সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের নামে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৬

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ওয়ালিদ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের নামে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৬

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, তুরাগ ও পল্টন এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকে অভিযান চালিয়ে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি টিম।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজির সময় ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, তুরাগ ও পল্টন এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি টিম।

গ্রেপ্তারেরা হলেন বেল্লাল খান, রাকিব খান টিটুল, আ. হান্নান, দেলোয়ার হোসেন, মো. সোহাগ ও খোরশেদ আলম।

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ওয়ালিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া চাঁদাবাজ চক্রটি তিনটি গ্রুপে কাজ করত। প্রথম গ্রুপের সদস্যরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টেলিফোন গাইড, ডিরেক্টরি ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নামিদামী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে।’

ওয়ালিদ হোসেন বলেন, ‘টার্গেট করা নাম্বারগুলো তারা দ্বিতীয় গ্রুপের সদস্যদের কাছে পাঠায়। এই গ্রুপের সদস্যরা এসব মোবাইল ও টেলিফোন নম্বরে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য পরিচয় দিয়ে ফোন মোটা অংকের টাকা দাবি করে। দাবি করা চাঁদা পাঠানোর জন্য তারা বিকাশ, নগদ বা রকেট অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠায়। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জব্দ হওয়া মোবাইল ও বই। ছবি: নিউজবাংলা

উপ-পুলিশ কমিশনার ওয়ালিদ হোসেন আরও বলেন, অনেকে তাদের ভয়ে বিভিন্ন সময় ওইসব অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেয়। এই চক্রের তৃতীয় গ্রুপের সদস্যরা ভিকটিমের পাঠানো টাকা সংগ্রহ করে।

তিনি জানান, গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের কাছে চাঁদাবাজির শিকার এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য মালিবাগের জিসান মাহমুদ হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা সংগঠন পরিচালনার জন্য ভিকটিমের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ওই ব্যক্তি এ বিষয়ে গুরুত্ব না দিলে চাঁদাবাজরা তাকে বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার থেকে অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেয়।

তিনি এক পর্যায় তাদের দেয়া বিভিন্ন মোবাইল অ্যাকাউন্টে ৩৫ হাজার টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পর চাঁদাবাজরা তার কাছে আরও চাঁদা দাবি করে।

ওই ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে বলেও জানান উপ-পুলিশ কমিশনার।

আরও পড়ুন:
শতাধিক কর্মীর সঙ্গে এনজিও কর্মকর্তার প্রতারণা
ভুয়া সনদে প্রগতিতে চাকরি, ১০ বছর পর অপসারণ
আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১
বিকাশকেন্দ্রিক চার ধাপে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩
কোম্পানি খুলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৭

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘বয়েজ, গো অ্যাহেড’

বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘বয়েজ, গো অ্যাহেড’

ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ফ্লাইট সার্জেন্ট আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানে হঠাৎ আক্রমণ করে অস্ত্রাগারগুলি দখল করে স্বাধীনতা ঘোষণা করব।’

আগরতলা মামলার প্রেক্ষাপটে সে সময়কার বাঙালি সশস্ত্র সেনারা দেশ স্বাধীন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা দিলে এই প্রস্তুতিই কাজে লেগেছে। দ্রুত প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করা গেছে, যা থেকে সফলতা এসেছে।

এ কথা বললেন ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ফ্লাইট সার্জেন্ট আব্দুল জলিল (অব.)।

শনিবার বিকেলে ‘বঙ্গবন্ধুর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত ‘বিজয় কেতন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে’ এটির আয়োজন করে শিশু-কিশোর সংগঠন ‘ঘাসফুল’। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ঘাসফুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসান আব্দুল্লাহ বিপ্লব।

তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছিল। মামলার পূর্ণ নাম ছিল ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’। ১৯৬৮ সালের প্রথম ভাগে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়, শেখ মুজিব ও অন্যান্যেরা ভারতের সঙ্গে মিলে পাকিস্তানের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন।

এ মামলার অভিযুক্ত ফ্লাইট সার্জেন্ট আব্দুল জলিল (অব.) মুক্তিযুদ্ধের আগে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা ছিলেন।

তিনি জানান, তৎকালীন পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর বাঙালি অফিসার ও জোয়ানদের মধ্যে স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল আগরতলা মামলার অনেক আগেই।

ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার প্রেক্ষাপট ও দেশ স্বাধীন করার প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৬২ সালে করাচিতে স্টুয়ার্ড মুজিব, সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নূর মোহাম্মদ, লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন (আগরতলা মামলার আসামি) বসে চিন্তা করেন, “এই যে আমরা এমন ট্রেনিং পেয়েছি, তা যদি পাকিস্তানিদের জন্য কাজে না লাগিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লাগাতে পারতাম।” তখন একটি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন করা হয়। বাইরে ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নাম হলেও ভেতরে তা ছিল বাংলাদেশ স্বাধীনতা করার জন্য।’

আগরতলা মামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৬৪ সালে বঙ্গবন্ধু করাচি গেলে তিনি বেগম আকতার সোলেমানের বাসায় (হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মেয়ে) ছিলেন। লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অন্যারা সেই বাসায় একটি বিপ্লবী বৈঠক ডাকেন।’

আব্দুল জলিল বলেন, ‘এর আগে অনেক নেতার কাছে আমরা প্রস্তাব নিয়ে গেছি, তারা ভয়ে দৌড় মেরেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা যিনি বললেন, “বয়েজ, গো অ্যাহেড।” এরপর আমাদের সদস্য সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে লাগল। তখন তাদের প্রশিক্ষণকেন্দ্র খোলা দরকার। যে জন্য আমার বাসায় প্রশিক্ষণকেন্দ্র খোলা হয়।’

তিনি প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানে হঠাৎ আক্রমণ করে অস্ত্রাগারগুলি দখল করে স্বাধীনতা ঘোষণা করব। এ জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র খোলা হয়। আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল, হঠাৎ আক্রমণ করে আমরা পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করে ফেলব।’

তিনি বলেন, ‘ওই যে আমরা যে গ্রাউন্ডওয়ার্ক করেছিলাম, সেই গ্রাউন্ডওয়ার্কের ফলেই বঙ্গববন্ধু যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন, সাথে সাথে পাকিস্তান আর্মি, নৌ ও বিমানবাহিনীর সব বাঙালি কর্মকর্তারা মুক্তিবাহিনীর পক্ষে যুদ্ধে নেমে পড়ল। এই ওয়ার্কটা আমরা আগে করেছিলাম বলেই আমরা পরে সফলতা পেয়েছিলাম।’

দেশ স্বাধীন করার এ তৎপরতার তথ্য সশস্ত্র বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে জানিয়ে দিয়েছিল বলে জানান আব্দুল জলিল। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে দু-একজন ছিল, যারা বিট্রে করেছে। তারা আর্মির কাছে খবর পৌঁছে দিয়েছিল।’

ঐতিহাসিক ওই মামলার (বৈরী) সাক্ষী আবুল হোসেন অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আসলে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ষড়যন্ত্র ছিল না। ওই মামলায় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকেরা।’

সে সময়ের দুঃসহ স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমি বলেছি, “শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আমি কোনো সাক্ষী দেব না।” এরপর আমার ওপর চলে অমানবিক অত্যাচার, জুলুম। এরপর আমি নিজে নিজে একটা পরিকল্পনা করলাম। আমি এখানেই একটা সেলে থাকতাম। তখন আমি স্বীকার করি যে, শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আমি সাক্ষী দেব। তখন আমাকে ভাল খাওয়া দেওয়া শুরু করল। আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা শুরু করল। তখন আমাকে নিয়ে আসল কাঠগড়ায়। যখন আমাকে সাক্ষী দিতে বলল, আমাকে বলল, “বলো, শেখ মুজিবুর হ্যায়”, আমি তখন তাদের ঢাকাইয়া ভাষায় বললাম, “আমি শেখ সাহেবকে চিনি না। আমি উনাকে কোনো দিন দেখি নাই।”’

