× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

google_news print-icon

গুজব ছড়িয়ে এবার মুরাদনগরে তাণ্ডব

গুজব-ছড়িয়ে-এবার-মুরাদনগরে-তাণ্ডব
মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, মহানবীকে (সা.) নিয়ে করা ব্যঙ্গচিত্রে সমর্থনের গুজব ছড়িয়ে কোরবানপুর গ্রামের একটি বাড়ির ছয়টি ও পাশের বাড়ির একটিসহ সাতটি ঘরে আগুন দেয়া হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে এবার কুমিল্লার মুরাদনগরে সাতটি ঘরে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার বিকালে উপজেলার কোরবানপুরে এই হামলা হয়। এরপর ওই এলাকা ঘেরাও করে রাখে পুলিশ। স্থানীয় কাউকে সেখানে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর ও পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।

এরপর কুরবানপুর ও আন্দিকোট গ্রামে চার প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘মহানবীকে (সা.) নিয়ে করা ব্যঙ্গচিত্রে সমর্থনের গুজব ছড়িয়ে কোরবানপুর গ্রামের একটি বাড়ির ছয়টি ও পাশের বাড়ির একটিসহ সাতটি ঘরে আগুন দেয়া হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় আরেকটি মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। ভিডিও দেখে মামলায় আসামি করা হবে।

এর আগে ধর্মীয় অবমাননা মামলায় এক শিক্ষকসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রোববার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

গুজব ছড়িয়ে এবার মুরাদনগরে তাণ্ডব
কুমিল্লার মুরাদনগরে গুজব ছড়িয়ে বাড়িঘরে আগুন ধরানো হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

এরা হলেন মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোরবানপুর ব্লু বার্ড কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক রায় মোহন দেবনাথের ছেলে শংকর দেবনাথ ও আন্দিকুট গ্রামের জীবন ভৌমিকের ছেলে অনিক ভৌমিককে।

স্থানীয় পর্যায়ে গুজব ছড়ায় যে তারা মহানবীকে নিয়ে অবমানকার পোস্টে লাইক দিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে কোরবানপুর গ্রামের বাসিন্দারা।

বিকালেই দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন উপজেলার কোরবানপুর গ্রামের ধনমিয়া।

সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের আটক করে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ।

পূর্ব ধৈইর পূর্ব ইউপির চেয়ারম্যান বনজ কুমার শিব বলেন, ‘আমি ও শংকরের বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এখন এর বেশি মন্তব্য করতে পারছি না।’

এর আগে গত ২৯ অক্টোবর লালমনিহাটের বুড়িমারীতে একটি মসজিদে কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে একজনকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

যদিও পরে জানা যায়, যাকে হত্যা করা হয়েছে তিনি একজন ধার্মিক ব্যক্তি। আর ওই ঘটনায় অন্য কোনো ইন্ধন থাকতে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে এর আগেও নানা সময় হামলা হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। এ কারণে গুজব ছড়ালে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
Meeting of Turkish Foreign Minister with Prime Minister

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বিশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান হাকান ফিদান। সফরের প্রথম দিকে শুক্রবার তিনি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। ওই দিনই তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণে কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেন এবং রাতেই পুনরায় রাজধানীতে ফিরে আসেন। তিন দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষে আজ বিকেলেই তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগের কথা রয়েছে।

মন্তব্য

জাতীয়
The health minister has announced the operation of mobile courts to prevent dengue

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ঘোষণা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ঘোষণা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংগৃহীত ছবি

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আগামী দুই থেকে তিন দিন পর পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা করা হবে। শনিবার সকালে ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের একটি বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের আশঙ্কা অনুযায়ী এবারের ডেঙ্গুর ধরণ হতে পারে অত্যন্ত বিপজ্জনক, যাকে ‘হেমোরেজিক’ বলা হচ্ছে। এই ধরণের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শরীরে দ্রুত রক্তক্ষরণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে সাধারণ মানুষকে আগেভাগেই সচেতন হওয়ার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ডেঙ্গু মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস এবং নগরবাসীকে সতর্ক করার কাজ জোরদার করা হবে।

একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী দক্ষিণ সিটি এলাকার ৬৩টি ওয়ার্ড বর্তমানে ডেঙ্গুর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যদি জনগণ ও সিটি করপোরেশন প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করে, তবেই এই বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের এই সমন্বিত উদ্যোগ মূলত আগামী বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

মন্তব্য

জাতীয়
6 Bangladeshi peacekeepers posthumously awarded the Dag Hammarskjöld medal of the United Nations

মরণোত্তর জাতিসংঘের ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদক পেলেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

মরণোত্তর জাতিসংঘের ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদক পেলেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
ছবি: সংগৃহীত

সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদকে ভূষিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আজ শনিবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে জানানো হয়েছে যে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত এই বীর যোদ্ধাদের সাহসিকতা, আত্মত্যাগ এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক প্রদান করেন। নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষে পদকগুলো গ্রহণ করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী। সম্মাননাপ্রাপ্ত এই শান্তিরক্ষীরা হলেন—কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মণ্ডল। তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দায়িত্ব পালনকালে এক আকস্মিক ড্রোন হামলায় শাহাদাত বরণ করেন।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রায় চার হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। তিনি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ বছর ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে এই মরণোত্তর পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী শোক বইতে স্বাক্ষর করে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উল্লেখ্য যে, ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকটি ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি সর্বোচ্চ মরণোত্তর সম্মাননা। এটি মূলত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ বিসর্জনকারী সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অসামান্য অবদান ও নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।

মন্তব্য

জাতীয়
Pushin is increasing at the border

সীমান্তে বাড়ছে ‘পুশইন’

* চার জেলায় ৮৮ জনের প্রবেশ ঠেকাল বিজিবি   * অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ভারত: জয়সাওয়াল * সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত বিজিবি * অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়া কাউকে গ্রহণ করবে না  
সীমান্তে বাড়ছে ‘পুশইন’

কাগজে-কলমে ‘মৈত্রীর সোনালী অধ্যায়’ আর মুখে সৌহার্দ্যের ফুলঝুরি ছড়ানো হলেও, ভারতের বর্তমান সরকারের নানামুখী সিদ্ধান্ত ও আচরণে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে বন্ধুত্বের চেয়ে তিক্ততার ছায়াই আজ বেশি দৃশ্যমান। কারণ, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে হঠাৎ করেই এক নজিরবিহীন উত্তেজনাকর এবং চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং ন্যূনতম মানবিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সীমান্ত পথ দিয়ে জোরপূর্বক নারী, শিশু ও পুরুষদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) এক ব্যাপক ও সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিল সমীকরণ এবং সে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কথিত ‘অবৈধ নাগরিক’ পুশ-ব্যাক করার প্রস্তুতির খবরের পরপরই সীমান্তের এই আকস্মিক রূপবদল জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে বিএসএফের ঠেলে দেওয়া ৮৮ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ কঠোরভাবে ঠেকিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই ৮৮ জনই বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশের শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারেননি।

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির মনে করেন, পুশ-ইন ইস্যুটিকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে দুই দেশেরই যুক্তি ও মানবিকতা দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গবেষক ব্রিগেডিয়ার জে. মো. বায়েজিদ সরোয়ারের (অব.) মতে, পুশইনের মতো সংবেদনশীল পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত এক ধরনের চাপ বজায় রাখছে। এসব কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্থিরতা ও আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। সম্পর্কোন্নয়নের বদলে তিক্ততা ও অসন্তুষ্টি বাড়তে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশ অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া যত দ্রুত করার কথা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। শুক্রবার (৫ জুন) দিল্লিতে সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ভারতে অবস্থানরত সকল বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে, তারা বাংলাদেশি হোক বা অন্য যে কোনো দেশের নাগরিক হোক, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ীই তাদের সঙ্গে আচরণ করা হবে।

যদিও গত মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং অন্য দেশে অবস্থান করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা পাঠিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও আইনগত নিয়ম মেনে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বর্তমানে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন সরকারের কাছে ঝুলে নেই।

বিজিবি সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) ও বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম বলেন, অবৈধভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কাউকে বিজিবি গ্রহণ করবে না। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করা হলে আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে নির্ধারিত চেকপোস্টের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। পুশইনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈদ উপলক্ষে দায়িত্বে থাকা অনেক সদস্যের ছুটিও সীমিত করা হয়েছিল।

পঞ্চগড় : পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন আলোতে বিএসএফের সদস্যরা কাঁটাতারের গেট খুলে ১০ জন নারী, শিশু ও পুরুষকে জোর করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। তবে বিজিবির কঠোর ও অনমনীয় অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১০ জনকে নিয়ে ভারতীয় সীমানার ভেতরে সরে যেতে বাধ্য হয়।

যদিও বিএসএফ তাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে না নিয়ে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে মাত্র ২০ গজ দূরে ভারতের অংশে অবরুদ্ধ করে রেখে দেয়।

নীলফামারী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ দাবি করে যে এই ১০ জন বাংলাদেশের নাগরিক, কিন্তু এর সপক্ষে তারা কোনো বৈধ প্রমাণ বা নথিপত্র দেখাতে পারেনি।

লমনিরহাট : লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার চারটি ভিন্ন সীমান্ত দিয়ে একযোগে বড় ধরনের পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কামাতটারী এলাকায় ৫ জন নারী, ৩ জন পুরুষ ও ২ জন শিশুকে মারধর করতে করতে কাঁটাতারের বেড়ার গেট দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় বিএসএফ। ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন এবং বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) পঁয়ছড়াবাড়ি ক্যাম্পকে অবহিত করেন। বিজিবি ও স্থানীয় মানুষ একত্রিত হয়ে পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিদের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠায়।

একই সময়ে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়ন সীমান্তে ১১ জনকে এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ও দিঘলটারী সীমান্তে আরও ১৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। দবে বিজিবির ১৫ ও ৬১ ব্যাটালিয়নের জোয়ানরা স্থানীয়দের সাথে নিয়ে প্রতিটি পয়েন্টে বিএসএফকে রুখে দেয়। ৩৩ জন ভারতীয় শূন্যরেখার ২০ গজের মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন।

বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান জানান, বিএসএফের সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির পামাপাশি স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে বিজিবি। রাত্রিকালীন টহল দল বাঁশি ও টর্চ লাইটের মাধ্যমে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত জনসাধারণকে সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য সতর্ক করছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য পুশ-ইন এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধ আরও কার্যকর হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির জোয়ানরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

দিনাজপুর: প্রতিবেশী দেশে অবস্থানরত কথিত অবৈধ নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের আশঙ্কায় দিনাজপুর সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে। দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান সীমান্তবর্তী এলাকায় ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক সভা, মাইকিং এবং সরাসরি গণসংযোগ করছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট ও নদীপথগুলোতে দিবা-রাত্রিকালীন অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করার পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন নাইট ভিশন গগলস এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাইনোকুলার। সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘবদ্ধ দালালচক্র ও অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় জনগণকে নিয়ে ছোট ছোট ‘সতর্কতামূলক স্কোয়াড’ গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনো দালাল চক্র পুশ-ইনে সহায়তা করতে না পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তে বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের বাঙ্গাবাড়ী ক্যাম্প এবং বিপরীতে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্প দায়িত্ব পালন করছে। বুধবার রাত তিনটার দিকে সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে গভীর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ শিশুসহ ২৮ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় বিএসএফের আশরাফপুর ক্যাম্পের জোয়ানরা। তবে বিজিবির টহল দলের তীক্ষ্ণ নজরদারির কারণে বিএসএফের এই অপারেশন ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই দুই দিন ধরে ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ভারতের ৫০ গজ ভেতরে নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, শূন্যরেখার ১০০ গজ দূর থেকে কথা বলে জানা গেছে যে বিএসএফ তাদের যে সামান্য খাবার দিচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে এবং তাদের মধ্যে এক বয়স্ক নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এই ২৮ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি খুলনার কয়রা এলাকায়। তারা দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। কয়রা থেকে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ইতোমধ্যে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাঠিয়েছেন।

বিজিবি ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকে বিএসএফ পুশ-ইনের কথা স্বীকার করেছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অগ্রগতি জানায়নি। ফলে এই ২৮ জনের ভাগ্য এখনো মহাকাশে ঝুলছে।

