দেশে এইডসের ভাইরাস এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে বেশ সাফল্য দেখাচ্ছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে এইচআইভিমুক্ত দেশ গড়তে কাজে দিচ্ছে নানা পদক্ষেপ।
স্বাস্থ্য অধিদফরের তথ্যে জানা গেছে, দেশে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ৩৭৪ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ২৪২ জনের।
প্রতিবেশী ভারতে চিত্রটা বেশ আতঙ্কজনক। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটিতে ২১ লাখ এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়েছে, এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৯ হাজার জনের।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সিলিং, আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য পজিটিভ লিভিং কাউন্সিলিং, পুষ্টি, চিকিৎসার কারণে দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।
গত বছর ২৭ হাজার ১৬৮ জন মানুষের এইচআইভি টেস্টিং এবং ৪১ হাজার ৩০৯ জনকে স্ক্রিনিং করা হয়। তাতে প্রায় এক হাজার রোগী শনাক্ত হয়। নতুন শনাক্তের মধ্যে ৭৪ শতাংশ পুরুষ, ২৫ শতাংশ নারী ও এক শতাংশ ট্রান্সজেন্ডার। শনাক্তের হার বেশি ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে।
সবচেয়ে বেশি এইডস রোগী শনাক্তের সংখ্যা ঢাকা বিভাগে। এ পর্যন্ত এই বিভাগে রোগী শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৫৭২ জন। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, শনাক্তের সংখ্যা দুই হাজার আট জন।
এ ছাড়া সিলেট এক হাজার ১৯, রংপুর ৬৪, ময়মনসিংহে ৮৬, বরিশাল বিভাগে ১৭৯ জন এইডস রোগী রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিবি ল্যাপ্রোসি ও এসটিডি এইডস কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, আগের চেয়ে এইডস শনাক্তে সক্ষমতা বেড়েছে। সেই সঙ্গে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে।
‘সারাদেশে এইডস রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ দেয়া হচ্ছে। গ্রামের মানুষকে এই সেবার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এই সেবায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে। এইচআইভি আক্রান্ত মা সুস্থ বাচ্চা জন্ম দেবে, এটা আগে কেউ কল্পনাও করতো না। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে।’
স্বাস্থ্য অধিদফতরের এইডস, এসটিডি প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার মো. আক্তারুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে। সারাদেশের ১২টি হাসপাতাল ও ২৮টি সেন্টারে নিয়মিত এই ভাইরাস শনাক্তে কাজ করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই ভাইরাসের ওষুধও বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিও কাজ করছে।
অধিদফতরের এই কর্মকর্তা জানান, বর্তমান বিশ্বে এইডস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩৮ মিলিয়ন। এর মধ্যে নতুন আক্রান্ত ১৮ মিলিয়ন। দেশে বর্তমানে এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। চিকিৎসার আওতায় এসেছে মাত্র সাত হাজার ৩৭৪ জন। এখনও শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে প্রায় ৭ হাজার। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আছে ১০৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নাসিমা সুলতানা বলেন, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি অনেকটা আত্মগোপনে বসবাস করে। সমাজে একটা কুসংস্কার রয়েছে এই রোগে যারা আক্রান্ত তারা অপরাধী বা বড় কোনো পাপ করেছে। এসব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে। তাহলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
প্রতিবারের মতো এবারও ১ ডিসেম্বর দেশে বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হচ্ছে; প্রতিপাদ্য ‘সারা বিশ্বের ঐক্য, এইডস প্রতিরোধে সবাই নিব দায়িত্ব’।
‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিশুদের শুধু খেলাধুলা করলেই চলবে না, এর পাশাপাশি পড়াশোনা, সংস্কৃতি চর্চা ও উদ্ভাবনী কাজেও পারদর্শী হতে হবে। তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ, তোমাদের হাতেই আগামীদিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে। শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু খেললে চলবে না, লেখাপড়াও করতে হবে। এর পাশাপাশি গান, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, কবিতা আবৃত্তি, কোরআন-কেরাত থেকে শুরু করে নতুন নতুন ইনোভেটিভ কাজেও নিজেদের যুক্ত করতে হবে। তোমরা যদি সব কিছুতে নিজেদের পারদর্শী করতে পারো, তবেই আমরা একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।
ক্ষুদে খেলোয়াড়দের দেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তোমরা যারা আজ এখানে খেলছো বা গ্যালারিতে বসে আছো, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আমরা যারা বড় আছি, আমরা বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। বড় হয়ে তোমাদেরই এই দেশ চালাতে হবে এবং আমাদের চেয়েও ভালোভাবে চালাতে হবে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ক্রিকেট দিয়ে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। আগামীতে ফুটবল, সাঁতার, হকি, টেনিসসহ সব ধরনের খেলা দিয়ে বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনবে। তোমরাই হবে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর।
শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন অলিম্পিক— এমনটি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু স্থানীয় পর্যায়ে খেলা নয়, অলিম্পিকেও যেন আমরা ভালো ফলাফল করতে পারি সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
খেলাধুলার প্রসারে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই টুর্নামেন্টে গত দেড় মাসে সারাদেশে প্রায় ২২ লাখ শিশু অংশ নিয়েছে। আগামীতে আমরা মাধ্যমিক (সেকেন্ডারি) স্কুলেও এই গেম শুরু করব। এ ছাড়া এ বছর মাধ্যমিক ও আগামী বছর প্রাথমিক পর্যায় থেকে ‘প্রাইম মিনিস্টারস কাপ’ চালু করা হবে। শিশুদের সবুজ মাঠে খেলার সুযোগ করে দিতে নতুন নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড় ও কোচদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও প্রাইজমানি তুলে দেন। একইসঙ্গে টুর্নামেন্ট সফল করতে সহযোগিতা করায় সব শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এবারের টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দড়িররামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে, বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাবনার সাঁথিয়ার জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের আউচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
টুর্নামেন্টের বালক বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) এবং সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) পুরস্কার জিতেছে বরিশাল বাকেরগঞ্জের যথাক্রমে আবু রেদওয়ান ও শাহাদাত ইসলাম। বালিকা বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন নান্দাইলের পরশমনি এবং সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার মোসাম্মৎ মারিয়া খাতুন।
অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্ট পরিচালনায় যুক্ত রেফারি ও ম্যাচ কমিশনারদের হাতেও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় গ্যালারি ভর্তি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
বিভিন্ন দেশ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে ২২ হাজার প্রবাসীর আবেদন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যথাযথ না হওয়ায় তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার (২০ জুন) এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।
প্রবাসীদের আবেদন সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিবন্ধন আবেদন পড়েছে ৮৯ হাজার ৮৯৭টি।
বায়োমেট্রিক প্রদান করেছেন ৫৩ হাজার ২২৯ জন। তদন্তের পর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এমন আবেদনের সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৮টি। তদন্তের পর অনুমোদন হয়েছে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন। বাতিল হয়েছে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন। সার্ভারে তথ্য আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে ১০ হাজার ১৪১ জনের আবেদন। আপলোড করা হয়েছে ৩৭ হাজার ১৬ জনের আবেদন। এছাড়া আবেদন অনুমোদনের পর এনআইডি প্রিন্ট করা হয়েছে ২২ হাজার ১৮টি। সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে যা বিতরণ চলছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেষ্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুলালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরেন্টো; জাপানের টোকিও; আমেরিকার নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লসঅ্যাঞ্জেলস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট; দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াসহ মোট ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার তালিকা ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে। কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদন বাতিল হলেও অসুবিধা নেই। পুনরায় আবেদন করা যাবে।
সবচেয়ে বেশি ভোটার আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থেকে, ২৩ হাজার ৯৪০টি। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে, ১২৬টি আবেদন। সৌদি আরবে আবেদন জমা পড়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। যুক্তরাজ্যে ১৭ হাজার ৩০টি। ইতালিতে ৯ হাজার ৩৮টি। কুয়েতে আবেদন জমা পড়েছে ৫ হাজার ৫৭৩টি। কাতারে ৫ হাজার ৪০৬টি। মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি আবেদন এসেছে। অস্ট্রেলিয়াতে আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ২০৬টি। কানাডায় ৩ হাজার ২৯৮টি। জাপানে আবেদন জমা পড়েছে ৩০৯টি। যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ হাজার ৮১২টি। মালদ্বীপে ২৯৮টি ও ওমান থেকে আবেদন এসেছে ২ হাজার ২৪৬টি।
প্রবাসীদের চার তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক: বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র (ফরম-২(ক), মেয়াদ সম্বলিত বাংলাদেশি পাসপোর্ট/মেয়াদহীন পাসপোর্ট/এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যায়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে (দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে) জমা দিতে হবে।
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের (জেআইএম) বিশেষ অভিযানে ১৮৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। গত শুক্রবার (১৯ জুন) দিনগত রাতে রাজধানী কুয়ালালামপুরের পুডু মার্কেট এলাকার আশপাশে বিদেশি নাগরিকদের আবাসস্থল লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়।
‘অপস কুতিপ’ নামের এ অভিযানে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার এবং বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেন। তবে কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং পরে সবাইকে আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১২টা ৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি ইমিগ্রেশন বিভাগ, পুত্রাজায়া ও সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ, রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ (পিডিআরএম), কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল) এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের (জেপিএন) মোট ১৩৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৮৬ জনকে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক। মোট ১১৮ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ২৮ জন ইন্দোনেশীয় (৭ পুরুষ ও ২১ নারী), ২৬ জন মিয়ানমার নাগরিক (১৩ পুরুষ ও ১৩ নারী), ৫ জন ভিয়েতনামি (৩ পুরুষ ও ২ নারী), ৪ জন নেপালি, দুজন ভারতীয়, একজন পাকিস্তানি এবং দুজন চীনা নাগরিককে (১ পুরুষ ও ১ নারী) আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ বৈধ ভ্রমণ নথি বা অনুমতিপত্র ছাড়াই দেশটিতে বসবাস করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ১৫(১)(সি) (অতিরিক্ত সময় অবস্থান) এবং ধারা ৬(১)(সি) (বৈধ নথিপত্র ছাড়া অবস্থান)-এর আওতায় তদন্ত চলছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিদের ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
ফাইল ছবি
দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোটিং (ভাসমান) মজুতসহ দেশে খাদ্যশস্যের মোট সরকারি মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টন। খাদ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন খাদ্যশস্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, সরকারি গুদামগুলোতে বর্তমানে প্রধান খাদ্যশস্য চালের মজুত রয়েছে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। এছাড়া গমের মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন। এর ফলে ফ্লোটিং বা ভাসমান মজুত বাদে মোট মজুতের পরিমাণ ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন। এর সাথে গমের ২০ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন এবং চালের ১ হাজার ৯৬২ মেট্রিক টনের ফ্লোটিং মজুত যুক্ত হয়ে সর্বমোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টনে।
উল্লেখ্য, ধানের এই পরিমাণকে চালের আকারে রূপান্তর করেই মোট মজুতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দেশব্যাপী বোরো সংগ্রহ অভিযান পুরোদমে চলছে। ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সর্বমোট ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন, আতপ চাল ৩১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন এবং গম সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৯৪ মেট্রিক টন। এক্ষেত্রেও ধানকে চালের আকারে (১০০:৬৫ অনুপাতে) মোট সংগ্রহের হিসাবভুক্ত করা হয়েছে।
১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে মোট ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল আমদানি হয়েছে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন এবং গম আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭ টন।
আমদানির খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি ও আন্তর্জাতিক টেন্ডার) মোট ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০ টন চাল এবং ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৮ টন গম রয়েছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মোট ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৩ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে; যার মধ্যে সিংহভাগই চাল (৬৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৬ টন) এবং গম ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭ টন। চলতি অর্থবছরে খাদ্য সাহায্য হিসেবে কোনো চাল বা গম আমদানি করা হয়নি।
শুধু গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২০ টন (৫.১২ হাজার মে. টন)। যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৯০ টন চাল এবং ৩ হাজার ৩০ টন গম ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানের এই মজুতের পরিমাণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ এবং আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকায় বাজারে চাল ও গমের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের এই মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মামুন মিয়া।
তিনি বলেন, ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত থাকলে তা নিরাপদ মজুত হিসেবে গণ্য হয়। সে হিসেবে এখন দেশে যা মজুত আছে তা খুবই নিরাপদ।
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জামাল হোসেন বলেন, সরকার যেসব লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, তা বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। খাদ্য মজুত এখন খুবই সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে।
অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে নতুন ধান ও চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আগামী দিনগুলোতে এই মজুতের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ৩ মে থেকে খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এসময় ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল, ৫০ হাজার মেট্রিক টন গমসহ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
খাদ্য সচিব জানান, আমদানিসহ সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে খাদ্য মজুত আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত রোড শো অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
দেশের বন্ধ এবং অলাভজনক শিল্পকারখানাগুলোতে নতুন করে বিনিয়োগের গতি ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ রোড শোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতিকে আরও গতিশীল রাখতে বন্ধ ও লোকসানি কারখানাগুলোকে নতুন পুঁজিতে পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশে বিদ্যমান চমৎকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগানোর জন্য বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানান।
উচ্চপর্যায়ের এই বিশেষ রোড শোতে সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারক, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই বিশেষ আয়োজনে অংশ নেন।
বিনিয়োগের এই বড় মেলবন্ধনে দেশের প্রথম সারির শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রাণ-আরএফএল, এসিআই লিমিটেড, ওয়ালটন, মেঘনা গ্রুপ, রানার, টি কে গ্রুপ, ব্র্যাক, নাবিল, স্কয়ার, ট্রান্সকম, আকিজ এবং লাল তীর। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিশ্বখ্যাত জাপানি প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কোং, সোজিৎস এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং জেট্রো বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
একই সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। সংশ্লিষ্ট মহলের জোর আশা, এই রোড শোর মাধ্যমে দেশের ঝিমিয়ে পড়া ও লোকসানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাপানি ও দেশীয় বড় বিনিয়োগের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে, যা দেশের বেকার সমস্যার সমাধান, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) আটক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে মামলার নথিপত্রসহ প্রত্যর্পণ আবেদন সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুবাইয়ে আটকের পরপরই ১৪৪ পৃষ্ঠার মামলার নথিপত্র আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দেশে বর্তমানে ছয়টি মামলা চলমান। এর মধ্যে একটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে, আর বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন। এ বিষয়ে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্রগতির তথ্য জানানো হবে।
প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) ব্যবস্থার মাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভিন্নভাবে কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর ১২ জুন দুবাইয়ে আটক হন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। পরদিন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর এজাহার, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংযুক্ত করে প্রত্যর্পণ আবেদন আরব আমিরাতের কাছে পাঠানো হয়েছে।
দেশটির আদালত বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগও থাকবে বেনজীর আহমেদের।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল আলোচিত চীন সফরে ঠিক কী হতে পারে বা কী ধরনের কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা গভীরভাবে জানতে তৎপর হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ।
চলমান এই কূটনৈতিক তৎপরতারই একটি অংশ হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে গিয়ে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে যখন তিনি মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর কাছে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চান। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন কোনো সরাসরি রাজনৈতিক মন্তব্য বা চীন সফর নিয়ে কথা না বলে, ফুটবল বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ টেনে অত্যন্ত চতুর, বুদ্ধিমত্তা ও কূটনৈতিক পন্থায় সাংবাদিকদের জবাব দেন।
উল্লেখ্য, গত রাতে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক দুর্দান্ত ও স্মরণীয় জয় পেয়ে বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র দল।
সেই রোমাঞ্চকর জয়ের সূত্র ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বেশ হাস্যোজ্জ্বল মুখে গণমাধ্যমকে বলেন, গত রাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক দুর্দান্ত জয় পেয়ে বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দল, তাই তিনি মূলত এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সমস্ত বাংলাদেশিকে বিশেষভাবে অনুরোধ করতে এসেছিলেন যেন তাঁরা সামনের ম্যাচগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র দলকে প্রাণভরে সমর্থন করেন।
বাংলাদেশিদের ফুটবলপ্রেমের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যের শেষে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে যোগ করেন, দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে কখনোই ভুল হওয়ার বা পস্তানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।
মন্তব্য