× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে
google_news print-icon

৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে

৬৮-বছরের-অন্ধকার-ঘুচল-পাঁচ-বছরে
‘হামরা আগত কিছু পাই নই। এখন বাংলাদেশ হয়া কিছু পাছি (পেয়েছি)। বিদ্যুৎ পাছি, আস্তাঘাট (রাস্তাঘাট) পাছি, স্কুল পাছি, টিউকল (টিউবওয়েল) পাছি, ল্যাট্রিন পাছি, মন্দির পাছি, মসজিদ পাছি। বিদ্যুৎ দিয়া আগুন টাগুন জ্বালবার নাগছি। কারেন নগদ যায় নগদ আইসে। আসলে ফির বেশ সুন্দর আলো হয়।’

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাটে ভীতরকুটি বাঁশপচাই। ১৯৪৭ সাল থেকে ছিল ভারতের অংশ। ২০১৫ সালের আগস্টে ছিটমহল বিনিময়ের পর হয়েছে বাংলাদেশের অংশ। আর সাড়ে পাঁচ বছরে ৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচিয়ে দেশের উন্নয়নের সুফল পেয়েছে সাবেক ছিটমহলবাসী।

এই এলাকার বাসিন্দারা এখন আর অন্ধকারাচ্ছন্ন, নাগরিকত্বহীন, উন্নয়নবঞ্চিত, সরকারি সুবিধাহীন মানুষ নন; বরং বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত, স্বাধীন দেশের নাগরিকের গর্বিত পরিচয়ধারী, উন্নয়নের সুবিধাভোগী, সরকারি সুযোগ-সুবিধাভোগী।

ভারত থেকে পাওয়া ১১১টি ছিটমহলের চিত্র একই রকম। বিদ্যুৎ পাওয়ায় এখানকার মানুষ মোটর দিয়ে সেচ চালাচ্ছে, বিভিন্ন ফসল ফলাচ্ছে। টিভি, ফ্রিজ, ম্যাজিক চুলা, রাইস কুকার দিয়ে রান্না চলছে।

সন্ধ্যা হলেই ছোট ছোট দোকানে বিদ্যুতের আলোতে মেতে ওঠে খোশ গল্প। ঘরে ঘরে চলে টেলিভিশন।

৬৮টি বছর অন্ধকারে ছিল। তারা এখন আর পিছিয়ে থাকতে চায় না।

৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর রেডক্লিফের মানচিত্র বিভাজন থেকেই উদ্ভব ছিটমহলের। এক দেশের ভূখণ্ড থেকে যায় অন্য দেশের অংশে।

দুই প্রতিবেশী দেশের রয়েছে ১৬২টি ছিটমহল। এর মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশে আর বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল পড়ে ভারতের ভেতরে। এসব ছিটমহলে জনসংখ্যা প্রায় ৫১ হাজার।

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশে ভারতীয় ছিটমহলে লোকসংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার। আর ভারতে বাংলাদেশের ছিটমহলের বাসিন্দা ছিল ১৪ হাজার।

২৪ হাজার ২৬৮ একর ভূমি নিয়ে দুই দেশের ছিটমহল ছিল। তার মধ্যে ভারতের জমির পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ১৫৮ একর। বাংলাদেশের ছিটমহলের জমির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ১১০ একর। ফলে ভূমি বিনিময়ে বাংলাদেশ ১০ হাজার একর জমি বেশি পেয়েছে।

ভারতীয় ছিটমহলগুলোর অধিকাংশই ছিল বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। এর মধ্যে লালমনিরহাটে ৫৯টি, পঞ্চগড়ে ৩৬টি, কুড়িগ্রামে ১২টি ও নীলফামারীতে চারটি ভারতীয় ছিটমহল ছিল।

বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের অবস্থান ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। এর মধ্যে ৪৭টি কুচবিহার ও চারটি জলপাইগুঁড়ি জেলায়।

এ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ছিটমহল ছিল বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার দাশিয়ারছড়ায়। দাশিয়রছড়ার ভেতরেই ছিল চন্দ্রখানা নামের বাংলাদেশের একটি ছিটমহল, যেটি বাংলাদেশেই থেকে যায়। এটিই পৃথিবীর একমাত্র ছিটমহল যার অভ্যন্তরে আরেকটি ছিটমহল।

এ ছাড়া ভারতের একটি ‘থার্ড-অর্ডার’ ছিটমহল দাহালা খাগড়াবাড়ি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। এ ছিটমহলটি বাংলাদেশি গ্রাম উপানচৌকি ভজনী দ্বারা পরিবেষ্টিত, যা আবার ভারতীয় ছিটমহল বালাপাড়া খাগড়াবাড়ী গ্রাম দিয়ে বেষ্টিত।

ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে দীর্ঘ ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ ও নাগরিকত্বহীনতা থেকে মুক্তি পান ১৬২টি ছিটমহলের বাসিন্দারা।

৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে

মূলত এ ভূমিগুলোই হলো ছিটমহল। আর এখানে থাকা বাসিন্দাদের বলা হতো ছিটের মানুষ।

দেশভাগের পর বাংলা ও পাঞ্জাবের সীমারেখা টানার পরিকল্পনা করেন লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন। এ জন্য ১৯৪৭ সালে গঠন করেন সীমানা নির্ধারণ কমিশন। ব্রিটিশ আইনজীবী সিরিল রেডক্লিফকে বসানো হয় কমিশনের মাথায়।

তিনি এত দ্রুততার সঙ্গে কাজ সমাধা করলেন যে, সীমানা নির্ধারণে সময় নিলেন মাত্র দেড় মাস। তারপরই এ মানচিত্রের উদ্ভব হয় এবং সংকট তৈরি হয়।

স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার কী আনন্দ, তা এখন বোঝেন কুলাঘাট বাশঁপচাইয়ের সাবেক ছিটমহলবাসী সমশের আলী।

তিনি বলেন, ‘হামরা আগত কিছু পাই নই। এখন বাংলাদেশ হয়া কিছু পাছি। বিদ্যুৎ পাছি, আস্তাঘাট পাছি, স্কুল পাছি, টিউকল পাছি, ল্যাট্রিন পাছি, মন্দির পাছি, মসজিদ পাছি। আগত একনা কিচ্ছু পাই নাই। হামরা এগলা অনেক সুবিদা পাছি। বিদ্যুৎ দিয়া আগুন টাগুন জ্বালবার নাগছি।

‘বাড়ি টারি আন্দার হয়; আলো জ্বলে। হামরা তো এগলায় পাবার লাগছি। কারেন নগদ যায় নগদ আইসে। আসলে ফির বেশ সুন্দর আলো হয়। হামরা বিদ্যুৎ দিয়া আমন ধানও গারি, ওয়াও গারি, মাছও মারি, নদীত পানি দিয়ার নাগচি মর্টার দিয়া। মাছও খাই। এখন খুব ভালো পাই হামরা।’

৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে

আরেক কৃষক মো. নুরুন্নবী জানান, বিদ্যুতের সুবিধাই তাদের জীবন পাল্টে দিয়েছে। বিদ্যুতের কারণে টিভি চলে, খবর দেখেন, সহজ হয়েছে সেচ। সবচেয়ে বড় কথা শিশুদের স্কুল হয়েছে এলাকায়, যেটাতে আবার পড়া যায় বিনা মূল্যে। কেনা লাগে না বই। সবচেয়ে বেশি বিস্মিত হন তিনি যখন জানতে পারেন স্কুলে গেলে পয়সা (উপবৃত্তি) দেয় সরকার।

জেমী কুলাঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সে বলে, ‘আমাদের এ জায়গায় ছিট বাংলাদেশ হওয়ার পরে কারেন (বিদ্যুৎ) আসছে। কারেনের জন্য লেখাপড়া করার সুবিধা হচ্ছে। বিধবা ভাতা হচ্ছে, বয়স্ক ভাতা হচ্ছে, প্রতিবন্ধী ভাতা হচ্ছে। যখন তেল কেনার জন্য টাকা ছিল না তখন হামরা পড়া পড়তে পারতাম না। এখন হামরা লেখাপড়া করতে পারতেছি। ছিট বাংলাদেশ হওয়ার কারণে মানুষ এখন গরিব নাই।’

বাঁশপচাইয়ের আবদুল হক বলেন, ‘হামরা আগ বাংলাদেশের কিছু পাই নাই। এহন হাসিনা সরকার হামাদের বাংলাদেশ করি নিয়া এখন আমরা অনেক কিছু পাছি। আইডি কার্ড পাছি, এখন হামরা ভোট দিতে পারব। আগে কোনো ইলিপ (রিলিফ) সিলিপ পাই নাই, এখন হামরা অনেক কিছু পাছি।’

লালমনিরহাট আদর্শ ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, ‌‘আগে যখন আমাদের ছিটমহল ছিল তখন আমরা ন্যাম্পো নাগেয়া লেখাপড়া করতাম। এখন বাংলাদেশ হওয়ার পর বিদ্যুৎ পাইছি, রাস্তাঘাট পাইছি। লেখাপড়ায় ভালো সুযোগ-সুবিধা পাইতেছি। সরকার ভালো কিছু করতেছে।’

৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে

২০১৫ সালের ১ আগস্ট দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিময় হয় ছিটমহল। এরপর থেকেই জীবন পাল্টে যায় এলাকার মানুষদের।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের মায়ের নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন হয়েছে। এটি এখন জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চলছে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
Another Bangladeshi Babar Ali won Everest after 11 years

১১ বছর পর এভারেস্ট জয় আরেক বাংলাদেশি বাবর আলীর

১১ বছর পর এভারেস্ট জয় আরেক বাংলাদেশি বাবর আলীর ১১ বছর পর এভারেস্ট জয় করা বাংলাদেশি বাবর আলী। ছবি: ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স
বাবর আলীকে ট্যাগ করে ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার’ নামের সংগঠনের ফেসবুক পেজে দেয়া স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘অবশেষে!! পৃথিবীর শীর্ষ এভারেস্ট ছুঁয়েছি আমরা!!! ১১ বছর প্রতীক্ষার পর আজ তৃতীয় মেরুতে উড়েছে লাল-সবুজ!!’

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেছেন চট্টগ্রামের বাবর আলী।

তার এ সাফল্যের মধ্য দিয়ে ১১ বছর পর ফের এভারেস্ট বিজয় হলো বাংলাদেশের।

স্থানীয় সময় রোববার সকাল সাড়ে আটটায় (বাংলাদেশের সময় পৌনে ৯টা) বাবর এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান বলে জানায় ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার’ নামের সংগঠন।

বাবর আলীকে ট্যাগ করে তাদের ফেসবুক পেজে দেয়া স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘অবশেষে!! পৃথিবীর শীর্ষ এভারেস্ট ছুঁয়েছি আমরা!!! ১১ বছর প্রতীক্ষার পর আজ তৃতীয় মেরুতে উড়েছে লাল-সবুজ!!

‘ঠিক শুনছেন। আমাদের স্বপ্নসারথি বাবর আলী আজ সকাল স্থানীয় সময় ০৮:৩০ (বাংলাদেশের সময় ০৮:৪৫ -এ) আকাশ ছুঁয়েছে।’

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এবং লাখো শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়ায় প্রকৃতিমাতা বাবরকে ক্ষণিকের জন্য স্থান দিয়েছেন নিজের চূড়ায়। খানিক আগে বেজ ক্যাম্প ম্যানেজার এবং আউটফিট মালিক আমাদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।’

বাবর এখন ক্যাম্প-৪-এ নামার পথে আছেন উল্লেখ করে পোস্টে বলা হয়, ‘ওই ডেথ জোনে যোগাযোগ সম্ভব নয়। তাই অভিযানের ছবি পেতে সময় লাগবে। আমরা ভীষণ আনন্দিত, কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না আমাদের মূল লক্ষ্য কিন্তু শুধু এভারেস্ট নয়, লোৎসেও। তাই দোয়াতে থাকুক বাবর আলী।’

এদিকে ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাবর আলীর এভারেস্ট জয়ের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, ‘পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এভারেস্টে প্রথম অভিযান পরিচালিত হয় আজ থেকে শতাধিক বছর আগে। ১৯২১ সালে মাউন্ট এভারেস্টে সাফল্য-ব্যর্থতার গল্পগাথার শুরু, তবে পৃথিবীর এই শীর্ষবিন্দুতে বাংলাদেশি পর্বতারোহীদের এভারেস্ট অভিযান হয়েছে আরও পরে একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে।

‘২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে চার বছরে পাঁচজন বাংলাদেশি ছয়বার মাউন্ট এভারেস্ট সামিট করেন, কিন্তু এরপরই এভারেস্ট অভিযানে নেমে আসে খরা। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বাংলাদেশি সফল অভিযান হয়নি পৃথিবীর তৃতীয় মেরুতে। আজ ১১ বছরের সেই খরা কাটিয়ে সকাল নেপালের স্থানীয় সময় সাড়ে আটটায় মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়েছেন বাবর আলী। আজ ভোরে বেজ ক্যাম্প টিমের বরাতে আমাদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন অভিযানের প্রধান সমন্বয়ক ফরহান জামান।’

বাবরের এভারেস্ট যাত্রা

ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে বাবর আলী নেপালের উদ্দেশে রওনা হন গত ১ এপ্রিল। প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে তিন দিন পরই (৪ এপ্রিল) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে তিনি উড়ে যান পৃথিবীর অন্যতম বিপজ্জনক বিমানবন্দর লুকলাতে। সেই লুকলা থেকে পথচলা শুরু করে ১০ এপ্রিল বাবর পৌঁছে যান এভারেস্টের বেজ ক্যাম্পে। এভারেস্ট অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো একাধিকবার উচ্চতায় ওঠানামা করে উচ্চতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়া, কিন্তু কয়েক দিন অপেক্ষার পরও নেপালের দায়িত্বরত দল পথ তৈরি করতে পারেনি। তাই বাবর বিকল্প বেছে নেন। তিনি ১৬ এপ্রিল সামিট করেন ২০ হাজার ৭৫ ফুট উচ্চতার লবুচে ইস্ট পর্বত।

পরে আবারও বেজ ক্যাম্পে ফিরে পর্বতের নিচ অংশের পথ খুলে গেলে ২৬ এপ্রিল বেজ ক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরু করে ক্যাম্প-২ পর্যন্ত ঘুরে এসে শেষ করেন উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার পর্ব। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘শুভাকাঙ্ক্ষী আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশের কাছ থেকে পাওয়া গেল ১৯ থেকে ২১ এপ্রিল থাকবে চূড়ার পরিবেশ কিছুটা শান্ত। এরপরই ১৪ এপ্রিল মাঝরাতে বেজ ক্যাম্প থেকে শুরু হয় বাবরের স্বপ্নের পথে যাত্রা। প্রথম দিনেই সরাসরি উঠে আসে ক্যাম্প-২-এ, যার উচ্চতা ২১ হাজার ৩০০ ফুট। পরিকল্পনা অনুসারে সেখানে দুই রাত কাটিয়ে বাবর ১৮ মে উঠে আসেন ২৪ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ এবং ১৯ মে আসেন ক্যাম্প-৪-এ।

‘২৬ হাজার ফুট উচ্চতার এ ক্যাম্পের ওপরের অংশকে বলা হয় ডেথ জোন। অবশেষে ১৮ মে মাঝ রাতে আবারও শুরু হয় বাবরের যাত্রা এবং ভোরের প্রথম কিরণে ২৯ হাজার ৩১ ফুট উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্ট শীর্ষে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের পতাকা।’

বাবরের লক্ষ্যের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘তবে অভিযান কিন্তু এখনও শেষ নয়! বাবরের আসল লক্ষ্য শুধু এভারেস্ট নয়, সাথে লাগোয়া পৃথিবীর চতুর্থ শীর্ষ পর্বত লোৎসেও। আজ ক্যাম্প-৪-এ নেমে মাঝরাতে আবারও শুরু করবেন দ্বিতীয় লক্ষ্যের পথে যাত্রা এবং সব অনুকূলে থাকলে ভোরে পৌঁছে যাবেন এর চূড়ায়।

‘উল্লেখ্য যে, এই লোৎসেতে ইতোপূর্বে কোনো বাংলাদেশি সামিট করেননি এবং কোনো বাংলাদেশি একই অভিযানে দুইটি আট হাজারী শৃঙ্গ চড়েননি। তাই লক্ষ্য পূরণ হলে বাবর আলী করবেন এই বিপজ্জনক খেলায় বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।’

নেপালের ‘স্নোয়ি হরাইজন’ নামক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে এই সামিটে বাবরের সঙ্গে ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং পর্বতারোহণ গাইড বীর বাহাদুর তামাং।

বাবরের ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের পক্ষ থেকে প্রধান অভিযান সমন্বয়ক ফরহান জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাবর আলীর এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি পুরো বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের বিষয়। এটি আমাদের দেশের তরুণদের আরও বড় স্বপ্ন দেখার এবং সেগুলি পূরণ করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে। এই অভিযানের পেছনে ছিল অসংখ্য মানুষের অবদান এবং স্বপ্ন। আমরা তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’

অধ্যাবসায়ের শুরু যখন থেকে

ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কাগজে-কলমে বাবর আলীর এই অভিযান আজ থেকে দেড় মাস আগে শুরু হলেও তার কঠিন অধ্যাবসায় শুরু হয়েছিল ১০ বছর আগে। ২০১৪ সালে পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স প্রতিষ্ঠার পর হতেই ক্লাব সতীর্থদের নিয়ে নেপাল এবং ভারতের বহু পর্বতে অভিযান করেছেন তিনি। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি সামিট করেছেন নেপালের আমা দাবলাম পর্বত। পর্বতারোহণ তার নেশা হলেও সাইক্লিং, ম্যারাথন, স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চার অ্যাকটিভিটিতেও নিয়মিত জড়িত ছিলেন। অ্যাডভেঞ্চারের তাড়নায় হেঁটে ঘুরেছেন দেশের ৬৪ জেলা, সাইকেলে পাড়ি দিয়েছেন ভারতের কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীর পথ।

‘বান্দরবান থেকে হিমালয়, সুন্দরবন থেকে দক্ষিণ ভারত, যে জনপদেই তিনি গেছেন, সাক্ষী হয়েছেন অভূতপূর্ব কিছু মুহূর্তের। প্রকৃতির প্রতি তার এই ভালোবাসা এবং বিস্ময় প্রতিনিয়তই মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সেই সূত্র ধরেই অবশেষে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া থেকে পৃথিবী দেখার স্বপ্নও সার্থক করেছেন এই তরুণ পর্বতারোহী।’

কে এই বাবর আলী

ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স জানায়, নানাবিধ দুঃসাহসী কর্মকাণ্ডের কারণে মূলত পরিচিতি হলেও বাবর পেশায় মূলত চিকিৎসক। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বুড়িশ্চর এলাকার লেয়াকত আলী এবং লুৎফুন্নাহার বেগমের দ্বিতীয় সন্তান বাবর। তিনি চট্টগ্রামের ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে (চমেক) ভর্তি হন। চমেকের ৫১তম ব্যাচের এ ছাত্র কিছুদিন জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করলেও আগের অভিযানের সময় ছুটি না মেলাতে ত্যাগ করেন চাকরির মোহ।

অভিযানে খরচ কত

ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের ভাষ্য, বাবর আলীর এভারেস্ট অভিযানের মোট খরচ ৪৫ লাখ টাকা, যাতে মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছে ভিজ্যুয়াল নীটওয়্যার লিমিটেড। এ ছাড়া সহপৃষ্ঠপোষক ছিল এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ঢাকা ডাইভার্স ক্লাব, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ব্লু জে, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনী, গিরি, ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স। এ ছাড়াও অভিযানের জন্য গণতহবিল সংগ্রহে অংশ নিয়েছেন দেশে-বিদেশে নানা সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন এবং অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষী। অভিযানের সার্বিক সমন্বয় করেছে বাবর আলীর নিজের ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স।

আরও পড়ুন:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসবেন তাই সরলো বাবরের সেই গাড়ি
শোয়েব লঙ্কার জন্য পেইসারদের টিপস দিয়েছেন: বাবর
অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্ট জয়
মায়ের বানানো বিশেষ পতাকা নিয়ে এভারেস্টের চূড়ায়
আরেক বাঙালির এভারেস্ট জয়

মন্তব্য

জাতীয়
Bangladesh Bank clarified the issue of journalist entry

সাংবাদিক প্রবেশের বিষয়টি স্পষ্ট করল বাংলাদেশ ব্যাংক

সাংবাদিক প্রবেশের বিষয়টি স্পষ্ট করল বাংলাদেশ ব্যাংক
জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের জনগণের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে বলে এক স্পষ্টীকরণ বার্তায় জানায় সংস্থাটি।

সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ও তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বুধবার সংস্থাটি এক স্পষ্টীকরণ বার্তায় জানায়, সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা মর্মে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে।

জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের জনগণের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে বলে ওই বার্তায় জানায় তারা। খবর বাসস

ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে দেশের জনসাধারণের নিকট সকল প্রদানযোগ্য তথ্য প্রদানে বদ্ধপরিকর। তাই গণমাধ্যমকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রদানযোগ্য সকল তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশেনে কতিপয় পদ্ধতি অনুসরণ করছে তারা। যেমন: বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পর্কিত গণমাধ্যমে প্রদানযোগ্য তথ্য প্রদান, তার ব্যাখ্যা ও সম্পূরক তথ্যাদি প্রদানে নির্বাহী পরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা মুখপাত্র হিসেবে ও পরিচালক পর্যায়ের দুইজন কর্মকর্তা সহকারী মুখপাত্র হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। যেকোনো সংবাদকর্মী অফিস চলাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ভবনে প্রবেশ করে এই কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য গ্রহণ করতে পারেন।

এছাড়া কোনো বিশেষ প্রয়োজনে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রবেশ পাস গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট সংবাদকর্মীরা প্রয়োজনীয় তথ্যাদির ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে পারেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞিপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক সময়ে সময়ে প্রেস কনফারেন্স, প্রেস রিলিজ ও অন্যান্য মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করছে।

এ ছাড়াও অবাধ তথ্যপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক তার সংরক্ষিত সকল অর্থনৈতিক তথ্য ও উপাত্ত ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে আসছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ব্যাংক মেরুদণ্ড সোজা রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছে না: সিপিডি
পঞ্চগড়ে যা বললেন ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলম
সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি ইস্যুতে যা জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের দাবি

মন্তব্য

জাতীয়
Bangladesh Bank Cant Take Decisions With Spine Straight CPD

বাংলাদেশ ব্যাংক মেরুদণ্ড সোজা রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছে না: সিপিডি

বাংলাদেশ ব্যাংক মেরুদণ্ড সোজা রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছে না: সিপিডি ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শনিবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন (বাঁয়ে)। ছবি: সংগৃহীত
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য এমন পার্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, আইএমএফের পরামর্শক্রমে ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তবে যথেষ্ট পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় একীভূতকরণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জোর করে ব্যাংক একীভূতকরণ টেকসই হতে পারে না।’

‘বাংলাদেশ ব্যাংক তার স্বাধীন সত্তা হারিয়ে ফেলেছে। মেরুদণ্ড সোজা রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছে না। বাইরে থেকে আরোপিত সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এসব কথা বলেছেন।

শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য এমন পার্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, আইএমএফের পরামর্শক্রমে ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তবে যথেষ্ট পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় একীভূতকরণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জোর করে ব্যাংক একীভূতকরণ টেকসই হতে পারে না। সুশাসনের অভাবে সামগ্রিক অর্থনীতিকে সাপোর্ট দেয়ার সক্ষমতা ব্যাংকিং সেক্টর হারিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা হারিয়েছে। ব্যাংকে গচ্ছিত আমানত নিরাপদ রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। ফলে আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যাদের কারণে ব্যাংকিং খাতে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে।’

ব্যাংকের খেলাপি ঋণের সঠিক তথ্য জনগণ জানতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে যা বললেন ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলম
সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি ইস্যুতে যা জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
নতুন করে রিজার্ভ চুরির খবর সত্য নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক

মন্তব্য

জাতীয়
Upazila Elections EC orders massive campaign to use EVM in 23 upazilas
উপজেলা নির্বাচন

২৩ উপজেলায় ইভিএম ব্যবহারে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ ইসির

২৩ উপজেলায় ইভিএম ব্যবহারে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ ইসির ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন। ফাইল ছবি
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘ইভিএম ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রার্থী এবং ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রচার করতে হবে। ইভিএম ব্যবহার যেহেতু একটি কারিগরি বিষয়, তাই এর ব্যবহার, কার্যকারিতা এবং সফলতা সম্পর্কে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনি এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট এবং ভোটারদের মধ্যে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, অর্থাৎ প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের সুবিধার্থে ইভিএম ব্যবহার পদ্ধতিবিষয়ক একটি নির্দেশিকার প্রয়োজনীয়সংখ্যক কপিও সংশ্লিষ্টদের কাছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ২৩টি উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আগামী ২১ মে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এ ধাপে সারা দেশে ১৫৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান ইভিএম সম্পর্কিত পরিপত্র জারি করেন। তাতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

ইসির পরিপত্রে বলা হয়, ‘আগামী ২১ মে দ্বিতীয় ধাপে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া, তাড়াশ, পাবনা জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, যশোরের চৌগাছা, ঝিকরগাছা, শার্শা, পিরোজপুরের কাউখালী, নেছারাবাদ, মানিকগঞ্জের শিবালয়, ঘিওর, দৌলতপুর, শরীয়তপুরের শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, জামালপুরের বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, চাঁদপুরের চাঁদপুর সদর, শাহরাস্তি, হাজীগঞ্জ, কক্সবাজারের ঈদগাঁও, চকরিয়া, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রগুলোর ভোটগ্রহণ ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ইভিএম কাস্টমাইজেশনসহ নির্বাচন উপযোগী করে যথাসময়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘ইভিএম ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রার্থী এবং ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রচার করতে হবে। ইভিএম ব্যবহার যেহেতু একটি কারিগরি বিষয়, তাই এর ব্যবহার, কার্যকারিতা এবং সফলতা সম্পর্কে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনি এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট এবং ভোটারদের মধ্যে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, অর্থাৎ প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের সুবিধার্থে ইভিএম ব্যবহার পদ্ধতিবিষয়ক একটি নির্দেশিকার প্রয়োজনীয়সংখ্যক কপিও সংশ্লিষ্টদের কাছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

পরিপত্রে আরও বলা হয়, ‘ইভিএমের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এক দিনব্যাপী ভোটারদের জন্য ভোটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আয়োজন করতে হবে। আগামী ২১ মে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ভোটার শিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। নির্বাচনি এলাকার সব ভোটাররা যাতে ভোটার শিক্ষণ কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারে, এ বিষয়ে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

‘ভোটগ্রহণের দিন ভোটারদের ভোট প্রদানের জন্য দাঁড়ানো লাইনে অথবা ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির ভেতরে ব্যালট ইউনিটের রেপ্লিকার সাহায্যে ভোটার শিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ইভিএমে ভোট স্লো, উদ্বিগ্ন সিইসি
ইভিএমের প্রকল্প পাস না হলে ভোট করতে হবে ব্যালটে: ইসি
ঝাঁকি দিয়ে ইভিএম চালুর অভিযোগ
রংপুরে ইভিএমের মক ভোটে আগ্রহ নেই
বিএন‌পি নির্বাচ‌নে না এলে অপূর্ণতা থাক‌বে: সিইসি

মন্তব্য

জাতীয়
There may be rain in some places of the five divisions

পাঁচ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হতে পারে বৃষ্টি

পাঁচ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হতে পারে বৃষ্টি দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
বৃষ্টিপাতের বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গা এবং রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।

দেশের পাঁচটি বিভাগের কিছু কিছু জায়গা এবং অপর তিনটির দুই-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে জানিয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে হতে পারে শিলা বৃষ্টি।

রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন বার্তা দিয়েছে।

পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা নিয়ে বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

বৃষ্টিপাতের বিষয়ে বলা হয়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গা এবং রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।

তাপপ্রবাহের বিষয়ে বলা হয়, রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাশাপাশি মৌলভীবাজার, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর ও ফেনী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা প্রশমিত হতে পারে।

তাপমাত্রার বিষয়ে বলা হয়, সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
গরম সামান্য বাড়তে পারে, বৃষ্টির দেখা মিলছে না শিগগিরই
পঞ্চগড়ে বৈরী আবহাওয়ায় নানা রোগে আক্রান্ত শিশুরা
দেশজুড়ে বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা
দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে সব বিভাগে
ঢাকাসহ ৫ বিভাগের অনেক জায়গায় হতে পারে বৃষ্টি

মন্তব্য

জাতীয়
Legislation to deal with adverse effects of AI Minister of State for Telecom

এআইয়ের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় আইন হচ্ছে

এআইয়ের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় আইন হচ্ছে শুক্রবার জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০২৪ উদযাপন করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
ইন্টারনেটের ২০ এমবিপিএস গতিকে ব্রডব্যান্ড হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে এবং ইন্টারনেট সুলভ ও সহজলভ্য করতে ২০২৪ সালের মধ্যেই নতুন ব্রডব্যান্ড নীতিমালা প্রণয়ণ করা হবে বলে জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) বিরূপ প্রভাব সামলাতে সরকার আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০২৪ উদযাপনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। খবর ইউএনবি

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পলক বলেন, ‘এআই মানুষের জীবনধারা যেমন সহজ করবে, ঠিক তেমনি এটি সভ্যতার জন্য একটি বড় ঝুঁকি। প্রযুক্তির এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, বিশেষ করে এআইর বিরূপ প্রভাব সামলাতে সরকার আইন প্রণয়ণ করতে যাচ্ছে।’

এ ছাড়াও ইন্টারনেটের ২০ এমবিপিএস গতিকে ব্রডব্যান্ড হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে এবং ইন্টারনেট সুলভ ও সহজলভ্য করতে ২০২৪ সালের মধ্যেই নতুন ব্রডব্যান্ড নীতিমালা প্রণয়ণ করা হবে বলে জানান তিনি।

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উদযাপনের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে আইটিইউর সদস্যপদ অর্জন করেন এবং যুদ্ধের ধ্বংস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েও বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ব তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দুনিয়ায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেন।

‘আর ভিস্যাটের মাধ্যমে দেশে ইন্টারনেট সংযোগ, তিনটি মোবাইল কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়ার মাধ্যমে মোবাইল ফোন সাধারণের নাগালে পৌঁছে দেয়া এবং ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে কম্পিউটারের ওপর থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহার করে কম্পিউটার সাধারণের জন্য সহজলভ্য করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বেরই ফসল।’

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিগত বছরগুলোর সফলতা ডিজিটাল দুনিয়ায় বাংলাদেশকে নেতৃত্বদানকারী দেশের কাতারে সামিল করেছে বলে জানান তিনি।

এর আগে, প্রতিমন্ত্রী বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন এবং এই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

বাংলাদেশে এ বছর প্রথমবারের মতো ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগসহ টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি খাতের সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের নিয়ে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উদযাপনের আয়োজন করা হয়।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম, আমিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির চেয়ারম্যান ও সিইও ড. শাহজাহান মাহমুদ এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ।

পরে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মোবাইল অপারেটর রবি ও বাংলালিংকের মধ্যে নেটওয়ার্ক স্মারক সই হয়।

আরও পড়ুন:
এআইকে স্বাগত, তবে অপব্যবহার রোধে পদক্ষেপ প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী
৪০% চাকরিকে প্রভাবিত করবে এআই: আইএমএফ
অনলাইন সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ বিষয়ে এআইইউবিতে সেমিনার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘বিপজ্জনক’, সতর্ক করে গুগল ছাড়লেন এআই গডফাদার

মন্তব্য

জাতীয়
Bangladeshis cannot visit India for three days on tourist visa

ট্যুরিস্ট ভিসায় তিন দিন ভারতে যেতে পারবেন না বাংলাদেশিরা

ট্যুরিস্ট ভিসায় তিন দিন ভারতে যেতে পারবেন না বাংলাদেশিরা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল। ফাইল ছবি
ভারতের পুলিশ ইমিগ্রেশনের বরাতে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আযহারুল ইসলাম জানান, শুক্রবার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী সোমবার (২০ মে) ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত শুধু চিকিৎসা ভিসা ও ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ভারত ভ্রমণে যেতে পারবেন।

ভারতে আগামী তিন দিনের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশিদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। ২১ মে মঙ্গলবার এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের কারণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ভারতের পুলিশ ইমিগ্রেশনের বরাতে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আযহারুল ইসলাম জানান, শুক্রবার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী সোমবার (২০ মে) ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত শুধু চিকিৎসা ভিসা ও ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ভারত ভ্রমণে যেতে পারবেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা নির্বাচন অফিসারের সই করা এক চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সব আন্তর্জাতিক রুট সিলগালা করা প্রয়োজন। ফলে ১৭ মে সন্ধ্যা থেকে ২০ মে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি বন্ধসহ ট্যুরিস্ট ভিসায় যাতায়াত বন্ধ করা হয়েছে। এই সময়কালে শুধু মেডিকেল ভিসায় ভারত যাওয়া যাবে।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, লোকসভা নির্বাচনের কারণে তিন দিন ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তবে ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্ট ও বিজনেস ভিসায় যাত্রী যাতায়াত বন্ধ থাকলেও জরুরি মেডিক্যাল ভিসাধারীরা ভারতে যেতে পারবেন।

অন্যদিকে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বিএসএফের টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে অতিরিক্ত বিএসএফ সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে। রাতে সীমান্তে কাউকে যেতে দেয়া হচ্ছে না।

মন্তব্য

p
উপরে