× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

google_news print-icon

সাঁওতাল পল্লিতে হামলা: বিচারের গতি ধীর

সাঁওতাল-পল্লিতে-হামলা-বিচারের-গতি-ধীর-
চার বছর আগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লিতে পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার ছবি
২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সকালে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের সাঁওতালদের উচ্ছেদ করার সময় তাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়া ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডি ও রমেশ টুডু নামে তিন জন নিহত হন। পিবিআই প্রতিবেদন দিলেও নারাজি দেন বাদী। তদন্তের ভার যায় সিআইডির কাছে। তারা এখনও প্রতিবেদন দেয়নি।

কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের মতোই পরিণতি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লিতে হামলা মামলার। ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার চার বছরেও বিচার পেলেন না ভুক্তভোগীরা।

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সকালে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মের সাঁওতালদের উচ্ছেদ করার সময় তাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়া ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডি ও রমেশ টুডু নামে তিন জন নিহত হন।

বাড়িঘরে পুলিশের আগুন দেয়ার ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশও হয় সে সময়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়।

তবে বিচার আটকে আছে নানা জটিলতায়। চার বছরেও প্রতিবেদন না দেয়া আর প্রধান অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ সাঁওতাল নেতাসহ নিহত-আহতের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তরা।

বেঁচে থাকতে সাঁওতাল হত্যা মামলার বিচার দেখতে চান এ মামলার বাদী থমাস হেমব্রম।

জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (সিআইডি) তানভীর হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন শিগগির আদালতে জমা দেয়া হবে। আমরা চেষ্টা করছি এ বছরেই যাতে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।’

হামলার ওই দিনটিতে প্রতি বছর ‘সাঁওতাল হত্যা’ দিবস হিসেবে পালন করছে পল্লির বাসিন্দারা। শুক্রবার চার বছর পূর্তিতে সেখানে শোকযাত্রা, পুষ্পস্তবক অর্পণ, মোমবাতি প্রজ্বালন, স্মরণসভা ও সমাবেশসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

সাঁওতাল পল্লিতে হামলা: বিচারের গতি ধীর
ভিডিওতে দেখা যায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরা সাঁওতালদের ঘর-বাড়িতে আগুন দিচ্ছে

মাদারপুর গ্রামের বাসিন্দা রফায়েল মুরমু বলেন, ‘হামাগরে (আমাদের) এহানকার বাপ-দাদার ভিটে-সম্পদ থাকি তারা সড়াতি চায়। হেই (সেই) কারণে তারা (অভিযুক্তরা) হামাগরে উপরত (ওপর) হামলা, লুতপাত (লুটপাট) আর গুলি করে তিন জনক মারছে। হামাগরে জমিন ফিরৎ চাইছি আর ভাই হত্যার বিচার চাইছি।’

জয়পুর গ্রামের ইলিভা মার্ডি বলেন, ‘এ জমিতে অনেক দিন থ্যাকি বসবাস করেতেছি। সেদিন কোন নোটিশ না দিয়া সকালে হুটহাট ওচ্ছেদ (উচ্ছেদ) অভিযান করি তিন ভাইকে গুলি করিল (করা) পুলিশে। হেরপর (এরপর) ঘরে আগুন জ্বালাইয়া সব পুড়িলো, এক-এক করি সব কিছু লুট করা শেষ করলো সন্ত্রাসীর দল। ওদিন মারডাং (মারপিট) করিল সাঁতালদের। মারডাং খায়া কেউ হাত-পাও, কেউ চোখ হারাইল (হারানো)। এলাও (এখনো) পঙ্গু হয়া (হয়ে) পড়ি আছে অনেকগুলে হামাদের (আমাদের) মানুষ। এদের খোঁজ কেউ কোনদিন নিলো না। এই জমিনের কারণে তিন নিরহ (নিরীহ) ভাইকে হারাইছি; দরকার হলি (হলে) আরও তিনশ জন মরমো (মারা যাওয়া); তাও জমিন (জমি) দেবো না।’

৬ নভেম্বর ঘটনার কয়েকদিন পর মিলের ওই এক হাজার ৮৪২ একর জমির সিংহভাগই সাঁওতালরা দখলে নিয়েছে। এসব জমিতে ছাপড়া ও টিনশেড ঘর নির্মাণ করে বসতি গড়েছেন তারা।

যে জমির জন্য হামলা-হত্যা

১৯৬২ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের রংপুর সুগার মিলস লিমিটেড আখ চাষের জন্য সাপমারা ও কাটাবাড়ী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের এক হাজার ৮৪২ দশমিক ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করে।

এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ মুসলমান ও ২৭ শতাংশ সাঁওতালদের জমি। এই জমি অধিগ্রহণের পর সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম নামে নামকরণ করা হয়।

