20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
সড়ক সংস্কার: অনিয়মের অভিযোগ খোদ প্রকৌশলীর

সড়ক সংস্কার: অনিয়মের অভিযোগ খোদ প্রকৌশলীর

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফিরোজ আজম খান সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ৯ নভেম্বর সওজ বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে অনিয়ম তুলে ধরে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

বরগুনায় সাড়ে ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন খোদ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফিরোজ আজম খান।

তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ৯ নভেম্বর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে অনিয়ম তুলে ধরে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

তা সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাহী প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করেই সড়কের বেইজ টাইপ-১ কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

রাজাপুর-কাঁঠালিয়া-আমুয়া-বামনা-পাথরঘাটা সড়কটির দৈর্ঘ্য ৪৪ কিলোমিটার।

সওজের বরগুনা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজাপুর-কাঁঠালিয়া-আমুয়া-বামনা-পাথরঘাটা সড়কের ৩১ অংশ থেকে ৫১ অংশ পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সওজ বিভাগ। ব্যয় ধরা হয় ৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর মাহফুজ খান লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় সওজ কর্তৃপক্ষ।

আমুয়া ফেরিঘাটের দক্ষিণ পার থেকে বামনা ও ডৌয়াতলা বাজার হয়ে দক্ষিণ ভাইজোড়া সেতু পর্যন্ত সড়কের ১৯ কিলোমিটার অংশের বেইজটাইপ-১-এর কাজ চলছে।

সম্প্রতি সওজ বরগুনা কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ফিরোজ আজম খান সড়কের কাজ পরিদর্শন করেন। তিনি সড়কের কোনো জায়গাতেই বেইজ টাইপ-১ সঠিকভাবে পাননি মর্মে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিত প্রতিবেদন দেন।

এ ছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডৌয়াতলা বাজার অংশে ৭৫ মিলিমিটার (তিন ইঞ্চি) থিকনেস পাওয়া গেছে; থাকার কথা ছিল আট ইঞ্চি। সড়কের বাকি অংশে ৩০ মিলিমিটার (দেড় ইঞ্চি) থিকনেস পাওয়া গেছে। তিনি ঠিকাদারকে প্রাইম কোড করার অনুমতি না দেয়ার সুপারিশ করেন।

প্রাক্কলন অনুসারে সড়কটির ১৯ কিলোমিটারের উভয় পাশে ৩ ফুট করে ৬ ফুট প্রশস্তকরণের কথা। এতে ১৮ ফুট সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত হবে।

এ ছাড়া সড়কে ৮ ইঞ্চি পাথর, বালু ও মাটির মিশ্রণ দিয়ে বেইজ টাইপ-১ কাজ শেষ করার পর প্রাইম কোডের কাজ করার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উভয় পাশে মোট ৬ ফুট প্রশস্ত করা হয়েছে। তবে বেইজ টাইপ-১-এর কাজ সঠিকভাবে না করেই ঠিকাদার প্রাইম কোডের কাজ শুরু করেছেন।

বুধবার সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে ডৌয়াতলা বাজারের উত্তর দিকে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের থিকনেস ৬ ইঞ্চি পাওয়া যায়। এরপর থেকে আমুয়া ফেরিঘাটের দক্ষিণ পার পর্যন্ত গড়ে ৩ ইঞ্চির বেশি থিকনেস কোথাও নেই। ৮ ইঞ্চির স্থলে মাত্র ৩ ইঞ্চি বালু, পাথর ও মাটির মিশ্রণ দিয়ে বেইজ টাইপ-১-এর কাজ শেষ করেছেন ঠিকাদার।

স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা নিউজবাংলাকে জানান, সওজের কর্মকর্তা পরিদর্শন করে যাওয়ার পর ডৌয়াতলা বাজারের দক্ষিণাংশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তিন বার নতুন করে মিশ্রণ ফেলেছে।

এতে ওই অংশের প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ৬ ইঞ্চির মতো মিশ্রণ পড়েছে। বাকি সড়কের কোথাও তিন ইঞ্চির বেশি মিশ্রণ দেয়া হয়নি। এ অবস্থাতেই ওই সড়কটির প্রাইম কোডের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সওজের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর প্রতিবেদনের পর ঠিকাদার বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে দেখা করেন। তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন।

এ কারণে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রাইম কোডের কাজের অনুমতি দিয়েছেন।

জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহফুজ খান লিমিটেডের প্রতিনিধি মো. কালাম বলেন, ‘আমরা প্রাক্কলন অনুসারে কাজ করছি। সড়কের কিছু জায়গায় থিকনেস কম ছিল। আমরা ওই সব জায়গায় আবার মাটি, বালু ও পাথরের মিশ্রণ দিয়েছি।’

বরগুনা কার্যলায়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফিরোজ আজম খান জানান, প্রকৌশলী বরাবরে কাজের অনিয়মের বিষয়গুলো উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয়ার পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহফুজ খান লিমিটেডকেও অনুলিপি দিয়েছেন।

সওজ বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হায়দারুজ্জামান বলেন, ‘উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর প্রতিবেদন পেয়েছি। সড়কের কাজ প্রাক্কলন অনুসারে না করা হলে ঠিকাদারকে বিল দেব না।’

‘ম্যানেজ হওয়ার’ অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় অযোগ্য কিছু ঠিকাদার কাজ না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা বলে বেড়ান।’

আরও পড়ুন:
প্রকল্পের কাজ না করেই ‘২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ’

শেয়ার করুন

মন্তব্য