20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার

ধর্মঘটের ফলে গত মঙ্গলবার প্রথম প্রহর থেকে বন্দরে আটকে থাকে নৌযান। ছবিটি নারায়ণগঞ্জ বন্দরের।

নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার

খোরাকি ভাতাসহ ১১ দফা দাবিতে মঙ্গলবার প্রথম প্রহর থেকে নৌ পথে পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখে শ্রমিকরা। আমদানি হওয়া প্রায় ২১ লাখ টন ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আটকে পড়ে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সমুদ্রগামী বড় জাহাজ থেকেও পণ্য স্থানান্তর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকে।

দাবি দাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে তিন দিনের মাথায় নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে শ্রমিকরা। ফলে নৌ পথে আটকে পড়া ২১ লাখ মেট্রিকটন মালামাল পরিবহন আবার শুরু হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সমঝোতা বৈঠকের পর বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ধর্মঘট প্রত্যাহার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের খোরাকি ভাতা দিতে রাজি হওয়ায় তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন।

বৈঠকে শ্রমিকদের খাদ্যভাতা (খোরপোশ) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ছোট নৌযানের জন্য এক হাজার টাকা, এক হাজার থেকে দেড় হাজার টনের নৌযানের জন্য এক হাজার ২০০ টাকা এবং দেড় হাজার টনের বেশি ওজনের নৌযানের জন্য দেড় হাজার হাজার টাকা খাদ্য ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।

শাহ আলম বলেন, আলোচনায় নৌপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইন প্রয়োগের নামে নৌযান শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ, নৌ-শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান, জীবন বিমা প্রবর্তন, প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন দাবির বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়।

খোরাকি ভাতাসহ ১১ দফা দাবিতে মঙ্গলবার প্রথম প্রহর থেকে নৌ পথে পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখে শ্রমিকরা।

আমদানি হওয়া প্রায় ২১ লাখ টন ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আটকে পড়ে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সমুদ্রগামী বড় জাহাজ থেকেও পণ্য স্থানান্তর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকে।

বন্দরের বহির্নোঙরে ৪০টি বড় জাহাজে শস্যদানা, গম, চিনি, ডালজাতীয় খাদ্যপণ্য ছাড়াও সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, চুনাপাথর ও জিপসাম, পাথর ইত্যাদি পণ্য রয়েছে।

নৌ-পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে এসব খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তর করে সারা দেশে পরিবহন করা যাচ্ছিল না।

শেয়ার করুন