বিএনপি চাইলে আগে টিকা পাবে

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি চাইলে আগে টিকা পাবে

‘বিএনপি যদি আগে ভ্যাকসিন পেতে চায়, আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে অনুরোধ করতে পারি, বিএনপিকে যেন আগে ভ্যাকসিন দেয়া হয়।’

করোনার টিকা কেবল সরকার সমর্থকরা পাবে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে আসা বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি জানান, বিএনপি আগেভাগে করোনা টিকা নিতে চাইলে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন হাছান।

ভারত থেকে করোনার টিকা আসা যখন সময়ের অপেক্ষা, তখন বিএনপির পক্ষ থেকে দুই ধরনের বক্তব্য আসছে। প্রথমত. ভারতের টিকা কাজ করবে না। দ্বিতীয়ত. এই টিকা কেবল সরকার সমর্থকরা পাবে। টিকাদান কেন্দ্রে গেলে বাকিদের ফিরিয়ে দেয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যদি আগে ভ্যাকসিন পেতে চায়, আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে অনুরোধ করতে পারি, বিএনপিকে যেন আগে ভ্যাকসিন দেয়া হয়।’

হাছান বলেন, তারা গুজব রটিয়েছিল একটি ভুল সংবাদ এর প্রেক্ষিতে। বলেছিল, সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন আসছে না। কিন্তু সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন আসছে। এমনকি আমরা বিনামূল্যে ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাচ্ছি ভারত সরকারের উপহার হিসেবে।’

সবকিছুতেই ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন টিকা অন্য সুরে কথা বলছে বলেও মনে করেন হাছান। বলেন, ‘লুটপাটের দল তো বিএনপি। সেজন্য সব কিছুতে লুটপাট দেখার চেষ্টা করে।’

করোনা টিকা নিয়ে সরকার লুটপাট করছে, বিএনপির এমন অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন হাছান। বলেন, ‘তারা মনে করেছিল এই করোনা মহামারি সরকার সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারবে না।

‘তারা প্রথম থেকে আশঙ্কা করেছিল বা ধারণা করেছিল, এমনকি হয়ত প্রার্থনাও করেছিল যে, এই করোনা মহামারিতে যেন ব্যাপক লোক ক্ষয় হয় এবং দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু সেটি হয়নি।’

দেশে তেমন পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় বিএনপি হতাশ বলেও মনে করেন তথ্যমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগেকর্তৃত্ববাদী রাজনীতি’ নেই

আওয়ামী লীগকে কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক দল বলে বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যেরও জবাব দেন হাছান।

বরেন, ‘মির্জা ফখরুলকে বলব, উনি যে দল করেন সে দলে যে কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি আছে, আগে সেটা নিয়ে একটু কথা বলুন।’

বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে হাছান বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি, আরেকজন হচ্ছেন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসাসি। ১৩ নদী সাত সমুদ্র ওপার থেকে যা বলেন তাদের দলের সিদ্ধান্ত হয় সেভাবে। কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি তাদের দলে আছে আমাদের দলে নেই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি থাকলে আমাদের দলে কাদের মির্জা এত কথা বলতে পারতেন না এবং বললে সেটা নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হতো, সেটি হয়নি।’

এ সময় মেজর হাফিজকে দেয়া কারণ দর্শানোর চিঠির প্রসঙ্গটি টেনে আনেন তথ্য মন্ত্রী।

বলেন, ‘মেজর হাফিজ একটু সমালোচনা করেছেন। সেজন্য তাকে যেভাবে শোকজ করা হয়েছে, যে ভাষায় শোকজ করা হয়েছে... সেই দলের মহাসচিবের এই রাজনীতি নিয়ে কথা বলার কোনো নৈতিক অধিকার আছে বলে আমি মনে করি না।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদে নজর দিতে বললেন তথ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে, আশায় হাছান
তাপস-খোকন-মির্জার বক্তব্য দলের কিছু না: হাছান
রংপুরে হবে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র: তথ্যমন্ত্রী
সৈয়দ আশরাফকে মনে রাখবে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আবরার হত্যা: আসামিদের বক্তব্য ১৪ মার্চ

আবরার হত্যা: আসামিদের বক্তব্য ১৪ মার্চ

বুয়েট ছাত্র আবরারকে পেটানোর পর সন্দেহভাজনরা ধরাধরি করে কক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যান। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সে দৃশ্য। ফাইল ছবি

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে পিটুনির শিকার হয়ে মারা যান আবরার ফাহাদ। পরদিন তার বাবা বরকতউল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন যাদের প্রায় সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বি হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরা শেষ হয়।

আগামী ১৪ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য রাখার সুযোগ দিয়েছেন ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।

সেদিন আসামিরা ইচ্ছে করলে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের বক্তব্য খণ্ডন করার জন্য সাফাই সাক্ষী হাজির করতে পারবেন।

মামলাটির সাফাই সাক্ষী শেষ হলে হবে যুক্তিতর্ক। এর পর আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা হবে।

আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূঞা তথ্যটি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

গত ৩১ জানুয়ারি একই আদালতে ওয়াহিদুজ্জামানেরৎ জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়। এরপর থেকে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ।

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়। এরপর ৫ অক্টোবর আবরারের বাবা বরকতউল্লাহর জবানবন্দি ও জেরা করার মধ্য দিয়ে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে পিটুনির শিকার হয়ে মারা যান আবরার ফাহাদ। পরদিন তার বাবা বরকতউল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন যাদের প্রায় সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।

গত বছর ১৩ নভেম্বর মামলায় ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

মামলার আসামিদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন এবং এজাহারবহির্ভূত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন গ্রেপ্তার আছেন। বাকি তিন জন পলাতক।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদে নজর দিতে বললেন তথ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে, আশায় হাছান
তাপস-খোকন-মির্জার বক্তব্য দলের কিছু না: হাছান
রংপুরে হবে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র: তথ্যমন্ত্রী
সৈয়দ আশরাফকে মনে রাখবে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বেসিক ব্যাংকে জালিয়াতির ২১ মামলার তদন্তে সময় আড়াই মাস

বেসিক ব্যাংকে জালিয়াতির ২১ মামলার তদন্তে সময় আড়াই মাস

আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বলেছে, আদেশ পাওয়ার আড়াই মাসের মধ্যে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া সংশ্লিষ্ট ২১টি মামলার তদন্ত শেষ করে বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে।

বেসিক ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় ৫৬ মামলার মধ্যে ২১ মামলার তদন্ত আড়াই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এসডি সার্ভে ফার্মের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

আদালত বলেছে, এ সময়ের মধ্যে দুদক তদন্ত শেষ করতে না পারলে আসামি ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া যদি জামিন আবেদন করেন তাহলে বিচারিক আদালত জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

নির্দেশনায় আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বলেছে, আদেশ পাওয়ার আড়াই মাসের মধ্যে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া-সংশ্লিষ্ট ২১টি মামলার তদন্ত শেষ করে বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মমতাজ পারভীন। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান, এ কে এম ফজলুল হক ও শাহীন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ১৯৬ কোটি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে আসামি ইকবালের বিরুদ্ধে। তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলটি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা ২১টি মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।’

