড়ে গেছে। ভাইরাসের কারণে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয় নাই।

‘ভিক্ষুক বেড়ে যাওয়ার বিষয়টা আমরা সমাজসেবা অধিদপ্তরকে অবহিত করেছি। তারা সম্ভবত আগামী মাস থেকে কার্যক্রম শুরু করবে।’

গুলশান-২ মোড়ে ভিক্ষুক
রাজধানীর গুলশান-২ মোড়ে বিদেশির কাছে হাত পাতেন এক ভিক্ষুক। ছবি: নিউজবাংলা

এই প্রকল্পে অনেকেই জড়িত জানিয়ে মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান বলেন, ‘আমরা যে ভিক্ষুক ধরব, ধরে রাখব কোথায়? আমরা তাদের ধরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে দিই। তারা তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে রাখে। এই আশ্রয়কেন্দ্র যখন পূর্ণ হয়ে যায় তখন ভিক্ষুকদের রাখার জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না।’

ঢাকা উত্তরের মতো দক্ষিণ সিটিরও ভিক্ষুকমুক্ত এলাকায় ভিক্ষুকদের দেখা যায়।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা আকন্দ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নতুন আসছি তো, তাই ভিক্ষুকদের ভিআইপি এলাকায় ভিক্ষার বিষয়টা সঠিক জানি না। আমি কথা বলে দেখব। আমি জেনে আপনাকে জানাব।’

দক্ষিণ সিটিরও কোথাও কোথাও ভিক্ষুকমুক্ত এলাকার সাইনবোর্ড নাই, আবার থাকলেও লেখা উঠে গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কথা বলে সব ঠিক করব।’

চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে বিজয় সরণি মোড়ে ঢুকতেই ভিক্ষুকমুক্ত এলাকার সাইনবোর্ড আছে। তবে লেখা অনেকটা মুছে গেছে। ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণির রাস্তার মোড়ের সাইনবোর্ডে লেখা স্পষ্টই আছে।

তারপরও বিজয় সরণিতে পাঁচ-ছয়জনকে নিয়মিতই ভিক্ষা করতে দেখা যায়।

ভিক্ষুকমুক্ত এলাকায় ভিক্ষা করছে, আপনারা কিছু বলেন না- এমন প্রশ্নে সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ মো. মাজেদুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তাদের একদিক দিয়ে তাড়িয়ে দিলে তারা আরেক দিক দিয়ে চলে আসে। তা ছাড়া আমরা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করব, না ভিক্ষুক নিয়ন্ত্রণ করব? মাঝে মাঝে থানার পুলিশ এসে তাদের তাড়িয়ে দেয়।’

এ প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিক্ষুকদের নিয়ে আমাদের একটা প্রোগ্রামই ছিল। জেলায় জেলায় ফান্ড দেয়া আছে। ঢাকা থেকে সব ভিক্ষুককে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। তাদের বাড়িতে ঘরও করে দেয়া হয়। কিন্তু তারা আবার ঢাকায় চলে আসে।

রাজধানীর গুলশান-১ মোড়ে ভিক্ষুক
রাজধানীর গুলশান-২ মোড়ে বিদেশির কাছে হাত পাতেন এক ভিক্ষুক। ছবি: নিউজবাংলা

‘আপনারা ঢাকায় এখন যে ভিক্ষুক দেখেন তারা প্রফেশনাল ভিক্ষুক। করোনার সময়ে অনেকে বাড়ি থেকে এসে ভিক্ষা করছে। তারপরও আমরা তাদের খাবার দিয়েছি। বস্তিতেও খাবার দেয়া হয়েছে সে সময়।’

ভিক্ষুকমুক্ত করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আশরাফ বলেন, ‘তবে ভিক্ষুকমুক্ত করাটা খুব কঠিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিক্ষুকদের প্রতিষ্ঠিত করা, তাদের এলাকায় পাঠানোর, বাড়ি করে দেয়া ও কিছু টাকা দেয়ার প্রোগ্রামই ছিল। এই প্রোগ্রাম চলমান। মুজিববর্ষের যে ঘর দেয়া হচ্ছে সেখানে ভিক্ষুকরাও পাচ্ছে।’

ভিক্ষুকদের ভাষ্যমতে, তাদের তিন মাস পর পর ২২৫০ টাকা দেয়া হয়। এই টাকায় তারা কীভাবে চলবে?

এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি তাদের জিজ্ঞাসা করবেন, তোমাদের আগে যে টাকা দেয়া হয়েছে, তোমাদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে- তারপরেও তো তোমরা বাড়ি ছিলা না। ২০১৩ সালে আইন পাসের পর তাদের যেখানে যেখানে বাড়ি সেখানে ঘরও করে দেয়া হয়েছিল।’

তিনি জানান, গ্রাম ও ছোট শহরে ভিক্ষুক পাওয়া যায় না। ভিক্ষুক পাওয়া যায় ঢাকা শহরে। তাও মাঝে কম ছিল, এখন কিছুটা বাড়ছে।

তাদের নিয়ে কি নতুন কোনো প্রকল্প হবে, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্প তো চলমান। আমরা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও তাদের পাঠিয়েছি। সেখানে দেখা যায়, কিছুদিন পরে কোনো আত্মীয় এসে তাদের নিয়ে যায়। নিয়ে যাওয়ার কিছুদিন পরেই তারা আবার ঢাকা চলে আসে। এটা তাদের ব্যবসা।’

শেয়ার করুন

চলে গেলেন মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী লিলি চৌধুরী

চলে গেলেন মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী লিলি চৌধুরী

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর বনানীর বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রাত সোয়া ১টার দিকে ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়েছেন তার ছেলে আসিফ মুনীর।

শহিদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী, প্রয়াত সাংবাদিক মিশুক মুনীরের মা নাট্যাভিনেত্রী লিলি চৌধুরী আর নেই।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর বনানীর বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

রাত সোয়া ১টার দিকে ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়েছেন তার ছেলে আসিফ মুনীর।

আসিফ মুনীর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ভাষণ, মিশুক, তন্ময়- আমাদের মা ৯২ বছর বয়সে ১ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টায় আমাদের ছেড়ে গেলেন। তিনি বার্ধক্যজনিত কিছু জটিলতায় ভুগছিলেন। অনেকে সমবেদনা জানাচ্ছেন, সে জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি ভালোবাসা।’

তিনি জানিয়েছেন, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। বাদ জোহর বনানী কবরস্থানে জানাজার পর তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।

শেয়ার করুন

ধানমন্ডিতে ছাদ থেকে পড়ে তরুণীর মৃত্যুতে হত্যা মামলা

ধানমন্ডিতে ছাদ থেকে পড়ে তরুণীর মৃত্যুতে হত্যা মামলা

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তাজরিন মোস্তফা মৌমিতা। ছবি: নিউজবাংলা

কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র নিউজবাংলাকে বলেন, সোমবার রাতে মৌমিতার বাবা থানায় এসে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। তবে তারা বাড়িওয়ালার ছেলে ফাইজার ও তার বন্ধু আদনান এ ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ করছেন।

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তাজরিন মোস্তফা মৌমিতার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করেছে তার পরিবার।

ঘটনার তিন দিন পর সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে কলাবাগান থানায় মামলাটি করেন তার বাবা।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিতোষ চন্দ্র নিউজবাংলাকে বলেন, সোমবার রাতে মৌমিতার বাবা থানায় এসে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। তবে তারা বাড়িওয়ালার ছেলে ফাইজার ও তার বন্ধু আদনান এ ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ করছেন। আদনানকে আগেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। এখন যেহেতু মামলা হয়েছে, তাই এই মামলায় আদনানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মৌমিতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ করে তার ফুফা মো. হুমায়ন বলেন, এতে বাড়ির মালিকের ছেলে ফাইজার ও তার বন্ধুরা জড়িত থাকতে পারেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করলে সত্য বেরিয়ে আসবে। ফাইজার দীর্ঘদিন ধরে মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন।

ফাইজার বাসার ছাদে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতেন জানিয়ে তিনি বলেন, মৌমিতা পড়ালেখা শেষে মাঝেমধ্যে বিকেলে ছাদে উঠলেও তাকে উত্ত্যক্ত করতেন ফাইজার। মৌমিতার মা বিষয়টি ফাইজারের মাকে জানালে তিনি মৌমিতার মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে বলেন- আমার ছেলের যা ইচ্ছা করবে; সেটা আমরা বুঝব।

মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন ১৯ বছর বয়সী মৌমিতা। করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশেই ছিলেন তিনি। থাকতেন পরিবারের সঙ্গে ধানমন্ডির ৮ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায়।

মৌমিতা গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাততলা ভবনটির ছাদে ওঠেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিবার জানতে পারে, মৌমিতা ছাদ থেকে পড়ে গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাতে রায়েরবাজার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শেয়ার করুন

তৃতীয় লিঙ্গের ‍দুজনের চাকরি রাজশাহী ডিসি অফিসে

তৃতীয় লিঙ্গের ‍দুজনের চাকরি রাজশাহী ডিসি অফিসে

নতুন কর্মস্থলে মারুফ (বায়ে) ও জনি। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একজনকে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেয়া হয়েছে। অন্যজন অফিস সহকারী।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মাস্টার রোলে চাকরি হয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের দুজনের। সোমবার সকালে তারা কাজে যোগ দিয়েছেন।

তাদের একজন হলেন মারুফ। তিনি রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইলেক্ট্রো মেডিক্যালে ডিপ্লোমা করেছেন। কিন্তু তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ায় ভালো কোনো কাজ পাচ্ছিলেন না। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মারুফকে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেয়া হয়েছে।

আরেকজন হলেন জনি হোসেন জনি। অষ্টম শ্রেণি পাস জনি চাকরি পেয়েছেন অফিস সহায়কের। তাদের দুজনকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখায় দেয়া হয়েছে।

