× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
২০ মাসেও বসেনি কোনো ফায়ার হাইড্র্যান্ট
google_news print-icon

২০ মাসেও বসেনি কোনো ফায়ার হাইড্র্যান্ট

২০-মাসেও-বসেনি-কোনো-ফায়ার-হাইড্র্যান্ট
২০১৯ সালেরই ২৯ মার্চ এক বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, চুড়িহাট্টা ও বনানীতে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানির উৎস খুঁজে পেতে বেগ পান। এ প্রেক্ষাপটে অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে রাজধানীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফায়ার হাইড্র্যান্ট স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।

রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে গত বছরের ২৮ মার্চ আগুন লেগে ২৬ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় আরেক বহুতল ভবনে আগুন লেগে মারা যান পথচারীসহ ৬৭ জন।

ভয়াবহ ওই দুই আগুন নেভানোর জন্য পানির উৎস খুঁজে পেতে বেশ সময় লেগেছিল ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের।

এমন পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালেরই ২৯ মার্চ এক বৈঠকে আগুন নেভাতে পানির প্রাপ্যতা সহজ করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফায়ার হাইড্র্যান্ট স্থাপনের জন্য ঢাকা ওয়াসাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান জানান, চুড়িহাট্টা ও বনানীতে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর পানির উৎস খুঁজে পেতে বেগ পান। এ প্রেক্ষাপটে অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে রাজধানীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফায়ার হাইড্র্যান্ট (অগ্নিনির্বাপণ কাজে ব্যবহৃত স্থায়ী পানিকল) স্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।

বৈঠকের পর এক বছর আট মাস পার হলেও রাজধনীতে কোনো ফায়ার হাইড্র্যান্ট স্থাপন করা হয়নি। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস, ঢাকা ওয়াসা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সিটি করপোরেশন, কারও কাছ থেকেই সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে সরকারি কোনো সংস্থার কারো যেন কোনো মাথাব্যথা নেই। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা। সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা।

পানি সংরক্ষণাগারের সঙ্গে সংযুক্ত বিশেষ পানিকল হচ্ছে ফায়ার হাইড্র্যান্ট। সাধারণত রাস্তার কাছে এই কল স্থাপন করা হয়। এর সঙ্গে পাইপ যুক্ত করে এই পানি আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করতে পারেন ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা।

ফায়ার হাইড্র্যান্ট স্থাপনের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে কথা হয় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের সঙ্গে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে ফায়ার হাইড্র্যান্টের কোনো ব্যবস্থা নেই। এটা একটি মাস্টারপ্ল্যান। রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনের এক সঙ্গে করতে হবে এটা।

ঢাকা সিটির যারা মাস্টারপ্ল্যান করেন তাদের, প্ল্যানেও ফায়ার হাইড্র্যান্ট নেই দাবি করে ওয়াসার এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের ৮৭০টি ওয়াটার পাম্প আছে। এখান থেকে আগুন লাগলে পানি দেয়ার ব্যবস্থা করি।

২০ মাসেও বসেনি কোনো ফায়ার হাইড্র্যান্ট

‘সেই অর্থে ফায়ার হাইড্র্যান্ট বলেন আর যাই বলেন– এই ৮৭০টি পানির সোর্স আছে। এছাড়া আমাদের কোনো ফায়ার হাইড্র্যান্ট নাই। এর ফলে কোথাও আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস আমাদের থেকে এসে পানি নিয়ে যায় বা আমরা তাদের দিয়ে আসি।’

ঢাকা সিটির মাস্টারপ্ল্যানে ফায়ার হাইড্র্যান্ট আছে কি না জানতে চাইলে রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা) মো. আজহারুল ইসলাম খান বলেন, ‘রাজউকের বর্তমান নগর পরিকল্পনায় ফায়ার হাইড্র্যান্টের বিষয় নেই। প্রস্তাবিত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) ফায়ার হাইড্র্যান্টের নকশা আছে; যার মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত। প্রস্তাবিত ড্যাপ চূড়ান্ত হলে ফায়ার হাইড্র্যান্ট থাকবে।’

এ বিষয়ে কথা হয় নগর পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স-এর সভাপতি অধ্যাপক আখতার মাহমুদের সঙ্গে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ফায়ার হাইড্র্যান্টের বিষয়ে সরকারি কোনো সংস্থার কোনো উদ্যোগের কথা আমি জানি না। যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তখন ফায়ার হাইড্র্যান্টের বিষয়টা উঠে আসে। ফায়ার হাইড্র্যান্টের জন্য বড় একটি পরিকল্পনা দরকার। এজন্য এ কাজে যুক্ত সব সংস্থার সমন্বয়ও দরকার।’

নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফায়ার হাইড্র্যান্ট স্থাপনে ওয়াসা, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনের সমন্বয় হওয়া জরুরি। নগরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমাদের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স, সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বিভিন্ন আলোচনা করে। ফায়ার হাইড্র্যান্ট নিয়ে ওয়াসা কোনো সংস্থার সঙ্গে বসেছে বলে আমার মনে হয় না।

‘তারা ফায়ার হাইড্র্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে কি না- আমার জানা নেই। ফায়ার হাইড্র্যান্ট বা পানির মাধ্যম থাকতে হবে। যেখান থেকে পানি সংগ্রহ করে দুর্যোগ মোকাবেলা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই পরিকল্পনা দেখার দায়িত্ব রাজউকের। এই কাজে যে সংস্থাগুলো জড়িত তাদের সবাইকে সমন্বয় করে কাজটি করতে হবে। ওয়াসার যেমন দায়িত্ব এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা, তেমনি ফায়ার সার্ভিসেরও দায়িত্ব আছে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা।’

এ বিষয়ে কোনো সমন্বয় কর্তৃপক্ষ আছে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান এই নগর বিশেষজ্ঞ।

২০ মাসেও বসেনি কোনো ফায়ার হাইড্র্যান্ট
ফায়ার হাইড্র্যান্ট। ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘একবার শুনেছিলাম খোকন সাহেব যখন মেয়র, তখন তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এটা সমন্বয়ের। এখন তারা সেটা করেন কি না- আমি জানি না। বরং আমি দেখতে পাচ্ছি একটা অদ্ভুত কাণ্ড হচ্ছে।

‘দক্ষিণ সিটির নতুন মেয়র আবার একটা মহাপরিকল্পনা করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। একই জায়গায় রাজউকের মহাপরিকল্পনা; আবার দক্ষিণ সিটির মহাপরিকল্পনা- এটা তো হয় না। তাদের এক সঙ্গে বসে করতে হবে।’

ফায়ার হাইড্র্যান্ট স্থাপন না হওয়ার দায় নিতে চায় না ঢাকার কোনো সিটি করপোরেশনই। দুই সিটিরই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটা স্থাপনের দায়িত্ব ওয়াসারই।

উত্তর সিটির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ড. তারিক বিন ইউসুফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরান ঢাকায় কিছু ওয়াটার হাইড্র্যান্ট আছে। ঢাকার বাকি জায়গায় নেই। ওয়াটার হাইড্র্যান্ট আমরা চাইলেই বসাতে পারব না। এটা বসানোর দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার।’

দক্ষিণ সিটির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ড্রেনের পানি দিয়ে এক বার ফায়ার হাইড্র্যান্টের কথা চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু পানির প্রবাহসহ সব বিষয় নিয়ে চিন্তা করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন- এটা ফায়ার হাইড্র্যান্টের জন্য উপযোগী নয়।

২০ মাসেও বসেনি কোনো ফায়ার হাইড্র্যান্ট

‘আমরা ফায়ার হাইড্র্যান্ট স্থাপন করব; কিন্তু পানি পাব কোথায়? ওয়াসা বলুক - তারা আমাদের পানি দিবে এবং সেই পানিতে ফ্লো থাকবে। তাহলে আমরা ফায়ার হাইড্র্যান্ট স্থাপন করতে প্রস্তুত আছি। ফায়ার সার্ভিসের কোথায় কোথায় ফায়ার হাইড্র্যান্ট প্রয়োজন তার একটা পরিকল্পনাও দিতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগুন নেভানোর জন্য আমরা যে পানি ব্যবহার করি, তা ওয়াসার। আবার ফায়ার হাইড্র্যান্ট যেখানে লাগানো হবে, সেটা পড়েছে সিটি করপোরেশনের জায়গায়। দুর্যোগ হলে এটা ব্যবহারকারী আমি ফায়ার সার্ভিস।

‘ফলে এই আগুন নেভানোর ব্যবস্থায় তিনটি সংস্থা জড়িত হয়ে গেল। ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস। শুধু ফায়ার হাইড্র্যান্ট কেন, এখানে জলাশয় থাকারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান জানান, ঢাকা মহানগরীর নবনির্মিত কিছু ভবনে নিজস্ব ফায়ার হাইড্র্যান্ট আছে।

তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন কর্তৃক কোনো ফায়ার হাইড্র্যান্ট করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমার জানা মতে, ফায়ার হাইড্র্যান্টের ব্যাপারে তারা আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করে নাই এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো অগ্রগতি দেখতে পাই নাই।’

ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব উদ্যোগে কিছু ফায়ার হাইড্র্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘তবে সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজটি করতে পারলে ভালো হয়।

‘না হলে দেখা যাবে, আজ আমি ফায়ার হাইড্র্যান্ট তৈরি করছি, দুই দিন পরে ওই হাইড্র্যান্ট লাইন কাটা যাবে। কারণ তার উপর দিয়ে কোনো রাস্তা বা ইলেকট্রিক লাইনের সমস্যা হলে রাস্তা কাটার সময় হাইড্র্যান্টও কাটা যেতে পারে।’

২০ মাসেও বসেনি কোনো ফায়ার হাইড্র্যান্ট

এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে বার বার ফায়ার হাইড্র্যান্টের দাবি তুলেছি। এ ব্যাপারে অনেক আলোচনা করেছি। সিটি করপোরেশন তো বলেছিল সিটি এলাকায় করবে। এ বিষয় নিয়ে কয়েকবার ফলোআপ মিটিংও হয়েছে। কিন্তু কোথাও ফায়ার হাইড্র্যান্ট হয় নাই।’

তিনি বলেন, চুড়িহাট্টা ও বনানীতে আগুন লাগাসহ বিভিন্ন সময়ে আমি ফায়ার হাইড্র্যান্ট স্থাপনের কথা বলেছি। চুড়িহাট্টায় আগুন লাগার সময় ফায়ার সার্ভিসের পানির অভাব পড়েছিল। তখন জেলখানার ওখান থেকে পানি আনা হলো। তখনই বলেছিলাম, ফায়ার হাইড্র্যান্ট থাকলে পানির এই সমস্যা হতো না।’

এ বিষয়ে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা শহরে আগে অনেক প্রাকৃতিক জলাধার ছিল। এখন জলাধার অনেক কম। ভবিষ্যতে আরও কমে যাবে। আগুন লাগার সময় প্রতিটা সেকেন্ড গুণে কাজ করতে হয়।

‘যেহেতু পানির অভাব, অনেক দূর থেকে পানি আনা লাগে। সেহেতু ফায়ার হাইড্র্যান্ট থাকলে ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের অনেক সুবিধা হয়। সুতরাং এর বিকল্প নাই। এটা যত দ্রুত হবে, জানমাল তত রক্ষা হবে।’

তিনি মনে করেন, সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ উদ্যোগে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা উচিৎ।

‘মূল দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। ফায়ার সার্ভিস বলবে, তাদের কোথায় কোথায় দরকার। ফায়ার হাইড্র্যান্ট যদি রাজউকের পরিকল্পনায় নাও থাকে, তারপরও করতে হবে। নানাভাবে আমরা ফায়ার হাইড্র্যান্টের কথা বলেছি। কিন্তু এ নিয়ে ওই অর্থে কাউকে কোনো কাজ করতে দেখছি না’, বলেন পবার চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সংস্থা (বেলার) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘যে কয়টা জলাশয়কে হাউজিংয়ে রূপান্তর করা হয়েছে, সেগুলার পরিমাণ যোগ করে এবং স্যাটেলাই ছবির সহায়তায় আমরা একটি জরিপ করেছি।

‘সেই জরিপে দেখা যায়, গত ১০ বছরে ঢাকা শহরের ৪৭ শতাংশ জলাশয় হারিয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপণের কাজে পানির প্রাকৃতিক জলাধার ছিল। যেহেতু প্রাকৃতিক জলাধার আমরা কমিয়ে ফেলেছি, সেহেতু অগ্নি নির্বাপণে সহায়তার জন্য ফায়ার হাইড্র্যান্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেটা আমাদের শহরে নেই।’

বেলার নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘যেভাবে রাজউকের অনুমতি না নিয়ে ভবন হচ্ছে, তাতে মানুষ ঝুঁকিতে পড়ছে। ঢাকা শহরে দুই কোটির বেশি মানুষের বাস। অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থার কারণে এই মানুষেরা মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে সবসময়।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
Fair share of transboundary river water Government is determined to collect Water Resources Minister in Parliament

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর: সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা 
আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর: সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

রোববার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টনসংক্রান্ত বর্তমান চুক্তি বা সমঝোতাগুলো পর্যালোচনা করে নতুন চুক্তি সম্পাদনসহ যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশকে শক্তিশালীকরণ ও অববাহিকাভুক্ত দেশ যথা-ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সমন্বয়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণে সরকার কাজ করছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, উজানের দেশগুলোতে আন্তঃসীমান্ত নদীর ওপর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এছাড়া প্রাকৃতিক কারণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উজানে পানির লভ্যতাও হ্রাস পাচ্ছে।

মন্তব্য

জাতীয়
59 people sentenced to death in 7 cases 13 people Law Minister in Parliament
জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ

৭ মামলায় ৫৯ জনের সাজা, মৃত্যুদণ্ড ১৩ জনের: সংসদে আইনমন্ত্রী

৭ মামলায় ৫৯ জনের সাজা, মৃত্যুদণ্ড ১৩ জনের: সংসদে আইনমন্ত্রী

চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া ৮০ মামলার মধ্যে সাতটির রায় হয়েছে। এসব মামলায় ৫৯ জন আসামিকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

আইনমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চব্বিশের জুলাইয়ের ঘটনায় মোট ৮০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি ৭৩টি মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রায় হওয়া সাত মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

চলমান ৭৩ মামলার মধ্যে ২২টি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি ৫১টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ১৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ২৮৮ জন পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া একজন আসামি মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।

মন্তব্য

জাতীয়
The killing network was active under the leadership of Jiaul Chief Prosecutor

জিয়াউলের নেতৃত্বে ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় ছিল: চিফ প্রসিকিউটর

জিয়াউলের নেতৃত্বে ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় ছিল: চিফ প্রসিকিউটর

শতাধিক গুম-খুনের খলনায়ক আলোচিত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে একটি ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। রোববার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

‎চিফ প্রসিকিউটর বলেন, র‍্যাবের টিএফআই সেল থেকে দুজন আসামিকে নিয়ে জিয়াউলের নেতৃত্বে জাফলংয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে সাক্ষীসহ আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। জাফলংয়ে যাওয়ার পর ভারতের সাদা পোশাকের কিছু লোকজন দুজনকে নিয়ে আসেন। ভারত থেকে আনা এসব লোকদের বিনিময়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। ভারত থেকে আনা দূজন ভারতের হাজতের আসামি ছিলেন।

সাক্ষীর বিবরণের বরাতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ভারত থেকে আনা দুজনকে রাস্তার মধ্যেই মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এভাবেই তিনি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। ভারতের লোকজনকে জিয়াউল আহসানের অনুসারীরাই হয়তো তাদের নিয়ে আসতেন। তারা কোনো দলের বা কোনো বাহিনীর হতে পারে। অর্থাৎ জিয়াউলের এই কিলিং নেটওয়ার্ক ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে ছিল। তবে ভারত থেকে সাদা পোশাকে আসা লোকজন যে দুজন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করেছিলেন, তারা কি ভারতের নাকি বাংলাদেশের নাগরিক তা যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি।

‎তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ এক সেনা কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো চলমান রয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে। সাক্ষ্য দেওয়া সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালের সামনে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর বর্ণনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে একটি ছিল জিয়াউলের জাফলং অপারেশন।

‎এ সময় তিনি উল্লেখ করে বলেন, বিডিআরের বিভিন্ন সদস্যদের ধরে এনে দুটি পদ্ধতিতে হত্যা করেছেন তিনি। এর মধ্যে কাউকে ইনজেকশন পুশ করে, আবার কাউকে মাথায় গুলি করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দিতেন। এই দুই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিডিআর সদস্যকে তিনি হত্যা করেছেন বলে সাক্ষী জানিয়েছেন।

মন্তব্য

জাতীয়
Changes in state visits are reduced in travel companions and protocols

রাষ্ট্রীয় সফরে পরিবর্তনের ধারা, কমানো হলো সফরসঙ্গী ও প্রটোকল

রাষ্ট্রীয় সফরে পরিবর্তনের ধারা, কমানো হলো সফরসঙ্গী ও প্রটোকল

অতীতে কোনো দেশে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে সঙ্গে বিশাল বহর গেলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে এক্ষেত্রে এনেছেন বড় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এবং সফরসঙ্গীর তালিকা অনেক ছোট করে আনা হয়েছে। অতীতের প্রথা ভেঙে মালয়েশিয়ায় ২৩ জন আর চীনে আরেকজন যোগ হবেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকায়।

রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ কথা জানিয়েছেন।

রোববার দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটা তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে দলটি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেদিন শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটিতে সফর শেষে আগামী সোমবার চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফরকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরসঙ্গীর তালিকায় নজিরবিহীন মিতব্যয়িতা

প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী এত সংক্ষিপ্ত সফরসঙ্গী নিয়ে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। সালেহ শিবলী বলেন, ‘মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন ২৩ জন এবং চীন সফরে এই সংখ্যা হবে ২৪ জন।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় সফরসঙ্গীদের একটি দীর্ঘ তালিকা থাকতো। তবে এবার রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য যাদের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন, কেবল তাদেরই এই সফরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এ ছাড়া এই সংক্ষিপ্ত ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা।

সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এই সফরে রয়েছেন।

এছাড়াও সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার) তানভীর গনি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

বিদায়কালীন প্রটোকলে নতুনত্ব

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যার পাশাপাশি বিমানবন্দরে বিদায়কালীন প্রটোকলেও বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

প্রেস সচিব জানান, আগে প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের বাইরে যেতেন, তখন বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাতে মন্ত্রিসভার সদস্য এবং তিন বাহিনী প্রধানসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সারি থাকতো। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই প্রথাগত রীতিতে পরিবর্তন এনে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক নতুনত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

রোববার দুপুরে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমান এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ অল্প কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা।

প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের কার্যক্রম

সালেহ শিবলী উল্লেখ করেন, এটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। সফরের বিস্তারিত কার্যক্রম এবং আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইতিপূর্বেই পররাষ্ট্র সচিব ব্রিফিং করেছেন। সফরের সময় কোনো নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত বা বাদ পড়লে তা সময়মতো জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

প্রেস সচিবের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্রীয় কাজে মিতব্যয়িতা এবং আধুনিক প্রটোকল অনুসরণের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।

মন্তব্য

জাতীয়
Red carpet reception by guard of honor to Prime Minister at Kuala Lumpur Airport

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার প্রদান

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার প্রদান ছবি: ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের এ সফর করছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টা) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান। প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় এক শিশু জোবাইদা রহমানকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রায় কুয়ালালামপুরের শাংরি-লা হোটেলে যাবেন।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যেই প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য

জাতীয়
Disturbance of law and order around June 23 Those who try will be at risk RAB

২৩ জুনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করার চেষ্টাকারীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে: র‍্যাব

২৩ জুনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করার 
চেষ্টাকারীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে: র‍্যাব

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে যদি কেউ অস্ত্র দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তারাই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান। রোববার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে র‍্যাব-২ কার্যালয়ে ৫ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে করা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নয়মুল হাসান বলেন, ‘বিশেষ করে ২৩ তারিখ রিলেটেড কেউ যদি কোনো বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের মেসেজ দেওয়া হয়ে গেছে যে তারা যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না করে। যদি তারা আমাদের জন্য কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করতে চায়, তারা নিজেরাই ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাউরা সোহেলকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তার দেওয়া তথ্যমতে আরও দুই ছিনতাইকারী শফিকুল ইলাম সবুজ ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মাউরা সোহেলের নামে ছিনতাই-চাঁদাবাজির ১৪টি মামলা রয়েছে।’

মন্তব্য

জাতীয়
Vocalist Mumtaz Bail upheld

কণ্ঠশিল্পী মমতাজের জামিন বহাল

কণ্ঠশিল্পী মমতাজের 
জামিন বহাল

এক মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রোববার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে ১৫ জুন আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজ বেগমকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট।

এ তিন মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। এর মধ্যে এক মামলার শুনানি শেষে ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় ও কারাগারে পাঠানো হয়।

তার বিরুদ্ধে ঢাকার কয়েকটি থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

মন্তব্য

p
উপরে