20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
দলিত নারীদের মণ্ডপে দেবী দুর্গা

সুজলপুর গ্রামে বসা মণ্ডপে দলিত সম্প্রদায়ের নারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

দলিত নারীদের মণ্ডপে দেবী দুর্গা

যশোরের ইতিহাসে এই প্রথম দলিত সম্প্রদায়ের নারীদের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে দুর্গাপূজা।

পূজার আয়োজনে জড়িত সবাই নারী। এই নারীদের সবাই আবার প্রান্তিক দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ। এতদিন দূর থেকে দুর্গা পূজা যাদের দেখতে হয়েছে, পূজার উপাচার স্পর্শ করায় যাদের নিষেধ, তাদের আয়োজনেই এবার মণ্ডপে অধিষ্ঠিত দেবী দুর্গা।

যশোরের ইতিহাসে এই প্রথম দলিত সম্প্রদায়ের নারীদের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে দুর্গাপূজা।

সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের সুজলপুর গ্রামে বসেছে মণ্ডপ।

শাশ্বতী দলিত নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার সদস্যদের নেতৃত্বে আয়োজিত পূজা আরো এক দিক থেকে ব্যতিক্রমী। ব্রাহ্মণ নয়, দুর্গোতিনাশীনির পূজার পুরোহিত দলিত সম্প্রদায়েরই এক সদস্য।

এমন উদ্যোগের পেছনে রয়েছে দলিত সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার আক্ষেপ। উদ্যোক্তা নারীরা নিউজবাংলাকে জানান, এলাকার নমঃশুদ্র, পৌন্ড্র ক্ষত্রিয়, ঋষি, জেলে, ডোম, হেলা, পাটনী কায়পুত্র, বাগদী, খাসি, বুনো, সরদারসহ দলিত সম্প্রদায়ের সদস্যরা উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের ধর্মীয় বা সামাজিক আয়োজনে উপেক্ষার শিকার হন। আবার দলিত সম্প্রদায়ের ভেতরেও নারীরা পুরুষের নিপীড়নের শিকার।
Puja-2

এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতেই দলিত নারীরা এবার সম্পূর্ণ নিজেদের আয়োজনে দুর্গা পূজার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ জন্য গঠিত ১০ সদস্যের কমিটির সবাই নারী।

দুর্গোৎসবের সভাপতি জয়ন্তী রানী দাস ও সাধারণ সম্পাদক আয়নামতি বিশ্বাস। কোষাধাক্ষ্যের দায়িত্বে আছেন আরতি দাস।

জয়ন্তী দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা পিছিয়ে পড়া জাতি। আমাদের সন্তানও যাতে অবহেলিত জীবনযাপন না করে সেজন্য নারীদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও তাদের ঘর থেকে বের করে আনতে নারীদের নেতৃত্বে পূজা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেই। এজন্য সমাজের অনেকের কটূ কথা সহ্য করতে হয়েছে, তবে শেষপর্যন্ত পূজা শুরু করতে পেরেছি।’

পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও এলাকার দলিত নারীদের ভিতরে প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক পাস আয়নামতি বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের মেয়েরাই কেবল নয়, ছেলেরাও শিক্ষা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক পিছিয়ে। আমরা নারীরা এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে এগিয়ে এসেছি। এর প্রথম ধাপ দুর্গা পূজা আয়োজন। দুর্গা মায়ের আর্শীবাদে আমরা অবহেলিত জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে পারব।’
Puja-4

পূজার পুরোহিতের দ্বায়িত্বে আছেন নীলরতন দাস। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নিজেও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ। পূজা যখন প্রথম শুরু করি তখন ব্রাহ্মণেরা বাধা দিতেন, অবজ্ঞা করতেন। সে অবস্থার এখন কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। দলিত নারীদের এই পূজার দ্বায়িত্ব পেয়ে আমি গর্বিত।’

এই পূজা আয়োজনে নানাভাবে সহায়তা দিচ্ছেন যশোরের লেখক ও প্রকাশক বিভূতোষ রায়। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘দলিত নারীদের আয়োজনে এই দুর্গা পূজা পরিবর্তনের একটি মাইল ফলক। এবার পূজায় একজন পুরুষ পুরোহিতের দায়িত্বে আছেন, আগামী বছর কোনো নারীই এই দায়িত্বপালন করবেন।’

দলিত নারীদের দুর্গাপূজার আয়োজনের প্রথম দিনে সম্প্রদায়ের বাইরের দর্শনার্থী দেখা যায়নি। পূজার আয়োজন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য