× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
বুদ্ধিজীবী হত্যার মাস্টারমাইন্ড আশরাফ মুঈনুদ্দীন কোথায়
google_news print-icon

বুদ্ধিজীবী হত্যা: আশরাফ, মুঈনুদ্দীন কোথায়

বুদ্ধিজীবী-হত্যা-আশরাফ-মুঈনুদ্দীন-কোথায়
বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালে ৩ নভেম্বর দুই আলবদর নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে দেশের বাইরে থাকায় সে রায় এখনো বাস্তবায়ন করা যায়নি।

একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সরকারের অসহযোগিতায় দেশে ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না।

সরকারের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, আলবদর নেতা চৌধুরী মুঈনুদ্দীন আছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আর আশরাফুজ্জামান খান অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াতে। এই দুই দেশের নাগরিকত্ব থাকায় তারা সেখানে আছেন বহাল তবিয়তে, নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় মুসলিম সংগঠনের।

১৯৭১ সালে বিজয়ের প্রাক্কালে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার নীল নকশা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, যেটি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেয় তৎকালীন কুখ্যাত আলবদর বাহিনী। আলবদরের শীর্ষ নেতা ছিলেন আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় জন শিক্ষক, ছয় জন সাংবাদিক ও তিনজন চিকিৎসকসহ অন্তত ১৮ বুদ্ধিজীবীকে অপহরণের পর হত্যা করেন এই দুজন।

বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালে ৩ নভেম্বর দুই আলবদর নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে দেশের বাইরে থাকায় সে রায় এখনো বাস্তবায়ন করা যায়নি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাস গুপ্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ দুই আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় হয়ে গেছে। তারা বিদেশে পালিয়ে থাকায় এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তাদের দেশে ফেরাতে হবে। আইন মন্ত্রণালয় আইনের দিকটি দেখবে অর্থাৎ আপিলে বিলম্ব মওকুফের আবেদন এই দুজন করতে পারবে কিনা।’

পলাতক দুই খুনিকে ফিরিয়ে আনতে কী করা হচ্ছে জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরের গণমাধ্যম শাখার এআইজি সোহেল রানা নিউজবাংলাকে জানান, ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান।

‘অনেক আগেই তাদের ফেরাতে ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। ইন্টারপোল রেড নোটিশও জারি করেছিল। এরপরের দায়িত্ব বর্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপর। তারা বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দুজনকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চালাবে।’

আশরাফুজ্জামান ও মুঈনুদ্দীনকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সব পলাতক খুনিকে বিচারের মুখোমুখি করতে চাই, এটা আমাদের স্ট্যান্ডিং পলিসি। কিন্তু এরা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে সে দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছে, আর এ কারণে সে দেশগুলো তাদের ফেরত পাঠাচ্ছে না।

‘উন্নত দেশ যারা রুল অব ল এর কথা বলে, তারাই এটা মানছে না। তারাই আইনের শাসনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। খুনিদের ফেরত পাঠাতে টালবাহানা করছে। এটা খুব দুঃখজনক। আমরা আমাদের মতো করে চেষ্টা করছি যেন তাদের ফেরত আনা যায়।’

দুই যুদ্ধাপরাধীর সবশেষ অবস্থান সম্বন্ধে কী তথ্য আছে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চৌধুরী মুঈনুদ্দীন এখন অবস্থান করছেন লন্ডনে। তিনি সেখানে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

‘আর আশরাফুজ্জামান খানের অবস্থান কিছুদিন আগেও ছিল নিউইয়র্কে। সে সেখানে একটি মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ইকনা নামে মুসলিমদের একটি সংগঠন আছে, আশরাফ কোনো একভাবে সেই সংগঠনেরও প্রেসিডেন্ট হয়ে যান।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিরা আফরাফের পরিচয় জানার পর প্রায়ই তার বাসার সামনে বিক্ষোভ করত। পরে ইকনা থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর সে প্রবাসীদের ক্ষোভ থেকে বাঁচতে চলে যায় পেনসিলভানিয়াতে।’

আফরাফুজ্জামান এখন পেনসিলভানিয়াতেই আছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

তিনি বলেন, ‘তবে সে (আফরাফুজ্জামান) পেনসিলভানিয়ায় কোথায় আছে সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য আমরা পাচ্ছি না। আমরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি, কোনো এক সময় হয়ত এদের দেশে ফিরিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে বুদ্ধিজীবী হত্যায় আশরাফুজ্জামান খানকে ‘চিফ এক্সিকিউটর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আর চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে বলা হয়েছে পরিকল্পনার ‘অপারেশন ইনচার্জ’।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আশরাফুজ্জামানের নাখালপাড়ার বাসা থেকে উদ্ধার করা তার ব্যক্তিগত দিনপঞ্জিতে এই হত্যার পরিকল্পনা ও একটি তালিকা পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে আদালতের রায়ে।

এই দুই আল বদর নেতা ও তাদের সহযোগীদের হাতে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নাট্যকার মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, ড. সিরাজুল হক খান, ড. আবুল খায়ের, ড. ফয়জুল মহিউদ্দিন, অধ্যাপক রাশিদুল হাসান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা ও ড. সন্তোষ ভট্টাচার্য।

সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন হোসেন, সৈয়দ নাজমুল হক, এএনএম গোলাম মুস্তাফা, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, সেলিনা পারভীন, শহীদুল্লাহ কায়সার এবং চিকিৎসক মো. মর্তুজা, মো. ফজলে রাব্বি ও আলিম চৌধুরীকেও হত্যার পর গুম করেন তারা।

আশরাফুজ্জামান খান ১৯৪৮ সালে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের চিলেরপাড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালে সিদ্ধেশ্বরী ডিগ্রি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি স্টাডিজ বিভাগে। ওই বিভাগ থেকেই ১৯৭০ সালে স্নাতক ডিগ্রি পান সে সময়ের ইসলামি ছাত্র সংঘের কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফুজ্জামান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় আল বদর বাহিনীর নেতৃত্ব দেন আশরাফুজ্জামান। বুদ্ধিজীবী হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী এবং বাস্তবায়নকারী নেতা হিসাবেও তাকে অভিযুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

দেশ স্বাধীনের পর তিনি পালিয়ে পাকিস্তানে চলে যান। সেখানে কিছুদিন রেডিও পাকিস্তানে কাজ করার পর চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে।

চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ১৯৪৮ সালের নভেম্বরে ফেনীর দাগনভূঞা থানার চানপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭১ সালে মুঈনুদ্দীন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী। দৈনিক পূর্বদেশের নিজস্ব প্রতিবেদক হিসাবেও তিনি কাজ করেছেন।

বুদ্ধিজীবী হত্যায় সরাসরি নেতৃত্ব দেয়া মুঈনুদ্দীন দেশ স্বাধীনের পর পাকিস্তান হয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
In the current year BTVs income is 8 crore and expenditure is 254 crore Information Minister

চলতি বছরে বি‌টি‌ভির আয় ৮‌ কো‌টি টাকা, ব্যয় ২৫৪ কো‌টি: তথ্যমন্ত্রী

চলতি বছরে বি‌টি‌ভির আয় ৮‌ কো‌টি টাকা, ব্যয় ২৫৪ কো‌টি: তথ্যমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) বিশাল পরিমাণ আয়-ব্যয়ের ব্যবধান বা লোকসানের চিত্র জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নওগাঁ–৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত বিগত ১১ মাসে করসহ বিটিভি মোট ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আয় করেছে। তবে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ও সামগ্রিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরে বিটিভির মোট আয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ ৫ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ টাকা এসেছে বিজ্ঞাপন খাত থেকে।

সংসদে বিটিভির বিগত কয়েকটি অর্থবছরের আয়ের তুলনায় বিপুল ব্যয়ের খতিয়ানও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং ব্যয় হয়েছিল ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

২০২১-২২ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করলেও এর বিপরীতে ব্যয় হয় ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ কিছুটা কমে ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা হলেও ব্যয় একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকায়।

পরবর্তী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয়েছিল ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

আর সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিটিভি মোট ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আয় করতে সক্ষম হলেও একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পেছনে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা।

মন্তব্য

জাতীয়
Two years will be a tough time everyone will have to suffer Finance Minister

দুই বছর কঠিন সময় যাবে সবাইকে কষ্ট করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

দুই বছর কঠিন সময় যাবে সবাইকে কষ্ট করতে হবে: অর্থমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতি নিয়ে সতর্ক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতি নানামুখী চাপে থাকায় আগামী দুই বছর সময় কঠিন যাবে, আমি আগেভাগে বলছি। দুইটা বছর কষ্ট করতে হবে সবাই মিলে। আর জনগণের লাইফ যেটা (স্বাভাবিক রাখার) ওটা আমরা করব নীতির ভিত্তিতে। সহায়তার ভিত্তিতে। যতটুকু সীমিত আমাদের সম্পদ ওটা দিয়েই আমরা করব। ওইটা বলছি না। কিন্তু এটা (অর্থনীতি) ঘুরে দাঁড়াতে, এই যে ভঙ্গুর থেকে স্থিতিশীলতা, সেটার জন্য দুবছর লাগবে।

সোমবার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি যদি বলি কালকে সকালে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, এই কমিটমেন্টটা আমি দিতে চাইব না। এটার জন্য দুবছর সময় প্রয়োজন। এ ভঙ্গুর অর্থনীতি, খারাপ অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল করতে দুই বছর লাগবে। তৃতীয় বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে ইনশাল্লাহ। ঘুরে দাঁড়াবে। এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে অর্থনীতি হবে ‘প্রসপারিটি অব বাংলাদেশ’।

চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে ‘প্রসপারিটি ফর বাংলাদেশ’। চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হচ্ছে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ- আমরা দেখব।

পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতেও দুবছর প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেট, এগেইন আমি তো বলছি দুই বছরের কুশন দরকার। আপনি দেখবেন ইনশাল্লাহ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ঘুরে দাঁড়াবে। আমাদের বিশাল একটা অপরচুনিটি ক্রিয়েট হবে ক্যাপিটাল মার্কেটে, বিশাল অপরচুনিটি। সবার জন্য।

কীভাবে হবে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এইজন্য আমরা ক্যাপিটাল মার্কেটের প্রথম আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আস্থাটা ফিরিয়ে আনা। এইজন্য আমরা একটা কমিশন করেছি যারা একদম ইন্ডিপেন্ডেন্ট, নন পলিটিক্যাল এবং পুরোপুরি পেশারদার লোক। সুতরাং এরা সব আইনগুলো চেঞ্জ করছে যাতে আমাদের ইনভেস্টররা সিকিউর থাকে। যারা তালিকাভুক্ত হবে কোম্পানিগুলো তারা যাতে আস্থা পায় যে এই ক্যাপিটাল মার্কেটে তার শেয়ারটা প্রোপারলি লেনদেন হবে। এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল যারা ইনভেস্টর আছে তাদের যাতে বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেটের ওপর আস্থা থাকে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ডিরেগুলেশন ইজ এ বিগ মুভ। আমি জানি এটা খুব কঠিন। অনেক বাধাগ্রস্ত আমি হয়ে গেছি অলরেডি। ইতোমধ্যে করার (ঘোষণা) সময়ই বাধাগ্রস্ত হয়েছি। এটা এক্সিকিউশন করতে গেলে আরও বাধাগ্রস্ত হব আমি জানি কিন্তু যত কঠিন ডিসিশন নিতে হয় আমি নিতে প্রস্তুত আছি।

তিনি বলেন, এই ডিরেগুলেশনের পথে যদি কেউ বাধাগ্রস্ত হয়, তাদের আমরা বেরিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেব। ওই যে দরজা আছে পেছনে ওদিক দিয়ে বেরিয়ে যান। কোন দরকার নাই (তাদের)। দেশ হিসেবে আমরা অনেক ‘সাফার’ করেছি। বাংলাদেশের মানুষের এখন চায় একটা সত্যিকার মুক্ত জীবনযাপন করতে। সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে যেসব বাধার শিকার হতে আমলাতান্ত্রিক কারণে সেসবের অনেককিছু কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয় সরকারের তরফে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যদি সঞ্চয় না বাড়ে, সম্পদ তৈরি না হয়, তাইলে অর্থনীতির সুদিন ফিরবে না। কারণ তারা (সীমিত আয়ের মানুষ) তো ভোক্তাও বটে। তো সেই কনটেক্সটে আমার কাছে এইবারের যে আয়করের হারের কাঠামো যেটা সরকার দিয়েছে, তা কিছুটা ‘রিগ্রেসিভ’ মনে হয়েছে। কারণ এর আগে ৫ শতাংশ হার একটা ছিল। আমরা যারা ঢাকায় থাকি অনেকের সীমিত আয় আছে। শহরের অন্যান্য প্রান্তেও অনেকে থাকে। আমার কাছে মনে হয় শতাংশ হার এটি রাখা উচিত ছিল সরকারের।

মন্তব্য

জাতীয়
Armed forces got magisterial powers in 6 districts for 8 days

৬ জেলায় ৮ দিনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পেল সশস্ত্র বাহিনী

৬ জেলায় ৮ দিনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পেল সশস্ত্র বাহিনী ফাইল ছবি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা ও বিশৃঙ্খলা রুখতেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি জেলায় সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।

সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সরকারি এই আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে আগামী ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত এই বিশেষ ক্ষমতা কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে যে, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট এসব এলাকা এবং এই সময়সীমার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো।

একই সাথে কোস্ট গার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এই বিশেষ আইনি ক্ষমতার আওতাভুক্ত হবেন। সশস্ত্র বাহিনীর এই কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ অনুযায়ী নির্ধারিত অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ ও শান্তি বজায় রাখতে সরাসরি তাঁদের এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

মন্তব্য

জাতীয়
No religion supports bad deeds Gayeshwar Chandra Roy

কোনো ধর্মই খারাপ কাজকে সমর্থন করে না: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

কোনো ধর্মই খারাপ কাজকে সমর্থন করে না: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন বিধি-নিষেধের বাইরে ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল।

সোমবার (২২ জুন) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা হলরুমে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ ও অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সব ধর্মেই ভালো ও মন্দ কাজের প্রতিফল সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। মানুষ তার কর্ম অনুযায়ী ফল ভোগ করবে।

ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো সাংঘর্ষিক আইন সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাকে ইফতার পার্টি আয়োজন করতে দেওয়া হয়নি। তখন আমি গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে ইফতার বিতরণ করতাম। ইসলাম যেমন নিরাকার আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তেমনি আমি একজন হিন্দু হিসেবে সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করি।

ধর্ম ও কর্ম একে অপরের পরিপূরক। রাষ্ট্রের আইন এবং দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে। কোনো ধরনের উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, কেরানীগঞ্জ উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইনচার্জ মো. আল-আমীন, বিএনপি নেতা আলি হোসেন আলী, চঞ্চল এবং যুবদল নেতা আরমান উল্লাহ ডাবলু প্রমুখ।

মন্তব্য

জাতীয়
Who are the members of ACC search committee

দুদকের সার্চ কমিটিতে সদস্য হলেন যারা

দুদকের সার্চ কমিটিতে সদস্য হলেন যারা ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছে সরকার।

সোমবার (২২ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সার্চ কমিটি গঠনের তথ্য জানায়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ। সার্চ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচাপতি মো. রেজাউল হক।

সার্চ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল। এছাড়া আইন অনুযায়ী পদাধিকারবলে বাংলাদেশ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী, বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোবাশ্বের মোনেম এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সচিব ড. নাসিমুল গনি।

মন্তব্য

জাতীয়
The country is at risk of flooding
মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টিপাত

বন্যার ঝুঁকিতে দেশ

বন্যার ঝুঁকিতে দেশ ছবি: সংগৃহীত
*ছয় জেলায় নিম্নাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস * ঢলে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা * কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত * টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

ভারতের মেঘালয় রাজ্যে টানা ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। রাজ্যের মাওসিনারাম গ্রামে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৫৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভার পড়ছে বাংলাদেশের নদ-নদীতে। রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা নদী ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সিলেটে এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। তবে পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। জামালপুরে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান নদী সুরমাসহ নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেঘালয়ের উজানে এ ধরনের অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট-ময়মনসিংহ বিভাগ) ও সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়িয়ে বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মাওসিনরামে এক রাতেই যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা সাধারণত ভারতের রাজস্থান রাজ্যের শুষ্ক অঞ্চলগুলোর ছয় মাসেরও বেশি সময়ের বৃষ্টিপাতের সমান।

মেঘালয়ের অন্যান্য এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আরকেএম সোহরা এলাকায় ৪৭০ মিলিমিটার ও মাওকিরওয়াট এলাকায় ৩৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ছাড়া শেল্লা এলাকায় ১০০ মিলিমিটার, উইলিয়ামনগর ও মাওরিংকনেং এলাকায় ৯০ মিলিমিটার করে, জোয়াই এলাকায় ৮০ মিলিমিটার এবং বারা পানি ও রাতাচেরা এলাকায় ৭০ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

টানা ভারি বর্ষণের কারণে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। শিলং থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন ডাউকি পর্যন্ত সংযোগকারী জাতীয় মহাসড়কের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিলং শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত লাইটলিংকট শহরের নিচের অংশে প্রবল বৃষ্টির পানির তোড়ে সড়কের একটি অংশ ভেসে গেছে।

যদিও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে সড়কটির ক্ষতির কারণে ডাউকির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে ওই রুটে যানবাহন চলাচলেও প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কারণ রাজ্যের একাধিক অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা পানি বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের নদ-নদী ও হাওরাঞ্চলে প্রবাহিত হয়। ফলে মাওসিনরামসহ উজানের এলাকাগুলোতে এ ধরনের অস্বাভাবিক ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

তারা বলছেন, বর্তমানে বন্যার কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি না হলেও মেঘালয়ে স্বল্প সময়ে কয়েকশ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে যদি আগামী দিনগুলোতেও একই ধরনের ভারি বর্ষণ চলতে থাকে, তাহলে নিম্নাঞ্চল ও হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যা বা জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সেই কারণে মেঘালয়ের আবহাওয়া পরিস্থিতির পাশাপাশি বাংলাদেশের উজাননির্ভর নদীগুলোর পানির প্রবাহও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ছয় জেলায় নিম্নাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস: দেশের উত্তরাঞ্চল এবং উজানে ১০ দিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল রোববার বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বিশেষ বুলেটিনে ২ জুলাই পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি এবং বন্যার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা নদী ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী তীরবর্তী কোনো কোনো নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

বুলেটিনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের নদীগুলোর পানিও আগামী সাত দিনে সামগ্রিকভাবে বাড়তে পারে। সেইসঙ্গে বাড়তে পারে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল; তবে তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, ২১ থেকে ২৮ জুন অথবা সন্নিহিত সময়ে বাংলাদেশের ভেতরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্যে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

এসব স্থানে গত সাত দিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ১০ দিনে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারি বৃষ্টি বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটারে পৌঁছাতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি সমতল বেড়েছে, যা আগামী সাত দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে নদীগুলো সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় প্রবাহিত হতে পারে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে।

একই সময়ে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি সমতল বেড়েছে, যা আগামী সাত দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ সময়ে নদীগুলো নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি সমতল বেড়েছে; যা অব্যাহত থাকতে পারে আগামী সাত দিন।

এ সময়ে ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি : পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন বেড়েছে। বর্তমানে জেলার প্রায় ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, আগামী পাঁচ দিন জেলার নদ-নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা : গত কয়েকদিন থেকে সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান নদী সুরমাসহ সব নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে ইতোমধ্যে পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার তাহিরপুরের আনোয়ারপুর সড়ক। এতে সুনামগঞ্জ জেলার সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সরাসরি সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী- সুনামগঞ্জ, সিলেট ও ভারতের মেঘালয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ইতোমধ্যে সুরমা, বৌলাই, রক্তিসহ বিভিন্ন নদীর পানি বেড়েছে। আগামী দুদিনে ভারি বৃষ্টিপাত হলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। কোথাও কোথাও বিপৎসীমা স্পর্শ করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন হাওলাদার বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বাড়ছে। তবে বৃষ্টিপাত হলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা : টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কয়েকটি নদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ কারণে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলেও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গতকাল পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার কোনো নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে সুরমা, কুশিয়ারা, গোয়াইন ও পিয়াইন নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানির সমতল বাড়ছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, কানাইঘাট এলাকায় ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা জেলার পর্যবেক্ষণাধীন পয়েন্টগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। সিলেট শহর এলাকায় একই সময়ে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২ মিলিমিটার।

সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং স্থানীয় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে পানির সমতল আরো বাড়তে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে সিলেট অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে।

তিস্তায় পানির সঙ্গে বাড়ছে, রংপুর অঞ্চলে বন্যার আভাস:

দেশের অভ্যন্তরে ভারি থেকে অতি ভারি ও উজানে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতের দরুণ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় তিস্তার পানি বিপৎসীমা উপচে যেতে পারে।

রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও নদীতীরবর্তী ভাঙন পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম ও ঘাঘট নদীতে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি না থাকলেও তিস্তা পাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষায় নির্মাণ করা দ্বৈত সারির বাঁশের স্পারের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে সড়ক ভেঙে বিচ্ছিন্ন গ্রাম : শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে একটি পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বাতকুচি গ্রামটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামবাসী।

জামালপুরে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত: বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের পলাশতলা বাক্কার মোড় এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে একটি বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে এলাকার কৃষকরা আউশ ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পাহাড় থেকে নেমে একটি বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে দ্রুতগতিতে পানি প্রবেশ করছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি জলাবদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

মন্তব্য

জাতীয়
The Prime Minister is on his way to China after his visit to Malaysia

মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী

প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষে চীনের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া ত্যাগ করছেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পর্যায়ের ১০ জনসহ মোট ২৩ জন সদস্য ছিলেন। সফরকালে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মালয়েশিয়ার নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধি দল সরাসরি চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।

মন্তব্য

p
উপরে