কোভিড-১৯ আক্রান্ত যাত্রী এনে এক লাখ টাকা জরিমানা গুনল মালয়েশিয়ার বেসরকারি এয়ারলাইন্স এয়ার এশিয়া।
রোববার একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যাত্রীকে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে এলে এয়ার এশিয়াকে জরিমানা করে বিমানবন্দরের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক একেএম তৌহিদ উল আহসান নিউজবাংলাকে জানান, আক্রান্ত যাত্রীকে উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিমানবন্দরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জামিল জানান, আক্রান্ত যাত্রী করোনার যে সনদ নিয়ে এসেছেন সেখানেই লেখা রয়েছে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। নিয়ম অনুযায়ী তিনি ফ্লাইটে উঠতে পারেন না। তারপরও এয়ার এশিয়া তাকে ঢাকায় নিয়ে এসেছে। এটা তাদের বিরাট অবহেলা। এ কারণেই তাদের জরিমানা করা হয়েছে।
করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া যাত্রী এনে এর আগে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও মালদ্বীপের মালদিভিয়ান এয়ারকে জরিমানা গুনতে হয়েছে।
এরও আগে করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া যাত্রী পরিবহন করায় নয় এয়ারলাইন্সকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও রয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সালাম এয়ার, কুয়েত এয়ারওয়েজ, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, এয়ার এশিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া, গালফ এয়ার ও টার্কিশ এয়ারলাইন্স।
শীতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় সরকার স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিচ্ছে। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে তা মানা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে ডিসেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে করোনা নেগেটিভ সনদ থাকা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে সার্কুলার জারি করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে ৫ ডিসেম্বর থেকে।
সার্কুলারে বলা হয়, বাংলাদেশে আসতে ফ্লাইট ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষায় তাদের করোনাভাইরাস নেগেটিভ এলে তবেই তারা বাংলাদেশে আসার অনুমতি পাবেন। বিমানবন্দরে যাত্রীদের সেই নেগেটিভ সনদ দেখাতে হবে। কোনো যাত্রীর মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা গেলে নেগেটিভ সনদ থাকলেও বাধ্যতামূলকভাবে সরকার নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে বলেও সার্কুলারে বলা হয়।
ছবি; সংগৃহীত
স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে; কিন্তু প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বগুড়া-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিন সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের যে আমরা প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর; কিন্তু সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না—না ভারত পারবে, না বাংলাদেশ পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আমি একটু সময় নেব। সেটা হলো যে আমরা সবাই চাই ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সম্মানজনকভাবে আমাদের বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে ভারত আমাদের প্রতিবেশী। আমরাও দুই বন্ধুতে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী যেন না হয়।’
বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রসঙ্গে বিএনপির এমপি বলেন, ‘আমরা দেখলাম যে দেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার আসলেন। তিনি এসে বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব নিয়ে তিনি কাব্যিক ভাষায় কথা বলেছেন।’ ত্রিবেদী বললেন, ‘আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে আছি। আমাদের বন্ধুত্ব প্রয়োজন। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? আমরা দেখলাম বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়াতে বিতর্কের ঝড়। ভারতবিরোধী বিভিন্নভাবে আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে বা ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে দেখলাম। কিন্তু কেন? এই কেন প্রশ্নটা জানতে।’
ভারতের পুশইন প্রসঙ্গে জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমরা জানতে চাই যে আজকে পুশইন—ভারতের ভাষায় পুশব্যাক হচ্ছে। এটা বন্ধ হতে হবে। আমরা বলতে চাই—আসুন, মানুষের হৃদয় জয় করুন। মানুষের হৃদয়ের সাথে ভারতের, ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের মানুষের সাথে হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করি। আমরা চাই ভারত-বিরোধিতা অথবা বাংলাদেশ-বিরোধিতা এগুলো না হোক। আমরা কী চাই? আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতে চাই। সেই ক্ষেত্রে আমার সবিনয় অনুরোধ ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি যে আপনারা দয়া করে ‘পুশইন’ বন্ধ করুন। পুশইন বন্ধ করুন। একই সাথে পুশইনের চাইতেও আরেকটি বড় মারাত্মক ব্যাধি আমাদের—মাদকে আমাদের ছেয়ে ফেলেছে। এই সর্বগ্রাসী মাদক আমাদের যুবক সম্প্রদায়, ছাত্র সম্প্রদায়, সমস্ত শ্রেণিকে নষ্ট করে ফেলছে।’
ছবি; সংগৃহীত
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের চিকিৎসাসেবায় আর্থিক অনুদান দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। সোমবার সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি হাসপাতালে শিল্পীর খোঁজখবর নেন এবং তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেন।
গত ১৪ জুন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মুস্তাফা মনোয়ারকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় গুণী এই শিল্পীর শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান এবং তার চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এ সময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ারের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার একটি চেক তার পরিবারের হাতে তুলে দেন নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের শিল্প-সংস্কৃতির ধারক ও বাহকদের যেকোনো সংকটে পাশে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর। বরেণ্য এই শিল্পীর দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।’
দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন মুস্তাফা মনোয়ার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৪ জুন মুস্তাফা মনোয়ারকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আইসিইউতে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। মুস্তাফা মনোয়ার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার।
মুস্তাফা মনোয়ার দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে এক অনন্য নাম। আর্ট কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। টেলিভিশনে শিশু-কিশোরদের জন্য অসংখ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশে পাপেট শোয়ের পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে। সংস্কৃতি অঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৪ সালে একুশে পদক এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন মুস্তাফা মনোয়ার।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ে অনুষ্ঠানের নামে সমাজে বিত্ত-বৈভবের অশ্লীল প্রদর্শনী বন্ধ করতে এবং অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইনটি কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন।
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই দাবি জানান। সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক ধরনের অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যেখানে মূল বিয়ের সাত দিন, আট দিন কিংবা এক মাস আগে থেকে পেশাদার কোরিওগ্রাফার এনে নাচের মহড়া দিয়ে গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুশাসনের সাথে সাংঘর্ষিক।
এই ধরনের অপচয় রোধে বিয়ের অতিরিক্ত খরচ বন্ধ করার জন্য অতীতের অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইনটি পুনরায় পুরোপুরি কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
নিজের অর্থনৈতিক যুক্তির সপক্ষে তিনি স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, সমাজে যদি এই অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইনটি সঠিকভাবে কার্যকর করা যায় এবং সাধারণ মানুষ যদি বিয়ে-শাদীর ক্ষেত্রে ধর্মীয় সঠিক অনুশাসন মেনে চলে, তবে দেশের সার্বিক মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ অনেকটাই কমে আসবে। এমনকি বিলাসী বিয়ের কারণে বাজারে যে কৃত্রিম চাপ তৈরি হয়, তা বন্ধ হলে একদিনের ব্যবধানে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম অন্তত ১০ শতাংশ কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মিতব্যয়িতার প্রশংসা করে সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যের শেষে উল্লেখ করেন, দেশের সরকারপ্রধান নিজে অত্যন্ত মিতব্যয়ী এবং কোনো ধরনের অপচয় একদমই পছন্দ করেন না; তাই তাঁর এই আদর্শকে ধারণ করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের উচিত বিয়েসহ সব সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত খরচের মানসিকতা পরিহার করা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় তিনি সেখানে পৌঁছান।
এর আগে মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাত্রা শুরু করেছেন। দালিয়ানে দুইদিন কর্মব্যস্ত থাকবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিং যাবেন। সেখানে চীনে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের মূল কর্মসূচি শুরু হবে।
দালিয়ানে বিশ্ব আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সের এক্সক্লুসিভ ভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান। এই সময়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার মনজুরুল করিম ও ডেপুটি হাই কমিশনার শাহানারা মলিকা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের 'বিদ্রোহী হলের' একটি কক্ষে গাঁজা সেবনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (২১ জুন) রাতে হলের ৬১৫ নম্বর কক্ষে এই মারামারির ঘটনা ঘটে, যাতে সিনিয়র ও জুনিয়র উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীই গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, হলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে একসাথে থাকতেন আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী হান্নান এবং দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের নবীন শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধ। মুগ্ধের বিরুদ্ধে রুমে বসে মাদক সেবনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে হল প্রশাসনকে অবহিত করেন হান্নান।
অভিযোগ পেয়ে বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে কক্ষটি পরিদর্শন করলেও প্রাথমিক তল্লাশিতে কোনো ধরনের মাদকের আলামত পাননি। তবে প্রভোস্ট চলে যাওয়ার পর হান্নান কক্ষে ফিরে টেবিলের অ্যাশট্রেতে গাঁজার অংশবিশেষ দেখতে পান বলে দাবি করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে হান্নান জুনিয়র শিক্ষার্থী মুগ্ধকে চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই ঘটনার জের ধরে রাতে হান্নান যখন ৬১৫ নম্বর কক্ষে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন, তখন মুগ্ধসহ বেশ কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে হান্নানের ওপর পালটা হামলা চালান।
আহত হান্নান অভিযোগ করেন, রাতে হঠাৎ করেই ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করায় তিনি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এই সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিদ্রোহী হলের হাউজ টিউটর ও দর্শন বিভাগের প্রভাষক খাইরুল ইসলাম নিজেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা গাঁজা সেবনের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জুনিয়র শিক্ষার্থী মুগ্ধ বলেন, প্রভোস্ট স্যারের উপস্থিতিতে রুম তল্লাশি করে যেহেতু কোনো আলামত পাওয়া যায়নি, তাই তিনি কক্ষ থেকে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রুমমেটের ডাকে কক্ষে ফিরে এলে দেখতে পান তাঁর অনুপস্থিতিতেই অ্যাশট্রেতে গাঁজা রেখে সাজানো ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।
মুগ্ধ আরও অভিযোগ করেন, হান্নান ভাই সে সময় তাঁর বুকে লাথি মারেন এবং গালে চড়সহ ইচ্ছেমতো মারধর করেন। এই অন্যায়ের বিষয়টি তিনি তাঁর বন্ধুদের জানালে তাঁরা হাউজ টিউটরকে সাথে নিয়ে কথা বলতে যান। কিন্তু সেখানে হান্নান আবারও উচ্চস্বরে কথা বলে মারধর শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র হাতাহাতি ও সংঘর্ষের রূপ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, হলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) বিশাল পরিমাণ আয়-ব্যয়ের ব্যবধান বা লোকসানের চিত্র জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নওগাঁ–৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত বিগত ১১ মাসে করসহ বিটিভি মোট ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আয় করেছে। তবে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ও সামগ্রিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরে বিটিভির মোট আয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ ৫ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ টাকা এসেছে বিজ্ঞাপন খাত থেকে।
সংসদে বিটিভির বিগত কয়েকটি অর্থবছরের আয়ের তুলনায় বিপুল ব্যয়ের খতিয়ানও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং ব্যয় হয়েছিল ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
২০২১-২২ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করলেও এর বিপরীতে ব্যয় হয় ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা।
এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ কিছুটা কমে ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা হলেও ব্যয় একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকায়।
পরবর্তী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয়েছিল ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
আর সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিটিভি মোট ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আয় করতে সক্ষম হলেও একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পেছনে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের অর্থনীতি নিয়ে সতর্ক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতি নানামুখী চাপে থাকায় আগামী দুই বছর সময় কঠিন যাবে, আমি আগেভাগে বলছি। দুইটা বছর কষ্ট করতে হবে সবাই মিলে। আর জনগণের লাইফ যেটা (স্বাভাবিক রাখার) ওটা আমরা করব নীতির ভিত্তিতে। সহায়তার ভিত্তিতে। যতটুকু সীমিত আমাদের সম্পদ ওটা দিয়েই আমরা করব। ওইটা বলছি না। কিন্তু এটা (অর্থনীতি) ঘুরে দাঁড়াতে, এই যে ভঙ্গুর থেকে স্থিতিশীলতা, সেটার জন্য দুবছর লাগবে।
সোমবার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি যদি বলি কালকে সকালে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, এই কমিটমেন্টটা আমি দিতে চাইব না। এটার জন্য দুবছর সময় প্রয়োজন। এ ভঙ্গুর অর্থনীতি, খারাপ অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল করতে দুই বছর লাগবে। তৃতীয় বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে ইনশাল্লাহ। ঘুরে দাঁড়াবে। এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে অর্থনীতি হবে ‘প্রসপারিটি অব বাংলাদেশ’।
চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে ‘প্রসপারিটি ফর বাংলাদেশ’। চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হচ্ছে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ- আমরা দেখব।
পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতেও দুবছর প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেট, এগেইন আমি তো বলছি দুই বছরের কুশন দরকার। আপনি দেখবেন ইনশাল্লাহ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ঘুরে দাঁড়াবে। আমাদের বিশাল একটা অপরচুনিটি ক্রিয়েট হবে ক্যাপিটাল মার্কেটে, বিশাল অপরচুনিটি। সবার জন্য।
কীভাবে হবে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এইজন্য আমরা ক্যাপিটাল মার্কেটের প্রথম আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আস্থাটা ফিরিয়ে আনা। এইজন্য আমরা একটা কমিশন করেছি যারা একদম ইন্ডিপেন্ডেন্ট, নন পলিটিক্যাল এবং পুরোপুরি পেশারদার লোক। সুতরাং এরা সব আইনগুলো চেঞ্জ করছে যাতে আমাদের ইনভেস্টররা সিকিউর থাকে। যারা তালিকাভুক্ত হবে কোম্পানিগুলো তারা যাতে আস্থা পায় যে এই ক্যাপিটাল মার্কেটে তার শেয়ারটা প্রোপারলি লেনদেন হবে। এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল যারা ইনভেস্টর আছে তাদের যাতে বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেটের ওপর আস্থা থাকে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ডিরেগুলেশন ইজ এ বিগ মুভ। আমি জানি এটা খুব কঠিন। অনেক বাধাগ্রস্ত আমি হয়ে গেছি অলরেডি। ইতোমধ্যে করার (ঘোষণা) সময়ই বাধাগ্রস্ত হয়েছি। এটা এক্সিকিউশন করতে গেলে আরও বাধাগ্রস্ত হব আমি জানি কিন্তু যত কঠিন ডিসিশন নিতে হয় আমি নিতে প্রস্তুত আছি।
তিনি বলেন, এই ডিরেগুলেশনের পথে যদি কেউ বাধাগ্রস্ত হয়, তাদের আমরা বেরিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেব। ওই যে দরজা আছে পেছনে ওদিক দিয়ে বেরিয়ে যান। কোন দরকার নাই (তাদের)। দেশ হিসেবে আমরা অনেক ‘সাফার’ করেছি। বাংলাদেশের মানুষের এখন চায় একটা সত্যিকার মুক্ত জীবনযাপন করতে। সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে যেসব বাধার শিকার হতে আমলাতান্ত্রিক কারণে সেসবের অনেককিছু কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয় সরকারের তরফে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যদি সঞ্চয় না বাড়ে, সম্পদ তৈরি না হয়, তাইলে অর্থনীতির সুদিন ফিরবে না। কারণ তারা (সীমিত আয়ের মানুষ) তো ভোক্তাও বটে। তো সেই কনটেক্সটে আমার কাছে এইবারের যে আয়করের হারের কাঠামো যেটা সরকার দিয়েছে, তা কিছুটা ‘রিগ্রেসিভ’ মনে হয়েছে। কারণ এর আগে ৫ শতাংশ হার একটা ছিল। আমরা যারা ঢাকায় থাকি অনেকের সীমিত আয় আছে। শহরের অন্যান্য প্রান্তেও অনেকে থাকে। আমার কাছে মনে হয় শতাংশ হার এটি রাখা উচিত ছিল সরকারের।
মন্তব্য