ইকবালের আইনজীবী মমতাজ পারভীন বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারার ৫ উপধারা অনুযায়ী যেকোনো মামলায় ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে অভিযোগপত্র দিতে হয়। দায়রা জজ আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সে মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানো যাবে। এই মামলাগুলোর তদন্ত সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে। দুই হাজার দিনের বেশি হয়ে গেছে। তারপরও তদন্ত শেষ হচ্ছে না। এসব যুক্তি তুলে ধরে জামিন চাওয়া হয়েছিল।

‘আদালত জামিন প্রশ্নে যে রুল জারি করেছিল তা নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছে। বলেছে, আদেশ পাওয়ার আড়াই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করতে।’

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালে জুন-জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিল ও পল্টন থানায় ২১টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট ১৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

২০১৯ সালের ৪ মার্চ এসব মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইকবাল হোসেন ভূঁইয়াকে চিঠি দেয় দুদক। এরপর সে হাজির না হয়ে ওই বছরের ৬ মে হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন তিনি।

আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ১৮ জুন বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত তার আগাম জামিন বহাল রাখে।

পরে ১৪ জুলাই আদালতে আত্মসমর্পণ করে ফের জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। তবে আদালত জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

এরপর থেকে কারাগারেই আছেন ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া।

গত বছর মার্চে হাইকোর্টে একটি মামলায় জামিন আবেদন করেন তিনি। তখন ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তাকে জামিন না দিয়ে রুল জারি করে। পরে বাকি ২০ মামলায় বিভিন্ন সময় বিচারিক আদালতে তিনি জামিন চাইলে সেসব আবেদন খারিজ হয়।

বিচারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করলে হাইকোর্ট ইকবালকে একটি মামলায় জামিন দেয়। বাকি ২০ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদেশ দিল হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদে নজর দিতে বললেন তথ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে, আশায় হাছান
তাপস-খোকন-মির্জার বক্তব্য দলের কিছু না: হাছান
রংপুরে হবে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র: তথ্যমন্ত্রী
সৈয়দ আশরাফকে মনে রাখবে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

কর্মীরা আসক্ত কি না, খুঁজছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

কর্মীরা আসক্ত কি না, খুঁজছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

আমাদের একজন সদস্য মাদক সেবন করে বলে পরীক্ষা করে পেয়েছিলাম। তার বিরুদ্ধে এখন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গতকাল একজন পরিদর্শককে আমরা পরীক্ষা করেছি। কিন্তু পরীক্ষায় তার মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি: মহাপরিচালক

মাদক নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাই মাদকে আসক্ত। সম্প্রতি ডোপ টেস্টে এর প্রমাণও মিলেছে।

সংস্থার আর কারা মাদকে আসক্ত, সেটি খুঁজে বের করতে অধিদপ্তর এই পরীক্ষা আরও ব্যাপকভাবে চালাতে চায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সেগুনবাগিচায় অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক আহসানুল জব্বার।

তিনি বলছিলেন, পুলিশের মধ্যে যারা মাদকসেবী রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তখন তার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, অধিদপ্তরের কেউ মাদকে আসক্ত হলে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি বিধিমালা তৈরি হচ্ছে। বিধিমালাটি তৈরি হলে বিস্তারিত কাজ করা যাবে। তবে আমাদের একজন সদস্য মাদক সেবন করে বলে পরীক্ষা করে পেয়েছিলাম। তার বিরুদ্ধে এখন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘গতকাল একজন পরিদর্শককে আমরা পরীক্ষা করেছি। কিন্তু পরীক্ষায় তার মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

অন্য এক প্রশ্নে আহসানুল জব্বার জানান, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালাতে তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যারা রোহিঙ্গা রয়েছেন তাদের মধ্যে মাদক ব্যবসার প্রবণতা রয়েছে। সেজন্য এখানে আমাদের অভিযান চালাতে বলা হয়েছে।’

যে কারণে অস্ত্র ও মোবাইল ট্র্যাকার চায় মাদকের কর্মীরা

এই বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। কেন তারা অস্ত্র চাইছেন, মোবাইল ট্র্যাকারই বা কেন প্রয়োজন- এমন প্রশ্ন ছিল মহাপরিচালকের কাছে।

জবাবে তিনি বলেন, ‘সাধারণত যারা মাদক বিক্রেতা থাকেন, তারা অনেক ভয়ঙ্কর হয়। এরা অনেক সময় আমাদের ওপর অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এই ধারাবাহিকতায় আমরা এখন অনুধাবন করছি যে আমাদের অস্ত্রের প্রয়োজন রয়েছে।

‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবের তত্ত্বাবধায়নে একটি কমিটি রয়েছে। এই কমিটি এখন বিচার-বিশ্লেষণ করছে কীভাবে কী উপায়ে আমাদেরকে অস্ত্র দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আরও একটি বিষয় আমরা অনুধাবন করেছি যে আমাদের অবশ্যই মোবাইল ট্র্যাকার প্রয়োজন। খুব সহজে এর সাহায্যে আমরা অপারেশন চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পারব।’

অনিয়ম পেলে মাদক নিরাময় কেন্দ্র বন্ধ

মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে ধরনের অন্যায় পাওয়া গেলে সেগুলো বন্ধ করে দেয়ার কথাও জানান আহসানুল জব্বার।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৯ টি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লাইসেন্স বন্ধ করে দিয়েছি। যেসব মাদক নিরাময় কেন্দ্রে অন্যায় পাওয়া যাবে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।’

গত ছয় মাসে ঢাকার দুটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে দুই জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

গত নভেম্বরের শুরুতে আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মালিকসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলার পর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি মালিবাগ হলি লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রেও এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মালিকপক্ষ এতে আত্মহত্যা বলছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘নিহত হওয়া ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনাস্থলে আমাদের টিম গিয়েছিল। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।’

মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তার পাশে থাকা এক কর্মকর্তারা বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু অসংগতি রয়েছে। তবে অধিকাংশ মাদক নিরাময় কেন্দ্র সঠিকভাবে চলছে। আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করেছি।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদে নজর দিতে বললেন তথ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে, আশায় হাছান
তাপস-খোকন-মির্জার বক্তব্য দলের কিছু না: হাছান
রংপুরে হবে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র: তথ্যমন্ত্রী
সৈয়দ আশরাফকে মনে রাখবে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ইয়াবার চেয়ে শতগুণ ক্ষতিকর মাদক ক্রিস্টাল মেথসহ গ্রেপ্তার এক

ইয়াবার চেয়ে শতগুণ ক্ষতিকর মাদক ক্রিস্টাল মেথসহ গ্রেপ্তার এক

ক্রিস্টাল মেথামফিটামিনসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ছবি: নিউজ বাংলা

