মুজিববর্ষে বিশেষ অধিবেশনের স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

মুজিববর্ষে বিশেষ অধিবেশনের স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন

বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তার সংসদ ভবন কার্যালয়ে এ ডাক টিকিট উন্মোচন করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’-এ জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত বিশেষ অধিবেশন উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তার সংসদ ভবন কার্যালয়ে এ ডাক টিকিট উন্মোচন করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে।

এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, ডাক অধিদফতরের পরিচালক মো. আলতাফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নামের মিলে বিনা দোষে জেলে

নামের মিলে বিনা দোষে জেলে

প্রকৃত অপরাধী মানিক মিয়া (বাঁয়ে) পলাতক। বিনা দোষে কারাভোগ করছেন মানিক হাওলাদার। ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃত আসামির বাবা বলেছেন, ‘হেই গ্রামের মানিক হাওলাদার তো প্রকৃত আসামি না। আমার পোলাই আসামি। ঝুট বইল্যা লাভ নাই। একটা মানুষ বিনা দোষে জেল খাটব এইড্যা ঠিক না। ও অন্যায় করছে, অর বিচার ওইব।’

শরীয়তপুরের সখিপুর থানার মানিক হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি বিনা দোষে তিন মাসের বেশি সময় ধরে কারাভোগ করছেন বলে স্বজনরা দাবি করছেন।

প্রকৃত আসামি একই ইউনিয়নের মানিক মিয়া। তিনি পলাতক। তার বাবা বলেছেন, ‘হেই গ্রামের মানিক হাওলাদার তো প্রকৃত আসামি না। আমার পোলাই আসামি। ঝুট বইল্যা লাভ নাই। একটা মানুষ বিনা দোষে জেল খাটব এইড্যা ঠিক না। ও অন্যায় করছে, অর বিচার ওইব।’

পুলিশ ও স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২ জুন সিরাজগঞ্জের সলংগা থানাধীন হাটিকুমরুল এলাকায় র‌্যাব-১২-এর হাতে ফেনসিডিলসহ ধরা পড়েন চারজন মাদক ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় উদ্ধার করা হয় ৬৮৮ বোতল ফেনসিডিল। র‌্যাব-১২-এর তৎকালীন স্পেশাল কোম্পানি লিখিত অভিযোগ করলে সলংগা থানায় মামলা নেয়।

ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে ৩ নং আসামি মানিক মিয়ার বাড়ি শরীয়তপুরের সখিপুর থানার সখিপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মালতকান্দি গ্রামে। বাবার নাম ইব্রাহীম মৃধা ও মায়ের নাম লুৎফা বেগম। কিন্তু ধরা পড়ার পর নিজের নাম বলেন মানিক হাওলাদার, বাবার নামের স্থলে তার খালুর নাম নজরুল হাওলাদার এবং মায়ের নামের স্থলে খালা অরুনা বেগমের নাম বলেন। ঠিকানা গ্রামের নাম মালতকান্দির পরিবর্তে বেপারীকান্দি বলেন। কিছু দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান মানিক মিয়া। এরপর থেকে পলাতক।

প্রায় ১০ বছর মামলা চলার পর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং-১-এর বিচারক ফাহমিদা কাদের ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। রায়ে ওই চার আসামির প্রত্যেককে চার বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও পাঁচ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে সখিপুর থানায় পাঠানো হয়। প্রকৃত আসামি মানিক মিয়া তখনও পলাতক। পুলিশ বেপারীকান্দি গ্রামের প্রয়াত নজরুল ইসলাম ও রেজিয়া বেগমের ছেলে মানিক হাওলাদারকে বাড়ি থেকে ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে শরীয়তপুর কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর শরীয়তপুর কারা কর্তৃপক্ষ মানিক হাওলাদারকে পাঠিয়ে দেয় সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে। তিনি সেখানেই কারাভোগ করছেন।

মানিক হাওলাদারের পক্ষের আইনজীবী পার্থ সারথী রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একই নামে অনেক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তামিল করার সময় তিনি প্রকৃত অপরাধী, নাকি নির্দোষ সেটা পুলিশকেই যাচাই করতে হবে। মানিক হাওলাদার পুলিশকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়েছেন। সব কিছু খুলেও বলেছেন। কিন্তু পুলিশ তার কথা শোনেনি। পুলিশ এ ব্যাপারে চরম গাফিলতি করেছে। যার খেসারত দিচ্ছেন একজন খেটে খাওয়া মানুষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানিক হাওলাদারের স্ত্রী সালমা বেগম স্বামীর মুক্তি চেয়ে ২ মার্চ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন। ৩ মার্চ বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোট বেঞ্চে শুনানি হয়েছে। আগামীকাল ৭ মার্চ শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।’

মানিক হাওলাদারের স্ত্রী সালমা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামলা চালাতে গিয়া নিঃস্ব। আমার যত গরু ছাগল, আঁস মুরগি আছিল, সব শ্যাষ। আমার এই সংসার চলতাছে না। চাইড্যা পোলাপান লইয়্যা আমরা খুব অসহায় আছি। স্বামীর মুক্তি চাই। লগে সব ক্ষ্যাতিপূরণ চাই।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ফারুক মালত বলেন, ‘মানিক মিয়া আসলেই মাদক ব্যবসায়ী। ওর বাবা মায়ও আমারে কইছে, ও তাদের আওতার বাইরে গ্যাছে গা। অহন নিরপরাধ যেই লোকটা জ্যাল খাটতাছে, হেইড্যা লইয়া চেয়ারম্যানের একটা প্রক্রিয়া ছিল। মূল আসামির বাবা-মারে আদালতে আমরা হাজির করছিলাম। কিন্তু লাভ অয় নাই। আমরা চাই নির্দোষ ব্যক্তি মুক্তি পাউক।’

মানিক মিয়ার গ্রামের বাড়ি মালতকান্দি গেলে তার বাবা ইব্রাহিম মৃধা বলেন, ‘ছেলে একটাই। অনেক বছর ধইরা বাড়িত আহে না। কই আছে জানি না।’

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘মামলাটি ১২ বছর আগের। তখন সখিপুর ভিন্ন থানা ছিল না। এই এলাকা ছিল ভেদরগঞ্জ থানার অধীনে। নানা কারণে জাটিলতা ছিল। বিষয়টি আমার নজরেও আসেনি। আদালত এ বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছিল। আমরা দিয়েছি। এখানে যদি পুলিশের কোনো গাফিলতি পাই, সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

গুজব ছড়ানোর দায়ে মুশতাক গ্রেপ্তার: তথ্যমন্ত্রী

গুজব ছড়ানোর দায়ে মুশতাক গ্রেপ্তার: তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন তথ্যমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রামে শনিবার এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মুশতাক কেন জামিন পাননি, তা আদালত বলতে পারবে। তার মৃত্যু স্বাভাবিক।

করোনা মহামারি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়ানোয় লেখক মুশতাক আহমেদকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

চট্টগ্রামে শনিবার এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মুশতাক কেন জামিন পাননি, তা আদালত বলতে পারবে। তার মৃত্যু স্বাভাবিক।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এক মামলায় গত বছরের মে মাসে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে মারা যান। তার মৃত্যুর পর ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পাস হওয়া আইনটি নিয়ে সারা দেশে নতুন করে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘মুশতাক করোনা মহামারি নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা ধরনের পোস্ট দিয়েছেন। একটি পেজ থেকে নানাভাবে গুজব ছড়াচ্ছিলেন, সেই কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

Mushtak-NB
লেখক মুশতাক আহমেদ। ছবি: ফেসবুক

‘জামিন কেন পাননি, সেটি কোর্ট বলতে পারবে, এই এখতিয়ার কোর্টের। তার মৃত্যুটা স্বাভাবিক মৃত্যু, তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এভাবে ছেলেধরা নিয়েও গুজব ছড়ানো হয়েছিল।’

