যৌন নিপীড়ন: অধ্যক্ষের মীমাংসার সত্যতা পেল কমিটি

হাতিয়ান্দহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

যৌন নিপীড়ন: অধ্যক্ষের মীমাংসার সত্যতা পেল কমিটি

‘কলেজের অফিস সহকারী যৌন নিপীড়ন করে যতটুকু অপরাধী; যারা ঘটনাটি আপস মীমাংসা করেছিল তারাও সমান অপরাধী। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের বহিষ্কারের সুপারিশসহ বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হবে।’

নাটোরে কলেজছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দেড় লাখ টাকায় মীমাংসার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

অভিযোগ উঠার পর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। রোববার প্রতিবেদন জমা দেবে তারা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন ও সেই সঙ্গে মীমাংসাকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

১৪ জানুয়ারি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির জানুয়ারি মাসের ভার্চুয়াল সভায় নিপীড়ন ও মীমাংসাকারীদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ার দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী সেদিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী নির্যাতন দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তারপরও যৌন হয়রানি ও আপস-মীমাংসার মতো ঘটনা শুনে অবাক হতে হয়। এই নিন্দিত কাজের সঙ্গে যারা যারা জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে দ্বাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রী তার ছোট বোনকে ভর্তি করাতে নাটোরের হাতিয়ান্দহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে যান।

ভুক্তভোগী মেয়েটি জানান, তাকে দেখে অফিস সহকারী রেজাউল করিম বলেন, তিনি বেশ লম্বা এবং এ কারণে তার পুলিশে চাকরি হয়ে যাবে। এই কথা বলে তাকে ওজন মাপার জন্য পাশের কক্ষে নিয়ে গিয়ে হয়রানি করেন।

লেজছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার রেজাউল করিম। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়েটির পরিবার কলেজের অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেনকে বিষয়টি জানায়। পরদিন কলেজের এক কক্ষে অধ্যক্ষ বিচার বসান। সেখানে রেজাউলকে চড়থাপ্পড় মেরে পা ধরে মাফ চাওয়ানো হয়। জরিমানা করা হয় দেড় লাখ টাকা।

মেয়েটি জানান, সালিশে উপস্থিত ছিলেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহা, শেরকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম, স্কুল কমিটির সভাপতি ভেটু চৌধুরী, শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, হাসান আলী ও চিকিৎসক মো. সামাদ।

অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‌‘যৌন হয়রানির সত্যতা পেয়ে ম্যানেজিং কমিটির লোকজন ও সহকারী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহাকে নিয়ে সমঝোতা করে দিয়েছেন।’

ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, চাপের মুখে তারা মীমাংসা করতে বাধ্য হয়েছে।

পরে ঘটনাটি পুলিশ সুপার (এসপি) লিটন কুমার সাহা জানতে পারেন। তার নির্দেশে ৭ জানুয়ারি সন্দেহভাজন রেজাউলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

এর আগে ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযুক্ত রেজাউলকে আসামি করে একটি মামলা করেন। কিন্তু মামলায় আপস-মীমাংসার কথা উল্লেখ না থাকায় মীমাংসাকারীরা আইনের বাইরে থেকে যান।

আরও পড়ুন: যৌন নিপীড়ন: দেড় লাখে মীমাংসার চেষ্টা অধ্যক্ষের

তদন্ত কমিটির প্রধান জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, ‘কলেজের অফিস সহকারী যৌন নিপীড়ন করে যতটুকু অপরাধী; যারা ঘটনাটি আপস মীমাংসা করেছিল তারাও সমান অপরাধী। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের বহিষ্কারের সুপারিশসহ বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হবে।’

শিক্ষক নেতারাও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। নাটোর জেলা শাখার বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, পুরো ঘটনাটি অন্যন্ত ন্যাক্কারজনক। দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দিয়ে একটা উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে যৌন নিপীড়নের মতো ভয়াবহ অপরাধ এবং তা ধামাচাপা দেবার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

রোববারে তদন্ত রিপোর্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালক ঢাকা ও রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার এলো শ্বেতবলাকা

এবার এলো শ্বেতবলাকা

নতুন এ উড়োজাহাজের নাম ‘শ্বেতবলাকা’ রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে বিমানের বহরে যুক্ত হলো নিজস্ব তিনটি ড্যাশ এইট উড়োজাহাজ।

আরও একটি ড্যাশ এইট উড়োজাহাজ পেল রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

কানাডা থেকে শুক্রবার বিকেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ৭৪ আসনের উড়োজাহাজটি।

নতুন এ উড়োজাহাজের নাম ‘শ্বেতবলাকা’ রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে বিমানের বহরে যুক্ত হলো নিজস্ব তিনটি ড্যাশ এইট উড়োজাহাজ।

এর আগে কানাডার প্রখ্যাত উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডি হ্যাভিল্যান্ড বোম্বার্ডিয়ার অ্যারোস্পেস থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় উড়োজাহাজটি।

বাংলাদেশ ও কানাডা সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে কেনা তিনটি ড্যাশ-৮ প্লেনের প্রথমটি ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ ও দ্বিতীয় উড়োজাহাজটি ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বিমানবহরে যুক্ত হয়।

আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে তৈরি উড়োজাহাজটিতে আসন রয়েছে ৭৪টি। বিমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই উড়োজাহাজগুলো ব্যবহার করা হবে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক গন্তব্যে যাত্রী পরিবহনে।

বর্তমানে বিমান বহরে বিদ্যমান মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা ২০টি। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, ছয়টি বোয়িং ৭৩৭ ও চারটি ড্যাশ ৮-৪০০ উড়োজাহাজ। তৃতীয় ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজটি বিমানবহরে যুক্ত হবার ফলে উড়োজাহাজের সংখ্যা হবে ২১টি।

বিমান কর্মকর্তারা জানান, নতুন উড়োজাহাজগুলো দিয়ে ঢাকা থেকে কলকাতা, দিল্লি, চেন্নাই, কাঠমান্ডু, গুয়াংজু এবং ব্যাংককে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং যশোর থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটেও ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবহার করা হবে এসব উড়োজাহাজ।

শেয়ার করুন

উন্নয়নশীল দেশ: ৭ মার্চ সব থানায় পুলিশের উদযাপন

উন্নয়নশীল দেশ: ৭ মার্চ সব থানায় পুলিশের উদযাপন

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

আইজিপি বলেন, ‘২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন এসেছে। দারিদ্র্য অনেক কমে এখন মিউজিয়ামে যাওয়ার উপক্রম। আগে সবাই বলত ইলেকট্রিসিটি কবে আসবে, এখন বলে কবে যাবে। দেশের এসব উন্নয়নকেই উদযাপন করবে পুলিশ।’

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তি দেশের সবগুলো থানা কম্পাউন্ডে একসঙ্গে উদযাপন করবে পুলিশ। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ওই উদযাপনে স্মরণ করা হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটরিয়ামে শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানান বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তি ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের দিনে দেশব্যাপী উদযাপন করবে পুলিশ। দেশের ৬৬০টি থানায় এদিন বিকেল ৩টায় একযোগে উদযাপন করা হবে।’

আইজিপি জানান, ৭ মার্চ সব থানার বাইরে আলোচনা সভা, প্রীতিভোজ ও মিষ্টি বিতরণ করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পুলিশ সদস্য ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রশাসনসহ নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

সবাইকে হাত ধুয়ে, মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠানমালায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান পুলিশপ্রধান।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এলডিসি তালিকা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুপারিশ পায় বাংলাদেশ। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) পাঁচ দিনের বৈঠক শেষে এ সুপারিশ করে।

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যেতে এবার বাংলাদেশের প্রস্তুতি পর্ব শুরু হবে। এ পর্ব শেষে ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশে ওঠার সব প্রক্রিয়া শেষ হবে।

যেসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল, সেসব দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৭১ সালে প্রথম স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা করা হয়। বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

আইজিপি বলেন, ‘২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন এসেছে। দারিদ্র্য অনেক কমে এখন মিউজিয়ামে যাওয়ার উপক্রম। আগে সবাই বলত ইলেকট্রিসিটি কবে আসবে, এখন বলে কবে যাবে। দেশের এসব উন্নয়নকেই উদযাপন করবে পুলিশ।’

শেয়ার করুন

হুজির অপারেশন প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৩

হুজির অপারেশন প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৩

জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ডিএমপি কর্মকর্তা ইফতেখারুল জানান, তারা হুজির সক্রিয় সদস্য। মাইনুল ইসলামের নেতৃত্বে তারা হুজি পুনর্গঠন, পূর্ণাঙ্গ শুরা কমিটি প্রস্তুত, অর্থদাতা ও সদস্যদের কাছ থেকে অর্থের জোগান নিশ্চিতে কাজ করছিলেন।

জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাহিনীটি বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামির (হুজি) অপারেশন শাখার প্রধান, বাকি দুজন সদস্য।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম শুক্রবার এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মাইনুল ইসলাম, শেখ সোহান স্বাদ ও মুরাদ হোসেন কবির। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি মাইক্রোফোন, একটি চাপাতি, দুইটি ছুরি, ১০টি ডেটোনেটর, ১৭০টি বিয়ারিং লোহার বল, একটি স্কচটেপ, পাঁচ লিটার অ্যাসিড, তিনটি আইডি কার্ড ও একটি জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া হুজি সদস্যদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে ডিএমপি কর্মকর্তা ইফতেখারুল জানান, তারা হুজির সক্রিয় সদস্য। মাইনুল ইসলামের নেতৃত্বে তারা হুজি পুনর্গঠন, পূর্ণাঙ্গ শুরা কমিটি প্রস্তুত, সংগঠনের অর্থদাতা ও সদস্যদের কাছ থেকে অর্থের জোগান নিশ্চিতে কাজ করছিলেন।

তারা ব্যাপক হারে সংগঠনের রিক্রুটমেন্ট, অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ, কারাগারে আটক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের জামিনের ব্যবস্থা, বান্দরবান-নাইক্ষ্যংছড়ি পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় জমি লিজ নিয়ে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে হুজির কার্যক্রম অনেকটা সীমিত হয়ে আসলেও এক দশক আগেও সংগঠনটির তৎপরতা ছিল আতঙ্কজনক। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে বোমা হামলাসহ অনেক জঙ্গি কার্যক্রমে হাত ছিল তাদের।

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটিকে ফের উজ্জীবিত করতে গ্রেপ্তার তিনজন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখারুল। বলেন, ‘তারা বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় তাদের সংগঠনের বিস্তার ও সক্ষমতা বাড়াতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পরিচয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল।

‘তারা কারাগারে আটক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফর ও ২০০০ সালে কোটালিপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেহেদী হাসান ওরফে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে গাজী খানের নির্দেশে সাংগঠনিক কাজ করছিলেন।’

মাইনুল ইসলাম হুজির প্রধান অপারেশন সমন্বয়ক উল্লেখ করে ডিএমপি কর্মকর্তা ইফতেখারুল জানান, তিনি সাংবাদিক বেশ ধারণ করে সংগঠনের দাওয়াতি কাজের পাশাপাশি অর্থ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ করতেন। তার পরিকল্পনা ছিল ঢাকা শহরে বড় ধরনের নাশকতা করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা। তিনি ২০১৫ সালে হুজির শীর্ষ নেতা কারাবন্দি মুফতি মঈনউদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শেখ সোহান স্বাদ সুনামগঞ্জের বিবিয়ানা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকার মিরপুর বাংলা কলেজে পড়ার পাশাপাশি একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। ২০১৬ সালে একুশে বইমেলায় নাশকতার মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন। এ ছাড়াও তিনি ২০১৭ সালে বিস্ফোরক মামলায় এবং ২০১৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় গ্রেপ্তার হন। জামিনে বের হয়ে তিনি মাইনুলের নেতৃত্বে হুজির সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন।

গ্রেপ্তার হওয়া অপর আসামি মুরাদও হুজির সক্রিয় সদস্য। তিনি ব্যবসার আড়ালে সংগঠনের দাওয়াতি ও বায়তুল মাল দেখভাল করতেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখারুল।

তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। তাদের অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শেয়ার করুন

রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৩

রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৩

প্রতীকী ছবি

‘টোল আদায়ের জন্য ড্রাইভারের গেটে ঝুলেছিলেন প্রসেনজিৎ। কথা কাটাকাটি শুরু হলে ড্রাইভার লরিটি চালাতে শুরু করেন। তখনও সেখানে ঝুলে ছিলেন প্রসেনজিৎ। পরে গাড়িটি যাত্রাবাড়ী মাছ বাজার এলাকায় গেলে আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে প্রসেনজিৎ রাস্তায় পড়ে যান। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