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহসানুল জব্বার এ তথ্য জানান, কক্সবাজারের টেকনাফ বিশেষ জোনের সহকারী পরিচালক সিরাজুল মােস্তফা মুকুলের নেতৃত্বে একটি টিম আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে।

ইয়াবার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি ক্ষতিকর মাদক ক্রিস্টাল মেথামফিটামিনসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

বুধবার বিকেলে টেকনাফ ২৮নং রােহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে জাদিমুড়া এলাকায় একটি বাঙালি বসতি থেকে ৩১ বছর বয়সী মাে. আব্দুল্লাহকে দুই কেজি ক্রিস্টাল মেথামফিটামিনসহ (মেথ/আইস) গ্রেপ্তার করে।

অপর আসামি মাে. আব্দুল্লাহর ভাই আবদুর রহমান পলাতক রয়েছেন। দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ক্রিস্টাল মেথামফিটামিন সংরক্ষণ, বহন ও ক্রয়-বিক্রয়ের অপরাধে মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সেগুনবাগিচায় এক সংবাদ সম্মেলনে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহসানুল জব্বার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফ বিশেষ জোনের সহকারী পরিচালক সিরাজুল মােস্তফা মুকুলের নেতৃত্বে একটি টিম আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে।

আহসানুল জব্বার বলেন, চালানটির উৎসস্থল থাইল্যান্ড, যা পরে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে। চক্রটি এ মাদক পাচার কাজে গ্রিন-টির প্যাকেট ব্যবহার করেছিল। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে একটি সক্রিয় মাদক কারবারি চক্র ক্রিস্টাল মেথামফিটামিনের (মেথ/আইস) বাজার তৈরি করার অপচেষ্টা করে আসছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেকনাফ বিশেষ জোনের সদস্যরা এই সংঘটিত চক্রটিকে ধরার জন্য ছয় মাস ধরে গােয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।

15
জব্দকৃত দুই কেজি ক্রিস্টাল মেথামফিটামিন (মেথ/আইস)

এই মাদকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে তিনি বলেন, 'আইস বা ক্রিস্টাল মেথ নামে পরিচিত এই মাদক ইয়াবার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি ক্ষতিকর। এটি ধোঁয়া, নাক ও ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। এটি একটি সিনথেটিক স্টিমুল্যান্ট জাতীয় মাদক। ক্রিস্টাল মেথামফিটামিন (মেথ/আইস) পশ্চিমা বিশ্ব, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মিয়ানমারসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

জব্দকৃত ক্রিস্টাল মেথামফিটামিন (মেথ/আইস) এর আনুমানিক মূল্য ১০ কোটি টাকা।

গত ২০১৯ সালের ২৮ জুন রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ৫২০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথামফিটামিন (মেথ/আইস) সহ এক জনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি গােয়েন্দা টিম গ্রেপ্তার করে । এটি ছিল দেশের প্রথম ক্রিস্টাল মেথামফিটামিনের (মেথ/আইস) চালান। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদে নজর দিতে বললেন তথ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে, আশায় হাছান
তাপস-খোকন-মির্জার বক্তব্য দলের কিছু না: হাছান
রংপুরে হবে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র: তথ্যমন্ত্রী
সৈয়দ আশরাফকে মনে রাখবে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

গান আলাপে কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা

গান আলাপে কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গান, এর সংকট ও সমাধানের পাশাপাশি রুনা লায়লার অসামান্য জীবনের নানা বাঁকের কথা উঠে এসেছে এই আলাপে। রুনা লায়লার মুখোমুখি হয়েছিলেন কবি আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির। খুবই আন্তরিক আলাপে তিনি এ সময়ের গানের ভুবন প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখন তো কাটপেস্টের যুগ।' শিল্পীদের প্রসঙ্গে বলেন, 'শুধু নতুন শিল্পী হলেই হবে না, মান থাকতে হবে।' বাংলা সিনেমায় তার অবদান প্রসঙ্গে বলে ওঠেন, 'মৌসুমী বলো, শাবনূর বলো, পপি সবারই প্রথম ছবির প্রথম গানটি কিন্তু আমার গাওয়া।' চলুন, পড়া যাক বিস্তারিত।

উপমহাদেশের অন্যান্য চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির মতো, ঢাকাই চলচ্চিত্রে গানের বড় একটা ভূমিকা থাকায় স্বভাবতই ভালো গায়ক বা গায়িকার বড় প্রয়োজন আগেও ছিল, এখনো আছে। যারা দশকের পর দশক ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক জগতের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম রুনা লায়লা। দেশের সীমানার বাইরে তার খ্যাতি ছড়িয়েছে বৈচিত্র্যময় গায়কির জন্য। গজল, ফোক, ডিসকো, নজরুলগীতিসহ গানের বিভিন্ন ধারায় তার সাড়া জাগানো উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে বহুবার।

গোল্ডেন ডিস্ক, প্লাটিনাম ডিস্ক-জয়ী বিভিন্ন সুপার হিট অ্যালবাম তিনি করেছেন উর্দু আর হিন্দি ভাষায়। টিভি অনুষ্ঠান ও মঞ্চে রুনা লায়লার নিজেকে উপস্থাপন করার স্টাইল এখনো অনেক শিল্পীর অনুকরণীয়। এত কিছুর পরেও নিজেকে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন কিংবদন্তি এই শিল্পী। ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর সিলেটে জন্ম নেয়া রুনার শৈশব কেটেছে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানে। বাবার চাকরিসূত্রে সেখানে থাকতে হয়েছিল তাকে। ১৯৬৪ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে লাহোরে জুগনু ছবিতে ‘গুড়িয়াছি মুন্নি মেরি’ গানের মাধ্যমে প্লেব্যাক জগতে পা রাখেন রুনা। ১৯৭০ সালে ঢাকার স্বরলিপি ছবিতে প্রথম বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন; গানটি ছিল ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে।’ ১৯৭৪ সালে মুম্বাইয়ের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তার অভিষেক হয় এক সে বাড়কার এক ছবির মাধ্যমে। পাকিস্তান আর ভারতে উর্দু, হিন্দি, সিন্ধি, পাঞ্জাবি, পশতু ইত্যাদি ভাষায় প্রচুর গান গাইলেও, ঢাকার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকেই তিনি বেছে নিয়েছেন তার মূল কর্মক্ষেত্র হিসেবে।

রুনা লায়লা, ষাটের দশকে


সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গান, এর সংকট ও সমাধানের পাশাপাশি এই শিল্পীর অসামান্য জীবনের নানা বাঁকের কথা উঠে এসেছে এই আলাপে। রুনা লায়লার মুখোমুখি হয়েছিলেন কবি আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির। খুবই আন্তরিক আলাপে তিনি এ সময়ের গানের ভুবন প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখন তো কাটপেস্টের যুগ।' শিল্পীদের প্রসঙ্গে বলেন, 'শুধু নতুন শিল্পী হলেই হবে না, মান থাকতে হবে।' বাংলা সিনেমায় তার অবদান প্রসঙ্গে বলে ওঠেন, ‘মৌসুমী বলো, শাবনূর বলো, পপি সবারই প্রথম ছবির প্রথম গানটি কিন্তু আমার গাওয়া।’ ১৩ আগস্ট ২০১১ সালে নেয়া এ সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গ ও সমসাময়িকতা বিবেচনায় এখনো প্রাসঙ্গিক। চলুন, পড়া যাক বিস্তারিত।

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: ক্ল্যাসিকাল, সেমি-ক্ল্যাসিকাল ও গানের অন্যান্য ধারায় কিন্তু আপনি বিশেষভাবে খ্যাত; তারপরেও চলচ্চিত্রের গানকেই আপনি মূল কর্মক্ষেত্র হিসেবে নিয়েছেন। চলচ্চিত্রের গানের ক্ষেত্রে আপনার ভালো লাগা বা দুর্বলতা কতখানি?

রুনা লায়লা : চলচ্চিত্রের গানে একটা বড় সুবিধা হলো, এখানে সব ধরনের গান করার সুযোগ পাওয়া যায়। আধুনিক গান হোক, রোমান্টিক ধাঁচের হোক, সেমি-ক্ল্যাসিকাল হোক, ডিসকো, পপ, ফোক সবই আছে এর মধ্যে। এর প্রচারও অনেক বেশি। অনেক মানুষই চলচ্চিত্র দেখে বা যারা নাও দেখে রেডিওতে গানগুলো শোনে। আর আমি তো মূলত প্লেব্যাক সিঙ্গারই, ন্যাচারালি এর প্রতি একটা উইকনেস তো থাকবেই।

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: আপনি ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ তিন দেশের জন্যই প্লেব্যাক করেছেন। বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দুটো দেশে বড় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আপনি ঢাকার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকেই বেছে নিয়েছেন। ওই দুই দেশে আপনার অভিজ্ঞতাও যথেষ্ট। ওখানকার আয়োজন, বিশেষ করে সঙ্গীতায়োজনে আপনার বিশেষ কিছু ভালো লাগা নিশ্চয়ই আছে। আপনার এই অভিজ্ঞতাগুলোর কতখানি এখানে কাজে লাগাতে পেরেছেন?

রুনা লায়লা : আসলে তিন দেশে গানের স্টাইল বা ধারা একদম অন্য রকম। আমাদের এখানে মূলত বাংলা গানটাই বেশি হয়, মানে বাংলা স্টাইলেই বেশি হয়। তারপরেও বলব যে, এখানে আমি অনেক ধরনের গানই গাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আর যেহেতু আমি বাংলাদেশের গায়িকা, বাংলাদেশেই থাকি, সেহেতু স্বাভাবিকভাবেই বাংলা ছবিতেই আমার বেশি গান হয়েছে এবং হচ্ছে। আর ইন্ডিয়াতে ওরা হচ্ছে টেকনিক্যালি অনেক অ্যাডভান্সড। একটা গানের মধ্যে অনেক কিছু তারা অ্যাড করতে পারে। এবং অনেক ধরনের, সংখ্যায় অনেক অ্যাক্যুস্টিক ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করা হয়। যা আমাদের এখানে দুঃখজনকভাবে বলতে গেলে একদমই নেই, আর থাকলেও খুবই কম। তো অনেক মিউজিক ডিরেক্টরকে দেখেছি, তারা যেহেতু এখানে সেরকম ইন্সট্রুমেন্ট পায় না, ইন্ডিয়াতে গিয়ে রেকর্ড করে আনে, ট্র্যাক করে আনে।

আর পাকিস্তানের কথা বলতে গেলে, মূলত আমি ওইখানেই আমার ক্যারিয়ার শুরু করেছি। ফিল্মের গান প্রথম আমি ওখানেই গাই। এরপর অনেক বছর, অনেক ধরনের, অনেক সুরকারের সাথে আমি কাজ করেছি। ওই অভিজ্ঞতাগুলো আমি এখানে কাজে লাগাচ্ছি, যেহেতু আমার বেইজটাতে বেশ বৈচিত্র্য রয়েছে। আমি আগেই অনেক ধরনের গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছি পাকিস্তানে, যার কারণে ওই অভিজ্ঞতাটা আমি এখানে কাজে লাগাতে পারছি।

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: পাকিস্তানে আপনার চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গ যখন এলোই, তখন যার সঙ্গীত, যার নাম সবার আগে আসে, তিনি নিসার বাজমি। অনেক ভার্সেটাইল একজন সুরকার। বলা হয়ে থাকে আপনার এবং তার অসাধারণ একটা কেমিস্ট্রি ছিল। উনি ডিসকো, পপ, মডার্ন, ক্ল্যাসিকাল সব ধরনের গান আপনাকে দিয়ে করিয়েছেন চলচ্চিত্রে। ওনার সম্পর্কে জানাটা জরুরি। আমাদের দেশে ওনার সম্পর্কে জানাশোনা একটু কম।

রুনা লায়লা : আসলে নিসার বাজমি সাহেব তো ওনার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ইন্ডিয়াতে। এবং আমি যখন ১৯৭৪ সালে প্রথমবার লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারালালজির গান করতে যাই, লক্ষ্মীকান্তজি আমাকে বললেন যে, নিসার বাজমি সাহেবের সুরে আমার করা কিছু গানের ক্যাসেট ওনাদের কাছে ছিল; লক্ষ্মীকান্তজির কাছে। আমি জিজ্ঞেস করায় উনি বললেন, বাজমি সাহেব তো আমাদের গুরু। উনি যখন এখানে সুর করতেন আমরা তখন মিউজিশিয়ানস ছিলাম, ওনার সাথে অনেক কাজ করেছি। খুব শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করলেন বাজমি সাহেবকে। আর বাজমি সাহেব বেসিক্যালি এত ধরনের গান আমাকে দিয়ে গাইয়েছেন যে, আমার মনে হয়, আমার ভয়েজটাকে উনিই একমাত্র পুরোপুরি ইউটিলাইজ করেছেন। অনেক সময় আমি নিজেও জানতাম না যে আমি এই ধরনের গান গাইতে পারব, কিন্তু উনি ঠিকই বের করে নিয়েছেন আমার কাছ থেকে। ওনার মধ্যে ওই জিনিসটা ছিল। উনি বুঝতে পারতেন যে, কোন আর্টিস্টকে দিয়ে কোন গান গাওয়ালে সে ভালো করবে।

আমাকে উনি সব সময় বলতেন, তুমি একজন ভার্সেটাইল সিঙ্গার, তুমি সব ধরনের গানই গাইবে। সব ধরনের গানই উনি আমাকে দিয়ে গাইয়েছেন। এবং ওনার অসাধারণ কিছু কম্পোজিশনে আমি গাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। যার জন্যে এখনো ওই গানগুলো মানুষ শুনতে চায়। ‘দিল ধারকে’ যে রকম, তারপরে ‘আপ দিলকি আঞ্জুমান মে’, ‘কাটে না কাটেরে রাতিয়া’। ভিন্ন ধরনের গান কিন্তু সবগুলো, প্রত্যেকটার আলাদা একটা আপিল আছে। উনি যে অর্কেস্ট্রেশন, যে অ্যারেঞ্জমেন্টগুলো করতেন, ওই অ্যারেঞ্জমেন্টগুলো বোধ হয় এই সাব-কন্টিনেন্টে কম হয়েছে। হি ওয়াজ ওয়ান অব দ্য লিডিং মিউজিক ডিরেক্টরস। খুব জিনিয়াস একটা লোক।

