× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
দুর্নীতি চুনোপুঁটি টানাটানি নয়
google_news print-icon

দুর্নীতি নিয়ে ‘চুনোপুঁটি’ টানাটানি আর নয়: টিআইবি

দুর্নীতি-নিয়ে-চুনোপুঁটি-টানাটানি-আর-নয়-টিআইবি
বিবৃতিতে বলা হয়, সুশাসিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে দেশে আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। তাই সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, বিচার প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও দেশবাসীর স্বাধীন মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ন রাখার জোর দাবি জানায় সংস্থাটি।

দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে ‘চুনোপুঁটি’ টানাটানির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সত্যিকারের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধানের মেয়াদপূর্তি আসন্ন হওয়ায় আগামীর দুদককে কার্যকর সংস্থা হিসেবে দেখতে চায় টিআইবি।

এক্ষেত্রে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে সৎ, যোগ্য, নিরপেক্ষ, নেতৃত্ব গুণাবলীসম্পন্ন, দৃঢ়চেতা ও পেশাদার নেতৃত্বের নিয়োগ সরকার নিশ্চিত করবে বলেও আশা করছে টিআইবি।

কাল ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস সামনে রেখে এক বিবৃতিতে টিআইবি এই আহ্বান জানায়।

করোনা অতিমারির আর্থ-সামাজিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে স্বাস্থ্য খাতসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, এক্ষেত্রে তারা রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং সরকারের জিরো টলারেন্স (শুন্য সহনশীলতা) নীতির কার্যকর বাস্তবায়নও দেখতে চায় ।

‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চাই দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতা: দুর্নীতি থামাও, জীবন বাঁচাও’ এই প্রতিপাদ্যে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ বছরও দিবসটি উদযাপন করছে টিআইবি।

জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ’ অনুমোদিত হয়। একই বছর ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর মেক্সিকোর মেরিডায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে সনদটি উম্মুক্ত করা হয়। স্বাক্ষরের গুরুত্বকে স্মরণীয় রাখতে প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

টিআইবি ২০০৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপন করছে এবং ২০১৩ সাল থেকে দিবসটি সরকারিভাবে পালন ও স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপন করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সুশাসিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে দেশে আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। তাই সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, বিচার প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও দেশবাসীর স্বাধীন মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ন রাখার জোর দাবি জানায় সংস্থাটি।

করোনায় দেশে দুর্নীতি যে সর্বব্যাপী রূপ নিয়েছে এটাই এখন অপ্রিয় সত্য উল্লেখ করে বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতার’ ঘোষণা থাকলেও এখনকার বাস্তবতায় তা কী অর্থ বহন করে তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। আমরা দেখতে পাচ্ছি -এই ঘোষণার বাস্তবায়ন আটকে যাচ্ছে শুধু চুনোপুঁটিদের টানাটানিতে। অথচ এই পর্যায়েই দুর্নীতির যে ভয়াবহতার কথা আমরা জেনেছি, তাতে এই প্রক্রিয়ার মূল কারিগর- যারা পেছনে থেকে কলকাঠি নাড়ছে, তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপ্তি ও আর্থিক মূল্য কী হতে পারে, সেটা চিন্তা করলেও আতঙ্কিত হতে হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘একজন ছাত্রনেতার হাজার কোটি টাকা পাচার করার খবর দিয়েছে গণমাধ্যম মাত্র ক’দিন আগে। আরও ওপরের দিকের দুর্নীতিবাজ নেতাদের অবস্থা তো আমাদের কল্পনারও বাইরে। অথচ তাদের কারও বিষয়ে কোনো তদন্ত বা কার্যকর আইনি ব্যবস্থার খবর তো আমরা কখনও দেখিনি!’

“রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক অন্য যে কোনোভাবে ক্ষমতাবানরা বিচারহীনতা উপোভোগ করছে এমন অভিযোগ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুদক এক্ষেত্রে কার্যত ক্ষমতার বি-টিমের ভূমিকা পালন করছে। দুর্নীতি দমন ও এর কার্যকর প্রতিরোধে দুদককে কাগুজে বাঘের পরিচয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলছেন, ‘দুদকের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, জাতীয় রাজস্ববোর্ড এবং বিশেষ করে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসকেও তাঁদের নিরপেক্ষতা, দক্ষতা ও কার্যকরতার দৃশ্যমান উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। অন্যথায় গগণচুম্বী অর্থ পাচারসহ সর্বব্যাপী দুর্নীতির রাশ টানা অসম্ভব।

তিনি বলেন, সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কানাডার বেগমপাড়ায় অর্থপাচার সংক্রান্ত যে তথ্য প্রকাশ করেছেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যম জানাচ্ছে এই তথ্য খণ্ডিত এবং কেবল একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীর কথাই জানানো হয়েছে। আমরা আশা করব, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কানাডা সরকারের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তথ্য চাইবে।

একইভাবে মালেয়শিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে বাংলাদেশ থেকে যে অর্থ পাচার হয়, তা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ও জাতীয়ভাবে স্বীকৃত যে পদ্ধতি আছে, তা সরকার অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনাসহ যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনবে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণমাধ্যম ও দেশবাসী সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোদ্ধা। অথচ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো কালাকানুনসহ অন্য আরও সব আইনের যথেচ্ছ অপব্যবহার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিবন্ধক হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে মৌখিকভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের প্রচার থাকলেও বাস্তবে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় পদ্ধতিতেই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তাই অবিলম্বে মুক্ত সাংবাদিকতা ও সাধারণের মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
The decision to deploy the army in 6 districts of the country

দেশের ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

দেশের ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ছবি: সংগৃহীত

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ মোট ৬টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মোতায়েন করা জেলাগুলো হলো— ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও গাজীপুর। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এসব জেলায় সেনাসদস্যরা মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই সেনা মোতায়েনের এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা রুখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো ঢাকাকে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে।

মন্তব্য

জাতীয়
Prime Ministers call to open the Malaysian labor market for Bangladeshi workers

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুততম সময়ের মধ্যে উন্মুক্ত করতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও পরবর্তী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’ শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’

দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর উভয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’ একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্জিত গণম্যান্ডেটের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা প্রদান করেন এবং মালয়েশীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। এ ছাড়া বাংলাদেশ আসিয়ানের (ASEAN) সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (RCEP) যোগদানের বিষয়ে মালয়েশিয়ার সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এই সফর দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করা হয়।

মন্তব্য

জাতীয়
Private meeting of Prime Minister with Anwar Ibrahim

আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক

আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এক গুরুত্বপূর্ণ একান্ত বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। একান্ত আলোচনায় বসার আগে প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।

একান্ত বৈঠকের সমাপ্তি শেষে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম উপস্থিত থাকবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি, হালাল অর্থনীতির বিকাশ, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নসহ দুই দেশের মধ্যকার সামগ্রিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষে দুই দেশের সরকার প্রধান একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলন পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এই ভোজসভায় মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় শিল্পীরা মালে এবং বাংলা ভাষায় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সংস্কৃতির মেলবন্ধন তুলে ধরবেন।

মন্তব্য

জাতীয়
The tax burden in the budget is high Increases in low income people CPD

বাজেটে করের বোঝা বেশি বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের: সিপিডি

বাজেটে করের বোঝা বেশি 
বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের: সিপিডি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি খাতের আয়কর কাঠামোতে বড় বৈষম্য দেখা গেছে। বিশেষ করে নতুন করকাঠামোয় তুলনামূলক কম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি বাড়ছে। এই শ্রেণির করদাতাদের করদায় সাড়ে ১২ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। তবে ৩০ লাখ টাকার বেশি বার্ষিক আয় করা উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে এই করের দায় বৃদ্ধির হার তুলনামূলক অনেক কম। এছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজস্ব ঘাটতি, মূল্যস্ফীতির চাপ, কম বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য বাজেটে নির্ধারিত উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে অর্থনীতির বিদ্যমান সংকটগুলো মোকাবিলা করা জরুরি। রোববার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠানে এমন তথ্য তুলে ধরেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জুনায়েদ সাকি)। সম্মানিত অতিথি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এমএ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।

অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, করদাতাদের আয় বাড়ার অনুপাতে করের বোঝা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৬ থেকে ১৫ লাখ টাকা, নতুন বাজেটে তাদের করের দায় ১২.৫ থেকে ১৬.৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের করের দায় বাড়বে মাত্র ৭.৬ শতাংশ। এটি সামাজিক সমতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, ১৮ মাসে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন নেই বলে মন্তব্য করেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট চার মন্ত্রণালয়ের (শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প ও বাণিজ্য) বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের তুলনায় হয় কমছে কিংবা স্থবির আছে। এ ছাড়া পটুয়াখালী ইপিজেড, জামদানি ভিলেজের মতো কর্মসংস্থানমুখী বড় প্রকল্পগুলো বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে বলে জানান তিনি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া এই বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য কেবলই ‘রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা’ হিসেবে থেকে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটের সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো আশাবাদী হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সরকার বাজেট প্রস্তাবে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণে করা হয়েছে। তবে বিদায়ী অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৬৩ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত ও বিচক্ষণ মুদ্রানীতি ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক।

ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, নতুন সরকারের নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয় হলেও সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো অতি আশাবাদী। এবারের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, বিষয়টি ইতিবাচক। তবে এই বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক নানা ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা কমে গেছে, এমন সময় চ্যালেঞ্জিং বাজেট দিতে হয়েছে। তাই ঋণনির্ভরতা কমিয়ে অর্থের বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার। তিনি বলেন, বাজেট পারফেক্ট হয়েছে বলছি না। যেদিকেই হাত দিই, শুধু বকেয়া। এমন সময় দেড় মাসের মধ্যে বাজেট দিতে হয়েছে। অথচ প্রস্তুতি নিতেই অন্তত ৬ মাস দরকার।

মন্তব্য

জাতীয়
Cyber ​​Sexual Harassment High Court Rules Challenging Sections of Safety Act

সাইবার যৌন হয়রানি: সেফটি আইনের ধারা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টের রুল

সাইবার যৌন হয়রানি: সেফটি আইনের ধারা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টের রুল

সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার (ইমপারসোনেশন) এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের বিধান দেয়া সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

এদিন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল নোমান। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনেরা হক মনি ও অ্যাডভোকেট শাহলা শরাফিননেজাদ। রুলে বিবাদীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা যতদূর পর্যন্ত সাইবার যৌন হয়রানি, নারীর বিরুদ্ধে অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ইমপারসোনেশন এবং নারী হয়রানি-সংক্রান্ত বিচারাধীন ফৌজদারি মামলাগুলো খারিজ, অবলুপ্ত, প্রত্যাহৃত বা বিলুপ্ত করার বিধান দেয়, তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না।

একই সঙ্গে রুলে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালের সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-৪১/২০২৩ সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার ভিত্তিতে খারিজ করার আদেশ কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা কার্যত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর বিলুপ্ত ধারা ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩১-এর অধীনে দায়ের হওয়া বিচারাধীন মামলাগুলো—বিশেষ করে সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলো—স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের নির্দেশনা দেয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, নতুন আইন প্রণয়নের সময় নারী ভুক্তভোগীদের চলমান মামলাগুলোর সুরক্ষার জন্য কোনো ‘সেভিং ক্লজ’ বা ‘ট্রানজিশনাল প্রোটেকশন মেকানিজম’ রাখা হয়নি। ফলে সাইবার যৌন হয়রানি ও প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি সংবিধানে প্রদত্ত আইনের দৃষ্টিতে সমতা, আইনের সমান সুরক্ষা, যথাযথ প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) এবং কার্যকর প্রতিকার লাভের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবীরা জানান, মামলাটি ডিজিটাল পরিসরে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার, আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক সীমা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রতিকার প্রদানের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। রুলের জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

মন্তব্য

জাতীয়
Fair share of transboundary river water Government is determined to collect Water Resources Minister in Parliament

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর: সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা 
আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর: সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

রোববার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টনসংক্রান্ত বর্তমান চুক্তি বা সমঝোতাগুলো পর্যালোচনা করে নতুন চুক্তি সম্পাদনসহ যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশকে শক্তিশালীকরণ ও অববাহিকাভুক্ত দেশ যথা-ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সমন্বয়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণে সরকার কাজ করছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, উজানের দেশগুলোতে আন্তঃসীমান্ত নদীর ওপর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এছাড়া প্রাকৃতিক কারণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উজানে পানির লভ্যতাও হ্রাস পাচ্ছে।

মন্তব্য

জাতীয়
59 people sentenced to death in 7 cases 13 people Law Minister in Parliament
জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ

৭ মামলায় ৫৯ জনের সাজা, মৃত্যুদণ্ড ১৩ জনের: সংসদে আইনমন্ত্রী

৭ মামলায় ৫৯ জনের সাজা, মৃত্যুদণ্ড ১৩ জনের: সংসদে আইনমন্ত্রী

চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া ৮০ মামলার মধ্যে সাতটির রায় হয়েছে। এসব মামলায় ৫৯ জন আসামিকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

আইনমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চব্বিশের জুলাইয়ের ঘটনায় মোট ৮০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি ৭৩টি মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রায় হওয়া সাত মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

চলমান ৭৩ মামলার মধ্যে ২২টি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি ৫১টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ১৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ২৮৮ জন পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া একজন আসামি মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।

মন্তব্য

p
উপরে