× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
৩১ বছর পর সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার বিচার শুরু
google_news print-icon

৩১ বছর পর সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার বিচার শুরু

৩১-বছর-পর-সগিরা-মোর্শেদ-হত্যা-মামলার-বিচার-শুরু
এ মামলার আসামিরা হলেন- নিহত সগিরা মোর্শেদের ভাশুর হাসান আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন, হাসান আলীর শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান ও সন্দেহভাজন 'ভাড়াটে খুনি' মারুফ রেজা।

সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় বুধবার অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর মধ্যে দিয়ে তিন দশকেরও বেশি আগে আলোচিত এই হত্যার বিচার শুরু হলো।

ঢাকার মহানগর দায়রা আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ।

এর আগে আদালত কয়েক দফা অভিযোগ গঠনের তারিখ দিলেও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পেছানো হয়।

এ মামলার আসামিরা হলেন- নিহত সগিরা মোর্শেদের ভাশুর হাসান আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন, হাসান আলীর শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান ও সন্দেহভাজন 'ভাড়াটে খুনি' মারুফ রেজা।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদ সালাম ভিকারুননিসা স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে যাচ্ছিলেন। বিকেল ৫টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী রোডে পৌঁছামাত্র মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তার হাতের সোনার চুড়ি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তিনি দৌঁড় দিলে গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে সগিরা মোর্শেদ মারা যান।

ওইদিনই রমনা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন সগিরা মোর্শেদ সালামের স্বামী সালাম চৌধুরী। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক জড়িত দুই জনকে শনাক্ত করলেও অজ্ঞাত কারণে মিন্টু ওরফে মন্টু ওরফে মরণ নামে একজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি আসামি মন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দীক। সাক্ষ্য নেয়া হয় সাতজনের।

সাক্ষ্যে বাদীপক্ষ থেকে বলা হয়, তদন্তের সময়ে আসামি মন্টু এবং তৎকালীন (১৯৮৯) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসানের নিকটাত্মীয় মারুফ রেজা গ্রেফতার হন। কিন্তু মারুফ রেজার নাম বাদ দিয়েই অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ চলার সময়ে মারুফ রেজার নাম আসায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ১৯৯১ সালের ২৩ মে মামলার অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন ঢাকার বিচারিক আদালত। ওই আদেশের বিরুদ্ধে মারুফ রেজা রিভিশন আবেদন করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট মামলাটির অধিকতর তদন্তের আদেশ ও বিচারকাজ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করার পাশাপাশি অধিকতর তদন্তের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দেয়।

পরের বছর ২৭ আগস্ট জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার বিচারকাজ স্থগিত থাকবে বলে আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

এ মামলার সবশেষ তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নজরে আনলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ।

এরপর বিষয়টি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে তোলা হয়। আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

আরও পড়ুন:
সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের আংশিক শুনানি
সগিরা হত্যা মামলার বিচার আবার পেছাল
সগিরা হত্যা মামলার বিচার শুরুতে আরও অপেক্ষা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
An hour later the fire broke out at the Mutual Trust Bank in Dholaikhal

এক ঘণ্টা পর নিভল ধোলাইখালের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আগুন

এক ঘণ্টা পর নিভল ধোলাইখালের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আগুন ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে ধোলাইখাল এলাকায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আগুন নিভিয়ে ফেলে। ছবি: মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ/নিউজবাংলা
সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ব্যাংকটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে আগুন নিভিয়ে ফেলে।

রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে শনিবার ধরা আগুন নিভিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ব্যাংকটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে আগুন নিভিয়ে ফেলে।

এর আগে নিউজবাংলাকে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানান, ধোলাইখালের ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে আগুন লাগে। খবর পেয়ে বাহিনীর পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি ইস্যুতে যা জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকের মাসব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু
নতুন করে রিজার্ভ চুরির খবর সত্য নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক
সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে বিডিবিএলকে একীভূত করতে চুক্তি সই
ইসলামী ব্যাংকের বরিশাল জোনের কর্মকর্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মন্তব্য

জাতীয়
Arrested for robbing an autorickshaw by cutting the throat of the driver in the passenger seat 3

যাত্রীবেশে চালকের গলা কেটে অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩

যাত্রীবেশে চালকের গলা কেটে অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩ নীলফামারীতে অটোরিকশা চালককে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
পুলিশ সুপার গোলাম সবুর জানান, শহরের ধনি পাড়া তিস্তা সেচ ক্যানেল এলাকায় রোববার রাত ১২টার দিকে যাত্রীবেশে ছাপিনুরের অটোরিকশায় ওঠেন তারা। এরপর জনশূন্য রাস্তায় নিয়ে গিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য চেষ্টা করেন। চালক তাদের বাধা দিলে পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

নীলফামারীতে এক অটোরিকশার চালকের গলা কেটে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।

ছিনতাই করা অটোরিকশাসহ ঢেলাপীর এলাকা থেকে একজনকে এবং তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাকি দুইজনকে গাছবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের মধ্য সুটিপাড়া ফুলতলা এলাকার মো. রাসেল মিয়া (২২), উত্তর হাড়োয়া পঞ্চপুকুর এলাকার ফেরদৌস আলম (৩৫) ও নীলফামারী পৌরসভার বাড়াই পাড়া এলাকার জলিল ইসলাম ইসলাম ওরফে পিনিক বাবু (৩০)।

প্রাণ হারানো ছাপিনুর রহমান (৫৫) সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার গোলাম সবুর পিপিএম।

তিনি বলেন, শহরের ধনি পাড়া তিস্তা সেচ ক্যানেল এলাকায় রোববার রাত ১২টার দিকে যাত্রীবেশে ছাপিনুরের অটোরিকশায় ওঠেন তারা। এরপর জনশূন্য রাস্তায় নিয়ে গিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য চেষ্টা করেন। চালক তাদের বাধা দিলে পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে অটোরিকশাটি ছিনতাই করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, তারা বিষয়টি টের পেলে ছাপিনুরকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অ্যাম্বুলেন্সে রংপুর যাওয়ার সময় রাতেই মারা যান ছাপিনুর।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশের তিন থেকে চারটি টিম অভিযান শুরু করে। তারই প্রেক্ষিতে ছিনতাই করা অটোসহ ঘাতক রাসেল মিয়াকে ঢেলাপীর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ফেরদৌস ও জলিলকে গাছবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

আসামিদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
ফেরিওয়ালাকে হত্যায় নারীর মৃত্যুদণ্ড, স্বামীর জেল
পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে লাঠির আঘাতে হত্যার অভিযোগ
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ২ বন্ধুর আত্মহত্যা
যুদ্ধাপরাধের মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
টেকনাফে পিটুনিতে একজন নিহত

মন্তব্য

জাতীয়
Those two constables of Madaripur who took bribes are suspended

ঘুষ নেয়া মাদারীপুরের সেই দুই কনস্টেবল সাসপেন্ড

ঘুষ নেয়া মাদারীপুরের সেই দুই কনস্টেবল সাসপেন্ড সাময়িক বরখাস্ত দুই কনস্টেবল তানজিলা আক্তার ও শহিদুল ইসলাম। কোলাজ: নিউজবাংলা
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকির জানান, তদন্তে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও তানজিলা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ পাওয়ায় মাদারীপুরের সেই দুই কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকির।

বরখাস্ত দুই কনস্টেবল হলেন শহিদুল ইসলাম ও তানজিলা আক্তার। তাদের মধ্যে রাজৈর থানায় কর্মরত ছিলেন শহিদুল ইসলাম। অপরজন তানজিলা আক্তার মাদারীপুর জেলা আদালতের পুলিশের শাখায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্ত দু’জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকির জানান, ২০২২ সালের ১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও তানজিলা আক্তার কনস্টেবল পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে সদর উপজেলার মোস্তফাপুরের রবি দাসের ছেলে রতন দাসের কাছ থেকে নগদ ১৪ লাখ টাকা ঘুষ দেন। এ সময় রতনকে দেয়া হয় তানজিলা আক্তারের পুলিশের কমিউনিটি ব্যাংকের একটি চেক। চেকে তানজিলার স্বাক্ষর ও তারিখ রয়েছে।