অনেক কাজ করেছি আমরা একসঙ্গে। আমাকে এত গান গাওয়ানোর জন্য ওনাকে অনেক প্রবলেম ফেইস করতে হয়েছে। অনেক আর্টিস্ট রাগ করেছেন। কিন্তু আমার উপর ওনার খুব বিশ্বাস ছিল। আমাকে দিয়ে তিনি সব ধরনের গান গাইয়ে ছেড়েছেন। তখন আমার বয়সও অনেক কম ছিল। অনেক সময় আমি বলতাম, বাজমি সাহাব, এই গানটা অনেক কঠিন, আমি পারব না গাইতে। উনি বলতেন, পারবে না কেন? অবশ্যই পারবে। উনি আমার ভিতরের সম্ভাবনাটাকে, অ্যাবিলিটিটাকে চিনতে পেরেছিলেন।

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: সেই তুলনায় আমাদের সঙ্গীতায়োজনের সমস্যা কী? বিশেষ করে ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে কিন্তু বৈচিত্র্যের অভাবসহ আরও অনেক ধরনের সংকট দেখা গেছে। ২০০০ সালের দিকে আপনার ঘোষণা মনে হয় পত্রিকায় এসেছিল যে, আপনি আর নিয়মিত গাইবেন না। এরপর কিন্তু সংকটটা আরও বেড়েছে।

রুনা লায়লা : আসলে মাঝখানে আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা, ছবির যে অবস্থা ছিল; খুব খারাপ একটা সময় গেছে। শুধু গানের ক্ষেত্রেই না, আমি বলব ফিল্মের সব ক্ষেত্রেই খুব বাজে একটা সময় গেছে এবং সেটাকে কাটিয়ে উঠতেই অনেক সময় লেগেছে। আস্তে আস্তে এখন ভালো ভালও ছবিও কিছু হচ্ছে, ভালও গানও কিছু বেরোচ্ছে।

আর আমাদের মেইন প্রবলেম হচ্ছে যে, বড় ধরনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেই; প্লাস আমাদের অ্যাকুস্টিক ইন্সট্রুমেন্টের একটা অভাব আছে। আমার মনে হয় যে, আমাদের অ্যাক্যুস্টিক ইন্সট্রুমেন্টের প্লেয়ার ছিল, কিন্তু তাদের সেভাবে ইউটিলাইজ করা হয় নাই। যার কারণে, আস্তে আস্তে ওই ফ্লোটা মরে গেছে। পুরো গানের সবকিছু একজনই করছে, একজনই সবকিছু বাজিয়ে দিচ্ছে। এভাবে তো আসলে মজাটা থাকে না। ভায়োলিন থাকল, ফ্লুট থাকল, সান্তুর বা সেতার থাকল, সারেঙ্গি থাকল। এসব কিন্তু আর শোনাই যায় না, গেলেও খুব কম। আর এখন কাজ যেটা হচ্ছে সেটা ঝটপট করে ফেলা।

আগে তো আমরা মিউজিক ডিরেক্টরের সাথে একটা গান তিন দিন রিহার্সেল করতাম, তারপরে দুই দিন মিউজিশিয়ানদের সাথে ফুল রিহার্সেল হতো; তারপরে আমরা রেকর্ডিংয়ে যেতাম। রেকর্ডিং লাইভ হতো, ইন্সট্রুমেন্টসহ। একটা গান করতে সারা দিন, অনেক সময় সারা রাতও লেগে যেত। লাইভ ছিল, তাই কেউ একজন ভুল করলে আবার নতুন করে শুরু করতে হতো। এখন ওই ডেডিকেশনটাও কমে গেছে, কাজের যে একটা ফ্লো ছিল, সেটাও নেই। আমরাও এখন অনেকটা লেজি হয়ে গেছি। একবার একটা লাইন গাইলাম, ঠিক হলো না, আচ্ছা আর একবার করে নিই; বা মুখটা গাইলাম আর দরকার নাই। কাট্‌ অ্যান্ড পেস্ট করে শেষে ওটাই লাগিয়ে দেব। এখন তো কাট অ্যান্ড পেস্টের যুগ।

সংগীত পরিবেশনরত রুনা লায়লা


আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: কাট অ্যান্ড পেস্ট করলে কিন্তু গানের এসেন্সটা নষ্ট হয়ে যায়। যেমন আপনার ক্ষেত্রে আমরা খেয়াল করেছি, আপনি একটা লাইন শুরুতে যেভাবে গান, পরে আবার অন্য যেকোনো জায়গায় লাইনটা এলে আর ওভাবে গান না। গানের ক্ষেত্রে শেষ করা শুরু করার ধরনটা কিন্তু আলাদা।

রুনা লায়লা: হ্যাঁ। আমি সেইজন্য চেষ্টা করি পুরোটাই করার, পুরো গানটাই আমি গাই। পারতপক্ষে তাই কাট অ্যান্ড পেস্ট করতে দিই না। কাট অ্যান্ড পেস্টে ইমোশনটাও অনেক কমে যায়।

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: আপনি, সাবিনা ইয়াসমীন; আপনারা যখন ৬০-এর দশকের শেষে বা ৭০-এ আসলেন, অনেক বড় মাপের গায়ক-গায়িকাদের উত্তরাধিকার হিসেবে। আপনারা কিন্তু জনপ্রিয়তা বা যোগ্যতায় আগের সবাইকে একরকম ছাড়িয়ে গেলেন। আপনাদের পরে এত দিন চলে গেল, একটা শিল্পীও আসে নাই, যারা ছাড়িয়ে যাওয়া দূরে থাক, আপনাদের সাথে তুলনায়ও যেতে পারে। এরকম হওয়ার কারণটা কী?

রুনা লায়লা: এটার কারণ আসলে খুঁজে বের করা খুবই কঠিন, কেন আসেনি। এমনকি ভারতেও, লতাজি, আশাজির পরে ওই মাপের সিঙ্গার তো আর আসেনি। হ্যাঁ, অনেক ভালো সিঙ্গার আছে, কিন্তু ওই জিনিস তো আর হবে না। যে রকম পাকিস্তানে ম্যাডাম নূরজাহানের পরে অনেক সিঙ্গার এসেছে, ভালো গান করেছে কিন্তু তার মতো আর আসেনি। আমার মনে হয় আমাদের এখানেও ব্যাপারটা অনেকটা ওই রকম। আমাদের এখানে সুযোগের অভাবেও অনেক ট্যালেন্ট বেরিয়ে আসতে পারছে না। ওই প্ল্যাটফর্মও পাচ্ছে না। কারণ মিউজিক ডিরেক্টররা নতুনদের গাওয়াতে ভয় পাযন।

আমি অনেক সময় অনেক মিউজিক ডিরেক্টরকে, প্রডিউসারকে বলি নতুনদের দিয়ে গাওয়ান না কেন? আমরা তো অনেককাল গাইলাম। তারা বলে, ‘ম্যাডাম, ওই জিনিস তো হবে না।’ আমার কথা হলো, ওই জিনিস না হোক, ওরা ওদের মতন করে অন্যকিছু দিক। এখন যদি মাথার মধ্যে সব সময় ওইটাই থাকে যে সাবিনা-রুনার মতো হতে হবে, তাহলে তো অন্য কেউ আর আসতে পারবে না। সেই সুযোগটা তো ওদের করে দিতে হবে।

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: ক্ল্যাসিকাল গানের ব্যাপারে আসা যাক। পাকিস্তানের চলচ্চিত্রের গানের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য ক্ল্যাসিকাল-বেইজড গানের ব্যবহার। আপনিও পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে অনেকগুলো এই ধরনের গান করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে এই রকম গানের ব্যবহার কম। হাতেগোনা ছবি আনারকলি, মহানায়ক বা রাজলক্ষ্মীশ্রীকান্ত ছাড়া খুব একটা দেখা যায় না। রিসেন্টলি রূপকথা গল্পের ‘কার তরে নিশি জাগো রাই’ গানটি হয়েছে। এ রকম গানের ব্যবহার খুব একটা হয় না কেন?

রুনা লায়লা : বাংলাদেশি ছবিতে ক্ল্যাসিকাল গান যত হয়েছে, তার ম্যাক্সিমাম গাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে। আমার বেইজটা ক্ল্যাসিকালের ছিল। আর পাকিস্তানে থাকাকালীন যেসব গান গেয়েছি, যাদের গান গেয়েছি, ওরা অনেক ক্ল্যাসিকাল বেইজড গান করত। এদেশেও হয়েছে এই রকম গান। কিন্তু অনেক কম। কারণ, এখানে গানের ধারাটাই অন্যরকম। ওখানে যে রকম ক্ল্যাসিকালকে নিয়ে ওরা খেলা করে। আর এখানে যদি কোনো সিকোয়েন্স থাকে, যদি দরকার পড়ে, তাহলেই কেবল এ ধরনের গান দেয়া হয়। আদারওয়াইজ এখানে সেমি-ক্ল্যাসিকাল গানও হয় না। এবং ‘কার তরে নিশি জাগো রাই’ এই গানটার কথা যখন আমাকে প্রথমে বারী (বারী সিদ্দিকী) বলল, ‘ম্যাডাম, একটা ক্ল্যাসিকাল গান আছে ফিল্মের জন্য, আপনি কি গাইবেন?’ আমি বললাম, ‘গাইব না কেন? শুনি আগে একটু।’ তারপর ও এল বাসায়। গানটা শুনলাম। গানটা তো আমার আগেই শোনা ছিল। বাড়ে গুলাম আলী সাহাবের গাওয়া ‘বাজুবন্দ খুর খুল যায়’ ছিল ওই সুরের। শুনিয়ে ও আমাকে জিজ্ঞেস করল গাইবে নাকি। বললাম, অবশ্যই গাইব। সাংঘাতিক ভালো গান! কঠিন গান! খুবই কঠিন।

যাই হোক, ভালোয় ভালোয় পার করা গেল। বারী একটা কথা বলল, ‘এই গানটা, ম্যাডাম আপনি যদি বলতেন গাইবেন না, তাহলে এখানে আর হতো না। আমাকে ইন্ডিয়াতে যেতে হতো।’ এই গানটা আমি গেয়েছিও একটু অন্য স্টাইলে। একদম ঠুমরী, টপ্পা গানগুলোর গায়কি যে রকম হয়, সেই রকম করে গাওয়ার চেষ্টা করেছি।

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: ১৯৭৭ সালে যখন প্রথম স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হলো, তখন বলা চলে, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের গানের জন্য একটা বড় রকমের স্বীকৃতি এসেছিল। একজন প্লেব্যাক গায়িকাকে কাজী নজরুল ইসলাম, জয়নুল আবেদিন বা মাওলানা ভাসানীর মতো মানুষদের সাথে পুরস্কৃত করা হলো। কিন্তু এই ধরনের স্বীকৃতি আপনার ক্ষেত্রে বা অন্য কারও ক্ষেত্রে কিন্তু পরে গিয়ে আর কন্টিনিউ করেনি। একুশে পদক কিন্তু আপনাকে এখনো দেয়নি। তো এই ব্যাপারগুলো চলচ্চিত্রের গানের জন্য কতখানি, আপনি কীভাবে দেখেন?

রুনা লায়লা : আমি একটা জিনিস বলব যে, স্বাধীনতা পুরস্কার আমাকে দিয়েছে বিজ্ঞ লোকদের সঙ্গে, অনেক বড় মাপের মানুষদের সাথে। তখন আমি বয়সেও ছোট বা এক্সপেরিয়েন্সেও ছোট। তবু কন্ট্রিবিউশনের জন্যে, এটা মাথায় রেখে হয়তো দিয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ওর সাথে যে সম্মানটা আসা উচিত ছিল, যেমন ভিআইপি পাওয়া, ওইটা কিন্তু আমি এখনো পাইনি। ভিআইপি স্ট্যাটাসও পাইনি, সিআইপি স্ট্যাটাসও পাইনি। আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ট্রাভেল করি, আসি-যাই। আমাকে সাধারণ মানুষ অনেক সম্মান দেয়, শ্রদ্ধা করে। কিন্তু কোনো সরকারের কাছ থেকেই ওই স্বীকৃতিটা, পদকের সাথে যেই স্বীকৃতি আসার কথা, সেটা আসেনি। এটা আমার একটা বিরাট দুঃখ।

আমার মনে হয়, আমি যতটুকুই করতে পেরেছি আমার দেশের জন্য, আমার দেশের গানকে নিয়ে বাইরের দেশে যতটা পারি রিপ্রেজেন্ট করতে, সেটুকু আমি করেছি। স্ট্যাটাসটা আদৌ কখনো আসবে কি না জানি না। এটা একটা বিরাট দুঃখ আমার মনে। আমরা দেখি, নতুন, ইয়াং অনেক ক্রিকেটারও ভিআইপি পাচ্ছে। কিন্তু অনেক জাতীয় পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পদক বা একুশে পদক যারা পেয়েছেন, তারা অনেকেই কিন্তু এ দিক থেকে পিছিয়ে আছেন। তাদেরকে কোনোরকম সম্মানজনক স্বীকৃতি কিন্তু কোনো সরকারই দেয়নি। এটা খুব দুঃখজনক।

আর এরপরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির গানের জগত থেকে আর কাকে দিয়েছে বা না দিলে কেন দেয় নি- এটা আমি বলতে পারব না। যারা কমিটিতে আছেন, তারাই ঠিক করেন কাদের দেবেন।

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: আপনি যখন চলচ্চিত্রে গান করেন, আপনার একটা বিশেষ খ্যাতি আছে; তা হলো গানের, সুরের বৈচিত্র্য। বিভিন্ন রকম ভয়েজে আপনি গান করতে পারেন। এটা কি বিশেষ কোনো স্ট্র্যাটেজি? আপনার গলা মাঝে মাঝে যার উপর পিকচারাইজড হচ্ছে, তার সাথে এত বেশি মিলে যায় যে মনে হয় ওই অভিনেত্রী নিজেই গাচ্ছেন। আপনি কি পারসোনালি অভিনেত্রীদের চিনে জেনে তারপর গান করেন?

