× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

hear-news
player
print-icon

মাথা তুলছে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

মাথা-তুলছে-চট্টগ্রাম-এলিভেটেড-এক্সপ্রেসওয়ে
চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত দীর্ঘ এ উড়াল সড়ক নির্মাণ হলে শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র ৩০ মিনিটে বিমানবন্দরে যাওয়া যাবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৩৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

পাইলিংয়ের জন্য বসানো হয়েছে বিশাল আকৃতির ক্রেন। এক্সক্যাভেটর দিয়ে চলছে মাটি কাটার কাজ। শ্রমিকদের মধ্যে কেউ রড তুলছেন। আবার কেউ করছেন সেন্টারিংয়ের কাজ। ঢালাইয়ের কাজেও ব্যস্ত দেখা গেছে অনেক শ্রমিককে।

নগরের যানজটপ্রবণ ইপিজেড এলাকায় গেলে চোখে পড়বে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (উড়াল সড়ক) বিশাল এই কর্মযজ্ঞ। ৩১ অক্টোবর প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেল, নানা কাজে ব্যস্ত শ্রমিকেরা।

শুধু ইপিজেডে নয়, এই বিশাল নির্মাণযজ্ঞ চলছে পতেঙ্গা সৈকত থেকে সল্টগোলা ক্রসিং পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার জুড়ে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে দিনরাত কাজ করছেন দেশি-বিদেশি হাজারও শ্রমিক।

চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত দীর্ঘ এ উড়াল সড়ক নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া নিশ্চিত করতে সিডিএ এই প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের ৩৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

মাথা তুলছে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে চার ধাপে। ইতিমধ্যে দুই ধাপের ভৌত কাজ ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক পুলিশের আপত্তির কারণে বাকি দুই ধাপের কাজ এখনও শুরু হয়নি। তাই সড়কের মাঝ দিয়ে নির্মাণযজ্ঞের কারণে নগরবাসী যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, সেটি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

ইপিজেড এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক লোকমান মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে, এজন্য রাস্তা ছোট হয়ে গেছে। তবে এটি নির্মাণ হলে যানজট আর থাকবে না বলে এ কষ্ট সহনীয়।

প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, প্রথম ধাপে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণে নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তাই বিমানবন্দরের পরিবর্তে পতেঙ্গা সৈকতে গিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নামাতে হয়েছে। সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় দ্বিতীয় ধাপের কাজ অনেকদিন বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, প্রথম দুটি ধাপের সব জটিলতা কেটে গেছে।

তিনি আরও বলেন, তৃতীয় ধাপের নিরাপত্তা নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আপত্তি ছিল। তাই প্রকল্পের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। চতুর্থ ধাপে কাজ করার জন্য ট্রাফিক বিভাগ এখনও অনুমতি দেয়নি। ট্রাফিক বিভাগের শর্ত হচ্ছে, ওই অংশের দুইটি সংযোগ সড়ক আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও পিসি রোডের কাজ শেষ হলে এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু করা যাবে। ইতোমধ্যে এক্সেস রোডের কাজ ৮০ শতাংশ ও পিসি রোডের কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে। এ কারণে শেষ দুই ধাপের এখনও কাজ শুরু হয়নি। ডিসেম্বরে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেকে অনুমোদন পায়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৬ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৫০ কেটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের ভৌত কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
Where is the way to buy Russian oil?

রাশিয়ার তেল কেনার কী উপায়, বাধা কোথায়?

রাশিয়ার তেল কেনার কী উপায়, বাধা কোথায়? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির বিল পরিশোধ করা কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে আমরা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করব কিনা? এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। রাশিয়া থেকে তেল কিনলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি বিরাগভাজন হয়, তাহলে এই পথে যাওয়া ঠিক হবে না।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার ‍উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মঙ্গলবার তিনি এ নির্দেশ দেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও রাশিয়া থেকে সস্তায় জ্বালানি তেল কিনতে পারে। অনেক পথও আছে, তবে সমস্যা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এই দেশটিকে ‘না চটিয়ে’ রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অখুশি হলে এই দুই বড় বাজারে বাংলাদেশের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হুমকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে তারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি না করলে বা কমিয়ে দিলে দেশ বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে।

বেশ কিছুদিন ধরেই রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। গত মে মাসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও এমন ইঙ্গিত দেন। তবে কীভাবে আমদানি হবে, দাম কীভাবে পরিশোধ করা হবে- সে বিষয়ে কোনো উপায় নির্ধারণ হয়নি।

একনেক সভা শেষে মঙ্গলবার পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না?”

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি করা গেলে বিনিময় মুদ্রা কী হবে তা নিয়ে, সে বিষয়েও একটি সমাধান খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান মান্নান।

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া আগে প্রতিদিন প্রায় ৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করত, যার অর্ধেকের বেশি যেত ইউরোপে। ।

গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে অভিযান শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা একের পর এক মস্কোর ওপর অবরোধ আরোপ শুরু করে।

এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জ্বালানির জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার ঘোষণা দেয়।

রাশিয়ার তেল কেনার কী উপায়, বাধা কোথায়?

নিষেধাজ্ঞার মুখে অন্য ক্রেতারা রুশ তেল কেনা থেকে পিছু হটলেও বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাপক মূল্য ছাড়ে তাৎক্ষণিক টেন্ডারের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে বাড়তি তেল কেনা শুরু করে। চীনও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বাড়িয়েছে বলে খবর এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে রাশিয়া থেকে ভারতের অতিরিক্ত তেল কেনার বিষয়টি ভালোভাবে না নেয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন।

রাশিয়ার পণ্য কেনার ক্ষেত্রে দাম পরিশোধ নিয়েও জটিলতা রয়েছে। সুইফটে নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারে দাম পরিশোধ সম্ভব নয়। আর রাশিয়াও অনেক দেশের ক্ষেত্রে রুবলে দাম পরিশোধের শর্ত দিচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর পর পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১৩০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও এখন তা অনেকটা কমে এসেছে। কিন্তু তেল আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভর্তুকি কমাতে আর ডলার বাঁচাতে সরকার অগাস্টের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে, যার প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে অনেকটা।

তেল বাঁচাতে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমিয়ে দিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে রুটিন করে সব এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় রাশিয়া থেকে তেল কেনা হলে অনেক কম দামে পাওয়া যাবে বলে বাংলাদেশ সরকার আশা করছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে যে দামে তেল কেনে ভারত, তার তুলনায় ব্যারেল প্রতি প্রায় ২০ ডলার বা তারও বেশি ছাড় দিচ্ছে রাশিয়া৷ তাই ভারত এখন যে সব দেশ থেকে তেল কেনে সেই তালিকায় দুই নম্বরে উঠে গেছে রাশিয়া৷ আগে সৌদি আরব ছিল দুই নম্বরে৷ এখন তারা তিন নম্বরে আছে৷ এক নম্বরে আগের মতোই ইরাক আছে৷

বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে তেল কিনলে মূল্য পরিশোধ করা যাবে কীভাবে-এ প্রশ্নের উত্তরে অর্থনীতির গবেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিন ভাবে দাম পরিশোধ করা যেতে পারে। প্রথমত, আমরা এখন রাশিয়ায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের মতো পণ্য রপ্তানি করে থাকি। আমরা যে তেল কিনব সেই দাম রপ্তানি থেকে যে আয় হবে তা দিয়ে একটা সমন্বয় করা যেতে পারে।

’দ্বিতীয়ত-আমাদের রূপপুর পারমণবিক বিদুৎ কেন্দ্রের জন্য বড় ধরনের কেনাকাটা করতে হচ্ছে, সেই কেনাকাটার বিলের সঙ্গে তেল আমদানির বিল সমন্বয় করা যেতে পারে। আর শেষেরটি হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সম্মতি দিলে ডলারেও পেমেন্ট করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির বিল পরিশোধ করা কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে আমরা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করব কিনা? এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। রাশিয়া থেকে তেল কিনলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি বিরাগভাজন হয়, তাহলে এই পথে যাওয়া ঠিক হবে না।

’কেননা, এই দুই বড় বাজারে বাংলাদেশের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি। রাশিয়া থেকে তেল কেনা শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো যদি নাখোশ হয়, তারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি না করে বা কমিয়ে দেয় তাহলে বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে।’

এক হিসাব দিয়ে আহসান মনসুর বলেন, ‘রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কিনলে হয়তো আমাদের ৩০-৪০ কোটি ডলারের মতো সাশ্রয় হবে। কিন্তু রাশিয়া-ইউরোপ অখুশি হলে ৩৫-৪০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