আবুল হোসেন বলেন, ‘এরপর আমাকে আবার সেলে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন শুরু করল, যা সহ্য করার মতো না। আমাকে আবার বলা হলো, “তুই আবার বলবি, আমি আগে যা সাক্ষী দিয়েছি, তা সব মিথ্যা।” আমি বললাম, “আমি যা বলছি, সেটাই সত্য।” এরপর আবার শুরু হলো টর্চার। সে টর্চারের কথা মনে হলে এখনও আমি শিউরে উঠি। এরপর সার্জেট জহুরুল হককে গুলি করে মেরে ফেলল। বাইরে আন্দোলন হলো। আন্দোলনের মাথায় আমরা সবাই মুক্তি পেয়ে গেলাম। আন্দোলন না হলে আমরাও মুক্তি পেতাম না। কাউকে ফাঁসি দিত, কাউকি যাবজ্জীবন দিত।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী বলেন, ‘৬২ সালে বঙ্গবন্ধু ত্রিপুরায় গিয়েছিলেন। তিনি প্রথমবার ত্রিপুরায় ভারতীয় সরকারের সাহায্য নিতে যাননি, যে আমাদের অস্ত্র দাও আমি যুদ্ধ করব। উনি (বঙ্গবন্ধু) বললেন, “আমি সংবিধানিক যোদ্ধা, গণতান্ত্রিক যোদ্ধা। আমি আন্দোলন করে দেশ স্বাধীন করবো।”’

গওহর রিজভী বলেন, ‘জলিল সাহেব যে বললেন, ওনাদের সংগ্রামের কথা, এটা ভেরি ট্রু, ভেরি কারেক্ট। উনি (বঙ্গবন্ধু) সোহরাওয়ার্দী সাহেবের মেয়ের বাসায় ছিলেন। ভেরি কারেক্ট। যখন কমান্ডার মোয়াজ্জেম বঙ্গবন্ধুকে এ পরিকল্পনার কথা বললেন, তখন তিনি বলেন, “তোমরা নিজেদের সংগ্রাম করো। আমি গণতান্ত্রিক। আমি রাজনৈতিকভাবে সংগ্রাম করব। কিন্তু তোমাদের সঙ্গে আছি।”’

গওহর রিজভী বলেন, ‘যখন আগরতলা মামলা শুরু হলো, তখন পাকিস্তানিরা কিন্তু জানত না, বঙ্গবন্ধু ৬২ সালে ভারতে গিয়েছিলেন। তাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না।’

অনুষ্ঠানে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোরদের তুলির আঁচড়ে উঠে আসে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। এছাড়া আবাহমান বাংলার প্রকৃতি তুলে ধরে শিশুরা।

এছাড়া সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ইতিহাস বর্ণনা করেন ঘাসফুলের ক্ষুদে শিল্পীরা।

আরও পড়ুন:
শতাধিক কর্মীর সঙ্গে এনজিও কর্মকর্তার প্রতারণা
ভুয়া সনদে প্রগতিতে চাকরি, ১০ বছর পর অপসারণ
আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১
বিকাশকেন্দ্রিক চার ধাপে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩
কোম্পানি খুলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৭

শেয়ার করুন

কারওয়ান বাজারে হাসিনা মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে

কারওয়ান বাজারে হাসিনা মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে

কারওয়ান বাজারের হাসিনা মার্কেটে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। ছবি: সাইফুল ইসলাম

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মাহফুজ রিবেন নিউজবাংলাকে জানান, তাদের আটটি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ১০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের হাসিনা মার্কেটে শনিবার রাত ৯টার দিকে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাহফুজ রিবেন নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ১০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এর আগে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ফরহাজুল আলম নিউজবাংলাকে জানান, শনিবার রাত ৯টা ৯ মিনিটে এ আগুন লাগার খবর পান তারা। আগুন নেভাতে তাদের চারটি ইউনিট কাজ করছে। আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।

কারওয়ান-বাজার-NB

তিনি জানান, টিনশেড এই মার্কেটে কাঁচামাল বিক্রি হয়।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মাহফুজ রিবেন নিউজবাংলাকে আরও জানান, আগুনের কারণ জানা যায়নি। কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে।

আরও পড়ুন:
শতাধিক কর্মীর সঙ্গে এনজিও কর্মকর্তার প্রতারণা
ভুয়া সনদে প্রগতিতে চাকরি, ১০ বছর পর অপসারণ
আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১
বিকাশকেন্দ্রিক চার ধাপে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩
কোম্পানি খুলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৭

শেয়ার করুন

মুশতাকের মৃত্যু তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটি

মুশতাকের মৃত্যু তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাবন্দি অবস্থায় মারা যাওয়া লেখক মুশতাক আহমেদ। ফাইল ছবি

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ৫৩ বছর বয়সী মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. তরুণ কান্তি শিকদারকে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কমিটিতে চার কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শনিবার বিকেলে মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কারা-১ শাখার উপসচিব মো. মনিরুজ্জামানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আলোচিত এ ঘটনা তদন্তে গাজীপুর জেলা প্রশাসনও একটি কমিটি করেছে।

আরও পড়ুন: মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ৫৩ বছর বয়সী মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. তরুণ কান্তি শিকদারকে।

কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুনাব আবুল কালাম, ময়মনসিংহের কারা উপমহাপরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির ও গাজীপুর জেলা কারাগার সহকারী সার্জন ডা. কামরুন নাহারকে। সদস্য সচিব করা হয়েছে সুরক্ষা সেবা বিভাগ উপসচিব আরিফ আহমদকে।

বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির কাজের পরিধি সম্পর্কেও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তদন্ত কমিটি যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে সেগুলো হলো, মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা? যদি থাকে তবে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা।

পাশাপাশি মুশতাক কারাগারে আসার পর তার কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ জানত কি না? যদি জানে, সে বিষয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা? যদি না হয়ে থাকে তবে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এক মামলায় গত বছরের মে মাসে গ্রেপ্তারের পর থেকে কারাবন্দি ছিলেন লেখক মুশতাক। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে তার মৃত্যু হয়।

ঠিক কী কারণে মুশতাকের মৃত্যু হয়েছে তা জানতে মৃতদেহের ময়না তদন্ত হয়েছে।

তার মৃত্যুর কারণ জানতে প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

আরও পড়ুন:
শতাধিক কর্মীর সঙ্গে এনজিও কর্মকর্তার প্রতারণা
ভুয়া সনদে প্রগতিতে চাকরি, ১০ বছর পর অপসারণ
আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১
বিকাশকেন্দ্রিক চার ধাপে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩
কোম্পানি খুলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৭

শেয়ার করুন

মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ চায় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের থিংক ট্যাঙ্ক ‘নিউ লাইনস ইনস্টিটিউট অন স্ট্রাটেজি অ্যান্ড পলিসি’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে দেশটির ওপর আরও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেবে বাইডেন প্রশাসন।’

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আরও কঠোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

নিউইয়র্কে শুক্রবার জাতিসংঘ, ওআইসি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে দেশটির ওপর আরও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেবে বাইডেন প্রশাসন।’

অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বানও জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ আঞ্চলিক সমস্যার একমাত্র সমাধান যে কেবল সুষ্ঠু প্রত্যাবাসনেই সম্ভব তাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের থিংক ট্যাঙ্ক ‘নিউ লাইনস ইনস্টিটিউট অন স্ট্রাটেজি অ্যান্ড পলিসি’ এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালক ড. আজীম ইব্রাহীম এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। ইউটিউবে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

মোমেন বলেন, বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে বসবাসরত ১১ লাখ রোহিঙ্গার টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসন করতে পারে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে মোমেন কোভিড-১৯ মহামারির এমন সময়ে বাংলাদেশ সরকার কীভাবে রোহিঙ্গাদের কল্যাণে কাজ করছে সে সম্পর্কে ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, সরকারের যথাযথ উদ্যোগের কারণেই এই মহামারিতে একজন রোহিঙ্গাও করোনায় মারা যায়নি। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রসঙ্গেও কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মিয়ানমারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের এবং রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানে বিশেষ দূত নিয়োগে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মোমেন বলেন, ‘আমাদের এই প্রস্তাব এ জন্যই যে, এই দূত এই সংকট বিষয়ে গভীর মনোনিবেশের মাধ্যমে মার্কিন সরকারের কংক্রিট পদক্ষেপ ও অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন। বাইডেন প্রশাসনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা রয়েছে এবং এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করছি আমরা।’

পরে কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স (সিএফআর) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং রোহিঙ্গা ইস্যু’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আয়োজনে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাম্প্রতিক আলোচনার কথা উল্লেখ করে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:
শতাধিক কর্মীর সঙ্গে এনজিও কর্মকর্তার প্রতারণা
ভুয়া সনদে প্রগতিতে চাকরি, ১০ বছর পর অপসারণ
আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১
বিকাশকেন্দ্রিক চার ধাপে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩
কোম্পানি খুলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৭

শেয়ার করুন

টার্গেট পূরণ হওয়ার পর টিকা নেব: প্রধানমন্ত্রী

টার্গেট পূরণ হওয়ার পর টিকা নেব: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: নিউজবাংলা

সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধী আরও তিন কোটি টিকা কিনছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আরও তিন কোটি ডোজ কেনার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি, যেন একটি মানুষও বাদ না যায়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, অবশ্যই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেবেন তিনি। তবে তা দেশবাসীকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পর।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আগেই স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে তালিকাভুক্ত হওয়া উপলক্ষে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