রুনা লায়লা : আসলে পাকিস্তানে থাকতে, ইন্ডিয়াতে বা এখানেও আমি যেকোনো গান গাওয়ার আগে জিজ্ঞেস করে নিই, গানটা কার উপরে পিকচারাইজড হবে। শবনম, রানীর উপরে হবে, না আমাদের এখানে শাবনূর, মৌসুমী বা ববিতার উপরে হবে? কার উপরে যাবে? তার কথা চিন্তা করে, সে কী ধরনের এক্সপ্রেশন দেবে বা তার মুভমেন্ট কেমন হবে এসব মাথায় রেখে আমি গানটা ওই স্টাইলেই করি। আর চেষ্টা করি, গানের মধ্যে নব্বই ভাগ এক্সপ্রেশন দিয়ে দিতে, আর বাকি দশ ভাগ ওদের নিজেদের দিতে হয়। এতে করে ওদের খাটুনিটাও কমে যায়।

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: কিন্তু অনেক সময় এত বেশি মিলে যায় যে অবাক লাগে, প্রিয়শত্রু ছবিতে দিতির লিপে; ‘চিঠি কেন আসে না’ বা ‘তুমি আজকে যাও বন্ধু’ এসব গানের ভিডিও দেখলে মনে হয় ভয়েজটা দিতির নিজের! কিংবা মৌসুমীর ‘কাল তো ছিলাম ভালো’…

রুনা লায়লা : মৌসুমী, শাবনূর সবার জন্যই তো গেয়েছি। কিন্তু সব থেকে মজার ব্যাপার যেটা, সেটা হলো, মৌসুমী বলো, শাবনূর বলো, পপি সবারই কিন্তু প্রথম ছবির প্রথম গানটি কিন্তু আমার গাওয়া।

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: দিতি, শাবনাজ এদেরও। ‘বন্ধুর বাঁশি বাজেরে, আমার কানে কানে’!

রুনা লায়লা : হ্যাঁ।

সাম্প্রতিক সময়ে মঞ্চে রুনা লায়লা

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: পুরোনো গানের রিমেক বা রিমিক্স প্রসঙ্গে আসি। যেসব পুরোনো গান রিমেক করে বা রিমিক্স করে, আবার বাজারে আনা হয়। দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই নতুন গানের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়। এতবার শোনা চলচ্চিত্রের সেইসব গানের এত গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি আসলে কী?

রুনা লায়লা: এটা কিন্তু শুধু বাংলাদেশেই হয়; এমন না। ইন্ডিয়ার গানগুলো দ্যাখো, সেই পুরোনো গানগুলোই কিন্তু আসছে ঘুরে-ফিরে। ইয়াং জেনারেশন নিয়ে যতগুলো কম্পিটিশন হচ্ছে, সেই লতাজি, আশাজির, মুকেশজি, কিশোরদার, রাফি সাহাবের গানগুলোই সবাই গাইছে এবং সেগুলো এখনো অনেক পপুলার গান! আগে, আমার মনে হয়, কম্পোজিশন সবকিছু মিলিয়ে পুরো জিনিসটাই এমনভাবে পরিবেশন করা হতো যে যুগের পর যুগ চলছে। এবং আরও চলবে। দেখবে তোমার পরে যারা আসবে তারাও ঐ গানগুলোকে নেবে।

এখানে আমার একটা কথা বলার আছে, গানগুলো যে রিমেক, রিমিক্স হচ্ছে এগুলো যদি অরিজিনাল আর্টিস্টকে দিয়েই আবার করানো হয়, আমার মনে হয় অনেক ভালো হতো। অনেক সময় রিমেক, রিমিক্স করতে গিয়ে গানগুলো ঠিক ওই রকম হয়ও না। আবার অনেক কিছু ওর মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। যেগুলো শুনতেও ভালো লাগে না। অমনই নাকি চলে! তারপরেও আমার মত হলো, অরিজিনাল আর্টিস্টকে দিয়ে গাওয়াতে পারলেই সবচেয়ে ভালো।

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: গানের কথায়, সঙ্গীতায়োজন নিয়ে আপনি হয়তো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। শিল্পীসহ নানা সংকট নিয়ে বা এগুলোর সমাধান নিয়ে চিন্তা নিশ্চয়ই আপনার মাথাতেও এসেছে।

সাক্ষাৎকারের পর কবি আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির এর সাথে রুনা লায়লা

রুনা লায়লা: এক নম্বর কথা হলো, সবার আগে যেটা দরকার, নতুন শিল্পীদের সুযোগ দিতেই হবে। আমাদের ঘরে নতুন শিল্পী তৈরি রাখতেই হবে। এছাড়া কোনো উপায় নেই। শুধু নতুন শিল্পী হলেই হবে না, মান থাকতে হবে। ভালো শিল্পী তৈরি করতে হবে। অনেক প্রতিভাবান ছেলেমেয়ে, অনেক ক্ষেত্রেই সুযোগ পাচ্ছে না। সুযোগের অভাবে অনেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। এদেরকে যদি সবাই মিলে সুন্দর সুযোগ করে দিই আমরা, আমার মনে হয়, আরও অনেক ভালো শিল্পী আমাদের এখানে হবে। অনেকে আবার মনে করতে পারে আগের জনদের মতো তো হবে না। আসলে কেউ কারও জায়গাটা নিতে পারে না, যার যার স্থানে সে সে আছে। কেউ আর রুনা-সাবিনা হতে পারবে না।

যে যার নিজস্ব একটা পজিশন গড়ে নিয়েছে। এরপর যারা আসবে, তারা তাদের মতো পজিশন করে নেবে। এর জন্য প্রচুর সাধনা, ডেডিকেশন দরকার। সত্যিকার অর্থে গান ভালোবাসতে হবে। আমরা এত বছর পার করে এসে এখন মোটামুটি একটা পজিশনে এসে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু এর পিছনে যে কত খাটুনি, কত পরিশ্রম, কত ত্যাগ! কতকিছু করে তারপর আমরা এখানে এসেছি। তো এই জিনিসটা যারা নতুন আসছে তাদের মাথায় থাকা দরকার। তাদের আমি বলব যে, টাকা অনেক আসবে জীবনে। কিন্তু টাকাটাই বড় না।

ইচ্ছা যদি থাকে, যদি সাধনা থাকে, সত্যিকার অর্থে গানবাজনা মনে এনে গান করলে তারপরে একসময় কাজ পাবে। কাজ পেলে টাকাও আসবে। আর আমি টাকার জন্য গাইব, এটা মাথায় রেখে যদি নামি গানের জগতে, তাহলে কিন্তু হবে না। তবে এখন বেশির ভাগেরই আমি এই প্রবণতা দেখি। আমি কাউকে ছোট করার জন্য বলছি না বা সবার বেলায় বলব না। কিন্তু বেশির ভাগই চিন্তা করে কটা শো করা যায়, কত টাকা আমি পাচ্ছি। একজন তরুণ শিল্পী একদিন আমার সাথে গান গাইছিল, তাকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তুমি গান শিখ?’

