‘নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) হতে পারবে না’, হাইকোর্টের এই রায় নারী সমাজের জন্য অপমানজনক বলে মনে করছেন ৯০ জন নাগরিক।
এ রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, সেখানে ওই ৯০ জন স্বাক্ষর করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা: নারীরা বিয়ের কাজি হতে পারবে না’– শিরোনামে একটি প্রতিবেদন গত ১০ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
‘হাইকোর্টের এমন নির্দেশনার খবরে আমরা সাধারণ নাগরিকরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছি। হাইকোর্টের এমন নির্দেশনা কোনোভাবেই ন্যায্য ও সংবিধানসম্মত নয় বলে আমরা মনে করি। এ নির্দেশনা একচ্ছত্র পুরুষাধিপত্যদুষ্ট এবং অনেকাংশেই পশ্চাৎপদ ধারণার অনুবর্তী। আমাদের বাংলাদেশের সংবিধান নারী, পুরুষসহ সব জেন্ডার, সব ধর্মের এবং সব বর্ণের সমঅধিকার ও মর্যাদার সুরক্ষা দিয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশনা সেই সাংবিধানিক নীতিকে পুরোপুরিই ভূলুণ্ঠিত করেছে।’
দিনাজপুরের এক নারী নিকাহ রেজিস্ট্রার প্রার্থীর রিট খারিজ করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় দেয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছে, ‘নারীরা মাসের একটি নির্দিষ্ট সময় ফিজিক্যাল ডিসকোয়ালিফেশনে থাকেন। সেক্ষেত্রে মুসলিম বিবাহ হচ্ছে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং আমাদের দেশে বেশির ভাগ বিয়ে পড়ানো মসজিদে হয়ে থাকে। ওই সময়ে নারীরা মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন না এবং তারা নামাজও পড়তে পারেন না। সুতরাং বিয়ে যেহেতু একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সেহেতু এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে নারীদের দিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সম্ভব নয় ‘ এই পর্যবেক্ষণ দিয়ে হাইকোর্ট এ-সংক্রান্ত রিট মামলার ওপর জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) হতে পারবেন না।’
মঙ্গলবার নারীর প্রতি সংহিসতা রোধে সংগঠন ‘আমরাই পারি জোট’ আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বলে, ৩০ লাখ শহিদের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ (২) অনুচ্ছেদে স্পষ্টত উল্লেখ রয়েছে, কেবল ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হবেন না, কিংবা সেক্ষেত্রে তার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না। বিয়ে নিবন্ধন করানো একটি রাষ্ট্রীয় আইনগত কাজ। এক জন সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বা কাজিই এই বিয়ের নিবন্ধন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তাই বিয়ে নিবন্ধন করার কাজে নারীকে নিষেধ করার নির্দেশনাটি বাংলাদেশের সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে এবং একই সঙ্গে মানবাধিকার সনদ, সিডো সনদ এবং জাতীয় নারী উন্নয়ননীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এতে বলা হয়, নারীর মাসিক বা ঋতুস্রাব বিয়ের কাজি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়, আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অযৌক্তিক ও হাস্যকর। কারণ মাসিক প্রাকৃতিক নিয়মে সংঘটিত একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়াটি নারীর মাসিকের সঙ্গে যুক্ত, যা সভ্যতাকে এবং মানব প্রজন্মকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয়।
মাসিক নিয়েই নারীরা ঘরের কাজ করেন, অফিসের দায়িত্ব সামলান, ভ্রমণ করেন এবং সরকারি ও বেসরকারি দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করেন।
‘বিভিন্ন সংবাদপত্র মারফত আমরা জেনেছি, রায়ের পর্যবেক্ষণে নারী নিকাহ রেজিস্টার হিসেবে রাতে সব জায়গায় যেতে পারবে না, তাও উল্লেখ করা হয়েছে। নারীর রাতে চলাফেরায় যে প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান, তার দায় নারীর নয়। বরং নারীর রাতের ভ্রমণ যেন নিরাপদ হয় সে দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই এই নির্দেশনা দিয়ে মূলত নারীর বিরুদ্ধে বিদ্যমান সামাজিক কূপমণ্ডূকতাকে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে’, বলেন স্বাক্ষরকারীরা।
হাইকোর্টের এই নির্দেশনা বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের অগ্রযাত্রাকে পশ্চাৎপদতার দিকে ঠেলে দিয়েছে উল্লেখ করে আমরাই পারি জোট বলছে, এই রায় প্রমাণ করে, দেশে এক জন নারী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত থাকলেও বিয়ের কাজির মতো রাষ্ট্রীয় পেশাতে তার স্থান হয় না। তাই এই বিষয়ে আমরাই পারি জোট সরকার এবং বিচার বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এই নির্দেশনাকে পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধনের রাষ্ট্রীয় কাজে নারীর অংশগ্রহণকে বৈধ করা এবং ধর্মভিত্তিক বিবাহ নিবন্ধন আইন বাতিল করে অভিন্ন বিবাহ নিবন্ধন আইন প্রবর্তনের দাবি জানাচ্ছে।
২০১৪ সালে দিনাজপুরের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) হিসেবে তিন জন নারীর নাম প্রস্তাব করে উপদেষ্টা কমিটি। তিন সদস্যের ওই প্যানেলের বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
এরপর ২০১৪ সালের ১৬ জুন আইন মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের দ্বারা নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়’ মর্মে চিঠি দিয়ে তিন সদস্যের প্যানেল বাতিল করে।
পরে আইন মন্ত্রণালয়ের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন নিকাহ রেজিস্ট্রারের প্যানেলের এক নম্বর ক্রমিকে থাকা আয়েশা সিদ্দিকা। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের চিঠি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।
গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রুল খারিজ করে রায় দেয় হাই কোর্ট। তাতে আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়। গত ৯ জানুয়ারি শনিবার প্রকাশিত হয় পূর্ণাঙ্গ রায়।
প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন
লেখক ও গবেষক দিলশানা পারুল, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট ইশরাত জাহান ঊর্মি, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সীমা দত্ত, নারী সংহতির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নাসরিন আকতার সুমি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শর্মি হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগী অধ্যাপক নাসরিন খন্দকার, সাংবাদিক সাইদিয়া গুরলুখ, লেখক ও গবেষক মাহা মির্জা, চলচ্চিত্র নির্মাতা সাকি ফারজানা অ্যাক্টিভিস্ট ও সামাজিক উদ্যোক্তা তাসলিমা মিজি, লেখক, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী প্রমা ইশরাত, উন্নয়নকর্মী তামান্না রহমান, অ্যাকটিভিস্ট ফেরদৌস আরা রুমী, স্পেস এর সম্পাদক শিমুল খান, উন্নয়নকর্মী পূরবী তালুকদার, সহকারী কমিশনার শামিমা আক্তার জাহান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, কবি রহমান মুফিজ, কবি, সাংবাদিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আফরোজা সোমা, কবি ও সাংবাদিক সৈকত আমীন, শিল্পী শৈলী আখন্দ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক শোভন রহমান, ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার আশিকুর রহমান, অ্যাক্টিভিস্ট লিলিথ অন্তরা, লেখক, অনুবাদক ও গবেষক মুহাম্মদ ইরফানুর রহমান, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ রহমান, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ভূঁইয়া, লেখক ও গবেষক চারু হক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী হাসান আজারকাত, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক অ্যাক্টিভিস্ট মাহমুদ মামুন, শিক্ষক সুস্মিতা চক্রবর্তী, নাট্যকর্মী সুরভী রায়, নাফিয়া ফারজানা অমিয়া, মো. হারানুজ্জামান, মো. রিয়াজ উদ্দীন আহমেদ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নীলিমা তানজিন সুমি, ফাইয়াজ ফিরোজ, দিলারা, ইফফাত, চিকিৎসক জোসেফ এলিজাবেথ, ডেন্টিস্ট মাহাবুব, ডেন্টাল সার্জন নাজমুস সাকিব, বীথিকা, মানবাধিকারকর্মী তুহিন চাকমা, শৈলী জারিন তাসনিম, আইনুল হক, চিত্রশিল্পী মোরসালিনা আনিকা, চিত্রশিল্পী ইশতিয়াক আহমেদ, মানবাধিকারকর্মী শরীফ হাসান, সানন্দা দেব, নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম আহ্বায়ক মারজিয়া প্রভা, ফারিয়া, রুকাইয়া সুলতানা. সাইফ রাসেল, অ্যাক্টিভিস্ট মিতা নাহার, সানজিদা হৃদি, মো. আসিফ ই আলম, আনিকা তাবাসসুম জিনিয়া, তুরানুর ইসলাম, মো. জুবায়ের, শিক্ষার্থী মেহনাজ নিগার, হোসেইন আহমেদ, জাকিয়া বেগম দোলা, সুমনা খান কণা, কবি ও ব্যাংকার মো. শাহিদা খাতুন, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার প্রতীক নাগ, শিক্ষার্থী শ্রাবণী ভট্টাচার্য্য, ব্যাংকার ফারহানা পারভীন, মাসিয়াত জাহিন, সুমনা শারমীন শম্পা, রাজনৈতিক কর্মী উৎসব মোসাদ্দেকসুমাইয়া বিনতে সেলিম, অ্যাক্টিভিস্ট সাকির ইব্রাহিম মাটি।
প্রকৌশলী কানিজ ফাতেমা, গণসংহতি আন্দোলনের কর্মী হাসান মারুফ রুমী, মো. আবু সাঈদ দিপু, সাংবাদিক হৃদয় দাশ শুভ, সমাজকর্মী স্বাক্ষর অধিকারী, সামিরা ফারজানা, সুলতানা তৃষা, মাইমুনা আক্তার, সেগুফতা মেহজাবিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী তাজনেহেল সুলতানা অহনা, উমামা ফাতেমা, সাদিয়া বিনতে সেলিম, শিক্ষার্থী, প্রান্ত প্রতিম চৌধুরী, সৃষ্টু ঘোষ, নিয়াজুল, শিক্ষার্থী, আহমেদ এবং মিডিয়াকর্মী তির্থক আহসান রুবেল।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর শ্যামপুরের পোস্তগোলায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় অজিত বাবু (৫৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এদিকে, কলাবাগানে ভুতের গলি মসজিদের পাশে একটি ষষ্ঠতলা নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময়ে পড়েএক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
পোস্তগোলায় শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পোস্তগোলা যাত্রী ছাউনির সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, কলাবাগান থানার ভুতের গলি মসজিদের পাশে একটি ষষ্ঠতলা নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময়ে পড়ে গিয়ে মো. ইয়াসিন (৩৮) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত ইয়াসিন লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে।
মৃত মো. ইয়াসিনের সহকর্মী সায়েদুল জানান, নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। সেখান থেকে, তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল পৌনে ১২টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের রেস্তোরাঁ শিল্পকে সংকট থেকে উত্তরণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সার্ভিসের ক্ষেত্রে একই শুল্ককর এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত উৎসে কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
শুক্রবার (১৯ জুন) পুরানা পল্টনের বিজয়নগরে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরা হয়। এ সময় এ দুই ক্ষেত্রে শুল্ককর কমানোসহ সাতটি প্রস্তাব দিয়েছে মালিক সমিতি।
সমিতির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান। তিনি দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক খাতের সংকটের মধ্যেও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করার জন্য বিএনপি সরকার এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এলপিজি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রেস্তোরাঁ খাতের পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, যা এই খাতকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে এ খাতকে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
এ সময় তিনি বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, আগের মতো প্রতি মাসে ভ্যাট আদায়, রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দ্রুত বাস্তবায়ন, রেস্তোরাঁ খাতে জন্য সুনিদ্দিষ্ট শিল্প নীতি ঘোষণা এবং সমিতির সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবসহ রেস্তোরাঁ সেক্টরে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা এবং রেস্তোরাঁ শিল্পকে আর্ন্তজাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন।
ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং খাতের জন্য ভ্যাট ও করের হার সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি। বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ৫ শতাংশ এবং ক্যাটারিং সার্ভিসে ১৫ শতাংশ দিতে হয়। সব ক্ষেত্রে সেটা সমান করে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে হবে। বিভিন্ন শ্রেণির রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার ওপর ভিন্ন ভিন্ন হারে ভ্যাট ও কর আরোপের ফলে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় বৈষম্য সৃষ্টি হয় এবং কর প্রশাসনও জটিল হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, এর পাশাপাশি স্ট্রিট ফুডসহ সব প্রকার রেস্তোরাঁকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে চলমান অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় অনেকটা বৃদ্ধি পাবে।
এ ব্যবসায়ী বলেন, এছাড়া বাজেটে জীবন যাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর এবং ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ হ্রাস করার প্রস্তাব করছি। বর্তমান সময়ে মূল্যস্ফীতির চাপ, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কর আরোপ বা বহাল রাখা জনসাধারণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করবে।
