‘ঘুষের নিউজ করলে করেন, আমার কিছুই হবে না’

‘ঘুষের নিউজ করলে করেন, আমার কিছুই হবে না’

সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে জামশেদ আলমের ঘুষ নেয়ার ভিডিও পেয়েছে নিউজবাংলা। দুর্নীতির অভিযোগ স্বীকার করেছেন খোদ জামশেদও। তবে কোনো কিছুরই পরোয়া নেই তার। নিউজবাংলাকে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, ‘এর আগেও নিউজ হয়েছে। আপনিও করলে করেন, আমার কিছুই হবে না।’

বিআরটিএর সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জামশেদ আলম। কক্সবাজার বিআরটিএ কার্যালয়ে তার বিপুল ক্ষমতা। মাত্রাছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে।

জামশেদের নেতৃত্বে বিআরটিএ কার্যালয় ঘিরে রয়েছে দালাল চক্র, যাদের ঘুষ না দিলে নড়ে না কোনো ফাইল।

এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে জামশেদ আলমের ঘুষ নেয়ার একটি ভিডিও পেয়েছে নিউজবাংলা। রামুর এক বাসিন্দা সম্প্রতি ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে তার কাছ থেকে এই উৎকোচ নেন জামশেদ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জামশেদ আলমের চক্রটি রীতিমতো ঘুষের ‘উৎসব’ চালাচ্ছে কক্সবাজার বিআরটিএ কার্যালয়ে।

রাজস্ব জমা না দিয়ে আত্মসাৎ, হালকা যানের লাইসেন্স থেকে মাঝারি লাইসেন্সের পরিবর্তে সরাসরি ভারী যানের লাইসেন্স করিয়ে দিয়ে লাখ-লাখ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এই চক্রের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ভুয়া নম্বর দিয়ে লাইসেন্সও মেলে ঘুষের বিনিময়ে।

এ বিষয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী দুদকসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগও করেছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ‘টাইগার আইটি বিডি’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে বিআরটিএর। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার অপারেটর জামশেদ আলম। কক্সবাজার বিআরটিএ কার্যালয়ে গত দেড় বছর দায়িত্বে আছেন তিনি। আর এ সময়েই দুর্নীতির চক্র গড়ে তোলার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীরা জানান, জরুরি লাইসেন্স করিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশগামী এবং বিভিন্ন পেশার লোকজনের কাছ থেকে লাইসেন্স প্রতি ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জামশেদের চক্র।

এর বাইরে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশনের ছবি তোলার সময় জামশেদকে ২০০ থেকে এক হাজার টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এমনকি কার্ড ডেলিভারির সময়েও দিতে হয় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। যানবাহনের মালিকানা পরিবর্তনের সময়েও দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ।

একজন সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, জামশেদকে টাকা দিলে তিনি বিআরটিএতে যেকোনো কাজ করে দিতে পারেন। এ জন্য যার কাছে যত নেয়া যায়, সেটাই হাতিয়ে নেন। মোটা অঙ্কের টাকা দিলে পরীক্ষা ছাড়াও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএর এক কর্মচারী নিউজবাংলাকে বলেন, মোটরযান চালকদের পেশাদারত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও ওরিয়েন্টেশন বাবদ প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তেমন কোনো কার্যক্রম কক্সবাজারে নেই। ভুয়া বিল-ভাউচার করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তা আত্মসাৎ করছেন। এ নিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে টানাপড়েন চলছে।

দুর্নীতির অভিযোগ স্বীকার করেছেন খোদ জামশেদ আলম। তবে কোনো কিছুরই পরোয়া নেই তার।

নিউজবাংলাকে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, ‘এর আগেও নিউজ হয়েছে। আপনিও করলে করেন, আমার কিছুই হবে না।’

বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেলের সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) উথোয়া ইনু চৌধুরীকে। তবে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’

আরও পড়ুন:
বিদেশে ঘুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই

শেয়ার করুন

মন্তব্য