হাছান মাহমুদ বলেন, বাঙালি একটি নিরস্ত্র জাতি ছিল, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের একটি ভাষণের মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র বাঙালিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। ‘বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে বললেন, তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থেকো, শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।’ সেদিন নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র বাঙালিতে রূপান্তরিত হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এমন একটি ভাষণ ছিল, যার লাঠি আছে সে লাঠি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল। যার ঘরে দা আছে, লাইসেন্স করা বন্দুক আছে- তা নিয়েই বেরিয়ে পড়েছিল। যে ভাষণ আজও যে কেউ শুনলে যেভাবে উদ্দীপ্ত হয়, গায়ের লোম যেভাবে খাড়া হয়ে যায়, এমন কোনো নেতার ভাষণ বিশ্ব ইতিহাসে প্রকৃতপক্ষে কেউ দেননি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর কোনো নোট ছিল না, তিনি একনাগাড়ে বলে গেছেন। পৃথিবীতে অনেক ভাষণ আছে, অনেক অর্থবহ। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তার এ ভাষণে একটা নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীকে সশস্ত্র জনবাহিনীতে রূপান্তর করে প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের পর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে লেখা হয়েছিল, চতুর শেখ মুজিব প্রকৃত অর্থে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা ঘোষণা করার জন্য তাকে অভিযুক্তও করা যাচ্ছে না। এমনভাবে বঙ্গবন্ধু বললেন,‌‌ ‌‘“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এর মাধ্যমে সেদিন রিপোর্টার ও তরুণদের উদ্দীপ্ত করেছিল এই ভাষণ।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ অসাধারণ ও অনন্য বিধায় জাতিসংঘের বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

ড. হাছান মাহমুদ এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীদের সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনের প্রচার বেশি করার পরামর্শ দেন।

বলেন, ‘বড় বড় স্লোগান ও ছবি তুলে ফেসবুকে দেয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন অপপ্রচারগুলোর বিরুদ্ধে সুপ্রচার চালানো, উন্নয়ন ও অর্জনের প্রচার করা।’

সভায় বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব এটিও বলেছেন ৭ মার্চ ইতিহাস। এই ইতিহাসকে আমাদের স্বীকার করতে হবে।

‘আমি ফখরুল সাহেবদের বলব- বাকি যে ইতিহাস বিকৃতি করেছিলেন, সেগুলোরও ভুল স্বীকার করে নেন। তাহলে জাতি আপনাদের সাধুবাদ দিবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির এখন নানা ধরনের মিছিল আছে, দৌড় মিছিল, চোরাগোপ্তা মিছিল, হঠাৎ মিছিল। গতকাল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ নাকি একটি চোরাগোপ্তা মশাল মিছিল করেছেন।

‘তাদের বলব, এভাবে চোরাগোপ্তা মিছিল ও মানুষের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা করে লাভ হবে না। সত্যিকার অর্থে জনগণের কাছে যদি যেতে চান তাহলে ইতিহাসকে মেনে নিন, যেভাবে ৭ মার্চকে মেনে নিয়েছেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে যখন কোনো অর্জন হয়, আমরা যখন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পেলাম, তখন একটি পক্ষ লেগে গেল অন্য বিষয় নিয়ে মাঠ গরম করার জন্য।

‘অথচ এটি নিয়ে একটি অভিনন্দন তাদের মুখ থেকে আসেনি। এটি তাদের একপেশে ও চিন্তার দৈন্য। দেশের অর্জন যে তাদের চোখে পড়ে না, কানে যায় না সেটিরই বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একটি উন্নত রাষ্ট্র রচনা করার। সেই স্বপ্ন পূরণ করে যেতে পারেননি বঙ্গবন্ধু। তিনি যদি বেঁচে থাকতেন আজকে মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের আগেই বাংলাদেশ নাম লেখাত উন্নত দেশের কাতারে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাঁই সাইঁ করে উন্নত দেশের কাতারে নাম লেখাতে এগিয়ে যাচ্ছে। স্বল্প আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ‘আমাদের সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বছরে জাতিসংঘ ফাইনাল রিকমেন্ডেশন দিয়েছে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে। এটি আমাদের দেশের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় অর্জন।’

সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক মো. শামসুল হক।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালামের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক দেবাশীষ পালিতের সঞ্চালনায় সভায় অংশ নেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. আতাউর রহমান, সহসভাপতি অধ্যাপক মো. মঈন উদ্দিন, অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, মঈন উদ্দিন রাশেদ, জসিম উদ্দিন, আফতাব উদ্দিন আহমেদ, স্বজন কুমার তালুকদার, আবদুল্লাহ আল বাকের ভুইঁয়া, উত্তর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো আটটি রেল ইঞ্জিন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো আটটি রেল ইঞ্জিন

জাহাজ থেকে খালাস করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা রেল ইঞ্জিন। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ১ হাজার ১২৩ কোটি টাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রোগ্রেস রেল লোকোমেটিভ ইন করপোরেশনের কাছ থেকে ইঞ্জিন কেনার চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে রেলওয়ের আটটি ব্রডগেজ ইঞ্জিন। শনিবার সকালে ইঞ্জিনগুলো জাহাজ থেকে খালাস করা শুরু হয়।

ইঞ্জিন কেনা প্রকল্পের উপপরিচালক কাজী ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪০টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন আনা হচ্ছে। পাঁচ ধাপে এগুলো বন্দরে আসবে। শনিবার প্রথম ধাপে আসে আটটি।

২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ১ হাজার ১২৩ কোটি টাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রোগ্রেস রেল লোকোমেটিভ ইন করপোরেশনের কাছ থেকে ইঞ্জিন কেনার এ চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

তিনি আরও জানান, রেলওয়েকে যুগোপযোগী করতে এসব ইঞ্জিন কেনা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, ২৪ থেকে ৩৬ মাসের মধ্যে ইঞ্জিনগুলো সরবরাহ করার কথা।

বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ৯৪টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫টির অথনৈতিক মেয়াদ (২০ বছর) শেষ হয়ে গেছে।

শেয়ার করুন

বনগাঁও সীমান্তে বিজিবির গুলি, ‘চোরাকারবারি’ নিহত

বনগাঁও সীমান্তে বিজিবির গুলি, ‘চোরাকারবারি’ নিহত

সুনামগঞ্জ ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কার্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

বিজিবি বলছে, শনিবার দুপুরে চোরাকারবারির হামলায় তাদের এক সদস্যও গুরুতর আহত হয়েছেন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁও সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ‘চোরাকারবারি’ নিহত হয়েছেন।

বিজিবি বলছে, শনিবার দুপুরে চোরাকারবারিদের হামলায় তাদের এক সদস্যও গুরুতর আহত হয়েছেন।

সুনামগঞ্জ ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মাকসুদুল আলম জানান, রঙ্গাচর ইউনিয়নের বনগাঁও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু পাচারের সময় এ সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা গুলি চালালেও কামাল মিয়া তাদের গুলিতেই মারা গেছেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।

নিহত কামাল মিয়ার মরদেহ সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আহত বিজিবি সদস্য ল্যান্স নায়েক থুই হলা মং মারমাকে সুনামগঞ্জে বাহিনীটির নিজস্ব হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মানিক মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান কামাল।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাকসুদুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বনগাঁও সীমান্তে নিয়মিত টহলে ছিল বিজিবির ছয় সদস্য। এ সময় ৩০টি গরু পাচারের চেষ্টা করছিলেন কয়েকজন চোরাকারবারি। তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

‘একপর্যায়ে কামাল মিয়ার নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন হামলা চালায়। দা ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় থুই হলা মং মারমাকে। এ সময় আত্মরক্ষায় দুই রাউন্ড গুলি করে বিজিবি সদস্যরা। এতে গুলিবিদ্ধ হন কামাল। তবে তিনি মারা গেছেন কি না, তা জানি না।’

আহত বিজিবি সদস্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

ঢাকার উত্তরে মশা নিধনে নামছে ১২০০ কর্মী

ঢাকার উত্তরে মশা নিধনে নামছে ১২০০ কর্মী

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় বেড়েছে মশার উৎপাত। ছবি: নিউজবাংলা

মশা নিধনে সোমবার থেকে ক্রাশ প্রোগ্রামে নামছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এর আওতায় একেকটি অঞ্চলে ১২০০ কর্মী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।

মশা নিধনের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এটি পরিচালনার জন্য একেকটি অঞ্চলে ১২০০ কর্মী একযোগে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

রাজধানীর বনানীতে শনিবার ‘শহিদ যায়ান চৌধুরী’ খেলার মাঠের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে নিউজবাংলাকে এ কথা বলেন তিনি।

‘বর্তমানে সমস্ত অঞ্চলে আমাদের মশক কর্মীরা কাজ করছেন। তাদের আরও মনিটরিংয়ের জন্য ইনটেনসিভ একটা ক্রাশ প্রোগ্রাম অঞ্চলভিত্তিক করব। অর্থাৎ ১০টা অঞ্চল থেকে সকলকে একটি অঞ্চলে নিয়ে আসব। একেকটি অঞ্চল ধরে কাজ করব।’

আতিকুল বলেন, ‘আমরা যে মশা মারছি সেটা দেখার জন্য পৃথক একটা পরিদর্শক টিম তৈরি করছি। তারা দেখবে কোন কোন জায়গায় লার্ভা আছে। কোথায় কোথায় কাজ হচ্ছে, কোথায় কাজ হচ্ছে না। ১০ দিন ১০টা অঞ্চলে এ কার্যক্রম চলবে।’

ডিএনসিসি মেয়র জানান, ক্রাশ প্রোগ্রামের শুরুর জন্য বেছে নেয়া হয়েছে মিরপুর অঞ্চলকে। ১২০০ কর্মী সেদিন কাজ করবে। ওই দিন সামাজিক সংগঠনসহ সবার সহযোগিতা চাওয়া হবে।

‘ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে আমাদের কর্মীরা কাজ করে। ওই দিন তারা একটি অঞ্চলে করবে। এ রকম করে ১০টি অঞ্চলে কাজ করা হবে।’

এর আগে মশক নিধনে জলাশয়গুলোতে ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ক্রাশ প্রোগ্রামে এর ব্যবহার থাকছে না বলে জানালেন মেয়র।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের অঞ্চলে (ডিএনসিসি) প্রচুর জলাশয় রয়েছে, ডোবা রয়েছে। সেসব জলাশয় ডোবায় মশার ওষুধ সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। সে জন্য আমরা ড্রোন নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করেছি। এটা নিয়ে আরও সার্ভে করা হবে।’

গত মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি থেকে জানানো হয়েছিল, শুক্রবার ব্যতীত ৮ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় কিউলেক্স মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হবে। এই ক্রাশ প্রোগ্রামে ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের সব মশক নিধনকর্মী এবং যান-যন্ত্রপাতি একটি অঞ্চলে নিয়ে একদিন করে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বনানীতে ‘শহিদ যায়ান চৌধুরী’ খেলার মাঠ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত লার্ভিসাইডিং এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এডাল্টিসাইডিং করা হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানও চলবে। ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হবে।

৮ মার্চ মিরপুর-২ অঞ্চল (অঞ্চল-২), ৯ মার্চ মিরপুর-১০ অঞ্চল (অঞ্চল-৪), ১০ মার্চ কারওয়ান বাজার অঞ্চল (অঞ্চল-৫), ১১ মার্চ মহাখালী অঞ্চল (অঞ্চল-৩), ১৩ মার্চ ভাটারা অঞ্চল (অঞ্চল ৯) ও সাতারকুল অঞ্চল (অঞ্চল-১০), ১৪ মার্চ উত্তরা অঞ্চল (অঞ্চল-১), ১৫ মার্চ দক্ষিণখান অঞ্চল (অঞ্চল-৭) ও উত্তরখান অঞ্চল (অঞ্চল-৮) ও ১৬ মার্চ হরিরামপুর অঞ্চলে (অঞ্চল-৬) এই অভিযান পরিচালিত হবে।

শেয়ার করুন

জিয়ার খেতাব নিয়ে সিদ্ধান্ত তদন্তের পর: মোজাম্মেল

জিয়ার খেতাব নিয়ে সিদ্ধান্ত তদন্তের পর: মোজাম্মেল

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিন ৭ মার্চকে সামনে রেখে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের শুধু সুপারিশ করা হয়েছে, সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। দুই মাসের মধ্যে তারা দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর কমিটিতে আলোচনা হবে। চুলচেরা আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তদন্তের পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিন ৭ মার্চ সামনে রেখে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের শুধু সুপারিশ করা হয়েছে, সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। দুই মাসের মধ্যে তারা দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করবে।

