রাজধানীতে গণপরিবহনে অরাজকতা বন্ধে বাস অল্প কয়েকটি কোম্পানির অধীনে আনার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে বহুদিন ধরে। এবার তা আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।
আগামী ১ এপ্রিল থেকে রুটভিত্তিক কোম্পানির অধীনে বাস চলাচল শুরু হবে। এদিন কেরানিগঞ্জের ঘাটারচর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রুট দিয়ে শুরু হচ্ছে পাইলট উদ্যোগ।
এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হচ্ছে ‘বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজি পাইলটিং’।
মঙ্গলবার সকালে 'বাস রুট রেশনালাইজেশন' কমিটির ১৪তম সভা শেষে এটি জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
রাজধানীতে এখন মোট ২৯১টি রুটে প্রায় ৩০ হাজার বাস চলে। পুরো পরিকল্পনা অনুযায়ী রুট ৪২টিতে নামিয়ে আনা হবে। নয়টি ক্লাস্টারে ২২টি কোম্পানি চালাবে এসব বাস। বাসের সংখ্যা কমিয়ে করা হবে ৯ হাজার ২৭টি।
মঙ্গলবারের সভা শেষে সাংবাদিকদের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘যে প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে এসেছে, সেটি আমরা চূড়ান্ত করেছি। আমরা দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছি। এখন থেকে যে যার দায়িত্ব পালন করবে। সব কিছুই ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ করা হবে।’
এর আগে, ২০১৬ সালের শুরুতে ছয়টি কোম্পানির অধীনে ছয় রঙের বাস নামানোর উদ্যোগ নেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। দেড় বছরের মধ্যে নতুন তিন হাজার বাস নামানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
তবে ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর আনিসুল হকের মৃত্যুর পর থেমে যায় প্রকল্প।
সম্প্রতি দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নভেম্বরে মাঝামাঝিতে বাস মালিক, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও নগর পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল হক।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) জানায়, বিদ্যমান বাসগুলো মূল্যায়নের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক মালিকানার ভাগ নির্ধারণ করা হবে।
এসব বাস ও মিনিবাস নষ্ট হয়ে গেলে মালিককে ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার। এ ছাড়া নতুন বাস সংগ্রহের জন্য ৪-৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হবে।
দুই থেকে তিনটি রুটকে কমিয়ে একটি করার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। নতুন রুটে কোনো ওভারল্যাপিং থাকবে না।
যেসব রুটে কোনো মালিকের ৫০০-এর বেশি গাড়ি আছে, ওই রুটে তিনিই কোম্পানির নেতৃত্বে থাকবেন। কোম্পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য থাকবে রেগুলেটরি বোর্ড।
১ এপ্রিল চালু হওয়া রুটে কয়টি বাস কোম্পানি থাকছে এমন প্রশ্নের জবাবে তাপস বলেন, ‘মূলত পাঁচটি কোম্পানি আছে এখানে। এই রুটে ১৬৫টি বাস আছে, আমরা প্রাথমিকভাবে এমন তথ্য পেয়েছি। সেই তথ্য আমরা আদান প্রদান করেছি।’
সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই সভায় উপস্থিত ছিলেন দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, বাস মালিক সমিতির সভাপতি, বিআরটিসির চেয়ারম্যানসহ কমিটি অন্যান্য সদস্যরা।
অতীতে কোনো দেশে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে সঙ্গে বিশাল বহর গেলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে এক্ষেত্রে এনেছেন বড় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এবং সফরসঙ্গীর তালিকা অনেক ছোট করে আনা হয়েছে। অতীতের প্রথা ভেঙে মালয়েশিয়ায় ২৩ জন আর চীনে আরেকজন যোগ হবেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকায়।
রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ কথা জানিয়েছেন।
রোববার দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটা তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে দলটি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেদিন শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটিতে সফর শেষে আগামী সোমবার চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফরকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরসঙ্গীর তালিকায় নজিরবিহীন মিতব্যয়িতা
প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী এত সংক্ষিপ্ত সফরসঙ্গী নিয়ে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। সালেহ শিবলী বলেন, ‘মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন ২৩ জন এবং চীন সফরে এই সংখ্যা হবে ২৪ জন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় সফরসঙ্গীদের একটি দীর্ঘ তালিকা থাকতো। তবে এবার রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য যাদের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন, কেবল তাদেরই এই সফরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এ ছাড়া এই সংক্ষিপ্ত ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এই সফরে রয়েছেন।
এছাড়াও সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার) তানভীর গনি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
বিদায়কালীন প্রটোকলে নতুনত্ব
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যার পাশাপাশি বিমানবন্দরে বিদায়কালীন প্রটোকলেও বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
প্রেস সচিব জানান, আগে প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের বাইরে যেতেন, তখন বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাতে মন্ত্রিসভার সদস্য এবং তিন বাহিনী প্রধানসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সারি থাকতো। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই প্রথাগত রীতিতে পরিবর্তন এনে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক নতুনত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
রোববার দুপুরে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমান এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ অল্প কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা।
প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের কার্যক্রম
সালেহ শিবলী উল্লেখ করেন, এটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। সফরের বিস্তারিত কার্যক্রম এবং আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইতিপূর্বেই পররাষ্ট্র সচিব ব্রিফিং করেছেন। সফরের সময় কোনো নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত বা বাদ পড়লে তা সময়মতো জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
প্রেস সচিবের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্রীয় কাজে মিতব্যয়িতা এবং আধুনিক প্রটোকল অনুসরণের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।
ছবি: ফোকাস বাংলা
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের এ সফর করছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টা) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান। প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় এক শিশু জোবাইদা রহমানকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রায় কুয়ালালামপুরের শাংরি-লা হোটেলে যাবেন।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যেই প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে যদি কেউ অস্ত্র দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তারাই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র্যাব-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান। রোববার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে র্যাব-২ কার্যালয়ে ৫ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে করা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
নয়মুল হাসান বলেন, ‘বিশেষ করে ২৩ তারিখ রিলেটেড কেউ যদি কোনো বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের মেসেজ দেওয়া হয়ে গেছে যে তারা যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না করে। যদি তারা আমাদের জন্য কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করতে চায়, তারা নিজেরাই ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাউরা সোহেলকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার দেওয়া তথ্যমতে আরও দুই ছিনতাইকারী শফিকুল ইলাম সবুজ ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মাউরা সোহেলের নামে ছিনতাই-চাঁদাবাজির ১৪টি মামলা রয়েছে।’
এক মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রোববার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে ১৫ জুন আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজ বেগমকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট।
এ তিন মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। এর মধ্যে এক মামলার শুনানি শেষে ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় ও কারাগারে পাঠানো হয়।
তার বিরুদ্ধে ঢাকার কয়েকটি থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী বলেছেন, ‘বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।’ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে— এই বিষয়টি জনগণকে বোঝাতে হবে। শব্দদূষণের কারণে মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং অনিদ্রাসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘একজন চালক যে হর্ন ব্যবহার করছেন, সেটিই তার নিজের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। সড়কে অতিরিক্ত হর্নের কারণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি শব্দদূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিআরটিএ’র পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কলেজ গেট এলাকায় ঝটিকা মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১০ জন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার সকালে তাদের আটক করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রোববার সকালে কলেজগেট এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে আটক করে। আটক ব্যক্তিরা মোহাম্মদপুর, আদাবর ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা জানান, তাদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষার ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে ভাইভার মোট নম্বর ২০০-এর পরিবর্তে ১০০ নম্বর বহাল রাখা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। রোববার জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
সংসদকে মো. আব্দুল বারী জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপনের বিধি ১৮-এর উপ-বিধি (১)-এর টেবিল অনুযায়ী ভাইভার এই নম্বর পরিমার্জন করা হয়। বর্তমানে চলমান ৪৭তম বিসিএস থেকেই ১০০ নম্বরের এই নতুন নিয়মে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিশেষ বিসিএস হিসেবে পরিচিত ৪৮তম ও ৪৯তম বিসিএসেও ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এটি মূলত ২০২৫ সালের ২৭ মে প্রকাশিত সংশোধিত বিধিমালা ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪’-এর বিশেষ বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছিল।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আসন্ন ৫০তম বিসিএস এবং এর পরবর্তী সকল বিসিএস পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা পদ্ধতি বহাল থাকবে।
মন্তব্য