তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রিতে

ঘন কুয়াশায় কমে গেছে দৃষ্টিসীমা। ছবি: নিউজবাংলা

তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রিতে

এক সপ্তাহ ধরে নওগাঁয় সূর্যের দেখা মিলছে দেরিতে। দিনভর রোদ থাকলেও তেজ নেই তেমন। হিমেল বাতাসের মধ্যেই মাঠে-ঘাটে কাজ করছেন কর্মজীবীরা। তবে সন্ধ্যার পর পরই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ব্যস্ততম এলাকাগুলো। কুয়াশা বাড়ায় বেকায়দায় পড়েছেন জেলার বোরো চাষিরা।

উত্তরের জেলা নওগাঁয় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার জবুথবু প্রকৃতি। বুধবার জেলায় তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে, যা সারা দেশে সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা। কনকনে শীতে চরম বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গেল এক সপ্তাহ ধরে জেলায় সূর্যের দেখা মিলছে দেরিতে। দিনভর রোদ থাকলেও তেজ নেই তেমন। হিমেল বাতাসের মধ্যেই মাঠে-ঘাটে কাজ করছেন কর্মজীবীরা। তবে সন্ধ্যার পর পরই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ব্যস্ততম এলাকাগুলো। কুয়াশা বাড়ায় বেকায়দায় পড়েছেন জেলার বোরো চাষিরা।

নওগাঁ শহরের রিকশাচালক মন্টু মিয়া বলেন, ‘আজক্যা খুব ঠান্ডা পরিছে। এত শীতের মধ্যে রিসকা চালাতে খুব কষ্ট হচ্চে। কি আর করমু। তবু পেটের দায়ে কাম তো করাই লাগবে। কাম না করলে সংসার যে চলবে না। চুলাত আগুন জ্বলবে না।’

শীত


ভ্যানচালক তাহের আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘গত দুই দিন থ্যাকা খুব ঠান্ডা লাগিচ্ছে বাপো। বুধবার ভোরত থ্যাকা শীত আরও বাড়িছে। প্যাটের দায়ে সেই ভোরত থ্যাকা ভ্যান চালাই লওগাঁর মেলা জাগাত। গত শীতোত কিনা একটা সইটার পড়া থাকি। কিন্তু সেডা দিয়া শীত কাটে না। খুব কষ্ট হচ্চে। কি আর করমু ভ্যান না চালালে পরিবার লিয়া যে না খাইয়া থ্যাকা লাগবে। এখন সকারি বা অন্য কেউ শীতের কাপড় হামাক দেয়নি। এ্যানা কেউ যদি দিলোনি তালে খুব উপকার হলোনি।’

নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সাঈদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, প্রচণ্ড ঠান্ডায় ডায়রিয়াসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে শতাধিক শিশু। ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও ৩০ জন।

নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, বুধবার নওগাঁয় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আরও কয়েক দিন থাকবে শৈত্যপ্রবাহ। বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ১১টি উপজেলায় ৭০ হাজার ২৫০ পিস কম্বল ও আটশ পিস চাদর বিতরণ করা হয়েছে।

শীত

নষ্ট হচ্ছে বোরোর চারা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) সামছুল ওয়াদুদ বলেন, ‘চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় এ পর্যন্ত মাত্র ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব।’

মহাদেবপুর উপজেলা ভীমপুর গ্রামের কৃষক হারুন অল রশিদ বলেন, ‘রোবো ধানের চারার জন্য ৭ বিঘা জমি প্রস্তুত করেছি। গত দুই দিন শীতের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণে অনেক চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন চারা কিনে বোরো ধান রোপণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তিন বারের বন্যায় অর্ধেক জমিতে আমন ধান হয়নি। তারপর যদি চারা কিনে রোবো আবাদ করতে হয় তাহলে আমাদের কৃষি পেশা বাদ দিয়ে বিকল্প চিন্তা করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
আসছে বৃষ্টি, এরপর শীত
পৌষে কেন গরম

শেয়ার করুন

মন্তব্য