× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

google_news print-icon

প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে, পরকীয়া সন্দেহে 'আত্মহত্যা'

প্রেম-করে-পালিয়ে-বিয়ে-পরকীয়া-সন্দেহে-আত্মহত্যা
ছবিটি প্রতীকী
আদুরীর বোন দোলা আক্তার ও ভাবী খাদিজা বেগম জানান, চার বছর প্রেমের পর আদুরী দুই মাস আগে ঢাকায় পালিয়ে বিয়ে করেন একই গ্রামের সুমন সিকদারকে। এক মাস আগে তারা গ্রামে ফিরে আসে।

চার বছরের প্রেম ছিল আদুরী ও সুমনের। সেই প্রেমকে পরিণয় করতে ঢাকায় পালিয়েছিলেন দুজন। দুই মাস আগেই বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেছিলেন তারা। একমাস আগে ঢাকা থেকে ফেরেন নিজেদের গ্রাম পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের সুন্দ্রা কলাগাছিয়ায়।

কিন্তু প্রেমের বিয়ের সুখ উবে যায় অল্প দিনেই। সুমন আরেক মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া প্রেম করছেন এমন সন্দেহ করেন নববধূ হাবিবা আক্তার আদুরী। তা নিয়েই চলে অশান্তি। নতুন সংসারে প্রায় ঝগড়া হয় সুমন সিকদারের সঙ্গে।

বৃহস্পতিবার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ঘর ছেড়ে বেরুনোর কিছু পরই বাড়ির পাশের এক আম গাছের সঙ্গে ঝুলে 'আত্মহত্যা' করেন আদুরী।

রাতে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আদুরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

আদুরীকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে আদুরীর পরিবার।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মির্জাগঞ্জ থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

আদুরীর বোন দোলা আক্তার ও ভাবী খাদিজা বেগম জানান, চার বছর প্রেমের পর আদুরী দুই মাস আগে ঢাকায় পালিয়ে বিয়ে করেন একই গ্রামের সুমন সিকদারকে। এক মাস আগে তারা গ্রামে ফিরে আসে।

তারা জানান, সুমনের সঙ্গে একই এলাকার আরেক তরুণীর প্রেম আছে বলে সন্দেহ করে আদুরী। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। আদুরীকে সুমন মারধরও করেছে।

ওসি শওকত আনোয়ার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। আদুরী রাগ করে স্বামীর ঘর থেকে বেরিয়ে যান। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাবার বাড়ির বসত ঘরের পিছনে আম গাছে আদুরীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখা যায়।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
New EPZs in five districts Decision to create economic zones

পাঁচ জেলায় নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির সিদ্ধান্ত

পাঁচ জেলায় নতুন ইপিজেড ও 
অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির সিদ্ধান্ত

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করণীয় সংশ্লিষ্ট আলোচনায় কয়েকজন জেলা প্রশাসক নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এসব কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদে প্রতিবেদন আকারে পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে এসব উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবগুলো সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট ছয়টি সিদ্ধান্ত স্বল্প (এক বছর), মধ্য (তিন বছর) এবং দীর্ঘ (পাঁচ বছর) মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে ইপিজেড এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটির (বেপজা) অধীনে দেশে আটটি সরকারি ইপিজেড রয়েছে। এগুলো হলো- ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, আদমজী ও উত্তরা ইপিজেড। কর ও শুল্ক সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি সহজ করাই এসব ইপিজেডের প্রধান কাজ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিবছরই ডিসি সম্মেলনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাব আসে। গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এবারও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ডিসি সম্মেলনে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক জেলার শিল্পকারখানাগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এতে পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে বর্জ্য ও পরিবেশ দূষণ কমবে, কৃষিজমি রক্ষা পাবে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং উদ্যোক্তারা সহজে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য জায়গা পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

বরিশালের জেলা প্রশাসক সেখানে একটি ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, এখানে এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা চট্টগ্রামে যেতে হবে না। নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় দারিদ্র্য কমবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান পণ্য পরিবহনে সহায়ক হবে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক উপকূলীয় এ জেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। পায়রা বন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি কৌশলগত কেন্দ্র হতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সামুদ্রিক সম্পদ প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ, মৎস্য, কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতের সমন্বিত উন্নয়নেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক সদর উপজেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তিনি প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দেন, সড়কপথে ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ এবং নৌপথে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযোগ থাকায় কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহন সহজ হবে। কাঁচামাল ও শ্রমিকের সহজলভ্যতায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক সেখানে একটি ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তার মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ধান, আলু ও ভুট্টাসহ কৃষিপণ্যের প্রাচুর্যের কারণে কৃষিভিত্তিক শিল্পেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয় থাকায় কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য রপ্তানি সহজ হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, ডিসি সম্মেলনের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বিজি প্রেস বই প্রকাশের কাজ করছে। বইগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠির মাধ্যমে তাদের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।

এদিকে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনার কথা সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সম্প্রতি সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ‘রপ্তানি নীতি’ হালনাগাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ সহজ করতে ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ হালনাগাদের কাজ চলছে।

প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা কমাতে সরকার বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য

জাতীয়
Have to drive to another hospital Ad Deen Educational Program

অন্য হাসপাতালে চালাতে হবে আদ্-দ্বীনের শিক্ষা কার্যক্রম

অন্য হাসপাতালে চালাতে হবে 
আদ্-দ্বীনের শিক্ষা কার্যক্রম

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের অন্য হাসপাতালে সংযুক্ত করতে নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে এসংক্রান্ত একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে, যা আজ আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর কথা।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২২-এর ৬ ধারা অনুযায়ী, বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে হাসপাতাল স্থাপনের শর্ত রয়েছে।

এছাড়া মেডিকেল কারিকুলাম অনুযায়ী, তৃতীয় বর্ষ থেকেই হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। পাশাপাশি এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এক বছরের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হয়।

এ অবস্থায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, ‘হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হলেও মেডিকেল কলেজ বন্ধ হচ্ছে না। আমরা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য অন্য হাসপাতালে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিচ্ছি। মেডিকেল কলেজটিকে যেকোনো জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করতে হবে।’

তিনি বলেন, তারা নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের ওই হাসপাতালে নিয়ে যাবে এবং নিয়ে আসবে। তারা কোন হাসপাতালের সঙ্গে কাজ করতে চায়, তা আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে আমাদের জানাতে হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত সরকারি-বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে এবার আদ্-দ্বীনকে সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটিকে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গেই চুক্তিবদ্ধ হতে হবে।

মন্তব্য

জাতীয়
Generation of electricity from waste The matter is being considered by Minister of State

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের 
বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, জৈব সার ও গ্যাস উৎপাদনে বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে অবৈধভাবে ফেলা ময়লা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে শিল্প-কারখানা ও পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক ল্যান্ডফিল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, জৈব সার ও গ্যাস উৎপাদনের প্রযুক্তি নিয়ে সফলভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশেও এসব প্রযুক্তি কাজে লাগানো সম্ভব হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানি ও কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় জৈব সারের জোগান নিশ্চিত করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহার ছুটির সময় এশিয়ান হাইওয়ের পাশে বিপুল পরিমাণ ময়লা ফেলা হয়, যা দৃষ্টিকটু পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে নজরে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার আলোকে গত দুই দিন ধরে ময়লা অপসারণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, শুধু তাৎক্ষণিকভাবে ময়লা অপসারণ করাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে কোনোভাবেই মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা না হয়, সে জন্য কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে রূপগঞ্জ পৌরসভার আওতায় একটি আধুনিক ও পরিবেশসম্মত ল্যান্ডফিল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে রূপগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জয়, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

মন্তব্য

জাতীয়
The countrys HSC is Singapore Equivalent to Class VI Minister of State for Primary and Mass Education

দেশের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমান: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

দেশের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের 
ষষ্ঠ শ্রেণির সমান: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন শোচনীয় দশা হয়েছে যে, বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রোববার জাতীয় সংসদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।

বিগত ২০ বছরের শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘অতীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় যে চরম নৈরাজ্য চলেছে তা এখন স্পষ্ট, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়। এই শোচনীয় দশা থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের হাত দেওয়া হয়েছে।’

বক্তব্যের শুরুতেই প্রতিমন্ত্রী নতুন বাজেটকে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জনগণবান্ধব এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই পরিষ্কার ছিল যে শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই এই দূরদর্শী চিন্তা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশ ও জাতির সামনে এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে একে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

সংসদে ও সংসদের বাইরে রাজনৈতিক বিরোধীদের নেতিবাচক প্রচারণার সমালোচনা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তাদের আলোচনা গঠনমূলক না। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পরে এ সংসদ। জনগণকে একটা সুন্দর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমরা দেব। আলোচনার মাধ্যমে সেরা দিকগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরব।’

তিনি বলেন, ‘সরকার সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। বিরোধীদের কেউ কেউ নেতিবাচক আলোচনা শুরু করেছেন সাংস্কৃতিক কারিকুলাম নিয়ে। কিন্তু আমাদের সবার নজর রাখতে হবে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা, ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। সেই একই নোংরা মনোভাব থেকে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে, সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান আমাদের যে নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ দেখাচ্ছেন, সেখানে পৌঁছাতে হলে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ও ক্রিয়েটিভ চেতনার জায়গা তৈরি করতে হবে। আর সে জন্যই সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে শিক্ষার বড় অংশ করা হয়েছে।

মন্তব্য

জাতীয়
Former IGP Benazir Ahmed arrested in Dubai

দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ গ্রেফতার

দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ গ্রেফতার ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ।

পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রোববার (১৪ জুন) দুপুরে এই গ্রেপ্তারের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গত ১২ জুন ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পুলিশকে একটি চিঠির মাধ্যমে এই গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন সাবেক এই আইজিপিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারির আদেশ দিয়েছিলেন। অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে দুদক।

দুদকের দায়ের করা মামলাগুলোতে বেনজীর আহমেদের পরিবারের বিরুদ্ধে মোট ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে আন্তর্জাতিক পুলিশি সংস্থার সহযোগিতায় তিনি আইনের আওতায় এলেন।

মন্তব্য

জাতীয়
Miscreants forced to flee in helicopters when history speaks correctly Information Minister

ইতিহাস যখন সঠিকভাবে কথা বলে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হয়: তথ্যমন্ত্রী

ইতিহাস যখন সঠিকভাবে কথা বলে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হয়: তথ্যমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ইতিহাস যখন সঠিকভাবে কথা বলে, তখন ইতিহাস বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার গতিপ্রবাহ নির্ধারিত হয় এ দেশের জনগণের বয়ানে; কোনো পরগাছা, ধার করা বা কৃত্রিম বয়ানে নয়। জনগণের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, ইতিহাস ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মিত হবে। জনগণের তৈরি করা বয়ানই সব কৃত্রিম বয়ানকে ভেঙে দেবে এবং গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করবে।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘আমরা বাংলাদেশি’ আয়োজিত ‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ‘অতীতে ফ্যাসিবাদী শক্তি নিজেদের রাজনৈতিক প্রয়োজনেই বাংলাদেশের রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে বিভক্ত ও মেরুকরণ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জনগণের শক্তি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সত্য ইতিহাসের প্রবাহ সেই কৃত্রিম বয়ানকে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিহাসের বাস্তবতা যখন স্পষ্টভাবে সামনে আসে, তখন ইতিহাস বিকৃতকারীরা টিকে থাকতে পারে না। ইতিহাস যেখানে সঠিকভাবে কথা বলে, সেখানে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ নিজস্ব ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা গড়ে তুলেছে। এ দেশের মানুষকে তাদের পরিচয়ের বৈধতা প্রতিষ্ঠার জন্য সীমান্তের ওপারে গিয়ে কারও কাছ থেকে সনদ নিতে হয় না। বাংলাদেশের স্বকীয়তা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এ দেশের ইতিহাস ও বাস্তবতার মধ্যেই প্রোথিত।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের স্বতন্ত্র পরিচয়কে রাজনৈতিক দর্শনে রূপ দিয়েছিলেন। ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জাতীয়তাবাদ আজও বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম ভিত্তি।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই হতে হবে সব নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু। আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সার্ক এবং বৈশ্বিক পরিসরে জাতিসংঘের কাঠামোর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ তার মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারে। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ২২০ কোটিরও বেশি মানুষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সার্ককে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিএনপি নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান।

উপস্থিত বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্তব্য

জাতীয়
Govt ready to do everything to transform country into industrialized state Local Government Minister

দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে সরকার সবকিছুই করতে প্রস্তুত: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে সরকার সবকিছুই করতে প্রস্তুত: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে বর্তমান সরকার সবকিছুই করতে প্রস্তুত।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘রোড ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি ২০২৬–নেভিগেটিং রিস্কস: লিভারেজিং রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের পথ চলায় সাহসিকতা ও সঠিক নির্দেশনার প্রতিফলন ঘটায়।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বাণিজ্য, প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির যে রূপরেখা আমরা তৈরি করছি, তাতে ঝুঁকি মোকাবিলা ও সক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়টি আগামীর যাত্রার মূল চেতনাকে ধারণ করে। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, নতুন বাংলাদেশের জন্য বর্তমান সরকার সবকিছু করতে প্রস্তুত।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিন পার করেছে। এই সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, স্থিতিস্থাপক ও শিল্পসমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা, যেখানে নাগরিকরা সমৃদ্ধি ও মর্যাদার ন্যায্য অংশীদার হবে।

মির্জা ফখরুল যোগ করেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো কৃষক, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

সাবেক শাসনামলে দেশের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে দাবি করে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে শাসন কাঠামো পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো সকল নাগরিকের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে অংশীদারদের জন্য একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যা একটি প্রতিযোগিতামূলক, স্থিতিশীল, নৈতিক ও জনমুখী অর্থনীতি উপহার দেবে।

সবশেষে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের এই রূপকল্পে বিনিয়োগ করার জন্য আমি আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বিশ্বাস করুন, আপনারা হতাশ হবেন না।

মন্তব্য

p
উপরে