রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে এএসপি আনিসুল করিমের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে তার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে আদাবর থানার সামনে থেকে এক মিছিল নিয়ে রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালের সামনে এসে তার মানববন্ধন করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও এ ধরনের হাসপাতাল বন্ধের দাবি জানান তারা।
আনিসুল করিম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
সোমবার মাইন্ড এইড হাসপাতালে কর্মচারীদের পিটুনিতে আনিসুলের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৫ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার সকালে মামলা হয়েছে রাজধানীর আদাবর থানায়। এদের মধ্যে ১০ জন গ্রেফতার হয়েছেন।
জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত সংশোধিত বাজেটে সরকারের মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৩ শতাংশ। সোমবার (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিনে অর্থমন্ত্রী সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করেছেন।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। তবে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের পর বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতা কাটিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে সরকারি ব্যয়ে অপচয় রোধ, অগ্রাধিকারহীন খাতে ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এসব কর্মসূচির ব্যয় মেটাতেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাজেট উপস্থাপনের পর স্পিকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচিত হলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত নয়।
স্পিকার জানান, সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে। এসব দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের ২০ জন সংসদ সদস্য ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন।
সময় বিবেচনায় অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর উত্থাপিত ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনা করা হবে। বাকি দাবিগুলো সরাসরি ভোটে নিষ্পন্ন করা হবে।
দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট, হর্ন আর বিশৃঙ্খলার অভিশাপ থেকে রাজধানী ঢাকাকে মুক্ত করতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। ঢাকার প্রবেশপথ এবং অভ্যন্তরের ট্রাফিক জটলা চিরতরে দূর করার লক্ষ্যে সায়দাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল রাজধানীর ভেতর থেকে সরিয়ে ঢাকার বাইরে বা উপযুক্ত প্রান্তিক (আউটার) স্থানে পর্যায়ক্রমে স্থানান্তরের কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ‘যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ বিষয়ক তৃতীয় দফার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ঢাকা মহানগরের দুই প্রশাসক সাংবাদিকদের এই মেগা পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেন।
যানজটের ‘রুট কজ’ বা মূল উৎস দূর করার উদ্যোগ: ঢাকা আজ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এবং ধীরগতির শহর হিসেবে পরিচিত। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো শহরের ভৌগোলিক বিন্যাস ও অপরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থা। রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সায়দাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দূরপাল্লার বাস এই টার্মিনালগুলোতে প্রবেশ করে এবং বের হয়। ফলে সায়েদাবাদ দিয়ে যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোড, মহাখালী দিয়ে টঙ্গী-উত্তরা রুট এবং গুলিস্তানের কারণে পুরান ঢাকা ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর সার্বক্ষণিক যানজট লেগেই থাকে। এই সংকটের কারণে প্রতিদিন লাখ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট দূর করতে নগরীর ভেতর থেকে এসব টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
নীতি-নির্ধারণী সভায় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি: প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই নীতি-নির্ধারণী সভায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নিজেদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রূপরেখা তুলে ধরেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ডিএমপি কমিশনার, রাজউক, বিআরটিএ, বিআরটিসি এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ঢাকাকে বাসযোগ্য
করতে হলে শহরের ভেতর দূরপাল্লার বাসের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
সম্ভাব্য বিকল্প স্থানসমূহ: সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নগর পরিকল্পনাবিদদের পূর্ববর্তী সমীক্ষা অনুযায়ী, টার্মিনালগুলো এক দিনে সরানো সম্ভব নয়। তাই পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাইরে চারপাশের উপযুক্ত প্রান্তিক স্থানগুলোতে এগুলোকে পুনর্বাসন করা হবে। সম্ভাব্য বিকল্প স্থানগুলোর তালিকায় রয়েছে:
কাঁচপুর উত্তর ও দক্ষিণ: সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বাসগুলোর জন্য। কেরানীগঞ্জ (বাউরিয়া): খুলনা ও বরিশালসহ দক্ষিণবঙ্গের বাসগুলোর জন্য।
সাভার (হেমায়েতপুর বা আমিনবাজার): রাজশাহী ও রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের বাসগুলোর জন্য।
গাজীপুর বা বাউলিয়াসংলগ্ন এলাকা: ময়মনসিংহ বিভাগের বাসগুলোর জন্য।
এই প্রান্তিক টার্মিনালগুলো নির্মিত হলে দূরপাল্লার বাসগুলো ঢাকার মূল সীমানার বাইরে থেকেই তাদের যাত্রী নামিয়ে আবার চলে যেতে পারবে। ফলে শহরের ভেতরের রাস্তায় বাসের অতিরিক্ত চাপ প্রায় ৮০ শতাংশ কমে যাবে।
বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জসমূহ: জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণ: ঢাকার বাইরে বিশাল আকৃতির আধুনিক টার্মিনাল তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা এবং সেখানে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বয়: পরিবহন সেক্টরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে আনা এবং তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা একটি বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।
কানেক্টিভিটি বা লিংক ট্রান্সপোর্ট: দূরপাল্লার যাত্রীরা যখন ঢাকার বাইরে নামবেন, তখন তারা কীভাবে সহজে এবং কম খরচে শহরের ভেতরে ঢুকবেন, সেই সুব্যবস্থা করা।
নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু টার্মিনাল সরালেই ঢাকার যানজট কমবে না, যদি না এর সাথে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।
তারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ঢাকার ট্রাফিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। তবে প্রান্তিক টার্মিনালগুলোর সাথে শহরের মূল অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দ্রুত ও সহজলভ্য করতে হবে। দূরপাল্লার যাত্রীদের শহরের ভেতর নিয়ে আসার জন্য এই আউটার টার্মিনালগুলোর সাথে মেট্রোরেল, বাস র্যাপিড ট্রানজিট অথবা বিশেষ চক্রাকার বাস সার্ভিসের সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
একই সাথে ঢাকার অভ্যন্তরীণ বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে শহরের ভেতরের লোকাল বাসগুলোর ফিটনেস ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন আশার আলো: রাজধানীবাসীর বহু বছরের পুরনো এবং যৌক্তিক দাবি ছিল আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া। অবশেষে সরকারের এই কঠোর ও দূরদর্শী নির্দেশনা সেই দাবি বাস্তবায়নের পথ সুগম করল। এই মহাপরিকল্পনা যদি দ্রুত, দুর্নীতিমুক্ত এবং সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে ঢাকাবাসী আগামীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের যানজটমুক্ত, দূষণমুক্ত এবং আধুনিক তিলোত্তমা নগরী উপহার পাবে—এমনটাই এখন টেকসই উন্নয়নের মূল প্রত্যাশা।
দেশে সরকারি উদ্যোগে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এ খাতে সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সোমবার জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। এদিন বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
পাটমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। সরকারঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বাকি মিলগুলোও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।
সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, সোনালি আঁশ পাট শিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বন্ধ পাটকল চালুসহ নতুন পাটকল স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আছে কিনা?
জবাবে মন্ত্রী বলেন, সোনালি আঁশ পাটশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। পরবর্তীতে একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রকল্প রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। ২০২০ সালের ১ জুলাইয়ের সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ২০টি মিলবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা ভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পাদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি মিল চালু করা হয়েছে।
অবশিষ্ট ৬টি মিল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে, যার মধ্যে ৩টি মিলের বিপরীতে চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে, একটি মিলের বিপরীতে দাখিল করা এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (আগ্রহপত্র) প্রস্তাব মূল্যায়নের কাজ চলছে, ১টি মিলের জন্য আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং ১টি মিলের ইজারা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আর বাকি মিলগুলোও সরকার ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।
মন্ত্রী বলেন, ইজারা বহির্ভূত ৫টি মিলের মধ্যে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় ৩টি মিল এবং মামলাজনিত কারণে ২টি মিল লিজের বাইরে রাখা হয়েছিল। এই অবস্থায় সরকারিভাবে দেশে নতুন কোনও পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বরং সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই সেক্টরে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, খ্রিষ্টধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের পাঠ্যবই হাতে পাবে। সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের মাঠে আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি, এই বছরে ডিসেম্বর অর্থাৎ বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে তাদের বই পৌঁছে দেব। বইগুলি পরিমার্জিত বই এবং বইগুলোর কারিকুলাম অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৮ সালে আমরা নতুন কারিকুলাম নিয়ে নতুন সিলেবাস নিয়ে আমরা আসতে পারব।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বইগুলো পরিমার্জন হয়েছে। চারটি বিষয়ে আমরা বই নতুনভাবে দিচ্ছি এবং এই কর্মযজ্ঞ শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালিয়ে যাচ্ছে।’
সাধারণত বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। তবে এবার ২৫ ডিসেম্বরের আগেই তাদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার কথা বললেন শিক্ষামন্ত্রী।
আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন, মাধ্যমিক স্তরের এসএসসি পরীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে সুন্দরভাবে। প্রশ্নপত্র আউট (ফাঁস) হয়নি, নকল হয়নি এবং দুই মাসের ভেতরে আগামী ২০ জুলাইয়ের ভেতরে রেজাল্টও আউট (ফল প্রকাশ) হয়ে যাবে।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘এর পরবর্তীতে সেশন জট এবং এই যে গ্যাপ রয়েছে আমাদের এসএসসি, এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি এডুকেশনের, এই গ্যাপগুলোকে আমরা সমন্বয় সাধন করছি। আশা করছি, ২০২৮-এর মধ্যে আমাদের ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই কলেজ অ্যাডমিশন এবং কলেজ শেষ করে ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশন...। এটাকে আমরা সিংক্রোনাইজ করছি। আমরা কোনো অবস্থায়ই অবহেলায় সময় কাটাব না আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এই যে সিংক্রোনাইজ করছি এসএসসি, এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি এডুকেশন, এখানে যেন ছেলেমেয়েরা বসে না থাকে এবং অযথা যেন কোচিং সেন্টারে যেতে না হয় এবং ক্রিয়েটিভ এডুকেশন, সৃজনশীল লেখাপড়া যেন তারা করতে পারে, সেই দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা সিলেবাস কারিকুলাম তৈরি করছি।’
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটির পুনর্গঠন করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে সভাপতি করে এই কমিটি পুনর্গঠন করে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন করে প্রতিনিধিকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, প্রতিরক্ষা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, রেলপথ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য সেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবদের কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
এর বাইরে সব ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক, সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টামলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) এন্টামলজি বিভাগের প্রধানকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব কমিটিতে সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটিকে সারাদেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং গৃহীত ও বাস্তবায়িত কার্যক্রম পর্যালোচনা, মূল্যায়ন, তদারকি ও সমন্বয় সাধন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া কমিটিকে প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা, জাতীয় নীতিমালা বা কৌশলপত্র প্রণয়ন ও হালনাগাদ করা ছাড়াও প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য কার্যক্রম করতে হবে। বছরে কমপক্ষে চারটি সভা করতে হবে। কমিটি প্রয়োজনে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া অবৈধ তিন নির্বাচনের অন্যতম কারিগর ছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বেনজীর আহমেদ শুধু শাপলা চত্বরের মাস্টারমাইন্ড নন। তিনি একসময় সরকার চালাতেন। কোনো কোনো জায়গায় শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি পরিচিত ছিলেন। এই পরিচিতির কারণ হলো, তার হেন দুষ্কর্ম নেই যেটা তিনি নিজের কর্মজীবনে করেননি। তবে আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে তাদেরই কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তার এসব কুকীর্তি প্রকাশ হয়ে যায়। গণমাধ্যমের মাধ্যমে বেনজীরের সবকিছু দেখেছিল এ জাতি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে তখনই মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন।’
সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বেনজীরের বিরুদ্ধে আমাদের প্রায় ১০টির মতো মামলার তদন্ত চলছে। প্রত্যেকটি ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর মধ্যে যখন র্যাবের প্রধান ছিলেন, তখন গুমের ঘটনায় হওয়া একটি মামলার বিচার চলছে। তিনি শাপলা চত্বরের অন্যতম কুশীলব ছিলেন। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হওয়া প্রত্যেকটি নির্বাচনে বেনজীরের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। অবৈধ নির্বাচন করার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। এ দেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে হাজারো মানুষকে বিনাবিচারে হত্যা করাসহ অসংখ্য দায় রয়েছে তার। অতএব তার বিচারের ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ নজর দেব।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, মার্জিনা রহমানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘোষণাবিহীন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধারের মামলায় ডেভিড পিয়েরে আন্দ্রে ডেলন (৪৪) নামের এক ফরাসি নাগরিকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. এহসানুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোস্তাফিজুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৪ জুন) সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের সময় ডেভিড পিয়েরে নামের ওই ফরাসি নাগরিকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। বিমানবন্দরে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তার ব্যাগ ও লাগেজ তল্লাশি করে বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫২০ ইউএই দিরহাম, ১০ হাজার ৬৬০ সোম, ২ হাজার ৮০০ ইউরো, ১ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার, ৪৭০ সৌদি রিয়াল এবং ২০০ মরক্কান দিরহাম।
পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বহনের ক্ষেত্রে ঘোষণা ও অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও ওই বিদেশি নাগরিক তা করেননি। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
মামলার রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত উৎস কী, এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কোন উদ্দেশে পাচার করা হচ্ছিল—তা উদ্ঘাটনের জন্য আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। এই মুদ্রা পাচারের পেছনে কোনো দেশি-বিদেশি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য