‘তাই আমি মনে করি, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাড়াহুড়া না করে ভেবে-চিন্তে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সব দিক বিবেচনায় রাখতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা কিন্তু ভারতের মতো বড় দেশ নই। যুক্তরাষ্ট্র অনেক কিছুতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের অনেক বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানি আছে। যাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নির্ভর করে।

‘কিন্তু আমাদের কিন্তু সে রকম অবস্থা নেই। আমরা ছোট দেশ, ছোট অর্থনীতি। যে অর্থনীতির অনেক কিছুই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। তাই এই দুই দেশ নাখোশ হয়, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না।

‘যুক্তরাষ্ট্র যদি নিরব থাকলে আমরা ভারতের মতো রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারি, কিন্তু তারা চটে গেলে দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। সেই ঝুঁকি আমরা নেব কিনা-সেটাই এখন বড় বিষয়। মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র চটলে, ইইউও চটবে।’

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা বিনিময় (কারেন্সি সোয়াপ) নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। রাশিয়া, চীন ও ভারত—এই তিন দেশের সঙ্গে এমন হতে পারে। আমরা এসব দেশ থেকে আমদানি বেশি করি। তাহলে তারা আমাদের টাকা কী করবে? এ নিয়ে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়ার আর্থিক লেনদেনের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার কারণে সুইফট সিস্টেমের বাইরে গিয়ে চীনের মুদ্রা বা টাকা ও রুবলে লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও মস্কো ভাবছে। এটা সম্ভব। রাশিয়ায় আমাদের যে ১ বিলিয়ন ডলারের মতো রপ্তানি হয়, সেই রপ্তানি বিল রাশিয়ার মুদ্রা রূবলে নিলে, সেই রুবল দিয়ে আমরা তেলের দাম শোধ করতে পারি। আবার ডলার বা টাকা দিয়ে চীনের মুদ্রা ইউয়ান কিনে সেই ইউয়ান দিয়েও তেলের দাম পরিশোধ করা যেতে পারে।’

দেশের আরেক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারত রাশিয়া থেকে রুবলে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। সেটা সম্ভব হলে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজও রুবল-টাকায় হওয়া সম্ভব।

‘তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, সরকার টু সরকার বাণিজ্য হলে সেটা রুবল-টাকাতে হওয়ায় খুব একটা সমস্যা নেই। কিন্তু বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। কেননা, বেসরকারি উদ্যোক্তারা টাকা দিয়ে যেমন সহজেই ডলার কিনতে পারেন; রুবল তো সেভাবে পাবেন না।’

ভারতের রাষ্ট্রীয় তেল পরিশোধনকারী সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (এইচপিসিএল) সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের এপ্রিল-মে মাসে রাশিয়া থেকে মাত্র ৪৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের তেল কিনেছিল ভারত৷ আর চলতি ২০২২ সালের শুধু মে মাসেই ১৯০ কোটি ডলারের তেল কিনেছে ভারত৷

আগে বছরে চাহিদার মোট ২ শতাংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করত ভারত। এবার এপ্রিল-মে মাসে চাহিদার ১০ শতাংশ তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করেছে। যত সময় গড়াচ্ছে, ততই রাশিয়া থেকে তেল আনার পরিমাণও বাড়ছে৷ কারণ রাশিয়া সস্তায় তেল দিচ্ছে ভারতকে।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ভারত সফরে গিয়ে বাংলাদেশও যাতে ভারতের মতো সস্তায় রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারে, সেই রাস্তা বাতলে দিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে অনুরোধ করেছিলেন।

দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা আহসান মনসুর বলেন, ‘ইউরোপ-অ্যামেরিকার চোখরাঙানিকে ভারত ভয় না পেয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তার কারণ হলো- আয়তনে ও প্রভাবে ভারত অনেকটাই বড়৷ ভারতের বিশাল বাজার ধরতে সব দেশের কোম্পানি উদগ্রীব৷ ভারতের বাজার হারালে অনেক বহুজাতিক কোম্পানি রীতিমতো বিপাকে পড়বে৷’

‘অস্ত্র থেকে শুরু করে ভোগ্যপণ্য- সবকিছুর ক্ষেত্রেই ভারতের বাজার তাদের কাছে খুবই লোভনীয়৷ সেজন্য ভারত এই চাপকে উপেক্ষা করতে পারে।’

‘কিন্তু বাংলাদেশ পারে না, এটাই বাস্তব সত্য,’ বলেন আহসান মনসুর।

আরও পড়ুন:
রুশ তেল আমদানি ইস্যুতে বিশেষজ্ঞ দল আসছে
রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আনতে চান প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল ৯০ ডলারের নিচে
লোডশেডিং বিদায় সেপ্টেম্বরে: প্রতিমন্ত্রী
রাশিয়া থেকে গম আমদানির পথ খুলছে

মন্তব্য

জাতীয়
In the event that there is no additional fare chart on the bus
বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য-১২

বাসে বাড়তি ভাড়া চার্ট না থাকার সুযোগে

বাসে বাড়তি ভাড়া চার্ট না থাকার সুযোগে কয়েকটি বাসে দেখা গেছে জানালার দুটি গ্লাসের মধ্যে যে গ্লাসটি বাইরের অংশে থাকে সেই গ্লাসে ভাড়ার তালিকা টানাচ্ছে। ফলে জানালা খুলে রাখার কারণে বাইরের গ্লাসে টানানো ভাড়ার তালিকা ভেতরের গ্লাস দিয়ে ঢেকে যাচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
কেন যাত্রীদের চোখের আড়ালে ভাড়ার তালিকা লাগানো হয়েছে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থেকে চিটাগাং রোডগামী সুগন্ধা পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৯১৬৮ বাসের চালক মো. ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাড়ার চার্ট আমরা না মালিকে লাগিয়েছে এভাবে। কথা সত্য, জানালা খোলা রাখলে ভাড়ার তালিকা দেখা যায় না। তবে জানালা বন্ধ করলে তো দেখা যায়।’

বাসভাড়া নির্ধারণের পর কোনো এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ভাড়া কত, সেটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ নির্ধারণ করে দিলেও কার্যত সে তথ্য পাচ্ছে না যাত্রীরা। অথচ এই বিষয়টিই বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে একটি হাতিয়ার হতে পারত।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ৭ আগস্ট বিআরটিএ থেকে নতুন ভাড়ার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনের পরে ৯ দিন চলে গেলেও রাজধানীতে বেশির ভাগ বাসে এখনও ভাড়ার তালিকা টানানো হয়নি।

এবার চাপে পড়ে বাস মালিক সমিতি বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রধান কৌশল ওয়েবিল পদ্ধতি বাতিল করে দূরত্ব অনুসারে ভাড়া আদায়ের ঘোষণা অবশ্য দিয়েছেন। তবে কোনো একটি গন্তব্য থেকে অন্য একটি গন্তব্য পর্যন্ত যে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হতো, সেটিই আদায় করা হচ্ছে। এর কারণ এই পথের দূরত্ব কত, সেটি না জানা।

দূরত্বের বিষয়টি জানা যেত ভাড়ার চার্ট সাঁটানো থাকলে। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকরা বাসে সেই চার্ট সাঁটান না, আর সাঁটালেও দুই চার দিন পর তা ছিঁড়ে ফেলেন অথবা এমন জায়গায় থাকে, যেখানে যাত্রীর চোখ যায় না।

কয়েকটি বাসে দেখা গেছে, জানালার দুটি গ্লাসের মধ্যে যে গ্লাসটি বাইরের অংশে থাকে, সেই গ্লাসে ভাড়ার তালিকা টানাচ্ছে। ফলে জানালা খুলে রাখার কারণে বাইরের গ্লাসে টানানো ভাড়ার তালিকা ভেতরের গ্লাস দিয়ে ঢেকে যাচ্ছে, যা যাত্রীদের চোখের আড়ালে থেকে যাচ্ছে।

বাসে বাড়তি ভাড়া চার্ট না থাকার সুযোগে

কেন যাত্রীদের চোখের আড়ালে ভাড়ার তালিকা লাগানো হয়েছে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থেকে চিটাগাং রোডগামী সুগন্ধা পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৯১৬৮ বাসের চালক মো. ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাড়ার চার্ট আমরা না মালিকে লাগিয়েছে এভাবে। কথা সত্য, জানালা খোলা রাখলে ভাড়ার তালিকা দেখা যায় না। তবে জানালা বন্ধ করলে তো দেখা যায়।’

কেউ তো আর জানালা বন্ধ করে রাখে না। জানালার ওপরের গ্লাসে কেন ভাড়ার তালিকা লাগানো হয় নাই- উত্তরে তিনি একই কথা বলেন। ফারুক বলেন, ‘এটা মালিক এভাবে টানিয়েছে।’

অনেক বাসে আবার চালকের সামনে ভাড়ার তালিকা টানানো। যেটা দূর থেকে দেখে যাত্রীরা কিছুই বুঝবে না।

ভাড়ার চার্ট টানানোর শর্ত হিসেবে বিআরটিএ থেকে বলা হয়েছে, যাত্রীদের থেকে এমন দূরত্বে ভাড়ার তালিকা লাগাতে হবে যাতে তারা সহজেই দেখে ভাড়া দিতে পারেন।

চালকের মাথার ওপর চার্ট থাকার বিষয়ে বাইপাইল থেকে সাইনবোর্ড এম এম লাভলী পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৯৬৫১ বাসের ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. রনি বলেন, ‘ভাড়ার চার্ট আজকে দিছে। তাই সামনে একটা টানাইছি।’

বাসে বাড়তি ভাড়া চার্ট না থাকার সুযোগে

এই পরিবহনের বেশ কয়েকটি বাসে একই চিত্র দেখা যায়।

মোহাম্মদপুর থেকে গুলিস্তানগামী মিডলাইন পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১৩-০৫৪০ বাসের চালক শুকুর আলী বলেন, ‘একটা চার্ট টানাইছি।’

যাত্রীদের সুবিধাজনক স্থানে বেশ কয়েকটি ভাড়ার তালিকা টানানোর কথা। সামনের ভাড়ার তালিকা তো দেখা যায় না- উত্তরে শুকুর আলী বলেন, ‘আপনি বলেছেন, আজকেই চার্ট টানাব।’

বাসে যাত্রীদের সুবিধাজনক স্থানে ভাড়ার তালিকা টানানো হয়নি কেন- জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থেকে ধুপখোলাগামী মালঞ্চ পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৯৭৬২ বাসের চালক আল-আমিন বলেন, ‘আমাদের একটা চার্ট দিছে। সেটা সামনে টানিয়ে রাখছি।’

আপনি ভাড়ার তালিকা পাঁচটা ফটোকপি করে বাসে টানাতেন- উত্তরে আল-আমিন বলেন, ‘আমাদের তো মালিকপক্ষ থেকে কিছু বলে নাই। এই একটাই টানাতে বলছে। আমাদের বললে আমরা জানালায়, দরজার সামনে টানাতাম। ভাড়ার চার্ট একটা দিছে, একটাই টানাইছি।’

বাসে বাড়তি ভাড়া চার্ট না থাকার সুযোগে

একই পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৯৫২৭ বাসের চালক মো. মাহাবুব বলেন, ‘চার্ট এখনও কোম্পানি দেয় নাই।’

আপনাদের অন্য বাসে তো ভাড়ার তালিকা দিয়েছে?– জবাবে মাহাবুব বলেন, ‘আমারে এখনও দেয় নাই। আমরা চাইছি, বলছে আজকে দিবে।’

মোহাম্মদপুর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারগামী স্বাধীন পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৯৯৬০ বাসেও দেখা যায়নি চার্ট। কারণ জানতে চাইলে এর চালক মো. বিল্লাল বলেন, ‘ভাড়ার চার্ট আমাদের এখনো দেয় নাই।’

বাসে ভাড়ার তালিকা দেয়া হয়েছে আগেই। আপনাকে না দেয়ার কারণ থাকতে পারে না- এমন মন্তব্যের জবাবে বিল্লাল বলেন, ‘ছুটিতে ছিলাম। গতকাল থেকে বাস চালাচ্ছি। এগুলা কিছু জানি না।’

মোহাম্মদপুর থেকে বনশ্রীগামী তরঙ্গ প্লাস পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-১১৬৮ বাসের চালক তানভীর হাসান বলেন, ‘চার্টের বিষয়ে মালিক জানে। মালিক বলছে, কালকে থেকে আমাদের চার্ট দিবে।’

অনেকে আবার বলছেন, ভাড়ার তালিকা নাই। তারা ওয়েবিলে ভাড়া কাটছেন।

মিরপুর দুয়ারীপাড়া থেকে সদরঘাটগামী বিহঙ্গ পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১৩-০৭৫০ বাসের ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. তুহিন বলেন, ‘চার্ট নাই। ওয়েবিলে ভাড়া লেখা আছে।’

ওয়েবিল তো থাকার কথা না, ভাড়া কাটার কথা কিলোমিটার হিসেবে- সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এই প্রশ্ন করতেই তুহিন বলেন, ‘চার্ট ছিল। গাম নাই, তাই উঠে গেছে। আরও দুই সপ্তাহ আগে ভাড়ার চার্ট লাগানো ছিল।’

দুই সপ্তাহ আগে তো পুরাতন ভাড়ার তালিকা ছিল- উত্তরে তুহিন বলেন, ‘চার্ট সামনের সপ্তাহে দিছিল। উঠে গেছে।’

ডিজিটাল ব্যানার ও ই-টিকিটিংয়ের দাবি

যাত্রী অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘প্রত্যেক বাসস্টান্ডে ডিজিটাল ব্যানারে বড় হরফে দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়ার অঙ্কের তালিকা টানানোর দাবি জানাচ্ছি। যাত্রী, চালক ও ভাড়া কাটার দায়িত্বে যিনি থাকেন, তারা যাতে সবাই ভাড়া দেখতে পারে এই দাবি জানাই।’

ই-টিকিটিং পদ্ধতিতে ভাড়া কাটার ব্যবস্থা করলে যাত্রীরা সঠিকভাবে ভাড়া দিতে পারবেন বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে ভাড়া নিলে যাত্রী গোনার কথা বলে মালিকরা যে ওয়েবিল চালু রেখে ভাড়া বেশি নিচ্ছে এই ওয়েবিল লাগবে না।’

ভাড়ার চার্ট নিশ্চিত করার ব্যর্থতা নিয়ে জানতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ফোন দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ফোনে কয়েকবার কল দিলে তিনি তা না ধরে ফোন কেটে দেন।

আরও পড়ুন:
তেলের দাম সমান হলেও কলকাতায় বাস ভাড়া ঢাকার চেয়ে কম
যাত্রী ঠকছে বিআরটিসির বাসেও
সর্বনিম্ন ভাড়া ১০, তবে প্রজাপতি ও পরিস্থানে ২৫
ওয়েবিল থাকবে না ঘোষণা দিয়ে কয়েক মাস সময় দাবি
ভাড়ার প্রতারণায় হাতিরঝিলে রাজউকের বাসও

মন্তব্য

জাতীয়
Labbike takes as much as you want in the name of chart rent
বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য-১১

চার্টের ভাড়া নামেই, লাব্বাইক নেয় ইচ্ছামতো

চার্টের ভাড়া নামেই, লাব্বাইক নেয় ইচ্ছামতো লাব্বাইক পরিবহনের বাস। ছবি: নিউজবাংলা
বাড়তি ভাড়া নেয়ার কারণে মালিবাগ রেলগেট এলাকায় যাত্রীরা এই বাসের ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. সাইফুলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এক যাত্রী তার বাড়তি ভাড়া সাইফুলের কাছ থেকে আদায় করে নেন। পরে সাইফুল বাসে থাকা একটি মাত্র ভাড়ার চার্ট ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় যাত্রীরা ভাড়ার চার্ট ছিঁড়ে ফেলার কারণ জানতে চাইলে সাইফুল বলেন, ‘এটা পুরাতন চার্ট।’

বাসভাড়ায় নৈরাজ্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর চাপে পড়া বাস মালিক সমিতি ওয়েবিলের নামে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ ঘোষণার পর সড়কে দেখা যাচ্ছে কৌশলী পদক্ষেপ।

সাভারের ইপিজেড থেকে নারায়ণগঞ্জের লিংক রোড পর্যন্ত চলাচলকারী লাব্বাইক পরিবহনের ওই বাসের চালক দাবি করছে, তারা ওয়েবিল পদ্ধতি থেকে সরে এসে কিলোমিটার দূরত্বে ভাড়া কাটছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়।

কিলোমিটারের হিসাব বাদ দিয়ে তারা আগের মতোই এক চেক থেকে আরেক চেক পর্যন্ত দূরত্বে বাড়তি ভাড়াই আদায় করছে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির ঘোষণা ছিল ১১ আগস্ট থেকে ওয়েবিলের বদলে কিলোমিটারের দূরত্ব হিসেবে প্রথম চার কিলোমিটার পর্যন্ত ১০ টাকা, এরপর প্রতি কিলোমিটারের জন্য আড়াই টাকা হারে ভাড়া কাটবে।

কিন্তু এই ঘোষণার চতুর্থ দিন লাব্বাইক পরিবহনের কয়েকটি বাসে উঠে দেখা যায় যাত্রীদের থেকে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে দূরত্ব ভেদে ৫ থেকে ২১ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করা হচ্ছে।

হেমায়েতপুর থেকে কমলাপুর ২১ দশমিক ৮ কিলোমিটারে ভাড়া আসে ৫৪ দশমিক ৫ পয়সা। চার্টের ভাড়া ৫৯ টাকা। যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া আদায় করেছে ৭৫ টাকা। বেশি নিয়েছে ২০ টাকা ৫০ পয়সা। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া পড়েছে ৩ টাকা ৪৪ পয়সা।

কারওয়ান বাজার থেকে সাইনবোর্ড ১৮ কিলোমিটারের ভাড়া নিয়েছে ৫০ টাকা। তবে নতুন চার্টের ভাড়া এই দূরত্বে ৪৫ টাকা। ভাড়া বেশি নিয়েছে ৫ টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া পড়েছে ২ টাকা ৭৭ পয়সা।

ফার্মগেট থেকে মৌচাক পর্যন্ত ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটারের চার্টে ভাড়া ১০ টাকা। যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া আদায় করেছে ১৫ টাকা। ভাড়া বেশি নিয়েছে ৫ টাকা।

সাভার থেকে মালিবাগ ২৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরত্বে চার্টে ভাড়ার অংক ৫৯ টাকা থাকলেও দুজনের কাছ থেকে ৮০ করে ১৬০ টাকা নেয়া হয়েছে। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া পড়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা।

এই বাসের যাত্রী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তো জানতাম না এই দূরত্বে ভাড়া ৫৯ টাকা। ও আমার কাছে ভাড়া চেয়েছে ৮০ টাকা। আমরা দুজন ভাড়া দিয়েছি ১৬০ টাকা। আপনি ভাড়ার চার্ট দেখে বললেন ভাড়া ৫৯ টাকা। এখন আপনি বলেন এদের কী করতে মনে চায়?’

বাড়তি ভাড়া নেয়ার কারণে মালিবাগ রেলগেট এলাকায় যাত্রীরা এই বাসের ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. সাইফুলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এক যাত্রী তার বাড়তি ভাড়া সাইফুলের কাছ থেকে আদায় করে নেন।

পরে সাইফুল বাসে থাকা একটি মাত্র ভাড়ার চার্ট ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় যাত্রীরা ভাড়ার চার্ট ছিঁড়ে ফেলার কারণ জানতে চাইলে সাইফুল বলেন, ‘এটা পুরাতন চার্ট।’

তবে সাইফুল ভাড়ার চার্ট ছিঁড়ে ফেলার আগেই ভাড়ার চার্টের তোলা ছবিতে দেখা যায়, এটি বিআরটিএ থেকে দেয়া ভাড়ার নতুন তালিকা।

পরে সাইফুলকে চার্ট ছিঁড়ে ফেলার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়েও কিছু চাইলেও কোনো উত্তর দেননি।

লাব্বাইক পরিবহনের আরেকটি বাসে কল্যাণপুর থেকে বাংলামোট ৫ দশমিক ৭ কিলোমিটারে চার্টের ভাড়া ১৪ টাকা থাকলেও ভাড়া আদায় করেছে ২০। বেশি নিয়েছে ৬ টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া পড়েছে ৩ টাকা ৫০ পয়সা।

কলেজ গেট থেকে মালিবাগ ৬ দশমিক ৭ কিলোমিটারের চার্টের ভাড়া ১৭ টাকা। তবে এক যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে ৩০। ভাড়া বেশি নিয়েছে ১৩ টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া পড়েছে ৪ টাকা ৪৭ পয়সা।

গাবতলী থেকে খিলগাঁও ১২.৬ কিলোমিটারে ভাড়া আসে ৩১ দশমিক ৫ টাকা। ভাড়া আদায় করেছে ৩৫ টাকা। বেশি নিয়েছে ৩ টাকা ৫ পয়সা।

এই বাসের যাত্রী মুরাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের চার জনের কাছ থেকে গাবতলী থেকে খিলগাঁওয়ের ভাড়া নিয়েছে ১৪০ টাকা। কিন্তু চার জনের ভাড়া আসে ১২৬ টাকা। একেক জনের থেকে সাড়ে তিন টাকা বেশি নিলেও সব মিলিয়ে ১৪ টাকা বেশি নিয়েছে। সমস্যা হচ্ছে ১০ টাকার জায়গায় ১১ টাকা ভাড়া আসলেই তারা রাউন্ড ফিগার করে ১৫ টাকা ভাড়া নেয়।’

বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. আদনান বলেন, ‘আমার কোনো কথা নাই ভাই। চেকারের সঙ্গে কথা বলেন।’

ইস্কাটন এলাকায় বাস থেকে নেমে বাসের যাত্রী সংখ্যা গুনে ওয়েবিলে সই করা মো. সাগরকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বাড়তি ভাড়া নেয়া হয় না।’

যাত্রীরা সবাই বলছে তাদের থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা হয়েছে এবং আগের মতোই আপনারা ওয়েবিলে ভাড়া নিয়েছেন। উত্তরে সাগর বলেন, ‘ওয়েবিল চালু নাই।’

আপনি নিজেই তো যাত্রী গুনে সংখ্যা লিখলেন ওয়েবিলে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমনে হিসাব রাখছে।’

পরে যাত্রীদের সঙ্গে বাক বিতণ্ডার এক পর্যায়ে সাগর বলেন, ‘আমি লাব্বাইকের চেকার না। আমি এখানকার স্থানীয়। লাব্বাইকের একটা গাড়ি ট্রাফিকে ধরছে। এখানের চেকার ওই গাড়ি ছাড়িয়ে আনতে গেছে। একটু অপেক্ষা করেন। তিনি আসলে জিজ্ঞাসা কইরেন।’

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর চেকার মো. রাসেল আসলে বেশি ভাড়া আদায় ও ওয়েবিলে ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়েবিলের গাড়ি চলে না। আমরা যাত্রীর হিসাব রাখি। যে বেশি ভাড়া আদায় করবে তার ডিউটি বন্ধ করে দেয়া হয়।’

তাহলে আপনার কাজ কী- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা রোডে এই কারণে থাকি যাতে কারও কাছ থেকে বেশি ভাড়া না নিতে পারে।’

তাহলে কীভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় হচ্ছে- এমন প্রশ্নে রাসেল বলেন, ‘রাস্তায় থাকা অবস্থায় তাদের আমরা কিছু বলতে পারি না। গাড়িটা স্টান্ডে পৌঁছালে পরে ব্যবস্থা নেই। অপরাধ করলেও চলন্ত গাড়ি থেকে তো স্টাফকে নামিয়ে দেয়া যায় না।’

তবে আগের মতোই চেকার রাসেল প্রতি গাড়ি চেক করার পরে ওয়েবিলে যাত্রী সংখ্যা লিখে সই করে ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে নেমে যান।

আরও পড়ুন:
বাড়তি ভাড়া নিয়ে বিপাকে খন্দকার এনায়েতের এনা
তেলের দাম সমান হলেও কলকাতায় বাস ভাড়া ঢাকার চেয়ে কম
যাত্রী ঠকছে বিআরটিসির বাসেও

মন্তব্য

জাতীয়
Enayet Khandakar is in trouble with the additional rent
বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য-১০

বাড়তি ভাড়া নিয়ে বিপাকে খন্দকার এনায়েতের এনা

বাড়তি ভাড়া নিয়ে বিপাকে খন্দকার এনায়েতের এনা ময়মনসিংহ বাস টার্মিনালে এনা পরিবহনের বাস। ছবি: নিউজবাংলা
এনা পরিবহনে যাত্রীর অভাব হয় না। কিন্তু এখন বাস ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বাসের অনেক সিট খালি নিয়ে ঢাকায় যাওয়া হচ্ছে। এতে শুধু তেলসহ আমাদের খরচ উঠলেও লাভবান হওয়া যাচ্ছে না: চালক হাসেম আলী

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর নতুন হারে ভাড়া নির্ধারণের পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহর মালিকানাধীন এনা পরিবহন বিপাকে পড়েছে।

এই পরিবহন আগের তুলনায় ভাড়া বাড়িয়েছে ৭০ টাকা। এই রুটে ভাড়া নেয়া হয় ৩২০ টাকা পর্যন্ত। তবে সরকারের দূরত্বের হিসাবে ভাড়া হওয়ার কথা ৩১০ টাকা। তবে ভাড়া বাড়ার পর যাত্রী কমে যাওয়ায় উল্টো বিপাকে পড়েছে কোম্পানিটি।

এই রুটে ৫২ আসনের বাসগুলোতে যাত্রী পাওয়া গেলেও ৪০ আসনের বাসগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা কমেছে। এর কারণ ৫২ আসনের বাসের ভাড়া কম। ২৫৫ টাকায় যাওয়া-আসা করা যাচ্ছে এই বাসগুলোতে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর মাসকান্দা আন্তনগর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, এনা কোম্পানির ঢাকাগামী সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে। ভাড়া বাড়ার আগে এ টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও এখন যাত্রীর সংখ্যা হাতে গোনা। যাত্রী না থাকায় দেরি করে ছাড়তে দেখা গেছে বাসগুলোকে।

আহসান হাবিব নামের একজন যাত্রী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। ময়মনসিংহ শহরে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে এনা পরিবহনে যেতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কারণ, অন্য বাসগুলো মহাসড়কের যেখানে সেখানে থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করলেও এনা এটি করে না।

বাড়তি ভাড়া নিয়ে বিপাকে খন্দকার এনায়েতের এনা
এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

‘তেলের মূল্যবৃদ্ধির আগে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় যেতে এনা পরিবহনের ভাড়া ছিল ২৫০ টাকা। এখন সেটি ৩২০ টাকা করা হয়েছে। এতে বাড়তি ৭০ টাকা আমাদের পকেট থেকে চলে যাচ্ছে। এসব দিক চিন্তা করে শৌখিন লোক ছাড়া কেউ এনা বাসে যাচ্ছে না।’

কিন্তু এই ভাড়া বাড়িয়ে কোম্পানির যে খুব একটা লাভ হচ্ছে না, সেটি উঠে এসেছে চালক হাসেম আলীর কথায়।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এনা পরিবহনে যাত্রীর অভাব হয় না। কিন্তু এখন বাস ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বাসের অনেক সিট খালি নিয়ে ঢাকায় যাওয়া হচ্ছে। এতে শুধু তেলসহ আমাদের খরচ উঠলেও লাভবান হওয়া যাচ্ছে না।’

বাড়তি ভাড়ার প্রমাণের পরও অস্বীকার

সরকারের দূরত্বের চার্ট অনুসারে ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১২২ কিলোমিটার। কিন্তু এনা পরিবহনের বাসগুলো ছাড়ে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে। গুগল ম্যাপের হিসাবে এই দূরত্ব সাড়ে ৭ কিলোমিটার।

অর্থাৎ মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মমনসিংহের দূরত্ব ১১৪ দশমিক ৫০ কিলোমিটার।

সরকারি হিসাবে ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া হবে ২ টাকা ২০ পয়সা হারে। এটি ৫২ আসনের জন্য প্রযোজ্য। কোনো কোম্পানি যদি যাত্রীর আরামের কথা ভেবে বাসের আসন কমায়, তাহলে আনুপাতিক হারে ভাড়া বাড়াতে পারবে।

এনা পরিবহন ৫২ আসনের জায়গায় ৪০টি অর্থাৎ ২৩ শতাংশ আসন কমানোয় তারা ২৩ শতাংশ বেশি ভাড়া নিতে পারবে।

এই হিসাবে এনা পরিবহন কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া আদায় করতে পারবে ২ টাকা ৭০ পয়সা হারে। এই হিসাবে ঢাকা ময়মনসিংহ রুটে ভাড়া হয় ৩১০ টাকা।

বিআরটিসি থেকে পাঠানো তালিকায় উল্লেখ আছে, মহাখালী থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১১৬ কিলোমিটার। তবে এই হিসেবেও ভাড়া হয় ৩১৩ টাকা। কোনোভাবেই ৭ টাকা বেশি নেয়া সম্ভব নয়।

যদিও প্রমাণ থাকার পরও এনা পরিবহনের ম্যানেজার আলম মিয়া বিষয়টি স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘বাসমালিকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং বাসের চাকা সচল রাখতে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে সরকার। আমরা নির্ধারিত ভাড়া নিচ্ছি।’

ভাড়ার এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির মহাসচিব মো. মাহবুবুর রহমান দাবি করেছেন, এনা যেহেতু ১২টি আসন কমিয়েছে, তাই তাদের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া আসে ২ টাকা ৮৬ পয়সা। এই হিসাবে ভাড়া আসে ৩৩১ টাকা। কিন্তু যাত্রীদের কথা চিন্তা করে ভাড়া রাখা হয় ৩২০ টাকা।

তিনি বলেন, ‘এনা পরিবহন মহাসড়কের কোথাও না থামাসহ ভালো সার্ভিসের কারণে সব সময় অন্য বাসের চেয়ে কিছু ভাড়া বেশি নেয়া হয়। এবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ৭০ টাকা আরও বেশি নেয়া হচ্ছে।’

গত ৫ আগস্ট মধ্যরাত থেকে ডিজেলের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়। পরদিন বাড়ে বাস ভাড়া। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে নগর পরিবহনে বাস ভাড়া কিলোমিটারে আড়াই টাকা ঠিক করা হয়। আর দূরপাল্লায় ৫২ আসনের ভাড়া ঠিক করা হয় ২ টাকা ২০ পয়সা হারে।

আরও পড়ুন:
বসুমতির সুমতি ফেরাবে কে?
বাস ভাড়ার প্রতারণা কাদেরকে জানালেন জাফরউল্লাহ
বিআরটিএ ঘুমিয়ে, ফায়দা নিয়েই যাচ্ছে রাইদা
স্বাধীন পরিবহন ভাড়া কাটে ‘স্বাধীনভাবে’
কার কাছে বিচার দেবেন বাসযাত্রীরা

মন্তব্য

জাতীয়
Negotiations on SEPA agreement with India

ভারতের সঙ্গে সেপা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা

ভারতের সঙ্গে সেপা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে স্থলবন্দর। ফাইল ছবি
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সেপা অনেকটাই ভিন্ন। কেননা এটি অনেক বিস্তৃত। এর মধ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব ও ই-কমার্সের মতো অনেকগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সেপা স্বাক্ষরিত হলে উভয় দেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে। উন্মুক্ত হবে বিনিয়োগের নতুন দরজা।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) নামে নতুন এক চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে দুই দেশ। দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা বলছেন, দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা সাফটার অধীনে বাংলাদেশ ভারতে যেসব বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে, নতুন চুক্তিতে তার চেয়েও বেশি সুবিধা দেখতে চান তারা।

প্রস্তাবিত সেপা চুক্তির বিষয়ে এফবিসিসিআই একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এটি সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের পর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটবে। এরপর শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্যের সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা আর পাবে না বাংলাদেশ। এতে করে রপ্তানি বাণিজ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ সম্পাদনের ব্যাপারে বেশি মনোযোগ দেয়ার কথা বলছেন দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা।

এফবিসিসিআই ওই প্রতিবেদনে বলেছে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) চালু আছে। এর আওতায় শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। সাফটার আওতায় বিদ্যমান সুবিধা আরও বেশ কিছুদিন অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে তারা।

বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আছে। আবার দুটি দেশই আছে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায়। এর অধীনে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।
কয়েক বছর পর বাংলাদেশ যখন উন্নয়শীল দেশের কাতারে যাবে, তখন আর সাফটার বিদ্যমান সুবিধা পাবে না। তখন দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্য বাড়াতে নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রয়োজন হবে। সেই চিন্তা থেকেই বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে পার্টনারশিপ বা অংশীদারত্বমূলক চুক্তির প্রস্তাব করে বাংলাদেশ।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সেপা অনেকটাই ভিন্ন। কেননা এটি অনেক বিস্তৃত। এর মধ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব ও ই-কমার্সের মতো অনেকগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সেপা স্বাক্ষরিত হলে উভয় দেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে। উন্মুক্ত হবে বিনিয়োগের নতুন দরজা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, মূলত স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের দিক থেকেই এই চুক্তির প্রস্তাবটি ছিল।

উত্তরণ-পরবর্তী বাংলাদেশ যাতে ভারত থেকে আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা পায়, সে জন্য সেপা চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ। বিশ্বের অনেক দেশেই কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা/সিইপিএ) আছে। ইইউ দেশগুলোর মধ্যেও এই চুক্তি রয়েছে।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে একটি যৌথ সমীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয় এবং সমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার পর গত মাসে সরকারের কাছে জমা দেয়া হয় প্রতিবেদন।

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করতে ২৫ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়। এতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং এসব সিদ্ধান্তের ওপর এফবিসিআইয়ের মতামত নেয়া হয়। গত সপ্তাহে এফবিসিসিআই তার মতামত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) ও ভারতের সেন্টার ফর রিজিওনাল ট্রেডের (সিআরটি) যৌথ সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সেপা চুক্তি দ্বিপাক্ষিক পণ্যবাণিজ্য, সেবা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পারস্পরিকভাবে লাভজনক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে আগামী ৭ থেকে ১০ বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৩-৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়বে। একই সময়ে ভারতের আয় বাড়বে ৪-১০ বিলিয়ন ডলার।

২০২০-২১ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, যা চীনের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি বর্তমানে বাংলাদেশ চেম্বার অফ ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ার উল আলম পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘ভারত তাদের বাজারে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও নন-ট্যারিফ বাধার কারণে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রত্যাশিতভাবে বাড়ছে না। সেপা চুক্তির সাফল্য পেতে হলে নন-ট্যারিফ শুল্ক বাধার সমস্যার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’

বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ভারতে রপ্তানিতে একটু ধাক্কা আসতে পারে। এ জন্যই সিইপিএ করা হচ্ছে। সিইপিএ হয়ে গেলে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক বাড়বে।’

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ভিত্তিতে সেপা স্বাক্ষরের কথা বলে ভারত। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকে উভয় পক্ষ এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মত হয়। পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের জন্য এটি ভালো ভিত্তি হবে বলে একমত হন তারা।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ চুক্তি উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হবে কি না, তা খতিয়ে দেখতে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এফবিসিসিআইয়ের সুপারিশ

বর্তমানে আসিয়ানসহ সাতটি আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে যুক্ত আছে বাংলাদেশ। এসব জোটের অধীন দেশের সংখ্যা ১১২টি। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বাণিজ্য বাড়াতে এসব দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার কথা বলেছে এফবিসিসিআই।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। এ ছাড়া সাফটা বাণিজ্যের শর্ত কমপক্ষে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলেছে তারা।

ভারতের সঙ্গে সেপা নিয়ে আলোচনায় একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই টিমে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের যুক্ত করার সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই।

আলোচনায় সাফটায় যেসব সুবিধা আছে, সেপায় তার চেয়ে বেশি সুবিধা রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআই বলেছে, সাফটার আওতায় বিদ্যমান শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রেখে কমপক্ষে ১০ বছর আরও বাড়তি সুবিধা দিতে হবে। এ ছাড়া অশুল্ক বাধা যাতে দূর করা হয়, সে বিষয়টি সেপা চুক্তিতে যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই।

আরও পড়ুন:
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে সৌদির সঙ্গে চুক্তি প্রস্তাব অনুমোদন
মাসে একবার পিজা খাওয়ার শর্তে বিয়ে!
আমিরাত-ইসরায়েলের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
জনপ্রশাসনের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা দেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থাপনায় ঢুকছে দেশ

মন্তব্য

জাতীয়
Two leaves and a bud can you hear?

‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি, শুনতে কি পাও আহাজারি’

‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি, শুনতে কি পাও আহাজারি’ মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি ও ধর্মঘট পালন করছেন চা শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকরা হুট করে ধর্মঘট ডেকে বসলে সেটি আইন পরিপন্থি হয় না। অথচ আমরা ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে ব্যর্থ হয়ে আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে ধর্মঘটে গেলাম। এটিকে বলা হচ্ছে আইন পরিপন্থি।’

সোমা নায়েকের পরিবারের সদস্য সংখ্যা সাত। তিনি ছাড়াও স্বামী, তিন সন্তান আর বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি।

সিলেটের দলদলি চা বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন সোমা। স্বামী পরিমল নায়েকও তাই। দুজন মিলে সারা দিন কাজ করে আয় করেন ২৪০ টাকা। যেদিন কাজ নেই সেদিন আয়ও নেই। এই দিয়েই খাওয়া ছাড়াও সন্তানদের লেখাপড়া আর চিকিৎসা ব্যয়।

সোমা বলেন, ‘বাগান থেকে রেশন হিসেবে কিছু চাল পাই। এতে সপ্তাহ চলে না। বাজার থেকে নিতে হয়। আর বাকি সবকিছু তো পুরোটাই কিনে আনতে হয়। এখন বাজারের যে অবস্থা তাতে ২৮০ টাকা দিয়ে তো দিনে একজনের চলাই দায়। সাতজনের পরিবার চলবে কী করে?’

সোমার বড় ছেড়ে কলেজে পড়ে। খরচ মেটাতে না পারায় ছেলের পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা করছেন তিনি।

সোমা বলেন, ‘বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম তাতে খেয়ে বাঁচতেই পারছি না, ছেলেকে পড়াব কীভাবে? তার চেয়ে সে পড়া ছেড়ে কাজে লাগলে কিছু বাড়তি আয় হবে।’

‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি, শুনতে কি পাও আহাজারি’

সিলেটের লাক্কাতুরা বাগানের শ্রমিক রতন হাজরা। বলেন, ‘আমরা পাতা তুলি, কিন্তু চা খেতে পারি না। চায়ের কাপ এখন ১০ টাকা হয়ে গেছে। যে মজুরি পাই, তা দিয়ে চা কিনে খাওয়া বিলাসিতা হয়ে গেছে।’

গত এক মাসেও ঘরে মাংস রান্না হয়নি বলে জানালেন লাক্কাতুরার পাশের মালনীছড়ার বাগানের শ্রমিক শিউলি কন্দ। তিনি বলেন, ‘মুরগির কেজি এখন ২০০ টাকা। এত দাম দিয়ে মাংস কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। মাছ-ডিম খাওয়াও সম্ভব হয় না। ডাল আর সবজি দিয়েই খেতে হয়।

‘বাচ্চাদেরও কখনও সকালের নাশতা দিতে পারিনি। তারা ভাত খেয়েই স্কুলে যায়। অবার স্কুল থেকে এসে ভাত খায়।’

দেশের অন্যতম উৎপাদনশীল খাত চা বাগান। রপ্তানি পণ্যও। এখন উৎপাদন অনেক বেড়েছে। তবে দেশের বাজার বড় হয়ে ওঠায় কমে এসেছে রপ্তানি। তবে শুরু থেকেই অবহেলিত এ খাতের শ্রমিকরা। বাগানগুলোতে ‘ক্রীতদাসের’ মতো যুগ যুগ ধরে শ্রম দিয়ে আসছেন তারা। তবে মজুরি পান সামান্য।

এই বাজারেও একজন চা শ্রমিক দৈনিক মজুরি পান ১২০ টাকা। সেটিও কেবল নির্দিষ্ট পাতা উত্তোলন করলেই পাওয়া যায়। অসুস্থতা বা অন্য কোনো সমস্যায় কাজ করতে না পারলে মেলে না মজুরি। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।

‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি, শুনতে কি পাও আহাজারি’
দাবি আদায়ে চা শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের উপর চড়াও হয়। ছবি: মামুন হোসেন

এক সপ্তাহ ধরে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শ্রমিকরা। শনিবার দেশের ১৬৬টি বাগানে শুরু করেছেন অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। ধর্মঘট চালাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করেন তারা। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সড়ক অবরোধকালে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিও হয় শ্রমিকদের।

এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার কথা হয় সিলেটের বিভিন্ন বাগানের কয়েকজন চা শ্রমিকের সঙ্গে। নিজেদের মানবেতর জীবন ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন তারা।

সিলেটের খাদিমনগর চা বাগানের শ্রমিক সুশিলা রাজভর বলেন, ‘আমার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে সঙ্গে শ্বশুর-শাশুড়িও থাকেন। এত বড় পরিবার স্বামীর আয়ে চলে না। তাই আমাকেও কাজ করতে হয়। কিন্তু এখন দুজনের আয়েও সংসার চলছে না।’

তিনি বলেন, ‘১২০ টাকায় কীভাবে খেয়ে-পরে বাঁচব? ওষুধপত্র, কাপড়চোপড় কিংবা বাচ্চাদের পড়ালেখা এসবের খরচ আসবে কোথায় থেকে? এখন ৩০০ টাকা দিয়েও চলা সম্ভব না।’

মালনীছড়া চা বাগানের শ্রমিক রতন বাউরি বলেন, ‘সবকিছুর দাম বাড়ছে। উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু আমাদের মজুরি বাড়ছে না। আমাদের কোনো উন্নতি নেই।’

‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি, শুনতে কি পাও আহাজারি’

রোববার চা বাগানে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। সোমবার জাতীয় শোক দিবসের ছুটি। তাই এ দুদিন বাগানগুলোতে শ্রমিকদের কর্মবিরতিসহ সব কর্মসূচি স্থগিত আছে।

তবে সোমবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে মঙ্গলবার থেকে আবার লাগাতার ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানান বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের হিসাবে ১৬৬ চা বাগানে শ্রমিক সংখ্যা দুই লাখের বেশি। প্রতি দুই বছর অন্তর বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদের সঙ্গে ও শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে আলোচনাসাপেক্ষে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

২০২০ সালে চা শ্রমিকদের মজুরি ১১৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা নির্ধারণ করে মালিকপক্ষ। সেই চুক্তির দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হয়নি।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, ‘গত দুই মাসে মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আমরা মজুরি ১২০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু তারা তা মানেননি। পরে এই দাবিতে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি।

‘এতেও কোনো সাড়া না পেয়ে ৮ আগস্ট থেকে আন্দোলন শুরু করি। এরপর বৃহস্পতিবার মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠক আহ্বান করে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর। এতে শ্রমিক নেতারা গেলেও মালিকপক্ষের কেউ আসেননি। ফলে শনিবার থেকে আমরা দেশের সবগুলো চা বাগানের ধর্মঘট শুরু করেছি।’

কী বলছে মালিকপক্ষ

মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাগানগুলো পরিচালনা করে থাকেন বাগান ব্যবস্থাপকরা। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে থাকেন।

আকিজ গ্রুপের মালিকানাধিন মৌলভীবাজারের বাহাদুরপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল জব্বার শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে কোনো মন্তব্য না করেই বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের কেবল মজুরি দিই না। রেশন হিসেবে একজন শ্রমিককে সপ্তাহে সাড়ে তিন কেজি করে চাল দেয়া হয়। এক শ্রমিকের পরিবারের চারজন সদস্য এই রেশন পেয়ে থাকেন। শ্রমিকদের সন্তানদের ১৮ বছর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এই রেশন দেয়া হয়।

‘বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের আবাসনের ব্যবস্থা করে। তাদের চিকিৎসা ও সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষার সুবিধাও বাগানের পক্ষ থেকে করা হয়। তাদের খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া যেসব নারী শ্রমিকের ছোট বাচ্চা রয়েছে, সেসব বাচ্চা দেখাশোনার ব্যবস্থাও বাগানের পক্ষ থেকে করা হয়।

‘বয়স্ক শ্রমিকদের অবসরকালীন ভাতা দেয়া হয়। আবার একজন শ্রমিক দিনে ২৪ কেজির বেশি পাতা তুললে তারা কেজিপ্রতি ৪ টাকা করে বাড়তি মজুরিও পেয়ে থাকেন। ফলে তারা কেবল ১২০ টাকা মজুরিতে কাজ করেন এমন দাবি সত্য নয়।’

একই ধরনের তথ্য দিয়ে চা শিল্পের উদ্যোক্তা ও সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি আফজাল রশীদ চৌধুরী বলেন, ‘সব সুবিধা মিলিয়ে একজন শ্রমিকের পেছনে আমাদের দৈনিক ৪৫০ টাকা খরচ করতে হয়। বাগানে দিন দিন শ্রমিক বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে উৎপাদন বাড়ছে না।

‘আবার কোনো শ্রমিকের আমরা বের করে দিতেও পারি না। তাদের আবাসন ব্যবস্থাসহ সব ব্যয়ভার বহন করতে হয়। এসব খরচ মিটিয়ে চা বাগান থেকে লাভ বের করে আনাই কষ্টকর। অনেক বাগানই এখন লোকসানে আছে।’

শ্রমিকদের ভিন্নমত

মালিকপক্ষের এমন দাবির সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে এ প্রসঙ্গে সিলেটের কালাগুল চা বাগানের শ্রমিক সঞ্জয় মাহালি বলেন, ‘বাগানে প্রাইমারি স্কুল থাকলেও এতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। বেশির ভাগ বাগানে এক শিক্ষক দিয়েই স্কুল চলে। আবার প্রাথমিকের পর বাচ্চাদের পড়ালেখা নিজ খরচেই করাতে হয়। একটি মেডিক্যাল সেন্টার থাকলেও সেখানে কোনো চিকিৎসক নেই।

‘প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। ফলে জ্বর-সর্দি ছাড়া অন্য কোনো অসুখ হলে বাইরের চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়।’

চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, ‘অনেক বাগানে রেশনের নামে শ্রমিকদের শুধু আটা দেয়া। অথচ আমাদের চুক্তিতে আছে, ছয় মাস চাল এবং ছয় মাস আটা দেয়া হবে। কিন্তু সেটাও তারা মাছেন না। এ ছাড়া চিকিৎসা ও শিক্ষার সুবিধা একেবারেই নামমাত্র। এসব সেবা বাইরে থেকেই আমাদের নিতে হয়।’

রেশনের সঙ্গে মজুরির কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, ‘রেশন হিসেবে বাগান থেকে কিছু চাল বা আটা দেয়া হয়। কিন্তু একজন শ্রমিক কি কেবল চাল খেয়েই বাঁচবে? বাকি খাবার তো ১২০ টাকায় কেনা সম্ভব নয়। চিকিৎসা, শিক্ষা, পোশাক- এসব কীভাবে ব্যবস্থা করবে চা শ্রমিকরা?

‘এই সময়ে এসে একজন লোককে ১২০ টাকায় সারা দিন খাটানো হয়, এটাই তো চরম অমানবিক।’

সমঝোতার উদ্যোগ ব্যর্থ

চা শিল্পের এই অচলাবস্থা কাটাতে গত বৃহস্পতিবার বাগান মালিক নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের নিয়ে বৈঠক আহ্বান করে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ওই বৈঠকে শ্রমিকরা যোগ দিলেও মালিকরা যাননি।

বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক শ্রমিক নেতা জানান, বৈঠকে শ্রম অধিদপ্তরের নেতারা মালিকদের হয়ে কথা বলেন। তারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য শ্রমিকদের চাপ দেন। এভাবে ধর্মঘট আহ্বান আইন পরিপন্থি বলেও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে শ্রম দপ্তরের শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপপরিচালক নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ বন্ধ করে শ্রমিকেরা আন্দোলনে গেলে মালিক ও শ্রমিক দুই পক্ষেরই ক্ষতি হবে। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একটা সমঝোতা বৈঠক করেছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ২৮ আগস্ট তাদের সঙ্গে বসতে সময় চেয়েছেন। আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখতে বলেছেন। কিন্তু চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতরা সেটা মানেননি।’

এভাবে ভরা মৌসুমে হুট করে ধর্মঘট ডাকা আইন পরিপন্থি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকরা হুট করে ধর্মঘট ডেকে বসলে সেটা আইন পরিপন্থি বলা হয় না। অথচ আমরা ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে ব্যর্থ হয়ে আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে ধর্মঘটে গেলাম। এটাকে বলা হচ্ছে আইন পরিপন্থি।’

বাংলাদেশ চা সংসদের সিলেট বিভাগের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, ‘মজুরি বাড়ানো নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনা চলছিল। আলোচনা চলাকালে এভাবে কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করা বেআইনি।’

তিনি বলেন, ‘এখন চা বাগানে ভরা মৌসুম। কাজ বন্ধ রাখলে সবার ক্ষতি। শ্রমিকরাও এই মৌসুমে কাজ করে বাড়তি টাকা পায়।'

শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার প্রসঙ্গে গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, ‘আমরা সরকারকে অনুরোধ করেছি যাতে শ্রমিকদের কাজে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।’

সব চা বাগানে উৎপাদন বন্ধ থাকলে দিনে ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে জানান তিনি।

‘এখনও ক্রীতাদাস’

শনিবার থেকে চা শ্রমিকদের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাদের আন্দোলন ও দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছেন।

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক আরিফ জেবতিক এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে ফেসবুকে লিখেছেন- চা শ্রমিকদের ৩০০ টাকা মজুরির দাবি যৌক্তিক।

লেখক কাসাফাদ্দৌজা নোমান চা শ্রমিকদের আন্দোলনের একটি ছবি যুক্ত করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘...আজকাল তো নগরীর অভিজাত চায়ের দোকানে এক কাপ চা বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। সে চায়েরও হয় ফুড রিভিউ। অথচ শ্রমিকদের ১২০ টাকার অসুন্দর জীবনের দৃশ্য সিনেমাটোগ্রাফিতেও আসে না, খবরেও খুব একটা পাওয়া যায় না। কারণ তারা চা পাতা ভর্তা খেয়েই কাটিয়ে দিচ্ছে বেহেশতি এই জীবন!

‘চা শ্রমিকরা দৈনিক ৩০০ টাকা পারিশ্রমিকের জন্য আন্দোলন করছে। তাদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রইল।

দুটি পাতা একটি কুড়ি

শুনতে কি পাও আহাজারি?’

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা আইডিয়া। শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক নজমুল হক বলেন, ‘শ্রমিকরা এখনও অনেকটা ক্রীতদাসের মতোই জীবন কাটাচ্ছে। তাদের উন্নয়নে সরকার, মালিকপক্ষ সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। তাদের মজুরি বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক।’

আরও পড়ুন:
চা শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
‘বৈকুণ্ঠপুর চা বাগান চালু না হলে কঠোর আন্দোলন’
গাছ পাচার: ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে চা শ্রমিকরা
যে জীবন চা-শ্রমিকদের
চা শ্রমিকের মৃত্যু: ৮ ঘণ্টা পর ঘরে ফিরল শ্রমিকরা

মন্তব্য

জাতীয়
This was not the case in the song Fazal e Khodar remembers Bangabandhu

‘এমন তো কথা ছিল না’

‘এমন তো কথা ছিল না’ ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’এবং ‘এমন তো কথা ছিল না’ গানের রচয়িতা ফজল-এ-খোদা, গেয়েছেন আব্দুল জব্বার ও সুর করেছেন বশির আহমেদ (ডানে)। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর গীতিকার ফজল-এ-খোদার যে চাপা কষ্ট, সেই কষ্ট থেকে ‘এমন তো কথা ছিল না’ গানটির জন্ম এবং ১৫ আগস্টের পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সৃষ্টি হওয়া এটি প্রথম গান বলে দাবি ফজল-এ-খোদার স্ত্রী মাহমুদা সুলতানার।

‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ গানটি বাংলাদেশের কে না শুনেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানিয়ে গানটি লিখেছেন ফজল-এ-খোদা, গেয়েছেন ও সুর করেছেন আব্দুল জব্বার। বিবিসির জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলা গানের তালিকায় সেরা ২০ গানের মধ্যে ১২তম স্থান পেয়েছিল।

তবে আজকের গল্পটি ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ গানটি নিয়ে নয়। আজকের গল্পটি ‘এমন তো কথা ছিল না’ গানের। যার রচয়িতা ফজল-এ-খোদা, গেয়েছেন আব্দুল জব্বার ও সুর করেছেন বশির আহমেদ।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর গীতিকার ফজল-এ-খোদার যে চাপা কষ্ট, সেই কষ্ট থেকে গানটির জন্ম এবং ১৫ আগস্টের পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সৃষ্টি হওয়া এটি প্রথম গান বলে দাবি ফজল-এ-খোদার স্ত্রী মাহমুদা সুলতানার।

মাহমুদা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, “এমন তো কথা ছিল না’ গানটি ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে লেখা ও রেকর্ড করা। এটি ফেব্রুয়ারিতে রেডিওতে বাজানো হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে এটিই প্রথম গান।’

তিনি জানান, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর তার নাম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা। তাই কাব্য আর রূপকের আশ্রয় নিয়ে ফজল-এ-খোদা গানটি রচনা করেন। বশির আহমেদের সুরে গানটিতে কণ্ঠ দেন আব্দুল জব্বার।

মাহমুদা সুলতানা বলেন, ‘ব্যাপারটি তখন শুধু তারা তিনজন জানতেন। আমিও জেনেছি কিছু পরে।’

গানটি তৈরি হওয়ার গল্প শোনাতে গিয়ে মাহমুদা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোররাতে শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আমার। আমি ফজল-এ-খোদাকে ডেকে তুলি। মনে হচ্ছিল শব্দগুলো গোলাগুলির। ফজল-এ-খোদা আমাকে বললেন, বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন, সে জন্য হয়তো শব্দ হচ্ছে। তিনি ধারণা করেছিলেন, ছাত্রলীগের কর্মীরা হয়তো পটকা ফাটাচ্ছে।’

ফজল-এ-খোদা তখন রেডিওতে চাকরি করেন। রেডিওর পক্ষ থেকে তারও যাওয়ার কথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। একটু পরে আবার উঠতে হবে এ জন্য তাকে শুয়ে পড়তে বলেন ফজল, জানান মাহমুদা।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, এ খবরটি শোনার বর্ণনা দিয়ে মাহমুদা বলেন, ‘বেলা বাড়লে, রেডিওর এক পিয়ন দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে বাসায় আসে। তখন আমাদের বাসা ছিল শের-ই-বাংলা নগরের সরকারি কোয়ার্টারে। সেই পিয়ন এসে আমাকে বলে, ম্যাডাম বঙ্গবন্ধুকে তো মাইরা ফালাইসে। রেডিও ছাড়েন। আমি খবরটি ফজল-এ-খোদাকে জানাই। সে শুনে উদভ্রান্তের মতো হয়ে যায়। দৌঁড় দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে আবার বাসায় নিয়ে এসে রেডিওর সামনে বসানো হয়।’

রেডিও অফিসও ছিল আর্মিদের দখলে। ফজল-এ-খোদার কাছ থেকে শোনা গল্পই মাহমুদা জানান নিউজবাংলাকে। বলেন, ‘তার কয়েক দিন পর স্বাধীন বাংলার বেতার কেন্দ্রের একজন শব্দসৈনিক ছিলেন, তার নাম আশরাফুল আলম, রেডিও অফিসে তাকে নির্যাতন করছিল আর্মির লোকজন। কারণ আশরাফুল আলম তার কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজাচ্ছিলেন। আর্মির লোকজন মনে করেছিল, তার অন্য কোনো পরিকল্পনা আছে।’

মাহমুদা জানান, ফজল-এ-খোদা, শহীদুল ইসলাম এবং আশরাফুল আলম- বেতারের এই তিন কর্মকর্তাকে এক আত্মা মনে করা হতো।

মাহমুদা আবার বলতে শুরু করেন, ‘এর মধ্যে কীভাবে যেন রটে গেল, মানে এটা রটানো হয়েছে যে এই তিনজন একটা নতুন বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে। ১৯৭৫ সালের ৩ অক্টোবর ভোররাতে মেজর শাহরীয়ার আর্মির জিপ নিয়ে আমাদের শের-ই-বাংলা নগরের সরকারি বাসায় আসেন এবং ফজল-এ-খোদাকে ধরে নিয়ে যান। শহীদুল ইসলামকে আগেই ধরেছিল আর্মিরা।’

‘‘ফজল-এ-খোদা এক সময় ছাড়া পান। কিন্তু তার মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ, কষ্ট, দুঃখ বা হতাশা তৈরি হয়, যেটা জানাচ্ছিল না। শিল্পী আব্দুল জব্বার বিষয়টি লক্ষ করেন এবং পরামর্শ দিয়ে ফজল-এ-খোদাকে বলেন, ‘তোর তো কষ্ট যাচ্ছে না। তুই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটা গান লেখ।’ মাহমুদা জানান, কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়াই নিষেধ ছিল। সেই সময় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান লেখা হবে কীভাবে।’’

মাহমুদা বলেন, ‘তখন ফজল-এ-খোদা খুব তীক্ষ্ণতার সঙ্গে, কাব্যের সাহায্যে রূপকের আশ্রয়ে লিখলেন সেই গান-

‘ভাবনা আমার আহত পাখির মতো

পথের ধুলোয় লুটোবে

সাতরঙে রাঙা স্বপ্নবিহঙ্গ

সহসা পাখনা গুটোবে

এমন তো কথা ছিল না…

আলোর কামনাগুলি সূর্য্য শিখা হয়ে আনন্দ ফুলঝুরি ছড়াতো

গানের বাঁশরি হয়ে সুরের আকাশখানি তারার জোছনায় ভরাতো

বৈশাখি মেঘে মেঘে চন্দ্র সূর্য্য ঢেকে

আচমকা আঁধার জুটোবে

এমন তো কথা ছিল না

মনের বাসনাগুলি গন্ধ গোলাপ হয়ে

অন্ধ মাতাল করে দিতো

সবুজ পাতারা ওগো অবুঝ প্রথম প্রেমে আদরে কাছে ডেকে নিতো

বাওরি উদাসী বায়ে

গোলাপেরা ঝরে গিয়ে

এ হৃদয়ে কাঁটা ফুটোবে

এমন তো কথা ছিল না।’

মাহমুদা বলেন, ‘এমনিতে দেখতে এটাকে একটা প্রেম-ভালোবাসার গান মনে হবে। কিন্তু গানটি মূলত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা।’

মাহমুদা আরও বলতে থাকেন, ‘আব্দুল জব্বার কবি বলে ডাকতেন ফজল-এ-খোদাকে। গানের কথা দেখার পর জব্বার বাহবা দেন ফজলকে। কিন্তু সুর করবে কে গানটি? তখন দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেন বশির আহমেদকে দিয়ে গানটির সুর করানোর। কয়েক দিনের মধ্যে বশির আহমেদ গানটির সুর করে দেন। আব্দুল জব্বার খুব খুশি হয়েছিলেন গানটির এমন সুর পেয়ে।’

মাহমুদার এখন ৭৫ বছর বয়স। স্বামী ফজল-এ-খোদাকে হারিয়েছেন গত বছরেই। তিন ছেলের মধ্যে এখন তিনি থাকেন মেজো ছেলের সঙ্গে।

‘এমন তো কথা ছিল না’ গানের গীতিকার, শিল্পী, সুরকার কেউই নেই। শুধু রয়ে গেছে ইতিহাস। যে ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশ, যে ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গর্ব।

আরও পড়ুন:
বাঙালির কাঁদবার দিন

মন্তব্য

p
উপরে