বলে, ‘না।’
বললাম, ‘রেওয়াজ করো?’
বলল, ‘না।’
বলি, ‘তাহলে তুমি গাও কী করে?’
বলে, ‘যা জানি তাই গাই। এমনিতেই আমি শো করছি, সুযোগ পাচ্ছি, গান শেখার আর দরকার তেমন পড়ে না।’
এ রকম মানসিকতা হলে তা খুবই হতাশার ব্যাপার!

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির: প্রিয় শিল্পী, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
রুনা লায়লা: তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ।

কবি আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদিরের জন্ম সিরাজগঞ্জে, ১৯৯০ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা শেষ করে এখন শিক্ষকতা করছেন ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে। দৈনিক সংবাদের সাহিত্য পাতায় ছোটগল্প ও কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ ২০১০ সালে । এখন পর্যন্ত প্রকাশিত কবিতার বই দুইটা, অন্য গাঙের গান, সমুদ্রসমান (২০১৬) ও যুদ্ধ যুদ্ধ রুদ্ধ দিন (২০২০)। প্রথম গল্প সংকলন বছরের দীর্ঘতম রাত প্রকাশিত হয়েছে ২০১৯ সালে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদে নজর দিতে বললেন তথ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে, আশায় হাছান
তাপস-খোকন-মির্জার বক্তব্য দলের কিছু না: হাছান
রংপুরে হবে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র: তথ্যমন্ত্রী
সৈয়দ আশরাফকে মনে রাখবে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ই-সেবায় হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স: আতিক

ই-সেবায় হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স: আতিক

বৃহস্পতিবার ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

আতিক বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে স্মার্ট সিটির রূপ দিয়ে নাগরিক সেবা সহজ করা হবে। সে জন্য ডিএনসিসির সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়নকাজে অংশীদার হতে সম্মত হয়েছে ডিসিসিআই।

আগামী দুই মাসের মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়াকে ই-সেবার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। এর মধ্য দিয়ে নাগরিক ও বাণিজ্যিক সেবা এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

আতিক বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে স্মার্ট সিটির রূপ দিয়ে নাগরিক সেবা সহজ করা হবে। সে জন্য ডিএনসিসির সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়নকাজে অংশীদার হতে সম্মত হয়েছে ডিসিসিআই।

এ সময় আতিক আরও বলেন, ‘মশা নিধনের পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’

রাতের ঢাকার নিরাপত্তায় ৪৬ হাজারের বেশি এলইডি বাতি স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে উত্তরের মেয়র আরও বলেন, ‘নাগরিক সেবা সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে ‘‘সবার ঢাকা’' নামে অ্যাপ চালু করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদে নজর দিতে বললেন তথ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে, আশায় হাছান
তাপস-খোকন-মির্জার বক্তব্য দলের কিছু না: হাছান
রংপুরে হবে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র: তথ্যমন্ত্রী
সৈয়দ আশরাফকে মনে রাখবে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়

কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। ছবি: সংগৃহিত।

‘সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউজিসি তাদের নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণে তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায়। ইউজিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই।'

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তবে তার এই অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে পাল্টা জবাব দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ম এ খায়েরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউজিসি তাদের নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণে তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায়। ইউজিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর তোলা অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য তুলে ধরা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

এতে বলা হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নানা ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বরাবর তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

কলিমুল্লাহ সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন যা নিতান্তই অনভিপ্রেত দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে যে সভাটিতে মন্ত্রীর দেরিতে উপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন সে সভাটি গত ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সকালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরে সভাটির সময় পরিবর্তন করে বিকেলে নেয়া হয়।

এতে বলা হয়, ওই একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন ন্যূনতম নির্দেশিকা প্রণয়নসংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সভা থাকায় এবং সে সভাটি উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনার আগে হলে ভালো হয় বিবেচিত হওয়ায় উপাচার্যদের সঙ্গে সভাটির সময় পরিবর্তন করা হয়েছিল।

‘শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন ন্যূনতম নির্দেশিকার সভাটি নির্ধারিত সময়ের চেয়েও অনেক প্রলম্বিত হওয়ায় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী, সচিব এবং ইউজিসির চেয়ারম্যানসহ প্রতিনিধিদের উপাচার্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় যোগ দিতে দেরি হয়। এবং মন্ত্রী উপস্থিত সবার কাছে অনিচ্ছাকৃত এই দেরির জন্য বিশেষভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রী সময়ানুবর্তিতার বিষয়টি সবার কাছে সুবিদিত। তিনি সময়মতো সব সভায় অংশ নেন। সেদিনের সবারই অনিচ্ছাকৃত দেরি নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কলিমুল্লাহ যে বক্তব্য রেখেছেন তা শুধু অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনকই নয়, নিতান্তই রুচি বিবর্জিত।

এতে বলা হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রকাশনার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর একটি বাণী একবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাওয়া হয়েছিল। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বড় ধরনের ছাত্র আন্দোলন চলছিল। সে পরিস্থিতিতে মন্ত্রী সে বাণীটি দেয়া সমীচীন মনে করেননি। এরপরে বিগত এক বছরে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মন্ত্রীর কাছে আর কোনো বাণী চাওয়া হয়নি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘কলিমুল্লাহ উপরোক্ত বিষয়ের বাইরেও মন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকার কথা উল্লেখ করে রাজনীতিকে জড়িয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন যার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কোনো বিষয়ের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা না থাকায় এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছে।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কলিমুল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে যেসব বক্তব্য রেখেছেন সেসব বিষয়ে এ মুহূর্তে মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছে। কারণ তার বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে ইউজিসি কর্তৃক প্রেরিত হয়েছে। সে বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে।

‘উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতিসংক্রান্ত আরেকটি অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় কলিমুল্লাহ কর্তৃক সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত অন্যান্য সব বক্তব্য সম্পর্কে মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন প্রাপ্তি ও বিবেচনার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় বক্তব্য উপস্থাপন করবে।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদে নজর দিতে বললেন তথ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে, আশায় হাছান
তাপস-খোকন-মির্জার বক্তব্য দলের কিছু না: হাছান
রংপুরে হবে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র: তথ্যমন্ত্রী
সৈয়দ আশরাফকে মনে রাখবে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg