× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
ভাস্কর্য নিয়ে এবার প্রশাসনের কঠোর বার্তা
google_news print-icon

ভাস্কর্য নিয়ে এবার প্রশাসনের কঠোর বার্তা

ভাস্কর্য-নিয়ে-এবার-প্রশাসনের-কঠোর-বার্তা
বঙ্গবন্ধুর সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার প্রত্যয়ে ফরিদপুরে প্রশাসন, পুলিশসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মিছিল। ছবি: নিউজবাংলা
সারা দেশেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ও বিচারিক কর্মকর্তারা নানা সভা সমাবেশে ভাস্কর্যবিরোধীদেরকে সতর্ক করেছেন। তারা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী জাতির পিতার সম্মান রক্ষা করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব। আর সেটা তারা পালন করবেন।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে দেশের ৬৪ জেলার পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনেও হয়েছে প্রতিবাদ। এসব আয়োজন থেকে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবমাননা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না।

বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের এই ধরনের কোনো আয়োজন সাম্প্রতিককালে দেখা যায়নি।

শনিবার এসব আয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধারাও শামিল হন।

এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুকে অবিচ্ছেদ্য উল্লেখ করে তার ভাস্কর্য ভাঙচুরে জড়িত ও ইন্ধনদাতাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

সভায় তুলে ধরা হয়েছে একটি বার্তা, ‘জাতির পিতার সম্মান, রাখব মোরা অম্লান।’

রাজধানীর ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করছে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় একটি ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ক্ষুব্ধ করে তুলেছে গোটা দেশকে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

এসব প্রতিবাদে এবার সামিল হলেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

শপথ পড়ালেন ডিসি

শরীয়তপুরে বঙ্গবন্ধুর সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের শপথ পড়িয়েছেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এই সভায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সম্মান সমুন্নত আছে, থাকবে। কেউ কোনোদিন পারেনি, পারবেও না তাকে অসম্মান করতে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসপি এসএম আশরাফুজ্জামান, সিভিল সার্জন আব্দুল্লাহ আল মুরাদ।

ভাস্কর্য নিয়ে এবার প্রশাসনের কঠোর বার্তা
চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমাবেশ

‘সরকারি চাকুরেরা নামলে অস্তিত্ব থাকবে না’

চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমাবেশে বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাস্তায় নামলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধিতাকারীদের অস্তিত্ব থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘যদি আপনারা আর কখনও এই ধরনের দুঃসাহস দেখান আর কোনো প্রকার সুযোগ যদি আপনারা নেন, তাহলে আপনাদের অস্তিত্বকে বিলীন করে দেব। আমরা সরকারি চাকুরিজীবীরা জানি, কীভাবে সে কাজটি করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর যে আঘাত, এ আঘাত শুধু আঘাত হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এটি গভীর ষড়যন্ত্রের একটি নমুনা।’

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সচেতন থাকতে হবে, চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আমরা শুধু একটি মেসেজ দেয়ার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি। এই যে পরাজিত শত্রু, স্বাধীনতাবিরোধী শত্রু, বাংলাদেশের অস্তিত্ব যারা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের সে দুঃসাহস না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, চট্টগ্রাম বন্দর পর্ষদের সদস্য জাফর আলম, বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাসান শাহরিয়ার কবির, জেলা দায়রা জজ মো. ইমাইল হোসেন, চা বোর্ড কর্মকর্তা নাজনিন কবির, এলজিইডি কর্মকর্তা আশিস কুমার বড়ুয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দায়িত্ব জাতির জনকের সম্মান রাখা’

ফরিদপুরে জসীম উদ্দীন মিলনায়তনে সমাবেশে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, বঙ্গবন্ধুর যেকোনো ধরনের অবমাননা বা সম্মানহানি বাংলাদেশের সম্মানহানিরই নামান্তর, যা কোনো দেশপ্রেমিক নাগরিকের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক কর্মচারীর দায়িত্ব হচ্ছে সংবিধানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আর সেই সংবিধানে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার মর্যাদা সমুন্নত রাখার বিধান করা হয়েছে।

জেলা ও দায়রা জজ সেলিম মিয়া, পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান বিপিএম, সিভিল সার্জন ছিদ্দিকুর রহমান, বিসিএস শিক্ষা সমিতির সভাপতি প্রফেসর মোশাররফ আলী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম রেজা প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

পরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা আনসার কমান্ডার ও ফায়ার ব্রিগেডের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পুলিশ, আনসার ও ফায়ার ব্রিগেডের সুসজ্জিত সদস্যদের এক প্রতিরোধ পদযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

ভাস্কর্য নিয়ে এবার প্রশাসনের কঠোর বার্তা
যশোর শহরের দড়াটানায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে মানববন্ধন

মৌলবাদীদের রুখে দেব

যশোর শহরের দড়াটানায় মানববন্ধনে সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, ‘মৌলবাদীদের এ ধরনের আচরণ সহ্য করা হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এদের রুখতে হবে।’

জেলা পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেনসহ এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু ওপর হামলা মানে জাতিসত্তায় আঘাত

চাঁদপুর শহরের শিল্পকলা একাডেমিতে প্রতিবাদ সভায় জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর হামলা মানে বাঙালি জাতিসত্তার ওপর হামলা। জাতির পিতার কোনো প্রকার অসম্মান সহ্য করব না।’

পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক। বঙ্গবন্ধুর অসম্মান করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

ভাস্কর্য নিয়ে অপরাজনীতি

সুনামগঞ্জে প্রতিবাদ সভায় জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজজামান শিকদার বলেন, ‘আজ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কথা হচ্ছে, অপরাজনীতি করা হচ্ছে। আপনারা সর্তক থাকুন, আমরা অনেক কিছু হারিয়েছি, আর কিছু যেন না হারাই।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসপি মিজানুর রহমান ও সিভিল সার্জন শামস উদ্দিন।

মুখ্য বিচারিক হাকিম আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আপনার, আমার অধিকার আদায়ের জন্য জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছে জেলাখানার চার দেয়ালে। তাহলে সম্মান দেখাতে কেন কার্পণ্য?’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধুর সম্মানহানি মেনে নেয়া যায় না

মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিসি এম মুনছুর আলী খাঁন।

জেলা দায়রা জজ এস এম আবদুস সালাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। অথচ দেশের একটি কুচক্রীমহল বঙ্গবন্ধুর সম্মানহানি করতে চায়। এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ এসএম আব্দুস সালাম, পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলীসহ বিভিন্ন দফতরের সরকারি কর্মকর্তারা।

ভাস্কর্য নিয়ে এবার প্রশাসনের কঠোর বার্তা
রাজবাড়ী জেলা অফিসার্স ক্লাব চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ

এটা লজ্জার

রাজবাড়ী জেলা অফিসার্স ক্লাব চত্বরে শনিবার সকালে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মান রক্ষার্থে সমাবেশ করতে হচ্ছে, এটা সব থেকে লজ্জার বিষয়।’

এটা বাংলাদেশের অবমাননা

মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশে বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন বলেন, ‘সংবিধান বঙ্গবন্ধুকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করা মানে স্বাধীন বাংলাদেশকে অবমাননা করা।’

জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌসের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম, সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দসহ জেলার পাঁচ শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

ভাস্কর্য নিয়ে এবার প্রশাসনের কঠোর বার্তা
মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ

হৃদয়ের বঙ্গবন্ধুকে কে ভাঙবে?’

নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মিলনায়তনে সভায় জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, ‘ভাস্কর্য ভেঙে বাঙালির হৃদয় থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলা যাবে না। কোটি মানুষের হৃদয়ে যে বঙ্গবন্ধু আছে, সেটা ভাঙবে কী করে?’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, সিভিল সার্জন কাজী মিজানুর রহমান।

ভাস্কর্য নিয়ে এবার প্রশাসনের কঠোর বার্তা
বরিশালে প্রতিবাদ মিছিল

এই আঘাত জাতির স্বকীয়তায়

বরিশালে প্রতিবাদ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে তিনটি সংগঠন। দুপুরে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সহকারীদের সংগঠন অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধন এবং নগরীর নাজিরমহল্লার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে দি চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতারা।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, ‘জাতির জনকের ভাস্কর্য ভাঙচুর করা মানে আমাদের স্বকীয়তায় আঘাত হানা।’

মৌলবাদীরা দেশকে পিছিয়ে দিতে চায়

নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের সামনের আবদুল মালেক উকিল প্রধান সড়কে মানববন্ধন করে উপজেলা প্রশাসন। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে হয় সমাবেশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘একটি মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দেশকে পিছিয়ে দিতে ষড়যন্ত্র করছে। বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা, ভাস্কর্যে হামলা ও ভাঙচুর সেই ষড়যন্ত্রের পূর্বপরিকল্পিত নীলনকশা। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে সাবধান করতে সরকারি চাকুরিজীবীদের প্রত্যেক নিজ নিজ অবস্থান থেকে কথা বলতে হবে।’

ভাস্কর্য নিয়ে এবার প্রশাসনের কঠোর বার্তা
নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে মানববন্ধন

‘আর অবমাননা করতে দেয়া হবে না

নেত্রকোনা পৌরভবনের সামনে সমাবেশে জেলা প্রশাসক কাজি আব্দুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এক সুতায় গাঁথা। যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীরা বঙ্গবন্ধুর সম্মান বজায় রাখবে। কোনো অপশক্তিকেই বঙ্গবন্ধুর কোন অবমাননা করতে দেয়া হবে না এই বাংলায়।’

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিউজবাংলার জেলা প্রতিনিধিরা।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
The tax burden in the budget is high Increases in low income people CPD

বাজেটে করের বোঝা বেশি বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের: সিপিডি

বাজেটে করের বোঝা বেশি 
বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের: সিপিডি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি খাতের আয়কর কাঠামোতে বড় বৈষম্য দেখা গেছে। বিশেষ করে নতুন করকাঠামোয় তুলনামূলক কম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি বাড়ছে। এই শ্রেণির করদাতাদের করদায় সাড়ে ১২ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। তবে ৩০ লাখ টাকার বেশি বার্ষিক আয় করা উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে এই করের দায় বৃদ্ধির হার তুলনামূলক অনেক কম। এছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজস্ব ঘাটতি, মূল্যস্ফীতির চাপ, কম বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য বাজেটে নির্ধারিত উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে অর্থনীতির বিদ্যমান সংকটগুলো মোকাবিলা করা জরুরি। রোববার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠানে এমন তথ্য তুলে ধরেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জুনায়েদ সাকি)। সম্মানিত অতিথি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এমএ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।

অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, করদাতাদের আয় বাড়ার অনুপাতে করের বোঝা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৬ থেকে ১৫ লাখ টাকা, নতুন বাজেটে তাদের করের দায় ১২.৫ থেকে ১৬.৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের করের দায় বাড়বে মাত্র ৭.৬ শতাংশ। এটি সামাজিক সমতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, ১৮ মাসে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন নেই বলে মন্তব্য করেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট চার মন্ত্রণালয়ের (শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প ও বাণিজ্য) বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের তুলনায় হয় কমছে কিংবা স্থবির আছে। এ ছাড়া পটুয়াখালী ইপিজেড, জামদানি ভিলেজের মতো কর্মসংস্থানমুখী বড় প্রকল্পগুলো বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে বলে জানান তিনি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া এই বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য কেবলই ‘রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা’ হিসেবে থেকে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটের সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো আশাবাদী হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সরকার বাজেট প্রস্তাবে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণে করা হয়েছে। তবে বিদায়ী অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৬৩ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত ও বিচক্ষণ মুদ্রানীতি ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক।

ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, নতুন সরকারের নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয় হলেও সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো অতি আশাবাদী। এবারের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, বিষয়টি ইতিবাচক। তবে এই বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক নানা ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা কমে গেছে, এমন সময় চ্যালেঞ্জিং বাজেট দিতে হয়েছে। তাই ঋণনির্ভরতা কমিয়ে অর্থের বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার। তিনি বলেন, বাজেট পারফেক্ট হয়েছে বলছি না। যেদিকেই হাত দিই, শুধু বকেয়া। এমন সময় দেড় মাসের মধ্যে বাজেট দিতে হয়েছে। অথচ প্রস্তুতি নিতেই অন্তত ৬ মাস দরকার।

মন্তব্য

জাতীয়
Cyber ​​Sexual Harassment High Court Rules Challenging Sections of Safety Act

সাইবার যৌন হয়রানি: সেফটি আইনের ধারা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টের রুল

সাইবার যৌন হয়রানি: সেফটি আইনের ধারা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টের রুল

সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার (ইমপারসোনেশন) এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের বিধান দেয়া সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