এদিকে নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রতন দেখতে পান যে তার নাম নেই। পরে তিনি একাধিকবার পাওনা টাকা ফেরত চাইলেও তা দিতে অভিযুক্ত দুজন টালবাহানা শুরু করেন। ভুক্তভোগী পরে অভিযুক্ত দুজনের বিচার ও টাকা ফেরত চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেন।

রতন দাস বলেন, ‘পুলিশে চাকরি দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা নিয়েছে তানজিলা আক্তার নামে এক পুলিশ। কিন্তু সে চাকরি দিতে পারেনি। সেই টাকা দিয়ে তানজিলার স্বামী ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ব্যবসা শুরু করছে। টাকা ফেরত চাইলে সে টালবাহানা করছে।

‘আমার কাছ থেকে টাকা নেয়ার সময় একটি চেকও দিয়েছিল। এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে সে আমার টাকা ফেরত দিচ্ছে না। এই ঘুষ নেওয়ার সঙ্গে শহিদুল নামে এক পুলিশও জড়িত।’

অভিযোগকারী রতন দাসের বাবা রবি দাস বলেন, ‘আমি ধারদেনা করে ছেলের চাকরির জন্য টাকা দিয়েছিলাম তানজিলার কাছে। সে চাকরি দিতে পারেনি। এখন টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। তাই এসপি অফিসে অভিযোগ দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত তানজিলা আক্তার কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘যা বলার এসপি স্যারকেই বলেছি।’

অপর অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম নিজের দায় অস্বীকার করেন। তার দাবি, তিনি টাকা গ্রহণ করেননি।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকির আরও জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম তদন্তের জন্য একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
চাকরি দেয়ার কথা বলে ঘুষ নেয়ায় দুই পুলিশ সদস্য ক্লোজড

মন্তব্য

জাতীয়
Debris of crashed plane recovered in Chittagong

চট্টগ্রামে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার

চট্টগ্রামে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার উদ্ধার করা বিমানের ধ্বংসাবশেষ। কোলাজ: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার আশরাফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিধ্বস্ত বিমান উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার কাজ শেষ করেনি। প্রতিবেদন পেলে উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীতে বিধ্বস্ত হওয়া বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে নৌবাহিনীর অভিযানকারী দল।

কর্ণফুলী থানার জুলধা মাতব্বর ঘাট সংলগ্ন এইচএম স্টিল কারখানার পাশে কর্ণফুলী নদী থেকে বিমানের অংশটি বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উদ্ধার করা হয়, তবে এখনও উদ্ধার কাজ শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী দল।

বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হকের এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল একেএম শফিউল আজম ও নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধারকারীরা জানান, বিমানের ভগ্নাংশ খুঁজে পেতে বিমান বাহিনীর আধুনিক উদ্ধার জাহাজ ‘বলবান’ বিমানের ভাঙা অংশ উদ্ধারে কাজ চালিয়েছে। এ ছাড়াও বিমানটি খুঁজতে বিশেষ ‘সোনার সিস্টেম’ও ব্যবহার করা হয়েছিল।

উদ্ধারকারীরা তিন ভাগে বিমানটি খুঁজছেন। যে জায়গায় বিমানটি পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে লাল রংয়ের একটি বেলুন দিয়ে শনাক্ত করেছেন, সেখানে ডুবুরি দিয়ে খোঁজা হয়েছিল।

অন্য একটি দল নদীর পাড়ে খোঁজ চালায়। এ ছাড়া আরেকটি দল জহুরুল হক ঘাঁটিতে বসে সবকিছু মনিটরিং করে। অবশেষে নদীতে নৌবাহিনীর ডুবুরি দল নামার এক ঘণ্টার মধ্যে বিমানটি নদীতে শনাক্ত করে উপরে জাহাজে তোলা হয় বলে জানান নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা।

উদ্ধারকাজে সেনা, নৌ, বিমানসহ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার আশরাফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিধ্বস্ত বিমান উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার কাজ শেষ করেনি। প্রতিবেদন পেলে উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

পতেঙ্গা এলাকার কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের ১১ নম্বর ঘাটের নতুন পতেঙ্গা টার্মিনালের অপর পাশে এইচএম স্টিল মিল প্রান্তে বিমানটি আছড়ে পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে আগুন লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

এ সময় পাইলট উইং কমান্ডার মো. সোহান হাসান খাঁন, পিএসসি এবং স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদ জরুরি প্যারাসুট দিয়ে বিমান থেকে নদীতে নেমে পড়েন।

পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের উদ্ধার করে পতেঙ্গার বানৌজা ঈসা খাঁ হাসপাতালে (নেভি হাসপাতাল) নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাইলট আসিম জাওয়াদ মারা যান।

অপর পাইলট মো. সোহান হাসান খান বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগেও রাশিয়ার তৈরি ইয়াক-১৩০ মডেলের তিনটি প্রশিক্ষণ বিমান চট্টগ্রামে বিধ্বস্ত হয়। ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর কক্সবাজারের মহেশখালীর পুটিবিলা ও ছোট মহেশখালীতে বিধ্বস্ত হয়। এর আগে একই বছরের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার থানার কাইশ্যাঘোনা এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এসব ঘটনায় পাইলটরা আহত হলেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

ইয়াক-১৩০ মডেলের যুদ্ধবিমান ১৯৯৬ সালে প্রথম আকাশে উড্ডয়ন করে। এরপর ২০০২ সালে একে রুশ সামরিক পাইলটদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রধান আকাশযান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২০১৫ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে বিমানগুলো কেনা হয়।

রাশিয়ার সমরাস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইরকুত করপোরেশন এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান নির্মাণ করে থাকে। যুদ্ধবিমানগুলো মৌলিক ও যুদ্ধ প্রশিক্ষণের জন্য উপযোগী। পাশাপাশি একে আক্রমণের কাজেও ব্যবহার করা যায়।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌনে ৩ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার
ইসরায়েলের কোনো বিমান ঢাকায় আসেনি: বেবিচক
স্থূল হওয়ার কারণে বিমানে নিতে অস্বীকৃতি
ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্লেন্ডিং মেশিনে প্রায় আড়াই কেজি স্বর্ণ
চোরাই স্বর্ণসহ বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আটক

মন্তব্য

জাতীয়
Free upazila chairman candidate within 12 hours of detention

আটকের ১২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী

আটকের ১২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীনুজ্জামান শাহীন। ছবি: নিউজবাংলা
র‍্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এহতেশামুল বলেন, ‘আটকের পর আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। যেই টাকা জব্দ করা হয়েছিল সেটি নির্বাচনি ব্যয়ের সীমার মধ্যেই ছিল। জব্দকৃত টাকা ট্রেজারিতে জমা দেয়া হবে এবং শাহীনসহ সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে’

পাবনার সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহীনুজ্জামান শাহীনসহ আটক ১১ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আটকের ১২ ঘণ্টার মাথায় মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে র‍্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্প থেকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

র‍্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এহতেশামুল হক খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সুজানগরের চর ভবানীপুরের নির্বাচনি এলাকা থেকে সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাহীনের একটি গাড়ি ও প্রায় ২৩ লাখ টাকাসহ ১১ জনকে আটক করে র‍্যাব।

তাদের ছেড়ে দেয়ার বিষয় র‍্যাব কমান্ডার এহতেশামুল বলেন, ‘আটকের পর আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। যেই টাকা জব্দ করা হয়েছিল সেটি নির্বাচনি ব্যয়ের সীমার মধ্যেই ছিল। জব্দকৃত টাকা ট্রেজারিতে জমা দেয়া হবে এবং শাহীনসহ সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, তবে বিষয়টি আরও তদন্ত করে পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মুক্তি পাওয়ার পর শাহীন বলেন, ‘আমরা নির্বাচনি সকল ব্যয় পরিশোধের জন্য টাকাগুলো আনা হচ্ছিল। এটা কোনো অসৎ উপায়ের জন্য ব্যবহার হচ্ছিল না। সম্পূর্ণ বৈধ টাকা। আমি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার।’

শাহীন সুজানগর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এবারের উপজেলা নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী।

শাহীনসহ ১১ জনকে আটকের বিষয়ে এর আগে কমান্ডার এহতেশামুল বলেন, ‘আগামী ৮ মে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপে সুজানগর উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে র‌্যাবের নিয়মিত টহল দল সোমবার রাতে সুজানগরের চর ভবানীপুর এলাকায় টহল দিচ্ছিল। এ সময় সন্দেহ হওয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীনুজ্জামান শাহীন ও তার ১০ সহযোগীকে আটক করা হয়।

‘এ ছাড়া তার গাড়িতে রাখা দুই ব্যাগ ভর্তি ২২ লাখ ৮২ হাজার ৭০০ টাকা ও নির্বাচনি কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করা হয়।’

আগামী ৮ মে পাবনার সুজানগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে আনারস প্রতীকের শাহীনুজ্জামান শাহীনের সঙ্গে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাব (মোটরসাইকেল)।

আরও পড়ুন:
বিধি ভাঙার অভিযোগে গজারিয়ায় ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে শোকজ
বরিশালে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ৩
উপজেলা নির্বাচনে সেনাবাহিনী নামানো সম্ভব নয়: ইসি
দলের নির্দেশ অমান্য করে প্রভাব বিস্তার ইসির বোধগম্য নয়
বোরকা পরে দ্বিতীয়বার ভোট দিতে গিয়ে নারী আটক

মন্তব্য

জাতীয়
Allegation of extortion by sea Transfer of that police officer

নৌপথে চাঁদাবাজির অভিযোগ: সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি

নৌপথে চাঁদাবাজির অভিযোগ: সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি বদলি হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল আলীম। ছবি: সংগৃহীত
নৌ পুলিশ কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এসআই আবদুল আলীমকে খুলনা অঞ্চলে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে ভৈরব নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিরুল ইসলামকে চামটাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে সংযুক্ত করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের হাওরে নদ-নদীতে চলাচলরত নৌযানে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠা পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করেছে নৌ পুলিশ।

নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপি মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক এক আদেশে তাকে বদলি করা হয়।

অভিযুক্ত সেই পুলিশ কর্মকর্তার নাম আবদুল আলীম। তিনি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার চামটাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন নৌযানে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ৩ এপ্রিল দৈনিক বাংলায় ‘নৌ-পুলিশই যখন চাঁদাবাজ’ ও নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমে ‘নৌ পুলিশের যন্ত্রণাটা ডাকাত দলের সদস্যদের চেয়ে কম নয়’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নৌ পুলিশ সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইসমাঈল মিয়া বিষয়টি তদন্ত করেন।

তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমার পর অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।

নৌ পুলিশ কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এসআই আবদুল আলীমকে খুলনা অঞ্চলে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে ভৈরব নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিরুল ইসলামকে চামটাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিককে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি ‘কুত্তা মাসুদের’
সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি মামলায় নাটোরে কারাগারে ৪
ঢামেকে রোগীকে জিম্মি করে টাকা দাবির অভিযোগ
বৈধ অস্ত্র ভাড়া নিয়ে চলছিল অপহরণ-দখল
ভুয়া পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে ২ যুবক গ্রেপ্তার

মন্তব্য

জাতীয়
Jasim who sold tickets in the black market was arrested
নিউজবাংলায় সংবাদ প্রকাশ

কালোবাজারে টিকিট বিক্রি করা সেই জসিম গ্রেপ্তার

কালোবাজারে টিকিট বিক্রি করা সেই জসিম গ্রেপ্তার জসিম গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা। ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধা রেলওয়ে পুলিশের ওসি খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘২৩ তারিখ রাতে বুড়িমারী এক্সপ্রেসের ১৩ যাত্রী কালোবাজারিতে টিকিট কিনে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ হয় নিউজবাংলায়। খবর প্রকাশের পর আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তা তদন্ত করা হয়।’

অনলাইন নিউজপোর্টাল নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমে সংবাদ প্রকাশের পর গাইবান্ধায় কালোবাজারে ট্রেনের টিকিট বিক্রি করায় অভিযুক্ত জসিমকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এ মামলায় সোমবার সন্ধ্যায় বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গাইবান্ধার রেলওয়ে পুলিশ। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় তাকে।

সাঘাটা উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা জসিমকে গ্রেপ্তার এবং কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশের ওসি খাইরুল ইসলাম।

এর আগে গত রোববার ‘কালোবাজারে জসিমের কাছ থেকে টিকিট কিনে বিপাকে, অভিযোগ ১২ যাত্রীর’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয় নিউজবাংলায়।

বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ জানায়, এর আগেও জসিমকে কালোবাজারে টিকিট বিক্রির সময় বোনারপাড়ায় চারটি টিকিটসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

নিউজবাংলার ২৮ এপ্রিলের প্রতিবেদনে যা তুলে ধরা হয়

লালমনিরহাটের বুড়িমারী থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর ট্রেন ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেসে’ ২৩ এপ্রিল (মঙ্গলবার) রাতের ঘটনা।

ট্রেনটি রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে গিয়ে বোনারপাড়া স্টেশনে প্রবেশ করে রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে। সেদিন ‘ঞ’ বগিতে বেশ কিছু যাত্রী ওঠেন ওই স্টেশন থেকে।

ট্রেনে উঠেই এক নারী যাত্রীসহ চারজনের মধ্যে আসন নিয়ে বিবাদ তৈরি হয়। কারণ তাদের হাতে যে টিকিট ছিল, তার প্রতিটিতে একই আসন নম্বর।

মূলত কোনটি কার আসন, সেটিই নিয়েই বিবাদের শুরু হয়। পরে উপস্থিত যাত্রীদের সহায়তায় বিষয়টির সমাধান হয় এবং কামরার ‘ঞ’ বগির ৫, ৬, ৭ ও ১১ নম্বর আসনে বসেন বিবাদে জড়ানো যাত্রীরা।

যাত্রীদের মধ্যে বিবাদ হওয়া টিকিটে দেখা যায়, চার যাত্রীর হাতে আলাদা দুটি টিকিট থাকলেও তা ছিল মূলত দুটি টিকিটেরই প্রিন্ট কপি, যার নম্বরগুলো ছিল একই।

টিকিট দুটি ১৩ এপ্রিল একই তারিখে কেনা, যার একটিতে ঞ-৫, ৬, ৭, ও ১১ এই চারটি আসন নম্বর দেয়া আছে। আর নারীর হাতের অপর টিকিটেও রয়েছে ঞ-৫ ও ৭ ও ১১ আসন নম্বর। ওই টিকিটে যাত্রীরা বোনারপাড়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত যেতে পারবেন।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ওই দিন ঢাকাগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করলে রাত একটার পর সান্তাহার-নাটোর স্টেশনের মাঝামাঝিতে ট্রেনের ‘ঞ’ বগিতে আসেন টিকিট কালেক্টর ‘টিটিই’।

ওই সময় টিকিট চেক করার একপর্যায়ে এ দুটি টিকিটসহ একই ধরনের পাঁচটি টিকিট দেখতে পান তিনি, যা দেখে ওই সব টিকিটের যাত্রীদের সঙ্গে চটে যান টিকিট কালেক্টর। রাগান্বিত হয়ে কোথায় আর কার কাছ থেকে কেনা হয়েছে এসব টিকিট, এমন প্রশ্ন করতে থাকেন তিনি।

দুই সন্তানসহ ঢাকাগামী এক নারী জানান, তিনি তার স্বামীর সহায়তায় পেয়েছেন টিকিট। তার স্বামী কীভাবে কিনেছেন, তা জানা নেই। এ ছাড়া যাত্রী শাহীন, মুকিম ও শাকিলসহ ১২ জনই বলেন জসিম নামটি।

যাত্রীদের ভাষ্য, তারা বোনারপাড়ার জসিমের কাছ থেকে দ্বিগুণ দামে কিনেছেন এসব টিকিট।

এসব টিকিট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একই তারিখে কেনা টিকিটে আসন ছিল ১৩টি, যার মধ্যে দুটি টিকিটে আট যাত্রী এবং একটিতে দুই যাত্রী ট্রেনে চড়েন। অপর দুটি টিকিটে আসন সংখ্যা সাত দেয়া থাকলেও যাত্রী ছিলেন তিনজন।

যাত্রীদের মধ্যে পাঁচজন জানান, তারা কেউ কাউকেই চেনেন না। এ ছাড়া টিকিট ক্রয়ে যে এনআইডি, মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে এবং যাদের নামে কেনা হয়েছে, তাদের চেনেন না যাত্রীদের কেউই।

টিকিট পাঁচটির মধ্যে একটিতে দেখা যায়, ১৩ এপ্রিল কেনা টিকিটের ক্রয়কারীর নাম মো. আবদুর রাজ্জাক। আরেকটি টিকিটে দেখা যায় টিকিট ক্রয়কারীর নাম হাওয়া আকতার হাসি।

এসব টিকিটে ঢাকাগামী যাত্রীদের মধ্যে একজন শাহিন। তার বাড়ি বোনারপাড়ায়। তিনি ফার্নিচারের ব্যবসা করেন, জরুরি কাজে ঢাকায় যাচ্ছিলেন।

তার কাছে থাকা টিকিটের আসন নম্বর ঞ-৫, ৬, ৭ ও ১১। টিকিট দেয়ার সময় তাকে বলা হয়েছে তার আসন নম্বর ঞ-৭।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে অপর তিনটি আসন কার। এ ছাড়া তার এ টিকিটে ক্রেতার নাম আবদুর রাজ্জাক।

জানতে চাইলে যাত্রী শাহিন বলেন, ‘কয়েক দিন চেষ্টা করেও টিকিট পাইনি। পরে জসিমের থেকে বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দামে টিকিট কিনেছি। কিছু করার নাই। সবখানেই একই অবস্থা। যেতে হবে তো।’

‘আপনার হাতের টিকিটে আবদুর রাজ্জাক কে? এনআইডি আর এই মোবাইল নম্বরই বা কার?’

উল্লিখিত দুটি প্রশ্নের উত্তরে যাত্রী শাহিন বলেন, ‘মোবাইল নম্বর এবং এনআইডি কার জানি না। আর আবদুর রাজ্জাককেও আমি চিনি না।’

এ ছাড়া যাত্রীদের মধ্যে ওই নারীর বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ার শিমুলতাইর গ্রামে। তার স্বামী দুলু মিয়া ঢাকায় বেসরকারি চাকরি করেন। ওই নারীর হাতে যে টিকিটটি ছিল, তাতে আসন নম্বর ছিল ঞ-৫, ৭, ও ১১ নম্বর।

ওই নারী যাত্রীর দাবি, তাকে বলা হয়েছে তার আসন নম্বর ৫ ও ৭। তাহলে কোচের ১১ নম্বর আসনের যাত্রী কে, তা নিয়ে ওই নারী বলেন, ‘ঢাকা যাওয়ার জন্য আমার স্বামী দুটি টিকিট ১ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে কিনেছে। স্টেশন থেকে নয়, তবে কার থেকে কিনেছে টিকিট, তা জানা নেই।’

টিকিট কেনা আরেক যাত্রী শাকিল। তার কাছে একটি নয়, ছিল দুটি টিকিট। ওই দুই টিকিটে আসন সংখ্যা আটটি। এসব টিকিটে ঢাকা যাচ্ছিলেন শাকিলসহ আটজন।

শাকিলের হাতে থাকা দুটি টিকিটই কাউন্টার থেকে প্রিন্ট করা, যার মধ্যে ১, ৪, ২৮ ও ৩০ নম্বরের চারটি আসনের একটি টিকিটে যাত্রীর নাম দেখাচ্ছে হাওয়া বেগম।

ওই হাওয়া বেগম কে জানতে চাইলে শাকিল টিটিইকে বলেন, ‘চিনি না।’

‘তাহলে তার নামের টিকিটটি তোমার হাতে এলো কীভাবে?

টিটিইর উল্লিখিত প্রশ্নের জবাবে শাকিল বলেন, ‘বোনারপাড়ার জসিম ভাইয়ের থেকে প্রতিটি টিকিট ৮০০ টাকা করে কিনেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জসিম মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন টিকিট সব অনলাইনে। আর টিকিটে আমার নাম বা আমার নম্বর নাই। বোনারপাড়াতে মানুষকে ভালোবেসে কিছু করতে যায়া (গিয়ে) আমার নামে একটা ঘটনা ঘটে গেছে। তারপর থেকে আমি অনেকটাই দূরে।’

ওই সময় তিনি বলেন, ‘বোনারপাড়া স্টেশন মাস্টার থেকে শুরু করে সবাই এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মূলত তারাই এসব টিকিট বিক্রি করে।

‘যদি কোনো সমস্যা হয়, তারা আমার (জসিম) নামটা তাদের বলতে বলে দেয়। ট্রেনে সেদিনের ঘটনা আমি শুনেছি। যাত্রীরা নাকি আমার নাম বলেছে।’

টিকিট কালেক্টর গোলাম হাফিজ রিজু বলেন, “এই ‘ঞ’ বগির পাঁচটি টিকিটে থাকা ১৩ যাত্রীর প্রত্যেকেই ব্ল্যাকে টিকিট কিনেছেন। বিধি মোতাবেক তারা প্রত্যেকেই অবৈধ যাত্রী।

‘কেননা তাদের কাছে থাকা টিকিট ক্রয়ে যে এনআইডি ব্যবহার করা হয়েছে, সেই নামের বা সেই এনআইডিধারী ব্যক্তি মূলত যাত্রী নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘টিকিট কালোবাজারি যেকোনোভাবে ওই আইডি বা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে টিকিট ক্রয় করেছেন এবং বেশি দামে বিক্রি করেছেন।’

টিকিট এবং আসন সংক্রান্ত এসব ঘটনা নিউজবাংলায় তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ হলে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে একই দিন জসিমকে একমাত্র আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করে রেলওয়ে পুলিশ।
ওই মামলায় সোমবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গাইবান্ধা রেলওয়ে পুলিশের ওসি খাইরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২৩ তারিখ রাতে বুড়িমারী এক্সপ্রেসের ১৩ যাত্রী কালোবাজারিতে টিকিট কিনে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। ট্রেনের ভেতরে যাত্রীরা তা নিয়ে বিপাকেও পড়েছিলেন। এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ হয় নিউজবাংলায়। খবর প্রকাশের পর আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তা তদন্ত করা হয়।

‘তদন্তে ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রেতা জসিমের বিরুদ্ধে ওই সকল যাত্রীদের কাছে কালোবাজারিতে টিকিট বিক্রির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়।’

তিনি জানান, এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর টিকিট কালোবাজারে টিকিট বিক্রির সময় বোনারপাড়া থেকে গ্রেপ্তার হন জসিম। ওই সময় তার কাছ থেকে ট্রেনের চারটি টিকিট উদ্ধার করা হয়। পরে একই তারিখে রেলওয়ে পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার নামে মামলা করে।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে মাঠে র‍্যাব
কালোবাজারিতে ক্ষুব্ধ কক্সবাজারের পর্যটকরা
টিকিট কালোবাজারি: যাত্রীদেরকেই প্রতিরোধের পরামর্শ রেলমন্ত্রীর
কনফেকশনারিতে পাওয়া যাচ্ছিল রেলের টিকিট
টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে ৫ রেল কর্মকর্তাকে বদলি

মন্তব্য

p
উপরে