অধিগ্রহণকৃত জমি মিল কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকবছর আগে ইজারা নিয়ে ধান, পাট ও তামাকসহ বিভিন্ন আবাদ করে আসছিল সাঁওতালরা। অধিগ্রহণ চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ এনে ২০০২ সালে বাপ-দাদার জমি ফেরত চেয়ে আন্দোলন শুরু করেন তারা।

২০১৪ সালে তারা গঠন করে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি। এরপর চলতে থাকে সাঁওতাল-বাঙালিদের ভূমি উদ্ধারের কর্মসূচি।

২০১৬ সালের ১ জুলাই সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের প্রায় ১০০ একর জমিতে ছাপড়া ও ঝুঁপড়ি ঘর নির্মাণ করে সাঁওতাল-বাঙালিরা। এরপর থেকে এসব ঘরে বসবাসসহ জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন তারা। বাকি জমিতে চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ রোপন করে।

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আখ কাটা নিয়ে পুলিশসহ চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন সাঁওতাল নিহত ও উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়।

ওই দিন সন্ধ্যার দিকে ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে পুলিশ-প্রশাসন।

সাঁওতাল পল্লিতে হামলা: বিচারের গতি ধীর
চার বছর আগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে হামলা প্রতিহতের চেষ্টায় সাঁওতালরা

সেই হামলার ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষে থমাস হেমব্রম ওই বছরের ২৬ নভেম্বর ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে ৫০০ থেকে ৬০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ৯০ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ২৮ জুন গোবিন্দগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

কিন্তু ‘প্রকৃত দোষীদের’ বাদ দেয়ার অভিযোগে সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নারাজি দেন বাদী থমাস হেমব্রম। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি সিআইডির কাছে যায়।

সাঁওতালদের মামলায় যা ছিল

থমাস হেমব্রমের মামলায় বলা হয়, গাইবান্ধা- ৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আওয়াল, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল হান্নান ও খামারের ব্যবস্থাপক আব্দুল মজিদের নির্দেশনায় সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল ও কাটাবারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রফিকসহ মিলের শ্রমিক ও পুলিশ হামলা চালায় সাঁওতালদের ওপর।

এ সময় ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। পুলিশের গুলিতে নিহত হন শ্যামল হেমব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মার্ডি।

থমাস হেমব্রম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মূল ১১ আসামিকে বাদ দিয়ে পিবিআই ৯০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়। সেটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ ও পক্ষপাতিত্বে ভরা। এ কারণে নারাজি দিয়ে আবার তদন্তের দাবি করি। পরে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেয় আদালত।’

তিনি বলেন, ‘আমার তিন ভাইকে গুলি করে মারা হলো। জ্বালিয়ে দেয়া হলো ঘর-বাড়িসহ ক্ষেতের ফসল। আমরা আমাদের বাপ-দাদার জমি ফেরতসহ প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানাই।’

সাঁওতাল পল্লিতে হামলা: বিচারের গতি ধীর
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লির বর্তমান চিত্র

সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, ‘প্রকৃত আসামিদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন করে চার্জশিট দেয়া হোক।’

জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে ফিলিমন বাস্কে বলেন, ‘অধিগ্রহণ করা কিছু জমিতে বাড়ি-ঘর নির্মাণসহ ধান-কলাই চাষাবাদ ও পতিত জমি গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাপ-দাদার জমিতে এটা আমার অধিকার।’

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রামকৃষ্ণ বর্মন নিউজবাংলাকে জানান, সাঁওতালদের জীবনমান উন্নয়নে রাস্তা, বিদ্যুৎ ও গুচ্ছগ্রাম করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য কর্মসূচির আওতায় তাদের আনা হচ্ছে।

মামলায় ২৫ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় লুট করা একটি পাওয়ার টিলার, দুটি শ্যালো মেশিন, একটি ভ্যান ও ৫৬টি ঢেউটিন।

আসামিদের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জের সারাই গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে মিঠু মিয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আদালতে।

পুলিশের মামলা

হামলা, হত্যার পর পুলিশ উল্টো তাদের ওপর হামলার অভিযোগে সাঁওতাল-বাঙালিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে পিবিআই।

প্রতিবেদনে সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলীসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ মামলায় গ্রেফতার চার জন বর্তমানে জামিনে। তিন জন মারা গেছেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
The Ministry of External Affairs summoned the Indian Deputy High Commissioner

ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারকে তলব করল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারকে তলব করল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছবি: সংগৃহীত

নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি-বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাধা প্রদানের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার (ডেপুটি হাইকমিশনার) পাওয়ান বাঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই তলবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সাথে ঘটা এই অনভিপ্রেত আচরণকে অত্যন্ত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে, এই বিষয়ে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং দুঃখজনকও বটে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আজকের দিন শেষে আমরা এ বিষয়ে আপনাদের জানাবো।’

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দিল্লিতে সোমবার শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি গত রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তবে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিত জেরার মুখে পড়তে হয় এবং প্রায় আড়াই ঘণ্টা তাকে সেখানে আটকে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে এবং তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও, তিনি এই আচরণের প্রতিবাদস্বরূপ পাসপোর্ট ফেরত চান। এরপর তিনি দিল্লি না ঢুকে কলম্বো হয়ে সোমবার সকালে ঢাকায় ফিরে আসেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার মর্যাদা ও সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য থাকা সত্ত্বেও এমন ব্যবহার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত। ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলবের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দাবি করবে বলে জানা গেছে। সরকার মনে করছে, রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদাসম্পন্ন একজন ব্যক্তির সাথে এমন ব্যবহার আন্তর্জাতিক প্রোটোকলের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

মন্তব্য

জাতীয়
Prime Minister ordered transfer of Syedabad Gulistan Mahakhali terminal to reduce traffic congestion in Dhaka

ঢাকার যানজট কমাতে সায়েদাবাদ-গুলিস্তান-মহাখালী টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকার যানজট কমাতে সায়েদাবাদ-গুলিস্তান-মহাখালী টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সড়কপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দীর্ঘস্থায়ী যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল নগরীর ভেতর থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসন বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক শেষে ঢাকার দুই প্রশাসক উপস্থিত সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় রাজধানীসহ দেশের সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং নগর পরিবহনের সংস্কার নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। সভায় সংশ্লিষ্টরা একমত হন যে, নগরীর প্রধান প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে অবস্থিত এই তিনটি টার্মিনাল যানজটের অন্যতম প্রধান উৎস। তাই জনভোগান্তি কমাতে এসব টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যানজট নিরসনে এটি বর্তমান প্রশাসনের তৃতীয় দফার বৈঠক ছিল, যেখানে নগরীর ট্রাফিক কাঠামোকে ঢেলে সাজানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য

জাতীয়
Dr Zaheed Ur Rahman canceled his visit to Delhi and returned home

দিল্লি সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন ডা. জাহেদ উর রহমান

দিল্লি সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন ডা. জাহেদ উর রহমান ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতার কারণে পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।

ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন’ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে গত রোববার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। বিমানবন্দরে নামার পরই নিয়মিত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় ভারতীয় নজরদারি তালিকায় (ওয়াচলিস্ট) তার নাম শনাক্ত হওয়ায় তাকে আটকে দেওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ডা. জাহেদ নিজেই তার পাসপোর্ট ফেরত চান এবং পরবর্তী ফিরতি ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ১৮’-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ডা. জাহেদ উর রহমানের নাম নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ওয়াচলিস্টে শনাক্ত হওয়ায় তাকে বিমানবন্দরে অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনাটি মূলত প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও তথ্য হালনাগাদ না হওয়ার কারণে ঘটেছে। ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট একটি কালোতালিকা (ব্ল্যাকলিস্ট) থেকে তার নাম অপসারণ করা হলেও ভারতের অভিবাসন বিভাগের ডেটাবেসে সেই তথ্য যথাসময়ে হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি হয় এবং তাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় উপদেষ্টা সফরটি বাতিল করে দ্রুত দেশে ফেরার পথ বেছে নেন।

মন্তব্য

জাতীয়
Board of Islami Bank cancels appointment of new administrator

ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ বাতিল, নতুন প্রশাসক নিয়োগ

ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ বাতিল, নতুন প্রশাসক নিয়োগ

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সকল পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় ও ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সকল পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে।

একইসঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

মন্তব্য

জাতীয়
Formation of Parliamentary Standing Committee on Ministry of Finance and Law

অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

অর্থ এবং আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির চেয়ারম্যান ভোলা-১ আসনের এমপি আন্দালিব রহমান পার্থ। আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৪ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি মুশফিকুর রহমানকে।

রোববার (১৪ জুন) সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। দুটি কমিটিই ১০ সদস্যবিশিষ্ট। দুই ক্ষেত্রেই জামায়াত ইসলামীর দুইজন এবং এনসিপির একজন করে এমপিকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরগুনা-২ আসনের নূরুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনের মীর শাহে আলম, চাঁদপুর-২ আসনের জালালউদ্দিন, মানিকগঞ্জ-১ আসন মইনুল ইসলাম খান, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাহাদাত হোসেন। এতে জামায়াত থেকে সদস্য হয়েছেন ঢাকা-১২ আসনের সাইফুল আলম খান মিলন এবং ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবদিন। আর এনসিপি থেকে সদস্য হয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের হাসনাত আবদুল্লাহ।

অন্যদিকে, আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা হলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, নোয়াখালী-১ আসনের মাহবুব উদ্দিন খোকন, পঞ্চগড়-১ আসনের নওশাদ জমির, সংরক্ষিত নারী আসনের শাকিলা ফারজানা, দিনাজপুর-১ আসনের মঞ্জুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আসনের হাসান রাজীব প্রধান। এতে জামায়াত থেকে সদস্য হয়েছেন পাবনা-১ আসনের নাজিবুর রহমান মোমেন এবং নীলফামারী-২ আসনের আল ফারুক আবদুল লতিফ। এছাড়া, এনসিপি থেকে সদস্য হয়েছেন রংপুর-৪ আসনের আখতার হোসেন।

মন্তব্য

জাতীয়
Special bench of High Court on women child case started

নারী-শিশু মামলা নিয়ে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু

নারী-শিশু মামলা নিয়ে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু
*তালিকায় আছিয়া-নুসরাত হত্যা মামলা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির গঠন করা বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এ বেঞ্চে প্রথম কার্যদিবসেই ২০টি ডেথ রেফারেন্স ও সংশ্লিষ্ট মামলা শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতনবিষয়ক মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বিশেষ এই বেঞ্চ গঠন করেছেন। প্রথম কার্যদিবসে তালিকাভুক্ত ২০টি মামলার মধ্যে ২০ নম্বরে রয়েছে আলোচিত মাগুরার আট বছর বয়সি শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা।’

তিনি জানান, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিটি মামলার শুনানির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং কোনো মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মুলতবি চাওয়া হবে না। আছিয়া হত্যা মামলার অগ্রাধিকারভিত্তিক শুনানির বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিচারকরা জানান, কার্যতালিকার শুরুতে থাকা ২০১৯ সালের মামলাগুলোর আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কারাগারে রয়েছেন। সে কারণে সেসব মামলার শুনানিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সুযোগ থাকলে আছিয়ার মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

রোববারের কার্যতালিকায় থাকা ২০টি মামলার মধ্যে মাগুরার আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পাশাপাশি ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে গত ১০ জুন অ্যাটর্নি জেনারেল ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতনবিষয়ক মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পৃথক এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বেঞ্চে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সসহ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পর আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার শুনানির জন্যও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। স্বয়ং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে গঠিত এ টিম বিরতিহীনভাবে মামলাটির শুনানি পরিচালনা করবে, যাতে নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।

মন্তব্য

জাতীয়
India did not approve Nepals excess electricity export to Bangladesh

‘অনুমোদন’ দেয়নি ভারত, বাংলাদেশে নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি আটকে গেল

‘অনুমোদন’ দেয়নি ভারত, বাংলাদেশে নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি আটকে গেল

নেপাল থেকে বাংলাদেশে আরও ২০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা আপাতত আটকে গেছে। সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে ভারত এই অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি স্থগিত করেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশ কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে।

রোববার নেপালের জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই অনুমোদন আটকে দিয়েছে।

তারা আরও জানান, এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির জন্য নতুন করে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন বা স্বাক্ষর করতে হবে। একই সঙ্গে নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে।

সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে। তবে শীতকালে তারা নিজেরাই ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে।

২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই বৈঠকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেডকে (এনভিভিএন) অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু এনভিভিএন পরে জানায় যে, ভারত-বাংলাদেশ ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সঞ্চালন লাইনটিতে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের আর কোনো সুযোগ বা সক্ষমতা নেই।

এনইএর বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক তর্ক বাহাদুর থাপা বলেন, এবার বাংলাদেশে কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করা হবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও, আগের নিয়মে আমরা ভারতের সিইএ-র কাছে এনভিভিএনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে যে সঞ্চালন লাইনে নতুন করে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়ার ক্ষমতা নেই।

ত্রিপক্ষীয় চুক্তির জটিলতা

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জটিলতা কাটাতে নেপাল ও ভারতের আসন্ন জেএসসি এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে। তবে এই বৈঠকগুলোর সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি জেএসসি বৈঠকে নেপাল ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে ওই বছরের ৩ অক্টোবর এনইএ, এনভিভিএন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

নেপাল থেকে প্রথম দফায় ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ এসেছিল। এই বিদ্যুৎ নেপালের ঢালকেবার-মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি লাইন দিয়ে ভারতে এবং সেখান থেকে বহরমপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়। বর্তমানে নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও আর্থিক হিসাব

নেপাল প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের কাছে ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্টে বিক্রি করছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের দামও একই রাখার কথা ছিল। ভারতের সঙ্গে নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্য ভারতীয় রুপিতে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে লেনদেন হচ্ছে মার্কিন ডলারে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে মোট ২০ হাজার ৯৯৫ কোটি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ১০৩ কোটি রুপি। নেপাল এ পর্যন্ত দুই দেশে মোট ১,১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে।

মন্তব্য

p
উপরে