কওমি সনদের স্বীকৃতি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি নিয়ে এখন কেন ভাস্কর্য ইস্যুতে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একজন আলেম।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘হক্কানী আলেম সমাজ’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্ন তোলা হয়।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলাম হুমকি দিয়েছিল এটি নির্মাণ হলে টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেবে তারা। তবে সরকার সমর্থকরা মাঠে নামার পর সুর নরম হয়েছে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সংগঠনটির।
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে উদ্দেশ করে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর কাশিমপুর মাদ্রাসার সিনিয়র প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুল হাকিম চৌধুরী।
মামুনুল হুমকি দিয়েছিলেন, ধোলাইপাড়ে ভাস্কর্য বসালে আরেকটি শাপলা চত্বর তৈরি করবেন তিনি। যদিও ছাত্র ও যুবলীগের প্রতিরোধের কারণে চট্টগ্রামে একটি মাহফিলে যোগ দিতে না পেরে পরে তিনি বলেছেন, সরকারের সঙ্গে ‘যুদ্ধে’ যাবেন না তিনি।
মাওলানা হাকিম বলেন, ‘আমি মামুনুল হককে বলছি, আপনার বাবা তো অনেক বিখ্যাত ছিলেন। আমরা তাকে সঙ্গে নিয়ে এই কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন করেছি। অনশন করেছি। কিন্তু তখন তো কেউ আমাদের অনশন ভাঙতে আসেনি। কিন্তু শেখ হাসিনার কাছে তো কোনো আন্দোলন করা লাগেনি। তিনি এমনি থেকেই দিয়ে দিয়েছেন। তিনি মূল্যায়ন দিলেন। এই জন্য তাকে আমরা কওমি জননী বলি।
‘জননীর সঙ্গে সন্তানের হবে মধুর সম্পর্ক। আর একজন সন্তান তো তার জননীর বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। আজ আপনারা যে ভাবে কথা বলছেন সেটা কি ঠিক? আপনি কেন এই ভাস্কর্য ইস্যুতে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছেন?’
‘হেফাজতকে কেউ ইসলামের দায়িত্ব নিতে বলেনি’
ভাস্কর্য নিয়ে দেশে চলমান অস্থিরতার জন্য হেফাজত ইসলামকে দায়ী করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এতে বলা হয় ভাস্কর্য নিয়ে হেফাজতের বক্তব্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। তারা অস্থিরতা তৈরি করতে চায়।
মাওলানা হাকিম বলেন, ‘আমি বলব না ভাস্কর্য জায়েজ। তবে আপনি যদি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে থাকেন তবে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পাবেন। হেফাজত ইসলাম ভাস্কর্য নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে তা কখনই কাম্য না। তাদের হাতে তো ইসলামের দায়িত্ব দেয়া যাবে না।
‘আপনাদের বাড়িতে মা-বাবার ছবি থাকে, খেলার পুতুল থাকে সেটাও কিন্তু ভাস্কর্য।…কিছু কিছু জিনিস আমাদের সংস্কৃতির অংশ। তার সঙ্গে ধর্মকে মেলানো ঠিক না। কিন্তু হেফাজত ইসলাম যা করছে তা সঠিক নয়। তাদের কেউ তো ইসলামের দায়িত্ব নিতে বলেনি, রক্ষা করতে বলেনি।’
ধর্মের পাশাপাশি প্রত্যেক জাতির একটা নিজস্ব সংস্কৃতি থাকে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘ভাস্কর্য মানুষের পুরনো শিল্পচর্চার মাধ্যম। ভাস্কর্যকে মূর্তি হিসেবে আখ্যা দেয়া সঠিক নয়। মূর্তি উপাসনার জন্য আর ভাস্কর্য শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাসের অংশ।’
মাওলানা হাকিম বলেন, ‘ইসলামের জায়গা থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) উদার সাম্প্রদায়িক নীতিতে আমরা ধর্ম পালন করব। ধর্ম নিয়ে আমরা জাতিসত্তাকে বাধাগ্রস্ত করব না। ধর্ম দিয়ে আমরা ফেতনা ফ্যাসাদ তৈরি করব না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের আলেম সমাজ। আমরা চাই না সমাজে কোনো বিশৃঙ্খলা হোক। ইসলাম কোনো বিশৃঙ্খলা সমর্থন করে না।’
‘আল্লামা শফীকে কবরে পৌঁছে দেয়া হয়েছে’
হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত আমির শাহ আহমেদ শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না বলেও অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
মাওলানা হাকিম বলেন, ‘তাকে আজাব দিয়ে কবরে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তাই আপনাদের হাতে তো আমরা ইসলামকে ছেড়ে দিতে পারি না। আমরা সতর্ক করে দিতে চাই যে গুটিকয়েক আলেম যারা কিছু মাদ্রাসার ছাত্র নিয়ে দেশে অস্থিরতা করতে চাইছেন আপনাদের কখনই ভালো হবে না।’
‘ভাস্কর্য তো জিয়ারও আছে’
আপত্তি কেবল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কেন- এই প্রশ্ন তুলেছেন মুফতি সোলায়মান বিন কাশেমী।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বহু আগে থেকেই ভাস্কর্য আছে। জিয়ারও ভাস্কর্য আছে। কিন্তু কেউ তো কখনো ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার কথা বলেনি। হঠাৎ করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা বা বিরোধিতা করে কেউ কেউ সমাজে ফেতনা ফ্যাসাদ তৈরি করতে চাচ্ছে।’
ভাস্কর্যবিরোধীদের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে এমন কথা বলে তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের বিধর্মী ও কাফের বলেছিল।’
তিনি বলেন, ‘এক সময় মানুষের চাঁদে যাওয়া বিশ্বাস করতে ও টেলিভিশন দেখতে কেউ কেউ বাধা দিয়েছিল। ইংরেজি শিক্ষাকেও হারাম বলেছিল। এমনকি পবিত্র হজে যাওয়ার জন্য ছবি তোলাকেও হারাম বলেছিল, যা পরে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়।’
ওলামা লীগের মহাসচিব মুফতি মাসুম বিল্লাহ, মাওলানা লোকমান সাইফী প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার শীর্ষ পাঁচটি কোম্পানির নির্বাহী প্রধানদের সাথে বৈঠক করেছেন।’
সোমবার কুয়ালালামপুরে শাংগ্রি লা হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রসারের লক্ষ্যে আমাদের ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সই হচ্ছে। এই প্রসিজিউরের ভেতরে আমরা ইকোনমিক লিবারালাইজেশন ও ডি-রেগুলেশনের দিকে যাচ্ছি। এর মূল উদ্দেশ্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আসা। মালয়েশিয়া সেই দিক থেকে বড় লক্ষ্যের জায়গা।’
তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া সফরকালে প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশটির পাঁচটির কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা বিনিয়োগের বিষয়ে কথা বলেছেন। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। যেহেতু বাংলাদেশে একটি বিশাল মার্কেট-বেজড অর্থনীতি রয়েছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এখানে বড় ধরনের ভোক্তা চাহিদা (কনজিউমার ডিমান্ড) বিদ্যমান, যা মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীরা পূরণ করতে সক্ষম হবেন।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের এক অবারিত সুযোগ রয়েছে। একদিকে যেমন আমাদের বাজারের চাহিদা অনেক বেশি, অন্যদিকে তেমনি দক্ষ কর্মী দিয়ে তা সচল রাখার পূর্ণ সক্ষমতাও রয়েছে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা নিশ্চিত করছি যে মালয়েশিয়া যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, তাহলে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। একই সাথে, নিয়মকানুন সহজীকরণের (ডি-রেগুলেশন) মাধ্যমে আমরা একটি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করব।’
মালয়েশিয়ার পাঁচটি বৃহৎ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘এ সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশের কর্মসংস্থানকে আরও বেগবান করা।’
প্রধানমন্ত্রী যেসব কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সেগুলো হলো- পেট্রোনাস গ্রুপ, আজিয়াটা, এয়ার এশিয়া, পেরোডুয়া ও এমএমসি ফোর্স। মাহদী আমিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের ব্যাপকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই সফরের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্বের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার যে ভিন্নমাত্রিক ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলোকপাত করেছেন। পারস্পরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও কীভাবে শক্তিশালী ও জোরদার করা যায়, সেটিকে নিয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সুবিস্তৃত আলোচনা করেছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসালম রনি ও ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট নিক্ষেপে গুরুতর আহত আরোহী সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রাফি মারা গেছেন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপ নেবে। মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এর আগে ৯ জুন দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের ১০০ গজ পূর্ব পাশে ইব্রাহিমপুর পাকা রাস্তা দিয়ে বাসায় ফেরার সময় পূর্বশত্রুতার জেরে পরিচিতদের ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন রাফি। এ ঘটনায় রাফির চাচা নুর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা হলেন মো. পারভেজ (৩০), আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২) ও মো. ফয়সাল ওরফে কালু (২৭)।
মুচলেকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, সজীবের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ থাকায় তাকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আজ সকালে তার আত্মীয়ের জিম্মায় মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত রোববার দুপুরে রাজধানী ঢাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় সজীবকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে বিকাল ৫টার দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ ছিল বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এমপিপুত্র খাইরুল ইসলাম সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। আটকের পর প্রাথমিক সদস্যপদসহ তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
গত রোববার রাতে যুবদলের প্যাডে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ছবি; সংগৃহীত
স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে; কিন্তু প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বগুড়া-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিন সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের যে আমরা প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর; কিন্তু সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না—না ভারত পারবে, না বাংলাদেশ পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আমি একটু সময় নেব। সেটা হলো যে আমরা সবাই চাই ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সম্মানজনকভাবে আমাদের বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে ভারত আমাদের প্রতিবেশী। আমরাও দুই বন্ধুতে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী যেন না হয়।’
বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রসঙ্গে বিএনপির এমপি বলেন, ‘আমরা দেখলাম যে দেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার আসলেন। তিনি এসে বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব নিয়ে তিনি কাব্যিক ভাষায় কথা বলেছেন।’ ত্রিবেদী বললেন, ‘আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে আছি। আমাদের বন্ধুত্ব প্রয়োজন। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? আমরা দেখলাম বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়াতে বিতর্কের ঝড়। ভারতবিরোধী বিভিন্নভাবে আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে বা ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে দেখলাম। কিন্তু কেন? এই কেন প্রশ্নটা জানতে।’