এদিন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল নোমান। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনেরা হক মনি ও অ্যাডভোকেট শাহলা শরাফিননেজাদ। রুলে বিবাদীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা যতদূর পর্যন্ত সাইবার যৌন হয়রানি, নারীর বিরুদ্ধে অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ইমপারসোনেশন এবং নারী হয়রানি-সংক্রান্ত বিচারাধীন ফৌজদারি মামলাগুলো খারিজ, অবলুপ্ত, প্রত্যাহৃত বা বিলুপ্ত করার বিধান দেয়, তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না।

একই সঙ্গে রুলে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালের সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-৪১/২০২৩ সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার ভিত্তিতে খারিজ করার আদেশ কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা কার্যত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর বিলুপ্ত ধারা ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩১-এর অধীনে দায়ের হওয়া বিচারাধীন মামলাগুলো—বিশেষ করে সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলো—স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের নির্দেশনা দেয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, নতুন আইন প্রণয়নের সময় নারী ভুক্তভোগীদের চলমান মামলাগুলোর সুরক্ষার জন্য কোনো ‘সেভিং ক্লজ’ বা ‘ট্রানজিশনাল প্রোটেকশন মেকানিজম’ রাখা হয়নি। ফলে সাইবার যৌন হয়রানি ও প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি সংবিধানে প্রদত্ত আইনের দৃষ্টিতে সমতা, আইনের সমান সুরক্ষা, যথাযথ প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) এবং কার্যকর প্রতিকার লাভের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবীরা জানান, মামলাটি ডিজিটাল পরিসরে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার, আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক সীমা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রতিকার প্রদানের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। রুলের জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

মন্তব্য

জাতীয়
Fair share of transboundary river water Government is determined to collect Water Resources Minister in Parliament

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর: সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা 
আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর: সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

রোববার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টনসংক্রান্ত বর্তমান চুক্তি বা সমঝোতাগুলো পর্যালোচনা করে নতুন চুক্তি সম্পাদনসহ যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশকে শক্তিশালীকরণ ও অববাহিকাভুক্ত দেশ যথা-ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সমন্বয়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণে সরকার কাজ করছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, উজানের দেশগুলোতে আন্তঃসীমান্ত নদীর ওপর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এছাড়া প্রাকৃতিক কারণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উজানে পানির লভ্যতাও হ্রাস পাচ্ছে।

মন্তব্য

জাতীয়
59 people sentenced to death in 7 cases 13 people Law Minister in Parliament
জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ

৭ মামলায় ৫৯ জনের সাজা, মৃত্যুদণ্ড ১৩ জনের: সংসদে আইনমন্ত্রী

৭ মামলায় ৫৯ জনের সাজা, মৃত্যুদণ্ড ১৩ জনের: সংসদে আইনমন্ত্রী

চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া ৮০ মামলার মধ্যে সাতটির রায় হয়েছে। এসব মামলায় ৫৯ জন আসামিকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

আইনমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চব্বিশের জুলাইয়ের ঘটনায় মোট ৮০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি ৭৩টি মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রায় হওয়া সাত মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

চলমান ৭৩ মামলার মধ্যে ২২টি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি ৫১টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ১৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ২৮৮ জন পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া একজন আসামি মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।

মন্তব্য

জাতীয়
The killing network was active under the leadership of Jiaul Chief Prosecutor

জিয়াউলের নেতৃত্বে ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় ছিল: চিফ প্রসিকিউটর

জিয়াউলের নেতৃত্বে ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় ছিল: চিফ প্রসিকিউটর

শতাধিক গুম-খুনের খলনায়ক আলোচিত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে একটি ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। রোববার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

‎চিফ প্রসিকিউটর বলেন, র‍্যাবের টিএফআই সেল থেকে দুজন আসামিকে নিয়ে জিয়াউলের নেতৃত্বে জাফলংয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে সাক্ষীসহ আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। জাফলংয়ে যাওয়ার পর ভারতের সাদা পোশাকের কিছু লোকজন দুজনকে নিয়ে আসেন। ভারত থেকে আনা এসব লোকদের বিনিময়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। ভারত থেকে আনা দূজন ভারতের হাজতের আসামি ছিলেন।

