গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে প্রায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সেই সঙ্গে সাপের বিষ বেচাকেনা ও পাচারের সঙ্গে জড়িত দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলেন মামুন তালুকদার(৫১) ও মো. মামুন(৩৩)। বুধবার রাতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শেখ রেজাউল হায়দার এসব তথ্য জানান।
শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, ‘গত ১৭ সেপ্টেম্বর সিআইডি ঢাকা মেট্রোর একটি টিম গাজীপুর জেলার বাসন থানা এলাকা থেকে সাপের বিষ পাচারকারী চক্রের এক জনকে গ্রেফতার করে। সেই মামলার তদন্তকালে আমরা জানতে পারি যে এ রকম আরও কয়েকটি পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে প্রায় নয় কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘পাচারকারীদের কাছ থেকে দুটি লকার পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি লকার খালি ছিল। কিন্তু অপরটিতে মোট ৬ টি কাচের কৌটা পাওয়া যায়। প্রতিটি কৌটায় এক কেজি পরিমাণ সাপের বিষ আছে। এর বাজার মূল্য প্রতি কেজি আনুমানিক দেড় কোটি টাকা । সে হিসেবে মোট নয় কোটি টাকার বিষ জব্দ করা হয়েছে। বিষ আমাদের ল্যাবে পাঠানো হবে তারপরে বোঝা যাবে এটা আসলে কোন ধরনের বিষ।’
তিনি আরো বলেন, ‘এসব বিষ বিদেশে চোরাচালানের জন্য রাখা ছিল। বাইরের দেশে সাপের একটা মার্কেট আছে কিন্তু বাংলাদেশের ভেতরে কোনো মার্কেট নেই। কনটেইনারগুলোতে লেখা আছে মেইড ইন ফ্রান্স। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আরো তথ্য পাওয়া যাবে।’
ফাইল ছবি
মার্কিন ভিসার সঠিক ও বৈধ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সব ভ্রমণকারীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস।
শনিবার (২০ জুন) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে এই আহ্বান জানানো হয়।
এক ফেসবুক পোস্টে দূতাবাসের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিজের ভিসার সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা মূলত সংশ্লিষ্ট ভ্রমণকারীর নিজেরই আইনি দায়িত্ব।
ভিসার শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী কোন ভিসায় কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, তা স্পষ্ট করে ওই পোস্টে আরও বলা হয়েছে, বি১ কিংবা বি২ (B1/B2) ক্যাটাগরির ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মূলত পর্যটন, ছুটি কাটানো, কেনাকাটা করা, সে দেশে অবস্থানরত বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি রয়েছে।
এর পাশাপাশি এই নির্দিষ্ট ভিসার আওতাভুক্ত ব্যক্তিরা সে দেশের ব্যবসায়িক সহযোগীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করা এবং যেকোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সভা বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও যোগ দিতে পারবেন।
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের পরিবর্তে ‘মাফিয়া পার্টি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না; একটা মাফিয়া পার্টি। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।” নিষিদ্ধ এই দলটির আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
আগামী ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আগামী ২৩ জুন তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে যেকোনো কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলটি উক্ত দিনটিকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে মিছিল বা কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে তা অন্য রাজনৈতিক দল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। এই ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিদেশে পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান যে, তাকে ইতিমধ্যে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইতিমধ্যে দুবাই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে।” আইনি সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকার অপরাধ দমন প্রসঙ্গেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “মোহাম্মদপুর এলাকা বহু বছর ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে রয়েছে। এ মোহাম্মদপুরকেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে। এখানকার অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।” পুলিশ সদস্যরা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নিয়মিতভাবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কোনো ধরনের আপস করবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ মহাসচিবের মায়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, "রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন।" তিনি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে বিশাল এক শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে আর সম্ভব নয়, বিশেষ করে যখন রোহিঙ্গারা নিজেরাও নিজ দেশে ফিরে যেতে উদগ্রীব।
শনিবার (২০ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