ভারতের পুশইন প্রসঙ্গে জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমরা জানতে চাই যে আজকে পুশইন—ভারতের ভাষায় পুশব্যাক হচ্ছে। এটা বন্ধ হতে হবে। আমরা বলতে চাই—আসুন, মানুষের হৃদয় জয় করুন। মানুষের হৃদয়ের সাথে ভারতের, ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের মানুষের সাথে হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করি। আমরা চাই ভারত-বিরোধিতা অথবা বাংলাদেশ-বিরোধিতা এগুলো না হোক। আমরা কী চাই? আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতে চাই। সেই ক্ষেত্রে আমার সবিনয় অনুরোধ ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি যে আপনারা দয়া করে ‘পুশইন’ বন্ধ করুন। পুশইন বন্ধ করুন। একই সাথে পুশইনের চাইতেও আরেকটি বড় মারাত্মক ব্যাধি আমাদের—মাদকে আমাদের ছেয়ে ফেলেছে। এই সর্বগ্রাসী মাদক আমাদের যুবক সম্প্রদায়, ছাত্র সম্প্রদায়, সমস্ত শ্রেণিকে নষ্ট করে ফেলছে।’
ছবি; সংগৃহীত
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের চিকিৎসাসেবায় আর্থিক অনুদান দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। সোমবার সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি হাসপাতালে শিল্পীর খোঁজখবর নেন এবং তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেন।
গত ১৪ জুন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মুস্তাফা মনোয়ারকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় গুণী এই শিল্পীর শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান এবং তার চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এ সময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ারের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার একটি চেক তার পরিবারের হাতে তুলে দেন নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের শিল্প-সংস্কৃতির ধারক ও বাহকদের যেকোনো সংকটে পাশে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর। বরেণ্য এই শিল্পীর দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।’
দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন মুস্তাফা মনোয়ার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৪ জুন মুস্তাফা মনোয়ারকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আইসিইউতে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। মুস্তাফা মনোয়ার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার।
মুস্তাফা মনোয়ার দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে এক অনন্য নাম। আর্ট কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। টেলিভিশনে শিশু-কিশোরদের জন্য অসংখ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশে পাপেট শোয়ের পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে। সংস্কৃতি অঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৪ সালে একুশে পদক এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন মুস্তাফা মনোয়ার।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ে অনুষ্ঠানের নামে সমাজে বিত্ত-বৈভবের অশ্লীল প্রদর্শনী বন্ধ করতে এবং অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইনটি কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন।
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই দাবি জানান। সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক ধরনের অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যেখানে মূল বিয়ের সাত দিন, আট দিন কিংবা এক মাস আগে থেকে পেশাদার কোরিওগ্রাফার এনে নাচের মহড়া দিয়ে গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুশাসনের সাথে সাংঘর্ষিক।
এই ধরনের অপচয় রোধে বিয়ের অতিরিক্ত খরচ বন্ধ করার জন্য অতীতের অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইনটি পুনরায় পুরোপুরি কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
নিজের অর্থনৈতিক যুক্তির সপক্ষে তিনি স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, সমাজে যদি এই অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইনটি সঠিকভাবে কার্যকর করা যায় এবং সাধারণ মানুষ যদি বিয়ে-শাদীর ক্ষেত্রে ধর্মীয় সঠিক অনুশাসন মেনে চলে, তবে দেশের সার্বিক মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ অনেকটাই কমে আসবে। এমনকি বিলাসী বিয়ের কারণে বাজারে যে কৃত্রিম চাপ তৈরি হয়, তা বন্ধ হলে একদিনের ব্যবধানে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম অন্তত ১০ শতাংশ কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মিতব্যয়িতার প্রশংসা করে সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যের শেষে উল্লেখ করেন, দেশের সরকারপ্রধান নিজে অত্যন্ত মিতব্যয়ী এবং কোনো ধরনের অপচয় একদমই পছন্দ করেন না; তাই তাঁর এই আদর্শকে ধারণ করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের উচিত বিয়েসহ সব সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত খরচের মানসিকতা পরিহার করা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় তিনি সেখানে পৌঁছান।
এর আগে মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাত্রা শুরু করেছেন। দালিয়ানে দুইদিন কর্মব্যস্ত থাকবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিং যাবেন। সেখানে চীনে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের মূল কর্মসূচি শুরু হবে।
দালিয়ানে বিশ্ব আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সের এক্সক্লুসিভ ভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান। এই সময়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার মনজুরুল করিম ও ডেপুটি হাই কমিশনার শাহানারা মলিকা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য