‘আগে কত পারসেন্টকে দিতে পারলাম, সেটা আগে দেখতে চাই। অবশ্যই টিকা নেব। আমাদের একটা টার্গেট ঠিক করা আছে, সেটা পূরণ হওয়ার পরে যদি টিকা থাকে, তাহলে দেব।’

গত ২৭ জানুয়ারি দেশে করোনার টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১০ দিন পর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় গণটিকা কার্যক্রম। সংবাদ সম্মেলনে সরকারপ্রধান জানান, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ২৮ লাখের বেশি মানুষ টিকা নিয়েছে।

গত বুধবার টিকা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা। সংবাদ সম্মেলনে তিনিও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পাশে।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ কোভিশিল্ড টিকা কিনেছে বাংলাদেশ। দুই চালান আর ভারত সরকারের দেয়া ২০ লাখ ডোজ উপহার মিলে এখন পর্যন্ত দেশে টিকা এসেছে ৯০ লাখের বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পাশে ছোট বোন শেখ রেহানা। ছবি: পিআইডি

করোনা টিকাদান হারে অনেক দেশ থেকে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। সরকারের আরও টিকা কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

‘আরও তিন কোটি ডোজ কেনার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি, যেন একটি মানুষও বাদ না যায়। কোনো দেশ উৎপাদন করতে না পারলে, আমাদের এখানে উৎপাদন করা যায় কি না, সে জন্য দেশের ফার্মাসিউটিক্যালসগুলোকে বলা হয়েছে প্রস্তুত থাকতে।

‘মানুষকে সেবা দেয়া আমার কর্তব্য। শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয় জাতির পিতার কন্যা হিসেবে এটা কর্তব্য।’

‘করোনা মোকাবিলায় ম্যাজিক নেই’

বাংলাদেশ করোনা মোকাবিলায় অনেকটাই সফল। দেশে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে আট হাজার ৪০০ জনের। আর আক্রান্ত পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩১ জন।

দেশে এক মাসের বেশি সময় ধরে করোনার শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ পাঁচ শতাংশের নিচে হলে করোনা নিয়ন্ত্রণে বলা যায়। অবশ্য নীতিমালায় এও বলা আছে যে, দিনে পরীক্ষা হতে হবে ২০ হাজারের বেশি। কিন্তু দেশে এত বেশি নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে না।

এই কম নমুনা পরীক্ষার পেছনে অবশ্য সরকারের কোনো দায় নেই। শুরুর দিকে কিটসহ অবকাঠামোগত সমস্যায় পরীক্ষা করতে বাধা পেলেও এখন আর সে পরিস্থিতি নেই। দেশের ২০৬টি ল্যাবে এখন পরীক্ষা করা যায়, সেই সঙ্গে শুরুর হয়েছে অ্যান্টিজেন টেস্টও। জনগণই পরীক্ষা করতে কম যাচ্ছে।

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ছবি: নিউজবাংলা

করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও)। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

‘এটা কোনো ম্যাজিকের কিছু না। যখন যেভাবে বলেছি, সবাই মেনে চলেছে। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করায় এটা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের মানুষের সম্মিলিত ম্যাজিক।

‘করোনা সারাবিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছিল। জনগণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ যে, আমরা যখন যেভাবে বলেছি, সবাই মেনে চলেছে। আমরা সময়োচিত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, বিশেষ করে অর্থনীতির ক্ষেত্রে। মানুষের যেন কষ্ট না হয় সেটা দেখেছি। আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছি। সব শ্রেণির মানুষ সহায়তা পেয়েছে। তখনও গবেষণা চলছে, আগাম অর্থ দিয়ে করোনার টিকা কেনার ব্যবস্থা নিয়েছি।’

নিজের কর্তব্য থেকেই এসব কাজ করেছেন বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘সরকারের সব সদস্য, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আমার দলের নেতাকর্মী, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগসহ সহযোগী সংগঠনের সদস্য প্রত্যেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে। যাকে যখন যে কাজ করতে বলেছি, করেছে। সহযোগিতা-ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে।

‘আমার কোনো ম্যাজিক নয়, এটা বাংলাদেশের মানুষের ম্যাজিক। আমার বাবা মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নিজের জীবন দিয়ে গেছেন। কাজেই এটা আমার দায়িত্ব। আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধটাই আসল।’

আরও পড়ুন:
শতাধিক কর্মীর সঙ্গে এনজিও কর্মকর্তার প্রতারণা
ভুয়া সনদে প্রগতিতে চাকরি, ১০ বছর পর অপসারণ
আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১
বিকাশকেন্দ্রিক চার ধাপে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩
কোম্পানি খুলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৭

শেয়ার করুন

মুশতাক-কিশোরের জামিন কী কারণে নাকচ

মুশতাক-কিশোরের জামিন কী কারণে নাকচ

লেখক মুশতাক আহমেদ ও কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর। ছবি: নিউজবাংলা।

কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদ বৃহস্পতিবার মারা যাওয়ার পর এই মামলায় তার ও কিশোরের জামিন না পাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আদালতে ছয়বার আবেদন করা হলেও কী কারণে তারা জামিন পাননি সেটি অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এক মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর লেখক মুশতাক আহমেদ ও কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ছয়বার আবেদন করেও আদালত থেকে জামিন পাননি। এর মধ্যে পাঁচবার বিচারিক আদালতে এবং একবার হাইকোর্টে তাদের জামিন আবেদন নাকচ হয়।

তবে এ মামলায় কারাগারে যাওয়া আরেক আসামি রাজনৈতিক সংগঠন রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া জামিন পেতে তিনবার আবেদন করেন বিচারিক আদালতে। এরপর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করে জামিনে মুক্তি পান। এ ছাড়া আরেক আসামি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন গ্রেপ্তারের চার মাস পর বিচারিক আদালত থেকেই জামিন পান।

কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদ বৃহস্পতিবার মারা যাওয়ার পর এই মামলায় তার ও কিশোরের জামিন না পাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আদালতে ছয়বার আবেদন করা হলেও কী কারণে তারা জামিন পাননি সেটি অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা।

মুশতাক, কিশোর ও দিদারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের মে মাসে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে র‌্যাব। অন্য আট আসামি হলেন নেত্র নিউজের এডিটর-ইন-চিফ তাসনিম খলিল, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক শাহেদ আলম, জার্মানিপ্রবাসী ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, হাঙ্গেরিপ্রবাসী জুলকারনাইন সায়ের খান (সামি), আশিক ইমরান, স্বপন ওয়াহিদ ও ফিলিপ শুমাখার।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, এই ১১ জন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জাতির জনক, মুক্তিযুদ্ধ, করোনাভাইরাস মহামারি সম্পর্কে গুজব রটিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এ ছাড়া তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনসাধারণের মধ্যে অস্থিরতা ও বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।

মামলার পরপরই গ্রেপ্তার করে মুশতাক, কিশোর, দিদার ও মিনহাজকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এই চারজনের জামিন আবেদন এবং মুশতাক ও কিশোরের মুক্তি না পাওয়ার কারণ জানতে রাষ্ট্রপক্ষ ও বিবাদীপক্ষের একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

এতে দেখা যায়, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থাপন করতে না পারায় সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকেই মিনহাজ মান্নানকে জামিন দেন ঢাকার মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া। সম্প্রতি রমনা থানা পুলিশ আদালতে জমা দেয়া অভিযোগপত্রেও মিনহাজকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেছে।

গ্রেপ্তার বাকি তিন আসামির কেউই বিচারিক আদালতে আবেদন করে জামিন পাননি। এরপর তারা যান হাইকোর্টে।

হাইকোর্টে কেবল দিদারের জামিন

বিচারিক আদালতে তিনবার আবেদন করে জামিন পেতে ব্যর্থ হয়ে হাইকোর্টে যান রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল। এরপর গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ।

দিদারের পক্ষে হাইকোর্টে শুনানি করা আইনজীবী হাসনাত কাইয়ূম নিউজবাংলাকে বলেন, এফআইআরে দিদারের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ ছিল না। এ বিষয়টি আমলে নিয়ে জামিন দেয় হাইকোর্ট।

আদালত কোন বিবেচনায় জামিন দিয়েছে, জানতে চাইলে দিদারুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছিল না। আমি কোনো আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেইনি কোথাও।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে নিয়ে বলা হয়েছিল যে, আমি মামলার দুই নম্বর আসামি। আমি মুশতাকের পরিচিত। আমার মুশতাকের মধ্যে অনেক আলাপ হয়। আর এই সবের আড়ালে আমি ষড়যন্ত্র করি। তবে তারা (রাষ্ট্রপক্ষ) এর স্বপক্ষে কোনো আলাপের প্রমাণ বা স্ক্রিনশট দিতে পারেনি। কোনো সুনির্দিষ্ট কিছু ছিল না।

‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আমার বিরুদ্ধে যে ছয়জন সাক্ষী তাদের মধ্যে পাঁচজন একই কথা বলেন।’

এ মামলায় লেখক মুশতাক আহমেদ ও কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন আবেদন পাঁচবার নাকচ হয় বিচারিক আদালতে। এরপর তারাও হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন, তবে দুজনের আবেদন সেখানেও নাকচ হয়।

বিচারপতি রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে ওই জামিন আবেদনের সময় মুশতাক ও কিশোরের আইনজীবী ছিলেন জেড আই খান পান্না।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাস দুয়েক আগে মুশতাক ও কিশোরের হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলাম। আদালত আমাদের আবেদনটি খারিজ করে দেয়। তারা যে কার্টুন করেছে তাতে জাতির পিতাকে বিকৃত করা হয়েছে, এমন মনে করে আদালত আবেদন খারিজ করেছিল।’

মুশতাক ও কিশোরের বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়া দিদারুল বলেন, ‘সবার নামেই আলাদা আলাদা অভিযোগ ছিল। একই মামলা, তবে বলা হয়েছে আমরা সবাই মিলে ষড়যন্ত্র করেছি। এক নম্বর আসামি কিশোরকে নিয়ে কিছু স্ক্রিনশট ছিল। মুশতাকের কিছু কনভারসেশনের স্ক্রিনশট ছিল। আমার ক্ষেত্রে কোনো স্ক্রিনশট ছিল না। মামলার চার নম্বর আসামি মিনিহাজ মান্নানের সবার আগে জামিন হয়। উনার জামিনের ১৫ থেকে ২০ দিন পর আমার জামিন হয়।’

সবশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি মুশতাকের জামিন নাকচের তথ্য সঠিক নয়

মুশতাক ও কিশোরের জামিন আবেদন হাইকোর্টে নাকচ হয় প্রায় দুই মাস আগে। এরপর আরেক বেঞ্চে তাদের জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। সেটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি জানুয়ারি থেকে মামলার দায়িত্ব নিয়েছি। নতুন জামিন আবেদনটি আদালতের তালিকায় অনেক পেছনে থাকায় শুনানি হতে সময় লাগছে। আশা করেছি আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টে শুনানি হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকেই ভুলভাবে রিপোর্ট করছে, ২৩ তারিখে নিম্ন আদালতে তার (মুশতাক) জামিন চাওয়া হয়েছিল। আসলে ওইদিন কোনো জামিন আবেদন ছিল না। মামলাটিতে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ থাকায় ওই দিন মূলত সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করার কথা ছিল। ২৩ ফেব্রুয়ারি যারা জামিন চাওয়ার কথা বলছেন তারা আসলে ভুল বলছেন।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওই মামলায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয় রমনা থানা পুলিশ। তবে সেখানে সুইডেনপ্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল ও আল জাজিরায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বিতর্কিত জুলকারনাইন সায়ের খানসহ (সামি) আট আসামির নাম না থাকায় আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।

ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে এই তদন্ত করে ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দিতে বলেছিলেন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ১১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করে নিউজবাংলা

হাইকোর্টে তিনজনের মধ্যে দিদারের জামিন হলেও কিশোর ও মুশতাকের কেন হলো না জানতে চাইলে ব্যরিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা তো বলা মুশকিল। দিদারের বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলাম। আর দিদারের বিরুদ্ধে এফআইআরে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছিল না। অন্য দুজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপ, সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা- এ সমস্ত বিষয় ছিল।’

মুশতাক ও কিশোরের জামিন পাওয়া উচিত বলে মত দিয়ে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘আমার বক্তব্য হলো, এগুলো (মামলায় তোলা অভিযোগ) তারা যদি করেও থাকেন, তাহলেও সেটি তাদের নাগরিক অধিকার। তারা আমিই বাংলাদেশ নামের একটা পেজ চালাতেন, সে পেজের অ্যাডমিন ছিলেন মুশতাক ও কিশোর। একটি পেজের এডমিন থেকে তারা যদি তাদের স্বাধীন মত প্রকাশ করেন, তাহলে তো ক্রিমিনাল অফেন্স পর্যায়ে আসারই কিছু নাই।’

তিনি বলেন, ‘একটা শাসন ব্যবস্থার মূল সৌন্দর্য হলো মত প্রকাশ বা সমালোচনা গ্রহণ করে নিতে পারাটা। পতাকা, রাষ্ট্র, মুক্তযুদ্ধ, জাতির পিতা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য বা প্রোপগান্ডার করার মতো কিছু তারা করেননি। অথচ তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনের এই ২১ ধারাটি দেয়া হয়েছে। এরপর ২৫ ধারা দেওয়া হয়েছে, মিথ্যা, অসত্য তথ্য দেয়ার কারণে। ২৮ ধারা দেয়া হয়েছে মানহানির কারণে। অথচ এখানে মানহানির কিছূ হয়েছে বলে আমার মনে হয়নি।’

মামলায় ২৯, ৩১ ও ৩৫ ধারাগুলো যুক্ত করাও অযৌক্তিক বলে মনে করছেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় ব[ড়ুয়া।

কী বলছে রাষ্ট্রপক্ষ

মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জাতির জনক, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে এমন প্রমাণ রয়েছে। কাজেই আদালতে তাদের জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছে। এটা বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের জামিন দেয়নি।’

আরও পড়ুন:
শতাধিক কর্মীর সঙ্গে এনজিও কর্মকর্তার প্রতারণা
ভুয়া সনদে প্রগতিতে চাকরি, ১০ বছর পর অপসারণ
আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১
বিকাশকেন্দ্রিক চার ধাপে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩
কোম্পানি খুলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৭

শেয়ার করুন

বিক্ষোভে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ জেলগেটে

বিক্ষোভে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ জেলগেটে

লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহবাগের বাম সংগঠনের মশাল মিছিল থেকে গ্রেপ্তার সাত জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ। ফাইল ছবি

আগামী তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদেশ দেন বিচারক।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল থেকে আটক সাতজনকে এক দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার আদেশ দিয়েছে আদালত।

আগামী তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদেশ দেন বিচারক।

গ্রেপ্তার সাত শিক্ষার্থীকে শনিবার আদালতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।

ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের হাকিম মোর্শেদ আলম মামুন ভুঁইয়ার এজলাসে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাদের রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। বিচারক তাদের জামিন না দিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার আদেশ দেন।

আটক সাত শিক্ষার্থী হচ্ছেন তামজিদ হায়দার, নজির আমিন চৌধুরী জয়, এ এস এম তানজিমুর রহমান, আকিব আহম্মেদ, আরাফাত সাদ, নাজিফা জান্নাত ও জয়তী চক্রবর্তী।

এর মধ্যে আরাফাত বাম ছাত্রসংগঠন ছাত্র ফ্রন্টের কর্মী। বাকিরা ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

আদালতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মন্টু ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন আইনুননাহার সিদ্দিকা, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, পারভেজসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী।

লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাম ছাত্রসংগঠনগুলো মশাল মিছিল বের করে। সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা জানান, মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু করে শাহবাগ এলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আটক করা হয় সাতজনকে।

পরে এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিন্টু মিয়া বাদী হয়ে আটক শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা আরও দেড় শ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এসআই মিন্টু মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামলার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেয়া ও গুরুতর আহত করা, ভীতিকর পরিবেশ তৈরি, যান চলাচলে বাধা দেয়া ও সরকারি মালামাল নষ্ট করার মতো অভিযোগ আনা হয়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল তারা সারা দিন তাদের কর্মসূচি পালন করেছে। পরে আবার রাতে বিশাল মিছিল নিয়ে এলে ঊর্ধ্বতন স্যাররা তাদের ফিরে যেতে বলেন। এ সময় তারা উগ্র ভাষায় পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছে। একপর্যায়ে তাদের হাতে থাকা মশাল ছুড়ে মারলে আমাদের একজন পুলিশ কনস্টেবলের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে আগুন ধরে যায়। পরে তারা অতর্কিত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আমাদের ১৫ জন আহত হন।’

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন অর রশীদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

আরও পড়ুন:
শতাধিক কর্মীর সঙ্গে এনজিও কর্মকর্তার প্রতারণা
ভুয়া সনদে প্রগতিতে চাকরি, ১০ বছর পর অপসারণ
আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১
বিকাশকেন্দ্রিক চার ধাপে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩
কোম্পানি খুলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৭

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg