× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

google_news print-icon

ডলফিনশূন্য হওয়ার পথে হালদা

ডলফিনশূন্য-হওয়ার-পথে-হালদা
শনিবার দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মিঠা পানির ডলফিন দিবস

দূষণ, ইঞ্জিন চালিত নৌকার আঘাত, হত্যা ও জালে আটকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত হালদা নদীতে মারা গেছে অন্তত ২৭টি ডলফিন। এই পরিস্থিতিতে হালদায় ডলফিনের অস্তিত্ব শঙ্কায় গবেষকেরা।

হালদা নদীর গাঙ্গেয় (প্ল্যাটেনিস্টা গ্যানজেটিকা Platanista gangetica) প্রজাতির ডলফিনকে ইতোমধ্যে বিপন্ন প্রাণী হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)।

শনিবার দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মিঠা পানির ডলফিন দিবস। দিনটি উপলক্ষে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা।

২০১৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি ও বাংলাদেশ বনবিভাগের সমীক্ষায় হালদায় মাত্র ৪৫টি ডলফিন পাওয়া যায়।

তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্য অনুযায়ী, এ নদীতে ডলফিনের সংখ্যা ১৭০টি।

হালদায় ডলফিনের মৃত্যুর কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষকেরা।

তারা জানান, হালদার তীরে বাঁধ নির্মাণ চলছে, পাশাপাশি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনও থেমে নেই। এজন্য নদীতে চলছে ড্রেজারসহ বিভিন্ন নৌযান। মূলত এসব নৌযানের আঘাতে বেশিরভাগ ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষক ড. মনজুরুল কিবরিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত তিন বছরে হালদায় ২৭টি ডলফিন মারা গেছে। এরমধ্যে একটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অন্য ডলফিনগুলোও বিভিন্ন আঘাতে মারা গেছে।’

ডলফিনের মৃত্যু নিয়ে তিনি বলেন, ‘নদীতে মাছ ধরার জন্য জেলেদের ফেলা জালে অনেক সময় ডলফিন জড়িয়ে যায়। তখন জাল রক্ষায় ডলফিনগুলো হত্যা করে জেলেরা।’

‘এ ছাড়া ডলফিনের শরীরের তেল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এক ধরনের কুসংস্কার প্রচলিত আছে। অনেকে তেলের লোভে নৃশংসভাবে ডলফিন হত্যা করছে।’
ডলফিনশূন্য হওয়ার পথে হালদা

মূলত দক্ষিণ এশিয়ার গঙ্গা ও এর শাখা নদীতে মিঠা পানির এই ডলফিন দেখা যায়। এক সময় দেশের অনেক নদীতে এই প্রজাতির ডলফিন দেখা মিললেও এখন সেই দৃশ্য বিরল।

নদীতে ডলফিন কেন প্রয়োজন জানতে চাইলে গবেষক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘ডলফিন হচ্ছে উপকূলীয় প্রতিবেশের প্রহরী। নদীতে দূষণ কেমন সেটি ডলফিনের সংখ্যা ও অবস্থা দেখে বোঝা যায়।’

এ ছাড়া ডলফিন নদীর অসুস্থ ও দুর্বল প্রাণীকে শিকার করে। এর ফলে নদীর মাছের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে না।

গত ১৯ মে হালদা নদীর জীব বৈচিত্র্য, মা মাছ ও ডলফিন রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি করে দিয়েছে হাই কোর্ট।

কমিটির সদস্য ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, কমিটির কাজ শুরু হয়েছে। একাধিক সভা হয়েছে। কিছু কর্মপরিকল্পনাও ঠিক করা হয়েছে।

কর্মপরিকল্পনার মধ্যে আছে হালদায় ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল ও বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ডলফিন হত্যা রোধে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি।

আরও পড়ুন:
এবার কুয়াকাটা সৈকতে ‘সদ্যোমৃত’ ডলফিন
ডলফিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে কবে
জেলের জালে আটকে মারা গেল ডলফিনটি
১২ ঘণ্টার ব্যবধানে তুরাগে ২ মৃত শুশুক
মৃত শুশুক ভেসে এলো তুরাগে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
What do the different signals on the port mean?

বন্দরে বিভিন্ন সংকেতের কী অর্থ

বন্দরে বিভিন্ন সংকেতের কী অর্থ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সতর্ক সংকেত নির্দেশক লাল পতাকা। ফাইল ছবি
যেকোনো ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রেই সমুদ্রবন্দরগুলোকে বিভিন্ন সংকেত দেখাতে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব সংকেতের কোনটির কী অর্থ, তা জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

যেকোনো ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রেই এমন সতর্ক সংকেত দেখাতে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব সংকেতের কোনটির কী অর্থ, তা জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।

সমুদ্রবন্দরের জন্য বিভিন্ন সংকেত

১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত: জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে, যেখানে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ৬১ কিলোমিটার, যা সামুদ্রিক ঝড়ে পরিণত হতে পারে।

২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত: দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।

৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত: বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হতে পারে।

৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত: বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। ঘণ্টায় বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটার, তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।

৫ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার ঝঞ্ছাবহুল এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৬ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর ঝঞ্ছাবহুল সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৭ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার ঝঞ্ছাবহুল সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরের ওপর বা নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার ঊর্ধ্বে হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার ঊর্ধ্বে হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার ঊর্ধ্বে হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরের ওপর বা নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে।

১১ নম্বর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত: আবহাওয়া বিপদ সংকেত প্রদানকারী কেন্দ্রের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় কর্মকর্তা আবহাওয়াকে অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করছেন।

নদীবন্দরের জন্য সংকেত

১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত: বন্দর এলাকায় ক্ষণস্থায়ী ঝোড়ো আবহাওয়ার কবলে পড়তে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিবেগের কালবৈশাখীর ক্ষেত্রেও এই সংকেত প্রদর্শন করা হয়। এ সংকেত আবহাওয়ার চলতি অবস্থার ওপর সতর্ক নজর রাখারও তাগিদ দেয়।

২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: বন্দর এলাকা নিম্নচাপের সমতুল্য তীব্রতার একটি ঝড় (যার গতিবেগ ঘণ্টায় অনূর্ধ্ব ৬১ কিলোমিটার) বা একটি কালবৈশাখী ঝড়ের (যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব) কবলে পড়তে পারে। নৌযান এ ঝড়ের যেকোনো একটিতে পড়তে পারে। ৬৫ ফুট বা তার কম দৈর্ঘ্যের নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।

৩ নম্বর নৌ বিপদ সংকেত: বন্দর এলাকা ঝড়ে কবলিত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ একটানা ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগের একটি সামুদ্রিক ঝড় দ্রুতই বন্দর এলাকায় আঘাত হানতে পারে। সব ধরনের নৌযানকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।

৪ নম্বর নৌ-মহাবিপদ সংকেত: বন্দর এলাকা একটি প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে। ঝড়টি দ্রুতই বন্দর এলাকায় আঘাত হানবে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব। সব ধরনের নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।

আরও পড়ুন:
উত্তর দিকে অগ্রসর হলো গভীর নিম্নচাপ, বন্দরে তিন নম্বর সংকেত
কক্সবাজার, পায়রা বন্দর থেকে ৫০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে গভীর নিম্নচাপটি
প্রতিদিনই রেকর্ড ছাড়াচ্ছে সিলেটের তাপমাত্রা, গরমে হাঁসফাঁস
চুয়াডাঙ্গায় ফের তীব্র তাপপ্রবাহ, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে
সব বিভাগে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ

মন্তব্য

জাতীয়
The body of MP Anar who participated in thousands of funerals has not been found

হাজারও মানুষের জানাজায় অংশ নেয়া এমপি আনারের মরদেহই মিলছে না

হাজারও মানুষের জানাজায় অংশ নেয়া এমপি আনারের মরদেহই মিলছে না কালীগঞ্জে একজনের জানাজা নামাজে শরিক হয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন এমপি আয়োরুল আজীম আনার। ফাইল ছবি
কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ বলেন, ‘এমপি আনার কলকাতায় গিয়ে নিখোঁজের পর তাকে হত্যা করা হলেও এখনও মরদেহ উদ্ধার হয়নি। অথচ এই জনপ্রতিনিধি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অন্তত ১৪ হাজার মানুষের জানাজায় অংশ নিয়েছেন। আমরা তার কফিন সামনে রেখে জানাজা নামাজ পড়তে চাই।’

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার আর দশজন জনপ্রতিনিধির মতোই জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কাজে নিজেকে জড়িত রেখে এসেছেন। তবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তার একটি বিশেষ গুণ ছিল। কারও মৃত্যুর খবর শুনলেই ছুটে যেতেন সেখানে। সান্ত্বনা দিতেন স্বজনদের। অংশ নিতেন নামাজে জানাজায়।

চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছেন এমপি আনার। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, হত্যার পর দেহ টুকরো টুকরো করে হত্যাকাণ্ড ঘটানো কলকাতার সেই ফ্ল্যাট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী তার মরদেহের খোঁজ পাওয়াটা অনিশ্চিত।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কালীগঞ্জের মানুষের মনে প্রশ্ন- তাহলে জনপ্রতিনিধি আনোয়ারুল আজীম আনারের জানাজা নামাজের কী হবে? যে মানুষটি স্বপ্রণোদিত হয়ে হাজার হাজার মানুষের জানাযায় অংশ নিয়েছেন, তার কফিন সামনে রেখে কি জানাজা হবে না?

তারা বলছেন, সকাল, সন্ধ্যা কি রাত। যখনই কারও মৃত্যুর খবর পেতেন গিয়ে হাজির হতেন সেখানে এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার। শরিক হতেন জানাজা নামাজে। সেই মানুষটি হত্যার শিকার হয়েছেন জানতে পারছি। কিন্তু মরদেহ না পেলে? সেক্ষেত্রে মানুষটির জন্য কেবলই গায়েবানা জানাজা পড়তে হবে?

জানা যায়, ২০০৯ সালে কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আনোয়ারুল আজিম আনার মানুষের মৃত্যুর খবর পেলে তার বাড়িতে ছুটে যেতেন। সকাল কিংবা রাত। শীত বা গরমের পরোয়া করতেন না। এমনকি একই সময়ে দুই স্থানে দুজনের জানাজার আয়োজন হলে ফোন করে অপেক্ষা করতে বলতেন। তবুও জানাজায় অংশ নিতেন তিনি। সেই মানুষটির জানাজার কী হবে তা নিয়ে এখনও সংশয়ে আছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মানুষ।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা আনার হাজার হাজার মানুষের জানাজায় অংশ নিয়েছেন। যত গুরুত্বপূর্ণ কাজই থাকুক না কেন তা ফেলে তিনি জানাজায় অংশ নিয়েছেন। সেই মানুষটির জানাজা কি হবে না? তার মরদেহ কি খুঁজে পাওয়া যাবে না?’

রাশেদুল নামের এক কর্মী বলেন, ‘হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এমপি আনারের মরদেহ উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি। তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে রাখা হয়েছে কোথায় তা খুঁজে বের করতে হবে।’

কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ বলেন, ‘এমপি আনার কলকাতায় গিয়ে নিখোঁজের পর তাকে হত্যা করা হলেও এখনও মরদেহ উদ্ধার হয়নি। পুলিশ বলছে যে এমপি আনারকে হত্যা করে লাশ টুকরো করে তিনটি ট্রলিতে করে নিয়ে যায় হত্যাকারীরা।

‘হত্যার ঘটনা জানার একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও সেই লাশ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। আমরা আমাদের প্রিয় নেতার মরদেহ ফেরত চাই। একটু অংশ হলেও আমরা তার লাশ চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অন্তত ১৪ হাজার মানুষের জানাজা নামাজে অংশ নিয়েছেন এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার। আমরা তার কফিন সামনে রেখে জানাজা নামাজ পড়তে চাই।’

আরও পড়ুন:
শেরেবাংলা নগর থানায় এমপি আনারের মেয়ের মামলা
এমপি হত্যায় ভারতকে দোষারোপ না করার আহ্বান কাদেরের
এমপি আনারকে হত্যা করেছে বাংলাদেশি অপরাধীরা: ডিএমপি ডিবি প্রধান
এমপি আনারের হত্যাকাণ্ড দুই রাষ্ট্রের বিষয় নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাবা হত্যার বিচারে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান আনারকন্যা

মন্তব্য

জাতীয়
An invisible terror is creeping in the Khulna region
এমপি আনার হত্যায় ঘাতক ও মূল পরিকল্পনাকারী

খুলনা অঞ্চলে এক অদৃশ্য আতঙ্ক শিমুল ভূঁইয়া

খুলনা অঞ্চলে এক অদৃশ্য আতঙ্ক শিমুল ভূঁইয়া চরমপন্থী নেতা শিমুল বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা অঞ্চলে একের পর এক চাঞ্চল্যকার হত্যাকাণ্ডে জড়িয়েছে চরমপন্থী নেতা শিমুল ভূঁইয়ার নাম। কারাগারে গেছেন বার বার। তিনি কারামুক্ত হওয়ার পরই ঘটেছে আরেক হত্যাকাণ্ড। এই ভূঁইয়া পরিবারের সঙ্গে সখ্য রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের। সবশেষ এমপি আনার হত্যার আবার ধরা পড়েছেন এই অদৃশ্য গডফাদার।

খুলনা অঞ্চলের মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম শিমুল ভূঁইয়া। গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাধারণ মানুষ কেউ তার দেখা পায়নি। তারপরও ওই অঞ্চলের বিভিন্ন টেন্ডারবাজি ও হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে বার বার। এবার ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে এসেছে এই চরমপন্থী নেতার নাম।

পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিমুল ভূঁইয়া ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করেছেন। হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটানো হবে সেই পরিকল্পনায়ও মূল ভূমিকা রয়েছে তার।

এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে আবারও পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন শিমুল ভূঁইয়া। তবে এবার গ্রেপ্তারের সময়ে তার কাছ থেকে আমানুল্লাহ নামে পরিচপত্র পাওয়া গেছে।

গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, শিমুলকে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। পরে ওই দলের সদস্যরা খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদার গ্রামে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মুক্তা ও বড় ভাই লাকী ভূঁইয়ার ছেলে তানভিরকে গ্রেপ্তার করে।

সবশেষ ২০১৭ সালে খুলনা অঞ্চলের চরমপন্থীদের একটি তালিকা তৈরি করেছিল পুলিশের বিশেষ শাখা। তাতে শিমুল ভূঁইয়া ও তার ছোট ভাই শিপলু ভূঁইয়াকে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ভূঁইয়া পরিবারের সখ্য ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে এই ভূঁইয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। শিপলু ভূঁইয়া ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর ফুলতলা উপজেলায় অনুষ্ঠিত যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী (বর্তমান ভূমিমন্ত্রী) নারায়ণ চন্দ্র চন্দের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে যুবলীগে যোগদান করেন। তাকে দলে ভেড়াতে সহযোগিতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন।

শিপলু ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে দামোদর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন এবং বিজয়ী হন। তাকে জেতানোর ক্ষেত্রে শেখ আকরাম হোসেন বড় ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ আছে। ২০২১ সালেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে তিনি বিজয় লাভ করেন।

এছাড়াও শিমুল ভূঁইয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মুক্তা খুলনা জেলা পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। সবশেষ নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে কেয়া খাতুন প্রার্থী হলেও শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। ফলে রিটার্নিং অফিসার একক প্রার্থী হিসেবে মুক্তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে মনোনীত করে বিজয়ী করেছেন।

স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিমুল ভূঁইয়াকে কখন‌ও জনসমক্ষে দেখা যায় না। পর্দার আড়ালে থাকলেও পরিবারের সঙ্গে তার সবসময় নিবিড় যোগাযোগ ছিল।

হত্যাকাণ্ডে বার বার শিমুল ভূঁইয়ার নাম

ফুলতলা উপজেলার দামোদার গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন ভূঁইয়ার চতুর্থ ছেলে শিমুল ভূঁইয়া। তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ছদ্মনাম ধারণ করেন।

পুলিশের তালিকায় ইতোপূর্বে তাকে ফজল ভূঁইয়া, শিহাব ও ফজল মোহাম্মদ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এবার গ্রেপ্তারের পর তার নতুন নাম পাওয়া গেছে সৈয়দ আমানুল্লাহ।

সবশেষ ২০২২ সালের মে মাসে আদালতে ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আলাউদ্দিন মিঠু এবং তার দেহরক্ষী নওশের গাজী হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের চার্জশিট দাখিল করা হয়। তাতে শিমুল ভূঁইয়াকে আসামি করা হয়। ২০১৭ সালের ২৫ মে রাতে ফুলতলা উপজেলার নতুন হাট এলাকায় নিজ বাড়ির বিপরীতে নিজস্ব অফিসে মিঠু ও নওশেরকে হত্যা করা হয়।

১৯৯০ সালের দিকে খুলনার ডুমুরিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান ইমরানকে হত্যার মধ্য দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন শিমুল ভূঁইয়া। পরে গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন।

কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পরপরই ১৯৯৮ সালে দামোদার ইউনিয়নের সরদার আবুল কাশেমকে হত্যায় শিমুল ভূঁয়ার নাম জড়ায়। এরপর ২০০০ সালে যশোরের অভয়নগর এলাকায় একটি হত্যা মামলায় তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন।

২০১৩ সাল পর্যন্ত ওই মামলায় জেল খাটেন শিমুল ভূঁইয়া। জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাকে পরিবারের বাইরের কেউ কখনও দেখেনি। তবে বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়িয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কারাগারে থেকেও শিমুল হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন। ২০১০ সালে ফুলতলা উপজেলার দামোদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার আবু সাঈদ বাদল খুনের ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বাদল হত্যা মামলাটির বিচার চলাকালে শিমুলের সেজো ভাই মুকুল ভূঁইয়া ওরফে হাতকাটা মুকুল পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হন।

এছাড়া পুলিশের তালিকায় শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ২৫টি মামলায় সম্পৃক্ততা রয়েছে।

শিমুল ভূঁইয়ার উত্থান যেভাবে

শিমুল ভূঁইয়া ১৯৮৫ সালে দামোদর এমএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর খুলনার দৌলতপুরের দিবা নৈশ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন রাজশাহী বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে।

স্থানীয়রা জানান, রাজশাহীতে থাকাকালীন শিমুলের যাতায়াত ছিল ঝিনাইদহে। সেখানে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) শীর্ষ নেতা আব্দুর রশিদ মালিথা ওরফে দাদা তপনের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে।

একাধিকবার জেল খাটার কারণে লেখাপড়া বন্ধ করে চরমপন্থি দলে যোগ দেন শিমুল। দায়িত্ব পান খুলনা অঞ্চলের। এরপর তিনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা হয়ে ওঠেন আরও বেপরোয়া।

২০১০ সালের আগ পর্যন্ত খুলনা অঞ্চলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চরমপন্থিরা। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রমতে, সেই সময়ে শিমুল ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। খুলনার শীর্ষ চরমপন্থি নেতা আব্দুর রশিদ তাপু, ডুমুরিয়ার মৃণাল, শৈলেন, দেবু সবাই ছিলেন শিমুলের অধীনে। শিমুল প্রকাশ্যে না এলেও তার নামেই চলতো সবকিছু।

শিমুল থেকে আমানুল্লাহ হয়ে উঠেন যেভাবে

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর শিমুল ভূঁইয়ার কাছ থেকে সৈয়দ আমানুল্লাহ নামের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে ওই পাসপোর্টটি করা হয়েছিল। তবে কিভাবে তিনি এই জালিয়াতি করলেন তার স্পষ্ট প্রমাণ এখন‌ও পাওয়া যায়নি।

তবে ওই সময়ে যেহেতু তার ছোট ভাই শিপলু ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি ভিন্ন নামের জন্মনিবন্ধন তৈরি করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট করতে সহায়তা করেছেন কি-না তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

কলকাতার নিউ টাউনের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে সংসদ সদস্য আনারকে খুন করে ১৫ মে দেশে ফেরেন আমানুল্লাহ পরিচয় দেয়া এই শিমুল ভূঁইয়া। পরে রাজধানীর গুলশান থেকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।

ডিবি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল ভূঁইয়া স্বীকার করেছেন, এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে তারা খুন করেছেন। এই খুনের জন্য এমপি আনারের বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহিনের সঙ্গে তার চুক্তি হয়। আনারের সঙ্গে আক্তারুজ্জামানের স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডির ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথ্য পাচ্ছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারুল আজীমকে খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সৈয়দ আমানুল্লাহ পরিচয়ধারী এই শিমুল ভূঁইয়া। কীভাবে হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হবে সেই পরিকল্পনায়ও মুখ্য ভূমিকা রাখেন এই দুর্ধর্ষ চরমপন্থী সন্ত্রাসী।

মন্তব্য

জাতীয়
Shaheens mysterious bungalow in the middle of the field
এমপি আনার হত্যাকাণ্ড

মাঠের মাঝে শাহীনের রহস্যঘেরা বাংলো

মাঠের মাঝে শাহীনের রহস্যঘেরা বাংলো শাহীন মাঝেমধ্যে এসে থাকতেন এই বাংলোতে। ছবি: নিউজবাংলা
শাহীন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি ‘লাল পতাকা’র প্রধান টুটুল ডাক্তারের আপন চাচাতো ভাই। বেশকিছুদিন আগে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন এই টুটুল ডাক্তার।

চারদিকে ঝোপঝাড়, কাঁটাতারের বেড়া; মাঝমাঠে একটি বাংলো। শহর থেকে বিদ্যুতের লাইনও গেছে ওই বাংলোতে। প্রায় ১২ বছর আগে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামের মাঠের মাঝে বাংলোটি নির্মাণ করেন আক্তারুজ্জামান শাহীন।

শাহীন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি ‘লাল পতাকা’র প্রধান টুটুল ডাক্তারের আপন চাচাতো ভাই। বেশকিছুদিন আগে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন এই টুটুল ডাক্তার।

শাহীন মাঝেমধ্যে এসে থাকতেন এই বাংলোতে। নির্জন এলাকার এই বাংলোয় শাহীন তার ব্যবসায়িক পার্টনার ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে মিটিংও করতেন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রহস্যঘেরা শাহীনের এই বাংলোটি। মাঠের মাঝখানে একটি বাংলো। বাংলোর চারপাশে অসংখ্য সিসি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। প্রবেশ করার একটি মাত্র রাস্তা। মূল গেইটে তালা ঝুলছে, তাই ভেতরে ঢোকা সম্ভব হয়নি।

এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বাংলোটিতে আর কেউ নেই। বাংলোটির ব্যাপারে কথা হয় স্থানীয় লোকজন ও শাহীনের ভাই কোটচাঁদপুর পৌর মেয়র সহিদুজ্জামান সেলিমের সঙ্গে।

এলাঙ্গী গ্রামের আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘দীর্ঘ ১০/১২ বছর আগে আক্তারুজ্জামান শাহীন এই বাংলোটি নির্মাণ করেন। এখানে কী হয় আমরা জানি না। মাঝেমধ্যে দেখি গাড়িতে করে লোকজন আসা যাওয়া করে। গাড়ির মধ্যে কারা থাকে তাও বলতে পারব না।’

গ্রামের লোকমান হোসেন ও লিয়াকত আলীও বলেন একই কথা, ‘বাইরে থেকে অনেক সময় রাতে ঢোলের আওয়াজ শোনা যায়। তারা ওখানে মিটিং করে। বাংলোর ভেতরে কাউকে যেতে দেয় না। ফলে বেশি কিছু আমার বলতে পারব না।’

মাঠের মাঝে শাহীনের রহস্যঘেরা বাংলো

গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, শাহীন প্রায়ই এই বাংলোতে এসে থাকেন। তার সঙ্গে লোকজনও থাকেন। ২৭ বিঘি জমির ওপর করা হয়েছে বাংলোটি।

গ্রামের আরিফ হোসেন বলেন, ‘মাঠের মাঝে এইখানে ইটের ভাটা ছিল। ভাটা তুলে দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বাংলো করেছেন শাহীন।’

শাহীনের ভাই কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র সহিদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘শাহীন আমার ছোট ভাই। সে আমেরিকা থেকে বাড়ি আসে মাঝে মাঝে। আমার পৌর নির্বাচনের সময় এসে বেশ কিছুদিন ছিল। নির্বাচন শেষে আবার চলে যায়। গত রমজানের আগে এসেছিল এখানে। এসে সে তার বাংলোতেই থাকে, চলে যাওয়ার আগে বাড়ি এসে একবার দেখা করে যায়।’

এমপি আনারের সঙ্গে শহীনের কতদিনের বন্ধুত্ব- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শাহীন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। লেখাপড়ার চলাকালে তাদের বন্ধুত্ব ছিল না। এখন আমেরিকার নাগরিক। আমেরিকা চলে গিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার সময় থেকে বছর দশেক হবে তাদের বন্ধুত্ব হয়েছে।

‘শাহীন কী ব্যবসা করত আমি জানি না। তবে শাহীনের এই বাংলোতে সুইমিং পুল, ক্রিকেট, গলফসহ জিমের ব্যবস্থা আছে। তাদের নিজস্ব বাবুর্চিও আছে।’

বাংলোয় কারা মিটিং সিটিং করেন তা তিনি জানেন না জানিয়ে বলেন, ‘শাহীন এই বাংলো ছাড়াও আমেরিকা থেকে এসে ঢাকার গুলশানের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকে। সে বর্তমানে বসুন্ধরায় নতুন বাড়ি করছে।’

স্থানীয়রা জানান, শাহীন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি ‘লাল পতাকা’র প্রধান টুটুল ডাক্তারের আপন চাচাতো ভাই। টুটুল ডাক্তার বেশ কিছুদিন আগে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। তার (শাহীনের) অবৈধ ব্যবসা আছে। ওই ব্যবসার কারণে এমপি আনারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল।

আরও পড়ুন:
শেরেবাংলা নগর থানায় এমপি আনারের মেয়ের মামলা
এমপি হত্যায় ভারতকে দোষারোপ না করার আহ্বান কাদেরের
এমপি আনারকে হত্যা করেছে বাংলাদেশি অপরাধীরা: ডিএমপি ডিবি প্রধান
এমপি আনারের হত্যাকাণ্ড দুই রাষ্ট্রের বিষয় নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কলকাতার বাসায় এমপি আনারকে পরিকল্পিত হত্যা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

জাতীয়
New polarization in Sylhet Awami League

সিলেট আওয়ামী লীগে নতুন মেরুকরণ

সিলেট আওয়ামী লীগে নতুন মেরুকরণ
নাসির উদ্দিন (বাঁয়ে) ও মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। কোলাজ: নিউজবাংলা
সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী জয়লাভের পর সিলেটের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজের বলয় তৈরিতে সচেষ্ট হন তিনি। যা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই মেনে নিতে পারেননি।

ভেতরে ভেতরে সিলেট আওয়ামী লীগের নতুন মেরুকরণ আর বিরোধ চলছিল বছরখানেক ধরেই। বিশেষত গত জুনে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে।

সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী জয়লাভের পর সিলেটের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজের বলয় তৈরিতে সচেষ্ট হন তিনি। যা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই মেনে নিতে পারেননি।

এ থেকেই দেখা দেয় বিরোধ। তবে এই বিরোধ এতোদিন গোপনেই ছিল। প্রকাশ্যে ঐক্যের সুরই উচ্চারিত হচ্ছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের মুখে। তবে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান এবং সিলেট সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর দুটি পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে।

কারো নাম উল্লেখ না করেই সিলেট আওয়ামী লীগের এই দুই প্রভাবশালী নেতা সম্প্রতি পরষ্পরকে বিষাদাগার করে বক্তব্য দেন। এতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে সিলেট আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ আর নতুন মেরুকরণ।

সিলেটে আওয়ামী লীগে বিভক্তি দীর্ঘদিনের। এক সময় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ ও সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী গ্রুপে বিভক্ত ছিল সিলেট আওয়ামী লীগ। কথিত রয়েছে, এই দুই প্রভাবশালী নেতার বিরোধের কারণে তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও সিলেটে কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর স্পিকার গ্রুপের হাল ধরেন সাবেক মন্ত্রী ও ডাকসাইটে রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সিলেটে আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে পড়ে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও তৎকালীন সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলয়ে। তবে সরকার ও দলে মুহিতের প্রভাবের কারণে সেসময় কামরান অনুসারীরা তেমন সুবিধা করতে পারেননি।

এসব প্রভাবশালী নেতাদের প্রয়াণে সিলেটে আওয়ামী লীগে নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দেয়। এতে অভ্যন্তরীণ বিরোধও অনেকটা কমে আসে। তবে সিলেটে আওয়ামী লীগে নতুন মেরুকরণ দেখা দেয় নগরের রাজনীতিতে হঠাৎ করে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী আর্ভিভূত হওয়ার পর।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান প্রবাসে থেকেও অনেকদিন ধরেই সিলেটের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু নীতিনির্ধারক পর্যায়ে ছিলেন না কখনোই। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের আগের দুটি জাতীয় নির্বাচনে তিনি সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর-বালাগঞ্জ) আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

গত সিলেট সিটি নির্বাচনে চমক হিসেবে হাজির হন আনোয়ারুজ্জামান। আওয়ামী লীগের স্থানীয় ডাকসাইটে নেতাদের টপকে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পান তিনি। বিএনপিবিহীন এই নির্বাচনে সহজেই জয় পান আনোয়ারুজ্জামান। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর দলের কোনো পদে না থেকেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হন বঙ্গবন্ধু পরিবারের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত এই নেতা। গড়ে তোলেন নিজস্ব বলয়।

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে নিজের প্রভাবের প্রমাণও দেন আনোয়ারুজ্জামান। এই নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট-৩ আসন থেকে হাবিবুর রহমান হাবিব এবং সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে রনজিত সরকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই তিনজনই আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বন্ধু। তাদের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া থেকে শুরু করে নির্বাচনে জয়লাভ পর্যন্ত আনোয়ারুজ্জামান বিশেষ ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা রয়েছে।

এরপর থেকেই সিলেটে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন আনোয়ারুজ্জামান। আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাও আনোয়ার বলয়ে যুক্ত হন। এই সময়ে সরকার এবং প্রশাসনে নিজের প্রভাবেরও জানান দেন আনোয়ারুজ্জামান।

সর্বশেষ গত মাসে স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আপত্তি সত্ত্বেও ১১ বছর পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নতুন কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। এতে আনোয়ারুজ্জামান বিশেষ ভূমিকা ছিল বলে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতারা জানিয়েছেন।

হঠাৎ এসে সিলেটের রাজনীতিতে আনোয়ারুজ্জামানের এই আধিপত্য নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই। ভেতরে ভেতরে তারা ক্ষুব্ধ থাকলেও এ ব্যাপারে এতোদিন প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলেননি। তবে ছাইচাপা এই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যন নাসির উদ্দিন খানের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে।

গত ১৪ মে সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে কারো নাম উল্লেখ না করেই নাসির উদ্দিন খান বলেন, ‘অনেকে বিদেশে বসে মাল কামিয়েছেন। অনেক আন্দোলন করেছি। আজ মনে হয়, আমরা পরগাছা। সুবিধাভোগীরা অনেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে গেছেন। এখন কেউ কেউ মনে করেন, তার বাবার সম্পত্তি হয়ে গেছে সিলেট। আমরা টাকা খরচ করে অনেককে জনপ্রতিনিধি বানিয়েছি। সেটা ভুললে চলবে না। আমার পাওয়ার আছে, আমার অমুক আছে-তমুক আছে, সেটা থাকবে না। জনগণ যদি না থাকে, সংগঠন যদি না থাকে কারও অস্তিত্ব থাকবে না। রাজনীতিতে দুঃসময় এলে তারা থাকবে না, আমাদের দেশে থাকতে হবে– আমাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই। আমি বললাম, তারা চলে যাবে।’

নাসির উদ্দিন খান কারো নাম উল্লেখ না করলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই বলছেন, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করেই এমনটি বলেছেন নাসির।

নাসির যে অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্য রাখেন সে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির আহমদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা।

নাসিরের এই বক্তব্যের চারদিন পর গত শনিবার (১৮ মে) সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, নেতাকর্মীদের নির্যাতন করে নিজেদের নবাব ভাববেন না। কার দৌড় কতটুকু জানা আছে। আমরা এসব বিষয় নিয়ে বলতে চাই না।

এ সময় মেয়র আরও বলেন, কে কী বলল, তা দেখার বা শোনার সময় নেই। সবাই ঠান্ডা মাথায় মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। আপনারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ কর্মী। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

নিজের বক্তব্যে মেয়র কারো নাম উল্লেখ না করলেও তার এই বক্তব্যের সাথে ১৪ মে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খানের দেয়া বক্তব্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী।

চারদিন আগে নাসির উদ্দিন খানের এমন বক্তব্যে নিয়ে সিলেটের রাজনীতিতে তুমুল আণোচনার মধ্যেই ‘কার দৌড় কতটুকু জানা আছে’ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আনোয়ারুজ্জামান।

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদকীয় পদের চারজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে মনোননয় প্রত্যাশী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রায় এক ডজন নেতা। তাদের টপকে প্রবাস থেকে এসে দলীয় মনোনয়ন পান আনোয়ারুজ্জামান। এতে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা। নির্বাচনে জয়ের পর দলেও প্রভাব বিস্তার শুরু করেন তিনি। এতে তার উপর ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। তবে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে ঘনিষ্টতার কারণে তার বিরুদ্ধে এতোদিন কেউ মুখ খোলেননি। নাসির উদ্দিনের বক্তব্য এই ক্ষোভেরই বহিপ্রকাশ।

তবে এ প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি ব্যক্তিবিশেষকে উদ্দেশ করে কথা বলিনি। যারা দলকে মূল্যায়ন করে না, উড়ে এসে জুড়ে বসে, তাদের অবস্থান স্থায়ী হয় না- এটিই বোঝাতে চেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করতে হলে কর্মী ও দলকে মূল্যায়ন করতে হবে। হাওয়ার ওপর চললে হবে না। আমার এমন বক্তব্য যদি কারও গায়ে লাগে, বলার কিছু নেই।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দলে কোনো বিরোধ নেই জানিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির আহমদ বলেন, আমাদের মধ্যে মতের অমিল হতে পারে তবে কোনো বিরোধ নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সিলেট আওয়ামী লীগ পরিবার ঐক্যবদ্ধ। তবে যারা বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন তাদের কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ কর্মীদের কারণেই আমরা নেতা।

মন্তব্য

জাতীয়
Locals say that bamboo is dangerous on railway bridges

রেল সেতুতে বাঁশ, ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন স্থানীয়রা

রেল সেতুতে বাঁশ, ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন স্থানীয়রা
বাঁশের ফালিগুলোকে স্লিপারের সঙ্গে লোহার পেরেক দিয়ে আটকানো হয়েছে। কোলাজ: নিউজবাংলা
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রিটিশ আমলের এই সেতুতে অনেক পুরাতন ক্ষয়ে যাওয়া কিছু কাঠের স্লিপার রয়ে গেছে। কিছুদিন পর পর কাঠের স্লিপারগুলো যেন না সরে যায়, এ জন্য বাঁশের ফালি ব্যবহার করে আটকানো হয়েছে।’

জামালপুর দেওয়ানগঞ্জ রেললাইনের জামালপুর কোর্ট স্টেশন থেকে মেলান্দহ রেলওয়ে স্টেশনের মাঝামাঝি একটি সেতুতে পুরাতন কাঠের স্লিপারের ওপরে দুই পাশে লোহার স্লিপারের বদলে বাঁশের ফালি ব্যবহার করা হয়েছে। বাঁশের ফালিগুলোকে স্লিপারের সঙ্গে লোহার পেরেক দিয়ে আটকানো হয়েছে।

এ ছাড়া পুরাতন ক্ষয়ে যাওয়া কাঠের স্লিপার স্থানচ্যুত না হতে পারে সেখানে বাঁশের ফালি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শনিবার বিকেলে জেলার মেলান্দহ উপজেলার চর বানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের জামালপুর কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন ও মেলান্দহ রেলওয়ে স্টেশনের মাঝামাঝি চরপলিশা বেতমারি গ্রামের একটি বিলের ওপর অবস্থিত রেলওয়ে সেতুতে এমন চিত্র দেখা যায়।

সেতুটি দিয়ে ঢাকা থেকে জামালপুর হয়ে মেলান্দহ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত প্রতিদিন ১০ জোড়া ট্রেন চলাচল করে।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রিটিশ আমলের এই সেতুতে অনেক পুরাতন ক্ষয়ে যাওয়া কিছু কাঠের স্লিপার রয়ে গেছে। কিছুদিন পর পর কাঠের স্লিপারগুলো যেন না সরে যায়, এ জন্য বাঁশের ফালি ব্যবহার করে আটকানো হয়েছে।’

‘সেতুর মাঝখানে একটা স্লিপার একেবারেই ক্ষয়ে গেছে। ট্রেন চলাচলের সময় বিকট শব্দ হয়। আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।’

বেতমারি গ্রামের হাসিনা বেগম বলেন, ‘রেললাইনের কাছে বাড়ি হওয়ায় ট্রেন গেলে রাত বিরাতে চমকে উঠি। মনে হয় ব্রিজ ভেঙে পড়বে। এখানে বাঁশ ব্যবহার করা ঠিক হয় নাই। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটি যেন ঠিকমতো মেরামত করা হয়।’

স্থানীয় আতিয়ার রহমান বলেন, ‘মাঝে মাঝে লোক আসে ঠিক করার জন্য। আমরা অনেকবার বলছি মেরামত করার জন্য, কিন্তু তারা শোনে না। রেল সেতুতে বাঁশের ব্যবহার ঠিক হয় নাই। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তো আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে।’

সেতুতে লোহার স্লিপার লাগানোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জামালপুর রেলওয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এ ধরনের বাঁশের ব্যবহার সেতুতে আছে কিনা জানি না, তবে কাছাকাছি ঝিনাই নদের রেল সেতুতে বাঁশের ব্যবহার ছিল এবং সদ্য সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, বাঁশ দিয়ে স্লিপারগুলো ধরে রাখার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি খোঁজ নেবেন বলে জানান।

আরও পড়ুন:
ভাঙা সেতুতে ভোগান্তি ৪০ গ্রামের মানুষের
২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫ কোটি টাকা টোল তুলেছে পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতুতে ৮ ঘণ্টায় পৌনে দুই কোটি টাকা টোল আদায়
নির্মাণাধীন সেতুর গার্ডার ধসে সিরাজগঞ্জে এক শ্রমিক নিহত
যুক্তরাষ্ট্রে জাহাজের ধাক্কায় সেতু ভেঙে নদীতে, বহু হতাহতের শঙ্কা

মন্তব্য

জাতীয়
What parents said about Babars Everest victory

বাবরের এভারেস্ট জয় নিয়ে যা বললেন মা-বাবা

বাবরের এভারেস্ট জয় নিয়ে যা বললেন মা-বাবা লুৎফুন্নাহার ও লিয়াকত আলী দম্পতি। ছবি: নিউজবাংলা
বাবা-মা জানান, তাদের স্বপ্ন ছিল বাবর আলী চিকিৎসক হবে। ছেলে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন, কিন্তু সেই পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে হাঁটেননি তিনি। বরং হাঁটতে শুরু করলেন পাহাড়-সমতলের দুর্গম পথে পথে। হাঁটতে, হাঁটতে বাবর আলী স্বপ্ন দেখলেন এভারেস্ট জয়ের।

‘আমার ছেলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এভারেস্ট জয় করেছে আমার বাবর। এটা বাবা হিসেবে আমার জন্য খুবই গর্বের, তবে পাহাড় থেকে নেমে না আসা পর্যন্ত আমাদের চিন্তা দূর হবে না।’

সংবাদমাধ্যমকে রোববার দুপুরে এ কথাগুলো বলছিলেন এভারেস্ট জয় করা বাংলাদেশের পর্বতারোহী বাবর আলীর বাবা লিয়াকত আলী।

লিয়াকত আলী ও লুৎফুন্নাহার দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান বাবর আলী। বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে চিকিৎসক হবে। ছেলে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন, কিন্তু সেই পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে হাঁটলেন না ছেলে।

বরং হাঁটতে শুরু করলেন পাহাড়-সমতলের দুর্গম পথে পথে। হাঁটতে, হাঁটতে বাবর আলী স্বপ্ন দেখলেন এভারেস্ট জয়ের।

তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বুড়িশ্চর গ্রামের নজু মিয়া হাট এলাকায়। বাবা লিয়াকত আলী কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। ২০১৭ সালে দেশে ফিরে বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন। মা লুৎফুন্নাহার বেগম গৃহিণী।

তিন ভাই এক বোনের মধ্যে বাবর দ্বিতীয়। বড় ভাই ব্যারিস্টার, অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। বাবর আলী চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখান থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে এমফিল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিজিটি সম্পন্ন করেন।

একমাত্র বোন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কক্সবাজার জেলা আদালতে কর্মরত। সবার ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে বিকাশের মার্চেন্ট ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে আছেন।

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টের চূড়ায় রোববার সকালে লাল-সবুজের পতাকা উড়ালেন বাবর আলী।

সন্তানের এভারেস্ট বিজয়ে বাবরের বৃদ্ধ বাবা-মা খুশিতে আত্মহারা, একই সঙ্গে শঙ্কিতও। ছেলে ঠিকমতো শৃঙ্গ চূড়া থেকে নেমে তাদের বুকে ফিরে না আসা পর্যন্ত কাটবে না এ শঙ্কা।

মা লুৎফুন্নাহার বেগম বলেন, ‘সবসময় টেনশনে ছিলাম। এখনও আছি। বাবর এভারেস্টের দিকে যাত্রা করার পর থেকে ঘুম আমার চোখ থেকে চলে গেছে। গত দেড় মাসে মনে হয় দিনে আমি দুই ঘণ্টাও ঘুমাতে পারিনি। নামাজ পড়ে আল্লাহকে বলেছি, আল্লাহ আপনি আমার ছেলেকে সুস্থভাবে আবার আমার কাছে ফিরিয়ে দেন।

‘আল্লাহ আমার ছেলেকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছেন, কিন্তু আমি তো মা। যতক্ষণ পর্যন্ত সে পাহাড় থেকে নেমে না আসবে, ততক্ষণ তো আমার টেনশন যাবে না।’

গত ৩০ মার্চ চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাবর আলী তার এভারেস্ট জয়ের স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন। পরদিন ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয় তার এভারেস্ট জয়ের অভিযান। ৪ এপ্রিল নেপালের কাঠমান্ডু থেকে পৌঁছান লুকলাতে। ১০ এপ্রিল এভারেস্টের বেজ ক্যাম্পে পৌঁছান তিনি।

এরপর এক মাস ধরে অপেক্ষার পালা। ১৪ মে শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযান। ওইদিনই তিনি দ্বিতীয় ক্যাম্পে, ১৮ মে তৃতীয় ক্যাম্পে এবং ১৯ মে ভোরে ক্যাম্প ফোরে পৌঁছান। ১৯ মে সকালে তিনি ‘ডেথ জোন’ নামে পরিচিত ২৯ হাজার ৩১ ফুট উচ্চতায় শৃঙ্গে আরোহণ করে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে দেন।

এভারেস্ট জয়ের আগে আরও অনেক পর্বতশৃঙ্গ জয় করেন বাবর। চার হাজার ৯৮৪ মিটার উচ্চতার সারগো রি থেকে ছয় হাজার ৮১২ মিটার উচ্চতার মাউন্ট আমা দাবলাম, অন্তত নয়টি পর্বতশৃঙ্গ জয়ের রেকর্ড আছে বাবরের ভাণ্ডারে।

২০১৩ সালের ২০ মে এভারেস্ট জয় করে নামার পথে মারা যান সজল খালেদ। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পর গত ১১ বছরে আর কোনো বাংলাদেশি এভারেস্টের পথে যাননি।

মন্তব্য

p
উপরে