20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
আগুনেই শেষ হওয়া আল আমিনের লাশ নিয়েও ‘টানাটানি’

প্রতীকী ছবি

আগুনেই শেষ হওয়া আল আমিনের লাশ নিয়েও ‘টানাটানি’

আল আমিন অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর তার বাবা দাউদ সরদার শিশুটির নানী সাকিরন নেছার নামে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। আদালত সেই মামলা তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে পিবিআইকে।

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া আল আমিনের (৫) মরদেহ হস্তান্তর নিয়েও হয়েছে বাকবিতণ্ডা। মা ও তার বাবা দাউদ সরদার একই সঙ্গে মরদেহের দাবি করলে শুরু হয় বিতণ্ডা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ মায়ের জিম্মায়ই দাফন করতে দেয় শিশুটির মরদেহ।

ময়নাতদন্তের পর শনিবার বিকেল তিনটার দিকে মরদেহ বুঝে নিয়ে সন্ধ্যায় যশোর সদরের দেয়াড়া ইউনিয়নের এড়েন্দা গ্রামে দাফন করেন মায়ের পক্ষের স্বজনরা।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের বাঁকুড়া গ্রামে ৭ অক্টোবর অগ্নিদগ্ধ আল আমিন শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তার নানীর বাড়িতে মারা যায়। তার আগে যশোর মেডিক্যাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা করা হয়।

আল আমিন নিহতের ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। রোববার আল আমিনের মা হত্যা মামলা করবেন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আজ লাশ বুঝে নেয়া ও দাফনের জন্য মামলা করতে পারিনি, আগামীকাল করব। সন্তান হত্যার বিচার আদালতের কাছে চাইব।’

আল আমিন অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর তার বাবা দাউদ সরদার শিশুটির নানী সাকিরন নেছার নামে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

আদালত সেই মামলা তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

হত্যাচেষ্টা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পিবিআই যশোরের এসপি রেশমা শারমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সপ্তাহ খানেক আগে মামলার দায়িত্ব বুঝে পেয়েছি। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। মামলার রহস্য আমরা উদঘাটন করে ফেলব। এজন্য হয়তো কিছু সময় লাগবে।’

এখন হত্যাচেষ্টা মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হত্যা মামলা থানা-পুলিশ ইস্যু করবে, আদালত আমাদের শুধু দায়িত্ব দিয়েছে হত্যাচেষ্টার রহস্য উদঘাটনের।’

লাশ উদ্ধারে যাওয়া বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পরিবারের কেউ এখন মামলা করেনি। যদি মামলা না করে তবে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

শিশুটির বাবা দাউদ সরদার বলেন, ‘আল আমিনকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। হত্যা চেষ্টা মামলার সমাধান হলেই হত্যার রহস্যও বেরিয়ে আসবে।’

শিশুটির মা ও নানীর দাবি, সেদিন রাতে পাটকাঠি দিয়ে মশারিতে আগুন ধরিয়ে আল আমিনকে হত্যার চেষ্টা করেন দাউদ সরদার ও তার লোকজন।

আর শিশুটির বাবার দাবি, এ ঘটনায় তারা জড়িত নন। ‘অতিরিক্ত’ ১০ লাখ টাকা না দেয়ায় তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

শিশুটির মাকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৫ সালে সাকিরন নেছার করা মামলায় দাউদ সরদার ৮ মাস ও তার স্কুল শিক্ষিকা মেয়ে রোকেয়া খাতুন ২৩ দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হন।

জামিনের শর্ত হিসেবে সেসময় শিশুটির মাকে বিয়ে করলেও পরে ডিভোর্স দিয়ে দেন দাউদ সরদার। সেই মামলার রায় হওয়ার কথা আগামী ১ নভেম্বর।

শেয়ার করুন

মন্তব্য