কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ জেলায় জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাতের আধারে মৌলবদীরাই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙেছে। তারা দেশের শত্রু। তাদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলা হবে।
শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া পৌরসভার পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ডান হাত, পুরো মুখমণ্ডল ও বাম হাতের অংশবিশেষ ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা।
ঢাকা
শনিবার সন্ধ্যার পর রাজধানীতে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিক্ষোভ করে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ।
বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে মশাল মিছিল নিয়ে বের হন নেতা-কর্মীরা।
চট্টগ্রাম
সন্ধ্যা সাতটায় চট্টগ্রাম মহানগরের জিইসি মোড় থেকে শুরু হয়ে দুই নম্বর গেট ঘুরে আবারও জিইসি মোড়ে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষ। এরপর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রলীগ নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী চক্র বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে এতে আর ঘরে বসে থাকা যায় না। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিদের সঙ্গে নিয়ে মৌলবাদীদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রলীগ লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’
গাজীপুর
রাত আটটার দিকে গাজীপুর সদর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে মহানগর যুবলীগ।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে টঙ্গীতে হয় আরেকটি মিছিল। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এতে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা ছাড়াও ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
যশোর
বিকেল চারটার দিকে শহরের দড়াটানায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মানববন্ধন করে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, পূজা উদ্যাপন পরিষদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন মানববন্ধনে অংশ নেয়।
সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি সাজেদ রহমান বকুল বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতাকে কোনোমতেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।’
একই সময় জেলা জাসদ যশোর শহরের সুভাষ বসু সড়কের নিজ কার্যলয়ের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। জেলা জাসদের সভাপতি রবিউল আলম বলেন, 'সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে।'
পৌর আওয়ামী লীগ সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এতে এক হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মী অংশ নেন।
ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কর্মীরা সন্ধ্যায় সেখানে মিছিল ও সমাবেশ করে।
মানিকগঞ্জ
রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা যুবলীগের উদ্যোগে শহরের শহীদ রফিক সড়কে মিছিল বের করা হয়। পরে স্থানীয় প্রেসক্লাব চত্বরে হয় সমাবেশ।
সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহীউদ্দীন বলেন, আজ যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তারা কোনোদিন বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে তাদের কঠিন হাতে প্রতিহত করতে হবে।
জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজা বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে, তাদের বাংলাদেশে থাকার অধিকার নেই। তাদের বাংলার মাটিতে থাকতে দেয়া হবে না।’
নাটোর
রাত সাড়ে আটটার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে মিছিল বের হয়। পরে প্রেসক্লাবের সামনে হয় সমাবেশ। একই সময়ে জেলা যুবলীগের নেতা-কর্মীরা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মিছিল বের করে। তারাও প্রেসক্লাবের সামনে সভায় মিলিত হয়।
বক্তারা বলেন, রাতের আধারে যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙেছে তারা দেশের শত্রু। এদের দ্রুত প্রতিহত করা প্রয়োজন।
কিশোরগঞ্জ
সন্ধ্যার পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ সাদীর নেতৃত্বে শহরের জেলা সরণির মোড় থেকে দলের মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে।
এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ওমান খানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি মিছিল সমাবেশে গিয়ে মিলিত হয়।
সমাবেশে অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ সাদী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইব্রাহীম খলিল, সদর উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি কামাল পাশা, শহর কৃষকলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পাভেল শার্ফি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ওমান খান, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
এদিকে, জেলা যুবলীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মীর আমিনুল ইসলাম সোহেল, যুবলীগ নেতা শেখ শহীদুল ইসলাম হুমায়ুন ও সানোয়ার হোসেন রুবেলের নেতৃত্বে যুবলীগও শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
ফরিদপুর
সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে স্থানীয় আলিপুর মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক ভোলা মাস্টার, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শামীম হক, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মিজানুল ইসলাম মিজু প্রমূখ।
সভা থেকে বক্তারা জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বিক্ষোভ মিছিলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মেহেরপুর
শনিবার রাত ৯ টা ৩০ মিনিটের সময় জেলা যুবলীগের উদ্যোগে মেহেরপুর পৌরহলের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন। শহর প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে মিছিল শেষ হয়।
পরে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সরফরাজ হোসেন মিদুলের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ পথসভায় বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতি, শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম।
রাত ১০ টা ১৫ মিনিটের দিকে আরও একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয় মেহেরপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটনের উদ্যোগে। এই মিছিলটিও শহর প্রদক্ষিণ শেষে পৌরসভার সামনে এসে শেষ হয়।
{প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সিফায়াত উল্লাহ, চট্টগ্রাম, নাজমুল হাসান, নাটোর, পলাশ প্রধান, গাজীপুর, রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ, আজিজুল হাকিম, মানিকগঞ্জ, নিশাত বিজয়, যশোর ও সোহেল রানা বাবু, মেহেরপুর}
ছবি: ফোকাস বাংলা
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের এ সফর করছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টা) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান। প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় এক শিশু জোবাইদা রহমানকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রায় কুয়ালালামপুরের শাংরি-লা হোটেলে যাবেন।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যেই প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে যদি কেউ অস্ত্র দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তারাই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র্যাব-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান। রোববার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে র্যাব-২ কার্যালয়ে ৫ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে করা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
নয়মুল হাসান বলেন, ‘বিশেষ করে ২৩ তারিখ রিলেটেড কেউ যদি কোনো বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের মেসেজ দেওয়া হয়ে গেছে যে তারা যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না করে। যদি তারা আমাদের জন্য কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করতে চায়, তারা নিজেরাই ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাউরা সোহেলকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার দেওয়া তথ্যমতে আরও দুই ছিনতাইকারী শফিকুল ইলাম সবুজ ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মাউরা সোহেলের নামে ছিনতাই-চাঁদাবাজির ১৪টি মামলা রয়েছে।’
এক মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রোববার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে ১৫ জুন আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজ বেগমকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট।
এ তিন মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। এর মধ্যে এক মামলার শুনানি শেষে ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় ও কারাগারে পাঠানো হয়।
তার বিরুদ্ধে ঢাকার কয়েকটি থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী বলেছেন, ‘বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।’ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে— এই বিষয়টি জনগণকে বোঝাতে হবে। শব্দদূষণের কারণে মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং অনিদ্রাসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘একজন চালক যে হর্ন ব্যবহার করছেন, সেটিই তার নিজের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। সড়কে অতিরিক্ত হর্নের কারণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি শব্দদূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিআরটিএ’র পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কলেজ গেট এলাকায় ঝটিকা মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১০ জন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার সকালে তাদের আটক করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রোববার সকালে কলেজগেট এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে আটক করে। আটক ব্যক্তিরা মোহাম্মদপুর, আদাবর ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা জানান, তাদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষার ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে ভাইভার মোট নম্বর ২০০-এর পরিবর্তে ১০০ নম্বর বহাল রাখা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। রোববার জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
সংসদকে মো. আব্দুল বারী জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপনের বিধি ১৮-এর উপ-বিধি (১)-এর টেবিল অনুযায়ী ভাইভার এই নম্বর পরিমার্জন করা হয়। বর্তমানে চলমান ৪৭তম বিসিএস থেকেই ১০০ নম্বরের এই নতুন নিয়মে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিশেষ বিসিএস হিসেবে পরিচিত ৪৮তম ও ৪৯তম বিসিএসেও ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এটি মূলত ২০২৫ সালের ২৭ মে প্রকাশিত সংশোধিত বিধিমালা ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪’-এর বিশেষ বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছিল।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আসন্ন ৫০তম বিসিএস এবং এর পরবর্তী সকল বিসিএস পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা পদ্ধতি বহাল থাকবে।
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় খোবাইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের জামিন আবেদন দায়রা জজ আদালতেও নামঞ্জুর করা হয়েছে। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৭ম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পি এ আদেশ দিয়েছেন।
সাবেক বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই মামলায় সিএমএম আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছিলেন। সেই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা মহানগর দায়রা জজ আদালতে সিআর মিস ফাইল করি। জামিন শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এই আইনজীবী আরও বলেন, ৭টি মামলায় জামিন বহাল থাকার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন করে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলায় জামিন না হওয়া পর্যন্ত তার কারামুক্তি হচ্ছে না।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোবাইব (২০)।
যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের নিচে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানকালে মামলার আসামিদের নির্দেশে ও মদদে পুলিশ, র্যাবসহ অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও এর স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা একযোগে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে খোবাইব ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ওই ঘটনায় নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। এতে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
এর আগে, গত ১৭ মে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
পৃথক পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৩ মে রিট করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৪ জুলাই বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মন্তব্য