গত শনিবার নিজের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক তৃতীয় লিঙ্গের দুজনকে চাকরি দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘দিনের আলো হিজড়া সংঘ’ ওই সভার আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, দিনের আলো হিজড়া সংঘ যে দুজনকে চাকরির জন্য সুপারিশ করবে, তাদের সুযোগ দেয়া হবে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যতদিন পর্যন্ত তাদের স্থায়ী করা না যাবে, ততদিন তারা জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বেতন পাবেন।

এরপর দিনের আলো হিজড়া সংঘ জনি ও মারুফের নাম প্রস্তাব করে। রোববার তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন।

চাকরি পেয়ে নগরীর ডিঙ্গাডোবা এলাকার বাসিন্দা মারুফ বলেন, ‘আমি ইলেক্ট্রো মেডিক্যালে পড়াশোনা করলেও কম্পিউটারের কোর্স করেছি। এখানে নতুন চাকরিতে এসে খুব ভালো লাগছে। প্রথম দিনই আমার খুব ভালো লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতাম। আমার মেয়েলি আচরণের কারণে বাকিরা হাসাহাসি করত। কাজের পরিবেশই নষ্ট হতো। তাই একটি ইস্যু তৈরি করে তারা আমাকে বাদ দেয়। করোনার মধ্যে বসেই ছিলাম।’

জনি হোসেন বলেন, ‘খাতাপত্র কোথায় কোথায় নিয়ে যেতে হবে, সেগুলো আজ বুঝে নিলাম। পাশাপাশি কিছু নাশতা-পানি নিয়ে যাওয়া আসার কাজ করেছি।’

তিনি কলেন, ‘কখনও খেয়ে কখনও না খেয়েই দিন চলে গেছে। এখন চাকরি পেয়ে কতটা ভালো লাগছে, সেটা ভাষায় প্রকাশ কারতে পারব না। চাকরিতে যে আমি আছি, আসলেই এটি সত্যি না স্বপ্ন দেখছি, তা বুঝতেই পারছি না।’

দিনের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনা বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা হোক। জনি ও মারুফের চাকরির মাধ্যমে এই প্রথম সরকারি অফিসে তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের যাত্রা শুরু হলো। এটি একটি মডেল হিসেবে কাজ হবে। আমার চাই এটি দেখে এখন থেকে সব অফিস এইভাবে আমাদের যাদের যোগ্যতা আছে, সেই অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করুক।’

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ‘দুজনকে আমার অফিসে মাস্টার রোলে নিয়োগ দিলাম। রাজশাহীতে প্রকৃত তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর সদস্যদের শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে তাদের যোগ্যতানুসারে বিভিন্ন স্থানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’

শেয়ার করুন

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ মঙ্গলবার

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ মঙ্গলবার

বর্তমানে তালিকাভুক্ত ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ১১২ জন। আর হালনাগাদে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬ জন। এই নতুন নিবন্ধন করা নাগরিকদের তালিকা গত ১৭ জানুয়ারি প্রকাশ করেছে ইসি।

২০২০ সালের হালনাগাদ করা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার ‘জাতীয় ভোটার দিবস-২০২১’ উপলক্ষে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি।

ইসির যুগ্মসচিব আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস। তৃতীয়বারের মতো সারা দেশে দিবসটি পালনের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে করোনা মহামারির কারণে সীমিত পরিসরে ভোটার দিবস উদযাপন করা হবে।

এবারের ভোটার দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বয়স যদি আঠারো হয়-ভোটার হতে দেরি নয়’। জাতীয় ভোটার দিবসে চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে তালিকাভুক্ত ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ১১২ জন। আর হালনাগাদে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬ জন। এই নতুন নিবন্ধন করা নাগরিকদের তালিকা গত ১৭ জানুয়ারি প্রকাশ করেছে ইসি।

এদের আপিলের বিষয়টি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। সেই হিসেবে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়াবে ১১ কোটি ১২ লাখ ৮৪ হাজার ১৫৮ জন।

আপিলের কারণে কিছু যোগ-বিয়োগ না হলে এই সংখ্যাই চূড়ান্ত আকারে প্রকাশ করা হবে মঙ্গলবার। এ ক্ষেত্রে নারী ভোটার হবে ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার ২৭০ জন। আর পুরুষ ভোটার হবে ৫ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫১৩ জন।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পদযাত্রায় নতুন একটি সংযোজন হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস।

২০১৩ সালে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নির্বাচন বিষয়ক সংগঠন ফেমবোসার চতুর্থ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সদস্য দেশগুলো জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এরপরই মূলত জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের চিন্তাভাবনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস উদযাপনের একটি প্রস্তাব কমিশন সভায় উপস্থাপন করে। কমিশন প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেন এবং নীতিগতভাবে জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

পরে জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সভায় তা সরকারের অনুমোদন লাভ করে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে, প্রতিবছর ১ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে ১ মার্চের পরিবর্তে ২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg