৯৯৯ নম্বরে মিথ্যা তথ্য দিলে শাস্তি

৯৯৯ নম্বরে মিথ্যা তথ্য দিলে শাস্তি

‘বাচ্চা ছেলে বা কেউ যদি না বুঝে করে, দ্যাট উইল বি কনসিডার। তবে যদি চিট করতে চায়, ইচ্ছা করে যদি কেউ কিছু করতে চায় দ্যাট উইল বি পানিশ্যাবল। সেজন্য রেসপেক্টিভ আইন প্রযোজ্য হবে। মিথ্যা তথ্য দেয়ার শাস্তি পেনাল কোডে আছে।’

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এমন বিধান রেখে জরুরি সেবা ৯৯৯ নীতিমালা-২০২০ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, জনগণের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর এই সেবাটি চালু হয়। এরই মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে এই উদ্যোগ। তবে সেখানে ফোন করে নানা সময় বিরক্ত করার অভিযোগও আছে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘নীতিমালা অনুসারে মিথ্যা, বানোয়াট, গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে দেখা হবে।

‘বাচ্চা ছেলে বা কেউ যদি না বুঝে করে, দ্যাট উইল বি কনসিডার। তবে যদি চিট করতে চায়, ইচ্ছা করে যদি কেউ কিছু করতে চায় দ্যাট উইল বি পানিশ্যাবল। সেজন্য রেসপেক্টিভ আইন প্রযোজ্য হবে। মিথ্যা তথ্য দেয়ার শাস্তি পেনাল কোডে আছে।’

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুক্ত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

সচিব বলেন, “কে, কোথা থেকে জরুরি সেবা চেয়ে ফোন দিয়েছেন, সেটা চিহ্নিত করার ব্যবস্থা থাকবে। ফলে কেউ সহজে ‘ফলস রিং’ করতে যাবে না।”

জরুরি সেবাকে আরও জনবান্ধব করার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘৩৩৩, ১০৯-এর মতো আরো যে নম্বরগুলো আছে, সেগুলোর মধ্যেও আন্তঃসংযোগ থাকবে। কোনোটায় ফোন করে যদি কেউ বলে এখানে ডাকাত পড়েছে, ওখানে অটোম্যাটিক্যালি কানেক্টেড হয়ে যাবে।’

নীতিমালা প্রণয়নের উদ্দেশ্য তুলে ধরে সচিব বলেন, ‘নিরাপদ জীবন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংকটাপন্ন মানুষকে যাতে সহায়তা করা যায়, দুর্ঘটনা ও অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়। অপরাধের শিকার কোনো ব্যক্তি বা সম্পদ উদ্ধার করা যেন সহজ হয়। দুর্ঘটনায় নিপতিত মানুষকে উদ্ধার করে যাতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা এবং জানমাল উদ্ধারসহ দ্রুততম সময়ে দুর্গতদের যাতে হাসপাতালে প্রেরণ ও সেবা প্রদান করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘এখন আরও অর্গানাইজড ওয়েতে এটি হবে। এনটিএমসি, বিটিআরসি- সবার সঙ্গে ইন্সট্যান্ট একটা কমিউনিকেশন সিস্টেম থাকবে।’

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

নীতিমালা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নামে একটি ইউনিট গঠিত হবে। ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এই ইউনিটের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হবেন।

জরুরি সেবাটি দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক। ভার্চুয়াল এই বৈঠকে গণভবন প্রান্ত থেকে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আর মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা যোগ দেন সচিবালয় থেকে।

আরও পড়ুন:
মাস্ক নিয়ে কঠোর হতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য