সাক্ষীর বিবরণের বরাতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ভারত থেকে আনা দুজনকে রাস্তার মধ্যেই মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এভাবেই তিনি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। ভারতের লোকজনকে জিয়াউল আহসানের অনুসারীরাই হয়তো তাদের নিয়ে আসতেন। তারা কোনো দলের বা কোনো বাহিনীর হতে পারে। অর্থাৎ জিয়াউলের এই কিলিং নেটওয়ার্ক ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে ছিল। তবে ভারত থেকে সাদা পোশাকে আসা লোকজন যে দুজন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করেছিলেন, তারা কি ভারতের নাকি বাংলাদেশের নাগরিক তা যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি।

‎তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ এক সেনা কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো চলমান রয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে। সাক্ষ্য দেওয়া সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালের সামনে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর বর্ণনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে একটি ছিল জিয়াউলের জাফলং অপারেশন।

‎এ সময় তিনি উল্লেখ করে বলেন, বিডিআরের বিভিন্ন সদস্যদের ধরে এনে দুটি পদ্ধতিতে হত্যা করেছেন তিনি। এর মধ্যে কাউকে ইনজেকশন পুশ করে, আবার কাউকে মাথায় গুলি করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দিতেন। এই দুই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিডিআর সদস্যকে তিনি হত্যা করেছেন বলে সাক্ষী জানিয়েছেন।

মন্তব্য

জাতীয়
Changes in state visits are reduced in travel companions and protocols

রাষ্ট্রীয় সফরে পরিবর্তনের ধারা, কমানো হলো সফরসঙ্গী ও প্রটোকল

রাষ্ট্রীয় সফরে পরিবর্তনের ধারা, কমানো হলো সফরসঙ্গী ও প্রটোকল

অতীতে কোনো দেশে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে সঙ্গে বিশাল বহর গেলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে এক্ষেত্রে এনেছেন বড় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এবং সফরসঙ্গীর তালিকা অনেক ছোট করে আনা হয়েছে। অতীতের প্রথা ভেঙে মালয়েশিয়ায় ২৩ জন আর চীনে আরেকজন যোগ হবেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকায়।

রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ কথা জানিয়েছেন।

রোববার দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটা তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে দলটি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেদিন শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটিতে সফর শেষে আগামী সোমবার চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফরকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরসঙ্গীর তালিকায় নজিরবিহীন মিতব্যয়িতা

প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী এত সংক্ষিপ্ত সফরসঙ্গী নিয়ে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। সালেহ শিবলী বলেন, ‘মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন ২৩ জন এবং চীন সফরে এই সংখ্যা হবে ২৪ জন।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় সফরসঙ্গীদের একটি দীর্ঘ তালিকা থাকতো। তবে এবার রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য যাদের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন, কেবল তাদেরই এই সফরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এ ছাড়া এই সংক্ষিপ্ত ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা।

সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এই সফরে রয়েছেন।

এছাড়াও সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার) তানভীর গনি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

বিদায়কালীন প্রটোকলে নতুনত্ব

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যার পাশাপাশি বিমানবন্দরে বিদায়কালীন প্রটোকলেও বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

প্রেস সচিব জানান, আগে প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের বাইরে যেতেন, তখন বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাতে মন্ত্রিসভার সদস্য এবং তিন বাহিনী প্রধানসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সারি থাকতো। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই প্রথাগত রীতিতে পরিবর্তন এনে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক নতুনত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

রোববার দুপুরে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমান এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ অল্প কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা।

প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের কার্যক্রম

সালেহ শিবলী উল্লেখ করেন, এটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। সফরের বিস্তারিত কার্যক্রম এবং আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইতিপূর্বেই পররাষ্ট্র সচিব ব্রিফিং করেছেন। সফরের সময় কোনো নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত বা বাদ পড়লে তা সময়মতো জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

প্রেস সচিবের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্রীয় কাজে মিতব্যয়িতা এবং আধুনিক প্রটোকল অনুসরণের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।

মন্তব্য

জাতীয়
Red carpet reception by guard of honor to Prime Minister at Kuala Lumpur Airport

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার প্রদান

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার প্রদান ছবি: ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের এ সফর করছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টা) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান। প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় এক শিশু জোবাইদা রহমানকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রায় কুয়ালালামপুরের শাংরি-লা হোটেলে যাবেন।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যেই প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য

p
উপরে