× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য পাহারায় ইসলামী আন্দোলন
google_news print-icon

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য পাহারায় ইসলামী আন্দোলন

বঙ্গবন্ধুর-ভাস্কর্য-পাহারায়-ইসলামী-আন্দোলন
বরিশাল প্রেসক্লাবের সামনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের পাহারায় চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা
বিজয় দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকেলে বরিশাল নগর ভবনের সামনে সমাবেশ ও বিজয় শোভাযাত্রা করে ইসলামী আন্দোলন। এতে দলটির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। এ সময় জাতির পিতার ভাস্কর্য ও ম্যুরালে পাহারা দেন দলটির তিনশ নেতা-কর্মী।

রাজধানীর ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরুদ্ধে যারা প্রথম কর্মসূচি পালন করেছে, সেই চরমোনাইয়ের পীরের দল ইসলামী আন্দোলন এবার বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের নিরাপত্তায় পাহারা বসিয়েছে।

দলটির ছাত্র শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক কে এম শরীয়তউল্লাহ জানিয়েছেন, বরিশালে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও ম্যুরালে কেউ যেন হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য তারা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়েছেন।

বিজয় দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকেলে বরিশাল নগর ভবনের সামনে সমাবেশ ও বিজয় শোভাযাত্রা করে ইসলামী আন্দোলন। এতে দলটির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। এ সময় জাতির পিতার ভাস্কর্য ও ম্যুরালে পাহারা বসানো হয়।

এই দলটির সদর দফতর ঢাকায় হলেও তাদের মূল কেন্দ্র বরিশালেই। সেখানকার চরমোনাই ইউনিয়নেই তাদের মূল ঘাঁটি।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিজয় দিবস উপলক্ষে নগরীতে সমাবেশের আয়োজন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো দুষ্কৃতিকারী যাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বা ম্যুরাল এবং মন্দির বা গির্জায় হামলা চালিয়ে আমাদের উপর দোষ চাপাতে না পারে সে জন্য আমরা আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দিয়েছি সেই সব স্থানগুলোতে নিরাপত্তার জন্য।’

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য পাহারায় ইসলামী আন্দোলন
বিজয় দিবসে বরিশাল নগর ভবনের সামনে ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ফয়জুল করীম

কে এম শরীয়তউল্লাহ জানান, তাদের কর্মসূচি চলার সময় নিরাপত্তার জন্য এসব স্থানে মোট তিনশ স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়।

বরিশাল প্রেসক্লাবের সমানে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য রয়েছে। এটি স্থাপন করা হয়েছে তিন থেকে চার বছর আগে। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় জাতির পিতার একটি ম্যুরাল আছে। ২০০৮ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এটি স্থাপন করেন শওকত হোসেন হিরণ।

আরেকটি ম্যুরাল আছে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে যেটি উদ্বোধন করা হয়েছে গত নভেম্বরে।

বাংলাদেশে জাতির জনকের অসংখ্য ভাস্কর্য থাকলেও এবার ধোলাইপাড়ে একটি ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর অবস্থান ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এটি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রথমে অবস্থান নেয় ইসলামী আন্দোলন। এটি নির্মাণ না করার দাবিতে প্রথমে গত ১৩ নভেম্বর ধূপখোলা মাঠে সমাবেশ করে দলটি। ওই সমাবেশে বলা হয়, তারা এক নং সংকেত দিয়েছেন। দাবি মানা না হলে দেয়া হবে ১০ নং সংকেত।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য পাহারায় ইসলামী আন্দোলন
বিজয় দিবসে বরিশাল নগর ভবনের সামনে ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশের একাংশ

পরে একই দাবি জানায় ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক হুমকি দেন, ভাস্কর্য নির্মাণ হলে তারা আরেকটি ৫ মের পরিস্থিতি তৈরি করবেন। এরপর হেফাজতের আমির জুনাইদ বাবুনগরী হুমকি দেন, ভাস্কর্য নির্মাণ হলে তারা টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেবেন।

তবে শুরুতে চুপচাপ থাকলেও পরে সরকারপন্থিরা মাঠে নামে। তাদের পাল্টা কর্মসূচির পর কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দল ও সংগঠনের সুর পাল্টে যায়। তাদের বক্তব্য অনেকটা নরম হয়। মামুনুল হক বলেন, তারা ভাস্কর্যের বিরোধী হলেও সরকারের সঙ্গে যুদ্ধে যাবেন না।

এর মধ্যে গত ৪ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন একটি ভাস্কর্যে ভাঙচুর চালানো হয়। ভিডিও ফুটেজ দেখে স্থানীয় মাদ্রাসা ইবনি মাসউদের চার ছাত্র ও শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়।

এই মাদ্রাসাটি চরমোনাইয়ের পীরের অনুসারী। আর পুলিশ জানিয়েছে, দুই ছাত্র তাদেরকে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা ফয়জুল করীম ও হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ওয়াজ শুনে ‍উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা ভাস্কর্য ভেঙেছেন। যদিও পরে মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন ভাস্কর্য ভাঙার নিন্দা জানিয়েছে।

এসব ঘটনায় ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির ফয়জুল করীম, হেফাজত নেতা বাবুনগরী ও মামুনুলের বিরুদ্ধে হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা।

এই ইস্যুতে সারাদেশে প্রশাসন, পুলিশ এমনকি বিচারকরা একযোগে সারাদেশে সমাবেশ করে জানিয়েছে, জাতির পিতার সম্মান তারা অম্লান রাখবেন।

গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে কওমি মাদ্রাসার একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বৈঠক সফল হয়েছে।

পরদিন মন্ত্রী বৈঠকের ফলাফল হিসেবে বলেন, এই ইস্যুতে ধর্মভিত্তিক দলগুলো আর রাজপথে নামবে না। ভাস্কর্য নির্মাণও অব্যাহত থাকবে। সরকারের মুখপাত্র তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন, ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ হবে না।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
Dhaka Kuala Lumpur relations at a new height

সম্পর্কের নতুন উচ্চতায় ঢাকা-কুয়ালালামপুর

সম্পর্কের নতুন উচ্চতায় ঢাকা-কুয়ালালামপুর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া সফর। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া সফর দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক সোনালী অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই সফর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভাগ্যদ্বার উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সোমবার (২২ জুন) কুয়ালালামপুরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং শ্রমবাজারের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটানোর মহাপরিকল্পনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় পুত্রজায়ায় দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠক শেষে দুই দেশের সরকারপ্রধান এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তিনি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং তার এই দায়িত্ব গ্রহণকে বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির পথে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে অভিহিত করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার আহ্বান: যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করেছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগপ্রক্রিয়া হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী; যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা দূর হয় এবং শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় হ্রাস পায়।’

শুভেচ্ছা ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের স্মরণ: সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে শুভেচ্ছাবার্তা পেয়েছিলাম, তা ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বিদেশ সফরে সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।

এ সময় তিনি তার পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছিল। একই সঙ্গে তিনি তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই সফর দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও গভীর এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করেছিল।

মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যকার দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। মালয়েশিয়ায় উষ্ণ অভ্যর্থনা ও চমৎকার আতিথেয়তার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, আমরা মধুর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।

দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর জোরদার ও ২০২৭ সালের মধ্যে এফটিএ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আখ্যা দিয়ে বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার ব্যাপক ও অর্থপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শপ্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে একটি ‘পারস্পরিক কল্যাণকর, ব্যাপক ও দূরদর্শী’ চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে ২০২৭ সালের মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে দুই দেশ। উভয় নেতাই স্বীকার করেন যে, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হলো বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের আহ্বান: বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন ও বিপুল ম্যান্ডেট পেয়েছে। জনগণের এই বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি। তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য তিনি আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান।

বহুমুখী খাতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ দিতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। আলোচনার প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ছিল-উচ্চ মূল্য সংযোজন ও প্রযুক্তি খাত: তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (ICT), ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার।

অবকাঠামো ও লজিস্টিকস: সড়ক, সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বন্দর এবং লজিস্টিকস খাত।

শিল্প ও কৃষি: হালাল শিল্প এবং কৃষিভিত্তিক পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ।

উভয় নেতা সরকারি সংস্থা, বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন; যার মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে অংশগ্রহণ জোরদার করা সম্ভব হবে। এই লক্ষ্যে ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল (JBC)’ প্রতিষ্ঠার অগ্রগতিকে দুই প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান, যা বেসরকারি খাতের সহযোগিতার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যবিষয়ক বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরসহ অনাবিষ্কৃত খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

শিক্ষা, পর্যটন ও সংস্কৃতি: মালয়েশিয়ায় বর্তমানে অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অবদান উল্লেখ করে দুই প্রধানমন্ত্রী উচ্চশিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অংশীদারিত্ব, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET) খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত হন। একই সঙ্গে যোগ্যতার/সনদের পারস্পরিক recognition (স্বীকৃতি), যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাক্রমের সামঞ্জস্য জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এছাড়া, মালয়েশিয়া ইয়ার অব মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬’ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে দুই দেশ পর্যটন প্রচার ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছেন বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা: দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রশংসা করে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক (MoU) পুরোপুরি কার্যকর করার অঙ্গীকার করা হয়। সামরিক বিজ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা ও প্রতিরক্ষা শিল্প অংশীদারিত্বে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত রূপরেখা তৈরির জন্য 'প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ কমিটি (JCDC)’ বৈঠক আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যৌথ প্রশিক্ষণ, কৌশলগত মহড়া ও জ্ঞান বিনিময় অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, সহিংস উগ্রবাদ, মানবপাচার ও আন্তঃদেশীয় crime (অপরাধ) মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

রোহিঙ্গা সংকট ও বৈশ্বিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়াও বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে।

বৈশ্বিক ইস্যুতে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেস্থার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ন্যায়সম্মত ও স্থায়ী শান্তির পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রচলিত ও অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের অঙ্গীকার করা হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ও আমন্ত্রণ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের উদাত্ত আমন্ত্রণ জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

মন্তব্য

জাতীয়
Formation of EC committee to facilitate NID revision

এনআইডি সংশোধন সহজ করতে ইসির কমিটি গঠন

এনআইডি সংশোধন সহজ করতে ইসির কমিটি গঠন ফাইল ছবি

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করতে বিদ্যমান নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে লক্ষ্যে বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) পর্যালোচনা ও সংশোধনের প্রস্তাব তৈরিতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক জাকির মাহমুদের সই করা এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা সহজীকরণ ও বিদ্যমান এসওপি পর্যালোচনা বিষয়ে একটি কর্মশালা আয়োজনের লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হলো।

পাঁচ সদস্যের এ কমিটিতে সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আর সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী পরিচালক (গবেষণা ও উন্নয়ন)।

এতে আরও বলা হয়েছে, এ কমিটি জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা সহজীকরণ ও বিদ্যমান এসওপি পর্যালোচনা বিষয়ে একটি কর্মশালা আয়োজনের জন্য প্রস্তাবনা ডিজি এনআইডির কাছে উপস্থাপন করতে হবে।

মন্তব্য

জাতীয়
Dengue has killed 10 people this year leaving 5000

ডেঙ্গুতে চলতি বছরে মৃত্যু ১০ আক্রান্ত ছাড়াল ৫ হাজার

ডেঙ্গুতে চলতি বছরে মৃত্যু ১০ আক্রান্ত ছাড়াল ৫ হাজার ছবি: সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে এবং এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৯ জন। গত একদিনে নতুন করে ১৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪ জন, ঢাকা বিভাগে ১২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২১ জন, খুলনা বিভাগে ১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে একজন, রাজশাহী বিভাগে নয়জন, রংপুর বিভাগে একজন এবং সিলেট বিভাগে তিনজন রয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১২৪ জন ডেঙ্গুরোগী। চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট চার হাজার ৬৯২ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জুন পর্যন্ত দেশে মোট পাঁচ হাজার ৩৯ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। সবশেষ একজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে দেশে মোট এক লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং এ রোগে ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

মন্তব্য

জাতীয়
Initially four committees of the government headed by secretary DC UNO for transfer appointment

প্রাথমিকে বদলি-পদায়নে সরকারের চার কমিটি, নেতৃত্বে সচিব-ডিসি-ইউএনও

প্রাথমিকে বদলি-পদায়নে সরকারের চার কমিটি, নেতৃত্বে সচিব-ডিসি-ইউএনও ফাইল ছবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন এবং কর্মরত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনা ও আবেদন নিষ্পত্তির জন্য জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা বা থানা পর্যায়ে চার স্তরের কমিটি গঠন করেছে সরকার। এসব কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

গত রোববার (২১ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিদ্যালয়-২) রাজীব কুমার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। সোমবার (২২ জুন) প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে জানা যায়, সারাদেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৭ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫ জন।

জানতে চাইলে বিকেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. লাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বদলি-পদায়নে কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য গঠিত কমিটির সভাপতি থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব। কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সদস্যসচিব থাকবেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়)। কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠাবে।

আন্তঃবিভাগ শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি করে বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে বিভাগীয় উপপরিচালক (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা) এবং সভাপতির মনোনীত দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন। সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা)। কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেবে। একই বিভাগের মধ্যে, তবে সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে, সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন বিভাগীয় কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) বদলির আদেশ জারি করবেন।

এছাড়া জেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের পদায়ন ও কর্মরত শিক্ষকদের বদলির আবেদন নিষ্পত্তির জন্য জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সভাপতি করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সভাপতির মনোনীত দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং সভার কার্যবিবরণীসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন বিভাগীয় উপপরিচালকের (প্রাথমিক শিক্ষা) কার্যালয়ে পাঠাবে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়নের দায়িত্বও জেলা কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। একই জেলার মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন জেলা কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করবেন এবং বদলির আদেশ জারি করবেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপজেলা বা থানা পর্যায়ে শিক্ষকদের বদলি আবেদন নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা বা থানা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে উপজেলা বা থানা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সভাপতির মনোনীত দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেবে এবং সভার কার্যবিবরণীসহ প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠাবে। একই উপজেলা বা থানার মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করবেন এবং বদলির আদেশ জারি করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা আগে ‘প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে’ বদলির আদেশ পেয়েছেন, সেসব বিদ্যালয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষক পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য

জাতীয়
Vocalist Mumtazs bail Adjourned to the Chamber Court

কণ্ঠশিল্পী মমতাজের জামিন চেম্বার আদালতে স্থগিত

কণ্ঠশিল্পী মমতাজের জামিন 
চেম্বার আদালতে স্থগিত

সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।

এর আগে, গত ১৫ জুন আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলার পাশাপাশি মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজ বেগমকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। তবে গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ওই জামিনের মধ্যে দুই মামলার জামিন স্থগিত করেন।

ওই তিনটি মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এর মধ্যে রোববার এক মামলার শুনানি শেষে নো অর্ডার আদেশ দেন আদালত।

গত বছরের ১২ মে মানিকগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একটি মামলায় চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৭ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম সবশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে লড়েন। আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেন তিনি। তবে মমতাজ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দেওয়ান জাহিদ আহমেদের (টুলু) কাছে হেরে যান তিনি।

মন্তব্য

জাতীয়
BPC has lost Tk 17 thousand 39 crore in the last three and a half months Energy Minister in Parliament

গত সাড়ে তিন মাসে ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা লোকসানে বিপিসি: সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী

গত সাড়ে তিন মাসে ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা লোকসানে বিপিসি: সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করলেও এখনো তা পরিচালন খরচের চেয়ে বেশি থাকায় (ব্রেক-ইভেন) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দৈনিক প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান গুনছে। গত মার্চ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আমদানি করা জ্বালানি তেলের এলসি পরিশোধের হিসাবে বিপিসির প্রকৃত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৩৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আবদুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে টেবিলে লিখিত প্রশ্নোত্তর উপস্থাপিত হয়।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গত মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করলেও দেশের বাজারে এখনো আন্তর্জাতিক মূল্যের তুলনায় দাম কম রাখা হয়েছে। জুন মাসে প্রতি লিটার ডিজেলের কস্টিং ছিল ১৭৫ দশমিক ২২ টাকা এবং অকটেনের কস্টিং ১৬০ দশমিক ৭০ টাকা। জনস্বার্থে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি। তবে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে জ্বালানি তেল বিক্রির কারণে লোকসান হলেও বিপিসি নিজস্ব তহবিল থেকে টানা তিন মাস আমদানি কার্যক্রম সচল রেখেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও কমে সহনশীল পর্যায়ে এলে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এলপিজি সহজলভ্য হওয়ায় আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস–সংযোগ চালুর বিষয়ে সরকারের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আমদানি করা এলএনজি যুক্ত হওয়ার পরও সরবরাহ ঘাটতি থাকায় ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী বিদ্যুৎ, সার ও বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল ছাড়া আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি খাতে নতুন গ্যাস–সংযোগ স্থগিত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সদস্য শাহাজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সব কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র অবসরে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আটটি গ্রাহক শ্রেণিতে অনুমোদিত গ্যাস লোড অনুযায়ী দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বর্তমান চাহিদা দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (এপ্রিল পর্যন্ত) গড় সরবরাহ হয়েছে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ আমদানি ও অন-গ্রিড নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ দেশে গ্রিডভিত্তিক মোট ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে। মে মাস পর্যন্ত এসব কেন্দ্রের মোট স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট এবং দেশের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।

যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কুমিল্লা-৬ আসনের সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বিপিসি ও এর অধীন বিপণন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মে মাস পর্যন্ত ১ হাজার ৪০৯টি অডিট আপত্তি রয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ ১ লাখ ১৬ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। তিনি বলেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এবং অডিট অধিদপ্তর ঢাকায় থাকলেও বিপিসির প্রধান কার্যালয় অন্যত্র হওয়ায় হালনাগাদ তথ্য আদান-প্রদানে সমস্যা হচ্ছে। বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তর করা হলে অডিট কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে এবং সংস্থা ও অধীন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।

মন্তব্য

জাতীয়
Search and arrest at important points of the capital 10

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তল্লাশি, আটক ১০

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তল্লাশি, আটক ১০ ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে (২৩ জুন) কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে ২০০ চেকপোস্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত ১৮ হাজার সদস্য সন্দেহভাজনদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এতে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। গত রোববার রাত ১১টা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত দুটি বাস, একটি মাইক্রোবাসসহ সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর দুই শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্পটে বিশেষ তল্লাশিচৌকি বা চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গণপরিবহন, মোটরসাইকেল ও সন্দেহভাজন পথচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় রয়েছে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ ছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এবং চারটি প্রধান কন্ট্রোল রুমে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, ধোলাইপাড়, গাবতলী, উত্তরাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখগুলোয় পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট দেখা গেছে। এ ছাড়া ধানমন্ডি, গুলশান, কাকরাইল, বিজয় সরণি ছাড়াও বেশ কয়েকটি স্থানে পুলিশকে সতর্কাবস্থায় চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করতে দেখা গেছে।

গত রোববার রাত ১১টা থেকে শুরু হওয়া পুলিশের এই বিশেষ সতর্কতামূলক কার্যক্রমে সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত দুটি বাস, একটি মাইক্রোবাসসহ সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের ধানমন্ডি থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. নিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যাতে তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, এ জন্য ডিএমপি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত দুটি বাস, একটি মাইক্রোবাসসহ সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের ধানমন্ডি থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।’

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর (যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সংগঠন) শীর্ষ নেতারা পলাতক, কারাবন্দি কিংবা অনেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

২০২৫ সালের ১২ মে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী পাস হলেও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আদেশ বহাল রাখা হয়।

মন্তব্য

p
উপরে