‘রিপোর্ট পাওয়ার পর কমিটিতে আলোচনা হবে। চুলচেরা আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আমদের মিটিংয়ে কিছু লোকের খেতাব বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন আত্মস্বীকৃত খুনি, আদালতে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি। আলোচনা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর খুনের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন। অনেকে অনেক উদাহরণ ও তথ্য দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ পত্রিকায় লিখেছেন এটা বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে, কেউ কেউ বলেছেন কমিটি করা হয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি মিডিয়ায় বিষয়টা পরিষ্কার করতে। আমরা খেতাব বাতিল করি নাই।

‘সিদ্ধান্ত হয়েছিল তদন্ত কমিটি খুঁজে বের করবে তিনি (জিয়াউর রহমান) কবে, কোথায়, কীভাবে খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এটা বের করার পর আমরা জাতির সামনে পেশ করব।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। গত ৯ ফেব্রুয়ারি জামুকার ৭২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জামুকার সভা শেষে বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও জামুকা সদস্য শাজাহান খান।

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনের মদতদাতা। সেই হিসেবে পাঁচজনের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের মধ্যে শরিফুল হক ডালিম ‘বীর উত্তম’, নূর চৌধুরী ‘বীর বিক্রম’, রাশেদ চৌধুরী ‘বীর প্রতীক’ ও মোসলেহ উদ্দিন ‘বীর প্রতীক’ খেতাব পেয়েছিলেন।

জামুকার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে জানতে চাইলে শাজাহান খান বলেন, ‘তাদের নামের পাশে যে খেতাব আছে, তারা যেসব সুযোগসুবিধা পায়, সমস্ত কিছু বাদ দেবে মন্ত্রণালয়।’

জামুকার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে জিয়াউর রহমানসহ খেতাব বাতিল হওয়া বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ও তাদের পরিবার মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগসুবিধা পাবে না।

এ বিষয়ে জামুকার মহাপরিচালক জহুরুল ইসলাম রোহেল বলেছিলেন, ‘জামুকার বৈঠকে সদস্যরা বিস্তারিত আলোচনার পর এই পাঁচজনের খেতাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন আমরা প্রস্তাব আকারে তা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’

শেয়ার করুন

৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য অনেক গভীর: খালিদ

৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য অনেক গভীর: খালিদ

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম খালিদ। ছবি: নিউজবাংলা

শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ৭ মার্চ উদযাপনে পরিকল্পনার কথা জানান। এর মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের তাৎপর্য অনেক গভীর বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম খালিদ।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ৭ মার্চ উদযাপনের প্রস্তুতি ও কর্মসূচি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ ভাষণের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।

‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সমার্থক শব্দ। ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনে বঙ্গবন্ধুর লড়াইয়ের চূড়ান্ত আহ্বান। এই ভাষণে ছিল মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতির পূর্ণ দিকনির্দেশনা। এ ভাষণ প্রকৃত অর্থেই ছিল বাঙালির স্বাধীনতার ঘোষণা।’

৭ মার্চ জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনে ঢাকাসহ সব জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও শিল্পকলা একাডেমিতে নানা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী দিবসটি উদযাপনে পরিকল্পনার কথা জানান। এর মধ্যে রয়েছে ৭ মার্চ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিকেল ৩টায় আয়োজন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান। এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার ও ডকুড্রামাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন হবে।

এ ছাড়া রয়েছে শিশু-কিশোরসহ সারাদেশের আবৃত্তিশিল্পীদের নিয়ে আবৃত্তি অনুষ্ঠান, সংগীত শিল্পী, নিত্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বঙ্গবন্ধুর জীবন নিয়ে নাটক, চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সব জেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, আবৃত্তি, চিত্রাংকন, সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফিন ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকিত আলী লাকী।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg