× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
দেশি এয়ারলাইন্সের অ‌ক্সিজেন অভ্যন্তরীণ রুট
google_news print-icon

দেশি এয়ারলাইন্সের ‘অ‌ক্সিজেন’ অভ্যন্তরীণ রুট

দেশি-এয়ারলাইন্সের-অ‌ক্সিজেন-অভ্যন্তরীণ-রুট
করোনার সময় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোই দেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে টিকিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন এভিয়েশন অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এটিএম নজরুল ইসলাম।

এ বছর এভিয়েশন খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে এসেছে করোনাভাইরাস মহামারি। বছরের শুরুতেই করোনা সংক্রমণে মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ছিল সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল। তারপর যাত্রী পরিবহন শুরু হলেও তা ছিল নিতান্তই কম। তবে অক্টোবরের পর পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সামনে এনেছে নতুন সংকট।

এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ রুটেই ভরসা রাখছে দেশি এয়ারলাইন্সগুলো।

করোনার মধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাত্র চার মাসেই ১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা আয় বঞ্চিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আয়বঞ্চিত হয় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার। অর্থাৎ সক্ষমতা থাকার পরও করোনার কারণে ৮ মাসে ৩ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা আয় করতে পারেনি বিমান।

এ কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর দাবির মুখে তাদের সব ধরনের অ্যারোনটিক্যাল চার্জ মওকুফ করেছে সরকার।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোকাব্বির হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বিমান লাভ করেছিল ৪৮৩ কোটি টাকা। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আমাদের অপারেশনাল লস হয়েছে ৪৯৭ কোটি টাকা।

‘অর্থাৎ ১৪ কোটি টাকা পুরো অর্থবছরে আমাদের লস ছিল। ট্যাক্স যোগ করার পর এটি হয়ে যায় ৮০ কোটি টাকায়। এ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমাদের অপারেশনাল লস হয়েছে ১৭৪ কোটি টাকা।’

মোকাব্বির জানান, করোনার কারণে রুট সম্প্রসারণের যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল, তাও বাস্তবায়ন করা যায়নি।

‘বিমানের অসুবিধা যা হয়েছে তা করোনার কারণেই। করোনা না আসলে হয়তো লাভের ধারা বহাল থাকত। আমরা একটি পজিটিভ মোমেন্টামে ছিলাম।’

দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা বলছে, করোনার কারণে জুলাই পর্যন্ত প্রতি মাসে অন্তত ১০০ কোটি টাকা আয়বঞ্চিত হয়েছে তারা।

দেশি এয়ারলাইন্সের ‘অ‌ক্সিজেন’ অভ্যন্তরীণ রুট

প্রতিষ্ঠানের বিপণন ও জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘কোভিডের আগে অভ্যন্তরীণে প্রতিদিন প্রায় ৬০টি আর আন্তর্জাতিকে সপ্তাহে ৯০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হতো। জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে অভ্যন্তরীণের ফ্লাইট অর্ধেকই কমে যায়।

‘তবে গত দুই মাসে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। আমরা এখন প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করছি। আর আন্তর্জাতিকে এখন সপ্তাহে ৩৮টির মতো ফ্লাইট চালানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্লাইট কমে গেলেও আমাদের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কিংবা গ্রাউন্ড ফ্যাসিলিটি কিন্তু আগের মতোই আছে। অর্থাৎ আয় কমলেও ব্যয় সংকোচনের আসলে খুব একটা সুযোগ নেই।

‘আমরা টিকে থাকতে স্বল্প সময়ের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে আমরা কাজ করছি। কিন্তু প্রতি সপ্তাহেই আসলে সেটা পরিবর্তন করতে হচ্ছে। কারণ সামনে কী আসে তা আমরা কেউই জানি না।’

কামরুল জানান, করোনা শুরুর সময়ে যাত্রীরা আকাশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে যে আস্থাহীনতার মুখে পড়েছিলেন, সে পরিস্থিতি এখন কিছুটা ভালো।

‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে নতুন বছরে হয়তো আমরা কিছুটা স্বস্তির জায়গায় থাকতে পারব’, বলেন কামরুল ইসলাম।

করোনার সময় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোই দেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে টিকিয়ে রাখে বলে মনে করছেন এভিয়েশন অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এটিএম নজরুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বছরের শুরুতেই কোভিডের কারণে সারা বিশ্বে এভিয়েশন খাত ভেঙে পড়ে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তারপরও বছরের শেষে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা তাও শেষ করে দিচ্ছে। এখন ফেব্রুয়ারি মাসের আগে আসলে কিছুই বলা যাবে না, পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে।

‘এ সময়ে আমরা দেখেছি, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোই দেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। এটা অব্যাহত থাকলে হয়তো দেশি এয়ারলাইন্সগুলো টিকে থাকতে পারবে।’

তার হিসাবে, করোনার মধ্যে দেশি এয়ারলাইন্সগুলো আন্তর্জাতিক রুটে ৬০ ভাগেরও বেশি সক্ষমতা হারিয়েছে। একই অবস্থা হেলিকপ্টার সার্ভিসগুলোরও। তারা সক্ষমতা হারিয়েছে ৫৫ ভাগ পর্যন্ত।

তিনি বলেন, ‘যেসব স্থানে বিমানবন্দর নেই, সেসব স্থানে জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজনে হেলিকপ্টার একটি জনপ্রিয় বাহন হতে পারে। এ জন্য বিভিন্ন স্থানে হেলিকপ্টার চলাচল উপযোগী অবকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।’

কঠিন সময়ে দেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে টিকিয়ে রাখতে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে রিফুয়েলিং সুবিধা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন নজরুল। পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোতে প্রথাগত ফ্লাইট নেটওয়ার্কের বাইরে অন্য বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে ফ্লাইট শুরুর পরামর্শ দেন তিনি।

‘অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে রিফুয়েলিং ব্যবস্থা করা গেলে যেকোনো বিমানবন্দর থেকে অন্য বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালানো যাবে। এটি হলে এখন যেমন বছরে ১৮ থেকে ২০ লাখ যাত্রী দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণ করছেন সেটি বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ লাখে পৌছাবে’, মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম।

নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি কার্গো ও চার্টার্ড ফ্লাইটে জোর দিতে এয়ারলাইন্সগুলোকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
বিমানবন্দরে ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম আগামী বছর
বিমানের লাগেজে বোমা, তারপর ...
প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট বন্ধ: প্রতিমন্ত্রী
বিমানবন্দরে বোমা উদ্ধার মহড়া
করোনা: লন্ডন থেকে ২০২ যাত্রী নিয়ে বিমান সিলেটে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
Big Boss King Tiger Bullet and Rock are coming to shake the market

বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক

বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক ব্যতিক্রমী পাঁচটি গরুর আচরণকে কেন্দ্র করে নানা বাহারি নামে ডাকা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানান, চাহিদামতো জেলায় ৯৬ হাজার ৭২৮টি গবাদিপশু লালনপালন করে প্রস্তত করা হয়েছে। এ বছর বাইরের দেশ থেকে কোনো পশু না ঢুকলে খামারিরা ভালো দামে গবাদিপশু বিক্রি করতে পারবেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে বাজার ধরতে নানা বাহারি নামে গরু মোটাতাজা করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন মৌলভীবাজারের খামারিরা। এরই মধ্যে অনেক খামারে শুরু হয়ে গেছে আগাম বেচাবিক্রি। খামারিরা জানিয়েছেন, এবার অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা ভালো দামে গরু বিক্রির আশা করছেন তারা।

লাভজনক হওয়ায় দেশে এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গরুর খামার। প্রতি বছরই নতুন নতুন মানুষ যুক্ত হচ্ছে খামার ব্যবসায়। সফলতাও পাচ্ছেন অনেকে। এমনই এক সফল খামারি হচ্ছেন জুড়ী উপজেলার মেসার্স সিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম ছেনু।

বাবা মৃত বজলু মিয়ার হাতে গড়া খামারটির বয়স এখন শত বছরের ওপরে। ছেনুর বাবার মৃত্যুর পর ছেলেরা খামারের হাল ধরেন। এ খামারে বর্তমানে ছোটবড় মিলিয়ে মোট ৬৫টি গরু রয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে ক্রেতাদের মন জয় করতে এ খামারে গড়ে তোলা হয়েছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক নামের পাঁচটি গরু। এসব গরু দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

সাইফুল ইসলাম ছেনু জানান, মূলত কোরবানির বাজার ধরতে অনেক আগে থেকেই দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন তিনি। ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ না করলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারের ঈদে ভালো মুনাফা পাবেন বলে আশা করছেন।

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত ছোটবড় মিলিয়ে ৬৫টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ব্যতিক্রমী পাঁচটি গরুর আচরণকে কেন্দ্র করে নানা বাহারি নামে ডাকা হচ্ছে। এগুলো দাম ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে চাচ্ছি আমরা।’

জুড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রমাপদ দে জানান, প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলায় দিনকে দিন বাড়ছে কোরবানির পশুর চাহিদা। সেইসঙ্গে বেড়েছে খামারের সংখ্যা। উপজেলায় ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক খামার রয়েছে।

ঈদের আগে খামারগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ যাতে অসৎ উপায়ে গরু মোটাতাজা না করতে পারে, সেজন্যই এ ব্যবস্থা।’

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানান, চাহিদামতো জেলায় ৯৬ হাজার ৭২৮টি গবাদিপশু লালনপালন করে প্রস্তত করা হয়েছে। এ বছর বাইরের দেশ থেকে কোনো পশু না ঢুকলে খামারিরা ভালো দামে গবাদিপশু বিক্রি করতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
ডিএনসিসির পশুর হাটে নিরাপদ ‘ক্যাশলেস’ লেনদেনের আশা মেয়রের
নেত্রকোণায় ‘ঘাস খেয়ে’ এক খামারের ২৬ গরুর মৃত্যু
‘রাজা বাবু’র দাম হাঁকা হচ্ছে ৬ লাখ টাকা
ঢাকায় কোরবানির পশুর হাট বসছে বৃহস্পতিবার থেকে
‘সাদা পাহাড়ের’ ওজন ৩৮ মণ, দাম ১৬ লাখ

মন্তব্য

জাতীয়
The demand for colorful garland ropes is increasing in animal markets

পশুর হাটে বাড়ছে রঙিন মালা দড়ির চাহিদা

পশুর হাটে বাড়ছে রঙিন মালা দড়ির চাহিদা সারা বছর পশুর গলার মালার তেমন একটা কদর না থাকলেও কোরবানিতে বাড়ে চাহিদা। ছবি: নিউজবাংলা
গাবতলী পশুর হাটের ফটকের ডান দিকে ছোট একটি দোকানে মালা ও দড়ি সাজিয়ে বসেছেন ভোলা জেলার বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারা বছর আমি দেশে পানের ব্যবসা করলেও গত ১৭ বছর ধরে কোরবানির ঈদে গাবতলীতে মালা ও রশির দোকান দিই। এই বছর প্রায় দুই লাখ টাকার মাল তুলছি। বেচাকেনা শেষে দুই লাখ টাকা লাভ থাকবে আশা করি।’

কোরবানির ঈদের বাকি আর কয়েক দিন। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেপারিরা গরু নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেছেন। এমন বাস্তবতায় পশুর হাট যেমন ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে, তেমনই জমেছে হাটে আসা পশুর গলার মালা ও দড়ির দোকানগুলোতে বিক্রি।

সারা বছর এ মালার তেমন একটা কদর না থাকলেও কোরবানিতে বাড়ে চাহিদা।

হাটে আসা ক্রেতাদের কোরবানির পশু কিনেই যেন দায়িত্ব শেষ হয় না। গরুর সাজসজ্জাটাও হওয়া চাই মনের মতো।

পশু নিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পথচারীদের নজর কাড়তে চান অনেকে ক্রেতা। সেই চাহিদা পূরণ করছে পশুর মালা ও দড়ির দোকানিরা।

পশুর হাটে বাড়ছে রঙিন মালা দড়ির চাহিদা

রাজধানীর সর্ববৃহৎ গরুর হাট গাবতলীতে বৃহস্পতিবার দেখা যায়, বর্ণিল মালা, ঘণ্টা, দড়িসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে দোকান সাজিয়ে বসে আছেন মৌসুমি মালা ও দড়ি বিক্রেতারা।

গাবতলী গরুর হাটে ঢুকে ডান দিকে গেলেই সোজা লাইনে বেশ কয়েকটি মালা, রশি ও ঘণ্টার দোকানের দেখা মেলে। দোকানের সামনে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা নানা রঙের মালা, ছোট-বড় ঘণ্টা ও রশি।

মাঝারি আর বড় পশুর ক্রেতারা গরু-ছাগল কিনে নিয়ে যাওয়ার সময় আগ্রহের সঙ্গেই ঘণ্টা, মালা কিংবা রশি কেনেন।

বড় গরুর সঙ্গে সাধারণত বেপারিরাই রঙিন মালা, রশি ও ঘণ্টা ক্রেতাদের ফ্রি দেন। গরু কেনার পর ক্রেতারা যেন সেটি সামলাতে পারেন, সে জন্য লাঠিও বিক্রি করা হয়। প্রতিটি লাঠির দাম ৫০ থেকে ৭৫ টাকা পর্যন্ত।

শুধু গলা নয়, গরুর চোয়ালের জন্যে আছে মালা। এটি বেল্টের মতো। এখানে জরি কাগজ ও কাপড় থাকে। মূল্য একেকটার একেক রকম। এর সঙ্গে থাকে গরুর কপালের প্লেট। এসব প্লেটের বেশির ভাগেই চাঁদ-তারার নকশা। এগুলো বড় গরুর ক্ষেত্রেই ব্যবহার হয় বেশি।

প্রকারভেদে মালা ও দড়ির দাম ভিন্ন ভিন্ন। আছে ভিন্ন ভিন্ন নামও।

পশুর হাটে বাড়ছে রঙিন মালা দড়ির চাহিদা

গাবতলী পশুর হাটের ফটকের ডান দিকে ছোট একটি দোকানে মালা ও দড়ি সাজিয়ে বসেছেন ভোলা জেলার বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারা বছর আমি দেশে পানের ব্যবসা করলেও গত ১৭ বছর ধরে কোরবানির ঈদে গাবতলীতে মালা ও রশির দোকান দিই। এই বছর প্রায় দুই লাখ টাকার মাল তুলছি। বেচাকেনা শেষে দুই লাখ টাকা লাভ থাকবে আশা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার গত ঈদের চেয়ে মালা-রশির দাম পিসপ্রতি ৫০ টাকা বাড়ছে। এগুলো আমি মিরপুর বিহারি ক্যাম্প থেকে পাইকারি কিনে নিয়ে আসি। ওইখানেই এগুলো বানানো হয়।’

তার পাশেই পশুর মালা ও দড়ির দোকান সাজিয়ে বসা নুরনবী বলেন, ‘আমার এখানে বিভিন্ন ধরনের মালার বিভিন্ন রকম দাম রয়েছে। এগুলো সব বাংলাদেশেই তৈরি হলেও নাম পাকিস্তানি। চায়না নামেও হয়।’

কোনটার নাম কী আর দাম কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই যেমন একটার নাম আয়না সেট। এর দাম ৮০০ টাকা। চায়না সেটের দাম ৭০০ টাকা। জর্জেট সেটের দাম এক হাজার টাকা।

‘কালো ঘণ্টি ৭০০ টাকা, বেল ঘণ্টি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, চায়না মোকা ২৫০, আয়না ঘণ্টি ২৫০, তিন ঘণ্টি ২০০, কলাপাতা ৪০০, লেভেল আয়না ১০০, টাই ৫০, জরি ৩০, কপালি ১০০, তাজ ১৫০ এবং দড়ি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।’

ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, মালা ও দড়ির চাহিদা তত বাড়বে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
বগুড়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৭ লাখ ৩৫ হাজার পশু
বজ্রপাতে তিন জেলায় পাঁচজন নিহত, আহত ৭
আট টাকায় শাড়ি, লুঙ্গি
বাগেরহাটে হাত-পা ও মুখ বাঁধা এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ইউপি চেয়ারম্যান থেকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হলেন আবু বক্কর

মন্তব্য

জাতীয়
Who stole the shackled transformer from the field?

মাঠ থেকে শেকলে বাঁধা ট্রান্সফরমার চুরি করল কারা

মাঠ থেকে শেকলে বাঁধা ট্রান্সফরমার চুরি করল কারা চুরি করে নেয়া হয়েছে ট্রান্সফরমার, ভোগান্তি শুরু হয়েছে সেচ দেয়া নিয়ে। ছবি: নিউজবাংলা
পল্লী বিদুৎ বামন্দী এরিয়া অফিসের এজিএম কম হানিফ রেজা বলেন, আমরা সংবাদ পেয়েছি রামনগর মাঠ থেকে রাতে চারটি ট্রান্সফরমার চুরি গেছে। মাঠে থাকা ফসলের কথা চিন্তা করে আমরা অফিস থেকে দ্রুত সময়ে ট্রান্সফরমারগুলো ব‍্যবস্থা করে দিতে সার্বিক সহযোগিতা করব।

তীব্র দাবদাহ শেষে দীর্ঘ সময় ধরে অনাবৃষ্টির কারণে কৃষি নির্ভর মেহেরপুরের মাঠ-ঘাট নদী-নালা পানির অভাবে ফেটে চৌচির। মাঠে থাকা ফসল উৎপাদনের একমাত্র ভরসা এখন সেচযন্ত্র। অথচ ঠিক সেচের এ ভরা মৌসুমেই চুরি হয়েছে চারটি ট্রান্সফরমার।

বুধবার মধ‍্যরাতে জেলার গাংনী উপজেলার রামনগর মাঠ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ওই ট্রান্সফরমারগুলো। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক ও মালিকরা।

ট্রান্সফরমার মালিকরা বলছেন, মধ‍্যরাত পযর্ন্ত পাহারা দেয়া হয়েছে, আবার নিরাপত্তার জন‍্য কারেন্টের খাম্বার সাথে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। তারপরও চুরি হয়েছে ট্রান্সফরমার। আর কৃষকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে অনা বৃষ্টির সঙ্গে প্রচণ্ড গরমের মধ‍্যে যদি ফসলে সেচ দিতে না পারেন, তাহলে ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে না।

যাদের ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে তাদের মধ্যে একজন শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার এ পোলে তিনটি ট্রান্সফরমার ছিল। আমরা এই মাঠেই রাত ১২টা পযর্ন্ত ছিলাম। ভোরের দিকে সেচ যন্ত্র চালু করতে এসে দেখি ট্রান্সফরমার সব যন্ত্রপাতি মাটিতে পড়ে আছে। আর ভেতরে থাকা তামার তার ও অন্য যন্ত্রাংশ বের করে নিয়ে চলে গেছে।

তিনি বলেন, আমার এই মাঠে দেড় শতাধিক জমি সেচের জন‍্য নেয়া আছে। কৃষকরা যেমন সেচ দেয়া নিয়ে বিপদে পড়েছে। আমি বিপদে আছি কীভাবে দ্রুত সময়ে ট্রান্সফরমার ম্যানেজ করব। আমার বিশ্বাস যারা এতো নিরাপত্তার মধ‍্যেও ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে গেছে তারা খুবই অভিজ্ঞ।

আরেক ভুক্তভোগী নান্নু বলেন, আমি পাঁচ বছর ধরে এই মাঠে সেচ দিয়ে আসছি। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় এমনিতেই পানি দেয়ার খুব চাপ চলছে। দিনে রাতে সেচ দিয়েও চাহিদা পপূরণ করতে পারছি না। তারপর আবার হয়ে গেলো ট্রান্সফরমার চুরি।

তিনি বলেন, আমি অন‍্য এলাকার ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার কথা শুনে নিরাপত্তার সার্থে খাম্বার সাথে শেকল দিয়ে তার সাথে তালা মেরে আটকিয়ে রেখেছি। তারপরও খাম্বা থেকেই ট্রান্সফরমারে থাকা সব কিছু বের করে নিয়ে চলে গেছে। আবার ট্রান্সফরমার পেতে পল্লী বিদুৎ অফিসের দুয়ারে ঘুরতে হবে কত দিন, তার ঠিক নেই।

কৃষক আলতাফ খাঁন বলেন, আমার এ মাঠে ধানের আবাদ রয়েছে। বুধবার নিড়ানি দিয়েছি। বৃহস্পতিবার সেচ দেয়ার কথা আছে। সকালে মাঠে এসে শুনছি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেছে। এখন সেচ দেয়ার অন‍্য কোনো বিকল্প পথ নেই। আমি পড়ে গেছি বিপদে, সেচ না দিতে পারলে ফসল ভালো হবে না।

আরেক কৃষক খোকন আলী বলেন, আমাদের এ মাঠে সবজির আবাদই বেশি। এখন মাঠে বেগুন, কচু, ঝাল, লাউয়ের আবাদ রয়েছে। সবজি আবাদ করতে গেলে ব‍্যাপক সেচের প্রয়োজন পড়ে। এমনিতেই এ বছর বৃষ্টি নেই নেই। যার ফলে সেচের ওপর নির্ভর করেই আবাদ চলছে। এবার মনে হচ্ছে সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, তাই আমাদের দাবি, পল্লী বিদুৎ অফিস যেন দ্রুত ট্রান্সফরমারের ব‍্যাবস্থা করে মাঠে থাকা ফসল রক্ষা করে।

পল্লী বিদুৎ বামন্দী এরিয়া অফিসের এজিএম কম হানিফ রেজা বলেন, আমরা সংবাদ পেয়েছি রামনগর মাঠ থেকে রাতে চারটি ট্রান্সফরমার চুরি গেছে। মাঠে থাকা ফসলের কথা চিন্তা করে আমরা অফিস থেকে দ্রুত সময়ে ট্রান্সফরমারগুলো ব‍্যবস্থা করে দিতে সার্বিক সহযোগিতা করব।

মন্তব্য

জাতীয়
The students of the school study and take exams in other institutions at home

স্কুলটির শিক্ষার্থীরা পড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানেও, পরীক্ষা দেয় বাসায় বসে

স্কুলটির শিক্ষার্থীরা পড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানেও, পরীক্ষা দেয় বাসায় বসে হাজী মো. মাছিম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ। ছবিটি গত ৯ জুন তোলা। ছবি: রাকিবুল হাসান রোকেল/নিউজবাংলা
অভিভাবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেনে পড়ে। তারা স্কুলটিতে এসে ক্লাসও করে না। বাসায় বসেই পরীক্ষা দেয় বেশির ভাগ শিক্ষার্থী।

বেলা পৌনে ১২টা। জনশূন্য স্কুলের মাঠ। প্রতিষ্ঠানটির ভেতরেও পিনপতন নীরবতা।

একটু দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে, শ্রেণিকক্ষে চলছে পরীক্ষা, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

ভরদুপুরে স্কুলটির কক্ষগুলোতে ছিল না শিক্ষার্থী। অফিসে পাওয়া যায় ছয় শিক্ষকের মধ্যে তিনজনকে।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাইক লক্ষীয়া গ্রামের হাজী মো. মাছিম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন চিত্র চোখে পড়ে গত ৯ জুন। দিনটি ছিল সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার।

স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নূরুল আফসার। তার বাইরে শিক্ষক আছেন আরও পাঁচজন।

প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী জোসনা আক্তার সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বরত। অপর সহকারী শিক্ষক হোসনে আরা বেগম ঝরনার ছেলে মাহমুদুল হাসান রাসেল স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

দুই পরিবারের আধিপত্য থাকা প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ‘পারিবারিক স্কুল’ বলেও ট্রল করে থাকেন স্থানীয় কেউ কেউ।

স্কুলটির শিক্ষার্থীরা পড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানেও, পরীক্ষা দেয় বাসায় বসে

অভিভাবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেনে পড়ে। তারা স্কুলটিতে এসে ক্লাসও করে না। বাসায় বসেই পরীক্ষা দেয় বেশির ভাগ শিক্ষার্থী।

আবু কাউসার নামের এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে পাকুন্দিয়া মডেল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। মাছিম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপারিশ করে তার মেয়েকে স্কুলটিতে ভর্তি দেখিয়ে রেখেছেন, কিন্তু সে ক্লাস করে মাদ্রাসায়।

তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক বলেছেন, মেয়ে মডেল মাদ্রাসায় পড়ুক, এখান থেকে সরকারি একটা সার্টিফিকেট নিয়ে রাখলে ভালো হবে।

ওই অভিভাবক আরও জানান, তিনি প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করেন একই সময়ে যদি দুই প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা হয়, তখন কী করবেন। শিক্ষক বলেন, সঠিক সময়ে মাদ্রাসায় পরীক্ষা দেবে। আর স্কুলেরটা দেবে বাসায় বসে। শিক্ষকের কথা অনুযায়ী মেয়েটি বাসায় বসেই দিতে পারে পরীক্ষা।

ফয়সাল হক রাকিব নামের একজন জানান, স্কুলটিতে ১৫ জন শিক্ষার্থীও পাওয়া যাবে না, তবে স্কুলের খাতায় অনেক বেশি দেখা যাবে। আর বিভিন্ন কর্মকর্তারা যখন পরিদর্শনে আসেন, তখন অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের ডেকে আনেন শিক্ষকরা।

স্কুলটির শিক্ষার্থীরা পড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানেও, পরীক্ষা দেয় বাসায় বসে

জালাল মিয়া নামে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, স্কুলের শিক্ষকরা উপবৃত্তির কথা বলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করেন। পরে আর ক্লাস করাতে দেখা যায় না।

তিনি বলেন, ‘স্কুলটা সবসময় খালিই থাকে। শিক্ষকরাও মাঝেমধ্যে এসে ঘুরেফিরে চলে যান।’

জালালের সঙ্গে কথা শেষ হতেই অমিত হাসান নামের এক যুবক জানান, বিভিন্ন সময়ে খেলাধুলা থাকলে শিক্ষার্থীদের দেখা যায়, তবে শ্রেণিকক্ষে তেমন কাউকে দেখা যায় না।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যা বললেন সংশ্লিষ্টরা

গত ৯ জুন স্কুলে শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়ে হাজী মো. মাছিম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল আফসার জানান, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির ক্লাস ছুটি হয়ে গেছে।

কারও হাজিরা না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভুলে হাজিরা খাতা ক্লাসে নেয়া হয়নি।’

ওই সময় তিনি দ্বিতীয় শ্রেণির হাজিরা খাতায় ছয়জন শিক্ষার্থীর হাজিরা দেখান।

অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কোথায় জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবে।’

এ প্রতিবেদক স্কুলের পুরো কর্মঘণ্টা থেকেও কোনো শিক্ষার্থীকে আর আসতে দেখেননি।

শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির বিষয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান রাসেল জানান, এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনে পড়ে। তাদের রেজিস্ট্রেশন এখানে থাকলেও ক্লাস করে ওইখানে।

তিনি বলেন, ‘এই রকম সব স্কুলেই হয়। এ ছাড়াও কিন্ডারগার্টেনগুলোর তো পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ নেই।’

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মজিব আলম জানান, বিষয়টি তিনি জানার পরই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। ওই প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্কুলটি যাত্রা শুরু করে ১৯৯০ সনে। এটি সরকারিকরণ হয় ২০১৩ সনে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির এমন দৈন্যদশা বলে জানান এলাকাবাসী।

স্কুলটির শিক্ষার্থীরা পড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানেও, পরীক্ষা দেয় বাসায় বসে

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্কুলের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই পার্শ্ববর্তী একাধিক মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেন ভর্তি রয়েছে। তারা শুধু পরীক্ষা দেয় হাজী মাছিম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

প্রধান শিক্ষক স্কুলটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২০ উল্লেখ করলেও এলাকাবাসীর ভাষ্য, সংখ্যাটি ত্রিশের বেশি নয়।

আরও পড়ুন:
হাত দিয়েই তোলা যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং
শনিবার স্কুল খোলার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষকদের কর্মবিরতি ঘোষণা
প্রাথমিক স্কুলে স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রম মঙ্গলবার থেকে
প্রাথমিক স্কুলের জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ
হাই স্কুল খুলছে শনিবার, রোববার থেকে প্রাইমারি

মন্তব্য

জাতীয়
Dam in the river for fishing

মাছ ধরতে নদীতে বাঁধ

মাছ ধরতে নদীতে বাঁধ নদীর মাঝে বাঁধ দেয়ায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা
জলাশয়ে পানির প্রবাহ ও মাছের চলাচল বাঁধ দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করলে শাস্তির বিধান থাকলেও এ ব্যাপারে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

নেত্রকোণার পূর্বধলায় সদ্য খনন করা লাউয়ারী নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মাছ শিকার করতে নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৃষ্টপুর বাজারের পশ্চিম পাশে কৃষ্টপুর গ্রামের সেকান্দার আলী ও তার ছেলেরা এবং ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের দিউপাড়া গ্রামের মতিউর রহমান দিউপাড়ার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া লাউয়ারী নদীতে অবৈধভাবে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ শিকার করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অবৈধ বাঁধের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বাঁধের পাশে নদীর পাড়ে খুপরি ঘর বানিয়েছেন প্রভাবশালীরা। এছাড়া নদীর বেশ কয়েকটি জায়গায় নেট দিয়ে আটকে দেয়া রয়েছে।

প্রশাসনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, প্রবাহমান কোনো জলাশয়ে কোনো ধরনের বাঁধ, স্থায়ী অবকাঠামো বা অন্য কোনোভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।

তবে জলাশয়ে পানির প্রবাহ ও মাছের চলাচল বাঁধ দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করলে শাস্তির বিধান থাকলেও এ ব্যাপারে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, জনসাধারণের নৌ চলাচল বন্ধ করে জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নদীপথে কৃষিপণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে, অন্যদিকে জাল ব্যবহার করায় মাছের প্রজনন ব্যবস্থা ধ্বংস হচ্ছে।

মাছ ধরতে নদীতে বাঁধ

সাইদুল আলী নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, প্রতি বছর এভাবে তারা নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করেন। প্রভাবশালীরা নদীতে বাঁধ দেয়ার ফলে অন্য কেউ নদীতে নামতে পারে না। কোনো নৌকাও চলাচল করতে দেয় না বাঁধ-মালিকরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধলামূলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রেজোয়ানোর রহমান রনি বলেন, ‘নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের ঘটনাটি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানলাম। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।’

পূর্বধলা উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘লাউয়াড়ী নদীতে বাঁশ ও বাঁশের পাটির মাধ্যমে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরার খবরটি শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ইউএনও মো. খবিরুল আহসান জানান, মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য

জাতীয়
Why is there a food crisis in Saint Martin?

সেন্টমার্টিনে খাদ্য সংকট কেন

সেন্টমার্টিনে খাদ্য সংকট কেন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ফাইল ছবি
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে এখনও নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে খাদ্যপণ্যসহ কোনো মালামাল আনা যাচ্ছে না। অনেক দোকান খালি পড়ে আছে, এতে দ্বীপে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।’

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। দ্বীপে যাওয়া-আসার একমাত্র পথ নাফ নদী, তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতে একের পর এক গুলিবর্ষণের ঘটনায় টানা ছয় থেকে সাত দিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে বন্ধ রয়েছে নৌ চলাচল।

খাদ্য ও পণ্যবাহী বোট চলাচল বন্ধে দ্বীপে খাদ্য পৌঁছাতে না পারায় ও মজুদকৃত খাবার প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে ভুগছেন সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা।

সেন্টমার্টিনে খাদ্য সংকট কেন

এরই মধ্যে মঙ্গলবার টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনগামী রোগী বহনকারী স্পিড বোটকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটেছে, তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে স্পিড বোটটি নাফ নদের মোহনায় নাইক্ষ্যংদিয়াতে পৌঁছালে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংদিয়া থেকে সেন্টমার্টিনগামী পণ্যবাহী ট্রলার এবং বাংলাদেশের নির্বাচনি কর্মকর্তাদের ওপর গুলি ছোড়া হয়। ওই এলাকাটি বর্তমানে আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ওই গোষ্ঠীর সদস্যরাই গুলি ছুড়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।

গুলির বিষয়ে বোট মালিক সমিতির সেক্রেটারি ছৈয়দ আলম বলেন, ‘টেকনাফ থেকে চিকিৎসা শেষে স্পিডবোটে সেন্টমার্টিনে ফিরছিলেন কয়েকজন। এ সময় স্পিড বোটটি লক্ষ্য করে মিয়ানমার থেকে গুলি করা হয়েছে। আগে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে গুলি করা হলেও আজ ছোট ডিঙি নৌকায় করে নদীতে নেমে গুলি করা হয়েছে।

‘এ সময় স্পিডবোটে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, তবে তারা সেন্টমার্টিনে নিরাপদে পৌঁছেছেন, কিন্তু সেন্টমার্টিনবাসী খাদ্যপণ্য সংকটে পড়ে গেছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্বীপে অবস্থানরত মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে। সেখানে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী নাকি বিদ্রোহীরা গুলি চালাচ্ছে তাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’

এদিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের ফলে সেন্টমার্টিনে দেখা দিচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সংকট। খাদ্য ও পণ্যবাহী বোট চলাচল করতে না পারায় সেন্টমার্টিনের দোকানগুলোতে যেমন মজুদকৃত খাদ্যপণ্য শেষ হতে চলেছে; তেমনি সেই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম দ্বিগুণ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্রুত সমাধান না হলে দ্বীপবাসীর জন্য খাদ্য, চিকিৎসাসহ অন্য সমস্যা বাড়তে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন , ‘সাগরে মাঝে দ্বীপ হয়ে আমরা দুর্দশার মধ্যে পড়েছি। আজকে পাঁচ ছয় দিন ধরেই সেন্টমার্টিনে খাবার বলতে কিছু নেই। এরকম হলে ১০ হাজার মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ নেই এখন। সেন্টমার্টিনে দোকান এবং ফার্মেসি প্রাথমিক চিকিৎসা ও বন্ধ হয়ে গেছে। টেকনাফ থেকে যে নাফ নদী পথ দিয়ে আসতে হয়। সেখানে মিয়ানমার বাহিনী টহল দিচ্ছে, সে পথ দিয়ে আসলে গুলি করে।’

এভাবে চলতে থাকলে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি হবে জানিয়ে তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে এখনও নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে খাদ্যপণ্যসহ কোনো মালামাল আনা যাচ্ছে না। অনেক দোকান খালি পড়ে আছে, এতে দ্বীপে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এটি দ্রুত সমাধান না হলে এ সংকট বিকট আকার ধারণ করতে পারে।’

আরও পড়ুন:
বৈরী আবহাওয়ায় সেন্টমার্টিনে আটকা জবির ৩৮ শিক্ষার্থী
জাহাজ চলাচল বন্ধ, সেন্টমার্টিনে আটকা দেড় শতাধিক পর্যটক
ছয় মাস পর ৫১৭ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ
পর্যটন দিবসে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে
সেন্টমার্টিন সৈকতে অর্ধগলিত দুই লাশ

মন্তব্য

জাতীয়
At the foot of the hills living at risk the march of death is increasing

টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল সিলেট নগরীর দলদলি চা বাগান এলাকায় টিলার পাদদেশে ঘর নির্মাণ করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে থাকছেন চা শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা
বেলা সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, ‘কী পরিমাণ লোক ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করেন তারও কোনো হিসাব নেই জেলা প্রশাসনের কাছে। তাদের পুনর্বাসন বা টিলা সংরক্ষণে সরকারি কোনো উদ্যোগ বা প্রকল্প নেই। বরং টিলা ধ্বংস করে অনেক প্রকল্প আছে। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বারবার এই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে।’

বৃষ্টি শুরু হলেই দেখা দেয় ঝুঁকি। ধসের ঘটনাও ঘটে নিয়মিত। তবুও বন্ধ হচ্ছে না সিলেটের পাহাড় টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস। ফলে প্রতি বছর বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল।

ছোটবড় অসংখ্য পাহাড় টিলা নিয়ে গঠিত সিলেট। এসব টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় ১০ হাজার পরিবার। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে সিলেটে পাহাড়-টিলা ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রাণহানির শঙ্কাও বেড়েছে।

এমন আশঙ্কার মধ্যেই সোমবার নগরের মেজরটিলা এলাকায় একটি টিলা ধসে মাটিচাপা পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। এতে আহত হন আরও তিনজন।

গত কয়েকদিন থেকেই সিলেটে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে সোমবার সকাল ৬টার দিকে মেজরটিলায় চামেলিবাগ এলাকার দুই নম্বর সড়কের একটি টিলা ধসে ৮৯ নম্বর বাসার ওপর পড়ে। এতে এই বাসায় ভাড়া থাকা ছয় সদস্য মাটির নিচে চাপা পড়েন। তিনজনকে তাৎক্ষণিক জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর প্রায় ছয় ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বাকি তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- ৩১ বছর বয়সী আগা করিম উদ্দিন, তার স্ত্রী ২৫ বছর বয়সী শাম্মী আক্তার রুজি ও তাদের শিশু সন্তান নাফজি তানিম।

প্রতি বছরই সিলেটে টিলা ধসে এমন হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবু টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস থামছে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সিলেটে কী পরিমাণ লোক টিলার পাদদেশে বসাবাস করেন, সরকারিভাবে এর কোনো তালিকা নেই। তবে বেসরকারি হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পরিবার টিলার পাদদেশে বসবাস করছে।

মূলত কম ভাড়ায় কিংবা বিনা ভাড়ায় থাকতে পারার কারণে দরিদ্র শ্রেণির লোকেরাই টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন। আবার কিছু গোষ্ঠী টিলা কাটা বা দখলে রাখার জন্য টিলার পাদদেশে ঘর বানিয়ে ভূমিহীনদের কম ভাড়ায় বরাদ্দ দেয়।

যদিও ২০১২ সালে সিলেটের পাহাড় ও টিলা সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের এক রায়ে টিলার ওপরে ও পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে পুণবার্সনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল
সিলেটের মেজরিটালার চামেলিবাগে সোমবার এই টিলা ধসে প্রাণ হারান এক পরিবারের তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘সিলেটে নির্বিচারে পাহাড় টিলা-কাটা হয়। পাহাড় কাটার কৌশল হিসেবে পাহাড়ের পাদদেশে নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য বসতি বানানো হয়। ঝুঁকি নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ বাস করেন এসব পাহাড়-টিলার আশপাশে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহাড় ও টিলাধসে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সিলেট সদর উপজেলায় টিলাধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২০২২ সালের ৬ জুন জৈন্তাপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়।

পাহাড় বা টিলাধসে মানুষের মৃত্যু হলে প্রশাসন কিছুদিনের জন্য তৎপর হয়। তারপর আবার চুপ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিলেট নগরের হাওলাদারপাড়া এলাকার একটি টিলার নাম জাগো টিলা। উঁচু এই টিলার একেবারে কিনারা ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি ঘর। উপরের ঘরগুলোর ঠিক নিচে টিলার পাদদেশেও ঘর রয়েছে কয়েকটি। টিলার ওপরে ও ঢালে বসবাস করা সবগুলো পরিবারের বাসিন্দারাই রয়েছেন ঝুঁকিতে। প্রাণের শঙ্কা নিয়েই বছরের পর বছর ধরে তারা বসবাস করে আসছেন এখানে।

জাগো টিলার ওপর ঘর বানিয়ে বাস করা শামসুল ইসলাম বলেন, ‘এটি সরকারি টিলা। ভাড়া দিতে হয় না। তাই আমরা এখানে ঘর বানিয়ে থাকি।’

ঝুঁকির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভয় তো আছেই। বৃষ্টির দিনে ভয় আরও বেড়ে যায়; কিন্তু আমরা গরীব মানুষ, জায়গা কেনার সামর্থ নেই, ঘর ভাড়া করাও অনেক খরচের। তাই ঝুঁকি নিয়েই এখানে থাকি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিলার ওপরে ও পাদদেশে বসবাসকারী বেশিরভাগ লোকজনই এরকম দরিদ্র। স্থানীয় প্রভাবশালীরা টিলা কাটা ও দখলের জন্য দরিদ্রশ্রেণির লোকজনদের এসব জায়গায় বসিয়েছেন। আবার কম টাকায় পেয়ে টিলার পাদদেশে জমি কিনেও ঘর বানিয়েছেন অনেকে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) হিসাব মতে, সিলেট নগর, সদর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রায় ৪ শ পাহাড়-টিলা রয়েছে। এসব টিলার ওপর ও পাদদেশে অনেক পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে।

পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাই বলেন, ‘আমরা বছর তিনেক আগে একটা জরিপ চালিয়ে দেখেছিলাম, জেলায় টিলার পাদদেশে প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছে। এখন এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘বসবাসের জন্য এসব টিলার অনেকাংশ কেটে ফেলায় টিলাগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এগুলো ধসে পড়ে প্রাণহাণির ঘটনা ঘটে।

অপরিকল্পিতভাবে টিলা কাটা, গাছ উজাড় ও টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের ফলে বৃষ্টি হলেই টিলা ধসে পড়ছে বলে মত এই পরিবেশকর্মীর।

টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার একটি টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন অনেকে। ছবি: নিউজবাংলা

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের হাওলাদারপাড়া, আখালিয়া, পীরমহল্লা ব্রাহ্মণশাসন জাহাঙ্গীরনগর, তারাপুর চা বাগান এবং নগর উপকণ্ঠের বালুচর, বিমানবন্দর সড়ক, খাদিমপাড়া, খাদিমনগর, জোনাকী, ইসলামপুর মেজর টিলা ও মংলির পাড় এলাকায় বিভিন্ন টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে কয়েক শ পরিবার। এছাড়া জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে সহস্রাধিক পরিবার।

টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস ও প্রাণহানির জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে বাংলাদেশ পরিবশে আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, ‘২০১২ সালে আমাদের করা একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সিলেটে পাহাড় টিলা কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একইসঙ্গে পাহাড়-টিলা সংরক্ষণ ও তার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষজনকে পুণবার্সসনের নির্দেশনা দেয়; কিন্তু ওই রায়ের ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়নি।’

শাহেদা বলেন, ‘কী পরিমাণ লোক ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করেন তারও কোনো হিসাব নেই জেলা প্রশাসনের কাছে। তাদের পুনর্বাসন বা টিলা সংরক্ষণে সরকারি কোনো উদ্যোগ বা প্রকল্প নেই। বরং টিলা ধ্বংস করে অনেক প্রকল্প আছে। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বারবার এই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে।’

এই পরিবেশকর্মী আরও বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টিলাখেকোরা টিলা দখল ও কাটার জন্য দরিদ্র শ্রেণির লোকজনদের স্বল্প ভাড়ায় বা বিনাভাড়ায় টিলার ওপরে ঘর নির্মাণ করে দেয়।’

সোমবারের দুর্ঘটনার পর নগরে টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সব কাউন্সিলরকে সিটি মেয়র নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর বলেন, ‘সোমবার দুপুরে জরুরি সভায় মেয়র এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেন। এছাড়া পাহাড় ও টিলার পাদদেশে কেউ যাতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করতে না পারে, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও পরিবশে অধিদপ্তরের পরিচালকের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।’

তবে টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাকারীদের সরানো যায় না বলে দাবি সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসানের।

তিনি বলেন, ‘টিলার ওপরে ও পাদদেশে যারা বসবাস করেন, চেষ্টা করেও তাদের অন্যত্র সরানো যায় না। গত বছরও আমরা সব ইউএনওদের মাধ্যমে মাইকিং করিয়ে টিলার পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে বলেছি, কিন্তু কেউ কথা শোনেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা একটা বড় সমস্যা। তাদের কীভাবে সরানো ও পুনর্বাসন করা যায়- এ নিয়ে ভাবছি। তাদের মধ্যে যদি কেউ ভূমিহীন থেকে থাকেন, তাহলে প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
সিলেটে টিলা ধস: ছয় ঘণ্টা পর ৩ মরদেহ উদ্ধার
১৪ বছরে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার প্রকল্প, তবু তলিয়ে যায় সিলেট নগর

মন্তব্য

p
উপরে