রাজধানীর পোস্তগোলা, খিলক্ষেত ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় আলাদা আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় তিন জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ও দিনের বিভিন্ন সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পোস্তগোলা এলাকায় দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রসেনজিৎ নামে এক ব্যক্তি। তিনি পোস্তগোলা ব্রিজে টোল আদায়ের কাজ করতেন।

শ্যামপুর থানার ডিউটি অফিসার মো. আমিরুল ইসলাম জানান, রাতে মাওয়া থেকে ঢাকাগামী একটি বড় লরির টোল আদায়ের জন্য ড্রাইভারের গেটে ঝুলেছিলেন প্রসেনজিৎ। তখন কথা কাটাকাটি শুরু হলে ড্রাইভার লরিটি চালাতে শুরু করেন। তখনও সেখানে ঝুলে ছিলেন প্রসেনজিৎ। পরে গাড়িটি যাত্রাবাড়ী মাছ বাজার এলাকায় গেলে আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে প্রসেনজিৎ রাস্তায় পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রসেনজিতের সহকর্মী আরমান উল্লাহ জানান, প্রসেনজিৎ কেরানীগঞ্জ পশ্চিমদি বড় পাড়া এলাকায় থাকতেন। প্রায় বছরখানেক ধরে তিনি টোল আদায়ের কাজ করছিলেন।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর খিলক্ষেত ৩০০ ফিট এলাকায় ট্রাকচাপায় নিহত হন আশিক আব্দুল্লাহ হেলাল নামে এক ব্যক্তি।

হেলালের বাড়ি বরিশালের হিজলা উপজেলার মাইকখোলায়। তিনি একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে ইনচার্জ হিসেবে চাকরি করতেন।

খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, ‘হেলাল ভোরে ৩০০ ফিট পুলিশ হাউজিংয়ের দক্ষিণ পাশে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে সিকিউরিটি কোম্পানির দারোয়ানের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় একটি ট্রাক মোটরসাইকেলসহ তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান হেলাল। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।’

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ী কাজলা এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন আব্দুল কাদির নামে এক ব্যক্তি। মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত কাদিরের ভাগ্নে মো. আলাউদ্দিন জানান, কাদিরের বাড়ি নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বানিয়াদি গ্রামে। দুই দিন আগে তিনি দনিয়া এলাকায় আলাউদ্দিনের বাসায় আসেন। বিকেলে কাদির কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় ছাগল কিনতে যান।

আলাউদ্দিন আরও জানান, ছাগল কিনে ভাঙ্গা প্রেসের সামনে রাস্তা পার হচ্ছিলেন কাদির। এ সময় দ্রুত গতির একটি মোটরসাইকেল তাকে ছাগলসহ ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই মারা যায় ছাগলটি। পরে হাসপাতালে মারা যান কাদির।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ বক্সের ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া জানান, কাদিরের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেল চালক রাজন পাঠানকেও আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।

শেয়ার করুন

গবেষণা চৌর্যবৃত্তি: সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে তদন্ত চান দুই শিক্ষক

গবেষণা চৌর্যবৃত্তি: সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে তদন্ত চান দুই শিক্ষক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম। ছবি: ফেসবুক

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে আনা গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে বুধবার ই-মেইলে অভিযোগ তদন্তের দাবি করেছেন তারা। ওই ই-মেইলের সঙ্গে সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে যেসব প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর কয়েকটি কপিও সংযুক্ত করেছেন।

তদন্তের দাবি জানানো দুই শিক্ষকদের একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ। তিনি বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

অপরজন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তবে তার নাম জানা যায়নি। এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে কোন শিক্ষক, তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহেযাগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান এবং অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের বিরুদ্ধেও গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ আসে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সামিয়া রহমানকে পদাবনতি করে সহকারী অধ্যাপক করা হয়। আর মারজানকে আগামী দু্ই বছর কোনো পদোন্নতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ সামিয়া। সংবাদ সম্মেলনে এসে তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি। সামিয়া বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির সদস্য ছিলেন অধ্যাপক সাদেকা হালিম।

সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে মোস্তাক আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ই-মেইলে জানিয়েছি, সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহলে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

সাদেকা হালিমের তিনটি নিবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি দুটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে ওয়ার্ল্ড জার্নাল অফ এগ্রিকালচার সার্ভিসেস (আইএসএসএন নম্বর: ১৮১৭, ৩০৪৭)-এ প্রকাশিত হয় মো. কাউসার আহমেদ, ড. সাদেকা হালিম এবং শামিমা সুলতানার সম্মিলিত একটি গবেষণা। প্রকাশিত গবেষণাটির বিষয়বস্তু ছিল পার্টিসিপেশন অফ উইমেন অ্যাকুয়াকালচার ইন থ্রি কোস্টাল ডিস্ট্রিক্টস অফ বাংলাদেশ: অ্যাপ্রোচেস টুওয়ারর্ডস সাসটেইনেবল লাইভলিহুড।

অভিযোগ করা হয়েছে, ওই গবেষণাপত্রে ৮৮ শতাংশ তথ্য ও লেখা হুবহু মিল পাওয়া গেছে অন্যান্য গবেষণাপত্র এবং বিভিন্ন বইয়ের সঙ্গে।

এছাড়া মোস্তফা আসিফের নাইদার সাস্টেনেন্স নর সিকিউরিটি: উইমেন অ্যান্ড ফরেস্ট্রি ইন বাংলাদেশ পিএইচডি গবেষণার সুপারভাইজার ছিলেন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। গবেষণাপত্রটি ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর জমা দেয়া হয়। ৮ হাজার ৫১ শব্দের এই গবেষণা পত্রটির নম্বর: ১২৩৮৮০১২৭৫। উল্লেখিত গবেষণাটিতেও ২৬ শতাংশ তথ্য ও উপাত্ত অন্যান্য গবেষণা ও বই থেকে হুবহু তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে।

ভারতের নয়াদিল্লি থেকে ২০১১ সালে সেইজ বুকস থেকে প্রকাশিত মাইনরিটিস অ্যান্ড দ্যা স্টেট: চেঞ্জিং সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ অফ বেঙ্গল শিরোনামে গবেষণাধর্মী পুস্তকে প্রদায়ক হিসেবে কাজ করেছেন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। অভিযোগ রয়েছে, সাদেকা হালিম স্ট্যাটাস অব হিন্দু ইউমেন: স্পেয়ারস অব হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ভায়োলেশনস অধ্যায়ের ১২ নং পৃষ্ঠায় ৪৪ শতাংশ তথ্য ও উপাত্ত হুবহু কপি করেছেন।

অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি নিয়ে কথা হয় অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় এখনও আমাকে কিছু জানান নি। যে কেউ অভিযোগ দিতে পারে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর। আমি বুঝতে পারছি না, তারা চিঠিতে কী লিখেছেন। চিঠিটা আমি দেখি, এরপর উত্তর দেয়া হবে।’

বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ছাপানো হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেসব পত্রিকায় প্রতিবাদলিপি দিয়েছি। এগুলোই এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে আমার উত্তর। এখন এসব পত্রিকায় আমি লিগ্যাল নোটিশ পাঠাব। আমি যেহেতু লিগ্যাল ওয়েতে চলে গেছি, এখন থেকে আমি যা করব, সব লিগ্যালি করব। আমার আইনজীবী সেটি দেখবেন।’

তদন্তের দাবিতে ই-মেইল পাঠানো অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে কিছু গবেষণা প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে, যা বিভিন্ন পরিসরে সমালোচনা হচ্ছে। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করছে। আমরা খতিয়ে দেখতে বলেছি, বিষয়টি সত্য কি মিথ্যা। কারণ, মিথ্যা হলে বিশ্ববিদ্যালয় বা ম্যাডামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে, এটি আমরা চাই না।’

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘অফিসে একটা চিঠি এসেছে। অনেকগুলো মিটিং ছিল, তাই এটি এখনও আমি দেখতে পারিনি।’

চিঠি পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগাম মন্তব্য করা আসলে আমার সঙ্গে যায় না।’

সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। বৃহস্পতিবার টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় তদন্ত কমিটি গঠন, সাদেকা হালিমকে ডিনের পদ থেকে অব্যাহতি এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানায় তারা।

শেয়ার করুন

কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়

কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। ছবি: সংগৃহিত।

‘সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউজিসি তাদের নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণে তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায়। ইউজিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই।'

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তবে তার এই অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে পাল্টা জবাব দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ম এ খায়েরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউজিসি তাদের নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণে তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায়। ইউজিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর তোলা অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য তুলে ধরা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

এতে বলা হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নানা ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বরাবর তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

কলিমুল্লাহ সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন যা নিতান্তই অনভিপ্রেত দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে যে সভাটিতে মন্ত্রীর দেরিতে উপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন সে সভাটি গত ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সকালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরে সভাটির সময় পরিবর্তন করে বিকেলে নেয়া হয়।

এতে বলা হয়, ওই একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন ন্যূনতম নির্দেশিকা প্রণয়নসংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সভা থাকায় এবং সে সভাটি উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনার আগে হলে ভালো হয় বিবেচিত হওয়ায় উপাচার্যদের সঙ্গে সভাটির সময় পরিবর্তন করা হয়েছিল।

‘শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন ন্যূনতম নির্দেশিকার সভাটি নির্ধারিত সময়ের চেয়েও অনেক প্রলম্বিত হওয়ায় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী, সচিব এবং ইউজিসির চেয়ারম্যানসহ প্রতিনিধিদের উপাচার্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় যোগ দিতে দেরি হয়। এবং মন্ত্রী উপস্থিত সবার কাছে অনিচ্ছাকৃত এই দেরির জন্য বিশেষভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রী সময়ানুবর্তিতার বিষয়টি সবার কাছে সুবিদিত। তিনি সময়মতো সব সভায় অংশ নেন। সেদিনের সবারই অনিচ্ছাকৃত দেরি নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কলিমুল্লাহ যে বক্তব্য রেখেছেন তা শুধু অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনকই নয়, নিতান্তই রুচি বিবর্জিত।

এতে বলা হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রকাশনার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর একটি বাণী একবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাওয়া হয়েছিল। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বড় ধরনের ছাত্র আন্দোলন চলছিল। সে পরিস্থিতিতে মন্ত্রী সে বাণীটি দেয়া সমীচীন মনে করেননি। এরপরে বিগত এক বছরে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মন্ত্রীর কাছে আর কোনো বাণী চাওয়া হয়নি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘কলিমুল্লাহ উপরোক্ত বিষয়ের বাইরেও মন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকার কথা উল্লেখ করে রাজনীতিকে জড়িয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন যার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কোনো বিষয়ের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা না থাকায় এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছে।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কলিমুল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে যেসব বক্তব্য রেখেছেন সেসব বিষয়ে এ মুহূর্তে মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছে। কারণ তার বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে ইউজিসি কর্তৃক প্রেরিত হয়েছে। সে বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে।

‘উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতিসংক্রান্ত আরেকটি অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় কলিমুল্লাহ কর্তৃক সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত অন্যান্য সব বক্তব্য সম্পর্কে মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন প্রাপ্তি ও বিবেচনার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় বক্তব্য উপস্থাপন করবে।’

শেয়ার করুন

চকবাজারে বিস্ফোরকসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

চকবাজারে বিস্ফোরকসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

ক্যাপশন: রাজধানীর চকবাজারে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক পদার্থসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘চকবাজারের চক সার্কুলার রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৯৯১টি বিস্ফোরকজাতীয় দ্রব্য, একটি মোবাইল ও ১৮ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।

রাজধানীর চকবাজারে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক পদার্থসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. হৃদয়, মো. মুন্না, নুরে আলম তপু ও মোহাম্মদ রাব্বি।

শুক্রবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন র‍্যাব-১০-এর লালবাগ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, ‘চকবাজারের চক সার্কুলার রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৯৯১টি বিস্ফোরকজাতীয় দ্রব্য, একটি মোবাইল ও ১৮ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।’

র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, গোপনে দীর্ঘদিন ধরে তারা বিস্ফোরক পদার্থ বিক্রি করে আসছিলেন। এ ধরনের বিস্ফোরকজাতীয় পদার্থ বিক্রির ফলে বিভিন্ন দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি জানান, তাদের বিরুদ্ধে চকবাজার মডেল থানায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg