× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
কার বাসায় বিদ্যুৎ নেই যোগাযোগ করুন
google_news print-icon

‘কার বাসায় বিদ্যুৎ নেই, যোগাযোগ করুন’

কার-বাসায়-বিদ্যুৎ-নেই-যোগাযোগ-করুন
মুজিববর্ষেই শতভাগ বিদ্যুতায়নের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। ছবি:সাইফুল ইসলাম।
গ্রামে গ্রামে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এখন মাইকিং করে বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন পরিবার খোঁজা হয়। দেশ এখন শতভাগ বিদ্যুতায়নের দ্বারপ্রান্তে। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম দুয়েকটি জনপদ ছাড়া সর্বত্রই বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে।  

শতভাগ বিদ্যুতায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ-মুজিববর্ষেই সম্পন্ন হচ্ছে গ্রিড এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কর্মসূচি।

এর মাধ্যমে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অঙ্গীকারও বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে দেশের সব মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার কথা বলা আছে। ৪৮ বছর পর সেই অঙ্গীকার বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে।

দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এবং পাহাড় ও অরণ্যবেষ্টিত কিছু দুর্গম এলাকা ছাড়া সারা দেশ এই ডিসেম্বরেই জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সংযুক্ত হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যে অল্প কিছু বিচ্ছিন্ন এলাকা আছে, সেগুলোও যাতে মুজিববর্ষেই (আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত) বিদ্যুতের আলোয় উদ্ভাসিত হয়, সে লক্ষ্যেও কাজ করছে সরকার।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘এই ডিসেম্বরেই আমরা সমগ্র দেশবাসীকে গ্রিড এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হওয়ার উৎসবে সামিল করবো বলে আশা করছি। অফ-গ্রিড এলাকাগুলোও দ্রুত বিদ্যুতায়নের কাজ চলছে।’

‘কার বাসায় বিদ্যুৎ নেই, যোগাযোগ করুন’

এবারের বিজয় দিবসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পদার্পণ করেছে সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে। মুজিববর্ষ এবং বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী জাতীয় জীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই দুইয়ের সন্ধিক্ষণে শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিঃসন্দেহে অনন্য এক জাতীয় অর্জন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতা নেয়, তখন দেশের বিদ্যুৎ খাত ছিল নাজুক অবস্থায়। মধ্যবর্তী ১২ বছরে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার করা এক দেশ থেকে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের দেশে।

এই সময়ে দেশে ছোট-বড় ১১১টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। ফলে ২০০৯ সালে যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট, সেখানে এখন হয়েছে ২২ হাজার ৮৮৫ মেগাওয়াট। মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২০ কিলোওয়াট/ঘণ্টা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫১২ কিলোওয়াট/ঘন্টা। বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী ৪৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৮ শতাংশ। অবশিষ্ট দুই শতাংশের ঘরেও বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে মুজিববর্ষেই।

২০৪১ সাল পর্যন্ত দেশে বিদ্যুতের প্রয়োজন হিসাব করে নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন অব্যাহত রয়েছে। এই সময়ে বিদ্যুতে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী বেসরকারি খাত। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাদের অংশীদারিত্ব এখন প্রায় অর্ধেক। বিপুল বিনিয়োগে সক্ষম এই বেসরকারি খাত দক্ষ জনবলে সমৃদ্ধ। কর্মসংস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এই খাত।

বিদ্যুৎ খাতের এই অগ্রগতি সারা দেশের চিত্র পাল্টে দিয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও আয়বর্ধক নতুন নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তার সদ্ব্যবহারও হচ্ছে। কৃষিতে সেচের কাজে আমদানিকৃত ডিজেল-নির্ভরতা কমে এসেছে। ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে গ্রামাঞ্চলের মানুষ অনেক বেশি সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে। শিক্ষার বিস্তার তরান্বিত হচ্ছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় চলে যেতে পেরেছে বিদ্যুতের সহায়তায়।

সাংবিধানিক অঙ্গীকার পূরণ

শতভাগ বিদ্যুতায়নের অনন্য এই অর্জনের মাধ্যমে সরকার গুরুত্বপূর্ণ এক সাংবিধানিক অঙ্গীকারও বাস্তবায়িত করেছে। বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে, যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ উল্লিখিত হয়েছে সেখানে, ১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: ‘নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করিবার উদ্দেশ্যে কৃষি বিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের ব্যবস্থা, কুটির শিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তর সাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’

১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে এই অঙ্গীকার যুক্ত করার মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনার দায়িত্ব সরকারের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। কেননা তিনি জানতেন, বিদ্যুৎ যেমন উন্নয়নের চাবিকাঠি, তেমনি উন্নত জীবনেরও মূলমন্ত্র। আর বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং দেশবাসীর উন্নত জীবন প্রতিষ্ঠাকে নিজের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য করে নিয়েছিলেন, সে কথা তো সবারই জানা।

দেশের সকল মানুষকে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনার সাংবিধানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর সরকার কাজও শুরু করেছিল। একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বঙ্গবন্ধু তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তা নেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন তখন ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে দেয়। এর অর্থ পরিশোধ করা হয় বিনিময় প্রথার মাধ্যমে (বার্টার সিস্টেম )। অর্থাৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য যে অর্থ সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রাপ্য ছিল তার বিনিময়ে বাংলাদেশ তাদের দিয়েছিল কাঁচা পাট ও চামড়া।

অন্যদিকে, দেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (১৯৭৩-৭৮) সাধারণ দেশবাসীকে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। যেমন: পল্লী এলাকায় বিদ্যুতায়নের কার্যক্রম গড়ে তোলা এবং সেচ ও নলকূপে বিদ্যুতায়ন করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো; বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মালিকানায় সমবায় ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠন; সমগ্র পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অবকাঠামো তৈরি করা প্রভৃতি।

বিআরইবির ভূমিকা

গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য যে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ নেয় বঙ্গবন্ধুর সরকার, সেই প্রতিষ্ঠানই আজকের বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি)। যদিও বঙ্গবন্ধুর বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় সেই প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। তবে শতভাগ বিদ্যুতায়নের মূল কাজ ‘গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের ব্যবস্থা’ নিশ্চিত করতে নিয়ামক ভূমিকা পালন করছে এই বিআরইবি।

২০১১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে কাজ করছেন মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন (অব.)। শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং সরকারের সাংবিধানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রধান কর্মকাণ্ডে একেবারে সামনে ছিলেন তিনি।

‘কার বাসায় বিদ্যুৎ নেই, যোগাযোগ করুন’

২০১১-১২ সালের স্মৃতি উল্লেখ করে জেনারেল মঈন বলেন, ‘তখন গ্রাহক সংখ্যা অনেক কম থাকলেও বিদ্যুৎ ছিল আরও কম। ফলে পল্লী বিদ্যুতের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রামাঞ্চলে গ্রাহকের হামলার শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে। অবস্থা এমন হয়েছিল যে এক পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রক্ষা করার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫০টি মামলা করতে হয়েছিল বিআরইবিকে। এখন সেচের গ্রাহক তখনকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবু কখন সেচ মৌসুম আসে, আর কখন যায়, কেউ টেরও পান না।’

আরইবির চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ‘২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেন তখন, ২০১৩-১৪ সালে বিআরইবির বিদ্যুতায়নের হার ছিল ৩৩ শতাংশ। মোট গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৯৩ লাখ। আর এখন বিদ্যুতায়নের হার ৯৯ শতাংশ। আর গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ৩ লাখ। দেশের একমাত্র উপজেলা, মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সর্ব দক্ষিণের রাঙ্গাবালি এবং ভোলা ও সিরাজগঞ্জের আরও কয়েকটি বিচ্ছিন্ন জনপদের আড়াই লাখ গ্রাহক ছাড়া বিআরইবির এলাকার সকল গ্রাহক এখন বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায়।

তিনি বলেন, ওই আড়াই লাখ গ্রাহককে সংযোগ দেওয়ার জন্য অত্যন্ত প্রশস্ত কয়েকটি নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেব্‌ল স্থাপন করতে হবে। এর সব প্রয়োজনীয় অবকাঠেমো তৈরি করা হয়েছে। বিআরইবি নিজস্ব অর্থে সাবমেরিন কেব্‌ল স্থাপন করবে। সে জন্য ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রকল্প অনুমোদনের পর কাজটি সম্পন্ন করতে মাস দুয়েক সময় লাগবে। অর্থাৎ এই কাজও মুজিববর্ষের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

বিআরইবির গ্রিডভুক্ত এলাকায় এখন মাইকিং করে জনসাধারণকে বলা হচ্ছে, যদি কোনো বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ না হয়ে থাকে তাহলে অবিলম্বে তা স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানাতে। এমন কোনো বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।

কিছু চ্যালেঞ্জ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিআরইবি ছাড়াও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এবং নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) কর্মএলাকাতেও দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকা রয়েছে। আর তিন পার্বত্য জেলায় রয়েছে পাহাড় ও অরণ্যবেষ্টিত দুর্গম এলাকা। এই সবগুলো এলাকায় সকল গ্রাহককে আগামী মার্চ মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনা কঠিন। তবে প্রধানমন্ত্রীর ‘২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ পৌঁছানোর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের মধ্যে এদের সবাইকে নিশ্চিতভাবে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এর মধ্যে ওজোপাডিকো এবং নেসকোর এলাকায় গ্রিডের বাইরে (অফ গ্রিড) সকল গ্রাহকের জন্য সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে। তিন পার্বত্য জেলায় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ বিপিডিবি। আর অফ গ্রিড এলাকায় সকলকে সৌর বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এই উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, ওই প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম এবং আড়াই হাজার প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, ইউনিয়ন পরিষদ কার্‌যালয় প্রভৃতি) সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
Prime Minister on his way to Beijing by high speed train

উচ্চগতির ট্রেনে সস্ত্রীক বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী

উচ্চগতির ট্রেনে সস্ত্রীক বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

চীনের দালিয়ানে ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলন সম্পন্ন করে রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় তিনি হাই স্পিড ট্রেনে করে বেইজিংয়ের পথে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

সফরসূচি অনুযায়ী, বেইজিং যাত্রার প্রাক্কালে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেন। দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ সভায় বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এক বিশাল সমাবেশ ঘটে।

এই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ বা সর্বোত্তম অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করার পথ প্রশস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, গত সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষ করে সরাসরি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলন শেষে তিনি এখন রাজধানী বেইজিংয়ের পথে রয়েছেন।

মন্তব্য

জাতীয়
The Prime Minister attended the plenary session of the World Economic Forum

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ (WEF)-এর মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যানারি সেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিস্তৃত পরিসরে উদ্ভাবন’ (Innovating at Scale) শীর্ষক এই বিশেষ সম্মেলনটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।


এই গুরুত্বপূর্ণ সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাগতিক চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী উছরাল নিয়াম-ওসর, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ এবং গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ। বিশ্বনেতারা এই সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।


সেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে এই অনানুষ্ঠানিক আলোচনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। অধিবেশনের বিরতিতে বিশ্বনেতারা সম্মিলিতভাবে এক ফটোসেশনেও অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য

জাতীয়
It will take time for the economy to heal from the crisis
ইউনূস সরকারের নীতিগত সীমাবদ্ধতা ও কাল্পনিক প্রবৃদ্ধি

সংকটে অর্থনীতি, ক্ষত সারতে লাগবে সময়

* ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত  বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ৪২৩ কোটি ডলার * আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৫৪৯ কোটি ডলার * ঋণের প্রতিশ্রুতি প্রাপ্তিতে বড় ধরনের পতন হয়েছে * ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে বাংলাদেশিদের অর্থ  * অর্থনীতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে দুই বছরে: অর্থমন্ত্রী
সংকটে অর্থনীতি, ক্ষত সারতে লাগবে সময় ফাইল ছবি

ইউনূস আমলের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টানা টানাপড়েন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশের এই পরিস্থিতিকে পুরোপুরি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নতুন সরকারের অন্তত দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংকটের নেপথ্যে অন্তর্বর্তী আমলের নীতিগত সীমাবদ্ধতা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ: অর্থনীতিবিদ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অতীতের ঋণের দায়ই নয়, বরং অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কিছু পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তের অভাবও এই আর্থিক সংকটকে ত্বরান্বিত করেছে। যেমন- ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে অতি-আগ্রাসী নীতি ও তারল্য সংকটব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয়। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন ব্যবসায়িক গ্রুপ ও শিল্পোদ্যোক্তাদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (Freeze) করা এবং ঢালাও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে বেসরকারি খাতে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। ফলশ্রুতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়ে।

ব্যাংকগুলোর ওপর আমানতকারীদের আস্থা কমে যাওয়ায় মারাত্মক তারল্য সংকট তৈরি হয়। অনেক কারখানা জনবল কমাতে বা উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়, যা সামগ্রিক কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি ও এডিপি বাস্তবায়নে স্থবিরতা: ইউনূস সরকারের ‘ফেক’ বা কাল্পনিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হিসাব সংশোধন করতে গিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গতি কমিয়ে দেয়। পাইপলাইনে কোটি কোটি ডলারের বৈদেশিক ঋণ আটকে থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতার অভাবে প্রকৃত অর্থছাড় ১০৩ কোটি ডলার কমে যায়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সচল হওয়ার গতি হারায়।

ভুল ব্যাংক একীভূতকরণ নীতি: দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ঢালাওভাবে একীভূত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি এবং পরিস্থিতির শিকার উদ্যোক্তাদের আলাদা করতে না পারায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। অতীতের মেগা প্রকল্পের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ সমাপ্তি ও আন্তর্জাতিক সুদের চাপ: যখন অভ্যন্তরীণ কারণে বিদেশি বিনিয়োগ কমছে, ঠিক তখনই অতীতের নেওয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী টানেলের মতো মেগা প্রকল্পের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ শেষ হওয়ায় আসল ও সুদ একসঙ্গে পরিশোধ করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ফ্লোটিং রেট (বাজারভিত্তিক সুদ) বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণ পরিশোধের দায় ৪০০ কোটি ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।

প্রশাসনিক শিথিলতা ও আর্থিক খাতের নতুন সিন্ডিকেট : অন্তর্বর্তী আমলের বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা। পূর্ববর্তী আমলের দুর্নীতি দমনের নামে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ যেভাবে ভেঙে পুনর্গঠন করা হয়েছে, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও নতুন এক ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণির (সিন্ডিকেট) উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়া ব্যাংক দখল বা পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ায় পর্দার আড়ালে বড় ধরনের আর্থিক অনৈতিক সুবিধা ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

উন্নয়ন প্রকল্প ও ক্রয়ে স্বচ্ছতার অভাব : বিগত মেগা প্রকল্পগুলোর দুর্নীতি তদন্তের ধুয়া তুলে অনেক চলমান জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ স্থবির করে রাখা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জরুরি সংস্কার বা জরুরি ক্রয়ের দোহাই দিয়ে টেন্ডার বা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়াই কিছু বিশেষ সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে, যা অন্তর্বর্তী প্রশাসনের স্বচ্ছতার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সুইস ব্যাংকে অর্থ বৃদ্ধি ও তদারকির ব্যর্থতা : ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে শুধু বৈধ প্রবাসী আয় বা ব্যাংকিং লেনদেন ছিল না; বরং ওই সময়ে দুর্বল তদারকির সুযোগ নিয়ে কতিপয় মহল দেশ থেকে নতুন করে বিপুল অর্থ পাচার করেছে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধের জোরালো আশ্বাসের পরও মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারির অভাবে ওই সময়ে পুঁজি পাচার ঠেকানো সম্ভব হয়নি। যা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পরোক্ষ যোগসাজশকে নির্দেশ করে।

এদিকে, এক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ সালে( ইউনূসের আমল) সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি।

এর আগে ২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরলে সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে সুইস ব্যাংকে ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ জমা ছিল ২০২৫ সালে।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিদেশি ঋণের মোট অর্থছাড় কমেছে ১০০ কোটি ডলারের (১ বিলিয়ন) বেশি।

একই সঙ্গে প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ সময়ে দেশের মোট ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।

ইআরডির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত সময়ে বিদেশি ঋণের মোট প্রতিশ্রুতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২৩ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে এই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৫৪৯ কোটি ডলার; অর্থাৎ ঋণের প্রতিশ্রুতি প্রাপ্তিতে বড় ধরনের পতন হয়েছে।

প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বিদেশি ঋণের প্রকৃত অর্থছাড়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

রেকর্ড স্পর্শ করেছে ঋণ পরিশোধের দায়: যখন বিদেশি মুদ্রার আগমন বা সহায়তার উৎসগুলো সংকুচিত হয়ে আসছে, ঠিক তখনই মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো চেপে বসেছে অতীতের নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের দায়।

ইআরডির তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের আলোচিত ১১ মাসে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

বিগত বছরগুলোতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল বা পদ্মা সেতুর রেল সংযোগের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য যে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অনেকেরই ‘গ্রেস পিরিয়ড’ (ঋণ পরিশোধ শুরু করার আগের সময়কাল) শেষ হয়ে এসেছে। ফলে এখন থেকে আসল ও সুদ—উভয়ই একসঙ্গে পরিশোধ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় (বিশেষ করে ফ্লোটিং রেট বা বাজারভিত্তিক সুদের ক্ষেত্রে) ঋণ পরিশোধের খরচের খাতা দিন দিন ভারি হচ্ছে।

ইআরডির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত সময়ে বিদেশি ঋণের মোট প্রতিশ্রুতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২৩ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে এই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৫৪৯ কোটি ডলার; অর্থাৎ ঋণের প্রতিশ্রুতি প্রাপ্তিতে বড় ধরনের পতন হয়েছে।

ইআরডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই সময়ে মোট বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমে ৪৫৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫৬১ কোটি ডলার। অর্থাৎ সামগ্রিক সম্পদ প্রবাহে ১০০ কোটি ডলারের বেশি ঘাটতি তৈরি হয়েছে।’

এর আগে গত ২৪ মে প্রকাশিত ইআরডির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা ৪২৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের অর্থছাড় করেছিল।

ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ: দেশের অর্থনীতিতে যখন বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ কমছে, ঠিক তখনই ঋণ পরিশোধের দায় ক্রমাগত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই দেশের মোট ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা জোরদার করতে হবে। পাইপলাইনে আটকে থাকা কোটি কোটি ডলারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে দ্রুত অর্থছাড়ের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে নতুন কোনো ঋণের চুক্তিতে যাওয়ার আগে তার সুদের হার, শর্ত এবং পরিশোধের সময়সীমা অত্যন্ত কঠোরভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। সর্বাগ্রে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতিটি ডলারের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে এই সংকট থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।

মন্তব্য

জাতীয়
Handing over the annual report of Dhaka Wasa

ঢাকা ওয়াসার বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর

ঢাকা ওয়াসার বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামের নিকট আজ মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রতিবেদন প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা গোলাম কিবরিয়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যালয়ে এ হস্তান্তর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) এ.কে.এ.এম ফজলুল হক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) মিজানুল হক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (আরপিঅ্যান্ডডি) মো. আজিজুল হক, প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর হাছিন আহমেদ ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সালেকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

জাতীয়
Meeting of the President and CEO of the World Economic Forum with the Prime Minister

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র বৈঠক ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাৎকালে আলোইস জভিংগি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য ডেল্টা রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহায়তায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা প্রদান করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলোইস জভিংগি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সৃষ্টি করবে।

তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

জাতীয়
A meeting of the secretary committee is being held tomorrow to determine the new pay scale

নতুন পে-স্কেল নির্ধারণে আগামীকাল বসছে সচিব কমিটির বৈঠক

নতুন পে-স্কেল নির্ধারণে আগামীকাল বসছে সচিব কমিটির বৈঠক

নবম জাতীয় পে-স্কেলের নানা বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সভা ডেকেছে পে-স্কেল নিয়ে গঠিত সচিব কমিটি। এই সভায় চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি, গেজেট প্রকাশ, কয় ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সচিব কমিটির প্রাথমিক প্রস্তাবনা অনুযায়ী তিন ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হলেও এটি দুই ধাপে করা যায় কিনা সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এমন আলোচনা এসেছে। দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে আগামী ১ জুলাই থেকে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধি পাবে।

সূত্রের তথ্য বলছে, শুধু বেসিকের বিষয়টিই নয়; সচিব কমিটির সভায় পে-কমিশনের সুপারিশের কতটুকু কার্যকর করা হবে অর্থা পে-কমিশন বেতন বৃদ্ধির যে সুপারিশ করেছিল তার কতটুকু বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা কত টাকা বৃদ্ধি করা হবে সেটিও আলোচনা করা হবে।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, সচিব কমিটির সভা রয়েছে। সভায় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে। তবে বেসিকের ৫০ শতাংশ নাকি শতভাগ বৃদ্ধি পাবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও টাকা পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। সচিব কমিটির সভায় অনেক কিছুই চূড়ান্ত হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।’

মন্তব্য

জাতীয়
In 11 months foreign debt repayments of and 4 billion decreased the amount of new commitments

১১ মাসে ৪০০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ শোধ, কমেছে নতুন প্রতিশ্রুতির পরিমাণ

১১ মাসে ৪০০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ শোধ, কমেছে নতুন প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ওপর বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই (জুলাই-মে) বিদেশি ঋণদাতাদের অতীতের ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলারের বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। এর বড় অংশই গেছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপানের কাছে। অন্যদিকে প্রতিবেদন সূত্রে দেখো গেছে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে। মঙ্গলবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জুলাই-মে মাসের বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ওই ১১ মাসে আগের নেয়া ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ঋণ দাতাসংস্থা ও দেশকে ৪১৩ কোটি ২৩ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে, যা বিদেশি ঋণ শোধে নতুন রেকর্ড। এ ছাড়া টাকার হিসাবে ওই সময়ে ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা অর্থাৎ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি শোধ করতে হয়েছে। জুলাই-মে সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান এসেছে প্রায় ৪৫৮ কোটি ডলার।

গত কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বেড়েছে। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো চার বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরের বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০৯ কোটি ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। এবার ১১ মাসেই এর চেয়ে বেশি শোধ করল বাংলাদেশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঋণ শোধের পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।

ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বিদেশি ঋণের আসল ২৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ডলার ও সুদ ১৪৫ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। অন্যদিকে ৪১৪ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে এবং ৪৩ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ৪২২ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে সাড়ে ৫০০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল।

গত ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার। এরপর আছে রাশিয়া। রাশিয়া ৯৩ কোটি ডলার। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ৭৮ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫৩ কোটি ডলার ও ২৫ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে ৪৩ কোটি ডলার।

সরকার বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়। এ ছাড়া বাজেট সহায়তা হিসেবেও অর্থ নেয়। এ ছাড়া বেসরকারি খাতকেও উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দেয়।

মন্তব্য

p
উপরে