ইমরান হাসান বলেন, সরকার ঢাকার বাইরে রেঁস্তোরা ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন রেস্তোরাঁর স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির ওপর প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ অবচয় সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করায় আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এতে নতুন উদ্যোক্তারা কর রেয়াত পাবেন। তবে আমরা চাই, রেস্তোরাঁ শিল্পের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ নিশ্চিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেবে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কর কাঠামোকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা, ব্যবসার পরিচালন ব্যয় কমানো, কর প্রশাসনে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। আমরা আশা করি, চূড়ান্ত বাজেটে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকবে।
এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট পরিশোধের সময় বাড়িয়ে তিন মাস করা প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে পূর্বের ন্যায় মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধ ও রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা বহাল রাখার প্রস্তাব করছি আমরা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সরকারের নীতি ও নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য একাধিক দপ্তর থেকে ১০-১২টি অনুমোদন নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। ফলে ব্যবসা পরিচালনা এবং কার্যকর তদারকি উভয়ই বাধাগ্রস্ত হয়। তাই রেস্তোরাঁ খাতকে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি একটি ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রস্তাব করছি। এর মাধ্যমে লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ হবে, সময় ও ব্যয় কমবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কার্যকর মনিটরিং সম্ভব হবে।
এছাড়া প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আলোকে আমরা রেস্তোরাঁ সেক্টরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি ঘোষণার জোর দাবি জানাচ্ছি। একটি পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়ন করা হলে লাইসেন্সিং, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং উদ্যোক্তা সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পৃথক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে উদ্যোক্তারা জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। যে কোনো রেস্তোরাঁ ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে বাণিজ্য সংগঠন আইন অনুযায়ী রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সদস্য পদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক আছে, তবে এর বাস্তবায়ন চাই আমরা।
তিনি আরও বলেন, বাজেটে রন্ধনশিল্পকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে আমরা প্রস্তাব করছি, গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে সরকারি-বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকিসহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে পৃথক তহবিল গঠন করা হোক। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিক ও কর্মীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলামসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে প্রায়ই দেখা যায়, একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশের ওপর গিয়ে পড়ে। তবে যখন সেই প্রভাব মানবাধিকার, কূটনৈতিক শিষ্টাচার এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় আস্থার প্রশ্নে রূপ নেয়, তখন বিষয়টি আর কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার থাকে না। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ঘিরে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসা, এমনই একটি বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করছে।
প্রথম ঘটনাটি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। দ্বিতীয় ঘটনাটি কূটনৈতিক সৌজন্য, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং রাজনৈতিক আস্থার সংকটকে সামনে এনেছে। দুটি ঘটনাই আলাদা হলেও উভয়ের মধ্যে একটি সাধারণ সূত্র রয়েছে, বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের নীতিগত অবস্থান এবং সেই অবস্থানের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের সম্ভাব্য প্রভাব।
সীমান্তে পুশইন: মানবাধিকার নাকি অভিবাসন রাজনীতি?
গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি জানিয়েছে, জুন মাসের শুরু থেকে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার অন্তত ২১টি প্রচেষ্টা তারা প্রতিহত করেছে।
এই অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পায় যখন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানায়। সংস্থাটি বলেছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর সদস্যদের, বিশেষ করে মুসলমানদের, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলীর বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ‘কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রশ্নে বিরোধ থাকতে পারে; কিন্তু সেই বিরোধের সমাধান কখনোই সীমান্তে নারী, শিশু ও পরিবারকে আটকে রেখে করা যায় না। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কাউকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করার আগে তার পরিচয়, নাগরিকত্ব, আইনি অধিকার এবং আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করতে হয়।’
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন ওঠে আসে। যদি এসব মানুষ সত্যিই বাংলাদেশি হন, তাহলে তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিদ্যমান কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। আর যদি তারা ভারতীয় নাগরিক হন, তাহলে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। দুই ক্ষেত্রেই ‘পুশইন’ কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়।
বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রগুলো অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলা করে। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত, ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্য রুট কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রোহিঙ্গা সংকট, সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কেন্দ্রীয় বিষয় হলো ‘ডিউ প্রসেস’ বা আইনি প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি সীমান্তে মানুষ ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
ভোটার তালিকা, নাগরিকত্ব ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
এইচআরডব্লিউ তাদের প্রতিবেদনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় নাগরিকত্ব ও ভোটার পরিচয়ের প্রশ্ন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ‘অনুপ্রবেশকারী’ এবং ‘অবৈধ অভিবাসী’ প্রসঙ্গ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষত বাংলাভাষী মুসলমান জনগোষ্ঠীকে ঘিরে এই বিতর্ক অনেক সময় রাজনৈতিক মেরুকরণের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
২০১৯ সালে আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রক্রিয়ার সময় প্রায় ১৯ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা এখনো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আলোচনার বিষয়। বর্তমান পরিস্থিতি সেই পুরোনো উদ্বেগকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
অতএব প্রশ্ন ওঠছে, সীমান্তে পুশইনের অভিযোগ কি কেবল নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার অংশ, নাকি এটি বৃহত্তর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের বহিঃপ্রকাশ?
দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা: প্রশাসনিক যাচাই নাকি রাজনৈতিক বার্তা?
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ভারত সরকারের আমন্ত্রণে আয়োজিত ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লি যান। সফরের বিষয়ে আগাম কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়েছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই তার সফর সম্পর্কে অবগত ছিল।
কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় আটকে রাখা হয়। পরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি অপমানিত বোধ করে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতীয় সূত্রগুলোর বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। তারা স্বীকার করেছে যে জাহেদ উর রহমানের অতীতের ভারতবিষয়ক বক্তব্য এবং ইউটিউব আলোচনাগুলো যাচাইয়ের অংশ ছিল। এখানেই মূল প্রশ্নটি নিহিত।
একজন আমন্ত্রিত বিদেশি সরকারি প্রতিনিধিকে তার অতীত রাজনৈতিক মতামতের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে আলাদা করে যাচাই করা হলে সেটি কি কেবল প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে, নাকি তা রাজনৈতিক বার্তাও বহন করবে? বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো সাধারণত সমালোচনাকে নিরাপত্তা ঝুঁকির সমার্থক হিসেবে বিবেচনা করে না। বিশেষত যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একটি স্বীকৃত সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি।
ভারত যদি শেষ পর্যন্ত তাকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েই থাকে, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, দুই ঘণ্টার বিলম্বের প্রয়োজন কী ছিল? এই ঘটনাকে হয়তো অনেকেই একটি বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ঘটনা হিসেবে দেখবেন। কিন্তু কূটনীতিতে প্রতীকী ঘটনা অনেক সময় বাস্তব নীতির চেয়েও বড় প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আস্থার নতুন ভিত্তি গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনাটি উল্টো বার্তা দিয়েছে।
বাংলাদেশে অনেকেই এটিকে ভারতের পক্ষ থেকে একটি ‘সিগন্যাল’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে ভারতের একটি অংশ এটিকে নিরাপত্তাজনিত নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। বাস্তবতা সম্ভবত মাঝামাঝি কোথাও। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধারণাই অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে বেশি
গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যদি একটি দেশ মনে করে যে তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে, তাহলে সেই অনুভূতি সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের জন্যও কিছু প্রশ্ন
এই আলোচনায় বাংলাদেশের দায়িত্বও এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনায় প্রতিনিধিদলের বাকি সদস্যরা বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য এগিয়ে যান। বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি হয়তো রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু কূটনৈতিকভাবে এটি একটি প্রশ্নও তৈরি করেছে, সংকট মুহূর্তে একটি প্রতিনিধিদল কতটা ঐক্যবদ্ধ ছিল? আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রের মর্যাদা মুখ্য। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশেরও আরও সুসংগঠিত কৌশল প্রয়োজন।
বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে একটি পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের পর দুই দেশই নতুন বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ করছে। ভারতের জন্য বাংলাদেশ কেবল একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়; এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক বাণিজ্য, বঙ্গোপসাগরীয় কৌশল এবং সংযোগনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক অংশীদার। এই বাস্তবতায় সীমান্তে মানবাধিকার বিতর্ক এবং কূটনৈতিক অস্বস্তি কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক নয়।
সামনে করণীয়
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে প্রয়োজন তিনটি বিষয়।
প্রথমত, সীমান্তে পুশইনসংক্রান্ত অভিযোগের স্বাধীন ও যৌথ তদন্ত।
দ্বিতীয়ত, নাগরিকত্ব ও প্রত্যাবাসন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আইনের পূর্ণ অনুসরণ।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সৃষ্ট আস্থার ঘাটতি দূর করতে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ।
কারণ শেষ পর্যন্ত ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো একটি সরকার, কোনো একটি রাজনৈতিক দল বা কোনো একটি নির্বাচনের চেয়েও বড়।
সীমান্তে আটকে থাকা একটি শিশু, দিল্লি বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ একজন সরকারি প্রতিনিধি কিংবা দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বিশ্বাস, এসবই মনে করিয়ে দেয় যে প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তি শক্তি নয়, আস্থা; চাপ নয়, সম্মান; এবং রাজনৈতিক সুবিধা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পারস্পরিক স্বার্থ।
দিল্লি বিমানবন্দর থেকে সীমান্তের শূন্যরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই আস্থার ভিত্তিকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এখন দেখার বিষয়,
দুই দেশ সেই প্রশ্নের উত্তর সংঘাত দিয়ে দেয়, নাকি সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে।
লেখক: শিক্ষার্থী, চতুর্থ বর্ষ অন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
ফাইল ছবি
রাজধানীর পূর্ব জুরাইন এলাকায় টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে পুর্বশত্রুতার জেরে আব্দুল কুদ্দুস (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট ভাই আব্দুল হাশেম জানান, তাদের বাড়ি মাদারীপুর শিবচর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। বাবার নাম আব্দুল মালেক। থাকেন পূর্ব জুরাইন দারোগাবাড়ী রোডে ভাড়া বাসায়। পেশায় বাসচালক ছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত আনুমানিক পৌনে ১২টার জুরাইন পপি স্কুলের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন কুদ্দুস। তখন বিদ্যুৎ ছিল না। এসময় ৮-১০ জন দুর্বৃত্ত চায়ের দোকানের ভেতর ঢুকে প্রথমে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এরপর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে স্বজন ও এলাকার লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।
তিনি বলেন, আব্দুল কুদ্দুসের শরীরে ধারালো অস্ত্রের অন্তত ১২০টি জখম রয়েছে। তাকে নৃশংসভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। তবে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমরা বলতে পারছি না।
কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল রানা জানান, টাকা পয়সার লেনদেনকে কেন্দ্র করে পুর্বশত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার রাতে চায়ের দোকানে ঢুকে কুদ্দুস নামে ওই ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের শরীরে অসংখ্য আঘাত রয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘাতকদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
বিএনপি নেতা মোহাম্মদ নূর ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ নূর ইসলাম (৫৫) নামের বিএনপির এক নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মোহাম্মদপুর থানাধীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
নূর ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার ভাতিজা ইয়াসিন। তিনি জানান, মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ হাউজিংয়ের ৪ নম্বর রোডে অবস্থিত বাসার নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন নুর ইসলাম। বেলা আড়াইটার দিকে মোটরসাইকেলে আসা ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত নূর ইসলামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তার মুখের বাম পাশ, কাঁধ ও বাম হাতে গুরুতর জখম হয়।
খবর পেয়ে নূর ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়।
ইয়াসিন আরও জানান, নূর ইসলামের গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার লালমোহন থানার মহিশখালী এলাকায়। তিনি ওই এলাকার ওয়াজেদ আলীর ছেলে। বর্তমানে মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ হাউজিংয়ের ৪ নম্বর রোডের একটি বাসায় থাকেন তারা।
মোহাম্মদপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে। জানা গেছে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত ৭ শ্রমিক আহতের খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা সড়কে বিক্ষোভ করেছেন কারখানাটির শ্রমিকরা। বিক্ষোভ চলাকালে কারখানাটির অন্তত ১০ স্টাফকে মারধরের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে বিস্ফোরণের ৭ শ্রমিক আহতের পর এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে পাগলা তালতলা এলাকায় অবস্থিত ‘নির্ঝর নিটওয়্যার গার্মেন্টসে’ বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত ৭ শ্রমিক আহত হন। বিস্ফোরণে শ্রমিক আহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা সড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। এতে চারপাশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিস্ফোরণে আহত শ্রমিকরা হলেন, শাহীন (২৫), জাকির হোসেন (২৫), ক্লিনার সাবিনা বেগম (৩৪), মঞ্জু মিয়া (২৮), আরিফিন (২২), হৃদয় (২৭) ও খাদিজা (২০)।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দাবি, কারখানার বয়লারটি অনেক পুরনো ছিল। এজন্য মালিককে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল বয়লারটি পরিবর্তন করতে। কিন্তু মালিকপক্ষের কেউ শ্রমিকদের অনুরোধ রাখেনি। সেই বয়লার শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ সাতজন শ্রমিক আহত হন। তাদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, শ্রমিকদের অনুরোধ শুনলে কারখানায় এমন দুর্ঘটনা ঘটত না। মালিকপক্ষও আমাদের জানিয়েছে তারা দ্রুতই বয়লারটি পাল্টানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অর্থনৈতিক কারণে বয়লারটি তাৎক্ষণিক পাল্টানো সম্ভব হয়নি। কারখানাটিতে প্রায় ৪০০ শ্রমিক ও ৫০ জন স্টাফ রয়েছে। কারখানার মালিক মালিক নুরুল আমিন সুমনের সঙ্গে শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, শ্রমিকরা কাজে ফিরেছে।
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংবাদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, খসড়া চার্জশিট বিষয়ে সিআইডি কর্মকর্তাদের বরাতে গণমাধ্যমে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সিআইডির কোনো কর্মকর্তা প্রদান করেননি।
শুক্রবার (১৯ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত সংবাদ সিআইডির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রতিবেদনে সিআইডির কর্মকর্তাদের বরাতে খসড়া চার্জশিট বিষয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সিআইডির কোনো কর্মকর্তা কোনো গণমাধ্যমকে প্রদান করেননি। অতএব, উক্ত বক্তব্যসমূহকে সিআইডির আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে গণ্য না করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এ পর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পর সিআইডি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে হালনাগাদ তথ্য জানাবে।
সিআইডি গণমাধ্যমকে এই মামলার সংবাদ প্রকাশে সিআইডির আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা মুখপাত্রের বক্তব্য অনুসরণ করতে অনুরোধ জানিয়েছে। সংস্থাটি পেশাদারিত্ব ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তদন্ত অব্যাহত রাখবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়, এক দশকের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে সিআইডি। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে সম্প্রতি খসড়া অভিযোগপত্রটি আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে খবর বের হয়।
সিআইডির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সেসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত ১ মার্চ অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো চিঠিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন—তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং একটি খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করে ইতোমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আগে আইনি মতামত পর্যালোচনা করা জরুরি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তবে সে সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন বলেছিলেন, ‘তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে, এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
সিআইডি সূত্রে পাওয়া তথ্যে গণমাধ্যমে আরও এসেছিল, প্রস্তাবিত অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ১০ জন বাংলাদেশির নাম রয়েছে। এছাড়া ভারত, শ্রীলঙ্কা ও চীনের নাগরিকসহ দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা ও মেজবাউল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি আনিস এ খানসহ বেশ কয়েকজনের নাম থাকার কথা শোনা যাচ্ছিল।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি হয়। হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই অর্থ সরিয়ে নেয়। ঘটনার ৪০ দিন পর মতিঝিল থানায় মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ড. আসিফ নজরুলকে প্রধান করে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করার পর এই তদন্তে গতি আসে।
মন্তব্য