নওগাঁ : শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তে (২৩৮/এমপি পিলার) বিএসএফ-এর পান্নাছড়া ক্যাম্পের সদস্যরা আকস্মিকভাবে জোরপূর্বক ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায়। এই অনুপ্রবেশের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে।

তবে বিজিবির নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) হাঁপানিয়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গোয়েন্দা সূত্রের খবর পেয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিজিবি সদস্যরা কঠোর অবস্থান নিয়ে তাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পা রাখতে বাধা দেয় এবং ভারতীয় শূন্য লাইনের ভেতরেই তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপক বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকতে দেওয়া হবে না এবং শূন্য রেখায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ডে পুরোপুরি ফেরত পাঠানোর (পুশ-ব্যাক) আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মেহেরপুর: জেলার ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত জটিল, কারণ এর তিন দিক জুড়েই রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত। দীর্ঘ ৯৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশ-ইন) ও মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান ঠেকাতে সতর্ক রয়েছে বিজিবি। মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার ১৯টি বিওপি এবং একটি আইসিপির মাধ্যমে মোট ৮১টি বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই টহলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সীমান্ত এলাকার কাথুলী গ্রামের বাসিন্দা জামাল ও খাইরুল ইসলামের মতো শত শত যুবক লাঠি, বাঁশি ও টর্চলাইটের মতো দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে দল গঠন করে সারারাত বিজিবির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা বিএসএফের নড়াচড়া দেখামাত্রই তারা বিজিবি ক্যাম্পে তথ্য পৌঁছে দিচ্ছেন।

বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, সীমান্তে পুশ-ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি এবং প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই যৌথ প্রতিরোধ বিএসএফের পুশ-ইনের পরিকল্পনাকে পুরোপুরি রুখে দিয়েছে।

নেত্রকোনা : জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা সীমান্ত এলাকাটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলের সাথে যুক্ত। পাহাড়, জঙ্গল এবং সোমেশ্বরী নদীর চরাঞ্চল ঘেরা এই সীমান্তটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জটিল ও দুর্গম। চলমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই সীমান্ত দিয়েও পুশ-ইনের চেষ্টা হতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী জানান, বিজিবি এই পাহাড়ি সীমান্তের প্রতিটি তল্লাশি চৌকিতে জনবল দ্বিগুণ করেছে। মেগাফোন, সার্চলাইট এবং স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাহাড়ি দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে বিএসএফ যেন কোনো অন্যায্য সুবিধা না নিতে পারে, সে জন্য বাহিনীটি শতভাগ প্রস্তুত ও জাগ্রত রয়েছে।

প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, মেহেরপুর ও নেত্রকোনা প্রতিনিধি।

মন্তব্য

জাতীয়
Governments Investment Road Shore Initiative to Revive Economy

অর্থনীতির গতি ফেরাতে বিনিয়োগ রোড শোর উদ্যোগ সরকারের

* ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের * একক প্রতিষ্ঠান ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে * ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারী তহবিলের ঋণ পাবে না * তহবিল স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন হলে গতি ফিরবে রপ্তানিতে
অর্থনীতির গতি ফেরাতে বিনিয়োগ রোড শোর উদ্যোগ সরকারের

বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা ও নানা অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অনেকটাই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলছে সামস্টিক অর্থনীতি। অর্থনীতিকে সচল করতে সরকার বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে স্বল্প সুদে মূলধনের যোগান দেওয়া, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রোডশোসহ নানা কর্মকরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এদিকে, অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শিগগিরই রোড শোর আয়োজন: কারখানাগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শিগগিরই রোড শোর আয়োজন করবে সরকার। এ লক্ষ্যে চলতি মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বন্ধ ও অলাভজনক কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু এবং অলাভজনক কারখানাগুলো লাভজনক করার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সভায় বন্ধ কারখানা চালু এবং অলাভজনক কারখানাগুলো লাভজনক করে তুলতে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ নেওয়া হচ্ছে।

৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের: গত ২৩ মে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। নতুন এই ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল সেই উদ্যোগেরই অংশ। ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত-সহায়ক প্রাক্‌-অর্থায়ন স্কিম’ শীর্ষক নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

একক প্রতিষ্ঠান ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে:

দেশের বন্ধ ও আংশিক সচল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবে বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। এর আওতায় কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, একটি কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ, যেখানে বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদ ১৪ শতাংশেরও বেশি। চলতি মূলধন নেওয়া কোম্পানিতে প্রতিনিধি বসাতে পারবে ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে টাকা নিয়ে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। দেশের সব ব্যাংক এই তহবিল থেকে টাকা নিতে পারবে।

এই স্কিমের আওতায় জাতীয় শিল্প নীতিমালা অনুযায়ী বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠান ঋণ সুবিধা পাবে, যারা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও প্রয়োজনীয় কার্যকরী মূলধন পেলে পুনরায় উৎপাদন বা সেবা কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান সচল থাকলেও মূলধনের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না, তারাও এ সুবিধার আওতায় আসবে।

ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারী তহবিলের আওতায় আসবে না: রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ কারখানা অধিগ্রহণ বা ইজারা নিয়ে পুনরায় চালু করতে চায়, তারাও এ সুবিধা পাবে। তবে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি, অর্থ পাচার বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের রেকর্ড থাকলে তারা এ তহবিলের আওতায় আসতে পারবে না।

ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা নবায়নের সুযোগ থাকবে। এছাড়া ঋণগ্রহীতারা প্রথম ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, ছয় মাস পর থেকে সুদ পরিশোধ শুরু করতে হবে। এই ঋণের অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কেনায় ব্যয় করা যাবে। শ্রমিকদের বেতন সরাসরি ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। নগদ অর্থ লেনদেনের সুযোগ থাকবে না। এছাড়া এই অর্থ ব্যবহার করে পুরনো কোনো ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয় করা যাবে না।

ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিয়মিত তদারকি করবে। প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকও যে কোনো সময় সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবে। নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করে উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তাদের মতে, ২০ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে তারল্য সংকট কাটিয়ে কয়েকশ বন্ধ বা আংশিক বন্ধ কারখানা পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে। এতে লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার সম্ভব হবে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে প্রকৃত যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির ওপর।

মন্তব্য

জাতীয়
DMP ban on carrying firearms and processions in Sangsad Bhavan area around the budget session

বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশে ডিএমপির নিষেধাজ্ঞা

বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশে ডিএমপির নিষেধাজ্ঞা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন) ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে রাজধানী ঢাকার একটি বড় অংশে সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বহন, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা এবং বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

শুক্রবার (৫ জুন) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। আগামী শনিবার (৬ জুন) রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই আদেশটি কার্যকর থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী রোববার (৭ জুন) থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনটি যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য শেরেবাংলা নগরস্থ জাতীয় সংসদ ভবন ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্দিষ্ট এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় উপাদান বহন করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং, বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা এবং পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রীন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট এলাকা।

এছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, বেগম রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন ৯ম ডিভিশন ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং এবং ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তসহ জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা ও এর সীমানার ভেতরে থাকা সব রাস্তা ও গলিপথে এই আদেশ কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে।

মন্তব্য

জাতীয়
Bangladesh offers Turkey to invest in Special Economic Zone to increase trade

বাণিজ্য বাড়াতে তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রস্তাব বাংলাদেশের

বাণিজ্য বাড়াতে তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রস্তাব বাংলাদেশের ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিধি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরির লক্ষ্যে তুরস্ককে বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। শুক্রবার ঢাকা সফররত তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক পরবর্তী এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, “আমি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রণোদনা সম্পর্কে অবহিত করেছি এবং তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বেসরকারি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের সুযোগ নিয়ে টেক্সটাইল, জাহাজ নির্মাণ, প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্মার্ট প্রযুক্তির মতো খাতগুলোতে তুরস্কের বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার জন্য তুরস্ককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, এই সফর দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে। তিনি তুর্কি সহযোগিতা সংস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রচার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান। এছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তুরস্কে বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি তুরস্কে বসবাস করছেন, যাদের বড় একটি অংশই শিক্ষার্থী। সহযোগিতা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার করার লক্ষে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য

p
উপরে