ওই সভায় রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী স্পষ্টভাবে বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।"
তিনি আরও জানান, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘকাল আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ তৈরি হয়েছে। এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সক্রিয় প্রচেষ্টাই কেবল রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব অনস্বীকার্য।’
শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠেয় ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।
তারেক রহমান বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সে জন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।’
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এই টুর্নামেন্টে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ এবং বালিকা ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারাদেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।
‘বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
সুস্থ মননশীলতা গঠন এবং সামাজিক মেলবন্ধনের আবহ ধরে রাখতে ফল উৎসবের সংস্কৃতিকে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রেস ক্লাবের এ ধরনের উদ্যোগ কেবল একটি ছোটখাটো উৎসব নয়, এর পেছনে একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দর্শন রয়েছে। পারস্পরিক হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এই মৌসুমে একসঙ্গে ফল বিনিময় এবং ফল আহারের গুরুত্ব অপরিসীম।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফল উৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের এই ঐতিহ্যবাহী ফল উৎসবের সংস্কৃতিকে কেবল শহরের গণ্ডিতে আটকে না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।
রকমারি দেশি ফলের সম্ভার ও দেশাত্মবোধক গানের আয়োজনে গতকাল সকাল থেকে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ। জাতীয় প্রেস ক্লাবের থিম সং ‘প্রেস ক্লাব আমাদের সেকেন্ড হোম’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
মন্ত্রী সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যে সমাজে সুস্থ অনুভূতি বিনিময়ের মাধ্যম থাকে না, সামাজিকতা বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান থাকে না; কেবল ক্ষমতা দখলের দলাদলি আর হিংস্র প্রতিযোগিতা চলে— তা কখনো সভ্যতার মানদণ্ড হতে পারে না।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ও সংস্কৃতির উদাহরণ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সব ধর্ম ও সমাজেই মৌসুমি ফল ও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের রীতি রয়েছে। এই মাটির প্রতি পরম করুণাময়ের রহমত ও আশীর্বাদ আছে বলেই আমাদের প্রকৃতি এত চমৎকার সব বৈচিত্র্যময় ফলমূল মানুষকে উপহার দেয়। ফল উপভোগ করার মধ্য দিয়ে মূলত প্রকৃতির ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি এক ধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায় বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, প্রেস ক্লাবের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠান যখন এই সুন্দর সংস্কৃতিকে ধরে রাখে এবং চর্চা করে, তখন গণমাধ্যমের কল্যাণে তা দেশব্যাপী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সুস্থ মনোজগতকে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারলে তা একটি সুস্থ ও মানবিক জাতি গঠনে বড় অবদান রাখবে।
এবারের উৎসবে আম্রপালি, ফজলি, হাঁড়িভাঙ্গা, জাম্বুরা, কলা, কামরাঙ্গা, আমলকি, আমড়া, পেঁপে, কাঁঠাল, আনারস, পেয়ারা, করমচা, লটকন, ড্রাগন, ডেউয়া, জামরুল, তাল, আপেল, লেবু, বাতাবিলেবু, লিচুসহ প্রায় ৪২ ধরনের বৈচিত্র্যময় দেশি ফলের প্রদর্শনী ও রস আস্বাদনের ব্যবস্থা করা হয়।
ফলের এই সমাহারের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দেশাত্মবোধক ও লোকজ গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন শিল্পী তামান্না হক, শাহরিয়ার রাফাত, মিনি আলাউদ্দিন ও বাবু।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এই ফল উৎসব ও সঙ্গীতানুষ্ঠান উপভোগ করেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং বিশেষ অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন উপকমিটির আহ্বায়ক কাদের গনি চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কাজী রওনাক হোসেন, বখতিয়ার রানা, সৈয়দ আবদাল আহমদ, একেএম মহসিন, মাসুমুর রহমান খলিলীসহ ক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
ফাইল ছবি
কোনো প্রশ্ন করা ছাড়াই সুনির্দিষ্ট খাতে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার। বিশেষ করে জমি, বিল্ডিং বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘোষণা দিলে অ-প্রদর্শিত অতিরিক্ত অর্থ নিয়মিত কর দিয়ে বৈধ করা যাবে। আবাসন ব্যবসায়ীরা এ সুযোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, আরেকটি বেগম পাড়া তৈরি ঠেকাতে এ সুযোগ কাজে আসবে। তবে, দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির মতে, অ-প্রদর্শিত অর্থ যে নামেই অভিহিত হোক না কেনো, এ সুযোগ দুর্নীতিকে উস্কে দেবে, সমাজে বাড়াবে বৈষম্য।
প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করা নিয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। তবে, বাজেটের অর্থ বিলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর প্রথম তফসিলে সংশোধন এনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি স্বপ্রণোদিতভাবে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ কিংবা ক্রয়ের সময় অ-প্রদর্শিত আয় ঘোষণা করে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর পরিশোধ করলে সেই অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারবে না সরকার।
আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌজা রেট-এর তুলনায় জমির বর্তমান দাম অনেক বেশি। বেশি দামে কেনাবেচা হওয়া অতিরিক্ত এই অর্থ কোনোভাবেই কালো টাকা বলতে নারাজ তারা। এছাড়া, অ-প্রদর্শিত অন্যান্য টাকাও আবাসন খাতে বিনিয়োগ করলে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে তারল্য প্রবাহ বাড়াবে বলে তারা আশা করছেন।
রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল বলেন, ‘এখন ব্যবসায়ীরা টাকাটা কী করবে। তারা তো সিস্টেমে আনতে পারছে না। আমরা বলছি সেটা সিস্টেমে নিয়ে আসা হোক। বরং সরকার কিছু ট্যাক্স পাবে। সিস্টেমে যদি আসে তাহলে বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলোতে যে তারল্য সংকট রয়েছে সেটা দূর হবে। এবং এ অর্থটা কিন্তু মেইনস্ট্রিমের বাইরে চলে গেছে। বালিশের নিচে আছে, আলমারিতে আছে বিভিন্ন জায়গায় পড়ে আছে। সেটাকে আপনি মূল ধারায় নিয়ে আসেন।’
অ-প্রদর্শিত যেকোনো অর্থ এনবিআর এর চোখে অবৈধ। প্রায়ই এনবিআরের অভিযানে এসব অর্থ জব্দ করার অভিযোগ করছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। এজন্য অতিরিক্ত কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগকেই উত্তম বিকল্প হিসেবে দেখছেন তারা।
এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘ইনকাম ট্যাক্সের লোক আসছে একেবারে ডেভেলপারের গলা চেপে ধরে টাকাগুলো নিয়ে যাচ্ছে। যে টাকাগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের পকেটে নিচ্ছে তার ৫০ শতাংশও যদি রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা দেয় দেশ অনেক উন্নত হবে।’
তবে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থার বাংলাদেশ শাখা-টিআইবি মনে করেন এ সুযোগে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও তীব্র হবে। নিরুৎসাহিত হতে পারেন নিয়মিত কর পরিশোধকারীরাও।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যে খাতগুলোতে এ সুবিধা দেয়া হবে সে খাতগুলোকে যারা পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত তাদের কতৃত্বাধীন করে দেয়া হচ্ছে। যারা সৎভাবে উপার্জন করেন তাদের পক্ষে এ খাতে অংশ নেয়ার সুযোগ ক্রমাগতভাবে কমছে।’
মৌজা রেট কম থাকার সুযোগে অ-প্রদর্শিত অর্থের জন্ম হচ্ছে, আবাসন ব্যবসায়ীদের এমন যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
ফাইল ছবি
প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ও বদলি করে নতুন দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। পাশাপাশি কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন এবং নতুন বিভাগে ইউএনও হিসেবে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাঙ্গামাটি সদরের ইউএনও মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরীকে খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ইউএনও সজীব কান্তি রুদ্রকে বান্দরবান এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ইউএনও রিগ্যান চাকমাকে চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ইউএনও মো. খায়রুল ইসলামকে জামালপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তাকে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১০(২) ধারা অনুযায়ী নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে, দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানকে সাতক্ষীরা এবং বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেবকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রশাসন ক্যাডারের ছয় কর্মকর্তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়নের জন্য বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইউএনও মংচিংনু মারমাকে সিলেট বিভাগে এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ইউএনও নাজমুল হুসাইনকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী ইয়াসমিন ও রাজউকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভীন বীথিকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার কাজী তাহমিনা শারমিনকে রাজশাহী বিভাগে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের উপপ্রধান নূরী তাসমিন ঊর্মিকেও ইউএনও হিসেবে পদায়নের জন্য খুলনা বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ন্যস্তকৃত কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে আগামী ২৪ জুনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে বিবেচিত হবেন।
মন্তব্য